সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

সাগরিকার গোলে লাওসের বিপক্ষে দারুণ শুরু বাংলাদেশের

বড়দের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবার ছোটদের পালা। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলতে হলে বাছাইপর্বে গ্রুপসেরা হতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের। ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ হলেও অবশ্য সুযোগ মিলবে।
তবে সেটা শর্তসাপেক্ষে।

আজ ভিয়েনতিয়েনের নিউ লাওস জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে দারুণ শুরুই পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে স্বাগতিক লাওসের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে। গোলটি করেছেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আধিপত্য দেখালেও গোলের তেমন সুযোগ পাচ্ছিল না। উল্টো ১১ মিনিটে স্বাগতিক লাওসের মেয়েরাই পেয়েছিল। তবে গোলরক্ষক স্বর্ণা রানি মণ্ডল ও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। স্বর্ণা দারুণ সেভ করলে ফিরতি সুযোগ পায় লাওসের আক্রমণভাগের এক খেলোয়াড়।
তিনি ফিরতি শট নিলে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বাঁচিয়ে দেন।

১৪ মিনিটে অবশ্য বাংলাদেশকে লিড এনে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তৃষ্ণা। সতীর্থ সিনহা শিখার পাস বক্সের মধ্যে পেয়েও তিনি ভালোভাবে শট নিতে না পারায় গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ১৭ মিনিটে লাওসও এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশি গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোলবারে বল রাখতে পারেননি খোনেসাভান চৌম্মানিভং।
বাইরে মারেন তিনি।

ফিরতি মিনিটে পূজা দাস দারুণ এক দূর পাল্লার শট নিয়েছিলেন। তবে ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট জালে জড়ানোর আগে লাওসের গোলরক্ষক থংসামুদ ভংখাম্পান কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন।

তবে ৩৬ মিনিটের এক সেটপিসকে আটকাতে পারেননি লাওসের গোলরক্ষক। তাতে জালের দেখা পায় বাংলাদেশ। গোলটি করেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। শান্তি মার্ডির কর্নারকে হেডে জালে জড়ান সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ খেলে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করা সাগরিকা।

বিরতিতে যাওয়ার ৪ মিনিট আগে আরেকটি গোল পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভাগ্যকে পাশে পায়নি আফঈদা-সাগরিকারা। ৪১ মিনিটে বক্সের কাছাকাছি থেকে নেওয়া শিখার শটটি যে বারে লেগে ফিরে আসে। পরে আর কোনো গোল না হলে বিরতিতে যায় দুই দল।

শ্রীলঙ্কার সাবেক মন্ত্রী রাজাপক্ষে গ্রেপ্তার

শ্রীলঙ্কার দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ বুধবার একসময়ের ক্ষমতাশালী রাজাপক্ষে পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিন বছর আগে তার চাচা প্রেসিডেন্ট পদ থেকে উৎখাত হওয়ার পর তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে বেআইনিভাবে সম্পত্তির দাবি করেছিলেন।

দুর্নীতি বা ঘুষসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত কমিশন (সিআইএবিওসি) জানিয়েছে, তারা সাবেক মন্ত্রী শশীন্দ্র রাজাপক্ষেকে গ্রেপ্তার করেছে। দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট—মাহিন্দা ও গোতাবায়া রাজাপক্ষের ভাতিজা তিনি।
গ্রেপ্তারের পর তাকে কলম্বোর একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। তাকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত রিমান্ডে রাখা হবে। সেদিন মামলার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গত সেপ্টেম্বরে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজাপক্ষে পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে শশীন্দ্র গ্রেপ্তার হলেন।
এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সিআইএবিওসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কারণ তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক তার দাবি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য করেছেন। তবে সেই সম্পত্তিটি রাষ্ট্রীয় জমিতে অবস্থিত।
তিনি রাষ্ট্রীয় জমি অপব্যবহার করেছেন, যেই ক্ষতিপূরণ তার পাওয়ার কথা ছিল না তা দাবি করেছেন এবং দুর্নীতির অপরাধ করেছেন।’

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক ঋণে নিজেদের প্রথম সার্বভৌম খেলাপি ঘোষণা করে। সেই সময় দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ভোগ্য পণ্যের চরম ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার পরিণতিতে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে ক্ষমতাচ্যুত হন।

