সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদদের ভিসা দেবে না ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া সরকার জানিয়েছে, জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের ভিসা দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।

আগামী ১৯ অক্টোবর জাকার্তায় শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় ৮৬টি দেশ অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলও—যাদের দলে আছেন ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের স্বর্ণপদকজয়ী ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আরতেম দোলগোপিয়াত।
তবে এখন তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আইনমন্ত্রী ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্র শনিবার এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, ‘সরকার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের ভিসা দেবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।’ যদিও সম্প্রতি জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি সম্মান করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেছিলেন ‘শালোম’ শব্দ দিয়ে।

তিনি তখন বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই প্রকৃত শান্তি অর্জন সম্ভব।’

ইন্দোনেশিয়ার জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন এর আগে ছয়জন ইসরায়েলি অ্যাথলেটের জন্য ভিসা স্পন্সর করার আবেদন জমা দিয়েছিল। তবে পরে তারা সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানান মাহেন্দ্র।

ইসরায়েলি দলের অংশগ্রহণ ঘিরে গত কয়েক দিনে ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিবিদ, ইসলামী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আপত্তি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ‘গাজায় গণহত্যা চালানো’ একটি দেশের খেলোয়াড়দের ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

ইসরায়েলি জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্বজুড়ে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিক্রিয়া যেভাবে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ছে, ইন্দোনেশিয়ার এই সিদ্ধান্তও তার সাম্প্রতিক উদাহরণ।

যে শর্তে ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য মনোনীত করবে ইউক্রেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আজ শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার না জেতেন, তাহলে ইউক্রেনের সমর্থনে তিনি আগামী বছর আরেকটি সুযোগ পেতে পারেন।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে সহায়তা করলে ইউক্রেন ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করবে।’ খবর রয়টার্সের।

এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘যদি ট্রাম্প বিশ্বকে বিশেষ করে ইউক্রেনের জনগণকে— এমন এক যুদ্ধবিরতির সুযোগ দেন, তাহলে হ্যাঁ, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা উচিত।
আমরা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাকে মনোনীত করব।’

তবে কিয়েভই একমাত্র সরকার নয়, যারা ট্রাম্পের নোবেল পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-টে মঙ্গলবার বলেছেন, যদি ট্রাম্প চীনকে দ্বীপটির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে রাজি করাতে পারেন, তবে তিনি এই সম্মানের যোগ্য।

গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য ২০০ সেনা মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র

গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য একটি যৌথ টাস্ক ফোর্সের অংশ হিসেবে ২০০ জন সেনা মোতায়েন করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে কোনো মার্কিন সেনা গাজার মাটিতে অবস্থান করবে না। বৃহস্পতিবার দুইজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, এই ২০০ সেনা সদস্য একটি মূল টাস্ক ফোর্সের অংশ হবেন, যেখানে মিশরের সশস্ত্র বাহিনী, কাতার, তুরস্ক এবং সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার মিশরের লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর শারম আল-শেখে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দুই বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজা বিষয়ে ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে— সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া বিনিময়ে প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে হামাসকে বাদ দিয়ে গাজায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, ফিলিস্তিনি ও আরব-ইসলামী দেশগুলোর যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আরব ও ইসলামী দেশগুলোর অর্থায়নে গাজা পুনর্গঠন এবং সীমিত আকারে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণেরও উল্লেখ রয়েছে।

ফিলিপাইনে ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ভূকম্পনবিদ্যা সংস্থা। ইতোমধ্যে সেখানে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার মিন্দানাও অঞ্চলের দাভাও ওরিয়েন্টালের মানয় শহরের সমুদ্র উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অফ ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলক্স) জানিয়েছে, ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।
ভূমিকম্পের পর আফটারশক হতে পারে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে এক মিটারের বেশি উঁচু ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি। মধ্য ও দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে অথবা দেশটির মধ্যাঞ্চলে দিকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুনামির সতর্কতা জারি করে মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ সংস্থা বলেছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) মধ্যে অবস্থিত উপকূলে বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।

