বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

সুদানে ভূমিধসে ১০০০ মানুষের প্রাণহানি : বিদ্রোহী গোষ্ঠী

পশ্চিম সুদানে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১,০০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী। রবিবার (৩১ আগস্ট) টানা ভারি বর্ষণের পর মাররা পর্বতমালা এলাকায় একটি গ্রাম ধসে পড়ে এবং পুরো গ্রামটি মাটির সঙ্গে মিশে যায় বলে জানায় তারা। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসির।

ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট/আর্মি (এসএলএম/এ)।
গোষ্ঠীটির নেতা আবদেলওয়াহিদ নূর জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী গ্রামের সব বাসিন্দাই মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আনুমানিক এক হাজারেরও বেশি। কেবল একজন বেঁচে আছেন।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে।
এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাছে মৃতদের মরদেহ উদ্ধারে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলের চিত্রে দেখা যায়, লোকজন মাটিতে বসে আছে, চারপাশে তাদের সামান্য কিছু মালপত্র ছড়িয়ে আছে। কেউ কেউ টিন ও কাপড় দিয়ে বানানো অস্থায়ী ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়েছে, অনেকে আবার খোলা রোদে বসে আছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গ্রামটি এখন পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এদিকে, রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে জর্জরিত সুদান এখন বিশ্বের ভয়াবহতম মানবিক সংকটগুলোর একটির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দারফুরের কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত মার্চে সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দারফুর অঞ্চলে, বিশেষ করে এল-ফাশেরে, লড়াই আরো তীব্র হয়েছে।

সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান সংঘাত থেকে বাঁচতে অনেক বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছিলেন মাররা পর্বতমালায়। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও ওষুধের অভাব রয়েছে।

গৃহযুদ্ধের কারণে সুদানের অর্ধেকেরও বেশি জনগণ এখন চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

মব সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে

দেশব্যাপী চলমান মব সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুনভাবে আবির্ভূত এ মব সংস্কৃতির অবসান ঘটাতেই হবে। কারণ এটি আইনবহির্ভূত একটি হিংসাত্মক আচরণ, যা জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক তৈরি করে। বেআইনি এ মব সংস্কৃতি যেকোনো উপায়ে বন্ধ করতে হবে।
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেড় যুগব্যাপী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদদের আত্মদান সার্থক হবে, যদি আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি। এটিই হোক বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভলগ্নে আমাদের অঙ্গীকার। দেশজুড়ে যেন আর কখনোই গুম, গুপ্তহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী ও শিশুদের ওপর পৈশাচিকতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, টাকা পাচারের মতো ঘৃণ্য বিভীষিকার পুনরাবৃত্তি না হয়।
জনগণের অধিকার আদায়ে তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করাসহ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা আবারও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘দেশে এখনো প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আইনের শাসন, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলেই জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর এজন্য জনগণের নির্বাচিত জবাবদিহিমূলক সরকার অতীব জরুরি।
জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত দলের যেসব নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন ও দেড় দশকের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের করাল গ্রাস এবং গত বছর ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাদের প্রতিও জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।’ তারেক রহমান লিখেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের সঙ্গে জনগণকে একত্র করার লক্ষ্যে মহান স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। আজকের দিনটি দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। দলটি বাংলাদেশি ভূখণ্ডের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং শক্তিশালী সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়।
স্বাধীনতাত্তর আওয়ামী দুঃশাসনে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। যার অনিবার্য পরিণতি হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, আর এই দুর্ভিক্ষে ১০ লাখ মানুষ মারা যায়। তৎকালীন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী বাকশাল কায়েম করে স্বৈরশাসনকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করে।’ বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হয়ে পুনরায় বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করে জনগণের নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। শহীদ জিয়ার সৃষ্টি বিএনপি বিগত ৪৭ বছরে কয়েকবার সুষ্ঠু নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে দেশ, জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।’