শশীন্দ্রর দুই চাচাতো ভাই—সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের দুই ছেলে নামাল ও যোশিথা মুদ্রাপাচারের অভিযোগের মুখোমুখি রয়েছেন।
যোশিথা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন তার এক বৃদ্ধ দাদির দেওয়া রত্নের থলি বিক্রি করেন। তবে ওই বৃদ্ধা পরে বলেছেন, তিনি মনে করতে পারছেন না কে তাকে রত্নগুলো দিয়েছিল।

এ ছাড়া মাহিন্দার শ্যালক নিশান্তা বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের প্রধান থাকার সময় রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছেন। মাহিন্দার আরেক ভাই বাসিল রাজাপক্ষে, যিনি একসময় মন্ত্রী ছিলেন, তিনিও মুদ্রাপাচারের মামলার মুখোমুখি রয়েছেন।

প্রাথমিকের শিক্ষকদের সুখবর দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুখবর দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শিগগিরই সাড়ে ৬ হাজার শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা । তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ইতিমধ্যে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে।
সেই সঙ্গে সাড়ে ৬ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘সব স্কুলে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বসানো হয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, সেখানে সংযোগ দেওয়ার কাজ চলমান। পাশাপাশি নতুন স্কুল ভবন নির্মাণে নারী স্থপতিদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকের পড়াশোনার পদ্ধতিগত পরিবর্তনের দিকেও আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। সব স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কমপক্ষে ১০০টি স্কুলে এ বছরের মধ্যেই ই-লার্নিং চালু হবে। ঢাকা চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা প্রযুক্তির সহায়তায় এসব স্কুলে শিক্ষকতা করে সেখানকার শিক্ষক ঘাটতি পূরণ করবেন।
’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫০২টি অনুমোদিত প্রধান শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩১ হাজার ৩৯৬ জন। ফলে ৩৪ হাজার ১০৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

এর মধ্যে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদ ২ হাজার ৬৪৭টি। ১০% সংরক্ষণ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ২ হাজার ৩৮২টি পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া সহকারী শিক্ষক পদ থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে ৩১ হাজার ৪৫৯টি পদ পূরণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা একটি চলমান সিভিল আপিল মামলা নিষ্পত্তির পর কার্যকর হবে।

আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে যাকে ইঙ্গিত করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সই রিপাবলিকান দলের ‘সম্ভাব্য’ প্রার্থী হবেন বলে মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প এতদিন তার উত্তরসূরি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফেব্রুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, ভ্যান্স ‘খুবই দক্ষ’ হলেও এমন সিদ্ধান্ত জানানোর সময় এখনও আসেনি। ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা) আন্দোলনের উত্তরাধিকারী ভ্যান্স কি না—মঙ্গলবার একজন সাংবাদিক তাকে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি মনে করি সবচেয়ে সম্ভাব্য এটাই।
যথার্থ ভাবে বললে, সে এখন ভাইস প্রেসিডেন্ট।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এল যখন তার তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, যদিও*মার্কিন সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ দুইটিতে সীমাবদ্ধ।

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘যদিও এখনই এ বিষয়ে নিয়ে কথা বলার সময় আসে নি—তবে সত্যি বলতে, সে দারুণ কাজ করছে। এ মুহূর্তে সে সবচেয়ে এগিয়ে।
’

ট্রাম্প আরো একটি সম্ভাবনার কথা বলেন, ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একসঙ্গে শক্তিশালী রিপাবলিকান গড়তে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় মার্কোও এমন একজন যে হয়তো কিছু যায়গায় জে ডির সমকক্ষ।’

মার্কিন সংবিধানে প্রেসিডেন্টদের দুই মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সত্ত্বেও, ট্রাম্প বেশ কয়েকবার আরেকটি মেয়াদে দায়িত্ব পালনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ‘ট্রাম্প ২০২৮’ ও ‘নিয়ম পুনর্লিখন করুন’ লেখা টি-শার্ট ট্রাম্পের অফিসিয়াল অনলাইন স্টোরে বিক্রিও হচ্ছে।

তবে মঙ্গলবার সিএনবিসির স্কোয়াক বক্স অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তিনি সম্ভবত তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করবেন না। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ‘আমি চাই। আবার লড়তে আমার ভালোই লাগবে। আমার সমর্থন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।’

উল্লেখ্য ট্রাম্পই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট যাকে দুইবার অভিশংসনের মুখে পড়তে হয়েছে—প্রথমে ২০১৯ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেস বাধা দেওয়ার অভিযোগে ও দ্বিতীয়বার ২০২১ সালে বিদ্রোহ উসকানোর জন্য।
তবে দুবারই সেনেট তাকে খালাস দেয়।

সাবেক মেরিন ও আইনজীবী ভ্যান্স বর্তমানে প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন—দেশীয় নীতির প্রধান মুখপাত্র ও কূটনৈতিক দূত হিসেবেও কাজ করছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা পারেন, তবে তা ট্রাম্পের সঙ্গে পরামর্শ করেই।

অন্যদিকে হেনরি কিসিঞ্জারের পর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়ের দায়িত্ব পালনকারী প্রথম কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন ফ্লোরিডার প্রাক্তন সিনেটর রুবিও।

প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষায় যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা রক্ষায় তার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৬ আগস্ট) ডিএমপির কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সে অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ৮ আগস্ট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয় (সংলগ্ন এলাকাসহ) এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টু রোড ক্রসিং এর মধ্যবর্তী এলাকা) যে কোনো প্রকার সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।

সরকারি অনুদান নিয়ে ৫০ স্কুলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা

সরকারি অনুদান প্রাপ্তিতে ৫০টি স্কুল ও ৪৬২ জন শিক্ষার্থীর আপডেট তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বাজেট শাখায় প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ৩০ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব লিউজা-উল-জান্নাহ স্বাক্ষরিত এক সরকারি পত্রে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আর্থিক অনুদানের মনোনীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক অনুদানের অর্থ বিতরণ সংক্রান্ত উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের জন্য বিশেষ অনুদান খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে ১০১টি, শিক্ষক-কর্মচারী ক্যাটাগরিতে ২৫০ জন এবং ছাত্র-ছাত্রী ক্যাটাগরিতে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির ২৪৫০ জন, ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির ১৫৯৭ জন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১৪২৮ জন এবং স্নাতক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ে ১২৭৪ জন মোট ৭১০০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত তালিকা গত ১৭.০৬.২০২৫ তারিখ এ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই পত্রে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নগদ লিমিটেড হতে ২০ জুলাই ২০২৪ তারিখে প্রেরিত তথ্যানুযায়ী এ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত মোট ১০১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের রাউটিং নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্যগত ভুল থাকার কারণে তাদের আবেদনপত্রে প্রদত্ত ব্যাংক হিসাব নম্বরে অনুদানের অর্থ প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী ক্যাটাগরিতে ৬ হাজার ৯৯৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪৬২ জনের কেওয়াইসি ইনফরমেশন আপডেট না থাকার কারণে তাদের আবেদনের সময় প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে অর্থ প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি।

এমতাবস্থায়, তালিকাভুক্ত যেসব উপকারভোগী (শিক্ষক/কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী ক্যাটাগরিতে) তাদের আবেদনপত্রে প্রদত্ত নগদ নম্বরে আর্থিক অনুদানের টাকা প্রাপ্ত হননি তাদের (নগদ) মোবাইল নম্বর এর কেওয়াইসি ইনফরমেশন আগামী ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে আবশ্যিকভাবে আপডেট করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।

সূত্রোক্ত তালিকাভুক্ত যেসব উপকারভোগী তাদের আবেদনপত্রে প্রদত্ত ব্যাংক হিসাব নম্বরে আর্থিক অনুদানের টাকা প্রাপ্ত হননি, উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যাংক হিসাবের শিরোনাম, ব্যাংক ও শাখার নাম, রাউটিং নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বর ও ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের সঠিক তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষরে এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বডির সভাপতির প্রতিস্বাক্ষরে আগামী ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ই-মেইলযোগে (moebudgetsection@gmail.com) এ বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

৩৩ বছর বয়সেই প্রয়াত ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’ অভিনেত্রী

মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে টিউমারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে প্রয়াত হলেন ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’ খ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী কেলি ম্যাক। যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটিতে নিজ বাসায় গত শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর।

