বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

ব্রিকস সদস্যদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপ শিগগিরই, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

শিগগিরিই ব্রিকস জোটের সদস্যদেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। খবর রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক মুদ্রার মানদণ্ড থেকে ডলারকে সরানোর উদ্দেশ্যেই ব্রিকস জোট গড়ে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে মুদ্রা যুদ্ধ ছড়ানোর অভিযোগে ভারতসহ ব্রিকস জোটের সব সদস্য দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, এই শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ১ আগস্ট থেকে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং আরও পাঠানো হবে। ব্রিকস গঠিত হয়েছে ডলারকে দুর্বল করতে। শুধু ব্রিকস জোটের সদস্য হওয়ার কারণেই সদস্য দেশগুলোকে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

উপস্থিত সাংবাদিকরা ভারত ও ব্রাজিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরলে ট্রাম্প বলেন, যদি কোনো দেশ ব্রিকসের সদস্য হয়, তাহলে তাদের ১০ শতাংশ শুল্ক দিতেই হবে। কারণ ব্রিকস তৈরি হয়েছে আমাদের ক্ষতি করার জন্য, আমাদের ডলারের মান কমিয়ে দিতে। তারা যদি এই খেলা খেলতে চায়, তাহলে খেলুক। আমিও খেলতে পারি। তাই ব্রিকসের যেকোনো দেশকে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর তারা বেশিদিন সদস্য থাকতেও পারবে না। আমি মনে করি, ব্রিকস আমাদের জন্য বড় কোনো হুমকি নয়। তবে তারা ডলারকে ধ্বংস করে অন্য কোনো দেশের মুদ্রা বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে আমরা আমাদের মানদণ্ড হারাব না। ব্রিকস মূলত ভেঙে পড়েছে, যদিও কিছু দেশ এখনও জোটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শুল্ক আরোপ খুব শিগগিরই কার্যকর হবে।’

একই দিনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কপার বা তামার আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বিদ্যুৎ, সামরিক সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর ওপর শুল্ক বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোই লক্ষ্য। ঘোষণা দেয়ার পরপরই নিউইয়র্ক মার্কেটের কপার ফিউচারসের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

সেমিকন্ডাক্টর ও ওষুধ আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওষুধের ক্ষেত্রে শুল্কহার ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ওষুধ নির্মাতা কোম্পানিগুলোকে প্রস্তুতি নিতে প্রায় এক বছরের সময় দেয়া হবে।

হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরে এর মধ্যেই দশ হাজার কোটি ডলার শুল্ক আদায় করেছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে এই পরিমাণ ত্রিশ হাজার কোটি পৌঁছাবে।

এসময় চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা সুসম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে খুবই ন্যায্য আচরণ করছে এবং সম্প্রতি দেশটির সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

আন্দোলনে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

গত বছরের জুলাই-আগস্টে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংটি যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা তার নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার’ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং ‘তারা (এসব বাহিনীর সদস্যরা) যেখানেই তাদের (আন্দোলনকারী) পাবে, তারা গুলি করবে’।

অজ্ঞাত একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে, তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গুলি করার জন্য সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন।

ফাঁস হওয়া অডিওটি সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ওই ফোনালাপটি করেন। রেকর্ডিংয়ের কণ্ঠের সঙ্গে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বরের মিল শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

বিবিসি আলাদাভাবে ইয়ারশটের অডিও ফরেনসিক এক্সপার্টদের দিয়ে এই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেছে এবং তারা এটিতে এডিট করার বা কোনো রকম পরিবর্তন করার কোনো প্রমাণ পায়নি। অডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এমন সম্ভাবনাও খুবই কম বলে তারা জানিয়েছে।

মানবাধিকার বা পরিবেশ রক্ষার ইস্যুতে অডিও সংক্রান্ত তদন্তের কাজ করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ারশট। তারা বলছে, ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংটি সম্ভবত এমন একটি ঘরে ধারণ করা হয়েছিল যেখানে ফোন কলটি স্পিকারে বাজানো হয়েছিল। কারণ এতে স্বতন্ত্র টেলিফোনিক ফ্রিকোয়েন্সি এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু শব্দ ছিল।

