বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন জর্জিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান বাডি কার্টার। ট্রাম্পের ‘ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা’ তুলে ধরে কার্টার বলেন, তিনি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘর্ষ বন্ধ করতে সহায়তা করেছেন।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে কার্টার লেখেন, ‘যেখানে অনেকেই এমন একটি চুক্তিকে অসম্ভব মনে করেছিলেন, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব তা সম্ভব করে তোলে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের সাফল্যের জন্য সাহস ও দূরদর্শিতা প্রয়োজন—দুটিই ট্রাম্প দেখিয়েছেন।
’

সোমবার (স্থানীয় সময়) বিকেলে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ শেষ হচ্ছে, আর মঙ্গলবার রাতে থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কারের জন্য এ পর্যন্ত ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছে।

ট্রাম্প অতীতে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ট্রুথ সোস্যালে তিনি লিখেছেন, ‘আমি যত কিছুই করি না কেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার আমি পাব না।
’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি হয়তো চার বা পাঁচবার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলাম… কিন্তু ওরা শুধু লিবারেলদেরই পুরস্কার দেয়।’

সূত্র : ফক্স নিউজ

সাজিদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, এবার বিস্ফোরক মন্তব্য এশার

বলিউড নির্মাতা সাজিদ খানের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যেই এবার পরিচালকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী এশা গুপ্ত।

তার দাবি, সাজিদ নাকি তার সঙ্গে প্রকাশ্যে অসভ্য আচরণ করেছেন। যার জেরে মাঝপথেই ছবির কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এশা গুপ্ত জানান, জনসমক্ষে সাজিদের সঙ্গে তাঁর তুমুল ঝগড়া হয় এবং তা গালিগালাজ পর্যন্ত পৌঁছায়।

অভিনেত্রী বলেন, সাজিদ খানের সঙ্গে আমার মোটেও সুসম্পর্ক নয়। তার উপর একবার বিরাট ঝগড়া হয়েছে। প্রবল ঝগড়া হয়েছিল।
তার পরে আর কখনোই আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক হয়নি। মানুষ আমাকে গালাগালি দেবে, সেটা আমার মোটেই পছন্দ নয়। ভালো ব্যবহার করা তো খুব সাধারণ একটা বিষয়।

জানা গেছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাজিদ খান অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করেন এশাকে।
ছেড়ে দেননি অভিনেত্রীও। তিনিও পাল্টা গালাগালি করা শুরু করেন সাজিদকে। শুটিং সেট ছেড়ে চলেও যান অভিনেত্রী। সিদ্ধান্ত নেন, এই ছবিতে আর কাজ করবেন না। তার পরেই নাকি ছবির প্রযোজক ফোন করে ক্ষমা চেয়েছিলেন এশার কাছে।

অভিনেত্রী বলেছেন, আমি সেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে স্থির করেই ফেলেছিলাম, আর এই ছবিতে কাজ করব না। কিন্তু প্রযোজক ফোন করে ক্ষমা চান।

প্রযোজকের পরে সাজিদও নাকি ফোন করে ক্ষমা চেয়েছিলেন অভিনেত্রীর কাছে। কিন্তু কী নিয়ে সাজিদের সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল? প্রশ্ন করতেই অভিনেত্রী বলেন, “আমি আর এই বিষয় নিয়ে কথা বলতেই চাই না।”

এর আগে সাজিদ খানের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন মান্দানা করিমি, অহনা কুমরা, শেরলিন চোপড়া, র‌্যাচেল হোয়াইট, সালোনি চোপড়া।

নিউইয়র্কের সম্ভাব্য মেয়র মুসলিম তরুণ মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হতে চলেছেন জোহরান মামদানি। ৩৩ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী জোহরান মামদানির এ বিস্ময়কর জয় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, চলতি বছরের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি হবেন নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে তিনি নিজেকে দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
তবে চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক দিন লাগতে পারে। কিন্তু প্রাথমিক ফল তার পক্ষে যাওয়ায় তিনিই মেয়র পদে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থিতা করবেন বলে আশা করা যায়।

