শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

মায়ানমারে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা জান্তার

মায়ানমারে আগামী ২৮ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন শুরু হবে। ২০২১ সালে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিল সেনা সমর্থিত জান্তা সরকার। ওই দফায় ক্ষমতা দখল করার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিকে কারাগারে পাঠানো হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে কারারুদ্ধ করার পর এটিই হবে প্রথম ভোট।

মায়ানমারে তখন থেকেই গৃহযুদ্ধ চলছে। সেনাবাহিনী এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মারাত্মক লড়াই চলছেই। যাদের অনেকেই বলেছেন, তারা তাদের এলাকায় ভোট দেওয়ার অনুমতি দেবেন না।

সেনা সমর্থিত জান্তা সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা জানালেও মায়ানমারের বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর তৎপরতার কারণে নির্বাচনের পরিকল্পনা পেছাতে হয় তাদের।
এর আগে ২০১৫ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) পার্টি নির্বাচনে বিজয়ী হয়। ওই নির্বাচন ছিল ১৯৯০ সালের পর অনুষ্ঠিত হওয়া মিয়ানমারের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন।

আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ৫৫টি দল নির্বাচনের জন্য নিবন্ধন করেছে। তাদের মধ্যে ৯টি দল দেশব্যাপী আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছে।

মায়ানমারের নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘প্রতিটি পার্লামেন্টের জন্য বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপ ২৮ ডিসেম্বর (রবিবার) ২০২৫ তারিখে শুরু হবে। পরবর্তী ধাপগুলোর তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।’

সূত্র : বিবিসি

এজাহারভুক্ত সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে নোটিশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত সব পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এজাহারভুক্ত সকল পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবী বলেন, যদি এ বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে আমি বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবো।

নোটিশে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্ট মাসের নৃশংস ঘটনায় দায়েরকৃত প্রায় সাত শতাধিক হত্যা মামলায় বহু পুলিশ অফিসার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আইনের মৌলিক নীতি হলো- কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি যদি দায়িতশীল পদে বহাল থাকেন, তবে মামলার তদন্ত কার্যক্রম, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার সুস্পষ্ট আশঙ্কা থাকে। উক্ত আসামিরা বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর দায়িতশীল পদে বহাল থাকায় তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তাদের চাকরিতে বহাল থাকা অনুচিত ও অগ্রহণযোগ্য।

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় তাকে জনস্বার্থে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করা যেতে পারে।

পুলিশ রেগুলেশনে বলা আছে, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয় বা মামলা দায়ের হয়, তবে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে।

আইন অনুযায়ী পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এজাহারভুক্ত পুলিশ অফিসারদের পদে বহাল রাখা আইন, ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গুঞ্জন নিয়ে আমি কম পরোয়া করি : তানজিন তিশা

ঈদুল আজহার আগে দেশের বাইরে গিয়েছিলেন। ফেরার পর এখন অবসর যাপন করছেন তানজিন তিশা। প্রায় দেড় মাস ধরে কোনো কাজ করছেন না ছোট পর্দার জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

তিশা জানান, এটি এক ধরনের ‘লম্বা ব্রেক’।
অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘প্রতিটি আর্টিস্টেরই ভালো কাজের জন্য লম্বা ব্রেক দরকার। বিরতি নিলে নতুন কাজের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়।’

এদিকে বলিউড অভিনেতা শারমান যোশীর বিপরীতে ‘ভালোবাসার মওসুম’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয়ের খবর প্রকাশিত হয়। শুরু থেকেই সিনেমাটি নিয়ে একেবারে নীরব ছিলেন।
এবারও সিনেমাটি নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে নারাজ অভিনেত্রী। শুধু বললেন, সিনেমাটিতে আমি অভিনয় করছি এমন অনেক নিউজ হয়েছে। আমিও দেখেছি। নিউজ তো আসলে অনেক হয়।
সেসব নিউজে কতটা সত্যতা থাকে, কতটা থাকে না, তা অডিয়েন্স ভালোই জানেন। আমি এখনই কিছু বলতে চাই না। হতে পারে নতুন কোনো সারপ্রাইজ নিয়েই সবার সামনে আসব।

