সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের পথে মানুষ

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে তাদের আর্টেমিস মহাকাশ অভিযানের সূচনা করেছে। এর মধ্য দিয়ে ৫৩ বছরের বেশি সময় পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে নভোচারী পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই অভিযান শুরু হয়। বহু বছর পর মানুষবাহী মহাকাশযান চাঁদের পথে রওনা হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ক্যাপসুল কক্ষপথে পৌঁছবে। সেখানে নভোচারীরা নানান পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি চাঁদে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পাবে।

‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।

উৎক্ষেপণের সময় কেনেডি স্পেস সেন্টার এলাকায় হাজারো মানুষের ভিড় ছিল। রকেটটি আকাশে উঠতেই উপস্থিতদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

মিশনের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নভোচারীরা এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জেরেমি হ্যানসেন বলেন, এটি কেবল একটি দেশের নয়, বরং পুরো মানবজাতির প্রতিনিধিত্বকারী এক যাত্রা।

তবে এই মিশনে চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা নেই। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবেন এবং মহাকাশযানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করবেন। বিশেষ করে, আগে মানুষ বহন না করা এই মহাকাশযানের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত পরবর্তী বড় লক্ষ্য পূরণের প্রস্তুতি। আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে আবার মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন। একে চাঁদে আর মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১

ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ বৃহস্পতিবার পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে ৭৫ সেন্টিমিটার (২.৫ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হয় এবং সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে পরবর্তী সময় সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভোরে সুলাওয়েসি ও মালুকু দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী মলুকা সাগরে ৩৫ কিলোমিটার অগভীর স্থানে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

এদিকে উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহরে একটি ভবন ধসে একজন নিহত হয়েছেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন স্থানীয় এক অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা। জর্জ লিও মার্সি রান্দাং টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে এবং মানাদো ও তার আশেপাশে… একজন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছিলেন।’

হাওয়াইভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার (পিটিডব্লিউসি) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে এক হাজার কিলোমিটার (৬২১ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়ার উপকূল বরাবর বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বিএমকেজির তথ্যমতে, ভূমিকম্পের আধা ঘণ্টার মধ্যে সুলাওয়েসি দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত উত্তর মিনাহাসা-তে ৭৫ সেন্টিমিটার এবং বিটুং-এ ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর মালুকু প্রদেশেও ৩০ সেন্টিমিটার উঁচু ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর পিটিডব্লিউসি তাদের সতর্কতা তুলে নেয় এবং জানায়, ‘সুনামির হুমকি এখন কেটে গেছে।’

তেরনাতের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ান্তো বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি তার বাড়ির ভেতরে ছিলেন এবং এরপর আতঙ্কিত লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, ‘ভূমিকম্পটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। আমি প্রথমে বাড়ির দেয়াল কাঁপতে থাকার শব্দ শুনি। যখন আমি বাইরে গেলাম, তখন দেখলাম বাইরে অনেক লোক।
ভূমিকম্পটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়েছিল।’

বড় ভূমিকম্পের পর আরো ১১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পের সময় মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত বাইরে ছুটে আসে। কম্পন বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রথমে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ইন্দোনেশিয়ার কিছু এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত সুনামির ঢেউ উঠতে পারে। পাশাপাশি ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, জাপানসহ কয়েকটি দেশে ছোট ঢেউয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়। তবে পরে এসব দেশে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। ইন্দোনেশিয়া ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে আচেহ প্রদেশে ৯.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

সব ব্যাংকে ‘বাংলা কিউআর’ অ্যাপ চালুর সময়সীমা নির্ধারণ

রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চলতি বছরের জুনের মধ্যে দেশের সব ব্যাংকে ‘বাংলা কিউআর’ অ্যাপ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজনেস এডিটরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

গভর্নর বলেন, ‘বাংলা কিউআর কোড চালু করা হলে নগদবিহীন লেনদেন বাড়বে, যা রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে।
তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না। খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণে সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত জাতীয় কিউআর ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট করা যায়।
এই স্পর্শবিহীন প্রযুক্তিতে লেনদেন দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় এটি আর্থিক খাতে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তা, রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকান বা যেকোনো ধরনের খুচরা বিক্রেতা এবং নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত, সব রকমের ক্রেতাদের জন্য স্পর্শবিহীন এই আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা ক্যাশ অথবা কার্ড স্পর্শ না করে সহজ এবং সুবিধাজনকভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। যেসব ব্যাংক তাদের মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআর সংযোজন করেছে এবং ভিসা দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে, সেসব ব্যাংকের ভিসা কার্ড দিয়ে এখন থেকে ক্রেতারা বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত দেশের জাতীয় কিউআর হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’। এর মাধ্যমে স্মার্টফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতারা ডিজিটালি পেমেন্ট করতে পারবেন। এই লেনদেনে টাকা স্পর্শ করার কোনো প্রয়োজন নেই, তাই এটিকে বলা হচ্ছে স্পর্শবিহীন প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে লেনদেন হবে দ্রুত এবং সুরক্ষিত। ‘বাংলা কিউআর’-এর এই সুবিধা নিতে উদ্যোক্তা, দোকানদার বা খুচরা বিক্রেতাদের কোনো ধরনের মেশিন বা যন্ত্রের প্রয়োজন নেই।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার বা ক্যাশিয়ারের মোবাইলে পেমেন্ট কনফার্মেশনের এসএমএস চলে আসবে এবং একটি মার্চেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে দোকানের মালিক তার দিনের সব লেনদেন দেখতে পারবেন। এই অ্যাপে উদ্যোক্তা, দোকানদার বা খুচরা বিক্রেতাদের জন্য থাকবে আরো অনেক ধরনের সেবা গ্রহণের সুবিধা যেমন-ডিজিটাল হালখাতা, ডিজিটাল সেবা বিক্রয় এবং সরবরাহকারী, পাইকারি বা পরিবেশকের পেমেন্ট ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ‘বাংলা কিউআর’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস)-এর লেনদেনকে একটি অভিন্ন কিউআর প্ল্যাটফর্মে আনা। এর মাধ্যমে যে কোনো গ্রাহক একক কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের ৭৫ শতাংশ লেনদেন ক্যাশলেস করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ‘বাংলা কিউআর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের বেশির ভাগ নেতারা মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেছেন।

ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনকে চাঁদে সফল উৎক্ষেপণের জন্য ধন্যবাদ জানান।
নভোচারীদের সাহসী উল্লেখ করে তাদের প্রশংসা করেন তিনি। এরপরে তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন।

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা অসাধারণ কাজ করেছে।
আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত না।’

সূত্র : বিবিসি

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরাসরি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের (১ এপ্রিল) কার্যসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংসদে একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রশ্নোত্তর পর্ব আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বুধবার সংসদের মুলতবি অধিবেশনে বক্তব্যকালে এক সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন—বিশেষ করে বুধবার—প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ রাখা হলে সংসদীয় কার্যক্রম আরো সুসংগঠিত হবে।

সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে প্রশ্নটি রেফার করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী সময় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সংসদের সরকারি ও বিরোধীদলের অনেক সদস্যই। তারা মনে করছেন, এর ফলে সংসদের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়বে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

‘দম’-কে টপকে এবার শীর্ষে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে দারুণ চমক দেখাচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। প্রথম সপ্তাহে অভাবনীয় সাড়ার পর দ্বিতীয় সপ্তাহে এক লাফে বেড়েছে শো। শো নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ‘দম’-কে টপকে এবার শীর্ষে চলে এলো তানিম নূর পরিচালিত সিনেমাটি।

স্টার সিনেপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ ১লা এপ্রিল থেকে তাদের ৮টি শাখায় মোট ২৯টি শো চলবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর।

