শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

সরকারি সফরে চীন গিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান

সরকারি সফরে চীন গিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) তিনি চীন গেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সফরকালে তিনি চীনের সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা উন্নয়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় করবেন।
সফর শেষে সেনাপ্রধান আগামী ২৭ আগস্ট বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।

গাজা শহর দখলের অভিযান শুরু ইসরায়েলের, নিহত ৮১

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজার সবচেয়ে বড় নগর কেন্দ্র গাজা শহর দখলের পরিকল্পিত অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু করেছে। ইসরায়েলি হামলা ও অনাহারের কারণে বুধবার ভোর থেকে গাজায় কমপক্ষে ৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিন আরও তিন ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা যান। এতে গাজায় ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬৯ জনে, যার মধ্যে রয়েছে ১১২ শিশু।
ইসরায়েলের আক্রমণের মধ্যে দক্ষিণ গাজার এক তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় তিনজন নিহত হন।

অপরদিকে, গাজায় সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রগুলোর কাছে গুলি চালানো অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নিহত হন সাবেক ফিলিস্তিনি জাতীয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় মোহাম্মদ শালান। বুধবার একদিনেই সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে কমপক্ষে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে গাজায় খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, গাজাজুড়ে অপুষ্টি দ্রুত বাড়ছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এটি কেবল ক্ষুধা নয়, এটি সরাসরি অনাহার।’

ডব্লিউএফপি আরো জানায়, ‘অপুষ্টি একটি নীরব হত্যাকারী।
এটি জীবনভর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি ডেকে আনে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, যার ফলে সাধারণ অসুখও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।’

গাজা শহর দখলের পরিকল্পিত অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে তারা আরো ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা পাঠাবে এবং গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এগিয়ে নেবে। সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, শহরের ওপর দখল নেওয়ার অভিযানের প্রথম ধাপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

প্রায় এক মিলিয়ন ফিলিস্তিনি বর্তমানে ওই এলাকায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এ সপ্তাহে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক গাজা শহরের কেন্দ্রের আরো কাছাকাছি চলে এসেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গাজা সিটিতে সেনা অভিযান আরেক দফা গণ-বাস্তুচ্যুতি তৈরি করবে, যেখানে মানুষজন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করবেন উমামা ফাতেমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য প্যানেলের নাম ঘোষণা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। তার ঘোষিত প্যানেলের নাম ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’। বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ নাম প্রকাশ করেন।

আলোচিত প্রায় সকল সংগঠন প্যানেল ঘোষণা করেছে।
তবে এখন পর্যন্ত উমামা ফাতেমার স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করতে পারেনি। এ বিষয়ে উমামা ফাতেমা বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় অপরাজেয় বাংলার সামনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, বিভিন্ন বিভাগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেল গড়তে যাচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখসারির নেত্রী উমামা।

এর আগে গত ৩০ জুলাই রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
পরে ১৮ আগস্ট সহসভাপতি (ভিপি) পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন উমামা।

প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আজ শেষদিন ছিল। এই দিনেও ৯৩টি ফরম বিতরণ হয়েছে। আর জমা পড়েছে ১০৬টি।
এ নিয়ে মোট ৬৫৮টি কেন্দ্র ও হল প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম বিতরণ হয়েছে।

সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবারের চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়েছে : তথ্য উপদেষ্টা

সরকারি অনুদানে নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।

আজ বুধবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারি অনুদানের জন্য মনোনীত পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রযোজকগণের কাছে অনুদানের প্রথম কিস্তির মঞ্জুরিপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন তিনি।

এ সময় মাহফুজ আলম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নবিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করা হবে। কর্মশালায় চলচ্চিত্র বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
’

এই কর্মশালা চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।

সরকারি অনুদানের জন্য চলচ্চিত্র বাছাই প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবারের চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়েছে। এ বছর অনুদানের জন্য মনোনীত চলচ্চিত্রসমূহের গল্পের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে।’

এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহের আলোকে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।
সরকারি অনুদানে নির্মিত সব চলচ্চিত্র বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হবে। ফিল্ম আর্কাইভ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে।’

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুদানের চলচ্চিত্র নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুদানের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারেননি। এটি দুঃখজনক।
’