সরাসরি কিছু না বললেও অভিনেত্রী ইঙ্গিতে বলেন, ‘যদি সত্যিই সিনেমাটি করি, তবে এটা খুশির খবর হবে। শারমান যোশীর মতো একজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করাটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য প্লাস হবে।
’
এরপর সিনেমা প্রসঙ্গে তানজিন তিশা আরো বলেন, ‘এখন অনেক ভালো সিনেমা হচ্ছে। ভালো গল্প পেলে, ক্যারিয়ারে নতুন সংযোজন ঘটলে, আমিও অবশ্যই সিনেমা করব। যেহেতু আমি বাংলাদেশি মেয়ে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেই কাজ করার আগ্রহ সবসময় বেশি।’

এ সময় তাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, গুঞ্জন নিয়ে পরোয়া করেন না। শুধু বললেন, ‘গুঞ্জন নিয়ে আমি কম পরোয়া করি। দর্শকরা আমাকে পছন্দ করেন আমার কাজের জন্য। তাই কাজ নিয়েই কথা বলতে চাই, কাজ নিয়েই আনন্দিত হই।’

বিরতি কাটিয়ে কবে আবার কাজে ফিরবেন, এ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বললেন না। তবে ইঙ্গিত দিলেন, সামনে হয়তো কোনো ‘সারপ্রাইজ’ নিয়েই হাজির হবেন তিনি।

চলতি মাসের শেষে ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে নাটক ‘খোয়াবনামা’। ভিকি জাহেদ পরিচালিত এ নাটকে তৌসিফ মাহবুবের বিপরীতে দেখা যাবে তানজিন তিশাকে।

ফিলিস্তিনে মাঝে মাঝে নাকবা ঘটানো দরকার : সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রধান

৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য গত বছর পদত্যাগ করেন ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আহারন হালিভা। তার একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। সেখানে সাবেক প্রধান আহারন হালিভা বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনে মাঝে মাঝে নাকবা ঘটানো দরকার এবং গাজায় ক্রমবর্ধমান মৃত্যু সংখ্যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য।’

গত শুক্রবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২–এর টিভি অনুষ্ঠান উলপান শিশিতে সম্প্রচারিত অডিও রেকর্ডিংয়ে হালিভাকে বলতে শোনা যায়, ‘গাজায় ইতোমধ্যেই ৫০ হাজার মানুষ মারা গেছে।
এটি প্রয়োজনীয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আবশ্যক।’ তবে চ্যানেল ১২ জানায়নি, কখন এই বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মার্চে নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৮৯০ জনে।
নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার প্রসঙ্গে হালিভা বলেন, ‘৭ অক্টোবর প্রতিটি (ভুক্তভোগীর) জন্য, ৫০ জন ফিলিস্তিনিকে মরতে হবে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘কোনো বিকল্প নেই। তিনি ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র তৈরির জন্য জায়নিস্ট মিলিশিয়াদের দ্বারা ফিলিস্তিনের জাতিগত নির্মূলের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মাঝে মাঝে নাকবা ঘটানো দরকার, যাতে তারা এর পরিণতি অনুভব করে।
আমি প্রতিশোধের কথা বলছি না, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা।’ গাজাকে তিনি আখ্যা দেন একটি ‘অস্থির পাড়া’ হিসেবে।

প্রতি বছর মে মাসের ১৫ তারিখ ফিলিস্তিনিরা পালন করে আল-নাকবা দিবস বা বিপর্যয়ের দিবস। এই দিন থেকেই ফিলিস্তিনিরা তাদের বাড়িঘর হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়তে শুরু করে। এই নাকবা দিবসের উৎপত্তি ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে শুরু হওয়া আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ থেকে।
তার একদিন আগে, ১৪ই মে ইসরায়েল নিজেদের ঘোষণা করে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে।

যে এলাকায় ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী সেখান থেকে বেশিরভাগ আরবকে বহিষ্কার করে, অথবা তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ১৯৪৮-১৯৪৯ এই দুই বছরের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। ইসরাইল বানাতে যেয়ে ৫৩০ গ্রাম এবং শহরকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। এ ধ্বংসের লীলায় জড়িত ছিলো ইহুদিবাদী আধাসামরিক বাহিনী এবং ইসরাইলের সেনাবাহিনী।

৭ অক্টোবর কতজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, অন্তত ১ হাজার ১৯৫ জন মারা যান। ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজের মতে, ওইদিন ইসরায়েলি সেনারা বহুল আলোচিত ‘হানিবাল নির্দেশনা’ ব্যবহার করেছিল। যার মাধ্যমে বন্দি হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনে নিজেদের সেনাদেরও হত্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে হালিভা আরো বলেন, ইসরায়েল সচেতনভাবে পশ্চিম তীরে রাজনৈতিকভাবে শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। যাতে হামাসের মতো গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় না যায়। এভাবে দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। তিনি জানান, ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর হামাসকে ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেটি কার্যকর করার কোনো ইচ্ছাই রাখেনি।

