মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা

শেরপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে এক বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলারকে ১ লাখ টাকা এবং লাইসেন্স ছাড়া বিক্রি করায় অপর এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের আখেরমামুদ বাজারে তাদের এ জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছিল। এ অভিযোগে সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় বিএডিসি ডিলার মেসার্স মীম এন্টারপ্রাইজকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভুইয়া। একইসঙ্গে লাইসেন্সবিহীনভাবে সার বিক্রির দায়ে কীটনাশক বিক্রেতা শিশির এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই। আমরা অভিযোগ পেলেই অভিযান চালাচ্ছি। কৃষকের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইজিপিকে কম্পিউটার উপহার দিলো চীন দূতাবাস

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ হয়। পুলিশ সদরদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাতকালে চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৪৯টি কম্পিউটার ও ৪৯টি প্রিন্টার হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত।

এ সময় আইজিপি রাষ্ট্রদূতকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। তিনি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতকালে চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত চীনের নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইজিপির সহযোগিতা কামনা করেন। আইজিপি এক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় চীন দূতাবাস ও বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলে মিসাইল হামলা

ইয়েমেনের হোদাইদা বন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলার জবাবে দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মিসাইলটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হোদেইদাতে হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হোদাইদা থেকে সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেয় ইসরায়েল। এরপর বিমান থেকে অন্তত ১২টি মিসাইল ও বোমা ছোড়ে তারা।

হোদেইদা বন্দরে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, “হুতি বিদ্রোহীরা হোদেইদা বন্দরকে ইরানি অস্ত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহার করে। এসব অস্ত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।”

হোদাইদা বন্দর সম্পূর্ণ বেসামরিক একটি অবকাঠামো। ইয়েমেনের অর্থনীতির বড় অংশ এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের দুর্দশা বাড়াতে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে হোদেইদা বন্দরে হামলা চালায়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুমকি দিয়েছেন ইয়েমেন লক্ষ্য করে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। এ দখলদার বলেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের ওপর নৌ ও আকাশ অবরোধ অব্যাহত রাখতে এ হামলা চালানো হয়েছে। হুতিরা আরও এ ধরনের হামলার মুখোমুখি হবে এবং ইসরায়েলের ওপর হামলার চেষ্টার জন্য চড়া মূল্য দেবে।

২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অসংখ্যবার ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এছাড়া লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা।

ইসরায়েল এর আগের দুই সপ্তাহে ইয়েমেনে বড় হামলা চালিয়েছিল। এতে বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ ১২ মন্ত্রী নিহত হন। অপরদিকে গত সপ্তাহের হামলায় অন্তত ৩১ সাংবাদিক প্রাণ হারান।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

পরিবহন পুলের ৪০৬ গাড়িচালকের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবহন পুলের ৪০৬ গাড়িচালকের নিয়োগ কার্যক্রম ও প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. জামিল হক।

আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, ২০১৮ সালে ইউএনও অফিসে কর্মরত ২৮ জন গাড়িচালকের চাকরি স্থায়ী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই সময় ৩০ দিনের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল। এরপর তিন বছর অতিক্রান্ত করলেও এই রায় বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না নিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরিবহন পুল কর্তৃপক্ষ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে আবেদনকারীরা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন এবং ওই সময়ের (২০২১ সালের) নিয়োগ কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চাইলে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। একইসঙ্গে ২০২১ সালের ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। পরিবহন পুলের পক্ষ থেকে ২০১৮ সালের রায় ও ২০২১ সালের আদালত অবমাননা সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোরের্টর আপিল বিভাগে দুটি আপিল দায়ের করা হয়। চলতি বছরের গত ১৮ মার্চ দুটি আপিলই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করেন।

এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর পরিবহন পুল হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে ৪০৬ জন নতুন গাড়িচালক নিয়োগের বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এ ঘটনায় আবেদনকারীরা হাইকোর্টে পূর্বে দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলায় সম্পূরক আবেদনে নিয়োগ সংক্রান্ত গত বছরের ১৭ নভেম্বর জারি করা সার্কুলার স্থগিতের আবেদন করে। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে পরিবহন পুলের চলমান ৪০৬ গাড়িচালকের নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট।

কোরিয়ান অর্থায়নে সেতু প্রকল্পে নতুন সুযোগের ইঙ্গিত

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ওয়েস্টিন পারনাস হোটেলে আজ থেকে তিন দিনব্যাপী (১৬-১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বৈশ্বিক অবকাঠামো সহযোগিতা সম্মেলন (জিআইসিসি) শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

সম্মেলনে সেতু সচিব বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে উপস্থাপনা করেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, সেতু বিভাগের বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কোরিয়ান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রচার তহবিল (ইডিপিএফ) থেকে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিবহন খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার কাজ করার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি।

জিআইসিসি-২০২৫ সম্মেলনের লক্ষ্য কোরিয়ান নির্মাণ সংস্থাগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন দেশের প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন। এটি মূলত একটি ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বি-টু-বি) প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বিদেশি সরকার, প্রকল্প উন্নয়নকারী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছে।

সম্মেলনে প্রায় ৫০০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ৩০টি দেশের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ সংস্থার কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন দেশের আসন্ন অবকাঠামো প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিনিময়, সরকারি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন, নতুন প্রকল্পে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, এবং কোরিয়ার উন্নত প্রযুক্তি যেমন স্মার্ট সিটি, উচ্চগতির রেল ও স্মার্ট বন্দর ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিচিতি লাভ।

এছাড়াও সম্মেলনের পরবর্তী অংশে বিভিন্ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি প্রকল্প উপস্থাপনা, ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বৈঠক এবং কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনীও থাকবে।

আন্তর্জাতিক খেলাধুলা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের দাবি স্পেনের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে স্পেন। এমনকি ভূখণ্ডটিতে বর্বরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে বৈশ্বিক খেলাধুলার প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

একইসঙ্গে দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় এক বিলিয়ন ইউরোর অস্ত্রচুক্তিও বাতিল করেছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়াকে যেমন ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর বৈশ্বিক ক্রীড়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, ইসরায়েলকেও তেমন শাস্তির মুখে পড়া উচিত।

সোমবার নিজের সমাজতান্ত্রিক দলের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, গাজায় হামলার পরও ইসরায়েলের বৈশ্বিক ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকে কেন বহিষ্কার করা হলো, আর গাজা আক্রমণের পর কেন ইসরায়েলকে বহিষ্কার করা হবে না? বর্বরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া বা ইসরায়েল— কেউই কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না।”

তার বক্তব্যের একদিন আগে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ভুয়েল্তা আ এস্পানিয়া সাইক্লিং রেসের শেষ পর্বে ইসরায়েলি দল ইসরায়েল-প্রিমিয়ার টেকের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে। এসময় পুলিশি অভিযানে সংঘর্ষে ২২ জন আহত হন, দুইজনকে আটক করা হয়।

এর আগে গত সপ্তাহে স্পেনের ক্রীড়ামন্ত্রী পিলার আলেগ্রিয়া একই আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ২০২২ সালে রাশিয়ার দলগুলোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও সেই নীতি অনুসরণ করা উচিত। তিনি এটিকে “দ্বিচারিতা” হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সাআর সানচেজকে “ইহুদিবিদ্বেষী ও মিথ্যাবাদী” বলে সমালোচনা করেছেন। তবে কেন গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ বলা হচ্ছে, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ইসরায়েল প্রায়ই ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ অভিযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনবিরোধী নীতির সমালোচনা দমিয়ে রাখে।

এর আগে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে নেতানিয়াহু ওই আদালতকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিয়েছিলেন।

এদিকে শুধু ক্রীড়া নয়, সামরিক খাতেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে স্পেন। বার্তাসংস্থা এএফপি’র হাতে যাওয়া সরকারি নথি অনুযায়ী, স্পেন প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর (৮২৪ মিলিয়ন ডলার) একটি অস্ত্রচুক্তি বাতিল করেছে। এই চুক্তি ছিল ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের রকেট লঞ্চার কেনার জন্য।

চুক্তিটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু তা বাতিল করায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্পেন ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় এক বিলিয়ন ইউরোর (১.২ বিলিয়ন ডলার) অস্ত্রচুক্তি বাতিল করেছে। এর আগে গত জুন মাসে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল–এর সঙ্গেও আরেকটি বড় চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে এখনও এলবিট বা রাফায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ অবশ্য জানিয়েছে, তারা এখনো কোনো চুক্তি বাতিলের আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি। স্পেন বা ইসরায়েল, কোনো সরকারই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

