শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

গাজার হাসপাতালে হামলা : ইসরায়েলের ওপর খুশি নন ট্রাম্প

গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে নাসার হাসপাতালে বোমা ফেলে ৫ জন সাংবাদিকসহ ২০ জনকে হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলের ওপর খুশি নন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ ইস্যুতে নিজের অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে নাসার হাসপাতালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফে)-এর বোমাবর্ষণ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি এই ঘটনায় (ইসরায়েলের প্রতি) খুশি নই। এমন ঘটনা আমি আর দেখতে চাই না এবং একই সঙ্গে আমরা এই ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের পুরোপুরি অবসান ঘটাতে চাই।”

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অবশ্য নাসার হাসপাতালে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনার তদন্ত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইডিএফ।

গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকালে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে নাসার হাসপাতালে দু’বার বোমা বর্ষণ করে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হন ৫ জন সাংবাদিক, যারা বিভিন্ন বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি ছিলেন।

নিহত সংবাদিকরা হলেন, মারিয়াম আবু দাগা (এপি’র ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক), মোহাম্মদ সালামা (আলজাজিরার প্রতিনিধি), মোয়াজ আবু তাহা (রয়টার্সের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক), হাতেম খালেদ (রয়টার্সের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক) এবং স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ আবু আজিজ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালটিতে দু’দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। প্রথমবারের হামলায় ৬ তলা হাসপাতালটির ছাদ উড়ে যায় এবং এর পর যখন উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছিল, সে সময় দ্বিতীয়বার হাসপাতালটি লক্ষ্য করে বোমা ফেলে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অবশ্য সোমাবর বিকেলের দিকে এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে নাসার হাসপাতালে হামাসের সন্ত্রাসীরা আত্মগোপন করে আছে। নাসার হাসপাতালে হামলায় আহত এবং নিহতদের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আইডিএফ এ ঘটনার তদন্ত করবে।”

আইডিএফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন পৃথক এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজার বেসামরিক লোকজনদের ওপর হামলা চালানো আমাদের নীতি নয়, তবে হামাসের সন্ত্রাসীরা এই বেসামরিকদের মধ্যে আত্মগোপন করে আছে। তাই বাধ্য হয়ে এসব হামলা করতে হচ্ছে। তবে নাসার হাসপাতালের ঘটনা আইডিএফ তদন্ত করবে।”

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা ব্যতীত গত প্রায় দু’বছর ধরে গাজায় অভিযান চালানো ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব হতো না।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মারা গেছেন ‘কেজিএফ’ সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা

প্রখ্যাত কন্নড় অভিনেতা দিনেশ মাঙ্গালোর মারা গেছেন। সোমবার (২৫ আগস্ট) ভোররাতে উডুপিতে নিজের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, সম্প্রতি ‘কান্তারা: অধ্যায় ১’ চলচ্চিত্রের শুটিং করছিলেন দিনেশ মাঙ্গালোর। শুটিংসেটেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর বেঙ্গালুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন।

তবে গত সপ্তাহে আবার অসুস্থতা বাড়লে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয় এই অভিনেতার।

ভারতীয় এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দিনেশের মরদেহ ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় তার উডুপির বাড়িতে আনা হবে। ২৬ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। এরপর তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে সুমনাহল্লি শ্মশানে।

ব্যক্তিজীবনে দিনেশ মাঙ্গালোর দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কন্নড় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে।

উডুপি জেলার কুন্দাপুরে জন্মগ্রহণ করা দিনেশ মাঙ্গালোর শুরুতে একজন আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করে তিনি নিজেকে কন্নড় সিনেমার একজন শক্তিশালী পার্শ্বচরিত্রে পরিণত করেন। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘রানা বিক্রম’, ‘আম্বারি’, ‘সাভারি’, ‘ইন্তি নিন্না বেটি’, ‘আ ডিঙ্গি’, ‘তুঘলক’, ‘বেট্টাদা জীবন’, ‘সূর্য কান্তি’, ‘কিরিক পার্টি’ প্রভৃতি।

