বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

পূজায় মুক্তি পাচ্ছে তানজিকা-মৌসুমী-পিয়াদের সিনেমা

৪০০ বছরের পুরনো যৌনপল্লী এক রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘রঙবাজার’ সিনেমা অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। রাশিদ পলাশ পরিচালিত এ সিনেমাটি আসছে দুর্গাপূজায় মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।

গোলাম রাব্বানীর চিত্রনাট্য ও সংলাপে সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, তানজিকা আমিন, নাজনীন হাসান চুমকি, জান্নাতুল পিয়া, মৌসুমী হামিদ, লুৎফর রহমান জর্জ, মিঠুসহ এক ঝাঁক শিল্পী।

সিনেমাটির পরিচালক গণমাধ্যমে বলেন, ‘টানা শুটিং করেছিলাম দৌলতদিয়ায়।
সেখানে সবচেয়ে বড় যৌনপল্লীতে আমরা দীর্ঘদিন শুট করেছি। সব অভিনয়শিল্পী সেখানেই ছিলেন। সেখানে যাওয়ার আগে শিল্পীদের মধ্যে একটা সাসপেন্স কাজ করছিল। কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, সেটা নিয়ে তারা চিন্তিত ছিলেন।
অভিনয়শিল্পীরা খুব অল্প সময়েই সেখানকার সবার সঙ্গে মিশে যান। সেখানকার মেয়েরা আমার শিল্পীদের অনেক যত্নে রেখেছিলেন। খাবারদাবারের ব্যবস্থা করা থেকে যে পরিমাণ সাহায্য তারা করেছেন সেটা অবাক করার মতো।’

লাইভ টেকনোলজি প্রযোজিত ‘রঙবাজার’ সিনেমার গল্প লিখেছেন তামজিদ অতুল।
দুই বছর আগে নির্মিত হওয়া এ সিনেমাটি এবার প্রেক্ষাগৃহে আসছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরো একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪১৬

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আরো ৪১৬ জন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬৫ জন বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে।
এ ছাড়া, ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে ৯৪, (সিটি করপোরেশন বাদে) ঢাকা বিভাগে ৫৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৮ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ২০ জন নারী। আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৯৮ জন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮০ হাজার বছরের প্রাচীন সরঞ্জাম উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ আমিরাতের জেবেল ফায়া এলাকায় প্রত্নতত্ত্ববিদরা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন। এখানে পাওয়া গেছে প্রায় ৮০ হাজার বছর আগের পাথরের তৈরি সরঞ্জাম, যা আরব উপদ্বীপে প্রাচীন মানব ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, আধুনিক মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স) শুধুই এই অঞ্চলের পথচারী ছিল না, বরং তারা এখানে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করেছিল। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে ছিল এবং উন্নত প্রযুক্তিও ব্যবহার করেছিল।

২ লাখ ১০ হাজার বছরের মানব উপস্থিতির প্রমাণ

পুরো খনন কার্যক্রমের ফলাফল অনুযায়ী, জেবেল ফায়া এলাকায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার বছর ধরে মানুষের উপস্থিতির অবিচ্ছিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে—যা আরব অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

এই গবেষণার ফলাফল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল প্রত্নতাত্ত্বিক এবং নৃতাত্ত্বিক বিজ্ঞান-এ প্রকাশিত হয় এবং বুধবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডাব্লিউএএম-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চলা খননকাজে পাওয়া নিদর্শনগুলো পরে বিশ্লেষণ ও তারিখ নির্ধারণ করে গবেষণা প্রকাশিত হয়।

প্রাচীন নিদর্শন থেকে ইউনেস্কো মনোনয়ন পর্যন্ত

এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের গুরুত্ব বিবেচনায় শারজাহর শাসক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য শেখ ড. সুলতান বিন মুহাম্মদ আল কাসিমি জেবেল ফায়া এলাকা সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আল ফায়া অঞ্চলকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকার জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন এবং এর সীমানা ও এলাকা আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেছেন।

ইউনেস্কোর ৪৭তম অধিবেশন (৭–১৬ জুলাই ২০২৫, প্যারিস) এ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একমাত্র বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হলো আল আইন সংস্কৃতি অঞ্চল, যেটি ২০১১ সালে ইউনেস্কোর তালিকায় যুক্ত হয়।

কী বলছে এই পাথরের সরঞ্জাম?

