বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

এনসিপি করে বেইনসাফি কাজ করার কোনো সুযোগ নেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এনসিপি হলো ইনসাফের পক্ষে। আপনি যদি ইনসাফের পক্ষে থাকেন, তাহলে ধরে নেব আপনি এনসিপির পক্ষের লোক। এনসিপি করে বেইনসাফি কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। এনসিপির নেতা হয়ে বেইনসাফি কাজ করে প্রোগ্রামে হাজার হাজার লোক নিয়ে আসেন, সেটা আমাদের দরকার নেই।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়কামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামে এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কোনো হোন্ডা-গুন্ডার রাজনীতি আর চলবে না। ১০টা হুন্ডা, ২০টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা, এই দিন আমরা ৫ আগস্টে শেষ করে এসেছি। বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার পেছনে যত গুন্ডা, সে তত বড় নেতা। কিন্তু নেতৃত্ব ব্যাপারটা ভিন্ন। হোন্ডা-গুন্ডা দিয়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সময় শেষ হয়ে গেছে। নেতৃত্ব তৈরি হবে নেতার গুণাবলী থেকে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিটা গ্রাম, মহল্লা ও ইউনিয়নভিত্তিক সবাইকে এক হয়ে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। অবিচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এনসিপি সর্বদা সত্যের পক্ষে আছে। আপনারা সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে থাকলে আমি হাসনাত আবদুল্লাহ সর্বদা আপনাদের পাশে থাকব।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অপরাধ করতে শক্তির প্রয়োজন। রাজনৈতিক ব্যাকআপ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মীরা অপরাধী হয়ে ওঠে। গ্রাম পর্যায়ে মানুষজন যদি অন্যায়ের বিপক্ষে সংঘবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়, তখন অপরাধীরা আর সাহস পাবে না।

এনসিপির এই নেতা বলেন, যারা অপরাধ দমন করবে তাদেরই অপরাধীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক। অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে থানায় যাবেন, দেখবেন সেই অপরাধী পুলিশের সঙ্গে চা খায়। আপনি থানায় ঢুকতে পারবেন না। পুলিশেরও দোষ নেই, স্থানীয় এমপির কথা না শুনলে পুলিশকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ট্রান্সফারের ভয় দেখায়।

এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. আরমান হোসাইন, এনসিপির দেবিদ্বার উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী জামাল মোহাম্মদ কবিরসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুতিনকে ‘তার চাওয়া পূরণ’ করে দিয়েছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

সম্প্রতি আলাস্কায় অনুষ্ঠিত ডোনাল্ড ট্রাম্প-ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠককে রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য ‘অর্জন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তিনি বলেছেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক আসলে পুতিনের চাওয়া পূরণ করেছে। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, গত মাসে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক পুতিনকে ‘তার চাওয়া পূরণ’ করে দিয়েছে।

রোববার সম্প্রচারিত এবিসি টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, “আমি মনে করি, পুতিন যা চাইছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে সেটাই দিয়েছেন। পুতিনের প্রবল ইচ্ছা ছিল ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ আগস্টের বৈঠকে ইউক্রেনকে বাদ দেওয়ায় তিনি হতাশ। তার ভাষায়, “পুতিন আমার সঙ্গে দেখা করতে চায় না, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে সবার সামনে ছবি দেখাতে খুব আগ্রহী। আমার মনে হয়, এটা দুঃখজনক যে, ওই বৈঠকে ইউক্রেন ছিল না।”

এদিকে জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপকে ‘সঠিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং মস্কোর ওপর আরও চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রুশ তেল কেনার মাধ্যমে মস্কোকে সমর্থন করার অভিযোগ তুলে ভারতকে অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় এনেছে। এই পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জেলেনস্কি কিছু ইউরোপীয় দেশেরও সমালোচনা করেছেন যারা এখনো রাশিয়ার জ্বালানি কিনছে। তিনি বলেন, “এটা ন্যায়সঙ্গত নয়। আমাদের রাশিয়া থেকে যেকোনো ধরনের জ্বালানি আমদানি বন্ধ করতে হবে।”

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ চলাকালীন তিনি রাশিয়া যেতে রাজি নন। বরং তিনি প্রস্তাব দেন, পুতিন যদি চান তবে কিয়েভে আসতে পারেন। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট তার বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে থাকায় এ সম্ভাবনা কার্যত নেই।