অন্যদিকে প্রথম সপ্তাহের পর শো কমে এসেছে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ এর। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এই সিনেমাটির শো চলবে ১৯টি।
শো সংখ্যার হিসাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘রাক্ষস’, ৬টি শাখায় যার শো ১৩টি। এরপর ‘প্রেশার কুকার’ ৫টি শাখায় ৯টি শো নিয়ে রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

তালিকার শেষদিকে থাকা ‘প্রিন্স’ ৬টি শাখায় পাচ্ছে ৭টি শো।
পরিচালক তানিম নূরের ভাষ্যে, ‘দর্শকের কাছ থেকে যে সাড়া পাচ্ছি সেটা অভাবনীয়। প্রত্যেক দর্শক, যারাই আসছেন তারা তাদের বন্ধু-বান্ধব, পরিবার নিয়ে ছবিটি দেখতে আসছেন। সবাই দলবেঁধে দেখতে আসছেন।

এটা তো আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকুক, এটাই চাই।’
এদিকে আগামী ৩ এপ্রিল থেকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে কানাডার ১০টি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি এবং যুক্তরাজ্যের ৪টি থিয়েটারে চলবে ছবিটি।

একটি ট্রেনযাত্রাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্তর উঠে এসেছে।

হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত গল্পে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সাবিলা নূর ও আজমেরী হক বাঁধনসহ আরো অনেকে।

ব্যর্থতায় ‘প্রিন্স’, শাকিব খানের দুঃখ প্রকাশ

সাম্প্রতিক সময়ে পুরনো সমালোচনা পেছনে ফেলে নিজেকে যেন নতুন করে আবিষ্কার করেন শাকিব খান। উপহার দিতে থাকেন একের পর এক সুপারহিট সিনেমা। তবে এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া তার ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। দর্শক-ভক্ত-সমালোচকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ঢালিউডের এই শীর্ষ নায়ক।

সিনেমাটির বিভিন্ন টেকনিক্যাল জটিলতার কারণে ঈদের বাজারে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবিটি নানারকম সমালোচনার মুখে পড়ে। মুক্তির ১০ দিন পর জনসমক্ষে এসে শাকিব খান যেন এর দায় সময় ও পরিস্থিতির ওপরই বর্তান।

৩১ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স-এ বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিনেমাটি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এসময় শাকিব খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ, প্রযোজক শিরিন সুলতানা, অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, অভিনেতা ডা. এজাজ, ইন্তেখাব দিনারসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে কোনো ভনিতা না করে শাকিব খান সরাসরিই বলেন, “আমি যখন ‘প্রিন্স’ সিনেমার গল্প শুনেছি তখন মনে হয়েছিল এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সিনেমা হতে যাচ্ছে। হয়তো সময় স্বল্পতার কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি। এজন্য নির্মাতাসহ সবার পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আমার পরবর্তী সিনেমাতে ত্রুটিগুলো খেয়াল করবো।

এরপর এই নায়ক বলেন, ‘আমি ৩০টির বেশি গল্প শুনে একটি গল্প পছন্দ করি। বলতে গেলে, সারা বছরই গল্প শুনি। এরপর একটি গল্প পছন্দ করি। কিন্তু এবার যেটা হয়েছে সেটা ভিন্ন। আমরা তিন মাস ভারতে কাজের অনুমতি পাইনি।

এরপর যা হয়েছে সেটা আরো ভয়াবহ। যেখানে আমাদের সিনেমার সেট ফেলা হয়েছিল সেটা ভেঙে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখানেও অনেক সময় চলে গেছে। ফলে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হয়েছে। যার কারণে সময়ের অভাবে অনেক ত্রুটি থেকে গেছে। হায়াত মাহমুদ অনেক ভালো ও মেধাবী একজন নির্মাতা। আমরা যদি উপযুক্ত সময় পেতাম তাহলে ভালো কিছু হতো।’
‘আমার জীবনের এইটা কোনো সিনেমা যেটার শুটিং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত করেছি। তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে আইটেম গানের শুটিং ঈদের আগেই করেছি। এছাড়া পরী গানের শুটিং একদিনে শেষ করেছি। এগুলো হয়েছে শুধু সময়ের কারণে।’—যোগ করেন শাকিব।

