মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ওপর জোর প্রধান উপদেষ্টার

বাংলাদেশকে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধানের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ এবং তার সহকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলনের বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এখনই সময় বাংলাদেশকে গুরুত্বের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিকল্পসমূহ, বিশেষ করে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বিবেচনা করার।

গুগল সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ পরমাণু শক্তির নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড ব্যবস্থার সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন, যা নির্ভরযোগ্য, শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহে সক্ষম। তিনি বলেন, ভাসমান বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতকে বহু দশক ধরে শক্তি জোগাতে সক্ষম।

পেজ আরো উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাংকের মতো প্রধান উন্নয়ন অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর কাছে এখন আর পারমাণবিক শক্তি কোনো নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করছে।

তার মতে, উদ্ভাবনে বাংলাদেশের শক্তিশালী সাফল্যের কারণে দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে সক্ষম—যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানির দামের স্থিতিশীলতা এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

পেজ বলেন, বাংলাদেশ উদীয়মান প্রযুক্তির কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে এবং পরমাণু উদ্ভাবনে শান্তিপূর্ণ নেতৃত্ব দিতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি একটি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎনীতি প্রণয়ন করেছে, যার লক্ষ্য সৌরবিদ্যুতের প্রসার ত্বরান্বিত করা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক শক্তির বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে গভীর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এই সুযোগগুলো পরীক্ষা করব। তবে এসব আশাব্যঞ্জক প্রযুক্তি নিয়ে গভীর গবেষণার দরকার রয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই—বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা ব্যাপকভাবে কমাতেই হবে।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

সাইবার স্পেসে জুয়ার শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা কোটি টাকা

সাইবার স্পেসে জুয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার শাস্তি হবে দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরকারি তথ্যবিবরণীতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে আরো জানানো হয়েছে, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর ২০ ধারা অনুযায়ী এই শাস্তির বিধান রয়েছে।

ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ২১ কিমি ম্যারাথন জয় তৌসিফ মাহবুবের

কভিড-পরবর্তী ফুসফুসের সমস্যার পরও হার মানেননি ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। এবার ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ২ ঘণ্টা ৪৭ মিনিটে ২১ কিলোমিটার দৌড় শেষ করেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর হাতিরঝিলে অ্যাক্টিভ প্লাস বাংলাদেশ আয়োজিত ‘হাফ ম্যারাথন ২০২৫’-এ কয়েক হাজার দৌড়বিদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন তৌসিফ। ম্যারাথন জয় করে এবার স্বপ্ন দেখছেন আরো নতুন কিছু করার।

এই ম্যারাথন শেষ করতে পারবেন বলে ধারণাও ছিল না অভিনেতার, তবে নিজস্ব চেষ্টাতেই তা সম্ভব করেছেন। অভিনেতা জানান, কোভিডের পর ৫ মিনিট হাঁটলেই হাঁপিয়ে উঠতেন তিনি। সেখানে ২১ কিলোমিটার দৌড়ানো ছিল তার জন্য প্রায় অসম্ভব।

তৌসিফ মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২১ কিমি ম্যারাথন শেষ করতে পারব, এটা আমি কখনো কল্পনাই করিনি।
কারণ, কভিড হওয়ার পর আমার লাংসের ৩৫ শতাংশ সংক্রমিত হয়ে গিয়েছিল। তখন ১০০ মিটার হাঁটতে গেলে আমার দশ মিনিট বসে থাকতে হতো, বিশ্রাম নিতে হতো। সেখানে এতটা পথ দৌড়ানো সহজ ছিল না। এটা মুখে বলা যত সহজ বাস্তবে অনেক কঠিন।
আমি দেখছিলাম, অনেকেই পারছিলেন না; মাঝপথে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তাদেরকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তারপরেও আমি থামিনি, পুরো ২১ কিমিই শেষ করেছি। এই সাহসটা করতে পেয়েছি আয়োজক তানভীর ভাইয়ের জন্য। তার উৎসাহের কারণেই ঝুঁকি নিয়েছিলাম।

‘অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তি তৌসিফের আরো অনেক কিছু পাওয়ার আছে। এই ম্যারাথন দৌড় তারই একটা। এই অর্জনটা একান্তই ব্যক্তি তৌসিফের। এটা কারো কাছে প্রমাণ করার জন্য নয়, পুরোপুরি নিজের জন্যই করলাম।’- যোগ করেন এই অভিনেতা।

ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্য আরো অনেক কিছুই করতে চান বলেও জানিয়েছেন তৌসিফ। তার ভাষ্যে, ‘এর আগে ১০ কিমি ম্যারাথন দৌড় করেছিলাম, এবার ২১ কিমি। এ রকমই ছোট ছোট কিছু চাওয়া আছে, যেগুলো আমি করতে চাই একেবারে নিজের জন্য। আমার এভারেস্টেও ওঠার ইচ্ছা আছে। যদি কখনো সম্ভব হয় আমি সেটাও হয়তো করব। তার আগে এই ম্যারাথন ছোট্ট প্রয়াস।’

ম্যারাথনে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নেওয়ার প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘ম্যারাথনের মাঝপথে দেখি, একজন ভাই (দৌড়বিদ) ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। সেটা দেখে আমি খুব অনুপ্রাণিত হই এবং তার কাছে অনুরোধ করি পতাকাটা দেওয়ার জন্য। তিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে যে বার্তাটি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন, সেটাই আমি নিজের হাতে বহন করি এবং পতাকাটি নিয়েই আমি পুরো ২১ কিলোমিটার দৌড় শেষ করি।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গেল বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর তিন শ ফিটে অনুষ্ঠিত ১০ কিলোমিটারের ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন তৌসিফ মাহবুব।

সুপার ফোরে পরপর দুই দিন বাংলাদেশের ম্যাচ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার জয়ে সুপার ফোরের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে উচ্ছাস করার সময় নেই টাইগারদের হাতে। আগামীকাল শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এশিয়া কাপের পরবর্তী রাউন্ড।

এর আগে একই গ্রুপে থাকা শ্রীলঙ্কার কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে এবার ভিন্ন ফলের জন্যই মাঠে নামবে টাইগাররা।

এরপর তিন দিনের বিরতি দিয়ে বুধবার ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। তবে পরদিনই (বৃহস্পতিবার) পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে হবে টাইগারদের। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে শুধু বাংলাদেশকেই খেলতে হবে পরপর দুই দিন।

এছাড়া রোববার বর আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। করমর্দন কাণ্ডের পর এবার দুই দল আবু ধাবির মাঠে নেমে কী করে তা নিয়ে কৌতূহল থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

গাজায় নিহত আরো ৫০, মোট সংখ্যা ৬৫ হাজার ছাড়াল

ইসরায়েল গাজাজুড়ে আরো ৫০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এসব নিহতের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এর ফলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার ২০০-তে পৌঁছেছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে গাজার উদ্ধারকর্মীরা দাবি করেছেন। কারণ ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষের দেহাবশেষ আটকা পড়ে আছে।

এদিকে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে বোমা বিস্ফোরণে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। রাফাহ শহরে একটি সড়কের পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হলে একজন কর্মকর্তা ও তিনজন সেনা নিহত হন।

নিহতরা হলেন— মেজর ওমরি চাই বেন মোশে (২৬), লেফটেন্যান্ট এরান শেলেম (২৩), লেফটেন্যান্ট ইটান আভনার বেন ইৎজহাক (২২), লেফটেন্যান্ট রন অ্যারিয়েলি (২০)। নিহত চার সেনা বাহাদ ১ অফিসার্স স্কুলের ‘ডেকেল ব্যাটালিয়নে’ দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর মধ্যে বেন মোশে ছিলেন একটি কম্পানির কমান্ডার। বাকি তিন সেনা ছিলেন ক্যাডেট, যাদের মরণোত্তর লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা হলো গাজায় সর্বশেষ ইসরায়েলি সেনা হতাহতের ঘটনা। এর ১০ দিন আগে গাজা সিটির উপকণ্ঠে হামাসের এক হামলায় চার সেনা নিহত হয়েছিল।

এরপর থেকে আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) চলতি সপ্তাহের শুরুতে গাজা সিটিতে বড় ধরনের স্থল অভিযানে নামে। কয়েক সপ্তাহ প্রস্তুতির পর তারা উত্তর গাজায় অবস্থিত শহরটি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে স্বাক্ষর সংগ্রহে নেমেছে জাজিম নামের একটি অ্যাডভোকেসি সংস্থা।
এরই মধ্যে এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাজিমের পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন সাত হাজার পাঁচ শতাধিক ইসরায়েলি।

ইসরায়েলে অবস্থিত বামপন্থী ইহুদি ও আরবদের রাজনৈতিক সংগঠন জাজিম, যারা মূলত বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিবেশের অধিবেশন শুরু হবে। তাদের লক্ষ্য তার আগেই ১০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তাদের পিটিশন সেই অধিবেশনে পাঠানো।

গাজায় বোমা বিস্ফোরণে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে বোমা বিস্ফোরণে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। খবর মিডল ইস্ট মনিটর ও টাইমস অব ইসরায়েলের।

সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাফাহ শহরে একটি সড়কের পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হলে একজন কর্মকর্তা ও তিনজন সেনা নিহত হন।

ইসরায়েলি সেনারা নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে।
তারা হলেন— মেজর ওমরি চাই বেন মোশে (২৬), লেফটেন্যান্ট এরান শেলেম (২৩), লেফটেন্যান্ট ইটান আভনার বেন ইৎজহাক (২২), লেফটেন্যান্ট রন অ্যারিয়েলি (২০)।

নিহত চার সেনা বাহাদ ১ অফিসার্স স্কুলের ‘ডেকেল ব্যাটালিয়নে’ দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর মধ্যে বেন মোশে ছিলেন একটি কম্পানির কমান্ডার। বাকি তিন সেনা ছিলেন ক্যাডেট, যাদের মরণোত্তর লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা হলো গাজায় সর্বশেষ ইসরায়েলি সেনা হতাহতের ঘটনা। এর ১০ দিন আগে গাজা সিটির উপকণ্ঠে হামাসের এক হামলায় চার সেনা নিহত হয়েছিল।

এরপর থেকে আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) চলতি সপ্তাহের শুরুতে গাজা সিটিতে বড় ধরনের স্থল অভিযানে নামে। কয়েক সপ্তাহ প্রস্তুতির পর তারা উত্তর গাজায় অবস্থিত শহরটি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী লেখকদের বই পড়ানো নিষিদ্ধ করল তালিবান

আফগানিস্তানে আবারও নারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবান। দেশটিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নারী লেখকদের বই পড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে মানবাধিকার, যৌন হয়রানি ও নারীবিষয়ক একাধিক বিষয়ও পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যক্রম থেকে নারী লেখকদের লেখা বই সরিয়ে দিয়েছে তালেবান সরকার। একইসঙ্গে মানবাধিকার ও যৌন হয়রানি সম্পর্কিত পাঠদানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মোট ৬৮০টি বইয়ের মধ্যে ১৪০টি নারী লেখকের রচিত, যেগুলোকে তালেবান কর্তৃপক্ষ “শরিয়াহ ও সরকারের নীতির পরিপন্থি” বলে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ‘সেফটি ইন দ্য কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি’র মতো পাঠ্যপুস্তকও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও জানানো হয়েছে, তারা আর ১৮টি বিষয়ে পড়াতে পারবে না। এক তালেবান কর্মকর্তা বলেছেন, এসব বিষয় “শরিয়াহর মূলনীতি ও সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

মূলত তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর চার বছরে ধারাবাহিকভাবে নানা বিধিনিষেধ জারি করেছে। এছাড়া “অশ্লীলতা ঠেকাতে” এ সপ্তাহেই তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা দেশটির ১০টি প্রদেশে ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট নিষিদ্ধ করেছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও কিশোরীরা। ষষ্ঠ শ্রেণির পর তাদের শিক্ষা কার্যত বন্ধ, ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধাত্রীবিদ্যা কোর্সও বাতিল করা হয়। এবার বিশ্ববিদ্যালয়েও নারী বিষয়ক পাঠ্যক্রম সরাসরি নিষিদ্ধ করা হলো। আর ১৮টি নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে ৬টিই নারীদের নিয়ে, যেমন জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, দ্য রোল অব উইমেন ইন কমিউনিকেশন এবং উইমেন’স সোশোলজি।

অবশ্য তালেবান সরকার দাবি করছে, তারা “আফগান সংস্কৃতি ও শরিয়াহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী” নারীর অধিকারকে সম্মান করে।

বিবিসি বলছে, বই পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য বিবিসি আফগানকে নিশ্চিত করেছেন, “নারী লেখকদের সব বই পড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

তালেবান ক্ষমতায় ফেরার আগে বিচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী জাকিয়া আদেলির লেখা বইও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, “তালেবানের নারী বিদ্বেষী নীতি দেখে এটা অনুমেয় ছিল। যখন নারীদের পড়াশোনাই নিষিদ্ধ, তখন তাদের চিন্তাভাবনা ও লেখা দমন করাটাও স্বাভাবিক।”

এমনকি শুধু নারী লেখকই নয়, ইরানি লেখক ও প্রকাশকদের বইগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এক পর্যালোচক বিবিসিকে বলেন, এর উদ্দেশ্য আফগান পাঠ্যক্রমে “ইরানি কনটেন্ট প্রবেশ ঠেকানো”। ৬৮০টি নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় ৩১০টি ইরানি লেখক বা প্রকাশকের।

এক অধ্যাপক বলেন, এ বইগুলো বাদ দিলে শিক্ষাব্যবস্থায় মারাত্মক শূন্যতা তৈরি হবে। তার মতে, “ইরানি লেখক ও অনুবাদকরা আফগান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক একাডেমিক সমাজের প্রধান সেতু। এগুলো সরিয়ে দিলে উচ্চশিক্ষায় এক বিশাল ফাঁক তৈরি হবে।”

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক জানান, তালেবান সরকারের আরোপিত শর্ত মেনে এই পরিস্থিতিতে তারা নিজেরাই পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় লিখতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে তার প্রশ্ন, এসব লেখা কি বৈশ্বিক মান রক্ষা করতে পারবে?

বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে এগিয়ে যাবে : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীন তাদের ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে একসাথে কাজ করবে, যা উভয় দেশ ও বিশ্বের জনগণের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গত বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে চীনা দূতাবাস আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এক ভিডিও বার্তায় এই মন্তব্য করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৬তম বার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রতি চীনের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা, সহায়তা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনগণের সেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এর অনুপ্রেরণা ও অবদানের প্রশংসা করেন।

চীনকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের প্রতি চীনের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা, সহায়তা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অনুষ্ঠানে বলেন, ২০২৫ সাল কেবল গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, বরং জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকীও।

তিনি আট দশক আগে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় চীনের অপরিসীম ত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শক্তিশালী রেকর্ডসহ একটি প্রধান শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিশালী নেতৃত্বে, চীনা জনগণ নিরঙ্কুশ দারিদ্র্য দূরীকরণের অলৌকিক সাফল্য অর্জন করেছে। চীন সর্বদা বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য একটি শক্তি হিসেবে থাকবে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছেন, যা বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার একটি নজির।

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তিনি বলেন, দুই দেশ শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সমান সমান সহযোগিতার দ্বারা পরিচালিত সুসম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বদা ভালো প্রতিবেশী, আন্তরিক বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশকে তার আধুনিকীকরণের যাত্রায় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং ভবিষ্যতে একটি চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় গঠনে একটি নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামো, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় চীনের অবদানের প্রশংসা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশি জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা প্রদান করেছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, দুটি দেশ জনগণের মধ্যে গভীর বন্ধন গড়ে তুলেছে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, প্রধান রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, চীনা সম্প্রদায়ের সদস্য, শিক্ষাবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং থিংক ট্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞসহ ৬০০ জনেরও বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

ফের যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো, গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাতিল

ইসরায়েলি সেনারা দুই দিক থেকে অগ্রসর হয়ে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের গাজা নগরীর কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। টানা বোমা হামলায় আতঙ্কে হাজারো মানুষ পশ্চিমের উপকূলীয় সড়কের দিকে ছুটছে।

একই সঙ্গে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, নগরীর শেষ জীবনরেখাও ভেঙে পড়ছে। এছাড়া জাতিসংঘে ফের যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোতে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি সেনারা দুই দিক থেকে অগ্রসর হয়ে গাজা নগরীর কেন্দ্রের দিকে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে স্থানীয়দের যেন এক প্রকার “স্যান্ডউইচ”-এর মতো মাঝখানে আটকা ফেলে উপকূলের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আর এর উদ্দেশ্য, তাদের নগরীর সবচেয়ে বড় এই জনবসতিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পদাতিক, ট্যাংক ও আর্টিলারির সমন্বয়ে কেন্দ্রের দিকে অভিযান চালানো হচ্ছে, যার পেছনে বিমানবাহিনীরও সমর্থন রয়েছে। এর লক্ষ্য সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে চাপে ফেলা।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, সেনারা উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অগ্রসর হয়ে মানুষকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর এদিকেই আল-রাশিদ উপকূলীয় সড়ক দক্ষিণে চলে গেছে। তিনি বলেন, “ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাঁচাতে ছুটছে। আমরা এখন ঢেউয়ের মতো মানুষের স্রোত দেখতে পাচ্ছি।