সর্বশেষ নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাইমারির প্রথম রাউন্ডে ৯৩ শতাংশ ভোট গণনার পর মামদানি ৪৩.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কুওমো পেয়েছেন ৩৬.৪ শতাংশ।
নিউইয়র্ক সিটি একটি র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। যেহেতু কোনো প্রার্থীই সম্ভবত ৫০ শতাংশ ভোটে পৌঁছাবেন না, তাই নির্বাচন বোর্ড এখন ভোটারদের দ্বিতীয় পছন্দের প্রার্থীদের গণনা করবে। এই গণনায় কুওমোর চেয়ে মামদানি বেশি ভোট পাবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ১০ লাখ মুসলিমের বসবাস, যা শহরের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ।
২০২১ সালের মেয়র নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ ছিল। মামদানি তার প্রচারণার শুরু থেকেই ইসলামি বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে দৃশ্যমান রেখেছেন। রমজানের সময় রোজা রেখেই প্রচারণায় অংশ নেন এবং জীবনযাত্রার খরচ কমানোর বার্তা পৌঁছে দেন শহরের মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে।

সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে মামদানির এই বিজয় এসেছে একটি বৈচিত্র্যময় ভোটার জোটের মাধ্যমে, যার মধ্যে ছিল তরুণরা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং অনেক প্রথম বা অনিয়মিত ভোটার। ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন পটভূমির নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা মামদানির বিজয়কে আরো তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
অনেকে তার অভিবাসী পটভূমিকে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

লিবারেল ভাষ্যকার ও লেখক ওয়াজাহাত আলী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘একজন মুসলিম অভিবাসীর সন্তান নিউইয়র্কের মেয়র হতে চলেছেন, কারণ তিনি একজন ইহুদি ও একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থীর সঙ্গে পারস্পরিক সমর্থন গড়ে তুলেছেন। এটি আমেরিকান গণতন্ত্রের এক অনন্য ও সৌন্দর্যময় গল্প।’ তিনি ইঙ্গিত করেন মামদানির ব্র্যাড ল্যান্ডার ও মাইকেল ব্লেকের সঙ্গে পারস্পরিক সমর্থনের প্রতি।

ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার সমর্থনের কারণে মামদানিকে ইসলামবিরোধী বা ইহুদি বিদ্বেষী বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। তবে তিনি তার ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে এসব অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

প্রচারের শেষ মুহূর্তে মামদানি আবেগঘনভাবে জানান, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে তিনি এবং তার পরিবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। তিনি বলেন, একজন ধর্মবিশ্বাসীর ওপর এই ধরনের আক্রমণ কী ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে, তা তিনি স্বজনদের সঙ্গে মিলে খুব কাছ থেকে অনুভব করেছেন।

জয়ের ঘোষণা দিতে গিয়ে বুধবার ভোরে মামদানি বলেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে কী ঘটছে তা নিয়ে নিউইয়র্কবাসীর অনুভূতি আছে, আমিও তাদের একজন। আমি আমার বিশ্বাস বা মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি কখনো ত্যাগ করবো না।’

ইহুদি প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার তার বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা মুসলিম ও ইহুদি নিউইয়র্কারদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হতে দেব না।’

সূত্র : নিউয়র্ক টাইমস

হজ শেষে ফিরেছেন ৫০ হাজার ৩৬ হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৫০ হাজার ৩৬ জন বাংলাদেশি হাজি। বুধবার (২৫ জুন) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফেরত আসা যাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪৫ হাজার ৩০ জন। হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স নামে তিনটি বিমান সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফিরিয়ে এনেছে ২১ হাজার ৮১ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ২০ হাজার ৫১৪ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮ হাজার ৪৪১ জন হাজিকে।

এ পর্যন্ত ১২৯টি ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫ ও সৌদি এয়ারলাইন্স ৫২টি ফ্লাইট চালিয়েছে, আর ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ২২টি ফ্লাইট।

উল্লেখ্য, এ বছর হজ পালনের সময় ৩৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। হজ অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অসুস্থতা ছিল প্রধান।

হজযাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল থেকে এবং শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশে যায় ৩১ মে। এবারের হজ অনুষ্ঠিত হয় ৫ জুন।
ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি দল মগবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে গত ২২ জুন রাজধানীর উত্তরা থেকে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

২২ জুন সকালে শেরেবাংলা নগর থানায় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনাকারী কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কে এম নুরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিএনপি।
দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মামলাটি করেছেন। মামলায় সাবেক ৩ প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে : কমিশন

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন কিছু রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিডিআর বিদ্রোহে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। তবে তদন্তের স্বার্থে কারো নাম বলেননি কমিশনার। হত্যাকাণ্ডের পর আলামত ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম নতুন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর ঘটনার কারণ ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য চাল-ডাল কর্মসূচি, জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মাদরাসায় পড়াশোনা শেষ করা জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।

কমিশনরার বলেন, ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতায় ভয়াবহ রূপ নেয় পিলখানা হত্যাকাণ্ড। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ক্রিয় ছিল, পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সময়মতো সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হত্যাকাণ্ড কমানো যেত।

তদন্ত কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ছয়জন শহীদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, ১৫ জন বেঁচে ফেরা কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও ৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ জন রাজনৈতিক নেতার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিন জন কারাগারে থেকে, তিন জন উপস্থিত হয়ে এবং দুইজন বিদেশে পলাতক অবস্থায় ইমেইলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক ইতোমধ্যে চিঠির মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

এ ছাড়া শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিমসহ ১৪ জনকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুম কমিশনার।

দক্ষিণ গাজায় বিস্ফোরণে নিহত ৭ ইসরায়েলি সেনা

গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে মঙ্গলবার (২৪ জুন) এক বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুস শহরে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ ঘটনায় নিহত ছয়জন সেনার নাম প্রকাশ করেছে। তবে সপ্তম সেনার পরিবারের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ না হওয়ায় তার নাম গোপন রাখা হয়েছে।
একইসঙ্গে, ৬০৫তম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের আরো একজন সেনা সদস্য গাজার অন্য এক অঞ্চলে একটি পৃথক ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

এ বছরের শুরুতেও, জানুয়ারি ২০২৪-এ গাজায় একদিনেই অন্তত ২৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছিলেন। গাজায় চলমান সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পড়ছে, বিশেষ করে হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর স্থাপনা ধ্বংস ও টানেলগুলো উন্মোচন করার সময় বিস্ফোরণের মতো প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র : আলজাজিরা

ইরানে ‘সরকার পরিবর্তন’ চান না ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানে ‘সরকার পরিবর্তন’ চান না। কারণ এটি অঞ্চলজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) এয়ার ফোর্স ওয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমি শাসন পরিবর্তনের পক্ষে নই।
তাতে আরো বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

তবে এই মন্তব্য তার আগের বক্তব্যের পুরোপুরি উল্টো। মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, শাসন পরিবর্তন কথাটা হয়তো রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়। কিন্তু যদি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ করতে না পারে, তাহলে শাসন পরিবর্তনই বা কেন নয়??? এমআইজিএ!!!’

এই স্লোগানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর অনুকরণে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন যুক্তরাজ্যের, আলোচনায় ফিরতে তেহরানকে আহ্বান

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ‘অবশ্যই বজায় রাখা উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে বহু প্রতীক্ষিত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এটি একটি সুযোগ।”

স্টারমার আরও বলেন, “ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলার পর তিনি কাতারের আমিরের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “ইসরায়েল ও ইরান উভয়েই যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী ছিল। সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করে যুদ্ধ বন্ধ করা আমার জন্য সম্মানের।”

তবে তিনি এর আগে উভয় দেশকেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচনা করেছিলেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘কঠোরভাবে মেনে চলা’ হবে।

মার্কিন হামলার নিন্দা চীনের, ইরানকে ‘পূর্ণ সমর্থন’

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ‘প্রকৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তেহরানকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় চীন পাশে থাকবে। মানবিক সংকট এড়াতে অবিলম্বে কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।”

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) তত্ত্বাবধানে থাকা স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বৈশ্বিক আইনি কাঠামোকে অবজ্ঞা করে।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে এবং একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে।