বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র এখনো চলমান : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান

শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ‘পরাজিত ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে বলে কেউ যেন মনে না করে তারা আর ষড়যন্ত্র করবে না। ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রও কিন্তু এখনও চলমান। ফ্যাসিবাদ বার বার ফিরে আসার চেষ্টা করে, তাকে দমন করতে হয়, প্রতিহত করতে হয়। বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদকে দমন করবে, প্রতিহত করবে।
বাংলাদেশ যে লক্ষ্যে ৫ আগস্ট ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, সেই লক্ষ্য বজায় থাকবে।’

আজ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের ভবানীগঞ্জে নাটোরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে একদল তরুণ জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। সারা দেশের মানুষ তাদের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
জুলাইয়ের ৩৬ দিনে সংগ্রামের পরে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু সমস্ত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। আমাদের সামনে বিচার এবং সংস্কারের কাজ এখনো বাকি আছে। বিচারকে দৃশ্যমান করে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।
সংস্কারও আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে যাচ্ছি।

এর ভেতর আমাদের তৃতীয় কাজ নির্বাচনেরও ঘোষণা এসেছে। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের দায়িত্ব যতদূর সম্ভব বাস্তবায়নের করতে। কেননা এটা শুধু সরকার নয়, এটা গণঅভ্যুত্থানের সরকার। সে কারণে আমরা তার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
আমরা চেষ্টা করছি, দেশের জনগণকে যেই মুক্তির লক্ষ্যে তরুণরা আলো জ্বালিয়েছিলেন সেই আলোর দিকে নিয়ে যেতে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশের শহীদদের কবরগুলো বাঁধানোর চেষ্টা করা হয়েছে তাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য। জুলাই শহীদরা জাতির সূর্যসন্তান।’

জেলা প্রশাসক আসমা শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, শহীদ আকিবের বাবা জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন খান, সিংড়ার শহীদ হৃদয়ের বাবা রাজু আহমেদ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় নাটোরের শহরে অবস্থিত জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করেন উপদেষ্টা। আর গতকাল শুক্রবার রাতে স্থানীয় জুলাই শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময়সভা করেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আজ শনিবার ১২ রবিউল আউয়াল। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন তাওহিদের মহান বাণী নিয়ে।
তিনি প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তাঁর আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

সৌদি আরবের মক্কা নগরের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
তাঁর বাবা আবদুল্লাহ ও মা আমিনা। জন্মের আগেই রাসুল (সা.) তাঁর বাবাকে হারান এবং ছয় বছর বয়সে তিনি মাতৃহারা হন।

সমগ্র আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতা ও অনাচারের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, সেই আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সারা বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ। বিনয়, সহিষ্ণুতা, দয়া, সহমর্মিতাসহ সব মানবিক সদ্গুণের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটেছিল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মধ্যে।

শ্রেষ্ঠ মানবিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে তিনি ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়-নির্বিশেষে সর্বকালে সর্বজনস্বীকৃত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দান-খয়রাতসহ নফল ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করবেন। অনেকে এই দিনে নফল রোজা রাখেন।

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সবার মধ্যে অপার শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

বাণীতে তিনি বলেন, ‘সমগ্র মুসলিম উম্মার ঐক্য আরো সুসংহত হোক। মহানবী (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ লালন ও অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি সুনিশ্চিত হোক, এই কামনা করি।’

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এক বাণীতে বলেন, ‘মহানবী (সা.) মানবতার মুক্তি, সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যে মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি শিখিয়েছেন, ন্যায়বিচার কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমগ্র মানবজাতির মৌলিক অধিকার।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির দেশ। মহানবী (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় মদিনার সনদের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর এই শিক্ষা আমাদের জাতীয় জীবনে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের চর্চার মাধ্যমেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। তারেক রহমান বলেন, ‘সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত ও দুঃখী মানুষের সেবা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পরমতসহিষ্ণুতা, দয়া ও ক্ষমা গুণ, শিশুদের প্রতি দায়িত্ব এবং নারী জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অতুলনীয়। তাই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে স্বীকৃত। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা, আদর্শ ও ত্যাগের মহিমার প্রতিফলন আমরা সবাই যেন নিজেদের জীবনে ঘটাতে পারি।’