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনুদানের চলচ্চিত্র নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিন অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সরকারি অনুদানের জন্য মনোনীত পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রযোজকগণের নিকট অনুদানের মঞ্জুরিপত্র হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর, অতিরিক্ত সচিব মো. কাউসার আহাম্মদ, অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানিসহ অনুদানের জন্য মনোনীত চলচ্চিত্রের প্রযোজকগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে সরকারি অনুদানের জন্য মনোনীত ১২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে প্রথম কিস্তিতে ১৫ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার মঞ্জুরিপত্র প্রদান করা হয়।

এর পাশাপাশি সরকারি অনুদানের জন্য মনোনীত ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে প্রথম কিস্তিতে ৬ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মঞ্জুরিপত্র প্রদান করা হয়।

চলচ্চিত্র নির্মাণ সাপেক্ষে প্রতিটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে চার কিস্তিতে মোট ৭৫ লাখ টাকা এবং প্রতিটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে চার কিস্তিতে মোট ২০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে।

মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে প্রথমবার ফিলিস্তিনি মডেল

প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ফিলিস্তিন। আসন্ন ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন ২৭ বছর বয়সী খ্যাতিমান মডেল ও সমাজকর্মী নাদিন আইয়ুব। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নাদিন একজন মানবিক কর্মী হিসেবেও পরিচিত।

মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে নাদিন লেখেন, ‘আমি সম্মানিত বোধ করছি যে প্রথমবারের মতো মিস ইউনিভার্সে প্রতিনিধিত্ব করবে ফিলিস্তিন।
আমি কেবল একটি খেতাব নিয়ে নয়, বরং একটি সত্য নিয়ে মিস ইউনিভার্স মঞ্চে পা রাখছি।’

এক বিবৃতিতে মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, তারা নাদিন আইয়ুবকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ফিলিস্তিনের অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন গাজায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এরপর নাদিন লেখেন, ‘গাজাসহ পুরো প্যালেস্টাইন যখন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি সেসব মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করছি, যারা নীরব থাকতে অস্বীকার করে। আমি প্রতিটি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুর প্রতিনিধিত্ব করছি, যাদের শক্তি পুরো বিশ্বের দেখা উচিত।’

এটি প্রতিটি ফিলিস্তিনির জন্য যারা প্রতিকূলতার পরেও উঠে দাঁড়ায়—এমনটা উল্লেখ করে এরপর এই সুন্দরী আরো লেখেন, ‘প্রত্যেক শিশুর জন্য যারা শান্তি, মর্যাদা এবং সম্ভাবনার জীবনের যোগ্য। আমি তোমাদের সাথে চলি।
আমি তোমাদের হয়ে কথা বলি। আমি আমার হৃদয়ে এবং আমার প্রতিটি ধাপ জুড়ে ফিলিস্তিনকে বহন করি।’

উল্লেখ্য, ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতাটি আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিযোগিতায় ১৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিযোগিরা অংশ নেবেন।

নাইজেরিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলা, নিহত অন্তত ৩০

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মসজিদে মঙ্গলবার বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক আইনপ্রণেতা। এর আগে নিহতের সংখ্যা ১৩ বলে জানানো হয়েছিল। এএফপি বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয়ভাবে অপরাধী চক্রের সদস্যদের ‘ডাকাত’ বলা হয়।
তারা কাতসিনা অঙ্গরাজ্যের মালুমফাশি এলাকার উঙ্গুয়ার মানতাউ শহরে একটি মসজিদে মঙ্গলবার হামলা চালায়। একটি সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা প্রাথমিকভাবে ১৩ জন নিহতের কথা জানায়।

ফজরের নামাজরত মুসল্লিদের ওপর এ হামলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কাতসিনা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে শান্তিচুক্তি সই হলেও মালুমফাশি সেই তালিকায় ছিল না।

নুরা মুসা নামের একজন বাসিন্দা বুধবার এএফপিকে জানান, ‘৯ জন মুসল্লি ঘটনাস্থলেই নিহত হন ও আরো অনেকে দিনভর মারা যান। সর্বশেষ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২-এ।’

কাতসিনা অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় মঙ্গলবার স্থানীয় রাজনীতিক আমিনু ইব্রাহিম জানান, হামলায় ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বছরের পর বছর ধরে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় ডাকাতচক্ররা গ্রাম আক্রমণ, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, লুটপাটের পর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