প্রযুক্তিগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, মুক্তির পর প্রথম পাঁচ দিন মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাটি চলেনি, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের পর পাঁচদিন আমরা মাল্টিপ্লেক্সে ঢুকতে পারিনি। এটা কষ্টের।’

ক্রীড়া উন্নয়নে চীনকে পাশে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। সাক্ষাতে বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়, চীনও বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রস্তাবিত স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে চীনের বিনিয়োগ এবং ভলিবল, আরচারি ও শুটিংয়ের মতো ইভেন্টগুলোতে দক্ষ চীনা কোচ ও উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে জানান যে, বর্তমান সরকার ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি সব ক্রীড়া ইভেন্টকে সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ক্রীড়া ভাতা এবং ডিজিটাল ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী চীনের জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলকে বাংলাদেশে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং বাংলাদেশের উদীয়মান স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিতে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের ডিজিটাল ক্রীড়া উদ্যোগ ও খেলোয়াড়দের মাসিক ভাতার কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে চীনের জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, নিয়মিত ক্রীড়া সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

‘দম’ বাংলা ছবির সীমানা বড় করল

রেদওয়ান রনির আগের ছবি ‘চোরাবালি’ তখন হলে চলছে। ২০১২ সালের দিকের কথা। রনি বললেন, ‘ভাইয়া, দেখবেন না!’ বললাম, ‘দেখো, ফারুকীর ছবির স্ক্রিপ্ট আমার লেখা। ওইটাই দেখতে যাইনি। তুমি বললে যাব। বুইঝা বলো।’

রনি আর জোর করেননি। প্রিয় মানুষদের সিনেমা দেখার মতো রিস্কি জব আর দ্বিতীয়টা নাই। বের হওয়ার মুখে ক্যামেরা থাকবে, জিগ্যেস করবে, ছবিটা কেমন? আপনি তো আর রসিকতা করতে পারেন না, শেষ দৃশ্যটা খুব সুন্দর ছিল। ওই যে লেখা উঠল, সমাপ্ত…

রনি আমার একটা গল্প থেকে টিভি-চিত্র বানিয়েছিলেন। ‘জননী সাহসিনী’। ওইটা দেখে আমি রনির ব্যাপারে উচ্চ ধারণা পোষণ করতে শুরু করি। আর আমরা দুজন প্রথম আলোর অনেকগুলো প্রামাণ্যচিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, যেমন কলসিন্দুরের মেয়েদের নিয়ে বানানো ‘অদম্য মেয়েরা’। সবগুলোই ভালো হয়েছে বলে দাবি করা যায়।

‘দম’ কেমন হবে? খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম। কারণ, প্লট জানি। প্রথম আলোর এক ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত একটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। আফগানিস্তানে বাংলাদেশের একজন এনজিও কর্মী অপহরণের শিকার হন। তাঁর অপহৃত হওয়া, টিকে থাকা আর তাঁর মুক্তির কাহিনি। এই সিনেমা নিয়ে ভয় তিনটি।

১. দমবন্ধ কাহিনি। রিলিফ থাকবে না। দেখতে না কষ্ট হয়। আমি নিজে ক্লসটোফোবিক। লিফট ভয় পাই। ‘ওয়ান টুয়েন্টিসেভেন আওয়ার্স’ সিনেমা আরম্ভ করে পাঁচ মিনিট পর দেখা বন্ধ করেছি। গুহাতে অভিযাত্রীরা ওই ছবিতে আটকে পড়ে।

২. বাংলাদেশের বেশির ভাগ সিনেমার দৃশ্য, কস্টিউম, সেট, সংলাপ খেলনার মতো হয়। নিশো নিশোই থাকবেন, মোশাররফ করিম মোশাররফ করিমই, আপনি বুঝতে পারবেন, তাঁরা অভিনয় করছেন। আর তাঁদের সামনে ক্যামেরা আছে। পরিচালক আছেন। সামনে যা ঘটছে তা সিনেমা, জীবন নয়, বাস্তবতা তো নয়ই। রেদওয়ান রনি কি আমাদের মেকবিলিভ করাতে পারবেন যে এটা আফগানিস্তান? নিশো নয়, একজন বাংলাদেশি এনজিও কর্মী জিম্মি হয়ে আছেন?