জেবেল ফায়ায় আবিষ্কৃত সরঞ্জামগুলো শুধু সাধারণ পাথরের হাতিয়ার নয়।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত জটিল নির্মাণ পদ্ধতির নিদর্শন— ‘বিডাইরেক্টশন্যাল রিডাকসন’- নামে পরিচিত একটি প্রযুক্তি, যেখানে পাথরের উভয় প্রান্তে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত করে ধারালো ব্লেড ও পাত তৈরি করা হতো।

এই সরঞ্জামগুলো প্রমাণ করে, প্রাচীন মানুষেরা প্রযুক্তিকে কেবল বেঁচে থাকার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেনি, বরং তা ছিল তাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশের একটি মাধ্যম।

এই হাতিয়ারগুলো পাওয়া গেছে সামুদ্রিক আইসোটোপ পর্যায় ৫এ (এমআইএস ৫এ) নামে পরিচিত একটি সময়ে, যখন ভারত মহাসাগর থেকে আগত বর্ষা আরব উপদ্বীপকে রুক্ষ মরুভূমি থেকে পরিণত করেছিল সবুজ তৃণভূমি, হ্রদ ও নদীতে। এই সময়ের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মানুষ এখানে সফলভাবে টিকে ছিল।

আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সাংস্কৃতিক দূরদৃষ্টি

জেবেল ফায়ার খনন প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে শারজাহ প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ-এর নেতৃত্বে, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে।
প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে জার্মান রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং হেইডেলবার্গ বিজ্ঞান একাডেমি।

লুমিনেসেন্স ডেটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা একটি প্রায় অবিচ্ছিন্ন মানব উপস্থিতির সময়রেখা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন—২ লাখ ১০ হাজার বছর থেকে ৮০ হাজার বছর পর্যন্ত।

শারজাহ প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ-এর পরিচালক ঈসা ইউসুফ বলেন, ‘জেবেল ফায়ার আবিষ্কারগুলো দেখিয়ে দেয়, অভিযোজন, উদ্ভাবন ও স্থিতিস্থাপকতাই মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এসব হাতিয়ার শুধু প্রযুক্তির নিদর্শন নয়, এগুলো আমাদের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার গল্প বলে।’

এই ঐতিহাসিক আবিষ্কার শুধু প্রাচীন মানব ইতিহাসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেনি, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বন্ধু ইলন মাস্ক এখন ট্রাম্পের শত্রু

ইলন মাস্কের কম্পানিগুলোকে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার এ হুমকি দেন। একসময়ের মিত্র এই দুই ব্যক্তির মধ্যে চলমান বাকযুদ্ধ আরো তীব্র হয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’—একটি ট্যাক্স-কাট ও ব্যয়সংকোচন বিল, যা পাস হয়েছে সিনেটে।
এই বিলের ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বরাদ্দ সরকারি ভর্তুকি ও করছাড় বাতিল হতে পারে, যা টেসলা দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছিল। মাস্ক এই বিলের তীব্র সমালোচনা করেন—এবং সেখান থেকেই ফের জ্বলে ওঠে পুরনো দ্বন্দ্ব।

মাত্র কয়েকদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আতিথেয়তায় রাজকীয় ভোজে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে এক ডাইনিং টেবিলে বসে তারা আলোচনা করেছেন রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত।
মাস্ক তখন ছিলেন ট্রাম্পের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষদের একজন—সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স ‘ডিওজিই’-এর নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। তবে সময় বেশি দিন সহনশীল থাকেনি। হঠাৎ করেই বন্ধুত্বে দেখা দিয়েছে ফাটল, আর এখন তা রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে।

বন্ধুত্ব আর আস্থার জায়গা ছেড়ে এখন তারা মুখোমুখি দুই শিবিরে।
দ্বন্দ্ব কেবল রাজনীতি নয়, জড়িয়ে পড়ছে ব্যবসা, ব্যক্তিত্ব, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে চরম বাকবিতণ্ডায়। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না—আর এই টানাপড়েনে ঝুঁকির মুখে পড়েছে মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল দুই-ই।

গত সোমবার মাস্ক ফের ট্রাম্পের ট্যাক্স-কাট ও ব্যয়ের বিলের সমালোচনা করেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ও ( ইলন মাস্ক) তার ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) ম্যান্ডেট হারাতে যাচ্ছে বলে ক্ষুব্ধ। কিন্তু ও আরো অনেক কিছু হারাতে পারে।
’

ইলন মাস্ক অতীতে সরকারি ভর্তুকি তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও, বাস্তবে তার কম্পানি টেসলা এ ধরনের সুবিধা থেকে বহু বছর ধরে লাভবান হয়েছে। ৭ হাজার ৫০০ ডলার মূল্যের ট্যাক্স ক্রেডিটসহ নানা সুবিধা ভোক্তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি আগ্রহী করেছে, যা বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন। মঙ্গলবার টেসলার শেয়ারমূল্য ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে মাস্ক হুমকি দিয়েছেন, তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন এবং ট্যাক্স বিল সমর্থনকারী আইনপ্রণেতাদের হারাতে অর্থ ব্যয় করবেন। যদিও তিনি সরকারি ব্যয় কমানোর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট মাস্কের বাজেট ঘাটতির সমালোচনার জবাবে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির দেখভাল আমিই করব।’

