বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় আরো ৬৭ ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরায়েলের হামলায় আরো অন্তত ৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল। শনিবার ভোর এসব হামলার ঘটনা ঘটে। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।

খবরে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থাৎ ৪৫ জন গাজা সিটিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনারা শহরটি দখল এবং এর সব বাসিন্দাকে জোরপূর্বক দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়ার অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি হামলায় শনিবার গাজা সিটির একটি উঁচু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এ নিয়ে দুই দিনে দ্বিতীয়বার এমন হামলা হয়। এর আগে পরিকল্পিত অভিযানে শহরটি দখলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেনারা জনগণকে দক্ষিণে ‘মানবিক অঞ্চলে’ পালিয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে।

ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্রে নতুন আক্রমণের সতর্কতা দিয়ে আসছে। তবে এখনো সময়সূচি জানায়নি। তারা এরই মধ্যে শহরের উপকণ্ঠে অভিযান ও বিমান হামলা জোরদার করেছে।

অন্যদিকে এই পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এটি মানবিক পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলবে।
সেনাবাহিনী শনিবার জানায়, তারা গাজা সিটির একটি উঁচু ভবনে হামলা চালিয়েছে।

দাবি করা হয়, ‘হামাস সন্ত্রাসীরা সেখানে গোয়েন্দা সরঞ্জাম বসিয়েছিল এবং ইসরায়েলি সেনাদের পর্যবেক্ষণের জন্য নজরদারি পোস্ট স্থাপন করেছিল। নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

সেনারা জানিয়েছে, আসন্ন দিনগুলোতে তারা হামাসের ব্যবহৃত বলে মনে হওয়া স্থাপনাগুলো, বিশেষ করে উঁচু ভবনগুলোকে লক্ষ্য করবে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের ৯ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তাররা রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় রহিম মেটাল মসজিদের সামনে জুমার পর অনুষ্ঠিত ঝটিকা মিছিলে অংশ নেন।
পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি।

দীপিকাকে সরিয়ে ফের আলিয়া, অনুরাগীদের মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্ব!

দীপিকা পাড়ুকোনের তুলনায় ফিল্মি ক্যারিয়ারের বয়স কম হলেও বিগত কয়েক বছরে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জমি ‘পোক্ত’ করে নিয়েছেন আলিয়া ভাট। শুধু তা-ই নয়, বড় বড় বলিউড পরিচালক-প্রযোজকদের মেগাবাজেট সিনেমা থেকে ‘পদ্মাবতী’কে সরিয়ে হিট ছবি উপহার দিয়েছেন ‘গাঙ্গুবাই’। তবে এবার বিষয়টি আর শুধু সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গড়িয়েছে বিজ্ঞাপনী দুনিয়াতেও।
যার জেরে দুই নায়িকার অনুরাগীদের মধ্যেও বেজেছে তুমুল দ্বন্দ্ব!

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনকে ছাঁটাই করে জনপ্রিয় এক আন্তর্জাতিক পোশাক সংস্থা তাদের ‘বিজ্ঞাপনী দূত’ হিসেবে আলিয়া ভাটের নাম ঘোষণা করেছে। সেই বিজ্ঞাপনী ভিডিও শেয়ার করেছেন আলিয়াও। আর সেটা দেখেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন দীপিকার অনুরাগীরা।

যার জেরে কাপুর বাড়ির বউমাকে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি তারা।
নেটপাড়ার একাংশ যদিও তাতে সায় দিয়ে বলছেন, ‘এটা ভীষণই হতাশাজনক! এযাবৎকাল দীপিকাকে দেখতেই অভ্যস্ত ছিলাম এই ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে। ওকে মানাতও দারুণ। সেখানে আলিয়াকে দেখে হতাশ হলাম!’

আবার কারো মন্তব্য, ‘দীপিকার থেকে সব কিছু কেড়ে নেওয়া আপনার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ কারো কটাক্ষ, ‘আলিয়াকে কেন নেওয়া হলো? আমরা দীপিকাকে ফেরত চাই।
’ একাংশ আবার আলিয়া ভাটকে শুভেচ্ছা জানিয়েও কটূক্তি করলেন, ‘ডেনিম লুকে দীপিকাকে দেখতে যেমন লাগে, আপনি তার ধারে কাছেও নেই!’

এখানেই শেষ নয়, জনৈক অনুরাগী তো আবার বলে বসেছেন, ‘আলিয়া সব জায়গায় ঢুকতে চায়, দীপিকার প্রতি অস্বাভাবিক আসক্ত। আমরা ওর একই মুখ বারবার দেখে ক্লান্ত।’ কেউ লিখেছেন, ‘দীপিকা পাড়ুকোনের প্রতি আলিয়া ভাটের এত হিংসা কেন?’

সব মিলিয়ে ওই জনপ্রিয় পোশাক সংস্থা আলিয়াকে নতুন গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ঘোষণা করতেই শুরু হয় বিতর্ক। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দীপিকা বা আলিয়ার পক্ষ থেকে কোনো পাওয়া যায়নি। তবে আপাতত দুই নায়িকার ভক্তমহলে যে উত্তেজনা তুঙ্গে, তা বলাই বাহুল্য।

রাজনৈতিক সমর্থন না থাকলে পাথর তোলা বন্ধ করা সম্ভব নয় : রিজওয়ানা

অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সিলেটের পাথরমহাল এলাকাগুলো থেকে আরও আগে থেকে পাথর উত্তোলন করছিল এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বর্তমানে ৫ আগস্ট-এর কাঁধে বন্দুক রেখে বলা হচ্ছে ৫ আগস্টের পরে নাকি এসব হয়েছে। আসলে নির্বিঘ্নে আগে থেকেই সিলেটের পাথরমহাল এলাকাগুলো থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল।

তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সমর্থন যদি না থাকে তাহলে প্রশাসন সাহায্য করবে না।
আর প্রশাসন সাহায্য না করলে পাথর তোলা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজনৈতিক সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকার জলাধার পুনরুদ্ধার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা শীর্ষক নগর সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সিলেটের ছয়টি জায়গা থেকে নির্বিঘ্নে পাথর উত্তোলন হচ্ছিল। আমি এ বিষয়ে প্রথম মামলা করি ২০০৯ সালে।
এর আগেই অন্তত দুই বছর ধরে উত্তোলন চলছিল। পরে দীর্ঘ মামলার লড়াই ও অ্যাডভোকেসির পর ২০২০ সালে জাফলং-এ পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়। সরকার তখন উদ্যোগ নেওয়ায় বাকি ছয় জায়গায়ও কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু লুটপাট আবার শুরু করার জন্য পাল্টা প্রচেষ্টা চলতে থাকে।

তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে, কয়েক দিনে ৩০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। অথচ ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সরকার রাজস্ব পেয়েছে মাত্র ৪০ কোটি টাকা। তাহলে প্রকৃত মূল্য ও রাজস্বের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্য নেই। লুটেরাদের আসলে আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি।

রিজওয়ানা হাসান জানান, দেশের মোট পাথরের চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, বাকিটা আমদানি করা হয়।
তাহলে কেন এই ছয়টি জায়গা সংরক্ষণ করা গেল না?।

ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যানের অভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে পর্যটন উন্নয়ন করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে জাফলংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখনো সংরক্ষিত হয়নি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সর্বদলীয় ঐক্যের কথা আমিই বলেছিলাম। এজন্যই রাজনৈতিক ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ । রাজনৈতিক সমর্থন যদি না থাকে তাহলে প্রশাসন সাহায্য করবে না। প্রশাসন সাহায্য না করলে পাথর তোলা বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাথর তোলা অবৈধভাবে বন্ধ করতে কাজ করবে প্রশাসন। কিন্তু জলাশয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ধারের ক্ষেত্রে সেটা বারবারই প্রশাসনের অনুপস্থিতির আমরা দেখেছি। জনগণ যখন এটার বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করলো তখনই সিলেটের পাথর তোলা আমরা বন্ধ করতে সফল হয়েছি।