৩ নম্বর ভয়টা আরও মারাত্মক। এটা না আবার ফেস্টিভ্যাল মুভি হয়ে যায়। পুরস্কার আসে, কিন্তু দর্শক আসে না।

সিনেমা দেখতে কষ্ট হয় না, আপনি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত কান্না-হাসি-মানবিক সহানুভূতিময় গল্প আপনাকে বুঁদ করে রাখে। আপনি দমবন্ধের অনুভূতি পাবেন না; বরং আফগানিস্তানের (যদিও শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে) বিস্তৃত মরুভূমি, পাহাড়, ঝরনা, ঘরবাড়ি দরদালান আপনার চোখকে এক অপরূপ আরাম দেবে।

এই সিনেমা দেখে এসে আপনাদের আমি বলতে পারি, এই তিনটা প্রশ্নেই রেদওয়ান রনি দশে দশ পাবেন। সিনেমা দেখতে কষ্ট হয় না, আপনি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত কান্না-হাসি-মানবিক সহানুভূতিময় গল্প আপনাকে বুঁদ করে রাখে। আপনি দমবন্ধের অনুভূতি পাবেন না; বরং আফগানিস্তানের (যদিও শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে) বিস্তৃত মরুভূমি, পাহাড়, ঝরনা, ঘরবাড়ি দরদালান আপনার চোখকে এক অপরূপ আরাম দেবে। আপনার মনে পড়ে যেতে পারে সৈয়দ মুজতবা আলীর আবদুর রহমানের সেই সংলাপ, পানশির হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ, ইনহাস্ত ওয়াতানাম, এই তো আমার জন্মভূমি। ‘দম’ সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে ভিজু৵য়ালি সুন্দর সিনেমা। এবং এই সিনেমায় আপনি বিশ্বসিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফিরবেন। সিনেমাটোগ্রাফি ওয়ার্ল্ড ক্লাস।

এবং ৩ নম্বর শঙ্কা, এটা কি ফেস্টিভ্যাল মুভি? না। একেবারেই না। এটা দর্শকদের ছবি। মূলধারার ছবি। বিকল্পধারার নয়।

এই সিনেমার জন্য পাণ্ডুলিপি নিয়ে রনি এবং তাঁর টিম বছরের পর বছর কাজ করেছেন। সেটার সুফল তাঁরা পেয়েছেন।

‘দম’ সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে ভিজু৵য়ালি সুন্দর সিনেমা। এবং এই সিনেমায় আপনি বিশ্বসিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফিরবেন। সিনেমাটোগ্রাফি ওয়ার্ল্ড ক্লাস।

কাহিনির মধ্যে অনেক উপকাহিনি, প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এই ছবিকে মধুর করে তুলেছে। আফরান নিশো আমাদের প্রটাগনিস্ট, যিনি আটকা পড়বেন, যাঁর অমর সংলাপ, ‘আমি শাহজাহান ইসলাম নূর। বাংলাদেশি মুসলমান। মনে রাইখো।’ নিশো তো হিরো হতে চান না, অভিনেতা হতে চান, এটা যেকোনো পরিচালকের জন্য বিশাল সুবিধা। আরেকটা দারুণ চরিত্র রানি, পূজা চেরী অভিনয় করেছেন যে চরিত্রে। এ তো আরেক বেহুলা, আরেক আয়েশামঙ্গল, যে উজান স্রোতে ভেসে তার স্বামীকে উদ্ধার করে ছাড়ে। বাস্তবেও একজন এনজিও কর্মী নূরের স্ত্রী তাঁর স্বামীর মুক্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় বসে পড়েছিলেন।