দক্ষিণ ফিলিপাইনের দাভাও ওরিয়েন্টাল প্রদেশের গভর্নর বলেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পটি খুবই শক্তিশালী ছিল এবং এতে কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান গভর্নর।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র কেন হামাসকে নিরস্ত্র করতে চাইছে

বছরের পর বছর ধরে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবে একটি একক লাইন পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে : ‘হামাসকে নিরস্ত্র করতে হবে, গ্রুপটিকে ভেঙে ফেলতে হবে এবং তাদের গাজা ছেড়ে যেতে হবে।’ এই দাবিটি যেকোনো টেকসই শান্তির জন্য একটি অ-আলোচনাযোগ্য পূর্বশর্ত। তবুও, যারা ইতিহাসের বই পড়েছেন অথবা যারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের কাছে এটি প্রায় হাস্যকরভাবে নির্বোধ শোনাচ্ছে। যুক্তিটি যতটা ভঙ্গুর ততটাই পরিচিত : ‘যদি হামাস তার অস্ত্র ত্যাগ করে, শান্তি অবশ্যই আসবে।

কিন্তু দাবিটি হামাসের ঐতিহাসিক এবং আদর্শিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে একটি গভীর ভুল-বোঝাবুঝি প্রকাশ করে। এটি এই সরল, নিষ্ঠুর সত্যকে উপেক্ষা করে যে আধুনিক ইতিহাসে কোনো সশস্ত্র আন্দোলন কখনো কেবল প্রতিশ্রুতির জন্য তার বন্দুক বিক্রি করেনি। কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েলকে তার সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে দেখা যাওয়ার কারণ হলো যে হামাসকে এখন যা করতে বলা হচ্ছে, তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে : ভবিষ্যতের রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার একক গ্যারান্টি ছাড়াই তার সবচেয়ে মূল্যবান শক্তির উৎস ত্যাগ করা। দুর্বল পক্ষ শক্তিশালী পক্ষের ওপর আস্থা রাখলে কী ঘটে তার যদি কোনো মডেল থাকে, তবে তা হলো ১৪৯২ সালের গ্রানাডার গল্প।

দীর্ঘ অবরোধের পর স্পেনের শেষ মুসলিম দুর্গটি ক্যাথলিক রাজা ফার্দিনান্দ এবং ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পণ করে। গ্রানাডার চুক্তি ছিল ৮০ পৃষ্ঠার প্রতিশ্রুতির একটি দলিল, যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে মুসলমানরা তাদের জীবন, সম্পত্তি, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, তাদের বিশ্বাস বজায় রাখবে। দুই বছরের মধ্যে, এটি হয়ে যায় একটি অর্থহীন কাগজের টুকরা। এই ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা কোনো অস্পষ্ট পাদটীকা নয়; এটি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ঝুঁকির একটি শক্তিশালী শিক্ষা।

এটি শিক্ষা দেয় যে যখন ক্ষমতা অপ্রতিসম হয়, তখন একটি প্রতিশ্রুতি শক্তিশালী পক্ষের জন্য একটি অস্থায়ী অসুবিধা ছাড়া আর কিছুই নয়। হামাসের দৃষ্টিকোণ থেকে, নিরস্ত্রীকরণের দাবি শান্তির পথ নয়। অস্ত্র সমর্পণ করা মানে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণরূপে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া, যদি সেই প্রতিশ্রুতি অনিবার্যভাবে ভঙ্গ করা হয়, তবে আর কোনো উপায় থাকবে না।
ভিয়েত কং বিপরীত শিক্ষা গ্রহণ করেছিল। প্যারিস শান্তি চুক্তির সময় তাদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল যদি তারা অস্ত্র সমর্পণ করে।

তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল। রাইফেল আঁকড়ে ধরে তারা আমেরিকার অপ্রতিরোধ্য যুদ্ধশক্তিকে বাতিল করে দিয়েছিল এবং পরিণামে তারা মার্কিন ইতিহাসের যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যতম পরাজয় ডেকে আনে। হ্যানয় বুঝতে পেরেছিল যা ওয়াশিংটন কখনো বুঝতে পারেনি : ‘অসম যুদ্ধে অস্ত্র আলোচনাযোগ্য নয়’। এগুলো বেঁচে থাকার জন্য। হামাসের জন্য, সমান্তরালতাগুলো স্পষ্ট। তাদের সামরিক শাখা তাদের ক্ষমতার প্রাথমিক উৎস, একমাত্র জিনিস যা বিশ্বকে তাদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিতে বাধ্য করে।

অস্থায়ী আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ) অবশেষে তার অস্ত্র সমর্পণ করেছিল, কিন্তু এটি আস্থার কাজ ছিল না। এটি ছিল একমাত্র উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম যা নিয়মটি প্রমাণ করে। আইআরএর রাজনৈতিক শাখা সিন ফেইন সরকারে একটি নিশ্চিত এবং অর্থবহ ভূমিকা অর্জনের পর নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বন্দিদের মুক্তি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের পর এটি করা হয়েছিল।

সূত্র : মডার্ন ডিপ্লোমেসি

যুদ্ধ শেষ হলে গাজার ভবিষ্যৎ কেমন হবে

ইসরায়েল ও হামাস গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতারও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপের ‘সব শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলার্স ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, ইসরায়েল গাজার হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।
৯০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করলেও গাজা উপত্যকা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। গাজার ফিলিস্তিনিরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আশায় রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও তারা নিজেদের শহর, গ্রাম পুনর্গঠনের দীর্ঘ ও জটিল পথেই থাকবেন।
আর তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাও হবে কষ্টকর।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হবে। আর পুরো উপত্যকাকে পুনরায় বাসযোগ্য করতে কমপক্ষে ১৫ বছর সময় লাগতে পারে। যদি ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ বড় সমস্যা না করে, তাহলেই গাজা পুনর্গঠন সম্ভব।

অবশ্য ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন বলছে, এর আগে ছোট ছোট যুদ্ধের পরও ইসরায়েলি অবরোধ গাজা পুনর্গঠনকে অনেক কঠিন করেছে।
দোহায় অবস্থানরত গাজা বিশেষজ্ঞ আজমি কেশাউই আলজাজিরাকে বলেছেন, যুদ্ধোত্তর যেকোনো পরিকল্পনায় ইসরায়েলের ওপর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপ থাকা আবশ্যক, যাতে নির্মাণসামগ্রী প্রবেশ করতে পারে।

ফিলিস্তিনিরা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে এই বিশেষজ্ঞ বলছেন, ‘কেবল তাদের ইচ্ছা থাকাটাই যথেষ্ট নয়, এটি কেবল তাদের ওপরই নির্ভর করে না।’

এ ছাড়া ট্রাম্পের পরিকল্পনার একটি শর্ত হলো হামাসকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।

তবে গাজার ভবিষ্যতের জন্য পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভয় রয়েছে যে, হামাস ক্ষমতা ছাড়লে উপত্যকাটি অরাজকতা ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। গাজাভিত্তিক সাংবাদিক ইয়াসের আল-বানা বলছিলেন, ‘গাজায় হামাস সরকারের একটি সুবিধা হলো তারা নিরাপত্তা বজায় রাখে।’
গাজায় গণহত্যা চালানোর সময় ইসরায়েল স্বেচ্ছায় গাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কুখ্যাত গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে। এসব গোষ্ঠী ত্রাণ চুরি করে নিয়ে বিক্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ লাভ তুলে নিয়েছে।

যদিও গোষ্ঠীগুলো এখন সমস্যা তৈরি করছে, তবে কেশাওয়ি মনে করেন, ইসরায়েল গাজা ছাড়লে তারা টিকে থাকবে না। কারণ ফিলিস্তিনি সমাজ এমন লোকেদের উপেক্ষা করবে, যারা বেশির ভাগ সাধারণের চোখে বিশ্বাসঘাতক।

তবে দলীয় সংঘাত, বিশেষ করে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে সংঘাত সমস্যার কারণ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফাতাহর হাতে। আর গাজা নিয়ন্ত্রণ করে হামাস। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে গোষ্ঠীটি অনেকাংশেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

২০০৬ সালে হামাস নির্বাচনে জিতে গেলে ফাতাহর সঙ্গে বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সূচনা ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির সময় থেকে।

হামাস তাদের প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ইসরায়েলকে স্বীকার করেনি এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ ত্যাগ করেনি। ফলে গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর চোখে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

হামাসকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র ফাতাহকে সমর্থন দেয়, যা পরিস্থিতিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। ২০০৭ সালের জুনে হামাস ফাতাহকে উৎখাত করে। এতে ফিলিস্তিনি জাতীয় আন্দোলনের মধ্যে বিভাজন স্থায়ী হয়ে যায়। কেশাওয়ির মতে, আঞ্চলিক দেশগুলো ও সম্ভবত ইসরায়েলের সমর্থনে নির্বাসিত ফাতাহ নেতাদের কেউ কেউ ফিরে এলে তাঁরা হামাস ও তাঁদের মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারেন। সূত্র : আলজাজিরা

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বেড়েছে। এবার ভরিতে প্রায় সাত হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দামে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ১০১ টাকা।

বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে বাজুস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবারও (১০ অক্টোবর) একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

সোনার আজকের বাজারদর—

• ২২ ক্যারেট: ভরিপ্রতি ২,০৯,১০১ টাকা

• ২১ ক্যারেট: ভরিপ্রতি ১,৯৯,৫৯৪ টাকা

• ১৮ ক্যারেট: ভরিপ্রতি ১,৭১,০৮৮ টাকা

• সনাতন পদ্ধতি: ভরিপ্রতি ১,৪২,৩০১ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে।
তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

অন্যদিকে, সোনার দামের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৯৫১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭৪৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭১ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৬ টাকায়।

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

নানা প্রয়োজনে মানুষ দোকানপাট ও মার্কেটে যায়। কিন্তু তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে যদি দেখতে পায় সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে বিফলে যাবে সব। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক শুক্রবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকবে যেসব শপিং সেন্টার

আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চক বাজার, বাবু বাজার, নয়া বাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ

সামরিক জাদুঘর : এটি বিজয় সরণিতে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও : বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির জন্য বন্ধ থাকে।

শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫টাকা। এ ছাড়া শনি ও রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়।

শিশু একাডেমি জাদুঘর : শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

বাতিল হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সব মামলা, দায়মুক্তি পাচ্ছেন আসামিরা

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আবারও সংশোধন করছে সরকার। এর মাধ্যমে এরই মধ্যে রহিত হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে থাকা সব মামলা বাতিল ঘোষণা করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ওই আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও মামলায় অভিযুক্ত সবাই মামলার দায় থেকে মুক্তি পাবেন এবং তদন্তাধীন মামলাও বাতিল হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক।
বৈঠকে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর ৫০ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ১১টি অধ্যাদেশ এবং তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়ে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ধারা ৫০ সংশোধন করে ৫০ এর উপ-ধারা (৪) এর পর নতুন উপ-ধারা (৪ক) যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রহিত হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ৩১ এবং ধারায় বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে সহায়তার অপরাধে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্নাধীন কোনো মামলা বা অন্যান্য কার্যধারা অথবা কোনো পুলিশ অফিসার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তাধীন মামলা বা কার্যক্রম বাতিল হবে এবং উহাদের বিষয়ে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

এসব ধারার অধীন কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড ও জরিমানা বাতিল বলে গণ্য হবে। ভার্চুয়াল জগতের অপরাধ দমনে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছিল। সেখানে অনেক ‘নিবর্তনমূলক’ ধারা নিয়ে সমালোচনা চলতে থাকায় ২০২৩ সালে কিছুটা সংশোধন এনে করা হয় সাইবার নিরাপত্তা আইন। অন্তর্বর্তী সরকার এসে সেটা আরো সংশোধন করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ করে।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সালের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অধীনে হওয়া সব মামলা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ওই আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও মামলায় অভিযুক্ত সবাই মামলার দায় থেকে মুক্তি পাচ্ছেন।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে সাড়ে ২৭ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভের পরিমাণ সাড়ে ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী বর্তমানে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩২ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের জোগান বেড়েছে। এসব ব্যাংক অতিরিক্ত ডলার অন্য ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করছে, যার ফলে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবাহ দেখা যাচ্ছে।

রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনের কারণ জানতে চাইলে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ বাড়ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪টি নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ২ বিলিয়নের বেশি ডলার কিনেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের আমদানি ব্যয় ও ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।