সামাজিক মাধ্যমে কেলির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
সেখানে বলা হয়, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, আমাদের প্রিয় কেলি আর নেই। একটি উজ্জ্বল, তপ্ত আলো এবার মিলিয়ে গেল অনন্তের পথে, যেখানে একদিন আমাদের সবারই যেতে হবে।’

কেলির মৃত্যুতে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন সহকর্মী, বন্ধু এবং ভক্ত-অনুরাগীরা। যারা তাকে ‘প্রতিভাবান’ এবং ‘সুইট সোল’ বলে মন্তব্য করছেন।

কেলি ম্যাক হিন্সডেল সেন্ট্রাল হাই স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জে অবস্থিত চ্যাপম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডজ কলেজ অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস থেকে সিনেমাটোগ্রাফিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

ছোটবেলায় জন্মদিনে ছোট একটি ভিডিও ক্যামেরা উপহার পান কেলি। তারপর থেকেই তার গল্প বলার প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে।
শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনে মডেল হন, এরপর নাম লেখান অভিনয়ে।

পরবর্তীতে ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’ ছাড়াও ‘শিকাগো মেড’, ‘নাইন ওয়ান ওয়ান’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিরিজে দেখা গেছে তাকে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজনাও করতেন। ‘ডক্টর পেপার’, ‘ডেইরি কুইন’, ‘চিক-ফিল-এ’র মতো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনেও তার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।

ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়তে পারে আইফোন ও তেলের দাম

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার শিকার রাশিয়া, তা সত্ত্বেও এখনো তারা ব্যাপক পরিমাণের জ্বালানি সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তনের আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যদি আগামী শুক্রবার বা ৮ আগস্টের মধ্যে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়া রাজি না হয়, তবে এই দেশের সঙ্গে এখনো বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর নতুন সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করা হবে।

এই সেকেন্ডারি শুল্ক অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির সময় শতভাগ কর আরোপ করা হবে।
গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি অনেক কিছুর জন্য বাণিজ্যকে ব্যবহার করেছি, কিন্তু যুদ্ধ থামানোর জন্য এটা দুর্দান্ত।’

ট্রাম্প প্রশাসনের এটা প্রথমবারের মতো সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ নয়। এর আগে ভেনিজুয়েলার তেল ক্রেতাদের শাস্তি দিতে একই ধরনের সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু এই পদ্ধতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
তেল ও গ্যাস রাশিয়ার সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত। চীন, ভারত ও তুরস্ক মস্কোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। আর রাশিয়া এখনো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। এর আগে শুধু সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে।

কিন্তু জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছর রাশিয়ার তেল রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছে।

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের কিয়েরান টম্পকিনস বলেছেন, ‘রুশ জ্বালানির ক্রেতাদের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার মূল পথ হবে জ্বালানি দামের স্তর।’

যদি এই শুল্ক কার্যকর হয় তবে তা বিশ্ব বাজারে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস করবে। সে ক্ষেত্রে সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যেতে পারে।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সময় যা হয়েছিল, সেই সময় পুরো বিশ্বে মূল্যস্ফীতি তীব্রভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনের কারণ উদ্বিগ্ন নন তিনি।

টম্পকিন্স উল্লেখ করেছেন, এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কারণ দামের ওপর প্রভাব এতটা প্রবল না-ও হতে পারে। বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওপেকের (বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ ও তাদের বন্ধুদের) কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে, যা প্রয়োজনে কাজে লাগানো যাবে।’

রাশিয়া ইতিমধ্যে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যা তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ট্রাম্পের ঘোষিত সেকেন্ডারি শুল্ক এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহর, যেটার মালিকানা অস্পষ্ট ও শত শত ট্যাংকার নিয়ে গঠিত। এই বহর ব্যবহার করে রপ্তানীকৃত রুশ তেল ও গ্যাসের উৎস গোপন রাখা সম্ভব।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ রিচার্ড নেফিউ বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ঠিক যতটা কঠিন, ততটা কঠিন তা বজায় রাখা। এর কারণ হলো যাদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয় তারা বরাবরই তা এড়ানোর কৌশল বের করে।’

ভারতে তৈরি আইফোনের দাম আরো বাড়তে পারে
এদিকে সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার জানিয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ভারত রাশিয়ান তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার সিএনবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তারা যুদ্ধ যন্ত্র চালাতে সাহায্য করছে এবং যদি এটা তারা চালিয়ে যায় তাহলে আমি খুশি হবো না।’

যদি সেকেন্ডারি শুল্ক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলোকে ভারতের পণ্য আমদানির সময় শতভাগ শুল্ক দিতে হবে। এসব পণ্য যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা না কেনে এবং অন্য কোথাও থেকে সস্তায় পণ্য কিনে নেয়—এটাই এই নীতির উদ্দেশ্য। ফলে ভারত রাজস্ব হারাতে পারে।

ভারতকে এভাবেই রাশিয়ার তেল কেনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর অন্য দেশগুলোকেও যদি একই ধরনের বিপদে পড়ে, তবে রাশিয়ার তেল বিক্রি করার জায়গা কমে যাবে। ফলে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে অর্থের সংকটে পড়বে রাশিয়া।

এই সেকেন্ডারি শুল্কের কারণে আমেরিকানরা মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ভারতে তৈরি ফোনের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে। মার্কিন প্রযুক্তি কম্পানি অ্যাপল ভারতে তাদের আইফোন উৎপাদনের বড় অংশ স্থানান্তর করছে। বিশেষ করে যেগুলো তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে চায়। যদি এসব পণ্য নতুন ট্যারিফের আওতায় পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের জন্য দাম দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। কারণ আমদানি শুল্ক কম্পানির ওপর আরোপ করা হয়, আর এই কম্পানিগুলো সাধারণত সব খরচই গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সিএনবিসিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘এই হার আরো বাড়ানো হতে পারে।’

অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান বাণিজ্যের দিকে ইঙ্গিত করে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত নীতির’ অভিযোগ তুলেছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ছিল। যদিও এটা ২০২১ সালের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ। এই বাণিজ্যের অধিকাংশই ছিল পারমাণবিক জ্বালানি ও সারের কাঁচামালের আমদানি। রাশিয়া এই দুটিরই বৈশ্বিক বড় সরবরাহকারী।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ হচ্ছে
এ ছাড়া রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি চীনা পণ্যের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে তা বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে যে পরিমাণে পণ্য আমদানি করে, তা ভারতের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। এই পণ্যের বেশির ভাগই ভোক্তা পণ্য যেমন খেলনা, পোশাক ও ইলেকট্রনিকস।

বেইজিংকে লক্ষ্য করে সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য পুনর্বিবেচনার যে আলোচনা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের পর থেকে করে আসছেন, তা-ও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

আইএমডি বিজনেজ স্কুলের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাইমন ইভেনেট বলেন, ‘এ ধরনের অতিরিক্ত চাপ চীনাদের ওপর প্রভব ফেলার সম্ভাবনা কম।’

ব্যাখ্যা করে তিনি আরো বলেন, ‘চীনকে রাশিয়ার দিক থেকে সরানো খুব কঠিন হবে, যদি না কোনো জোরালো কারণ থাকে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট শি ও পুতিন একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।’

এ ছাড়া ট্রাম্প যখন আগে চীনের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তখন এটা কাজ করেনি। দুই দেশের মধ্যে প্রায় সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিলেছিল। এ রকম উদ্যোগ আরো একবার নিলে তা যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়াতে পারে, যেটা বহু দিন ধরে মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে চীনের অর্থনীতি ইতিমধ্যে নানা সংকটে ভুগছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপে চীনে উৎপাদন খাতে বিপুলসংখ্যক চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য আরো ক্ষতির মুখে
ফিনল্যান্ডভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তুরস্ক এখনো রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা।

২০২২ সালের আগে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় রপ্তানির গন্তব্যস্থল ছিল ইইউ, যদিও ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে সেই পরিমাণ অনেক কমে গেছে। ব্রাসেলস সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে জ্বালানি কেনার চুক্তি করেছে। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে কিছু আমদানি এখনো বহাল আছে।

জুনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এ সমস্যাকে স্বীকার করে বলেছেন, ‘জ্বালানি সরবরাহকে অস্ত্র বানিয়ে রাশিয়া বারবার আমাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছে।’ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়া থেকে সব ধরনের জ্বালানি আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর বাণিজ্য সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে বড়। সম্প্রতি এই পক্ষ এক নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে, যার আওতায় ইইউ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশির ভাগ পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।

ইইউর অনেক সদস্য দেশ এই চুক্তির সমালোচনা করে বলেছে, এই শুল্ক ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের ক্ষতি করবে। সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা ইইউর জন্য আরো বড় হুমকি হতে পারে বলে এখন তারা আশঙ্কা করছে।

যদি রুশ জ্বালানি কেনার কারণে শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে ইইউ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া পণ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে রাশিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও মেশিনারির মতো বড় রপ্তানি খাতগুলো অন্য কোনো দেশ থেকে পাওয়া খুব কঠিন। অর্থাৎ আমেরিকানদের জন্য বেশি টাকা দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।

সম্ভাব্য রুশ মন্দা
ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পরও রাশিয়ার নিজের অর্থনীতি বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। গত বছর প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৩ শতাংশ। তবে সম্প্রতি দেশটির ইকোনমি মিনিস্টার ম্যাক্সিম রিশিতনিকভ সতর্ক করে বলেছেন, ‘অতিরিক্ত গরমের’ কারণে দেশটি একটা মন্দার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল পূর্বাভাস দিয়েছে, এ বছর রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৯ শতাংশ হতে পারে।

যদি সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা রপ্তানির চাহিদা কমাতে সক্ষম হয় তাহলে রাশিয়া মন্দার আরো কাছাকাছি পৌঁছবে।

রাশিয়ার অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ঠিক কেমন হবে তা জানা খুব কঠিন। কারণ পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো তাদের অনেক অর্থনৈতিক তথ্য, যেমন তেল ও গ্যাস উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে। রুশ সরকারের ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে তেল ও গ্যাসের আয় থেকে, কিন্তু রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছে।

এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে কোল্ড ওয়ার (স্নায়ু যুদ্ধ) পরবর্তী সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৬.৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপরীতে ইউক্রেন তাদের তুলনামূলক ছোট অর্থনীতির ২৬ শতাংশ পর্যন্ত যুদ্ধে ব্যয় করছে। এই পার্থক্যই বোঝায় কেন প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বারবার তার মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা চেয়ে আসছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ট্যারিফ বা শুল্কের উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ায় অর্থের প্রবাহ কমিয়ে দিয়ে জেলেনস্কিকে সাহায্য করা। এর মাধ্যমে ইউক্রেনে মৃত্যু, দুর্ভোগ ও ধ্বংসের অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ট্রাম্প।

পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে অভিনেতার মৃতদেহ উদ্ধার

একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা সং ইয়ং-কিউকে। সোমবার (৪ আগস্ট) সিওলের দক্ষিণে ইয়ংইন শহরের চিওইন-গু এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে জানা যায়, তার মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে সং ইয়ং-কিউর ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

যদিও সেই সময় তাকে আটক না করে সরাসরি প্রসিকিউশনের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই তিনি একাধিক নাটক ও সিনেমা প্রজেক্ট থেকে নিজেকে পিছিয়ে নেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল শেক্সপিয়ারের জনপ্রিয় নাট্যরূপ ‘শেক্সপিয়র ইন লাভ’।
 

ঘটনার দিন এক পথচারী একটি গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে মৃত ঘোষণা করে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আত্মহত্যার কোনো চিরকুট কিংবা জোরপূর্বক হত্যার প্রমাণ মেলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বিতর্ক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা কটু মন্তব্যের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই গুণী শিল্পী। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করছেন।

সং ইয়ং-কিউর কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৯৪ সালে, শিশুদের জন্য নির্মিত মিউজিক্যাল ‘দ্য ম্যাজিশিয়ান মিউরুয়েল’-এর মাধ্যমে।

থিয়েটার ছাড়াও তিনি সিনেমা ও টেলিভিশনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত সিনেমা ‘এক্সট্রিম জব’-এ চিফ চোই চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কেটে যায়।

১২ দলীয় জোটের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক শুক্রবার

যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার পর ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করবেন তারেক রহমান।’