সব ব্যাংকে ‘বাংলা কিউআর’ অ্যাপ চালুর সময়সীমা নির্ধারণ

SHARE

রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চলতি বছরের জুনের মধ্যে দেশের সব ব্যাংকে ‘বাংলা কিউআর’ অ্যাপ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজনেস এডিটরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

গভর্নর বলেন, ‘বাংলা কিউআর কোড চালু করা হলে নগদবিহীন লেনদেন বাড়বে, যা রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে।
তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না। খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণে সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত জাতীয় কিউআর ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট করা যায়।
এই স্পর্শবিহীন প্রযুক্তিতে লেনদেন দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় এটি আর্থিক খাতে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তা, রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকান বা যেকোনো ধরনের খুচরা বিক্রেতা এবং নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত, সব রকমের ক্রেতাদের জন্য স্পর্শবিহীন এই আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা ক্যাশ অথবা কার্ড স্পর্শ না করে সহজ এবং সুবিধাজনকভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। যেসব ব্যাংক তাদের মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআর সংযোজন করেছে এবং ভিসা দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে, সেসব ব্যাংকের ভিসা কার্ড দিয়ে এখন থেকে ক্রেতারা বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত দেশের জাতীয় কিউআর হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’। এর মাধ্যমে স্মার্টফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতারা ডিজিটালি পেমেন্ট করতে পারবেন। এই লেনদেনে টাকা স্পর্শ করার কোনো প্রয়োজন নেই, তাই এটিকে বলা হচ্ছে স্পর্শবিহীন প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে লেনদেন হবে দ্রুত এবং সুরক্ষিত। ‘বাংলা কিউআর’-এর এই সুবিধা নিতে উদ্যোক্তা, দোকানদার বা খুচরা বিক্রেতাদের কোনো ধরনের মেশিন বা যন্ত্রের প্রয়োজন নেই।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার বা ক্যাশিয়ারের মোবাইলে পেমেন্ট কনফার্মেশনের এসএমএস চলে আসবে এবং একটি মার্চেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে দোকানের মালিক তার দিনের সব লেনদেন দেখতে পারবেন। এই অ্যাপে উদ্যোক্তা, দোকানদার বা খুচরা বিক্রেতাদের জন্য থাকবে আরো অনেক ধরনের সেবা গ্রহণের সুবিধা যেমন-ডিজিটাল হালখাতা, ডিজিটাল সেবা বিক্রয় এবং সরবরাহকারী, পাইকারি বা পরিবেশকের পেমেন্ট ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ‘বাংলা কিউআর’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস)-এর লেনদেনকে একটি অভিন্ন কিউআর প্ল্যাটফর্মে আনা। এর মাধ্যমে যে কোনো গ্রাহক একক কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের ৭৫ শতাংশ লেনদেন ক্যাশলেস করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ‘বাংলা কিউআর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।