জেলেনস্কির ভাষায়, “আমার দেশ প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলার মুখে থাকাকালে আমি মস্কো যেতে পারি না। পুতিনও এ বিষয়টি জানেন এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বৈঠক এড়িয়ে যান।”

তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয়— যেকোনো ধরনের বৈঠকের জন্য তিনি প্রস্তুত, তবে রাশিয়ায় নয়। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, পুতিনকে বিশ্বাস করা যাবে না, কারণ তিনি “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খেলা করছেন।”

গাজায় অনাহারে আরো ৫ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

গাজায় অনাহারে আরো পাঁচজন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪ হাজার ৩৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আনাদোলুর।

রবিবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ৮৭টি মরদেহ আনা হয়েছে এবং ৪০৯ জন আহত হয়েছে।
এতে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৬ জন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় আটকে রয়েছেন, কিন্তু উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ১৩২ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২৭ মে থেকে সহায়তা নেওয়ার সময় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২হাজার ৪১৬ জনে এবং আহত হয়েছেন ১৭ হাজার ৭০৯ জনেরও বেশি।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও পুষ্টিহীনতার কারণে আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। এতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত দুর্ভিক্ষ–সংক্রান্ত মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৭ জনে, যাদের মধ্যে ১৩৮ জন শিশু।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল সম্পূর্ণভাবে গাজার সব সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে সেখানে বসবাসরত ২৪ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শাবানা মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শাবানা মাহমুদই প্রথম মুসলিম নারী, যিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।

তিনি অভিবাসন, পুলিশিং ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিকে রক্ষা করেছেন।
আজ আমরা একটি নতুন অধ্যায় শুরু করছি। আমরা নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে স্বাগত জানাই।’

নিজের এক্স পোস্টে শাবানা লিখেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য সম্মানের। সরকারের প্রথম দায়িত্ব হলো তার নাগরিকদের নিরাপত্তা।
দায়িত্ব পালনকালে প্রতিদিন আমি সেই উদ্দেশ্যেই নিবেদিত থাকব।’

১৯৮০ সালে বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন শাবানা মাহমুদ। শৈশবের একটি অংশ কাটান সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিংকন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন এবং ব্যারিস্টার হিসেবে অনুশীলন করেন।

২০১০ সাল থেকে তিনি বার্মিংহাম লেডিউড আসনের সংসদ সদস্য। লেবার পার্টির সক্রিয় নেতা হিসেবে একসময় ছায়া মন্ত্রিসভা এবং পরে সরকার উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিচারমন্ত্রী ও লর্ড চ্যান্সেলর থাকাকালে তিনি কারাগারের ভিড় কমাতে ‘আগাম মুক্তি কর্মসূচি’ চালু করেন এবং সাজা সুরক্ষা ও মানবাধিকার আইন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন।

সূত্র : গালফ নিউজ।

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ বাড়িয়েছে ইসরায়েল, বহু ভবন ধ্বংসসহ নিহত ৬৫

ইসরায়েল গাজা সিটিতে ধ্বংসযজ্ঞ আরো জোরদার করেছে। নতুন করে আরেকটি বহুতল ভবন বোমা হামলায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। রবিবার আল-রুয়া টাওয়ারে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এদিন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৯ জনই উত্তর গাজা থেকে।
খবর আল জাজিরার।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র দখলের অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা আল-রুয়া টাওয়ারে হামলার আগে সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্কবার্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে ভবনের ভেতরে থাকা পরিবার ও আশ্রয়হীন মানুষেরা চারপাশের অস্থায়ী তাঁবু থেকে পালাতে বাধ্য হয়।

ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ শাওয়া আল জাজিরাকে বলেন, অবস্থা ভয়াবহ, চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শত শত পরিবার তাদের আশ্রয় হারিয়েছে। ইসরায়েল এসব বিস্ফোরণের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, কিন্তু সবাই জানে দক্ষিণে বা ঘোষিত তথাকথিত মানবিক অঞ্চলে কোনো নিরাপদ স্থান নেই।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সেনারা সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং নিন্দনীয় সন্ত্রাসী বহুতল ভবন ধ্বংস করছে।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের অভিযোগ, ইসরায়েল বারবার গাজায় বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করছে।