দিনেশ মাঙ্গালোর সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ১’-এ বোম্বের ডন শেঠির ভূমিকায় অভিনয় করে। তিনি সেখানে প্রধান চরিত্র রকির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান এবং পরবর্তী সিকুয়েলে তার চরিত্রটি মারা যায়। কেজিএফের সাফল্যের পর তিনি ভারতজুড়ে পরিচিতি পান।

গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৬২ হাজার ৭০০

রোববার সন্ধ্যা থকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর গোলাবর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজার উপত্যকায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮৬ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪৯২ জন। সোমবার সন্ধ্যার পর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলি বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায়। বাকি ২৮ জন নিহত হয়েছেন খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সোমবার ভোরবেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজার হাসপাতালগুলোতে ৮৬ জনের মরদেহ এবং ৪৯২ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। তবে আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কারণ তাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকা পড়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লোকবলের অভাবে তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের পর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬২ হাজার ৭৪৪ জনে। এদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি।

গাজায় উপত্যকা আটকে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের প্রচেষ্টায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল ইসরায়েল এবং উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। কিন্তু ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৫ মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০০ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬ হাজার ২১৮ জন।

গত মে মাসের শেষ দিক থেকে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপরও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মে প্রথম গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা এবং তারপর থেকে নিয়মিতই এটি ঘটছে।

গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ২ হাজার ১২৩ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৬১৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।

হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল।

যে ২৫১ জন জিম্মিকে হামাসের যোদ্ধারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন এখনও জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করার ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের আদালত নামে পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি দুর্বল ও অকার্যকর করা এবং জিম্মিদের মুক্ত করা এই অভিযানের লক্ষ্য। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে গাজায়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

চলে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জাহানারা ভূঁইয়া

ঢালিউড চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেত্রী জাহানারা ভূঁইয়া মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন জাহানারা ভূঁইয়া।
ডায়াবেটিসের কারণে অচল হয়ে পড়ে দুটি কিডনি। ১৬ মাস ধরে মিনেসোটার লেক রিজ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস চললেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন এই অভিনেত্রী।

প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক আজীজ আহমেদ বাবুলের বোন জাহানারা ভূঁইয়া।
সত্তর দশকে স্বামী চিত্রপরিচালক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন জাহানারা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক সিনেমায়। তবে চলচ্চিত্রে তারা যাত্রা শুরু হয় গীতিকার হিসেবে।

সত্তর ও আশির দশকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি জাহানারা ভূঁইয়া গীতিকার, নির্মাতা এবং প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন জাহানারা ভূঁইয়া।

এবার গানে মন জয় করলেন ‘সাইয়ারা’ অভিনেত্রী

বলিউড এখনো ‘সাইয়ারা’ জ্বরে ভুগছে। ছবির অভিনেত্রী অনীত পাড্ডা লাখো তরুণের মন জয় করেছেন। এবার গেয়েও সাড়া ফেলেছেন। রবিবার ২৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ছবির টাইটেল ট্র্যাকের একটি আনপ্লাগড ভার্সন পরিবেশন করেন।
সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন ইনস্টাগ্রামে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, পড্ডা গিটার বাজাচ্ছেন এবং শেষের দিকে তাঁর বাবা নবদীপ পড্ডাও গান গাইছেন। গতকাল সকাল পর্যন্ত ভিডিওটি ৮৮ লাখেরও বেশি ভিউ এবং হাজার হাজার ভক্তের মন্তব্য পেয়েছে। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘গান গাওয়া হয়তো মরিচা ধরেছে, কিন্তু ভালোবাসা নয়।
’

‘সাইয়ারা’ ভারতে ৩০০ কোটি রুপিরও বেশি এবং বিশ্বব্যাপী ৫০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। ছবিটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একজন গায়িকার প্রেমে পড়ার গল্পে, যে আলঝেইমার’স রোগে আক্রান্ত।

ফেডারেল গভর্নর কুককে অপসারণের নির্দেশ ট্রাম্পের

বন্ধকী জালিয়াতির অভিযোগে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও ১৯১৩ সালের ফেডারেল রিজার্ভ আইনের অধীনে তার ক্ষমতা অনুসারে কুককে ‘অবিলম্বে কার্যকরভাবে’ বরখাস্ত করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মর্টগেজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা যে অভিযোগ এনেছিল, তার উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আপনি এক বা একাধিক বন্ধকী চুক্তিতে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন বলে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার নির্ধারণ ও রিজার্ভ এবং সদস্য ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে।
আমেরিকান জনগণকে অবশ্যই নীতিনির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সততার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে। একটি আর্থিক বিষয়ে আপনার প্রতারণামূলক ও সম্ভাব্য অপরাধমূলক আচরণের কারণে সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং আমি আপনার সততার ওপর আর আস্থা রাখি না।

গত শুক্রবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যদি লিসা কুক পদত্যাগ না করেন তবে তাকে বরখাস্ত করা হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক মনোনীত কুক বন্ধকী জালিয়াতি করেছেন।
তিনি একই সময়ে দুটি ভিন্ন সম্পত্তিকে তার প্রাথমিক বাসস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা।

ইন্টেলের পর আরো কম্পানিতে অংশীদারি ‘নিতে পারে’ মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্র সরকার চিপমেকার ইন্টেলের সঙ্গে অংশীদারি নেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট সোমবার বলেছেন, অন্যান্য কম্পানিতেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক হাসেট সিএনবিসি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত’, কোনো না কোনো পর্যায়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ‘আরো লেনদেন হবে’।

তিনি তখন এমন একটি প্রশ্নের জবাবে দিচ্ছিলেন, যেখানে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সম্প্রতি ঘোষিত যে লেনদেনে মার্কিন সরকার ইন্টেলে ১০ শতাংশ ইকুইটি শেয়ার নেবে, তা কি অন্যান্য শিল্পেও এমন পদক্ষেপের সূচনা। এসব শিল্পে সরকারি তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইন্টেল একটি বিবৃতিতে আগে জানিয়েছিল, তাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন সরকার ৪৩৩.৩ মিলিয়ন সাধারণ শেয়ার পাবে, যা কম্পানির ৯.৯ শতাংশ অংশীদারির সমান।

এটি মোট ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সমতুল্য, যার অংশ হিসেবে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার অনুবাদ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্টের অধীনে প্রদত্ত হয়েছে কিন্তু এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এই আইনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে পাস হয়েছিল, যার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

হাসেট সোমবার বলেন, আগে ফেডারেল সরকার কম্পানিকে শুধু অর্থ দিত।
কিন্তু ইন্টেলের মতো সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে ‘এসব শেয়ারে ভোটাধিকার থাকবে না’ বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, মার্কিন সরকার কম্পানিগুলোর পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করবে না বলে পরিকল্পনা করছে।

কম্পানির ঝুঁকি
এদিকে ইন্টেল সোমবার একটি নথিতে সতর্ক করেছে, সরকারের ইকুইটি অংশীদারি ভবিষ্যতে সরকারি সংস্থাগুলো থেকে অনুদান পেতে এর ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে।
তহবিলটি কখন পাওয়া যাবে এবং তহবিলের শর্ত পূরণের ক্ষমতা এখনো ‘অস্পষ্ট’ বলেও ইন্টেল উল্লেখ করেছে।

ইন্টেল আরো জানিয়েছে, মার্কিন সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শেয়ারহোল্ডার হওয়ায় এর আন্তর্জাতিক ব্যবসার ওপর ‘প্রতিকূল প্রভাব’ পড়তে পারে।

এদিকে চুক্তির সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে রাজনীতির প্রভাব দেখা দিলে এটি কম্পানির কার্যকারিতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদে ফিরে আসার পরপরই হোয়াইট হাউস বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশের জন্য একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে।

সার্বভৌম সম্পদ তহবিল হলো একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল, যা দেশের অতিরিক্ত রিজার্ভ পরিচালনা করে।
সাধারণত এটি প্রাকৃতিক সম্পদ বা অতিরিক্ত বাণিজ্য আয় থেকে উদ্ভূত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

হাসেট উল্লেখ করেছেন, এখন পর্যন্ত ইন্টেলের সঙ্গে নির্দিষ্ট চুক্তিটি ‘একটি অত্যন্ত বিশেষ পরিস্থিতি থেকে এসেছে। কারণ ইন্টেলের জন্য চিপস অ্যাক্ট থেকে বিপুল তহবিল আসছিল’।

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ : সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, ‘আমি যখন এ কথাটা বলি তখন অনেকে কষ্ট পান। কারণ আমি সরকারেরই অংশ। তবে সত্যটা যদি স্বীকার না করি, তাহলে আমরা শুধরাব কী করে?’

সোমবার (২৫ আগস্ট) বগুড়ায় নাগরিক অধিকার ও জলবায়ু ন্যায্যতা শীর্ষক বেসরকারি সংস্থার নেওয়া একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা।

উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ বড্ড বেশি রাজনীতি দ্বারা পরিচালিত এবং জর্জরিত। যারা ক্ষমতায় আসেন তারা দেশের মঙ্গল চাইলেও, যারা তার প্রতিদ্বন্দ্বী, তাদেরকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়।’

দেশের মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অনেককিছু প্রত্যাশা করে উল্লেখ করে বলেন, ‘এক ধরনের রাজনীতিতে দেশটা আমাদের খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেছে।
তাই মানুষ আমাদের কাছে মিনতি করে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা থাকতে থাকতে করে দিয়ে যান। এরপরে তো হবে না।’

শারমীন এস মুরশিদ বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের যত্নসহকারে পরিচর্যা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এদের দুঃসাহস-তারা মরণকেও ভয় পায় না, জীবনকেও ভয় পায় না।
এ রকম একটি প্রজন্মকে নিয়ে অসাধ্য সাধন করা যায় এবং সেই স্বপ্নটাই আমাদের তাদেরকে দেখানো এবং তাদেরকে সেই জায়গায় এগিয়ে নেওয়া উচিত।’

উপদেষ্টা একাত্তর এবং চব্বিশ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি দুটোকেই দেখি আমার ন্যায্যতার আকাঙ্ক্ষা, আমার গণতন্ত্রের তৃষ্ণা এবং সমতার স্বপ্ন এবং বৈষম্যের নিষ্ঠুর হাত থেকে বাঁচার একটি চেষ্টা হিসেবে এবং আমরা সেই লড়াইটাই লড়ছি।’

বেসরকারি সংস্থা ‘লাইট হাউস’ আয়োজিত নাগরিক অধিকার ও জলবায়ুন্যায্যতা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসাসহ জেলায় কর্মরত ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া লাইট হাউসের নির্বাহী প্রধান হারুণ অর রশীদ, ওই প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট আজিজা আসফিন পিউ বক্তৃতা দেন।

সংবিধান মানলেই দেশে সুশাসন সম্ভব : ড. কামাল হোসেন

সংবিধান মানলেই দেশে সুশাসন সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি—এটি শুধু আইন নয়, ন্যায়ের দিকনির্দেশনা। কিন্তু যখন এর মূলনীতি উপেক্ষিত হয়, তখন শাসনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা জন্ম নেয়। সুশাসনের একমাত্র পথ হলো সংবিধানকে যথাযথভাবে মানা, প্রয়োগ করা এবং রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে তুলে ধরা।
’

কামাল হোসেন বলেন, ‘এই স্বাধীনতাকে অনেকেই নিজের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। সংবিধানের মূলনীতি রক্ষা করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব আর সেটিকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের আইনজীবীদের মধ্যে যেন সংবিধানের মূলনীতিগুলো নিয়ে কোনো বিরোধ বা বিতর্ক না থাকে। যেন এর কোনো অপব্যাখ্যা আমরা না করি।
যদি আমরা এটা নিশ্চিত করতে পারি এবং আইনজীবী সমাজের সদস্য হিসেবে এই দায়িত্ব উপলব্ধি করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, কোনো রকম আপস না করি—তাহলে দেশে সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের যে নিশ্চয়তা মানুষকে অধিকার ভোগের সুযোগ দেয় সেটা আজ খুব জরুরি ভিত্তিতে আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন। আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যেন সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বিতর্ক বা মতভেদ না থাকে এবং আমরা যেন মূলনীতিগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। সব জায়গায় আমরা তা রক্ষা করব।
সংবিধানে আমাদের যেসব অধিকার পাওয়ার কথা বলা আছে, সেগুলো স্পষ্টভাবে বিধান করা হয়েছে। কিন্তু আইনজীবী সমাজের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হওয়ায় এবং সংবিধানকে নানাভাবে অপব্যাখ্যা করার কারণে এগুলো কার্যকর হচ্ছে না।’

কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘আমাদের সমাজ ও শাসনব্যবস্থার যে সংস্কৃতি তা একটি সংকটের মধ্যে পড়েছে। এই সংকট মূলত সৃষ্টি হয়েছে সংবিধানের মূলনীতিগুলোকে উপেক্ষা করার কারণে। আমরা যেভাবে শাসন চালানোর চেষ্টা করছি তা সংবিধান মেনে সম্ভব নয়।
যদি আমরা সুশাসন চাই তাহলে সংবিধানের মূলনীতিগুলোকে অক্ষরে অক্ষরে শ্রদ্ধা করতে হবে, তা পালন করতে হবে। যত কঠিনই হোক না কেন এই মূলনীতি থেকে আমাদের কোনোভাবেই সরে আসা উচিত নয়। যে সংকটের মধ্যে আমরা বাস করছি, তার মূল কারণ এটাই—আমরা সংবিধানের যে মূলনীতি ও মৌলিক দিকনির্দেশনা আছে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করছি না।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলব—আসুন, সংবিধানকে সামনে রেখে দেখি, কোন কোন জায়গায় এর বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে। যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছেন তারা সংবিধানের প্রতি শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। যদি তারা সেই শপথ ভঙ্গ করেন তবে তারা শুধু সংবিধান থেকে নয়—শাসনের নৈতিক ভিত্তি থেকেও সরে যাচ্ছেন। তখন আর সংবিধানের শাসন থাকবে না, সুশাসনও থাকবে না। আর আমরা শুধু দুর্নীতি, অব্যবস্থা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখতে থাকব। এতে করে দেশের শাসনব্যবস্থা ভুল পথে চলে যাবে—যেটা ইতোমধ্যে হচ্ছে বলেই আমরা একের পর এক সংকট দেখছি। অর্থাৎ এটা এখন আর না বোঝার কোনো অবকাশ নেই। আইনজীবী হিসেবে আমাদের এটা ভালো করেই বোঝা উচিত। আর এই সমস্যার প্রতিকার হচ্ছে—আইনজীবীদের মধ্যে সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের ওপর কোনো দ্বিমত, বিভেদ বা মতবিরোধ সৃষ্টি না হওয়া। ভিন্নমতের কারণে যেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় যেখানে রাষ্ট্র সংবিধানের মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়।’

অর্ডিন্যান্স পাসের ১৫ দিনের মধ্যে ইকসু নির্বাচনের আশ্বাস ইবি উপাচার্যের

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ইকসু) গঠনের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফরম ‘মুভমেন্ট ফর ইকসু’ এর প্রতিনিধি দল। সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপাচার্যের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপাচার্য জানান, অর্ডিন্যান্স পাসের ১৫ দিনের মধ্যে ইকসু নির্বাচন করা সম্ভব হবে।

সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইনে ইকসুর কোনো বিধান নেই। তাই ইকসু গঠনের জন্য শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির গঠিত গঠনতন্ত্রের খসড়া সিন্ডিকেটে পাস করে ইউজিসিতে পাঠানো হবে। ইউজিসি অনুমোদন দিলে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবে।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে খসড়াটি অর্ডিন্যান্স আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে অন্তর্ভুক্ত হবে। আশা করি আগামী নভেম্বরের মধ্যে ইকসুর অর্ডিন্যান্স পাস হবে। এরপর শিক্ষার্থীরা চাইলে ১৫ দিনের মধ্যে ইকসু নির্বাচনের আয়োজন করা যাবে।’

এ ছাড়া আইনি জটিলতার পাশাপাশি ইকসু গঠনে বাজেটসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কথা জানান উপাচার্য।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বাজেটে ডাকসুর জন্য পৃথক বরাদ্দ থাকে। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বাজেটে এমন কোনো আলাদা বরাদ্দ নেই। ফলে এই অর্থ কাকে এবং কিভাবে দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা যায় না। সে জন্য প্রয়োজন একটি লিগ্যাল এন্টিটি। এই লিগ্যাল এন্টিটি থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় যতদিন থাকবে, ইকসুও সেই সময়কাল ধরে স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকবে।