বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

যৌথবাহিনীর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ সারাদেশে গ্রেপ্তার ৩৩

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন, বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ককটেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্যসহ সারাদেশে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে (৪ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরও পর্যন্ত) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ কর্তৃক অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সব যৌথ অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, দালাল, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক ও চোরাকারবারি, জুয়াড়ি, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী এবং মাদকাসক্তসহ মোট ৩৩ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতার অপরাধীদের নিকট হতে পাঁচটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৪ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, তিনটি ককটেল, একটি সাউন্ড গ্রেনেড ও সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, ওয়াকিটকি, মোটরসাইকেল, পাসপোর্ট, মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। আটকদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়াও, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সূত্র: বাসস।

কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না, এই জায়গা আমাদের: নেতানিয়াহু dhaka-post

কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই জায়গা আমাদের’।

এমনকি পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপন প্রকল্প অনুমোদনও দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পদক্ষেপ কার্যত ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সব সম্ভাবনা নষ্ট করে দেবে।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপন প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু এই প্রকল্পে সই করেন, যা পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে বিভক্ত করবে। মা’লে আদুমিম বসতিতে এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছি— কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। এ জায়গা আমাদের।”

তিনি আরও জানান, শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।

১২ বর্গকিলোমিটার জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বসতিটি “ইস্ট ১” বা “ই-ওয়ান” নামে পরিচিত। এখানে ৩ হাজার ৪০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশ দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, একইসঙ্গে ওই অঞ্চলের হাজারো ইসরায়েলি বসতি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে আসছে ফিলিস্তিনিরা। তবে ১৯৬৭ সাল থেকে দখল করা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সব বসতি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ বলে গণ্য হয়, এমনকি সেগুলো ইসরায়েলের অনুমোদন পেলেও।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক হামদাহ সালহুত জানান, এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ভৌগোলিক সংযোগ ধ্বংস করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হবে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ বৃহস্পতিবার বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রই এই অঞ্চলে শান্তির চাবিকাঠি। তিনি একে এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে “অপরিহার্য” বলে উল্লেখ করেন।

তিনি ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু সমগ্র অঞ্চলকে “অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছেন”। রুদেইনাহ বলেন, ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের ১৪৯ সদস্য রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বাকি দেশগুলোকে অবিলম্বে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের পক্ষে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধী। ১৯৯০–এর দশকে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির বিরুদ্ধেও তিনি সরব ছিলেন। ২০০১ সালে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, তিনি কার্যত ওই চুক্তির ইতি টেনেছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মেয়াদে (১৯৯৭ সালে) নেতানিয়াহু পূর্ব জেরুজালেমে হার হোমা নামের বসতি গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বলেন, তার ক্ষমতায় থাকাকালে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কখনোই গঠিত হবে না।

সম্প্রতি ইসরায়েলের কট্টর উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও বলেছেন, ই-ওয়ান–এর মতো বসতি ফিলিস্তিনকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে।

ব্রাজিলে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করে ২৭ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে তার বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ বিচারকের একটি বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তারা বলসোনারোকে ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন।

পাঁচ বিচারকের মধ্যে চারজন তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন, একজন খালাসের পক্ষে ভোট দেন। রায় ঘোষণার পর বলসোনারোর আইনজীবীরা এটিকে “অতিরিক্ত কঠোর” বলে উল্লেখ করেন এবং আপিলের ঘোষণা দেন।

সুপ্রিম কোর্ট একইসঙ্গে তাকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

৭০ বছর বয়সী বলসোনারো বর্তমানে গৃহবন্দি আছেন। পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় আদালত তাকে আগে থেকেই এভাবে আটক করেছিলেন। তবে তিনি রায়ের শেষ ধাপের শুনানিতে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না।

বলসোনারো আগে থেকেই দাবি করে আসছেন যে এই বিচার তার ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠেকানোর জন্য সাজানো হয়েছে। তিনি এটিকে “ডাইনি খোঁজা” বলেও অভিহিত করেছেন।

তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ ঘটনাকে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন, “আমার সঙ্গেও এমন করার চেষ্টা হয়েছিল, তবে তারা সফল হয়নি।”

বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট অন্যায়ভাবে বলসোনারোকে কারাদণ্ড দিয়েছে এবং এ ধরনের ‘উইচ হান্ট’-এর জবাব দেওয়া হবে।

এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, “আজকের মতো হুমকি ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে ভয় দেখাতে পারবে না। রেকর্ডে থাকা প্রমাণ উপেক্ষা করে ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষকে আক্রমণ করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”

আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপিলে সাফল্য পাওয়া কঠিন হবে, কারণ সাধারণত অন্তত দু’জন বিচারক খালাসের পক্ষে না থাকলে রায় পুনর্বিবেচনা করা যায় না।

বলসোনারোর বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, যেগুলো সবই নির্বাচনে হার মানার পর ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টাকে ঘিরে। প্রসিকিউটররা জানান, তিনি অনেক আগে থেকেই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন এবং সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী লুলা দা সিলভা, তার সহপ্রার্থী ও একজন সুপ্রিম কোর্ট বিচারককে হত্যার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানতেন।

আদালত আরও সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, যাদের মধ্যে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ও নিরাপত্তা মন্ত্রীসহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।

যদিও সেনাবাহিনীর যথেষ্ট সমর্থন না পাওয়ায় অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, তবে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি বলসোনারোর সমর্থকরা সরকারি ভবনে হামলা চালায়। এ সময় দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয় এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাজায় নিহত ৭২, ক্ষুধা-অনাহারে শিশুসহ মৃত্যু আরও ৭ জনের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ক্ষুধায় মারা গেছেন আরও ৭ জন, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৭১৮ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিতে এক শিশুসহ আরও ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গত একদিনে ৭২ জনের মরদেহ হাসপাতালে পৌঁছেছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৫৬ জন। এতে ইসরায়েলি হামলায় মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৫৯ জনে। অনেক নিহত এখনো ধ্বংসস্তূপ আর রাস্তায় পড়ে আছে, উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও ৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২৭ মে থেকে ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৪৬৫ জনে, আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ হাজার ৯৪৮ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ৪১১ জনে, যাদের মধ্যে ১৪২ জন শিশু।

এর মধ্যে শুধু গত মাসে জাতিসংঘ সমর্থিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসি গাজাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ অঞ্চল ঘোষণা করার পর থেকে ১৩৩ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ২৭ জনই শিশু।

মূলত চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েল গাজার সব সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ২৪ লাখ মানুষের জনপদটি মারাত্মক দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছে।

এরপর ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করার পর এ পর্যন্ত ১২ হাজার ১৭০ জন নিহত এবং ৫১ হাজার ৮১৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জানুয়ারিতে হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তি কার্যত ভেঙে যায়।

এর আগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োআভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) মামলা চলছে।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ালেন শাহরুখ

ভারতের পাঞ্জাবে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে সে রাজ্যের ২৩টি জেলা। প্রায় ৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পাশাপাশি হাজার হাজার পরিবার তাদের বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়েছে। এই কঠিন সময়ে বলিউডের তারকারা বন্যার্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান।

শাহরুখের সংস্থা মীর ফাউন্ডেশন পাঞ্জাবের বন্যার্তদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে। তারা অমৃতসর, পাতিয়ালা, ফাজিলকা এবং ফিরোজপুরের প্রায় ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্থানীয় এনজিও ভয়েস অফ অমৃতসরের সহযোগিতায় বন্যার্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ, স্যানিটেশন সামগ্রী, খাদ্যদ্রব্য, মশারী, ত্রিপল, এবং বিছানা।

মীর ফাউন্ডেশন মূলত অ্যাসিড হামলার শিকার নারীদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কাজ করে। এটি নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও কাজ করে। শাহরুখ খান তার বাবা মীর তাজ মুহাম্মদ খানের নামে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন।

কোভিড মহামারীর সময়েও মীর ফাউন্ডেশন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় তারা অক্সিজেন সিলিন্ডার, হাসপাতালের বেড, রেশন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। শাহরুখ ছাড়াও বলিউড এবং পাঞ্জাবের আরও অনেক তারকা এই ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন সালমান খান, সোনু সুদ, অক্ষয় কুমার, আলিয়া ভাট এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সালমান খানের সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’ পাঁচটি উদ্ধারকারী নৌকা পাঠিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোকে দত্তক নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অভিনেতা সোনু সুদও তার পরিবারের সাথে মিলে হাজার হাজার বন্যার্তদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন।

পাঞ্জাবের এই বন্যা ১৯৮৮ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ। হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে শতদ্রু, বিয়াস, এবং রবি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ১,৬৫৫টি গ্রামের ৩.৫ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দোয়া করেন যেন জাকসু নির্বাচনও সুষ্ঠু হয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন জাহাঙ্গীরনগরের নির্বাচনটাও সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়।

এ সময় তিনি বলেন, অন্যবারের চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনেক ভালো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডাকসু নির্বাচনে অনেক প্রার্থীর কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে অনেকে অনেক প্রশ্ন করছে।
উত্তর বহুবার দেওয়া হয়েছে। এখন আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেন জাহাঙ্গীরনগরের নির্বাচনটাও যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত পরশু ডাকসু নির্বাচন দেখলেন। অন্যবারের চেয়ে অনেক ভালো নির্বাচন হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলাও ভালোভাবে চলছে। আগে হয়তো একটু খারাপ ছিল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, তবে এখন ভালো আছে।

জাতীয় নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ফোর্স থাকবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ৮০ হাজার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, আনসার ও পুলিশ বাহিনী থাকবেই।

পুলিশের স্বাধীন তদন্ত সার্ভিস গঠনের সিদ্ধান্ত

পুলিশের একটি স্বাধীন তদন্ত সার্ভিস গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।

পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশের একটি স্বাধীন তদন্ত সার্ভিস গঠন করা হবে, যাতে কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব ছাড়াই তদন্ত সম্পন্ন করা যায়।
’ এর পাশাপাশি পুলিশের ভেতরে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য একটি কমিশন গঠনের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ‘এই দুই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয় কাজ করবে। এ কাজে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরী যুক্ত থাকবেন।’

সভায় স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রেসসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বারবার জোর দিয়েছেন যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো ক্ষমতায়িত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন যেন নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্য খাত নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। শফিকুল আলম জানান, ‘কিছু মেডিকেল কলেজে যোগ্য শিক্ষকের সংকট রয়েছে।
তাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরামর্শক বা অন্যভাবে সম্পৃক্ত করে শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিষয়েও সভায় আলোকপাত করা হয়। প্রেসসচিব বলেন, ‘নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ভালো আছেন, দূতাবাস তাদের দেখভাল করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে জাতীয় ফুটবল দলকে দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ বৈঠক প্রসঙ্গে শফিকুল আলম আরো বলেন, ‘আজকের বৈঠকের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

ঐকমত্যে না আসা নির্বাচন আয়োজনে বড় চ্যালেঞ্জ : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের নিজেদের মধ্যে এখনো ঐকমত্য পোষণ করতে পারিনি। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সে অনুযায়ী কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা জাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ : সফল নির্বাচন আয়োজনে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ নামের একটি সংগঠন। এতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখনো সময় আছে আশা করি, এর ভেতরে সবাই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং মুক্ত গণমাধ্যম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রক্ষাকবচ।
এগুলো নিশ্চিত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আগামীতে আর কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না। যে সংস্কারগুলো আশু বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো নির্বাহী আদেশ ও অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায় তা করা হচ্ছে। যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সরকার যদি সেগুলো পূর্ণাঙ্গ না করতে পারে, তাহলে পরবর্তী সরকার সেটা করবে।’

সংবিধান সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করার বৈধ ফোরাম হলো জাতীয় সংসদ।
এর বাইরে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া আছে কি না, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হচ্ছে। যদি থাকে তাহলে তারা একমত হবেন। কিন্তু এমন কোনো উদাহরণ সৃষ্টি চাই না যেটি পরবর্তী সময়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে। প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হবে।’

একই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হতে পারে, ডাকসু নির্বাচন তার একটি বড় টেস্ট ছিল।
এই টেস্টে রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে উত্তরণ করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি ঘটনাও ডাকসু নির্বাচনে ঘটেনি।’