আল-রুয়া ভবনটি পাঁচতলা বিশিষ্ট ছিল, যেখানে ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, একাধিক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, একটি ক্লিনিক ও একটি জিম ছিল। এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির কেন্দ্রে অবস্থিত আল জাজিরা ক্লাবেও হামলা চালিয়েছিল, যেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তাঁবু ছিল।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ওয়াশিংটন ডিসি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তাঁরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজধানীর রাস্তায় টহলরত বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিক্ষোভ থেকে ‘ট্রাম্পকে এখনই বিদায় করতে হবে’ বলেও দাবি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

এদিকে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন অন্যান্য শহরেও দমনপীড়নের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিকাগো থেকে অভিবাসীদের বহিষ্কারের হুমকি দেন। সেখানে মূলত ১৯৭৯ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’-এর প্যারোডি করা হয়েছিল।

টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ‘উই আর অল ডিসি’ শীর্ষক এই মিছিলে অংশ নেন অবৈধ অভিবাসী ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থকরা।

তাঁরা ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পোস্টারে বিভিন্ন বার্তা লিখে আনেন। যার কয়েকটিতে লেখা ছিল ‘ট্রাম্পকে এখনই বিদায় করতে হবে’, ‘ডিসিকে মুক্ত করো’, ‘স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলো’।

অ্যালেক্স লফার নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি এসেছি ডিসির দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে। আমরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা করছি।
ফেডারেল পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডকে রাস্তা থেকে সরাতে হবে।’

ট্রাম্প দাবি করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেই গত মাসে তিনি সেনা মোতায়েন করেছেন, যাতে ‘আইন, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া তিনি রাজধানীর মেট্রোপলিটন পুলিশকে সরাসরি ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাসহ (আইসিই) বিভিন্ন ফেডারেল বাহিনীকে শহরের রাস্তায় নামান। সমালোচকদের মতে, এটি ফেডারেল ক্ষমতার অপব্যবহার। কিন্তু বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটনে সহিংস অপরাধ ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের অধীনে থাকে। তবে ডিসি ন্যাশনাল গার্ড সরাসরি প্রেসিডেন্টের অধীনে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, তিনি শিকাগোতেও ন্যাশনাল গার্ড পাঠাবেন। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এই শহরে সামরিকায়নের প্রচেষ্টা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনি সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

নেওয়াজের হ্যাটট্রিক, আফগানিস্তানকে বিধ্বস্ত করে শিরোপা পাকিস্তানের

আরব আমিরাতে খেলা ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তানকে রীতিমত বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তান। শারজাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দলটি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান।

জবাবে পাকিস্তানের মোহাম্মদ নওয়াজের ঘূর্ণি বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আফগানিস্তান।
তার হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেটের ঝড়ে আফগানিস্তানকে ১৫.৫ ওভারে মাত্র ৬৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে সালমান আঘার পাকিস্তান।

বাঁহাতি স্পিনার নওয়াজ হ্যাটট্রিক পেয়েছেন দুই ওভার মিলিয়ে। ষষ্ঠ ওভারের শেষ দুই বলে দারবিশ রাসুলি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ফেরানো নওয়াজ হ্যাটট্রিক উইকেটটি পেয়েছেন অষ্টম ওভারের প্রথম বলে ইব্রাহিম জাদরানকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪১ সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ফাখর জামান। ২৫ রান করেন মোহাম্মদ নওয়াজ, অধিনায়ক সালমান আগা করেন ২৪ রান। বাকিরা দাঁড়াতেই পারেনি।

জবাব দিতে নেমে আফগান ব্যাটাররা একের পর এক উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান।
সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন রশিদ খান।

ডাকসু নির্বাচন কাল : উৎসবের আমেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। কাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে সব কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গতকাল রবিবার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন।
এ সময় ভোটাররাও আগ্রহ সহকারে প্রার্থীদের ইশতেহার ও কথা শুনছিলেন। দিনভর প্রার্থী ও ভোটারদের আলাপচারিতায় মুখরিত ছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিগত সময়ে তাঁরা তেমন কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। তাই আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন তাঁদের জীবনে প্রথম কোনো ভোটাধিকার প্রয়োগের উপলক্ষ হতে যাচ্ছে।
এ জন্য তাঁরা খুবই উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা একটু সুষ্ঠু পরিবেশে তাঁদের জীবনের প্রথম ভোট প্রয়োগের প্রত্যাশা করছেন। ভোটদানের মাধ্যমে তাঁরা যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করতে চাইছেন।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, এবারের ডাকসু নির্বাচন অন্য সব নির্বাচনের চেয়ে আলাদা হতে যাচ্ছে।
কেননা এবার একচ্ছত্র আধিপত্য ধারণ করা কোনো ছাত্রসংগঠনই ক্যাম্পাসে নেই। তাই সব ছাত্রসংগঠন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সমান প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

এতে করে শিক্ষার্থীরাও তাঁদের ইশতেহার সম্পর্কে এবং নির্বাচিত হলে প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কী কী কাজ করবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারছেন। এতে করে শিক্ষার্থীদের বাছাই করতে সুবিধা হচ্ছে যে তাঁরা কাকে ভোট দেবেন। প্রার্থীদের ইশতেহারগুলো শুনে নিজেরাই সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।
আর এ জন্য তাঁদের মধ্যে আলাদা একটি উৎসাহ কাজ করছে।

এদিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য আটটি ভোটকেন্দ্রে ৮১০টি বুথ বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসাররা। এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে বুথ বসানোর প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রিটার্নিং অফিসাররা কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা, অধ্যাপক তারিক মনজুর, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ফারুক শাহ উপস্থিত ছিলেন।

দুঃসংবাদ পেল পিএসজি

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) তারকা উসমান দেম্বেলে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে নতুন করে চোট পেয়েছেন এই ফরাসি তারকা। এই চোটের কারণে দেড় মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তিনি।

পিএসজি আগেই ফ্রান্স দলের মেডিকেল টিমকে সতর্ক করেছিল দেম্বেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে। তবে সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তাকে খেলানো হয়, আর সেখানেই ঘটে সর্বনাশ। তাই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে চোটে পড়ায় তার ওপর বিরক্ত পিএসজি।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপে জানিয়েছে, এবার তাকে ছয় থেকে আট সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে। এই সময়ে ক্লাবটির হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচ মিস করবেন তিনি।

এ সময়ে তিনি আটলান্টা ও মার্সেইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ মিস করবেন। ১ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়াইয়েও তার না থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এমনকি বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও দেম্বেলে না থাকার শঙ্কা আছে।

পিএসজি অবশ্য মাঠের বাইরে খারাপ সময়ই পার করছে। তাদের আরেক তারকা দিজিরে দুয়ে পায়ের সোলিয়াস পেশির চোটে তিন থেকে চার সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেছেন। ফলে একসঙ্গে দুই তারকাকে হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ফরাসি ক্লাবটি।

স্পাইডার ম্যান খ্যাত টম হল্যান্ড বিরল রোগে আক্রান্ত

স্পাইডার ম্যান হিসেবে টম হল্যান্ডের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু পর্দার আড়ালে এই তারকা যে নীরব সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা হয়ত অনেকেরই অজানা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হল্যান্ড অকপটে জানিয়েছেন তার ডিসলেক্সিয়া এবং অ্যাটেনশন-ডেফিসিট/হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার নিয়ে সংগ্রামের কথা। কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি আজ হলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা সেই গল্পই তিনি জানিয়েছেন।

আইজিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিরল রোগটির বিষয়ে টম হল্যান্ড বলেন, ‘আমার এডিএইচডি এবং ডিসলেক্সিয়া আছে। যখন আমাকে একটি নতুন চরিত্রের জন্য খালি ক্যানভাস দেওয়া হয়, তখন আমি কিছুটা ভয় পেয়ে যাই। চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সময় এই ধরনের চ্যালেঞ্জ প্রায়ই আসে।’

তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার কৌশল একেবারেই ভিন্ন। তার কথায়, ‘আমি আমার ভেতরের শিশুসত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলি। ‘খেলা’র ছলে আমি চরিত্রটিকে ধারণ করার চেষ্টা করি। একজন তরুণ বা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে, এমন কিছুতে যুক্ত হওয়া উচিত যা আপনাকে সৃজনশীল হতে এবং গতানুগতিক ধারার বাইরে চিন্তা করতে বাধ্য করে। যত বেশি আমরা এ ধরনের কাজ করব, ততই আমরা ভালো করব।’

প্রসঙ্গত, মাত্র ৭ বছর বয়সে তার এই রোগটি ধরা পড়ে। এটি মূলত পড়া এবং বানানের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে জে শেঠির ‘অন পারপাস’ পডকাস্টে তিনি জানান, বানান করাই তার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা ছিল।