রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক চলতে পারে ৬-৭ ঘণ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বহুল আলোচিত বৈঠক শুরু হতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এ বৈঠকের ফল কোন দিকে যায় তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের মধ্যে। যদিও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা রাখছেন। বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আলাস্কার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলাস্কায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকটি অন্তত ছয় থেকে সাত ঘণ্টা চলবে বলে ক্রেমলিন আশা করছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল ওয়ানকে বলেন, ‘আপনি ধরে নিতে পারেন যে এটি (বৈঠক) ন্যূনতম ছয় থেকে সাত ঘণ্টা চলবে।’ তিনি আরো বলেন, বৈঠকটি ‘ফলপ্রসূ’ হবে বলে মস্কো প্রত্যাশা করে।

সূত্র: এএফপি

মেঘ-ভাঙ্গা বৃষ্টিতে পাকিস্তানে ২০০, ভারতে ৫০ জন নিহত

পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অতিভারী বর্ষণে খাইবার পাখতুনখোয়ার বুনের, বাজাউর এবং বাটগ্রামেই সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে।

বিপর্যস্ত অঞ্চলে ত্রান সামগ্রী নিয়ে যেতে গিয়ে একটি হেলিকপ্টার ভেঙ্গে পড়েছে। ওই ঘটনায় দুজন পাইলট সহ মোট ৫ জন মারা গেছেন বলে খাইবার পাখতুনখোয়া বিপর্যয় মোকাবেলা এজেন্সি জানিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ভূমিধ্বসে ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং নীলম ও ঝিলম উপত্যকায় প্রায় ৫০০ পর্যটক আটকিয়ে পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে এটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে উদ্ধার ও ত্রাণকার্যের পর্যালোচনা করতে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাইবার পাখতুনখোয়াকে ‘বিপর্যস্ত এলাকা’ হিসাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত বুনের জেলা

স্থানীয়রা জানান, মেঘ-ভাঙ্গা বৃষ্টির ফলে ভূমিধ্বসে চাপা পড়ে আছেন বহু মানুষ।
সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫৭টি দেহ উদ্ধার করা গেছে। বুনেরের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র ৭৮টি দেহ হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি দেহগুলো হাসপাতালে বহন করে নিয়ে আসা যায় নি। এর মধ্যে শুধু গাডেজি তহশিলেই মারা গেছেন ১২০ জন।

চাঘারজাই তহশিলে একটি ভবন চাপা পরে একই পরিবারের ২২ জন সদস্য মারা গেছেন। উদ্ধার-কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন হিগুকান্দ এবং পীর বাবা এলাকায় বন্যায় বহু নারী ও শিশু আটকিয়ে পড়েছে। আল মদিনা নামের একটি হোটেল সম্পূর্ণ ভেসে গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখোয়াতে ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিপর্যয় মোকাবেলা এজেন্সি জানিয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৬৩ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী ও ১২জন শিশু রয়েছেন।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

মহামান্দ জেলা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহার করা একটি হেলিকপ্টার ভেঙ্গে পড়েছে। বাজাউর জেলার সালারজাই এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছিল ওই এমআই-সেভেন্টিন হেলিকপ্টারটি। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই পাহাড়ি এলাকায় ভেঙ্গে পড়ে হেলিকপ্টারটি। দুই পাইলট সহ মোট ৫ জন মারা গেছেন ওই ঘটনায়। ওই এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ভারতের জম্মুতে বিপর্যয় :

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কিশতোয়ারে মেঘ-ভাঙ্গা বৃষ্টি ও ভূমিধ্বসের ফলে বড়সড় বিপর্যয় হয় বৃহস্পতিবার। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৮, আহত একশোরও বেশি। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেখানে।

সূত্র : বিবিসি

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে মধ্যস্থতা করব না : ট্রাম্প

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শুক্রবারের (১৫ আগস্ট) বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে কোনো মধ্যস্থতা করবেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, বরং কিয়েভ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময়ে রাজি হবে কি না।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনা। ভূখণ্ড বিনিময় সম্পর্কিত যে কোনো সিদ্ধান্ত তখনই আলোচনায় আসবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আলোচিত হবে, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনকেই নিতে হবে। আমি মনে করি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। আমি ইউক্রেনের হয়ে আলোচনায় বসতে আসিনি, বরং তাদের আলোচনায় বসাতে এসেছি।’

তার এই মন্তব্য ইউক্রেনকে কিছুটা আশ্বাস দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কারণ কিয়েভ আশঙ্কা করছিল—যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া আলোচনা এমন এক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, যা তাদের ক্ষতির বিনিময়ে যুদ্ধকে স্থায়ীভাবে স্থবির করে দেবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান আসলে পুতিনের হাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা, যাতে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় তার অবস্থান মজবুত হয়। আমার মনে হয়, তারা আলোচনার চেষ্টা করছে। পুতিন পরিস্থিতি সাজাচ্ছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক থেকে ভালো ফলাফল আসবে। কারণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রুশ অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তিনি (পুতিন) বুদ্ধিমান লোক, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। আমিও তাই। আমরা ভালোভাবে মিলে চলি, উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট সম্মান আছে।
আমি মনে করি, এর থেকে (বৈঠক) কিছু একটা আসবেই।

দেবকে কখনোই আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে না: রুক্মিণী

ওপার বাংলার জনপ্রিয় জুটি দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলির পর্দার প্রেম থেকে তা বাস্তবেও রূপ নেয়। চুটিয়ে প্রেমের পর আলাদাও হয়ে যান। এরপর মুখ দেখাদেখি বন্ধ, সোশ্যালে ব্লক! এরপর থেকে এই জুটিকে একসঙ্গে দেখার আশা প্রায় ফিকে হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু প্রায় নয় বছর আগে শেষ করা সিনেমা ‘ধূমকেতু’ মুক্তি ঘিরে আবারও তারা এক হলেন।
দেখা হলো, কথা হলো। হলো নাচ, গল্পও। আর তা থেকেই সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়ল একাধিক মিম।

কেউ বলছে, শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী নাকি সে রাতে ভাত খাননি।
কেউ আবার তাদের মাঝখানে টেনে আনলেন দেবের প্রেমিকা রুক্মিণী মৈত্রকেও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছিলেন দেব। বারংবার ট্রলিংয়ের কারণে রাজ-শুভশ্রী এবং রুক্মিণীর কাছে ক্ষমা চান অভিনেতা-সাংসদ।

কিন্তু এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রুক্মিণী মৈত্র।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ মজার মানুষ। হাসি পাচ্ছে। যদি সিনেমাটা ভালো হয় তবে এর থেকে ভালো কিছু হয় না। আর তা ছাড়া দেবকে কোনোদিন আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে না।’

দেব-শুভশ্রীর রিউনিয়ন, অনেকেই দাবি করেছিলেন বর্তমান প্রেমিকের এই মিলনমেলা নাকি ভালোভাবে নেননি রুক্মিণী।
সে প্রশ্ন করতেই অবাক অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘ভীষণ পিছিয়ে পড়া কথাবার্তা। ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে যদি এমন কথা বলতে হয় সেটা ভীষণ রিগ্রেসিভ। যারা এমনটা ভাবছেন তারা হয়তো মানসিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে।’

প্রসঙ্গত, গতকাল ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে দেব-শুভশ্রী জুটির ‘ধূমকেতু’। মুক্তির প্রথম দিনেই বাংলা সিনেমার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রথম দিনেই বক্সঅফিসে ২ কোটিরও বেশি আয় করেছে ছবিটি।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির দোয়া মাহফিল আজ

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু আরোগ্যের কামনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ কথা জানান।

তিনি জানান, ১৫ আগস্ট, শুক্রবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। এতে দলের সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন।

তিনি জানান, জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ছাড়া কেক কাটা বা অন্য কোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দেশব্যাপী আয়োজিত এসব মাহফিলে অংশগ্রহণেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

বাস কন্ডাক্টর থেকে সুপারস্টার: ভারতীয় চলচ্চিত্রে রজনীকান্তের ৫০ বছর

ভারতের সুপারস্টার রজনীকান্তের জন্য চলচ্চিত্রে ৫০ বছর কেবল টিকে থাকার গল্প নয়—এটি একটানা শাসনের গল্প, যেখানে সিনেমা হল রূপ নিয়েছে মন্দিরে, আর দর্শকরা পরিণত হয়েছে ভক্তে। তার বেশিরভাগ কাজ হয়েছে তামিল ভাষার চলচ্চিত্র শিল্পে, যেখানে তার সিনেমা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করেছে।

১৯৭৫ সালে, এক তরুণ শিবাজি রাও গায়কোয়াড়—যিনি রজনীকান্ত নামে পরিচিত হন—মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই) শহরের অপূর্ব রাগাঙ্গাল ছবির সেটে প্রথম পা রাখেন। স্বল্প কিন্তু স্মরণীয় এক চরিত্রে, এক দুষ্টু-দুরন্ত যুবকের ভূমিকায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে।

প্রায় পাঁচ দশক ও ১৭০টিরও বেশি ছবির পর, রজনীকান্তের নতুন ছবি কুলি মুক্তি পায় ১৪ আগস্ট। ছবিটি আংশিকভাবে তার জীবনকাহিনী প্রতিফলিত করে—যেখানে তিনি এক শ্রমজীবী নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যে লড়ছে এক ধনী ও অত্যাচারী খলনায়কের বিরুদ্ধে।

৭৪ বছর বয়সী এই সুপারস্টারকে ঘিরে ভক্তির মাত্রা অবিশ্বাস্য—তার জন্য তৈরি হয়েছে মন্দির, প্রচারণায় বিমান ব্যবহার হয়েছে তার ছবিতে সজ্জিত করে, এমনকি দূরবর্তী জাপানেও তাকে স্থানীয় আইডলের মতো ভালোবাসা হয়।

রজনীকান্তের গল্প এক বহিরাগত থেকে ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে প্রিয় অন্তর্দেশীয় তারকা হয়ে ওঠার গল্প—এক শ্রমজীবী নায়ক, যার আবেদন ভাষা, শ্রেণি ও ভূগোলের সীমানা অতিক্রম করেছে।
চরম দারিদ্র্য থেকে শুরু করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে তিনি অর্জন করেছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মাননা) ও পদ্ম বিভূষণ (ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার)।

প্রায় ৫০,০০০ ভক্তক্লাব ও কোটি কোটি ভক্তের কাছে এই মাইলফলক আরেকটি উৎসবের উপলক্ষ। তাদের কাছে তিনি অর্ধদেবতা, যার পূজা পৌরাণিক মাত্রা পেয়েছে। একনিষ্ঠ ভক্ত এ রাজেন্দ্রন বলেন, ‘ঈশ্বরদের কাউকে না কাউকে রূপ নিতে হয়।
রজনীকান্তের এমন এক শক্তি আছে যা আমাদের তাকাতে বাধ্য করে।’

রজনীকান্ত: এ ডেফিনিটিভ বায়োগ্রাফি গ্রন্থের লেখক নামন রামচন্দ্রন উল্লেখ করেছেন, তার ভক্তদের মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকার থেকে শুরু করে তামিলনাড়ুর ধোপা—সবাই আছেন। তার পর্দার জাদু লুকিয়ে আছে অপ্রত্যাশিত বিজয়ের স্বপ্ন দেখানোতে—যেখানে নায়ক মানবিকতাকে হারায় না।

২০১৫ সালের তথ্যচিত্র ফর দ্য লাভ অব এ ম্যান রজনীকান্ত ভক্তদের উন্মাদনা তুলে ধরেছে—যেখানে ভক্তরা বাড়ি বন্ধক রেখেছেন, পারিবারিক স্বর্ণ বিক্রি করেছেন এবং নতুন সিনেমা মুক্তিকে জীবনের সেরা উৎসব হিসেবে উদযাপন করেছেন। নির্মাতা রিঙ্কু কালসি বলেন, ‘এটি কেবল ভক্তি নয়, এটি পরিচয়ের অংশ।
তিনি সেই প্রতিচ্ছবি যা তারা হতে চায়—নম্র, নীতিবান, কিন্তু প্রয়োজনে শক্তিশালী।’

চেন্নাইয়ে তার বাড়ি ভক্তদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে, যেখানে অনেকে আশীর্বাদ নিতে, সন্তানের নাম রাখতে বা শুধু এক ঝলক দেখতে আসেন। ২০১৬ সালে এয়ারএশিয়া তার ছবি সংবলিত বিমান উন্মোচন করে কাবালি ছবির মুক্তি উদযাপন করে—যা প্রমাণ করে যে তার মুখচ্ছবি আকাশেও সিনেমা পৌঁছে দিতে পারে।

তার ভক্ত ক্লাবগুলো প্রায়ই সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়—রক্তদান শিবির, ত্রাণ কার্যক্রম, ও জনকল্যাণমূলক ইভেন্টের আয়োজন করে। মেয়ে ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত তার বই স্ট্যান্ডিং অন অ্যান অ্যাপল বক্স-এ লিখেছেন, ‘আমার বাবা বাড়িতে কখনো সুপারস্টারের মতো আচরণ করেন না… শুধুমাত্র সিনেমায়।’

রজনীকান্তের সিনেমা মুক্তি যেন আচার-অনুষ্ঠানের মতো। প্রথম দিন প্রথম শোর সময়, পর্দায় কয়েন ছোড়া, কর্পূর জ্বালানো, ফুল বর্ষণ, দুধ ঢেলে বিশাল কাটআউট পূজা—এসব দৃশ্য সাধারণ ঘটনা। রজনীকান্তের সিনেমা দেখা মানে কেবল ছবি দেখা নয়, বরং উৎসব—যেখানে রাস্তার আড্ডা, শ্রমজীবী গর্ব, সামাজিক মিলন আর উল্লাস মিশে যায়।

এ বছর উদযাপন পৌঁছেছে চরমে—মাদুরাই জেলায় এক ভক্ত ৫,৫০০ পোস্টার ও ছবিতে সজ্জিত একটি মন্দির বানিয়েছেন, যেখানে রজনীকান্তের মূর্তিতে পূজা দেওয়া হচ্ছে।

চার সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠ রজনীকান্ত দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন; তার বাবা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল। কলেজ ছাড়ার পর কুলির (পোর্টার) কাজ করতেন। পরে এক আত্মীয়ের সাহায্যে বাস কন্ডাক্টরের চাকরি পান।

থিয়েটারের প্রতি তার ঝোঁক দেখে এক বন্ধু অর্থ জোগাড় করে তাকে পাঠান মাদ্রাজ ফিল্ম ইন্সটিটিউটে, যেখানে তামিল পরিচালক কে বালাচন্দর তার প্রতিভা চিনে প্রথম ছবিতে সুযোগ দেন।

রজনীকান্ত ফর্সা, কোমলভাষী নায়কের ধারা ভেঙে নিজস্ব পরিচয় গড়েন—গাঢ় গায়ের রঙ, গ্রামীণ টান ও রাস্তার বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ তার পর্দার অংশ হয়ে যায়।

শুরুতে অপূর্ব রাগাঙ্গাল, মুন্দ্রু মুডিচু, পথিনারু ভয়াথিনিলে—এমন ছবিতে খলনায়ক ও জটিল চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে বিল্লাহ (১৯৮০) দিয়ে অ্যাকশন হিরো হিসেবে অবস্থান পাকাপোক্ত করেন।

১৯৯০-এর দশক থেকে বড় বাজেটের অতিমানবীয় নায়ক ও আধ্যাত্মিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত হন। ১৯৯৮ সালে মুথু অপ্রত্যাশিতভাবে জাপানে হিট হয়। শিবাজি ও এন্থিরান—যেখানে তিনি রোবট চরিত্রে অভিনয় করেন— সেটি বৃহৎ সাফল্য পায়।