কাতারে আর হামলা করবে না ইসরায়েল : ট্রাম্প

গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারে আর হামলার নির্দেশ দেবেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধের অপর মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহু আর কাতারে হামলার নির্দেশ দেবেন না। কাতার আমাদের খুবই ভালো মিত্র এবং অনেকেই এটি জানে না, কিন্তু তিনি (নেতানিয়াহু) ভবিষ্যতে কখনও কাতারে হামলা করার নির্দেশ দেবেন না। এখন থেকে তিনি কাতারের সঙ্গে মিলেমিশে চলবেন।”

কাতারে আশ্রয়প্রাপ্ত হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে গত ৮ সেপ্টেম্বর দোহার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলা করে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। হামাসের বর্তমান শীর্ষ নির্বাহী খলিল আল হায়া ও গোষ্ঠীটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা ছিলেন সেই হামলার লক্ষ্য।

মাত্র ১৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া সে অভিযানে দোহায় হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ জন সহ মোট ৬ জন নিহত হন হলেও সৌভাগ্যবশত বেঁচে যান খলিল আল হায়া এবং হামাসের হাইকমান্ডের সদস্যরা।

এ ঘটনায় বিশ্বের প্রায় সব দেশ ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ৯ সেপ্টেম্বর এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট দাবি করেছিলেন, কাতারকে সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার ব্যাপারে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।

ব্রিফিংয়ে লিভিট বলেছিলেন, “ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ হামলার ব্যাপারে আগে জানিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তিনি শান্তি স্থাপন করতে চান এবং তা শিগগিরই চান। তাই আমাদের কাছে আগে থেকেই এ হামলার খবর ছিল। নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্টিফ উইটকফের মাধ্যমে দোহাকে আসন্ন হামলার ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। পরে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকেও দোহাকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

তবে সোমবার ওভাল অফিসে এক্সিওসের এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, “না, তারা আমাকে আগে কিছু জানায়নি। আপনি হামলার তথ্য যেভাবে পেয়েছেন, আমিও ঠিক সেভাবেই পেয়েছি।”

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

বামপন্থি সন্ত্রাস দমনের ঘোষণা হোয়াইট হাউসের dhaka-post

ডানপন্থি কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এমন অবস্থায় হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা বামপন্থি ‘সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এ পদক্ষেপ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ডানপন্থি কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তথাকথিত “বৃহৎ দেশীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক” ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সোমবার কার্কের নিজস্ব পডকাস্টে এই মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, “যে সংগঠিত প্রচারণা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের যে ক্ষোভ— আমরা তা কাজে লাগিয়ে এসব সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেব। এটা ঘটবেই, আর আমরা তা করব চার্লির নামে।”

যদিও তদন্তকারীরা এখনও কার্ক হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি, তবু ডানপন্থিদের অনেকেই এর জন্য বামপন্থি মতাদর্শকে দায়ী করছেন। মিলার ও ভ্যান্স দুজনেই দাবি করেন, বামপন্থি উগ্রপন্থি আন্দোলনই মূল হুমকি। আর এবার সেটিকেই টার্গেট করবে প্রশাসন।

ভ্যান্স বলেন, “আমরা সেই এনজিও নেটওয়ার্কের দিকে যাব, যারা সহিংসতা উসকে দেয়, সহায়তা করে এবং তাতে জড়িত থাকে”। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একাই হামলা চালিয়েছে বলে তাদের ধারণা।

এদিকে কার্ক হত্যার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের আগেই এমন রাজনৈতিক বক্তব্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক সমালোচক আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই সুযোগে ভিন্নমত দমন করতে পারে।

এর আগে গত শুক্রবার দুই দিনের অভিযান শেষে ইউটার ২২ বছর বয়সী টাইলার রবিনসনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। ইউটার গভর্নর স্পেনসার কক্স রোববার জানান, রিপাবলিকান পরিবার থেকে আসা এই যুবক বামপন্থি মতাদর্শ ধারণ করতেন। তবে বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক বিভাজন ও সহজে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার সুযোগকে দায়ী করা হচ্ছে।

গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে দুইবার হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ বছরের জুনে মিনেসোটার এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও তার স্বামীকে মুখোশধারী বন্দুকধারী হত্যা করে। তার আগের মাসে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর বাড়িতে হামলা হয়।

আর সর্বশেষ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কার্ককে গত বুধবার ইউটার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি প্রভাবশালী ডানপন্থি ছাত্র সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

সোমবার পডকাস্টে ভ্যান্স তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, “তিনি ছিলেন আমার দেখা সবচেয়ে মেধাবী রাজনৈতিক সংগঠক। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট এবং আমাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করায় তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত সাত মাসে আমাদের যে সাফল্য এসেছে, তার বড় অংশই তার প্রচেষ্টার ফল।”

শেখ হাসিনার মামলায় মাহমুদুর রহমানের অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ হবে আজ।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। তবে শেষ না হওয়ায় অবশিষ্ট সাক্ষ্য ও জেরার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ১৪তম দিনের মতো এ মামলায় ছয়জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ রেকর্ড করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন তিনজন।

গত ২ সেপ্টেম্বর ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন এ মামলার আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তার জেরা শেষ হয় ৪ সেপ্টেম্বর। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে জুলাই-আগস্টে গণহত্যা চালানো হয়েছে জানিয়ে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। একইসঙ্গে অজানা অনেক তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে এনেছেন। ১ সেপ্টেম্বর দশম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। এদিন জবানবন্দি দিয়েছেন ছয়জন। এর মধ্যে চিকিৎসক-সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন।

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। আর এসবের জন্য দায়ী করে শেখ হাসিনা, কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

রশিদ খানরা এগিয়ে, তবুও রিশাদে ভরসা রাখছেন মুশতাক

এশিয়া কাপে ভালো সময় পার করছে না বাংলাদেশ দল। একইভাবে ভালো করতে পারছেন না রিশাদ হোসেনও। হংকংয়ের বিপক্ষে দুই উইকেট পেলেও অন্য বোলারদের তুলনায় কিছুটা খরুচে ছিলেন রিশাদ। সবশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র এক ওভারেই দিয়েছিলেন ১৮ রান। সবমিলিয়ে রিশাদের পারফরম্যান্স বেশ সাদামাটাই।

এরপরও রিশাদকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মুশতাক আহমেদ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সে (রিশাদ) তরুণ লেগ স্পিনার। যখন আপনি একটি ওভারে বিশেষ করে প্রথম ওভারে কয়েক ধরনের বল করার চেষ্টা করবেন তখন একটু লাইন লেন্থ হারিয়ে ফেলে। আমি আজ ওর সাথে কথা বলেছি। ওর স্ট্রেন্থ হলো প্রথম তিন বলে ভালো জায়গায় বল করা, এরপর আত্মবিশ্বাস পেয়ে ভেরিয়েশন চেষ্টা করা। সে খুব দ্রুত শিখবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন বল করতে হবে বুঝতে পারবে।’

রিশাদকে প্রসেস অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন টাইগারদের স্পিন কোচ মুশতাক, ‘ওকে প্রসেস মাথায় রাখতে হবে। প্রসেস জানলে, কন্ডিশন ও সিচুয়েশন জানলে, ভালো জায়গায় বল করতে হবে। ভালো বল যেকোনো ব্যাটারের জন্য যেকোনো কন্ডিশনেই ভালো বল। লাল বলে সে বেশি খেলেনি। আমার কাজ হলো ওকে প্রসেস মনে করিয়ে দেওয়া, যতদিন পর্যন্ত ফলাফল না আসে।’

আফগানদের অভিজ্ঞ স্পিন বিভাগ থাকলেও টাইগার স্পিনারদের উপর ভরসা রাখছেন মুশতাক, ‘ওদের রশিদ ও অন্যরা আছে। তারা গত ১৫-২০ বছর ধরে খেলছে। অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ওরা এগিয়ে। তার মানে এই নয় আমাদের স্পিনারদের ওপর আমাদের আস্থা নেই। পরিসংখ্যান দেখুন, আমাদের স্পিনাররা মিডল ওভারে ম্যাচ জেতায়, বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা ইকোনোমি। আমাদের স্ট্রেন্থ মাথায় রাখতে হবে। তাহলে স্পিন বিভাগ ভালো করবে ইনশাআল্লাহ।’