মুসা বলেন, এ হামলার আগে সপ্তাহান্তে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী গ্রামপ্রহরীরা ডাকাতদের একটি দলকে হামলা করে। তিনি বলেন, ‘গ্রামপ্রহরীরা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত টহল দেয়, ডাকাতদের হাত থেকে গ্রাম রক্ষা করতে। টহল শেষে তারা ভোরে মসজিদে নামাজ পড়তে যান। নামাজরত অবস্থায় হঠাৎ ডাকাতরা হামলা চালায়। তারা মুসল্লিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
’

এ ছাড়া ডাকাতরা আশপাশের আরো কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়ে ‘অনেক মানুষকে’ অপহরণ করেছে বলে জানান মুসা।

নাইজেরিয়ার এ ডাকাত সংকট মূলত চাষি ও পশুপালকদের মধ্যে জমি ও পানির অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হলেও তা এখন সংগঠিত অপরাধে রূপ নিয়েছে। গরু চুরি, অপহরণ ও কৃষকদের ওপর কর চাপানো—এসব এখন গ্রামীণ দরিদ্র এলাকায় তাদের বিশাল অর্থ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে, যেখানে সরকারের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় নেই।

যেসব সম্প্রদায় শান্তিচুক্তি করে, সেখানেও অনেক সময় চুক্তি ভঙ্গ হয়। ডাকাতরা প্রায়ই অস্ত্র নিজেদের কাছেই রাখে ও শান্তিচুক্তি এলাকাকে আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে, পাশাপাশি অন্যত্র হামলা চালাতে থাকে।

কাদুনা অঙ্গরাজ্যের বিরনিন গুয়ারি জেলায় গত নভেম্বরে শান্তিচুক্তির পর নিরাপত্তা কিছুটা উন্নত হলেও পার্শ্ববর্তী কাতসিনা ও নাইজার অঙ্গরাজ্যে ডাকাত হামলা বেড়েছে।

আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম বলেন, ‘অবস্থা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এ লাগাতার হামলার কারণে মানুষ আর নিজেদের গ্রামে থাকতে পারছে না।’

গলায় ফাঁস নেওয়া মাহফুজের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই : পুলিশ

নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানাধীন আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মাহফুজকে (২৫) হত্যা করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি ভুল দাবি করেছে পুলিশ।

বুধবার (২০ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে নোয়াখালী জেলার ২০ নম্বর আন্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরচর গ্রামের ছায়েদুল হকের বাড়ির রান্না ঘরের উত্তর পাশে পেয়ারাগাছের ডালের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন, তিনি ছায়েদুল হকের ছেলে। তার নাম মো. মাহফুজ।
তার ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

আরো বলা হয়েছে, পুলিশ ভিকটিমের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তে ভিকটিমের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা ছায়েদুল হক সুধারাম থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

বান্দরবানে চাঁদের গাড়ি উল্টে নারী নিহত, আহত ৬

বান্দরবানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাঁদের গাড়ি উল্টে হ্লায়ইনু মারমা (৪৮) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো ছয় যাত্রী। বুধবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের বেতছড়া রাস্তার মেরাইং পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হ্লায়ইনু মারমা বেতছড়া এলাকার নাচালং পাড়ার বাসিন্দা চথোয়াইমংয়ের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাট বাজার শেষ করে বান্দরবান বাজার থেকে চাঁদের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিল বেতছড়া এলাকার ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল। গাড়িটি বেতছড়া রাস্তার মেরাইং পাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান হ্লায়িনু মারমা। এ সময় গাড়িতে থাকা আরো ছয় যাত্রী আহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্লিন সিটি গড়া হবে : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সুপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী গড়ে তোলা হবে। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য।

বুধবার (২০ আগস্ট) নগরীর টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আবুল খায়ের গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি চসিককে ১০টি ডিজেলচালিত টমটম ও ৪১টি ভ্যান প্রদান করে।

নতুন সরঞ্জাম হস্তান্তরের পর মেয়র জানান, এ উদ্যোগের ফলে নগরীর বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এ সময় তিনি ধনাঢ্য ব্যক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ নয় সমাজের সচ্ছল শ্রেণি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে চট্টগ্রামকে দ্রুতই একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও উন্নত নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, নগরের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও মেয়র কথা বলেন। তিনি জানান, আমি মেয়র পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছি।
ইনশাআল্লাহ বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে এবং আগামী বছর নাগরিকরা এর আরও ভালো ফল ভোগ করবেন।

এ সময় চসিকের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানুষ আড়ালের কষ্টটা বোঝে না, শুধু চাকচিক্য দেখে : মালাইকা

