৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের পথে মানুষ

SHARE

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে তাদের আর্টেমিস মহাকাশ অভিযানের সূচনা করেছে। এর মধ্য দিয়ে ৫৩ বছরের বেশি সময় পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে নভোচারী পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই অভিযান শুরু হয়। বহু বছর পর মানুষবাহী মহাকাশযান চাঁদের পথে রওনা হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ক্যাপসুল কক্ষপথে পৌঁছবে। সেখানে নভোচারীরা নানান পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি চাঁদে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পাবে।

‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।

উৎক্ষেপণের সময় কেনেডি স্পেস সেন্টার এলাকায় হাজারো মানুষের ভিড় ছিল। রকেটটি আকাশে উঠতেই উপস্থিতদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

মিশনের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নভোচারীরা এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জেরেমি হ্যানসেন বলেন, এটি কেবল একটি দেশের নয়, বরং পুরো মানবজাতির প্রতিনিধিত্বকারী এক যাত্রা।

তবে এই মিশনে চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা নেই। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবেন এবং মহাকাশযানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করবেন। বিশেষ করে, আগে মানুষ বহন না করা এই মহাকাশযানের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত পরবর্তী বড় লক্ষ্য পূরণের প্রস্তুতি। আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে আবার মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন। একে চাঁদে আর মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।