রিজওয়ানা হসান আরও বলেন, পাথর কিন্তু আমার মন্ত্রণালয়ের বিষয় না। তারপরও আমি সিলেটের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঠিক যেভাবে আমরা সাদা পাথর নিয়ে কথা বলি ঠিক একইভাবে বাকখালি নদীর দূষণ নিয়ে আমাদের কথা বলতে হবে। কারণ, দশতলা ভবন ভাঙতে বাধা দেওয়া জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হলো। বাকখালী নদীতে উচ্ছেদের পরিকল্পনা ছিল পাঁচ দিনের। প্রচণ্ড বিরোধিতা বাধার মুখে ৩ দিন করা গেছে। দুই দিন উচ্ছেদ করা যাইনি। বাকখালী নদীকে অবশ্যই দখলমুক্ত করব। সেজন্য আমরা রাজনৈতিক সমর্থন যেন পাই।

চলনবিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে চলনবিল সুরক্ষার জন্য আদেশ জারি করে এর সীমানা নির্ধারণ করা হবে, যাতে ভরাট বন্ধ রাখা যায়। বর্তমানে আড়িয়াল বিল, চলনবিল এবং বেলার বিল নিয়ে কাজ চলছে।

ঢাকার জলাশয় নিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ঢাকার জেলা প্রশাসককে ৪০টি পুকুর উদ্ধারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা কিছুটা কম হয়েছে, ফলে চরম জলাবদ্ধতার শিকার হতে হয়নি ঢাকাকে। তবে খালগুলো ড্রেজিং করার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়েে উপদেষ্টা বলেন, আমিনবাজার বর্জ্য প্রকল্পকে দৃষ্টান্ত ধরে বিদেশি কোনো সংস্থার কাছে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়ে উন্নত কোনো মডেল বাস্তবায়ন করা যায় কিনা, তা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।

হাওর প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাওর সুরক্ষা আদেশ জারি করা হয়েছে। হাওরের ভেতরে কীভাবে হাউস বোটগুলো পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আপাতত হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর সুরক্ষায় কাজ চলছে।

নদী প্রসঙ্গে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, দেশের নদীর তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে সুন্দরবন ও পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এজন্য নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে ঝুঁকিপূর্ণ নদীর তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর সীমান্তবর্তী নদীগুলোর তালিকা প্রণয়নের কাজও করা হবে।

নভেম্বরের মধ্যেই রোহিঙ্গাদের তহবিল ফুরিয়ে যাবে : কার্ল স্কাউ

নভেম্বরের মধ্যেই রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল ফুরিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) উপপরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কার্ল স্কাউ। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে বিশ্বব্যাপী সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তাদের কাজ করার সুযোগ নেই, স্থানীয় সমাজে মেশার সুযোগ নেই, আবার নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রাখাইনেও ফিরে যাওয়াও উপায় নেই।
ফলে তারা আমাদের সহায়তার ওপর শতভাগ নির্ভরশীল।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্ল স্কাউ এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, যখন সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা কিংবা কমিয়ে আনা হয়, তখন বাধ্য হয়ে মানুষ নেতিবাচক উপায়ে বেঁচে থাকার পথ খোঁজে।’

বাংলাদেশের মানুষের উদারতা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার প্রশংসা করেন স্কাউ বলেন, ‘আমরা সর্বদা আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়গুলোতে বিনিয়োগ করি।
রোহিঙ্গাদের জন্য যে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, তা কক্সবাজারসহ বাংলাদেশ থেকেই সংগ্রহ করা হয় যাতে এ দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হয়।’

‘কিন্তু আমাদের তহবিল ফুরিয়ে আসছে। নভেম্বরের পর এই সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো তহবিল আমাদের হাতে নেই।’

এ কারণেই বাংলাদেশের সরকার, অংশীদার, দাতা ও ডব্লিউএফপির মাঠকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশ সফর করছেন বলে জানান সংস্থাটির উপপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘মাসিক ভিত্তিতে আমরা ক্যাম্পের সব মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহ করি। এটি বন্ধ হলে মানুষ যে শুধু ক্ষুধার কারণেই ভুগবে তা নয়, বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাবও পড়বে। জীবীকার সন্ধানে অনেকে ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবেন।’

তহবিল সংকটের মতো গুরুতর সংকট মোকাবেলায় ডব্লিউএফপি এখন কী ভাবছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে স্কাউ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংকট মোকাবেলায় অর্থের জোগানে নানা পথ নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা যায় কিনা, সে বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