সমালোচকেরা তাকে একসময় ‘স্টাইল কিং’ বলে অবমূল্যায়ন করলেও, তার চরিত্রের অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ—নিষ্ঠা, সাহস, হাস্যরস, ও ন্যায়বোধ—সর্বজনীন ও কালজয়ী।

পরিচালক এসপি মুথুরামন তার সঙ্গে ২৫টি ছবি করেছেন। তিনি বলেন, তার সাফল্যের রহস্য কঠোর পরিশ্রম, নিবেদন, সুসম্পর্ক, ও সহকর্মী ও প্রযোজকদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।

তামিলনাড়ুতে অনেক সহকর্মী রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও রজনীকান্ত কখনো দল গঠন বা নির্বাচন করেননি, ফলে তিনি ভক্তদের কাছে নৈতিক আলোকবর্তিকা হলেও রাজনীতির বাইরে রয়েছেন।

চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ থিওডর বাস্কারন বলেন, তামিল সিনেমার মহান তারকারা একসময় লোকদেবতার জায়গা দখল করেছেন।

সেলিব্রিটির চেয়েও বেশি, রজনীকান্তের প্রভাব এমন যে ভক্তরা ভোরে দুধ ও মালা নিয়ে লাইনে দাঁড়ান। তারা বিশ্বাস করেন, এই রূপকথার নায়ক তাদের স্বপ্নে রঙ ও জীবনে জাদু যোগ করতে পারেন।

সূত্র : বিবিসি।

ম্যানইউ ছাড়ার পথে আর্জেন্টাইন তারকা!

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড আলেহান্দ্রো গারনাচোকে দলে ভেড়াতে এক ধাপ এগিয়ে গেছে চেলসি। ইংলিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২১ বছর বয়সী এই তারকা ব্লুজদের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তে চুক্তিতে রাজি হয়েছেন। এখন অপেক্ষা শুধু দুই ক্লাবের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার।

গত জানুয়ারিতে নাপোলি গারনাচোর জন্য ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিলেও, ইউনাইটেড তখন তাকে ছাড়েনি।
বরং মার্কাস র‍্যাশফোর্ড, জাডন সানচো ও এন্টনিকে ধারে পাঠিয়ে তাকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজিয়েছিল ম্যানইউ। তবে মৌসুমের শেষ দিকে কোচ রুবেন আমোরিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়, বিশেষ করে ইউরোপা লিগ ফাইনালে টটেনহামের বিপক্ষে একাদশে না থাকার কারণে।

ফাইনালের পর গারনাচো স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধান করছেন। চেলসি দীর্ঘদিন ধরেই তার প্রতি আগ্রহী এবং বর্তমানে তারা ট্রান্সফার সম্পন্ন করার খুব কাছাকাছি।
ইউনাইটেড এই ফরোয়ার্ডের জন্য ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড চাইছে, যদিও চেলসি ৪০ মিলিয়নের নিচে চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।

গত মৌসুমে ৫৮ ম্যাচে ১১ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করেছিলেন গারনাচো। ইউরোপে দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার হওয়া সত্ত্বেও, ফাইনালে বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পুরো মৌসুমে দলকে সাহায্য করেছি, আর ফাইনালে মাত্র ২০ মিনিট খেললাম—এটা বোঝা মুশকিল।
’

প্রসঙ্গত, গারনাচোর বিদায় ইউনাইটেডের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক হবে, কারণ তাকে বিক্রি করলে তা সরাসরি ‘পিওর প্রফিট’ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, চেলসি নতুন মৌসুমের জন্য স্কোয়াড শক্তিশালী করতে একের পর এক তরুণ প্রতিভা দলে ভেড়াচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে লন্ডনের পথে ড. মোশাররফ

উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুরের ডাক্তারদের পরামর্শে তিনি চিকিৎসা নিতে লন্ডনে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার সকাল ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০১ ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন।
সহধর্মিণী বিলকিস আকতার হোসেন এবং ছেলে ড. খন্দকার মারুফ তার সঙ্গে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় ড. মোশাররফ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানে সাক্ষাৎ করে দোয়া নেন। দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছে তিনি নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং বিদেশে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আলোচনা ‘সফল হবে না’ সন্দেহ নিয়েই পুতিনের সঙ্গে বসছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেখা করতে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার তাদের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে সমবেত হচ্ছেন মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তারা।

এবারের এ বৈঠকে ট্রাম্পের লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে নিজের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা।

নিজেকে ‘বৈশ্বিক শান্তিদূত’ হিসেবে উপস্থাপন করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট— পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে অন্যদের ব্যর্থতার জায়গায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সাফল্য পাওয়ার আশা করছেন।
তবে বৈঠক ‘সফল না হওয়ার সুযোগ ২৫ শতাংশ ’ বলে বৃহস্পতিবারই তিনি ধারণা দিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি সতর্ক করেছেন, তার অনুপস্থিতিতে গৃহীত যেকোনো সমাধান অর্থহীন হবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উপস্থিতি ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের এ বৈঠক নিয়ে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরে খুব একটা চঞ্চলতা দেখা যাচ্ছে না।
বরং সাংবাদিকরা সেখানে অন্য রাজ্য থেকে ছুটি কাটাতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা করছেন।

বৈঠকটি একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছের একটি যায়গায় অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা আর সময় স্বল্পতার বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক কয়েক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হওয়ার কথা নয়।

যুদ্ধবিরতি অথবা নতুন নিষেধাজ্ঞা – যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার জন্য রাশিয়াকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পর এই শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মস্কো ও কিয়েভ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত। এমন অবস্থায় সময়সীমার আগে চুক্তি হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে ট্রাম্প অটল থাকবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় ছিল। এমন নিষেধাজ্ঞা চীনের সঙ্গে ভয়াবহ বাণিজ্যযুদ্ধ ডেকে আনতে পারত।

তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুশ তেল কেনার কারণে চলতি মাসের শেষ দিকে আবারও ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করবেন তিনি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ঘোষণা কার্যত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা স্থগিত করেছে ও পরবর্তী পদক্ষেপ ভেবে দেখার জন্য দুই পক্ষই বাড়তি সময় পেয়েছে।

এ বৈঠক নিয়ে সপ্তাহজুড়েই মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি নানা মাত্রায় ওঠানামা করেছে—কখনো আশাবাদী, কখনো সতর্ক, আবার কখনো কঠোর ভঙ্গিতে। সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে গিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধ শেষ করতে রাজি না হয়, তবে ‘অনেক গুরুতর পরিণতির ’ মুখোমুখি হবে।

জেলেনস্কিসহ বুধবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান আরো কঠোর মনে হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘অঞ্চল বিনিময়ের ’ কথা তোলেন এবং হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দেয়, প্রেসিডেন্ট বৈঠকটিকে কথা ‘শোনার অনুশীলন ’ হিসেবে দেখবেন—তখন কিয়েভের দিক থেকে উদ্বেগ দেখা দেয়।

এদিকে রাশিয়া প্রায় পুরোটা সময় নীরব থেকেছে। স্থবির যুদ্ধরেখা, অঞ্চল বিনিময় বা মস্কো-ওয়াশিংটনের মধ্যে খনিজসম্পদ সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কোনো জল্পনা-কল্পনায় জড়ায়নি দেশটি। এ নীরবতার ধারাবাহিকতা আছে। সপ্তাহজুড়ে ক্রেমলিন কর্মকর্তাদের কথায় কেবল পুতিনের আপসহীন অবস্থানের বিষয়টিই উঠে এসছে।

তারা স্পষ্ট করে বলেছে, যুদ্ধের অবসান তখনই ঘটবে যখন রাশিয়া দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক—যা দনবাস অঞ্চলের অংশ—এবং খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করবে। একইসঙ্গে কিয়েভকে অসামরিকীকরণ করার ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