গাজা নগরীর বাসিন্দারা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, হামলা থামছে না। ড্রোন ও যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণের পাশাপাশি সেনারা দূরনিয়ন্ত্রিত “রোবট” ব্যবহার করছে। এগুলো বিস্ফোরকভর্তি মানববিহীন যান এবং এই অস্ত্র দিয়ে পুরো মহল্লা ধ্বংস করা হচ্ছে।

শুধু বৃহস্পতিবারই গাজা নগরীতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে পালানো পরিবারগুলোকে আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এমন এক ভূখণ্ডে যেখানে কোনো “নিরাপদ অঞ্চল” নেই। এবার শঙ্কা, হয়তো আর কখনো ঘরে ফেরাও সম্ভব হবে না।

তবুও অনেকেই রয়ে গেছেন। ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত গাজার উত্তরাঞ্চলে এখনো প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ — মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ — আটকা রয়েছেন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও মৌলিক সেবার পতনের কারণে এই সংখ্যা দ্রুত কমতে পারে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর (ওসিএইচএ) বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছে, গাজা নগরীর শেষ লাইফলাইনও ভেঙে পড়ছে।

ওসিএইচএ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে ত্রাণ ঢোকার পথ রুদ্ধ করছে। তারা জিকিম ক্রসিং বন্ধ রেখেছে, যার মাধ্যমে দুর্ভিক্ষপীড়িত উত্তরে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব ছিল, পাশাপাশি অনেক খাদ্যপণ্য প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

গাজা নগরীর বাইরে, অন্য এলাকায়ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অভিযোগ করেছে, গাজায় বিমান হামলায় যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য করার আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতাকে ইসরায়েল স্পষ্টতই অবহেলা করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। প্রস্তাবটিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছিল।

রাশিয়ায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প: সুনামি সতর্কতা জারির পর প্রত্যাহার

রাশিয়ার উপকূলে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর জারি করা সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে এই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়। এর আগে, বেলা ১১টার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাশিয়ার কামচাতকার পেট্রোপাভলভস্ক থেকে প্রায় ৯০ মাইল পূর্বে। এটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার (৬.২১ মাইল)।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টারের (এনটিডাব্লিউসি) তথ্যানুযায়ী, অন্য কোনো মার্কিন বা কানাডীয় মহাদেশীয় এলাকা সতর্কতার আওতায় ছিল না। হাওয়াইকেও এই সতর্কতার বাইরে রাখা হয়েছিল। সংস্থাটি সতর্ক করেছিল, রাশিয়ার উপকূলের কিছু অংশে ৩-৯ ফুট (১-৩ মিটার) উচ্চতার সুনামির ঢেউ দেখা যেতে পারে।

এর আগে, হাওয়াইয়ে প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার একটি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছিল, এখনই বলা যাচ্ছে না, রাজ্যের জন্য কোনো হুমকি আছে কিনা। সেন্টারটির আরও পরামর্শ ছিল, যদি হাওয়াইয়ের জন্য কোনো সুনামি হুমকি থাকে, তবে তা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে শুরু হতে পারে।

পরে হাওয়াইয়ে সব ধরনের সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানায়, রাশিয়ায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে হাওয়াইয়ের জন্য কোনো হুমকি নেই।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল বা কানাডার উপকূল বরাবর কোথাও ধ্বংসাত্মক সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।

সুনামি সেন্টার আরও জানায়, কোনো ধ্বংসাত্মক সুনামি রেকর্ড করা হয়নি এবং আলাস্কা থেকে কোনো সুনামির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সেখানকার কর্মকর্তারা উপকূলের বাসিন্দাদের স্থানীয় জরুরি কর্মকর্তারা নিরাপদ না বলা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।

জাপান আবহাওয়া সংস্থার এক পূর্বাভাসে জানানো হয়, রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপ বরাবর সামান্য সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন হতে পারে। তবে জাপানে কোনো সুনামি সতর্কতা বা পরামর্শ জারি করা হয়নি।

ধারনা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পটি সম্ভবত গত ২৯ জুলাই আঘাত হানা ঐতিহাসিক ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আফটারশক ছিল, যা প্রশান্ত মহাসাগরের বেশিরভাগ অংশে সুনামি সতর্কতা পাঠিয়েছিল। যদিও হাওয়াই এবং যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে কিছু ছোট সুনামির ঢেউ দেখা গিয়েছিল, তবে কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।