‘রোহিঙ্গাদের জন্য এ পর্যন্ত পাওয়া মোট সহায়তার প্রায় ৬০ শতাংশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন অন্য দেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আসিয়ানভুক্ত দেশ, সৌদি আরব, কাতার, আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওআইসির সদস্য দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। এই পরিস্থিতির জন্য রোহিঙ্গারা দায়ী নয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার দাবি রাখে তারা।’

রেকর্ড নয়, ফ্রান্সের হয়ে ম্যাচ ও শিরোপা জিততে চান এমবাপ্পে

রেকর্ড গড়তে সব খেলোয়াড়েরই ভালো লাগে। ব্যতিক্রম নয় কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষেত্রে। আর কীর্তিটা যদি কিংবদন্তিদের তালিকায় হয় তাহলে আনন্দটা ‍দ্বিগুণ হয়। আনন্দ হচ্ছে ফ্রান্সের অধিনায়কেরও।

তবে রেকর্ড গড়ায় মনোযোগী নন, ম্যাচ ও শিরোপা জিততে চান এমবাপ্পে। গতকাল ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে ইউক্রেনের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের পর এমনটিই জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকার। গতকাল জয়ের দ্বিতীয় গোলটি করেছেন তিনি। অপর গোলটি করেছেন মাইকেল ওলিসে।

৮২ মিনিটের গোলে থিয়েরে অঁরির কীর্তি স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দুজনে এখন যৌথভাবে দুইয়ে। গোলসংখ্যা ৫১টি। তবে ৫৭ গোলে শীর্ষে আছেন অলিভিয়ের জিরু।

দীর্ঘ ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে ৫১ গোল করেছেন অঁরি। ফ্রান্স কিংবদন্তির সেই গোলের সংখ্যা মাত্র ৮ বছরেই স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। এত দ্রুত পূর্বসূরির রেকর্ড স্পর্শ করতে পারায় তাই এটাকে পাগলাটে বলে সম্বোধন করেছেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। তিনি বলেছেন, ‘এত দ্রুত কীর্তি স্পর্শ করা অনেকটা পাগলাটে। কিন্তু এটা আমি পছন্দ করি।
সামনে এগিয়ে যেতে চাই এবং সর্বোপরি দলের হয়ে ম্যাচ এবং শিরোপা জিততে চাই।’

কিংবদন্তি অঁরিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘ টিটি, তোমাকে কুর্নিশ। এখন তাকে ছাড়িয়ে যেতে চাই। হেনরির মতো তারকার কীর্তি স্পর্শ করা সম্মানের। সবাই জানে, ফ্রান্সের সমর্থকদের কাছে তিনি কী। স্ট্রাইকারদের কাছে আরো বিশেষ কিছু। সে এমন একজন যে আমাদের পথ তৈরি করে দিয়েছে। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’

আর জিরুর রেকর্ড ভাঙা নিয়ে ভাবছেন না এমবাপ্পে। তিনি বলেছেন, ‘রেকর্ডটা খুব কাছে এসেছে। তবে আমি যা ভাবছি সেটা তা নয়। আমি মনে করি এটা ভাঙতে পারব। তবে এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আছে বলে মনে করি।’

নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী

এক সপ্তাহব্যাপী রাজনৈতিক শূন্যতার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার পার্লামেন্টে রক্ষণশীল ব্যবসায়ী আনুতিন চর্নভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার অপসারণের পর সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসান হলো।

নির্মাণ শিল্পের মালিক এই ধনকুবের একসময় প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা রাজবংশের নেতা থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘ফিউ থাই’-কে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়েছিলেন। নতুন নির্বাচনের জন্য চার মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি বহু আসনের অধিকারী পিপলস পার্টির সমর্থন পান।

শুক্রবার নিজের দলের কার্যালয়ের বাইরে আনুতিন বলেন, ‘আমি দেওয়া প্রতিটি চুক্তি মেনে চলব।’ তিনি আরো যোগ করেন, “আমার স্বল্প সময়ের নেতৃত্বে আমাদের দেশে ‘হাসি-আনন্দের দেশ’-এর চেতনা ফিরিয়ে আনতে হবে।”

সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রবণতার জন্য পরিচিত আনুতিন বৃহস্পতিবারের ভোটের ঠিক আগে থাকসিনের হঠাৎ দেশত্যাগ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি দুবাই গেছেন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে ও চিকিৎসার জন্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘কোনো পক্ষপাত, নিপীড়ন বা প্রতিশোধ নেওয়া হবে না।