কাহিনির মধ্যে অনেক উপকাহিনি, প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এই ছবিকে মধুর করে তুলেছে। আফরান নিশো আমাদের প্রটাগনিস্ট, যিনি আটকা পড়বেন, যাঁর অমর সংলাপ, ‘আমি শাহজাহান ইসলাম নূর। বাংলাদেশি মুসলমান। মনে রাইখো।’

পূজা চেরী কী যে সুন্দর অভিনয় করেছেন! আরেকটা দারুণ চরিত্র চঞ্চল চৌধুরীর। কাহিনি বলে দেব না। তবে রনির স্ক্রিপ্টরাইটার-বাহিনীকে ধন্যবাদ এই চরিত্রটা তৈরি করবার জন্য। যেমন হাডুডু খেলা দিয়ে শুরু, আর শেষ—এটা তাৎপর্যপূর্ণ। চঞ্চলের বস হাকিম সাহেবের চরিত্রের বাঁকবদলও দারুণ। দুইটা ছোট্ট আফগান বালিকা, উফ্‌, মর্মস্পর্শী তাদের গল্প। আর ওই আফগান যুবক রশীদ, যে কথা বলে কম; কিন্তু আগাগোড়া যার উপস্থিতি একটা প্রসন্নতা ছড়ায়—অস্ত্র কাঁধে এক আফগান তালেবানও যে স্নিগ্ধ হতে পারেন! আর প্রধান খল চরিত্র যাঁর, তাঁকে তো আফগান বলা যাচ্ছে না, তিনি কোন দেশি, বলে দিলে স্পয়লার হয়। সেটা বলব না। শুধু বলব, হল থেকে বেরোনোর পরে দর্শকেরা টিভি ক্যামেরাতে সাক্ষাৎকার দেন, তাঁদেরই একজন বলেছেন, দেশপ্রেম যে এভাবেও ফুটিয়ে তোলা যায়, এই ছবি তা দেখিয়ে দিয়েছে। তাই বলি, নতুন প্রজন্মের সবার উচিত সিনেমাটা দেখা। দেশকে আরেকটু ভালোবাসা

ভোর হচ্ছে। আফগানিস্তানের পাহাড়ের ওপরে নিশো। সূর্য উঠছে। কিংবা পূজা আর নিশো একটা বালিশৃঙ্গের ওপরে। ওই বিপজ্জনক চূড়ায় ওরা উঠলেন কী করে? সে–ও তো আলাদা গল্প।

ভোর হচ্ছে। আফগানিস্তানের পাহাড়ের ওপরে নিশো। সূর্য উঠছে। কিংবা পূজা আর নিশো একটা বালিশৃঙ্গের ওপরে। ওই বিপজ্জনক চূড়ায় ওরা উঠলেন কী করে? সে–ও তো আলাদা গল্প। ওদের শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। কিংবা বাংলাদেশের অপরূপ দিগন্ত, শর্ষেখেত। রাজহাঁস দুটো ঠিক সময়ে পাখা মেলল কী করে? কিংবা গাধাগুলোই–বা এত ভালো অভিনয় করল কী করে?

গাধার পিঠে একজনকে তুলে দেওয়া হয়েছে। তালেবান জল্লাদের হাতে নাঙা তলোয়ার। গাধাটা যেই থামবে, অমনি তার কল্লা কাটা হবে। গাধা ঘুরছে। গাধা থামল। চলল তরবারি। মাথা লুটিয়ে পড়ল। বাংলাদেশি মুসলমান নূর সেই দৃশ্য দেখল। এবার তাকে তোলা হলো গাধার পিঠে। গাধা ঘুরছে। স্ত্রী বলেছিলেন, দোয়া ইউনুস পড়ো। নিশো বা নূর দোয়া ইউনুস পড়ছেন। তাঁর জন্য দোয়া করছেন তাঁর মা (ডলি জহুর।) তাঁর স্ত্রী (পূজা চেরী)। দোয়া করছি আমরা, দর্শকেরা। কী হবে এখন? এই গাধা আর কতক্ষণ টিকবে!