মাস্কের উদ্যোগে গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ নামের ব্যয় সংকোচন প্রকল্প থেকেও মে মাসে তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, ‘ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি পেয়েছে ইলন মাস্ক।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘রকেট লঞ্চ, স্যাটেলাইট বা ইভি উৎপাদন সব বন্ধ করলে আমেরিকার অনেক টাকা বাঁচবে।’

পরে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ডিওজিই এমন একটা দানব যেটা আবার ইলনকেই খেয়ে ফেলতে পারে।’

জবাবে মাস্ক নিজের প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লেখেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলছি, সব ভর্তুকি বন্ধ করুন, এখনই।’ তিনি আরো পাল্টা আক্রমণ করতে পারতেন বলেও জানান, তবে আপাতত তা থেকে বিরত থাকার কথাও বলেন।

টেসলার সামনে চ্যালেঞ্জ

এই দ্বন্দ্ব মাস্কের ব্যবসা সাম্রাজ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে টেসলা বর্তমানে টেক্সাসের অস্টিনে পরীক্ষাধীন রোবোট্যাক্সি প্রোগ্রামের ওপর বড় বিনিয়োগ করেছে, যার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারি নীতিমালার ওপর।

বিশ্লেষক জিন মানস্টার বলেন, ‘টেসলার বাজারমূল্যের বড় অংশ নির্ভর করছে স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর। যদিও তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন হবে না, তবে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।’

বুধবার টেসলার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক বিক্রয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা। ইউরোপে বিক্রয় মিশ্র হলেও মাস্কের কট্টর ডানপন্থী অবস্থান অনেক বাজারেই টেসলার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইভি ক্রেডিট বাতিল হলে টেসলার আয় ১.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জে.পি মরগান—যা ২০২৪ সালের মোট পরিচালন আয়ের প্রায় ১৭শতাংশ। ইলেকট্রিফিকেশন কোয়ালিশন, একটি ইভি সমর্থনকারী সংগঠন, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসকে অনুরোধ করেছে যেন তারা সিনেট বিলটি সংশোধন করে।

টেসলার বিনিয়োগকারী গ্যারি ব্ল্যাক জানান, গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় তিনি শেয়ার বিক্রি করেছেন এবং ইভি ক্রেডিট বাতিল হলে কম্পানিটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে স্পেসএক্স এখনও প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের সরকারি চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি, টেসলা বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ক্রেডিট বিক্রি করে এসেছে। এ আয় ছাড়া কম্পানিটি এপ্রিল মাসে লোকসান দেখত।

জুনের শুরুতেই ট্রাম্প মাস্কের সরকারি চুক্তি বাতিলের হুমকি দেন। তখন থেকেই দুজনের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না ওকে (মাস্ককে) ডিপোর্ট করা হবে কি না। এটা খতিয়ে দেখতে হবে।’

ইউক্রেনে সামরিক সহায়তার কিছু চালান বন্ধ করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে কিছু অস্ত্র সরবরাহ আপাতত স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে ইউক্রেন। তাই যুদ্ধাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সামরিক সহায়তা সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভবত ইউক্রেনের জন্য একটি আঘাত হবে।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি একটি ইমেলে এএফপিকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশগুলোতে আমাদের দেশের সামরিক সহায়তা এবং সহায়তার বিষয়ে ডিওডি (প্রতিরক্ষা বিভাগ) পর্যালোচনা করার পর আমেরিকার স্বার্থকে প্রথমে রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
’

সামরিক সহায়তা হ্রাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অগ্রাধিকারের সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যিনি রাশিয়া এবং ইউক্রেনকে স্থগিত শান্তি আলোচনা দ্রুত করার জন্য চাপ দিয়েছেন। রিপাবলিকান গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আয়োজনে এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা কমাতে আরো বড় ভূমিকা পালনের দিকে এগিয়ে গেছেন।

পেন্টাগন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পূর্বে প্রতিশ্রুতি দেওয়া কিছু অস্ত্রের মজুদ খুব কম হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি কোন ধরনের অস্ত্র পাঠানো স্থগিত হয়েছে।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্ভুল হামলার অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি প্রশ্নাতীত। তিনি গত মাসে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক হয়।
তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা দেখছি কিছু অস্ত্র দেওয়া সম্ভব কি না। তবে এর আগে মার্চ মাসে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা হয়, যেখানে ট্রাম্প পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের বরাদ্দ করা সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।