ইয়ারশটের বিশেষজ্ঞরা রেকর্ডিংজুড়ে ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি বা ইএনএফ শনাক্ত করেছে, যে ফ্রিকোয়েন্সি অন্য একটি ডিভাইস থেকে অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায়ই উপস্থিত থাকে।
এটি এমন এক সূচক যার মানে হলো অডিওটিতে হেরফের করা হয়নি।

তারা শেখ হাসিনার বক্তব্যে ছন্দ, স্বর এবং শ্বাসের শব্দ বিশ্লেষণ করেছে এবং ধারাবাহিক নয়েজের স্তরও শনাক্ত করেছে। অডিওতে কৃত্রিম কোনো পরিবর্তন আনার প্রমাণও খুঁজে পায়নি।

ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বিবিসিকে বলেছেন, ‘রেকর্ডিংগুলো তার (শেখ হাসিনার) ভূমিকা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এগুলো স্পষ্ট এবং সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং অন্যান্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত।’

তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন যেখানে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘বিবিসির উল্লেখ করা টেপ রেকর্ডিংটি সত্য কিনা তা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না’।

৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে অন্তত ৫২ বেসামরিক নিহত হন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে কমপক্ষে ৫২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। বিবিসি আই এর অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ভারতে পালিয়ে যান, সেদিন যাত্রাবাড়ীতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পুলিশি সহিংসতাগুলোর একটি ঘটে। সেদিনের শত শত ভিডিও, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং সেগুলো বিশ্লেষণের পাশাপাশি সরেজমিনে বেশ কয়েকবার যাত্রাবাড়ীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করে বিবিসি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানান খবর প্রকাশিত হলেও নির্বিচারে হত্যার ঘটনাটি কীভাবে শুরু ও শেষ হয়েছিল এবং তাতে কত মানুষ হতাহত হয়েছিল, সে সম্পর্কে বিবিসি’র অনুসন্ধানে এমন কিছু তথ্য ও বিবরণ উঠে এসেছে, যা আগে সেভাবে সামনে আসেনি।

অনুসন্ধান চলাকালে ঘটনার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও বিবিসি’র হাতে আসে, যেখানে ৫ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিবর্ষণ শুরুর কিছু মুহূর্ত দেখা যায়। ভিডিওটি এমন একজন আন্দোলনকারীর মোবাইল ফোন থেকে বিবিসি সংগ্রহ করেছে, যিনি নিজেও সেদিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।

নিহত ওই আন্দোলনকারীর নাম মিরাজ হোসেন।
পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে, সেই সময়ের ভিডিও ধারণ করেছেন মিরাজ। মর্মান্তিকভাবে মোবাইল ক্যামেরায় ওই ভিডিওতে তার জীবনের শেষ মুহূর্তও ধরা পড়েছে।

মিরাজ হোসেনের মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইলটি খুঁজে পান এবং ফোনে সংরক্ষিত ভিডিওটি বিবিসিকে দেন। ভিডিওর মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেদিন নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি শুরু হয়েছিল দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে।

ভিডিওটিতে যাত্রাবাড়ী থানার মূল ফটকে বিক্ষোভকারীদের সামনে সেনাবাহিনীর একটি দলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ করেই তারা ওই এলাকা থেকে সরে যান। এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রাবাড়ী থানার ভেতরের পুলিশ সদস্যরা ফটকের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারী জনতার ওপর আকস্মিকভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করেন।

থানার উল্টো দিকে অবস্থিত একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ গুলি চালানো শুরু করার পর প্রাণ বাঁচাতে গলির ভেতর দিয়ে ছুটে পালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। ওই সময়ের আরেকটি ভিডিওতে আহতদের শরীরে লাথি মারতেও দেখা যায় পুলিশকে।