রেদওয়ান রনি একটা কঠিন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করলেন। আর বাংলাদেশ পেল একজন হিরোকে, যাঁর প্রধান সম্পদ অভিনয়ের সিনসিয়ারিটি। যাঁর আছে দর্শক আকর্ষণ করার বিশেষ জাদুকরি ক্ষমতা। তাঁর নাম আফরান নিশো।

আর ওই দৃশ্যটা। নিশো আর তাঁর প্রধান শত্রু মারামারি করতে করতে পড়ে গেল পাহাড়ের খাদ থেকে নিচের স্রোতস্বিনীতে। শুটিং করলটা কেমনে?
ভেজা চোখ নিয়ে দর্শকেরা বের হন হল থেকে। ভালো লাগার অশ্রু। ভালোবাসার অশ্রু। দেশপ্রেমের আবেগের অশ্রু। এবং একটি ভালো ছবি দেখার অভিজ্ঞতার অনুভূতি।

রেদওয়ান রনি একটা কঠিন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করলেন। আর বাংলাদেশ পেল একজন হিরোকে, যাঁর প্রধান সম্পদ অভিনয়ের সিনসিয়ারিটি। যাঁর আছে দর্শক আকর্ষণ করার বিশেষ জাদুকরি ক্ষমতা। তাঁর নাম আফরান নিশো।
‘দম’ বাংলাদেশি সিনেমাকে বিশ্বসিনেমার ক্লাসে উন্নীত করল। ‘দম’ বাংলা ছবির সীমানা বড় করল। ভালো না ব্যাপারটা!

বিশ্বকাপে ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির ‘হ্যাটট্রিক’

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৪-১ ইতালি (টাইব্রেকার)

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ১-১ ইতালি (অতিরিক্ত সময়)

জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা তখন নিশ্চল-পাথর। মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। একটু দূরে গ্যালারির দর্শকদের সঙ্গে উৎসবে মেতেছেন এসিমির বাজরাকতারভিচ। কয়েক মুহূর্ত আগে টাইব্রেকারে তাঁর গোলেই লেখা হয়েছে বিশ্বকাপে ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির ‘তৃতীয় কিস্তি’।

জেনারো গাত্তুসোর চোয়াল শক্ত। ক্যারিয়ারজুড়ে লৌহকঠিন ফুটবল খেলার মতোই ভেতরের আবেগ বুঝতে দিলেন না ইতালি কোচ। শিষ্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই গাত্তুসো নন। কেউ কেউ আলেসান্দ্রো বাস্তোনিও হন। ইতালি সেন্টার ব্যাক নিজেকে কী বলে সান্ত্বনা দেবেন! ১-০ গোলে এগিয়ে থাকতে প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচাতে ফাউল করে দেখেছেন লাল কার্ড। ধারাভাষ্যকার তখন বলছিলেন, এটাই কি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াবে?’

বাস্তোনি বের হয়ে আসার পর একজন বেশি নিয়ে বসনিয়া তারপর দিয়েছে মরণকামড়। দুই প্রান্ত থেকে একের পর এক ক্রস ফেলেছে ইতালির বক্সে। ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার হয়ে হারিস তাবাকোভিচের সমতাসূচক গোলটি তো তারই ফল। কে জানে, বাস্তোনি থাকলে হয়তো ১২ বছরের বিশ্বকাপ-বিরহ ইতালি কাটাতে পারত!