সূত্র : রয়টার্স, এএফপি

গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তে রাজি ইসরায়েল : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করার জন্য ‘প্রয়োজনীয় শর্তাবলি’ মেনে নিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল মঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

ওই পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করব’ তবে চুক্তির শর্তের বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো লেখেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাতার ও মিসরবাসী কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
তারা চূড়ান্ত চুক্তির প্রস্তাব দেবেন। আশা করি, হামাস চুক্তিটি গ্রহণ করবে। কারণ, এটি আর ভালো হবে না; বরং এটি শুধু আরো খারাপ হতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা।
ইসরায়েলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ কারণে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ইসরায়েল থেকে দুই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নেওয়া হয়। এর জবাবে সেদিন থেকে অবরুদ্ধ গাজায় তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এখন অবধি চলমান থাকা নির্বিচার ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৫৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
আহত মানুষের সংখ্যাও লাখ ছাড়িয়েছে।

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের গতকালের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে নিয়েছে কি না, সেটা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আর ইসরায়েলের তরফেও জানা যায়নি আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া।

সৌদি থেকে ফিরেছেন ৬৩ হাজার ১৮৮ হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬৩ হাজার ১৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। বুধবার (২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফেরত আসা হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছে ৫ হাজার ৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছে ৫৮ হাজার ১৮১ জন। হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স নামে তিনটি বিমান সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফিরিয়ে এনেছে ২৮ হাজার ৪২৭ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৫ হাজার ৯৮৫ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮ হাজার ৭৭৬ জন হাজিকে। এ পর্যন্ত ১৬৮টি ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭৬ ও সৌদি এয়ারলাইন্স ৬৯টি ফ্লাইট চালিয়েছে, আর ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ২৩টি ফ্লাইট।

এ বছর হজ পালনে গিয়ে ৪২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। হজ অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অসুস্থতা ছিল প্রধান।

হজযাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল থেকে এবং শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশে যায় ৩১ মে। এবারের হজ অনুষ্ঠিত হয় ৫ জুন।
ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

অনির্বাণকে অভিনয় থেকে ‘সাইড’ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফেডারেশন বনাম পরিচালক গিল্ডের দ্বন্দ্বের জেরে টালমাটাল কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। আর এই আলোচনায় যাদের নাম বার বার উঠে এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। অভিযোগ উঠেছে টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতার কারণে তার কাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে এমনকি নতুন কোনো প্রজেক্টও হাতে আসছে না।

সম্প্রতি এই সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে একটি মিউজিক ভিডিওর কাজ শুরু করতে পারেননি অনির্বাণ।
ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি রঘু ডাকাতে অভিনয়ের পর থেকে আমার হাতে আর কোনও অভিনয়ের কাজ নেই।’

‘সেক্ষেত্রে এখন কোনও অসুবিধা হচ্ছে না কিন্তু এবার যদি দেখা যায় যে আরও ৩ মাস পর বা ৬ মাস পরও কেউ আমাকে অভিনয়ের জন্য ডাকছেন না। তখন নিশ্চয়ই আমার মনে একটা প্রশ্ন উদয় হবে যে, তাহলে মনে হয় আমার ঘটি মাটি সব হাওয়া করে দেওয়া হল। মানে আমার অভিনয়ও বন্ধ হয়ে গেল।
’

তাকে কি কোনো ভাবে সাইডলাইন করার চেষ্টা চলছে? এই প্রশ্নে অভিনেতা সম্মতি জানিয়ে বলনে, ‘হ্যা আমাকে এখনো কোনো সিরিজ বা সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আর কেউ ডাকেননি।’ তিনি আরও জানান তারা আদালতে যাওয়ার পর থেকেই তাকে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

অনির্বাণ একজন অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি একজন পরিচালকও। তাছাড়াও তিনি একজন গীতিকার তার নিজস্ব একটি গানের দলও আছে।
এছাড়াও অভিনেতা বহু সিরিজ ও ছবিতে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে ফেডারেশনের এই সমস্যার জেরে কাজ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েতে হয়েছে অভিনেতাকে।