অনুসন্ধানে বিবিসি দেখেছে যে, ৫ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। ঘটনার সময়ের কিছু ড্রোন ভিডিও বিবিসি’র হাতে এসেছে। ভিডিও বিশ্লেষণ করে বিবিসি দেখতে পেয়েছে, বিকাল ৩টা ১৭ মিনিটেও যাত্রাবাড়ী থানার সামনের মহাসড়কে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাচ্ছিল পুলিশ। এরপর তাদের বড় একটি দলকে থানার উল্টো পাশে অবস্থিত একটি অস্থায়ী সেনা ব্যারাকে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

সেদিন যাত্রাবাড়ীতে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কিন্তু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তখনকার খবর, নিহতদের পরিবারের সাক্ষাৎকার, হাসপাতালের নথি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের সত্যতা যাচাই করার পর বিবিসি দেখেছে, পাঁচই অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে কমপক্ষে ৫২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। এর বাইরে সেদিন আরো অন্তত ছয়জন পুলিশ নিহত হন।

সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রায় বিশ্ব মুসলিমের রোল মডেল মালয়েশিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রে অবস্থিত প্রায় ৩৩ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট দেশ মালয়েশিয়া, যা একসময় ছিল দরিদ্র ও তৃতীয় বিশ্বের অংশ। কিন্তু আজ সেই মালয়েশিয়া একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এই সাফল্যের পেছনে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত অগ্রযাত্রা, বিশেষত দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি এতে বিশাল অবদান রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫৭ সালে মালয়েশিয়া ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

স্বাধীনতার পর দেশটি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিণত হয়, যেখানে রাজা রাষ্ট্রপ্রধান হলেও কার্যত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকে। স্বাধীনতার পর মালয়েশিয়া অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়। দেশজুড়ে চরম দারিদ্র্য, সম্পদের অসম বণ্টন এবং জাতিগত বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা মালয়েশিয়ায় শাসনের সময় থেকেই বিপুলসংখ্যক চীনা ও ভারতীয় শ্রমিককে নিয়ে এসেছিল, যারা পরবর্তীকালে দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নেয়।

বিপরীতে ভূমির প্রকৃত মালিক মালয় জাতিগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়ে তারা দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও প্রান্তিকতার শিকার হয়, যদিও দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশেরও বেশি ছিল মালয় মুসলমান আর চীনাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬ শতাংশের নিচে। এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ফলে ১৯৬৯ সালে মালয়রা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্দোলনে অংশ নেয়। উত্তাল পরিস্থিতির মুখে সরকার ‘মালয় ক্ষমতায়ন নীতি’ নামে একটি নতুন নীতি গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে মালয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একাধিক আইন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

১৯২৫ সালের ১০ জুলাই, মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার একটি মধ্যবিত্ত মালয় মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে মালয়েশিয়ার শাসক দল উমনো (UMNO)-তে যোগ দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। ১৯৭০ সালে মাহাথির রচিত ‘The Malay Dilemma’ (মালয় সংকট) বইটি প্রকাশিত হলে তিনি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। বইটিতে তিনি মালয় মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন, যা সে সময় জাতিগত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরো তীব্র প্রতিধ্বনি তোলে। যদিও বইটি বিতর্কের কারণে নিষিদ্ধ হয়, তবু এই নিষেধাজ্ঞাই মাহাথিরের জনপ্রিয়তাকে বহুগুণে বাড়িয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে আরো শক্তিশালী করে তোলে।

এরপর তিনি মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক উচ্চতায় পৌঁছেন।

১৯৮১ সালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, যেখান থেকে দেশব্যাপী আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষানীতির সূচনা হয়। তাঁর নেতৃত্বেই মালয়েশিয়া প্রবেশ করে উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও আধুনিকায়নের এক নতুন অধ্যায়ে।