বছরজুড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা ও চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া মানবজাতির কল্যাণ সম্ভব নয়। তাঁকে খণ্ডিতভাবে অনুসরণ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া কারো জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ নেই।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশও নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।

দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে পিএসজি কোচ

পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে শুক্রবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। সাইক্লিং করার সময় দুর্ঘটনায় ৫৪ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচের কাঁধের হাড় ভেঙে গেছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পিএসজি জানিয়েছে, এনরিকের কাঁধের হাড় ভাঙার কারণে তাকে সার্জারি করাতে হবে।

পিএসজি তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, ‘ক্লাব তার পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে এবং দ্রুত সুস্থতার কামনা করছে। পরবর্তী আপডেট শিগগিরই জানানো হবে।’

এনরিকে ২০২৩ সালে পিএসজিতে যোগ দেন এবং ক্লাবকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লীগসহ পর পর দুইটি লিগ ওয়ান শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেন। তিনি এর আগে বার্সেলোনাকেও ট্রেবল জেতাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দুই মেয়াদে স্পেন জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের পশ্চিমা প্রস্তাবে রাজি নন পুতিন

প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকের পর ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির পরপরই ‘বিশ্বাসযোগ্যতা বাহিনী’ মোতায়েনের পশ্চিমা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা নিয়ে কথা হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, ইউক্রেনের ২৬টি মিত্র দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ হলে স্থল, জল বা আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তিনি এসব দেশের নাম প্রকাশ করেননি।

পুতিন পশ্চিমা জোটের এই উদ্যোগকে বাতিল করার চেষ্টা করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেনে যেকোনো বিদেশি সেনা এখনই মোতায়েন হলে তারা ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হবে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা এখন নেই বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভ্লাদিভোস্টকে এক অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, ‘যদি এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়, যা যুদ্ধের পর দীর্ঘমেয়াদি শান্তির দিকে নিয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেনে বিদেশি সেনার উপস্থিতির কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত রাশিয়া পুরোপুরি মেনে নেবে।
’ কিন্তু ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা পুতিনের এমন বক্তব্যকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

পুতিন দাবি করেন, তিনি মস্কোতে ইউক্রেনের সঙ্গে একটি সম্মেলন আয়োজন করতে প্রস্তুত এবং সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাবকে উপহাস করে বলেছেন, এটি প্রমাণ করে পুতিন সত্যিকার অর্থে শান্তিচুক্তিতে আগ্রহী নন।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা যেকোনো ফরম্যাটে, দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সমর্থন করি।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, রাশিয়া সব ধরনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিচ্ছে।’ পশ্চিমা নেতারা মনে করেন, রাশিয়া সময় নিচ্ছে, যাতে ইউক্রেনের আরো ভূখণ্ড দখল করা যায়, কারণ ৪২ মাসের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এখনো চলছে। কিয়েভ মনে করে, যেকোনো বৃহত্তর শান্তিচুক্তির আগে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরি। তবে রাশিয়া এই ধারণার বিরোধিতা করছে।

গত মাসে আলাস্কায় পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে একসময় শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা উঁকি দিলেও, বর্তমানে যুদ্ধবিরতির তেমন কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না।

পুতিন গতকাল শুক্রবার বলেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যোগাযোগে প্রস্তুত আছেন, তবে তা খুব একটা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না। কেননা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা প্রায় অসম্ভব।’

পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ট্রাম্পের ‘গঠনমূলক প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করলেও ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন।

আলাস্কা বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন জোট ‘কোলেশন অব দ্য উইলিং’ ইউক্রেনকে একটি নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়ার ওপর কাজ করছে। এর আওতায় ইউক্রেনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির পর একটি ‘বিশ্বাসযোগ্যতা বাহিনী’ মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ম্যাখোঁ বলেন, এই বাহিনী কোনোভাবেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নয়, বরং নতুন কোনো বড় আক্রমণ ঠেকাতে মোতায়েন হবে এবং তারা সম্মুখভাগে থাকবে না।

এদিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘খুব ভালো সংলাপ’ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শিগগিরই তার সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে। পুতিনও শুক্রবার জানান, তার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘উন্মুক্ত সংলাপ’ চলছে।

সূত্র : বিবিসি

অপু বিশ্বাসকে ‘পল্টিবাজ’ বললেন পরীমনি!

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা অপু বিশ্বাস। সিনেমাঙ্গনে যেমন তিনি শিরোনামে থাকেন, রাজনীতির মাঠেও পদচারণা করে নাম তুলেছিলেন আলোচনায়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি অনুদানের সিনেমা থেকে শুরু করে সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ঝাঁপ—সবখানেই ছিল অপুর সরব উপস্থিতি। শেখ হাসিনার চরিত্রে ‘হাসু’ নামে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধও হয়েছিলেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই চরিত্র আর করতে চান না অপু। এরপর তিনি দাবি করছেন, রাজনীতি তার জীবনে একেবারেই নেই।

কিন্তু এই চিত্রনায়িকাকে এবার দেখা গেল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চে! কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিএনপির ওই অনুষ্ঠানের যোগদানের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অপুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল চর্চা। আর এ চর্চা আরও একটু এগিয়ে দিলেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এ নিয়ে একটা পোস্ট দেন পরীমনি। সেখানে তিনি অপু বিশ্বাসের রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম পালনের বিষয়টি টেনে এনে তাকে কটাক্ষ করেছেন। যদিও পোস্টে কারও নাম উল্লেখ করেননি পরীমনি। তবে নেটিজেনদের বুঝতে বাকি নেই যে, পরীমনি পোস্টটি অপু বিশ্বাসকে ইঙ্গিত করেই দিয়েছেন।
কারণ সাম্প্রতিক সময়ে একমাত্র অপু বিশ্বাসকেই দেখা গেছে বিএনপির মঞ্চে, যে একসময় আওয়ামী লীগের হয়েও সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে বিপরীত ধর্মে বিয়ে করেও আলোচিত এই নায়িকা। তাই পরীর পোস্ট যে অপুকে ঘিরেই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

নিজের পোস্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘আগে ছিল ৬ মাস হিন্দু, ৬ মাস মুসলিম। এখন ৬ মাস আওয়ামী লীগ ৬ মাস বিএনপি।
পল্টিবাজ, সুবিধাবাদী কারে বলে দিদি কিন্তু দেখিয়ে দিলেন। বাপরে বাপ কী জিনিস এটা।’

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর চিত্রনায়ক নিরব হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়ার খোকসায় আয়োজিত বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে শোডাউন, ভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন অপু বিশ্বাস। সেখানে তিনি বক্তব্যও দেন। এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কারণ, অপু বিশ্বাস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দুইবার দলটির মনোনয়নও চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। ফলে তার বিএনপির অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে বড়োসড়ো বিতর্ক শুরু হয়েছে নানা মহলে।

পাকিস্তান ফাইনালে উঠলেও খুশি নন রমিজ রাজা

ত্রিদেশীয় সিরিজে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩১ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। তবে এ জয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। ম্যাচ শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বিশ্লেষণে তিনি দলের টপ অর্ডার ব্যাটিং ব্যর্থতা ও আরব আমিরাতের দুর্বল ফিল্ডিংয়ের দিক তুলে ধরেন।

রমিজ বলেন, ‘পাকিস্তান ম্যাচ জিতেছে ঠিকই, তবে এতে আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
যদি নওয়াজ ও ফখরের ক্যাচ ধরা হতো, আমাদের রান হয়তো ১৩০-এর আশপাশে থেমে যেত। তখন আমিরাত ম্যাচে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারত।’

রমিজ মনে করেন, আমিরাতের ফিল্ডিং ব্যর্থতা পাকিস্তানের জন্য বড় সুবিধা এনে দেয়। তিনি বলেন, ‘মোটের ওপর তাদের ফিল্ডিং ও ডেথ বোলিং ছিল খুবই দুর্বল।
এর কারণেই পাকিস্তান ১৭০ রান তুলতে পেরেছে, যা আমিরাতের মতো দলের জন্য অনেক বেশি।’

তবে পাকিস্তানের বোলিংয়ের প্রশংসা করে রমিজ বলেন, ‘পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ অসাধারণ। আমিরাতের বিপক্ষে দুই দলের পার্থক্য খুব পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। এই জয় পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ ফাইনালে যদি আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়, তবে সেটিই হবে আসল পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি।

আবরার আহমেদের বোলিংয়ের প্রশংসা করে রমিজ বলেন, ‘আবরার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছে। সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয় হলো, হঠাৎ সুযোগ পেয়ে কঠিন মুহূর্তেও সে দারুণভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।’

রমিজ পাকিস্তানের দল নির্বাচনের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ব্যাটিং লাইনআপ বারবার ব্যর্থতার পরও একই দল বিদ্যমান রেখেছে, কিন্তু বোলিং—বিশেষ করে স্পিন বিভাগে—বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। যেমন, আমিরাতের মতো দলের বিপক্ষে সহজেই দুজন মিস্ট্রি স্পিনার খেলানো যেত। কিন্তু একজন খেলেছে, অন্যজন বিশ্রামে ছিল।

এশিয়া কাপের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ টেনে রমিজ সতর্ক করে বলেন, ‘এশিয়া কাপ সামনে, ভুলের সুযোগ খুবই কম থাকবে। টপ অর্ডারকে স্পিন ও পেস—দুটো ফ্রন্টেই টেকনিক্যালি ও মানসিকভাবে উন্নতি করতে হবে। নইলে বড় দলের বিপক্ষে সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান।’

মূল্যবান সব উপহার ফিরিয়ে দিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, লোভ হলেও বিভিন্ন পক্ষ থেকে পাওয়া মূল্যবান উপহার তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে পাওয়া একটি আইপ্যাড ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর শ্রীলঙ্কায় উপহার হিসেবে পাওয়া দামি একটি ঘড়ি রাষ্ট্রীয় তোষাখানায় জমা দিয়েছেন।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত এ বিষয়টি তুলে ধরেন উপদেষ্টা।

পোস্টে তিনি লেখেন, কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কায় এক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে গেলে সেখানকার বিদ্যুৎমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমাকে একটি উপহার প্রদান করা হয়। হোটেলে ফিরে গিফট বক্স খুলে দেখি একটি দামি ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি। ঘড়িটি আমি হাতে পরি, পছন্দ হয়, লোভ হয়। দেশে ফিরে এসে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি লিখে ঘড়িটি তোষাখানায় জমা দেওয়ার জন্য পাঠাই।

তিনি আরো লেখেন, গত পরশু ভারতীয় এক বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধান (আদানি নয়) আমার সঙ্গে দেখা করেন, আমাদের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে। দীর্ঘদিনের পাওনা বকেয়া পরিশোধ করায় কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন। ফেরার সময় বলেন, সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। আমি তাকে বলি উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে একটা নির্ধারিত মূল্যসীমা আছে।
উপহারটি খুলে দেখি একটি আইপ্যাড। বাসার আইপ্যাডটি পুরনো হয়ে গেছে, তাই লোভ হয়। আইপ্যাডটি তাকে ফিরিয়ে দিই। পাশে সোফায় বসে আমার কাণ্ড দেখে অন্য একজন উপদেষ্টা মিটিমিটি হাসছেন।

তবে কোনো উপহারই গ্রহণ করি না এমন নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা লেখেন, বিদেশি মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতরা দেখা করার সময় সুভেনির, বই নিয়ে আসেন।
অবাণিজ্যিক পণ্য বা মূল্যসীমার মধ্যে কোনো খাবার, যেমন- চকলেট, সেগুলো গ্রহণ করি। বিনিময়ে তাদের নিজের লেখা বই উপহার দিই। ভাগ্যিস কয়েকটা বই লিখেছিলাম!

ফাওজুল কবির আরো লেখেন, আমার মনে হয়েছে, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে ওঠাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কাজ। এটা করতে পারলেই অন্য সব কাজ সহজ হয়ে যায়। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে জনগণ নির্লোভ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন।

মিশরের পিরামিডের সামনে রান্না করলেন কেকা ফেরদৌসি

কেকা ফেরদৌসির রেসিপি মানেই আলোচনা। নানা ধরনের নিত্য নতুন রেসিপি তাকে আলোচনায় রাখে। দেশ বিদেশের নানা ধরনের রান্নার পদ নিয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। এবার তিনি মিশরের নানা ধরনের রেসিপি রান্না করলেন।
তবে রান্না ঘরে বসে নয় কিন্তু। মিশরের রেসিপি একেবারে মিশরের পিরামিডের সামনেই রান্না করলেন।

এই রান্নার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে তিনি পোস্ট করেছেন। নেটিজেনরা বেশ উপভোগ করছেন কেকা ফেরদৌসির নতুন এই রেসিপি।

কেকা ফেরদৌসি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন তিনি জীবনে প্রথমবারের রান্না করেন। ১৯৮০ সালে বিয়ের পর স্বামীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন।[৮] সেখানে, হরেক পদের রন্ধনশিল্প সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং রন্ধনশিল্পে আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৮৪ সালে দেশে ফিরে আসার পর রন্ধনশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে শাইখ সিরাজের মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে মাশরুমের তৈরি একটি রেসিপি উপস্থাপন করেন।[৭] সেই থেকে টেলিভিশন জগতে যাত্রা শুরু তার।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেলবেন না মেসি

আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে খেলবেন না। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৩-০ জয়ের পর মেসি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ, তবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য বিশ্রাম নেওয়া হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে জয়ের পর মেসি বলেন, ‘আমি লিও (স্কালোনি)-র সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বা বলা যাক তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আমার বিশ্রাম নেওয়া উচিত। আমি একটি চোট থেকে ফিরেছি এবং যদিও এখন আমি ভালো আছি, আমরা চাই না যে আমি আবার জার্নি করি এবং আরেকটি ম্যাচ খেলি।

মেসি আজকের ম্যাচে দুই গোল করেন, অন্য একটি গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। স্টেডিয়ো মনুমেন্টালে ভক্তদের উচ্ছ্বাসপূর্ণ বিদায়ের মধ্যে মেসি বলেন, ‘এভাবে এখানে শেষ করতে পারা আমার সব সময়ের স্বপ্ন।’

মেসি দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৩৬ গোলে সর্বকালের সেরা গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ‘বিশেষ প্রশিক্ষণ’ পাবে দেড় লাখ পুলিশনির্বাচন উপলক্ষে ‘বিশেষ প্রশিক্ষণ’ পাবে দেড় লাখ পুলিশ

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে দেড় লাখের বেশি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আজ (শুক্রবার) সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কাজী জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা দেড় লাখ বা তারও বেশি পুলিশ সদস্যকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশিক্ষণ দেব।’

পুলিশ সদর দপ্তরের মানবসম্পদ (এইচআর) উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন আশা করেছেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের ইতিহাসে ‘মাইলফলক’ হয়ে থাকবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআর)-এর নেতৃত্বে তৈরি প্রশিক্ষণ কোর্সটি ‘দারুণ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, তার বিভাগ গত তিন মাসে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়ে নয়টি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করেছে। কোর্সটি নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত করবে।

বাংলাদেশ পুলিশের দেশজুড়ে ১৩০টি ছোট ও চারটি বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।
এসব কেন্দ্রেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

জিয়া উদ্দিন জানান, নির্বাচনী প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তারা দুটি প্রামাণ্যচিত্র, একটি ১৫ মিনিটের অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট এবং একটি ৯ মিনিটের ফিল্মের পাশাপাশি একটি বুকলেটও তৈরি করেছেন।

তিনি আরো বলেন, গত ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার পুলিশ সদর দফতরে মডিউল অনুযায়ী ১৫০ জন মাস্টার ট্রেইনারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দেশের ১৯টি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১,২৯২ জন মাস্টার ট্রেইনার বা ‘ট্রেইনার অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এরাই পরবর্তীতে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য দেড় লাখেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বাস্তবমুখী মহড়া প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সব ট্রেইনারকে। নির্বাচনকালীন সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ডিআইজি জিয়া জানান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে চলতি সপ্তাহের শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে পুলিশ সদর দফতর।