তবে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, পুতিনের সঙ্গে তার যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা হয়তো এ সংঘাতের অবসান টানতে ও তার বৈশ্বিক শান্তিদূতের ভাবমূর্তি জোরদার করতে সহায়তা করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার পর থেকে বৈশ্বিক অঙ্গনে ট্রাম্প কী অর্জন করেছেন সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। দেশে তার একটি সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যারা তাকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা এবং ব্যয়বহুল বিদেশি সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির কারণে সমর্থন করেছে।

তার শীর্ষ কর্মকর্তারা পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের অপরিহার্যতার বিষয়ে জোর দিয়েছেন, আর ট্রাম্প নিজেও তার ব্যবসায়ীসুলভ প্রবৃত্তি নিয়ে বলেছেন, ‘প্রথম দুই মিনিটেই আমি ঠিক বুঝে যাব, চুক্তি হবে কি হবে না।’

দুই পক্ষের মাঝে আটকা পড়ে ও শুক্রবারের আলোচনায় বাইরে থেকে ইউরোপ এখন এক অস্বস্তিকর অবস্থায় আছে। ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার শেষ মুহূর্তের ফোনালাপে ইউরোপীয় নেতারা আংশিক আশাবাদী হয়েছেন যে আলাস্কায় গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের পক্ষে লড়বেন।

ইউক্রেনের মতো তারাও কয়েক মাসের অস্থির সময় কাটিয়েছে, যার মধ্যে ছিল হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের স্মরণীয় বিবাদের পর সাময়িকভাবে কিয়েভের জন্য সামরিক সহায়তা স্থগিতের ঘটনাও। ট্রাম্পের এমন আচরণ পূর্বসূরি জো বাইডেনের অবস্থানের থেকে পুরোপুরি আলাদা ছিল। ইউক্রেনকেও শুক্রবারের আগে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিবাদ সত্ত্বেও কিয়েভকে অন্তর্ভুক্ত না করে ট্রাম্প ও পুতিনের করা যেকোনো চুক্তি সফল না হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সপ্তাহ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, মার্কিন-রুশ বৈঠক কেবল দ্বিপাক্ষিকই থাকবে।

ট্রাম্পকে পাশে রাখার জন্য জেলেনস্কি সতর্ক অবস্থান নিলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘কিছু বিনিময়, ভূমি পরিবর্তনের ’ প্রসঙ্গ সামনে এলে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হন তিনি।

সম্ভাব্য আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার গুঞ্জন চূড়ান্তে পৌঁছালে মঙ্গলবার কিছুটা বিরক্ত সুরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা দনবাস থেকে সরে আসব না। আমরা তা করতে পারি না। সবাই প্রথম অংশটা ভুলে যায়। আমাদের ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে।’

রাশিয়ার জন্য দনবাস ভবিষ্যতের ‘নতুন হামলার সোপান’ যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, অঞ্চল ছেড়ে দিলে ইউক্রেনের মাটিতে সংঘাতের পথ আরো সুগম হবে।

প্রেসসচিবের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি : ওসি ধানমণ্ডি

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা বলেছেন, প্রেসসচিব আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ নেই।

তিনি বলেন, ‘গতকাল বিভিন্ন সন্দেহে, কেউ বা মোবাইল টানা পার্টি, চুরি, ছিনতাইকারী অথবা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য এমন সন্দেহে পাঁচজনকে আমাদের কাছে হ্যান্ডওভার করা হয়েছে। আমরা তাদের এদের ব্যাপারে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাইবাছাই করছি।
বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওসি আরো বলেন, ‘যেহেতু সরকারিভাবে তাদের (আওয়ামী লীগের) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আমরা সরকারি নির্দেশ পালন করব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে; দৈনিক রুটিন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেটাই মোটায়ন করা হয়েছে। গতকালকে বিপুল জনসমাগম ছিল এজন্য একটু আমরা কিছু বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করেছি।