“এ ডক্টর ইন দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স অফিস” বইটিতে মাহাথির মোহাম্মদ তাঁর শাসনামলে মালয়েশিয়ায় গৃহীত প্রশাসনিক নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনার ভিত্তি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, ‘ভালো শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুশৃঙ্খল ও কার্যকর প্রশাসন অপরিহার্য। এর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। দুর্নীতি দমনের জন্য আপনি চাইলে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে পারেন, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এমন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি কাজের প্রক্রিয়া, নির্ধারিত সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে। যদি কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন না করেন, তবে ধরে নেওয়া হবে তিনি হয় অদক্ষ নতুবা দুর্নীতিগ্রস্ত। সে অনুযায়ী তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাহাথির শুধু কঠোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরোপেই থেমে থাকেননি, বরং তিনি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তিও স্থাপন করেন। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে ছিল—বিদেশি বিনিয়োগের পথে বাধা দূর করা, দেশীয় সম্পদের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করা, বহির্বিশ্বের ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করা, দেশের নাগরিকদের জন্য মানসম্পন্ন ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা ইত্যাদি।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়া শুধু প্রশাসনিকভাবে নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও একটি স্বনির্ভর, আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়।

মুহাম্মদ সাদিক ইসমাইল তাঁর বই ‘The Malaysian Experience’-এ লিখেছেন, মাহাথির যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তার প্রথম ও অন্যতম প্রধান ছিল উৎপাদন খাত এবং রপ্তানি খাতে উৎসাহ প্রদান। মাহাথির বিশ্বাস করতেন, একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং বৈদেশিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এ কারণে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এমন কোনো সুবিধা দিতে নারাজ ছিল, যা স্থানীয় শিল্পের ক্ষতিসাধন করতে পারে। অর্থাৎ বিদেশি প্রতিষ্ঠান যেন এমনভাবে বাজারে প্রবেশ না করে, যাতে দেশের নিজস্ব শিল্প-কারখানা টিকে থাকতে না পারে। এই পদক্ষেপগুলো মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে নতুন গতি দেয় এবং দেশটির উন্নয়নের ভিত আরো মজবুত করে তোলে। মাহাথিরের দূরদর্শী নেতৃত্বে মালয়েশিয়া ধীরে ধীরে একটি শিল্পভিত্তিক, রপ্তানিমুখী ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়। একসময় যেখানে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৭১ শতাংশ, তা কমে বর্তমানে মাত্র প্রায় ১ শতাংশে নেমে এসেছে। ডা. মাহাথির মোহাম্মদ বিশ্বব্যাংকের চাপ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজস্ব ও স্বনির্ভর পথ বেছে নেন এবং জনগণকে উন্নয়ন প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে, দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ মালয়েশিয়ান দেশের বড় বড় কম্পানিতে শেয়ার মালিক ছিলেন। ফলে তাঁরা শুধু বিনিয়োগকারী হিসেবেই নন, ব্যবস্থাপনায়ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে আরো এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া সরকার দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়। এর ফলে মালয়েশিয়া বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের দিক থেকে ১৩তম এবং তেল মজুদের দিক থেকে ২২তম স্থানে উন্নীত হয়।

শিক্ষাব্যবস্থা মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ডা. মাহাথির মোহাম্মদের অন্যতম প্রধান উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে তা মালয়েশিয়ায় বাস্তবায়ন করা।

এই লক্ষ্যে তিনি জাপানে গবেষণা ও অনুসন্ধান মিশন পাঠান, যাতে মালয়েশিয়ার শিক্ষানীতিকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা যায়। জাপানের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে তিনি এমন শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করেন, যা শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বরং শিল্প ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা অর্জন এবং সমাজের বাস্তব চাহিদা পূরণে সক্ষম, মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়ক।

তিনি এত বড় লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করেন, যা সত্যিই এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল।

রাজনীতিতে ইসলাম : আধুনিকীকরণের পথে সত্যিই কি বাধা?