হালিভার বলেন, ‘আপনারা বুঝতে পারছেন না, এখানে বিষয়গুলো অনেক গভীর। ইসরায়েল–ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বই মূল সমস্যা। কারণ হামাস ইসরায়েলের জন্যই ভালো। এটি হলো স্মোটরিচের (অর্থমন্ত্রী বেজালেল) যুক্তি। তিনি চান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়া হোক, আর পশ্চিম তীরেও হামাস নিয়ন্ত্রণ নিক, যেমনটা গাজায় ঘটেছিল।’

তিনি বলেন, ‘কেন? কারণ যদি পুরো ফিলিস্তিন অস্থিতিশীল হয়, তখন কারও সঙ্গে কোনো আলোচনাই সম্ভব নয়। ফলে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের চুক্তিও হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আছে। কিন্তু হামাস এমন একটি সংগঠন, যাদের সঙ্গে অবাধে যুদ্ধ করা যায়। এর কোনো বৈধতা নেই, কোনো আন্তর্জাতিক মর্যাদা নেই—তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার চালানো যায়।’

এ বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েল ও হামাস তিন ধাপের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু মার্চে ইসরায়েল কয়েকজন বন্দিকে ফেরত নেওয়ার পর আবারও গাজায় বোমাবর্ষণ শুরু করে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনার আগেই চুক্তি ভেঙে দেয়। এরপর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজার ওপর ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনায় পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ২৩ লাখের বেশি অধিবাসী বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

সূত্র : মিডিল ইস্ট আই।

এক বছরে বিমান বাংলাদেশে রেকর্ড ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফা

লাল-সবুজের পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে।২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করে রেকর্ড গড়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোমবার (১৮ আগস্ট) এ তথ্য জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

এবারের আর্থিক সাফল্যের জন্য যাত্রী ও গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিমান বলেছে, তাদের আস্থা ও সমর্থনই এ রেকর্ড মুনাফা অর্জনে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
এই সাফল্য এসেছে দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কার্যকর কৌশল গ্রহণ এবং যাত্রীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়নের ফল হিসেবে।

আরো বলা হয়েছে, এর আগে বিমানের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জিত হয় ২০২১-২২ অর্থবছরে, যার পরিমাণ ছিল ৪৪০ কোটি টাকা।

১৯৭২ সালে মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিমান বাংলাদেশ। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সীমিত অবকাঠামো ও সম্পদের মধ্যে থেকে ধীরে ধীরে আজকের আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়েছে।

বিমানের হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ১১ হাজার ৬৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে কম্পানির। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিমান প্রথমবারের মতো ১০ হাজার কোটির বেশি আয় করা কম্পানিতে পরিণত হয়।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৫৫ বছরের যাত্রায় মোট ২৬টি বছরে লাভের মুখ দেখেছে তারা। ২০০৭ সালে করপোরেশন থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের পর গত ১৮ বছরে বিমানের পুঞ্জীভূত মোট মুনাফা হয়েছে ৫৮৯ কোটি টাকা।

বিমান জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমানের বহরে ২১টি উড়োজাহাজ ছিল, যার মধ্যে ১৯টি বর্তমানে নিজস্ব মালিকানাধীন। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার।

বিমান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কম্পানির আরেকটি বড় শক্তি হলো নিজস্ব বহর রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা। লাইন রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে বড় ধরনের পরীক্ষা (চেক) পর্যন্ত সবই দেশেই সম্পন্ন করতে পারে বিমান। এ কারণে বিপুল ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান যাত্রী পরিবহন করেছে ৩৪ লাখ, কার্গো পরিবহন হয়েছে ৪৩ হাজার ৯১৮ টন এবং কেবিন ফ্যাক্টর ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

এছাড়াও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।

রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানিটির ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রয়েছে— নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা ও পরিচালনায় ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা শক্তিশালীকরণ। সেবা, নির্ভরযোগ্যতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্সে পরিণত হওয়া লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