বলিউডে আইটেম গানের কথা উঠলেই যার কথা সবার আগে মাথায় আসে তিনি মালাইকা আরোরা। শুধু আইটেম গানে নেচেই নিজেকে অনন্য করে তুলেছেন ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ গার্ল।

কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকেন একান্ন বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। কারণ, তার শরীরী সৌন্দর্যে এখনো বুঁদ নেটিজেনরা।
মালাইকার চাকচিক্যময় জীবন নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্নও উঠলেও তার সত্যিকারের জীবন এতটা সহজ নয়, কখনো ছিলও না। কারণ অনেক সংগ্রাম করে আজকের অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। পিঙ্কভিলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সেই সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে মালাইকা জানিয়েছেন, সিঙ্গেল মায়ের কাছে বড় হয়েছেন, ছোট বোন অমৃতা আরোরারও যত্ন নিতেন তিনি।
এরপর বলেন, ‘আমার মা চাকরি করতেন, যার কারণে আমাকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়। খুব ছোট বয়সেই এমন এক অবস্থায় পড়ি, যেখানে আমার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। আমি আমার বোনেরও (অমৃতা আরোরা) যত্ন নিতাম এবং সময়ের আগেই দায়িত্বশীল হয়ে ওঠি।’

মাত্র ১৭ বছর বয়সে উপার্জন শুরু করেন মালাইকা।
তখন তার মনোযোগ ছিল কেবল উপার্জন, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে। সিঙ্গেল মায়ের কাছে বড় হওয়ার কারণে কি এটা করতে হয়েছে? সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে মালাইকা বলেন, ‘সম্ভবত। আমার মনে হয়, তখন কিছু অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছিল।’

মালাইকা আরোরা বলেন, “আমাদের কোনো কিছুর অভাব ছিল না। তবে মা অনেক কষ্ট করে আমাদের সবকিছু দিয়েছেন।
শিক্ষা, খাবার, জামাকাপড়—যা প্রয়োজন সবই দিয়েছেন। মা কখনো বলেননি, ‘তুমি এটা পাবে না’। যত কঠিনই হোক না কেন, তিনি সব একাই সামলেছেন। কাজ করেছেন, আমাদের বড় করেছেন, স্কুল-কলেজে পড়িয়েছেন—সবকিছু করেছেন।”

ব্যক্তিগত জীবনে মায়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সেই দৃঢ়তা, সংকল্প বা শক্তি আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছি। আমি তার জীবন দেখে বড় হয়েছি এবং সেই শিক্ষা আমার মধ্যে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।’

বাস্তব পরিস্থিতির কারণে মালাইকা প্রায়ই অনুভব করতেন, তাকে আরো বেশি কিছু করতে হবে। কঠিন এই জীবনের জার্নিতে কখনো ক্লান্ত হয়ে উঠেছেন। ‘হ্যাঁ, এমন সময় এসেছে যখন মনে হয়েছে একটু বিশ্রাম নিই। কিন্তু আবার মনে হয়েছে, আমার দায়িত্ব আছে। আমি এমন একজন মেয়ে হতে চেয়েছিলাম, যার ওপর সবাই ভরসা করতে পারেন।’ বললেন তিনি।

মালাইকার পৈতৃক কোনো সম্পত্তি নেই, তাই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তার জীবনযাপন নিয়ে মানুষের মন্তব্য তাকে হতাশ করে। বিলাসিতা প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, “আমি বসে থেকে বলতে পারি না—‘আরে, আজ কাজ করব না।’ এমন বিলাসিতা আমার নেই।”

মালাইকা বলেন, ‘অনেকেই আমার জীবনযাপন নিয়ে মন্তব্য করেন। কিন্তু তারা বোঝেন না এই জীবনধারা বজায় রাখতে, একটি পরিবার চালাতে, সব কিছু ঠিকঠাক রাখতে কতটা পরিশ্রম করতে হয়। মানুষ শুধু চাকচিক্য দেখে। কিন্তু এর পেছনের কষ্টটা বোঝে না।’

১৯৯৮ সালে আরবাজ খানকে বিয়ে করেন মালাইকা আরোরা। ২০১৬ সালে দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানতে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন এই দম্পতি। ২০১৭ সালের মে মাসে তাদের বিচ্ছেদ মঞ্জুর করেন মুম্বাইয়ের বান্দ্রার পারিবারিক আদালত। মালাইকা-আরবাজের আরহান খান নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এরপর আর বিয়ে করেননি মালাইকা।