২০২৩ সালের আগস্টে নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর থেকে থাকসিন হাসপাতালে রয়েছেন। তার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, রায় তার কারাদণ্ডের পথ খুলে দিতে পারে। উল্লেখ্য, আনুতিন এর আগে উপ-প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগ কার্যকর হওয়ার জন্য এখনো থাইল্যান্ডের রাজার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন।

সূত্র : এএফপি

অনেকে ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়ে এখন তা পেছানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত : আসিফ মাহমুদ

অনেকে ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়ে তা পেছানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, যারা ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল, তারা অনেকে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এটা স্পষ্ট যে তাদের ইচ্ছা ছিল আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে নির্বাচন করানো।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) আয়োজিত নবনিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল, তারা অনেকে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এটা স্পষ্ট যে তাদের ইচ্ছা ছিল আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে নির্বাচন করানো।
কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে ফ্যাসিবাদীদের অংশগ্রহণ থাকছে না। এ জন্য তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।

মব আর রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, গণ অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে মব বলা যাবে না—আমি এর আগেও বলেছি। তারা একটি নিবন্ধিত দল।
তাদের কর্মসূচিকে যদি মব বলা হয়, তাহলে বিএনপি বা এনসিপির কর্মসূচিকেও অনেকে মব বলা শুরু করবে। আমাদের রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি মব হতে পারে না। আমাদের পার্থক্যটা বুঝতে হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, লাশ পোড়ানোর মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনাকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না।
কার দায় বা অবহেলার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রথম হামলাটা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে হয়েছে। ১৭ বছর তারা ফ্যাসিবাদকে সহযোগিতা করে এসেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে এ ধরনের রাজনৈতিক ধৃষ্টতা দেখানো এক ধরনের বোকামি। কার সাহস পেয়ে জাতীয় পার্টি এ ধরনের কার্যক্রম করেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

ডেঙ্গুতে আরো ২ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩২ জনে। একই সময়ে আরো ৩৬৪ জন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে জানানো হয়, মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে একজন পুরুষ (৫২) ও একজন নারী (৪২)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে ১৩১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ৭৬ জন, ঢাকা বিভাগে ৫০ জন, বরিশাল বিভাগে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩৮ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন ভর্তি হয়েছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়াদের মধ্যে ৭২ জন পুরুষ ও ৬০ জন নারী।

এ ছাড়া এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৩ হাজার ৮৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩২ হাজার ১৫৩ জন।

ইউএস ওপেন ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএস ওপেন পুরুষ এককের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন। তিনি টুর্নামেন্টের একজন কর্পোরেট ক্লায়েন্টের অতিথি হিসেবে ম্যাচটি সেই ক্লায়েন্টের স্যুইট থেকে উপভোগ করবেন বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএস টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (ইউএসটিএ)।

তবে ট্রাম্প কোন ক্লায়েন্টের অতিথি হিসেবে যাচ্ছেন, তা প্রকাশ করেনি ইউএসটিএ। ২০১৫ সালের পর এটাই হবে ইউএস ওপেনে ট্রাম্পের প্রথম উপস্থিতি।
নিউইয়র্কে বসবাসের সময় তিনি নিয়মিত এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে যেতেন। তবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করার পর থেকে আর সেখানে দেখা যায়নি তাকে। বর্তমানে তিনি মূলত ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো এস্টেটে থাকেন।

ট্রাম্প এর আগে বেশ কয়েকটি বড় ক্রীড়া আসরে উপস্থিত থেকে আলোচনায় এসেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে নিউ অরলিন্সের সুপার বোল, ফ্লোরিডার ডেটোনা ৫০০, মায়ামি ও নিউ জার্সির ইউএফসি লড়াই, ফিলাডেলফিয়ার এনসিএএ রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ইস্ট রাদারফোর্ডে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল।

এটি কোনো বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইউএস ওপেন ফাইনালের উপস্থিতির বিরল ঘটনা। সর্বশেষ ২০০০ সালে বিল ক্লিনটন ইউএস ওপেন ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল অবশ্য ২০২৩ সালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে অংশ নিয়েছিলেন।