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়া আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের পথে অন্য অনেক ইসলামী দেশের মতো জটিল বাধার সম্মুখীন হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে মালয়েশিয়া শাসিত হয়ে আসছে ‘ইউনিয়ন অব মালয়ান ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন’ (UMNO)-এর নেতৃত্বাধীন একটি জোট সরকারের মাধ্যমে, যেখানে চীনা ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোও অংশ নেয়। ইসলামী আইন ও বিধানকে সীমাবদ্ধ রাখা হয় শুধু মুসলিমদের জন্য। সরকার ১৯৬০-এর দশক থেকেই দেশীয় ইসলামপন্থী আন্দোলনের মোকাবেলায় শান্তিপূর্ণ পন্থা গ্রহণ করেন। ড. মুহাম্মদ ফয়েজ ফারহাত তাঁর বই ‘Civilizational Islam : The Malaysian Model’-এ উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে পড়াশোনা করে ফেরা মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীরাই দেশে রাজনৈতিক ইসলামের প্রথম বীজ বপন করেন। এই শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শ ও সাহিত্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং তাঁদের ধারণাগুলো ছড়িয়ে দেন। মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত দল হচ্ছে ইসলামিক পার্টি (PAS), যার নেতৃত্বে আছেন শেখ আব্দুল হাদি আওয়াং। দলটি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে এবং বিশেষ করে কেলানটানসহ কয়েকটি রাজ্যে শাসনক্ষমতাও অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ইসলামিক পার্টি (PAS) প্রধানত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে, তারা কখনো কখনো ক্ষমতাসীন UMNO দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, দুই দল শরিয়া আইনের আওতায় চুরি ও হামলার কিছু ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত আরোপের মতো আইন পাস করতে সম্মত হয়েছিল। তাই স্পষ্টই বলা যায়, ইসলাম মালয়েশিয়ার আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে।

স্বাধীন আরব মিডিয়া নেটওয়ার্ক রাসিফ২২ থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন ওমর বিন নাসির

৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে শামিম হোসেন ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে সেই ধাক্কা কিছুটা সামলে উঠেছে সফরকারীরা

১৯ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে ইনিংসের শুরুতেই ব্যাকফুটে যায় বাংলাদেশ। আসিতা ফার্নান্ডোর ইয়র্কার লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে বোল্ড হন আগ্রাসী শুরু করা তানজিদ হাসান তামিম। ১৩ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ১৭ রান করেন তিনি।
চতুর্থ ওভারে আসে দ্বিতীয় ধাক্কা। শূন্য রানেই ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চামিরার হালকা মুভমেন্টের বলে তিন বল খেলে বোল্ড হন তিনি।

চতুর্থ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২০ রানে ২ উইকেট।
এরপর ইনিংস কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহিদ হৃদয়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৪২ রান। তবে সেই জুটি ভাঙে ১৪তম ওভারে। দিনুথ ভেল্লালাগের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ৪৪ বলে ২৮ রানে বিদায় নেন পারভেজ।

এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল বড় ইনিংসের। ইতিবাচক মানসিকতায় ব্যাটিং শুরু করলেও আউট হয়ে যান তিনিও। ভেল্লালাগের বলেই তুলে মারতে গিয়ে লগ অনে ক্যাচ দেন তিনি। ২৫ বলে করেন ২৮ রান।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৭ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে করেছে ১২৪ রান।
ক্রিজে রয়েছেন তাওহিদ ও শামিম।

গৃহকর্মী পিংকিসহ ৪ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে পরীমনির মামলা খারিজ

মিথ্যা বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মানহানিকর ও অশালীন শিরোনামে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করার জেরে গৃহকর্মী পিংকি আক্তারসহ চার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৮ ও ৩১ ধারায় মামলা করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। নতুন অধ্যাদেশে এই ধারার অভিযোগ না থাকায় আদালত পরীমনির এ মামলাটি খারিজ করে দেন।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নূরে আলম এ আদেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. জুয়েল।

তিনি বলেন, গত ২১ মে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে। একই সঙ্গে নতুনভাবে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করে। এ ক্ষেত্রে পিংকি আক্তারসহ চার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে হওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৮ ও ৩১ ধারার মামলা করা হয়েছিল। নতুন অধ্যাদেশে এই ধারার অভিযোগ না থাকায় আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

এর আগে ২৩ এপ্রিল পিংকি আক্তারসহ চার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মানহানির মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। মামলার অপর আসামিরা হলেন—সব খবরের স্বত্বাধিকারী মোরশেদ সুমন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ ইন্টারটেইনমেন্ট, পিপল নিউজ ও ডিজিটাল খবর।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৫ মার্চ ‘কাদের এজেন্সির’ মাধ্যমে পরীমনি তার বাসায় বাচ্চার দেখা শোনার জন্য পিংকি আক্তারকে নিয়োগ দেন। পরবর্তী সময়ে পিংকি আক্তার ২ এপ্রিল পরীমনির বাসা থেকে চলে যায় এবং বাদীর নামে একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট এবং অশ্লীল তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করতে থাকে।

এরপর পিংকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাক্ষাৎকার দেন এবং অন্যান্য আসামিরা তা ফলাও করে প্রচার করার কারণে সমাজে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ায়। এতে পরীমনি সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হন দাবি করে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ তহবিল

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সহায়তায় ২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। তহবিলটি শহীদ পরিবারকে অনুদান এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জুলাইযোদ্ধাদের সহায়তায় ২৫ কোটি টাকা তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকা দিচ্ছে এবং ভালো পারফরম্যান্সের ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিটি ১ কোটি টাকা করে মোট ১১ কোটি টাকা দেবে। প্রতিটি ব্যাংক নিজ নিজ বোর্ড সভার অনুমোদন নিয়ে এই অর্থ হস্তান্তর করবে। এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ।

সরকার ইতোমধ্যে বাজেটে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য পৃথক তহবিল ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগটি সেই ঘোষণার একটি পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এই উদ্যোগ সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এছাড়া ব্যাংকার্স সভায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা হাউজ লোন এবং ক্রেডিট কার্ড ঋণের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
তারা জানান, বর্তমানে হাউজ লোন হিসেবে মোট ঋণের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ বিতরণ করা হয় এবং একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হাউজ লোন পেতে পারেন, যা সময়ের প্রেক্ষাপটে বাড়ানো উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে বলেন, গ্রাহকদের সক্ষমতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় হাউজ লোনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে বর্তমানে ১০ লাখ টাকার সীমাবদ্ধতা থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।

যারা ভোটে জিততে পারবে না তারাই পিআর পদ্ধতি চায় : সালাম

যারা ভোটে জিততে পারবে না, তারাই পিআর পদ্ধতিতে সংসদে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। সম্প্রতি বেসরকারি একটি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যারা ভোটে জিততে পারবে না, তারাই পিআর পদ্ধতিতে সংসদে যেতে চায়। বিএনপির জন্মই হয়েছে এ দেশকে রক্ষা করার জন্য।
শেখ হাসিনা ১৭ বছর ধরে চেষ্টা করেও বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারে নাই। বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে নাই। বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করতে পারে নাই। তারা চেষ্টা করেছিল খালেদা জিয়াকে মেরে ফেললে বিএনপি নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাবে—এমন চেষ্টাও তারা করেছে।
খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেব না তাহলে বিএনপি চলবে কীভাবে। কিন্তু সেই চেষ্টা বিফলে গেছে। বিএনপি তো চলতেছে। দিন দিন এর জনসমর্থনও বাড়তেছে।

আবদুস সালাম বলেন, ‘যে কারণে শেখ হাসিনা নির্বাচনে যায়নি। এক জায়গায় বলত বিএনপি নেই। আরেক জায়গায় বলত নির্বাচন কেন দেব? তারেক আইসা দেশ চালাবে এই জন্য কী নির্বাচন দিতে হবে। আজকেও নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো লাভ নেই কারণ বিএনপির তো জন্মই হয়েছে দেশকে রক্ষা করার জন্য।
বিএনপির জন্মই হয়েছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। সেটা আমাদের নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান ফিরিয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়াও তা-ই করেছেন, এবার তারেক জিয়াও তা-ই করবেন—এটা তো পরিষ্কার। সেই আন্দোলনে তো আমরা আছি। সেকারণেই বলছি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে আমরা সেই জায়গায় ফিরে যেতে চাই। কিন্তু সেই নির্বাচন, সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বার বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কারা বাধাগ্রস্ত করছে? কাদের স্বার্থের হানি হচ্ছে—এটা বুঝতে হবে। এখানে একমাত্র স্বার্থের হানি হয় আধিপত্যবাদী শক্তির। আর ওই শক্তির প্রতিনিধি হলো আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা।’

কারা জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করছে তারা কিন্তু সেই শক্তিকে সাহায্য করছে। ১৬ বছর নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছি। কিন্তু হঠাৎ করে কী এক পদ্ধতি নিয়ে আসছে সিআর না পিআর। সেটা মানুষ কখনো শুনে নাই। সেই পদ্ধতি খায় না মাথায় দেয়। তারা চায় এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হোক। কারণ তারা জানে ভোটে কোনোদিন তারা নির্বাচিত হতে পারবে না। দেখেন তো তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়টা সিট পাইছে। কেন তাদের কথা শুনতে হবে। না শুনলে বলে এইতো সংস্কার হলো না। জোর করে হলেও উনাদের কথা শুনতে হবে।’

বিএনপি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কী তাইলে ভাইসা আইছি নাকি? বিএনপি এই দেশের প্রতিষ্ঠিত দল।এতবার ক্ষমতায় ছিল। ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে আবার ক্ষমতায় যাবে। সেই বিএনপির কথার দাম নেই। বিএনপির সঙ্গে জোটে যারা আছে—বলেন বিএনপি কি শুধু একাই চায়? আলোচনা পরিষ্কার যে যারা ভোটে জিতবে না তারাই কেবল পিআর পদ্ধতিতে সংসদে যেতে চায়।’

এবার নয়নতারার বিরুদ্ধে ৫ কোটির মামলা

‘নয়নতারা : বিয়ন্ড দ্য ড্রিমস’ শিরোনামে এক ডকুমেন্টারির মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অদেখা মুহূর্ত দর্শকের সামনে তুলে ধরেছিলেন দক্ষিণের লেডি সুপারস্টার নয়নতারা, যা ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায়।

এর পর থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়েছে প্রজেক্টটি, এমনকি নয়নতারাও। ডকুমেন্টারিতে অনুমতি ছাড়া ‘নানুম রাউডি ধান’ ছবির ফুটেজ ব্যবহার করায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন প্রযোজক ও অভিনেতা ধানুশ।

সেই কাণ্ডের পর আবারও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে নয়নতারার ডকুমেন্টারিটি।
অভিযোগ উঠেছে, এতে অনুমতি ছাড়াই ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চন্দ্রমুখী’ ছবির ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে।

একাধিকবার আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ডকুমেন্টারি থেকে কিছু দৃশ্য মুছে ফেলার জন্য বলা হলেও নয়নতারা ও তার টিম সেসব চিঠিকে গুরুত্ব দেয়নি। আর তাই এবার নয়নতারা ও তার ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ চেয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলা করেছে ‘চন্দ্রমুখী’ ছবির স্বত্বাধিকারী এপি ইন্টারন্যাশনাল।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আদালত ‘চন্দ্রমুখী’ ছবির ফুটেজ ডকুমেন্টারি থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে নেটফ্লিক্স ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টার্ক স্টুডিওজ-কে বলা হয়েছে, তারা এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে কত আয় করেছে তার বিস্তারিত হিসাব আদালতে জমা দিতে হবে। তবে এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত নয়নতারা কিংবা নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।

২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে আরো ৮ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ৩.৪২ শতাংশ।

এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৫১ জনের। মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ।