বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

গাজায় ৬ বছর বয়সী জমজ শিশুসহ নিহত আরও ৫১ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় নগরী গাজা সিটিতে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই শহরে টানা বোমাবর্ষণে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে জমজ শিশু ও সাংবাদিকও রয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েল সোমবার সন্ধ্যায় গাজা সিটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে এলাকার সর্বোচ্চ আবাসিক ভবন আল-ঘাফরি হাইরাইজ ধ্বংস করেছে। এই তীব্র হামলার কারণে লাখো বাসিন্দা শহর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টার ফ্রান্সেসকা আলবানিজে অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাত করতে ইসরায়েল অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করছে।

ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল ১২ জানায়, গাজা সিটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক তীব্র হামলা’ চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি বহুতল ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।

শহরের অন্যান্য এলাকাও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুধু জায়তুন এলাকায় আগস্টের শুরু থেকে ১ হাজার ৫০০’র বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ টানা তৃতীয় দিনের মতো হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে লিখেছেন, “সন্ত্রাসের টাওয়ার সমুদ্রে ভেঙে পড়েছে”। তবে ভবনটি হামাসের ব্যবহৃত ছিল এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেননি।

২৩ মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে আবাসিক এলাকা, স্কুল ও হাসপাতালও বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু গাজা সিটিতেই ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী যমজ শিশুও রয়েছে।

এছাড়া তিন সাংবাদিকও পৃথক হামলায় নিহত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন- নাসর এলাকায় প্রতিবেদক মোহাম্মদ আল-কুইফি, ফটোগ্রাফার ও সম্প্রচার প্রকৌশলী আইমান হানিয়ে এবং সাংবাদিক ইমান আল-জামিলি।

এ নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৮০ জনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, সাংবাদিকদের জন্য এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৬৪ হাজার ৯০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অগণিত মরদেহ চাপা পড়ে আছে।

ডাকসুর ভোট হাতে গণনার আবেদন উমামা ফাতেমার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ওএমআর মেশিনের পরিবর্তে ভোট পুনরায় ‘ম্যানুয়ালি’ গণনার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের পরাজিত ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের কাছে ভোটারদের তালিকার কপি এবং সিসিটিভি ফুটেজ উন্মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ডাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ আবেদন করেন তিনি।

আবেদন পত্রে উমামা লিখেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক স্বচ্ছতা যাচাইকরণের উদ্দেশ্যে প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটদাতাদের তালিকার কপি, ওএমআর মেশিনের পরিবর্তে ম্যানুয়ালি পুনরায় ভোট গণনা এবং ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশের সিসিটিভি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার অনুরোধ করছি।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আটটি কেন্দ্রে একযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট। এই পদে জয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪২ ভোট।

হামাস ধ্বংসে নেতানিয়াহুর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন আছে : রুবিও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার হলো ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং হামাসের ধ্বংস। আর এই লক্ষ্যে ওয়াশিংটন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে রয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, জেরুজালেম সফরে গিয়ে নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে দেওয়া প্রকাশ্য বক্তব্যে রুবিও যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেননি। এছাড়া গত সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলা নিয়ে আগে করা সমালোচনাও আর পুনরাবৃত্তি করেননি।

কাতারে আর কোনো হামলা চালানো হবে কিনা—এই প্রশ্নে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলও অন্যান্য দেশের মতোই এই নীতি অনুসরণ করবে যে, ‘সন্ত্রাসীরা যেখানে থাকুক না কেন, তারা কোনোভাবেই নিরাপত্তা বা দায়মুক্তি পাবে না।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, রুবিও মঙ্গলবার লন্ডনে যাওয়ার পথে দোহাতেও থামবেন। কাতারে গত মঙ্গলবারের ইসরায়েলি হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঠেকাতে এ সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুধু কথা দিয়ে ইসরায়েলি বর্বরতা থামবে না : পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক দশকের অটল সমর্থনই কাতারে ইসরায়েলি হামলার পথ প্রশস্ত করেছে। শুধু কথায় ইসরায়েলি বর্বরতার অবসান হবে না। এ কারণে, মুসলিম দেশগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সোমবার দোহায় শুরু হওয়া আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সম্মেলনে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার পরও ইসরায়েল নিজেকে চাপমুক্ত মনে করছে।

তিনি বলেন, ‘কাতারে ইসরায়েলের হামলা শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং হতাশার বহিঃপ্রকাশ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক দশকের সমর্থনেই এ হামলা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কাতারে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল মুসলিম বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছে। গাজা, লেবানন, কাতার ও ইরানের ধ্বংসস্তূপ থেকেই নতুন এক বিশ্বব্যবস্থা জন্ম নেবে।

ইরানি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো আরব বা ইসলামি দেশই জায়নিস্ট শাসনের হামলা থেকে নিরাপদ নয়। আমাদের এক হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

তিনি বলেন, ‘জায়নিস্ট শাসন পশ্চিমা সমর্থন পেয়েই এ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই আগ্রাসনকে যারা সমর্থন করছে, তাদের অপরাধও ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে।

হামাস যেখানেই থাকুক, হামলা করা হবে : নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে বিদেশে আরো হামলার সম্ভাবনাকে নাকচ করেননি। গত সপ্তাহে কাতারে হামলার পর তিনি বলেন, হামাস নেতারা ‘যেখানেই থাকুক না কেন’ তারা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, “প্রত্যেক দেশেরই ‘নিজের সীমানার বাইরে গিয়েও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে’।” খবর আল জাজিরার।

নেতানিয়াহুর এ মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল যে ট্রাম্প কাতারকে আশ্বস্ত করেছেন, ‘তাদের মাটিতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’

কাতার যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে কাতারে ইসরায়েলের হামলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এ কারণে ইসরায়েল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়ে।
হামাস জানায়, ওই হামলায় ছয়জন নিহত হলেও তাদের শীর্ষ নেতারা বেঁচে গেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় কোনোভাবে যুক্ত ছিল কিনা জানতে চাইলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরাই করেছি। একেবারে একা।’

ব্যাংকে কোটিপতি হিসাবের নতুন রেকর্ড

দেশের ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এই ধরনের হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টিতে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯৭৪টি কোটিপতি হিসাব।

এই সময়ের মধ্যে দেশে ব্যাংক হিসাবের মোট সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮২১টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। অর্থাৎ, নতুনভাবে প্রায় ৩২ লাখ ৯৫ হাজার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। মার্চ শেষে সব হিসাব মিলিয়ে মোট আমানত ছিল ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা।
জুন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকায়। ফলে তিন মাসে আমানত বেড়েছে প্রায় ৭৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবগুলোতে জমার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মার্চ শেষে এই সব হিসাবে মোট জমা ছিল ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, যা জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকায়।
অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতি হিসাবগুলোতে জমা বেড়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই সবসময় কোনো ব্যক্তি কোটিপতি— এমনটি নয়। অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যাংকে জমা রাখে। তাছাড়া, একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন, ফলে একই ব্যক্তির নামে একাধিক কোটিপতি হিসাব থাকতে পারে।

কোটিপতি হিসাব বৃদ্ধির এই প্রবণতা নতুন নয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে মাত্র ৫টি কোটি টাকার হিসাব ছিল। ১৯৭৫ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭টিতে, ১৯৮০ সালে হয় ৯৮টি। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। ১৯৯০ সালে ছিল ৯৪৩টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি এবং ২০০৮ সালে বেড়ে হয় ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০২০ সালের শেষে কোটিপতি হিসাব দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে। এরপর ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি এবং ২০২৩ সালে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে। ২০২৪ সালের শেষে হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৮১টি, যা ২০২৫ সালের মার্চে দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে এবং জুনে এসে পৌঁছায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টিতে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাব বাড়ার বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যে টাকার প্রবাহ এবং জনগণের আমানত রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে। তবে তারা মনে করেন, শুধু ধনী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বাড়া নয়, সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, কোটিপতি হিসাব বৃদ্ধির এই ধারা দেশের চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক খাতের সম্প্রসারণকে প্রতিফলিত করে। যদিও এর মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈষম্য বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বাগদান সারলেন হুমা কুরেশি!

বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। গুঞ্জন রটেছে, দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও অভিনেতা-প্রশিক্ষক রচিত সিং-এর সঙ্গে তিনি নাকি বাগদান সেরে ফেলেছেন। যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবু অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু ইঙ্গিত থেকে মনে করা হচ্ছে, এই সম্পর্ক আর গোপন নেই

প্রথমবার এই খবর সামনে আসে গায়িকা আকাসা সিং-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। তিনি হুমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ছবি শেয়ার করেন এবং লেখেন, ‘অভিনন্দন হুমা, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
’ মুহূর্তেই এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে এবং জল্পনা তুঙ্গে ওঠে যে হুমা সত্যিই বাগদান করেছেন।

এর আগে একাধিকবার হুমা ও রচিতকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। সম্প্রতি সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবালের বিয়েতে তাঁরা যুগলে উপস্থিত হন। একই রঙের পোশাক, একে অপরের প্রতি স্বাচ্ছন্দ্য ভঙ্গি—সবই তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
শুধু তাই নয়, রচিত সিং-এর জন্মদিনেও হুমাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখা যায়, যা এই জল্পনাকে আরো উসকে দেয়।

রচিত বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনয় প্রশিক্ষক। আলিয়া ভাট, রণবীর সিং, ভিকি কৌশলের মতো নামি অভিনেতাদের তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। শুধু প্রশিক্ষক নন, রচিত নিজেও অভিনয়ের জগতে পা রেখেছেন।
সম্প্রতি তিনি ওয়েব সিরিজ ‘কর্মা কলিং’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। জানা যায়, বহু বছর আগে শাহরুখ খান ও গৌরী খানের আয়োজিত এক পার্টিতেও হুমা ও রচিতকে একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গিয়েছিল। তখন থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়।

এর আগে হুমা কুরেশি পরিচালক মুদাসসার আজিজের সঙ্গে চার বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। তাঁদের সম্পর্ক বলিউড মহলে অনেকবার আলোচনায় আসে।
তবে ২০২২ সালে হঠাৎ করেই সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। এরপর থেকেই হুমা নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখেন। বর্তমানে রচিত সিং-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেন নতুন এক অধ্যায় খুলে দিয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যতই আলোচনা হোক না কেন, হুমা পেশাদার জীবনে ভীষণ মনোযোগী। তাঁর নতুন ছবি ‘বয়ান’ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সিনেমাটি টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (টিআইএফএফ) ২০২৫ এবং বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে। এই বিষয়ে আগে হুমা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি এমন একটি প্রকল্প, যা আমার মনের খুব কাছের। ভারতীয় গল্পকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরা আমার কাছে গর্বের।’

শুরু হতে যাচ্ছে দুবাই গ্লোবাল ভিলেজের ৩০তম সিজন

দুবাইয়ের বহু সাংস্কৃতিক পার্ক গ্লোবাল ভিলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ৩০তম সিজনের তারিখ ঘোষণা করেছে। সেখানে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১০ মে পর্যন্ত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানো হবে। পাশাপাশি ২০০৫ সালে ১৭.২ মিলিয়ন বর্গফুটের দুবাইল্যান্ডে স্থানান্তরের দুই দশকের পূর্তি হবে।

শহরের বাসিন্দা ও পর্যটকরা গ্লোবাল ভিলেজের আয়োজন শুরুর অপেক্ষায় আছেন, যা দুবাইয়ের সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয় মৌসুমি আকর্ষণগুলোর একটি।
গত বছর ২৯তম সিজনে পার্কটি ৩০টি প্যাভিলিয়নে ৯০টির বেশি সংস্কৃতি উপস্থাপন করেছিল, ৪০ হাজারের বেশি লাইভ শো অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সাড়ে তিন হাজার শপিং আউটলেট ছিল এবং দুই শতাধিক রাইড ও ২৫০টি ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা ছিল।

গ্লোবাল ভিলেজের টিকিট
অনলাইন টিকিট বিক্রি আগামী মাসে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২৯তম সিজনে সপ্তাহের কর্মদিবসে অনলাইন টিকিটের মূল্য ছিল ২৫ দিরহাম (রবি থেকে বৃহস্পতিবার ও সরকারি ছুটি ব্যতীত)। এ ছাড়া যেকোনো দিনের টিকিট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৩০ দিরহামে কেনা যেত।
তিন বছরের কম বয়সী শিশু, বয়স্ক নাগরিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশ সাধারণত ফ্রি ছিল। মঙ্গলবার পরিবার ও নারীদের জন্য নির্ধারিত থাকত, সরকারি ছুটি ব্যতীত।

সময়সূচি
যদিও ৩০তম সিজনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে আগে সাধারণ সময়সূচি ছিল :

কর্মদিবস : বিকেল ৪টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত
সপ্তাহান্ত ও সরকারি ছুটির দিন : বিকেল ৪টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত

এ ছাড়া রমজান মাসে সাধারণত সময় বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার পরিবার দিবস হিসেবে নির্ধারিত, শুধু পরিবার, দম্পতি ও নারীদের জন্য।
দর্শনার্থীদের সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্যের জন্য অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ চেক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিআইপি প্যাক
নতুন সিজনের আগে গ্লোবাল ভিলেজ সীমিত ভিআইপি প্যাকও প্রকাশ করবে। এতে সংরক্ষিত পার্কিং, রেস্তোরাঁ রিজারভেশন, কার্নিভাল রাইড ও গেমে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার ও অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই সিজনে যা আশা করা যাবে
যদিও ৩০তম সিজনের নতুন আকর্ষণ, প্যাভিলিয়ন বা শোর বিস্তারিত এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে দর্শনার্থীরা গ্লোবাল ভিলেজের পরিচিত অনেক অভিজ্ঞতা আশা করতে পারেন, যেমন :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাবার, পণ্য ও শিল্পকর্ম প্রদর্শনকারী আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়ন
আন্তর্জাতিক শিল্পীদের কনসার্ট ও লাইভ পারফরম্যান্স
কার্নিভাল জোনে মজাদার রাইড ও গেম
স্ট্রিট ফুড কিয়স্ক ও ডাইনিং আউটলেট, যেখানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় খাবারের নানা ব্যবস্থা থাকবে
বিভিন্ন অঞ্চলের অনন্য শপিং ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা
শিশুদের জন্য পারিবারিক শো ও কার্যক্রম

৩০তম সিজনের নতুন আকর্ষণ, পারফরম্যান্স ও বিশেষ ইভেন্টের বিস্তারিত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।

সূত্র : গালফ নিউজ

৩ জেলার ডিসি প্রত্যাহার

কক্সবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাদারীপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কক্সবাজারের ডিসি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে প্রত্যাহার করে যুগ্ম সচিব হিসেবে জাতীয় বেতন কমিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য অর্থ বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মো. আব্দুস সামাদকে যুগ্ম সচিব হিসেবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়।

মাদারীপুরের ডিসি মোছা. ইয়াসমিন আক্তারকে যুগ্ম সচিব হিসেবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।

জাতীয় বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আ. মান্নানকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাজপথ নয়, এখন সময় জনগণের মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার : আমীর খসরু

রাজপথের পর্ব শেষ হয়েছে, এখন দেশের মানুষের হাতে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে এক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি দলের বিভিন্ন চিন্তা থাকবে, নিজস্ব দর্শন থাকবে, ভাবনা থাকবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা থাকবে। এটার একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচনে যাওয়া।
জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পরিবর্তন করা যেতে পারে। এর বাইরে কিছু করতে গেলে সেটা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করবে।’

তিনি জানান, জনসমর্থন ছাড়া কিছু করতে গেলে গণতন্ত্র ব্যাহত হবে। নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে সংবিধানকে অসম্মান করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে দলগুলোকে জনসমর্থন নিয়েই কার্যক্রম চালাতে হবে বলে জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা বোধ হয় রাজপথের পর্ব শেষ করেছি, এখন জনগণের কাছে মালিকানা ফেরানোর সময়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই জনগণের কাছে নিজ দলের ম্যান্ডেট নিতে হবে।’

আমীর খসরু জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করবে বিএনপি।

এ জন্য আর্থিক, নৈতিক ও মানবিক বিনিয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার যেখানে বিনিয়োগ প্রয়োজন, সরকারকে তা করতে হবে।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘বিপ্লবের পরে যেসব দেশ যত তাড়াতাড়ি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে পেরেছে, সেই দেশগুলো ভালো করছে। আর যারা বিভক্তির মাধ্যমে বিলম্বিত করেছে সেই দেশগুলোতে সিভিল ওয়ার চলছে এবং অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে। আমরা বাংলাদেশকে সেদিকে নিয়ে যেতে চাই না।’