কিন্তু ৪১ মিনিটে আমর মেমিচকে বাস্তোনি ট্যাকল করে না থামালে সমতাসূচক গোলটি বসনিয়া তখনই হয়তো পেয়ে যেত। বাস্তোনির কাছে অন্তত এতটুকু সান্ত্বনা তবু আছে। পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের তাও নেই। টাইব্রেকারে তাঁরা লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। এসপোসিতো মারেন পোস্টের ওপর দিয়ে। ক্রিস্তান্তের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। ইতালি তবু দোন্নারুম্মায় ভরসা রেখেছিল।

ক্যারিয়ারে পেনাল্টি শুটআউটে তাঁর হার মাত্র একটি, ম্যাচেও ছয়-সাতটি দারুণ সেভ করেছেন দোন্নারুম্মা। কিন্তু ইতালির ফেরার আশায় তিন কাঠির নিচে শেষ ‘ভরসা’ হিসেবে দাঁড়ানো দোন্নারুম্মাও পারলেন না। বসনিয়ার চারটি লক্ষ্যভেদ যেন ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির শেষ পরিচ্ছেদ।

জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে প্লে অফের এই ফাইনালে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ১-১। অতিরিক্ত সময়েও তাই। টাইব্রেকারে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ৪-১ গোলের এই জয়ে বলকান অঞ্চলের দেশটির শুধু বিশ্বকাপে খেলাই নিশ্চিত হয়নি, ইতালিকেও মেনে নিতে হয়েছে এক নিদারুণ বাস্তবতা। বিশ্বকাপে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ইতালিই একমাত্র দেশ, যাঁরা টানা তিনবার এই আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলো। বাস্তোনি, এসপোসিতো ও ক্রিস্তান্তেদের দুঃখটা তাই আসলে অমোচনীয়। তাঁরা জানেন, রোমে অনেকেরই এখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ইতালি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!

এমন নয় যে ইতালি বাজে খেলেছে। ১৫ মিনিটে বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিল চাপ সইতে না পেরে ভুল জায়গায় পাস দেন। নিকোলা বারেল্লা সেটা ধরে সামনে ফাঁকা জায়গায় ময়েজ কিনকে পাস দিতেই ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার। ইতালির হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন কিন। বাস্তোনি লাল কার্ড দেখার পর ৭৯ মিনিটে হজম করা গোলটিতে ভাগ্য সহায় হয়নি ইতালির। জটলার মধ্যে দোন্নারুম্মা গোললাইন থেকে সেভ করলেও ফিরতি বলে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ শটে গোল করেন তাবাকোভিচ। এই গোল আসলে হওয়ারই কথা ছিল। ১০ জন নিয়ে কতক্ষণ একের পর এক ক্রস ঠেকানো যায়! বসনিয়া কখন, কেমন খেলেছে সেটি একটি পরিসংখ্যানেই পরিস্কার। এডেন জেকোরা শট নিয়েছেন মোট ৩০টি, এর মধ্যে ১১টি পোস্টে, বাস্তোনি লাল কার্ড দেখার আগে যেটা মাত্র ২টি।

২০১৭ সালে সুইডেনের বিপক্ষে প্লে অফে হেরে পরের বছর বিশ্বকাপ খেলা হয়নি ইতালির। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারে। এবার ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭১ তম বসনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপে ফেরা হলো না ‘আজ্জুরি’দের। অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তবে বিশ্বকাপে এবারও ইতালির নীল উৎসব না থাকলেও নীল রংটা কিন্তু থাকছে। ঘরের মাঠে নীল জার্সি পরে নামা বসনিয়া বিশ্বকাপে ফিরল ১২ বছর পর। ইতালির মতোই ২০১৪ আসরে সর্বশেষ খেলে তাঁরা। সেটা তাঁদের অভিষেক বিশ্বকাপ। অর্থাৎ বসনিয়া দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষা ঘোচাতে পারল, কিন্তু ইতালি পারল না!

গাত্তুসো এসব ভেবেই সম্ভবত শেষ পর্যন্ত হয়তো আর চোখের পানি আটকাতে পারেননি। ভেজা চোখে ইতালি কোচ বলেন, ‘এটা কষ্টের। কারণ এটা (বিশ্বকাপে ওঠা) আমাদের নিজেদের জন্য, গোটা ইতালির জন্য প্রয়োজন ছিল। এই ধাক্কা হজম করা সত্যিই কঠিন।’