খেলাধুলায় যুক্ত থাকলে যুবসমাজ বিপথগামী হবে না

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, খেলাধুলায় যুক্ত থাকলে যুবসমাজ বিপথগামী হবে না। এজন্য যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা খেলাধুলাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। গত শুক্রবার রাতে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এ কমিটির সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সাঈদ সিদ্দিকি। এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি লে. জেনারেল মো. শাহিনুল হক, সহসভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ কে এম আব্দুল্লাহিল বাকী, সহসভাপতি হাফিজুর রহমান খান, যুগ্ম সম্পাদক কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালেহিন মনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মঈন, আরশি হায়দার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসউজ্জামান খান, মেজবাহ্-উল-হক, প্রফেসর শাহিন মাহবুবা হক, মো. জহিরুল ইসলাম, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মো. দিদারুল ইসলাম, সারেক রহিম, লে. কমান্ডার (অব.) কামার আলম, কর্নেল (অব.) মো. মাহবুবুর রহমান, মেজর (অব.) মাহমুদুর রহমান চৌধুরী।

সেনাপ্রধান বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন নতুন সংবিধান ও নির্বাচন গলফ ফেডারেশনকে আরও দায়িত্বশীল ও অংশীদারিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। গলফ খেলাকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির জন্য ফেডারেশন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিতাড়িত স্বৈরাচার প্রতিহত করার পাশাপাশি মৌলবাদী শক্তির উত্থান যাতে না ঘটতে পারে, সেজন্য কবি-সাহিত্যিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের একমাত্র মালিক প্রত্যেক নাগরিক। নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার। মানুষের বাকস্বাধীনতার জন্য কবিরা অতীতে যেরকম ভূমিকা রেখেছিলেন ভবিষ্যতেও সেরকম ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় মানুষকে উজ্জীবিত করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথও কবিতায় মানবতার গান গেয়েছেন। একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি, জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন ইত্যাদি কবিতা ও গানে আমাদের কবি-সাহিত্যিকরা দেশের ক্রান্তিলগ্নে এগিয়ে এসেছেন। ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শিল্পী ও কবিদের দেশাত্মবোধের কথা জাতি চিরদিন মনে রাখবে।

গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে বিএনপি মিডিয়া সেল ও জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল ইসলাম মনি। বক্তব্য দেন কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিন, মতিন বৈরাগি, কবি এ বি এম সোহেল রশিদ, কবি অনামিকা হক লিলি, শ্যামল জাকারিয়া, আমাদের সময় সম্পাদক আবু সাঈদ, কবি শাহীন চৌধুরী প্রমুখ।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কণ্ঠরোধ করতে নানা রকম ষড়যন্ত্র করেছিল।
গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার ও ছবি ছাপানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা স্বৈরাচারের ব্যারিকেড দিয়ে যে আটকে রাখা যায় না সেটা বারবার প্রমাণ করেছে এ দেশের সাধারণ মানুষ। স্বৈরাচারের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জনগণ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়ে দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। আর স্বৈরাচারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে রাজপথের যোদ্ধাদের পাশাপাশি কবি-সাহিত্যিকদের অবদান ছিল প্রশংসনীয়।

রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘স্বৈরাচারের লেজুড়বৃত্তি না করাতে বিগত ১৭ বছর আমাদের রেডিও টিভি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে কথা বলাতে অনেককে জেলের ঘানিও টানতে হয়েছে।
’

আবু সাঈদ খান বলেন, ‘স্বৈরাচার আমাদের কণ্ঠরোধ করে রেখেছিল। আপনারা ক্ষমতায় এলে আমরা যেন আপনাদের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারি সেটাই আপনার কাছে আমার চাওয়া। সেই সঙ্গে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠারও দাবি জানাই।’

বিএনপির মিডিয়া সেলের ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের চর্চা করে আসছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্টুন আঁকার পরে সেই কার্টুনিস্টকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। বিএনপির শাসনামলে গণমাধ্যমে প্রতিদিনই কার্টুন ও সংবাদে বিএনপির সমালোচনা করা হতো। কিন্তু ওই সময় বিএনপি কোনো গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেনি। বিএনপি গণমানুষের দল হিসেবে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

ধ্বংসের পথে পাঁচ শতাধিক শিল্প কারখানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তহীনতায় গত এক বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও রুগ্ণ হয়েছে। ব্যাংকগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃ তফসিল করতে সম্মত হয়ে গভর্নরের সিদ্ধান্তের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের গড়িমসিতে শিল্প উদ্যোক্তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। বরং অনেক ক্ষেত্রে অসহযোগিতা পেয়েছেন।
অনেক ব্যবসায়ী গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো ফল পাননি। এ অবস্থায় ধ্বংসের পথে রয়েছে পাঁচ শতাধিক শিল্প-কারখানা।

অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃ তফসিল প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে দেশের বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুঁজি সংকটে পড়ে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। নগদ অর্থের অভাবে অনেক কারখানা ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর সরাসরি ঋণ পুনঃ তফসিলের আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকেই এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বড় ঋণগ্রহীতাদের সহায়তায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগ নেয়।

গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ পুনর্গঠন প্রস্তাব যাচাইয়ের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৩০০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। যাদের বেশির ভাগ রপ্তানিনির্ভর খাত। যেমন- টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত শিল্প। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ২৮০টি প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃ তফসিল করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আবেদন নিষ্পত্তির ধীরগতিতে তাদের নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কর্মী ছাঁটাই বাড়ছে এবং সরবরাহকারীদের কাছে বকেয়া জমছে। ফলে অর্থনীতির উৎপাদনশীল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন-বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘সব আবেদন একটি মাত্র কমিটি দেখছে বলে প্রক্রিয়া ধীরগতির শিকার হয়েছে। প্রতিটি বৈঠকে মাত্র তিন থেকে চারটি আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই হারে চললে সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।’

বিজিএমইএ গত ১০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে অতিরিক্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সাউথ এশীয় নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে বহু ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে।’ তিনি মনে করেন, অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত ঋণগ্রহীতাদের সময়মতো সহায়তা দেওয়া জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে ঋণ পুনঃ তফসিল অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে অনুমোদিত হয়েছিল। এর ফলে বর্তমান সংকটে প্রকৃত ঋণগ্রহীতারা অসুবিধায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্যই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিপুল আবেদন ও জটিলতা থাকায় সময় লাগছে। তবে প্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা চলছে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই সমাধান পাবে।’ কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছরে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ৫ শতাধিক কারখানা বন্ধ ও রুগ্ণ হয়েছে। বন্ধ কারখাআর ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ শ্রমিক বেকার হয়েছেন। তাঁদের অনেকে চাকরির জন্য ছুটতে ছুটতে শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে গ্রামে ফিরেছেন। বন্ধ কারখানার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও টেক্সটাইলশিল্পের। শিল্প মালিকরা বলছেন, ঋণ পুনঃ তফসিলে ধীরগতি পাশাপাশি উচ্চসুদ, কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ছাড়াও কাঁচামাল আমদানিতে এলসি সমস্যা, শিল্পে অব্যাহত গ্যাস সংকট, দফায় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়া, অব্যাহতভাবে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচে অনেকে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। তাঁরা চরম সংকটের কারণেই কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনিয়ন্ত্রিত এ পরিস্থিতিতে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃ তফসিল প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে অস্বাভাবিক গতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। যা ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রতি চার টাকার মধ্যে এক টাকারও বেশি এখন খেলাপি হয়ে গেছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

স্টারমার, ম্যাক্রোঁ, মেলোনিকে নিয়ে ওয়াশিংটনের পথে জেলেনস্কি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। সোমবার (১৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তবে এবারের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একা নন, বরং তার ইউরোপীয় মিত্রদেরও সঙ্গে নিচ্ছেন তিনি। তবে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টার্মারের পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েনসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। তবে তাদের সবাই হোয়াইট হাউসে বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এ বৈঠকটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন সম্প্রতি আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির দাবির বদলে স্থায়ী শান্তিচুক্তির ওপর জোর দেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক দূত জানান, আলোচনায় পুতিন ইউক্রেনের জন্য ন্যাটো-সদৃশ নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “রাশিয়া নিয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। অপেক্ষায় থাকুন!”

রোববার জেলেনস্কি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি-সমর্থিত “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং”-এর সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের জানান, সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তারা “একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান” উপস্থাপন করবেন।

তবে ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে শঙ্কা রয়েছে যে ট্রাম্প হয়তো জেলেনস্কিকে চাপ দিয়ে কোনো শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে পারেন, বিশেষত গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে বাদ দেওয়ার পর। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ আশঙ্কাকে “মিডিয়ার হাস্যকর কল্পনা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এছাড়া জেলেনস্কির গত ফেব্রুয়ারির ওয়াশিংটন সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতাও ইউরোপীয় নেতাদের চিন্তার কারণ। ওই সফর হঠাৎ করেই শেষ হয়েছিল ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে। সে সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, জেলেনস্কি “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছেন”। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন-কিয়েভের সম্পর্ক ভেঙে পড়ে।

তবে ইউরোপীয় নেতারা এর পর থেকে সম্পর্ক মেরামতের জন্য কাজ করছেন। জেলেনস্কিকে আলোচনায় ‘চুক্তি-কেন্দ্রিক ভাষা’ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্য শোনায়। এপ্রিলে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজসম্পদ সংক্রান্ত চুক্তি করে, যা মার্কিন আর্থিক স্বার্থ নিশ্চিত করে।

এছাড়া ভ্যাটিকানে পোপের শেষকৃত্যে ব্যক্তিগত বৈঠকেও দুই নেতা কথা বলেন, যেখানে ইউক্রেন স্পষ্ট জানায়— তারা মার্কিন অস্ত্রের জন্য অর্থ দিতে প্রস্তুত। জুলাইয়ে দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনালাপ হয়, যেটিকে জেলেনস্কি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা আলোচনা”।

এদিকে রাশিয়ার অব্যাহত হামলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকা দখলে নিয়েছে।

রোববার সিএনএনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, পুতিন “গেম-চেঞ্জিং” নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় সম্মত হয়েছেন, যা ইউক্রেনকে ন্যাটো-সদৃশ সুরক্ষা দিতে পারে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ন্যাটোর আর্টিকেল-৫’র মতো সুরক্ষা দিতে পারে। এই আর্টিকেল অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে বাকি সবাই তাকে রক্ষা করতে বাধ্য। তবে উইটকফ আরও জানান, ইউক্রেনের পাঁচটি বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে রাশিয়া কিছু ছাড় দিয়েছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনায় পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ডনবাসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঞ্চল—দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক চান। তবে রোববার ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আলোচনা কেবল ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেই হতে পারে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপে গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের অবসান তৎক্ষণাৎ হবে বলে আশা করা উচিত নয়। তার ভাষায়, “এখনও অনেকটা পথ বাকি।”

নায়িকাদের জীবনের বাস্তবতা নিয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

ছোট ও বড় পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন রুনা খান। এবার প্রথমবারের মতো তিনি আসছেন সিনেমার নায়িকার চরিত্রে। আলী জুলফিকার জাহেদীর পরিচালনায় তৈরি হতে যাচ্ছে ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’, যেখানে সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকছেন অভিনেত্রী।

পরিচালক জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই চরিত্রটির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রুনা খান। বাকি শিল্পীদের বাছাইও প্রায় শেষ। বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, তার আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে।

এ প্রসঙ্গে রুনা খান বলেন, ‘গত শীতে এ ছবির বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা শুরু হয়। গল্প শোনার পর ভালো লাগে। পরে চিত্রনাট্য ও চরিত্র পছন্দ হলে চুক্তি করি। এখানে আমি একজন চিত্রনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করব। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে ভালোবাসি, বিশেষ করে যেগুলো বাস্তবতার ছোঁয়া রাখে। এ চরিত্রও ঠিক তেমন।’

২০০৭ সালে নোমান রবিনের পরিচালনায় একটি টেলিফিল্মে যাত্রাপালার অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার। তবে এবারই প্রথমবার বড় পর্দায় নায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে রুনা খানকে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নায়িকার ভূমিকায় এর আগে কখনো কাজ করিনি। প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে টেলিফিল্মে একজন যাত্রার অভিনেত্রী হয়েছিলাম। এবার দর্শক আমাকে সিনেমার নায়িকার চরিত্রে দেখবেন। কাজটি নিয়ে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত। চরিত্রটি ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দর্শকদের ভালো লাগলেই আমার সার্থকতা।’রুনা খান আরও

রুনা খান আরও বলেন, ‘আমরা যারা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সবাই পর্দায় দেখেন। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, পর্দার বাইরেও আমাদের আলাদা একটা জীবন আছে। আমাদেরও আছে সুখ-দুঃখ-হাসি-কান্নার বাস্তব গল্প। এমনই এক নায়িকার গল্প নিয়ে মূলত ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’ নির্মিত হচ্ছে।’