‘যতক্ষণ দুঃখ প্রকাশ না করছো, তোমরা শান্তি পাবে না’: আওয়ামী লীগকে শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব, সদস্য ও সমর্থকরা যতক্ষণ না জুলাই বিপ্লবে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো শুরু করে, দুঃখ প্রকাশ না করে-ততক্ষণ পর্যন্ত তারা শান্তি পাবে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ শফিকুল আলম আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “আমরা মাটি থেকে আপনাদের কুৎসিত প্রভাবের দাগ মুছে ফেলব এবং তা রক্ত দিয়ে ধুয়ে ফেলব। আপনারা কখনও শান্তি পাবেন না—যতক্ষণ না শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান দেখান। যতক্ষণ না আপনি ‘দুঃখিত’ বলেন।
’

প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করেছি প্রায় দশ মাস—যাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব, সদস্যবৃন্দ এবং তাদের সমর্থকরা দুঃখ প্রকাশ করে এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টায় আমাদের পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকে আপনারা যা করেছেন তা হল শহীদদের নিয়ে উপহাস, আমাদের সংগ্রামকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং ১৭ কোটি মানুষকে ‘জঙ্গি’ বলে কলঙ্কিত করেছেন—এই আশায় যে, আপনার ঔপনিবেশিক প্রভুরা এসে আবারো আপনাদের হাতে দেশ তুলে দেবে, যেন লুণ্ঠন ও বিশৃঙ্খলার আরেকটি অধ্যায় শুরু করতে পারেন’।

‘দুঃখিত, এবার আর তা হবে না। জুলাই আমাদের সাহসী করেছে।
জুলাই আমাদের শিখিয়েছে প্রতিকূলতার মুখেও মাথা তুলে দাঁড়াতে। জুলাই আমাদের ডিএনএ-তে স্থায়ীভাবে এক বিরল সাহসের জিন প্রবেশ করিয়েছে। আমরা আর আগের মতো নই,’ তিনি বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, জুলাই আমাদের শিখিয়েছে হাল না ছেড়ে ঝড়ের মতো গুলির মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকার দৃঢ়তা।
জুলাই আমাদের ভুলতে দেয় না আমাদের শহীদদের, যাদের আপনারা নির্মমভাবে হত্যা করেছেন; যাদের চোখ উপড়ে নিয়েছেন, যাদের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করেছেন।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কখনও শান্তি হবে না—যতক্ষণ না আপনি ‘দুঃখিত’ বলেন, যতক্ষণ না আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপনার হাতে রক্ত দেখতে পান।’

মানবতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে লড়ব—আমাদের জমিতে, নদীতে, পাহাড়ে। আমরা লড়ব ভার্চুয়াল জগতেও। আপনারা গণহত্যার সহযোগী ও মানবাধিকারের ডাকাত, আমরা আপনাদের মুখোশ খুলে ফেলব।

কাজ নিয়ে যারা ইনসিকিউরড তারাই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন বিক্রি করে : জয়া

নিজের অভিনয় দিয়ে দুই বাংলার অগণিত দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন জয়া আহসান। আজ ঢাকায়, তো কাল কলকাতায়, এ যেন তার এখন চিরচেনা রুটিন। আজ জনপ্রিয় এ তারকার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন জয়া।
তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভোলেননি তিনি।

কাজ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে চান। এটা তার সচেতন সিদ্ধান্ত বলেই জানিয়েছেন তিনি। জয়া আহসান বলেন, ‘একদমই আমার সচেতন সিদ্ধান্ত।
আমি মনে করি, রিলেশনশিপ, ব্যক্তিগত বিষয় যত বেশি লোকের জানাজানি হবে—তত বেশি সম্পর্ক নষ্ট হয়, এটা আমার বিশ্বাস।’

জয়ার প্রেম নিয়েও প্রায়ই কথা উঠে, এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী স্পষ্ট বললেন, ‘একা আছি কি না, এটা একমাত্র আমিই বলতে পারব। এটার উত্তর আমি দেব না, একা আছি কি নেই। কিন্তু দর্শক জয়া আহসানের যে ইমেজটা দেখে, তাতে তো ভালো লাগে।
কারণ এ ইমেজটাই তো আমি তৈরি করতে চেয়েছিলাম। সেটাই আছে। আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গায় অনুপ্রবেশ করতে দিতে চাই না আসলে। ব্যক্তিগত তো আসলে ব্যক্তিগত। ওটা আমার কাজের জীবনে কোনো উপকারে আসবে না।
’

তাহলে কেন আমি তা খামোখা প্রকাশ করব? আমি শুধু কাজ দিয়ে দর্শকের খুব আগ্রহের জায়গায় রয়েছি। কাজ দিয়ে যারা আগ্রহের জায়গা নেই, কাজ নিয়ে যারা ইনসিকিউরড তারাই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম বিক্রি করে—সেগুলো আমার পছন্দ নয়। আমরা সেটা করার প্রয়োজন হয়নি।