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই সরকারের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন। তবে ভালো নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। আর জনগণ যদি ভোট দিতে যায়, তাহলে কারো সাধ্য নেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই সরকারকে কাজ শুরু করতে হবে। সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী পরিবেশ, পর্যবেক্ষণ সমন্বয় কমিটি গঠন করা উচিত। দেশের কোথাও কোনো দলের সঙ্গে অন্য দলের সংঘাত হলে, অগণতান্ত্রিক আচরণ হলে, সেই প্রশ্নগুলো এখন থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং হওয়া দরকার। আসন্ন নির্বাচনে যে দল সরকার গঠন করবে, সেই দলের সঙ্গে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়ার মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কাজ করলে হবে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটালিস্ট হিসেবে বিবেচনা করছি। যেটা নিয়ে নাগরিক পরিষদে এবং সিভিল সোসাইটিতে যারা নীতি নির্ধারন করছেন তাদের এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা পুলিশ সংস্কার কমিশন করার কথা বলেছিলাম, যাতে করে তাদের পোস্টিং-প্রমোশনের ক্ষেত্রে একটা স্বতন্ত্র বোর্ড কাজ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রি-ইলেকশন চ্যালেঞ্জের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোল অব এজেন্সি এবং আর্মি। এটা কিন্তু এখন পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এখনো দেখছি যে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সি বিগত সময় যেভাবে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে, এখনো পর্যন্ত করছে। আমরা এটাকে কতটা ডিসঅ্যাসোসিয়েট করতে পারি, এটা আমাদের জন্য কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘ইলেকশনের জন্য স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ মনে করেন যে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন চায় না। কিন্তু অত্যন্ত মজার ব্যাপার হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল বলতে হবে, যারা ৩০০ আসনের নির্বাচনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে কাজ শুরু করছে। নির্বাচন কমিশনের যে দায় দায়িত্বের প্রশ্ন আসে সেগুলো আমাদের সামনে রাখা দরকার। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা এখন যেটা বুঝি, সেটা হলো আপনি যদি প্রভাব থাকে ক্ষমতা থাকে তাহলে থাকবেন। আর না হলে আপনি থাকবেন না। হলে আপনি ভোট দিতে যেতে পারবেন না হলে আপনার ঠ্যাং ভেঙে দেওয়া হবে। না হলে আপনি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন না। আমরা মনে করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রশ্নে আমাদের আরো অনেক ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। সেই জায়গাটায় আমাদের নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ প্রমুখ।

সেনা কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ আরো বাড়ল

সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়িয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানায়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের সারা দেশে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্ট গার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে কর্মরত সেনা কর্মকর্তারাও ওই সময়ের মধ্যে একই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৭টি ধারায় সেনা কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। মূলত পলাতক ও অন্যান্য অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

‘সর্বকালের সেরা ফুটবলারের’ স্বীকৃতি পেলেন রোনালদো

বিশ্বকাপ ছাড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শোকেসে সব ট্রফিই শোভা পাচ্ছে। সেই আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করতে ৪০ বছর বয়সেও ছুটছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই স্বপ্ন পূরণ হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

তবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যদাপূর্ণ ট্রফির স্বপ্নপূরণের আগে রোনালদোর নামের পাশে শিরোপার সংখ্যা বাড়ছেই।
গতকাল যেমন ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলারের’ এক পুরস্কার জিতেছেন তিনি। পুরস্কারটা অবশ্য তার দেশ পর্তুগালের সর্বোচ্চ লিগ দিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে দারুণ সব স্মৃতি উপহার দেওয়ার স্বীকৃতি দিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল লিগ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২২৩) ও গোলদাতাকে (১৪১) পুরস্কার দেওয়া বিষয়ে লিগা পর্তুগাল কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে লিখেছে, ‘লাখ লাখ মানুষের আদর্শ, সে একটা ‍যুগকে সঙ্গায়িত করেছে।
বিশ্ব ফুটবলে অমোচনীয় এক পদচিহ্ন এঁকেছে। ব্যক্তিগত রেকর্ড, শিরোপা এবং মিডিয়াতে প্রভাব রাখার মাধ্যমে এমন এক উত্তরাধিকার তৈরি করেছে, যা তাকে সর্বকালের সেরা হিসেবে স্থান দেয়।’

পোর্তো শহরে হওয়া অনুষ্ঠানে অবশ্য সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না রোনালদো। পুরস্কার পেয়ে কৃতজ্ঞা জানিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ।
আল নাসরের স্ট্রাইকার এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেওয়ায় লিগ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দেশের হয়ে এই পুরস্কার জেতা আমার জন্য বিশাল সম্মানের। অবিশ্বাস্য ট্রফি জয়ের পথে আমার পুরো ক্যারিয়ারে সহায়তা করা সতীর্থ-কোচদের ধন্যবাদা জানাই। সঙ্গে যারা আমাকে আরো ভালো হতে সহায়তা করেছে।’

বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে বাছাই পর্বে একটা কীর্তি গড়েছেন রোনালদো।
সর্বশেষ হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে এক গোল করে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এত দিন এককভাবে এই কীর্তির মালিক ছিলেন গুয়েতামালার কার্লোস রুইজ। দুজনের গোল এখন ৩৯টি। গুয়েতেমালার সাবেক স্ট্রাইকারকে পেছনে ফেলাটা এখন সময়ে বিষয় রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তির।