তিনি বলেন, ‘নানামুখী সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় চির উন্নত শীর বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। নির্বাসিত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নির্দ্বিধায় জীবন উৎসর্গ করেছে অসংখ্য নেতা-কর্মী। ৮০-এর দশকে ৯ বছরের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির রাজপথে আপসহীন ভূমিকা ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর সেই অগ্রণী ভূমিকার জন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালে সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে এর চর্চা ও বিকাশসহ দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য বিএনপি আজ সমধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। জাতির সব সংকটময় সময়ে বিএনপি জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার কারণেই ঐতিহাসিক সাফল্যগুলো অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির আদর্শিক ভিত্তি উদারনীতি। দলের সামাজিক অঙ্গীকার ও অর্থনৈতিক নীতি উদারপন্থি রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী প্রসারিত করেছে। দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীর ক্ষমতায়নসহ তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প বাণিজ্য সেক্টরসহ ব্যাংকঋণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্সপ্রবাহ ইত্যাদিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি লাভ করে। দেশীয় অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে শুরু করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্র সমুন্নত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপি সরকারের উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দেশে আর দুর্ভিক্ষ স্পর্শ করেনি। মানুষ আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হতে থাকে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে বিএনপি আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।’

এলপি গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা বিকেলে

সেপ্টেম্বর মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে আজ মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর)। এ দিন বিকেলে এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় এক মাসের জন্য নতুন দাম ঘোষণা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকোর ঘোষিত সেপ্টেম্বর মাসের সিপি মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতে ব্যবহৃত এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হবে।

এর আগে, সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট এলপি গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়। সে সময় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯১ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।

একই দিনে ঘোষণা আসবে অটোগ্যাসের নতুন দামেরও। ৩ আগস্ট সর্বশেষ সমন্বয়ের সময় অটোগ্যাসের দাম ৪ টাকা ১৮ পয়সা কমিয়ে প্রতিলিটার ৫৮ টাকা ২৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল (মূসকসহ)।

গুজব-গুঞ্জন নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘সেনাপ্রধান প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আমি দু-একটা পত্রিকায় এটি দেখেছি। আর অনলাইনে এটা নিয়ে নানান গুজব-গুঞ্জন হয়েছে, দেখেছি। এসব গুজব-গুঞ্জন নিয়ে বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নেই।
’ গতকাল সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আর্মি চিফ আমাদের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দেখা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করেছেন। আমি মনে করি না এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু আছে।
অনেকে ভাবছেন, কেয়ারটেকার সরকার হবে-এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো সম্ভাবনার ব্যাপারে অবগত নই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এটা প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন। নির্বাচন কমিশনকেও সেরকম নির্দেশনা (ইনস্ট্রাকশন) দেওয়া হয়েছে।
উনারা সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তার আগে কিছু বিষয়ে যে মতভিন্নতা রয়েছে, মতভেদ রয়েছে, আমরা আশা করি সেটা দূর হয়ে যাবে।’ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের দেশে গত এক বছরে মাঝেমধ্যে বেশ অবনতি হয়েছে, আবার ভালোও হয়েছে। একটা গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বা বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে সমাজে বিভিন্ন রকমের অস্থিরতা থাকে এবং এসব অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে অবনতি ঘটে, সেটা যতই দুঃখজনক হোক, হতাশাজনক হোক এটা অস্বাভাবিক বলে মনে করি না।
আমরা এ রকম সিচুয়েশন আগেও ট্যাকেল (সামলেছি) করেছি, ইনশাল্লাহ আবার ভালো হবে।’

গাজায় নিরীহ শিশুদের বিনা বিচারে হত্যা করা হচ্ছে : আনোয়ার ইব্রাহিম

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, গাজা উপত্যকায় নিরীহ শিশুদের বিনা বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, এবং এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সোমবার তিনি এ কথা বলেন বলে আনাদোলু সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

চীনের তিয়ানজিন শহরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) প্লাস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর আনোয়ার এ মন্তব্য করেন।

তিনি শি জিনপিং প্রস্তাবিত গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ধারণাটি এমন এক সময় গভীরভাবে অনুরণিত হচ্ছে যখন বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, জাতিসংঘ এখন আর নিজেকে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাও বহন করছে না। নৃশংসতা এখন বিনা বিচারে চালানো হচ্ছে।

আনোয়ার আরো বলেন, আজকের দিনে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় আস্থার ঘাটতি রয়েছে। বাণিজ্য, আর্থিক কাঠামো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় ব্যর্থতা এটাই দেখিয়েছে যে উচ্চকণ্ঠ ঘোষণাগুলো বাস্তবে জনগণের ভোগান্তির সঙ্গে একেবারেই সংযুক্ত নয়।

অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৫০০-রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সামরিক অভিযানে পুরো উপত্যকা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

আজ সাত দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আজ মঙ্গলবার সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিকেল ৫টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই ধারাবাহিক সংলাপকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত রবিবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।

সোনার দাম বাড়ল, ভরি ছাড়াল এক লাখ ৭৫ হাজার

দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের তথা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৮ টাকা। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) যেখানে একই মানের প্রতি ভরি সোনা এক লাখ ৭৪ হাজার ৩১৮ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে।

সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম বাড়ানোর তথ্য জানিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৮ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৪৩ হাজার ৮২৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ১৯ হাজার ৪২ টাকা ।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম বর্তমানে ২ হাজার ৮১১ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৭২৬ টাকা।

দুই দিন আগে গত ৩০ আগস্টও সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। যা গতকাল ৩১ আগস্ট কার্যকর হয়।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন ৩৫ ব্যক্তি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় হতে অব্যাহতি দেবে সরকার। ইতিমধ্যে ৩৫ জনের অব্যাহতির জন্য অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান সরকারের প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, সিআরপিসি ১৭৩-এ অনুযায়ী সার্বমোট ৩৫ জনের অব্যাহতির জন্য তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই ৩৫ জনের মধ্যে ঢাকা জেলার ৪ জন, আরএমপির ৮ জন, ডিএমপির ৪ জন, গাজীপুর জেলার ১ জন, কুড়িগ্রাম জেলার ১৮ জন আসামি রয়েছেন।

তিনি আরো জানান, এই প্রক্রিয়া আরো ১১৬টি অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে ডিএমপিতে ১০৩ জন ও গাজীপুরে ১ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জন এবং ঢাকা জেলায় ৯ জনের বিষয়ে রিপোর্ট দাখিলের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এসএ টি-টোয়েন্টির নিলামে বাংলাদেশের ১৪ ক্রিকেটার

বিশ্বের অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দেখা গেলেও এসএ টি-টোয়েন্টিতে দেখা যায়নি। আগের তিন আসরে কোনো বাংলাদেশি খেলার সুযোগ পাননি।

এবার চতুর্থ আসরে পাবেন কি না, তা আগামী ৯ সেপ্টেম্বর জানা যাবে। সেদিনই যে দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগটির নিলাম হবে।
সেই নিলাম সামনে রেখেই আজ খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশের ১৪ ক্রিকেটার ড্রাফটে আছেন।

সেই ক্রিকেটাররা হচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, শেখ মেহেদী, তানজিদ হাসান তামিম, শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী অনিক, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা, লিটন দাস ও সাকিব আল হাসান।

সব মিলিয়ে ড্রাফটে সুযোগ পেয়েছেন ৫৪১ জন ক্রিকেটার।
এর মধ্যে ২৪১ জন বিদেশি। আর বাকি ৩০ জন হচ্ছেন দেশি। সব মিলিয়ে এবারের নিলাম থেকে ৮৪ জনকে নিতে পারবে ছয় দল। তার মধ্যে বিদেশিদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২৫।
বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৭ জন আছে ইংল্যান্ডের। এই তালিকায় আছেন ৪৩ বছর বয়সী সাবেক পেসার জেমি অ্যান্ডারসন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস সেনাপ্রধানের

অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আশ্বাস দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসে তিনি এ আশ্বাস দেন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অবদান অব্যাহত রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা আরো সুসংগঠিত করার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে স্পষ্ট কমান্ড কাঠামো ও সব বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি জাতির কাছে এমন একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি, যেখানে ভোটার উপস্থিতি, নতুন ও নারী ভোটারের অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে বৈশ্বিক আস্থা এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের উৎসবমুখর পরিবেশের দিক থেকে আলাদা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান উপদেষ্টাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
একই সঙ্গে তিনি গুজবে মনোযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান। ‘পুরো সেনাবাহিনী সরকারের সব উদ্যোগ ও কর্মসূচি সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’