রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হামলা, ত্রাণের ৭৫ শতাংশই আটকে রেখেছে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র এক-চতুর্থাংশ ঢুকতে দিচ্ছে ইসরায়েল। অর্থাৎ মোট ত্রাণের ৭৫ শতাংশই আটকে রেখেছে দেশটি।

এদিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় গাজায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা ও মানবিক সংকট। রোববার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজায় প্রতিশ্রুত ত্রাণসামগ্রীর খুব সামান্য অংশই প্রবেশ করতে দিচ্ছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৪৫টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। যা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে নির্ধারিত দৈনিক ৬০০ ট্রাকের মাত্র ২৪ শতাংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণ ও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের মানবিক সংকট ভয়াবহভাবে বেড়েছে। আর এর দায় সম্পূর্ণ ইসরায়েলের।”

এমন অবস্থায় “কোনও শর্ত বা বিধিনিষেধ ছাড়াই” ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মূলত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ত্রাণ প্রবাহ কিছুটা বাড়লেও ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে গাজার অধিকাংশ মানুষ এখনো খাবার, পানি, ওষুধসহ মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকটে রয়েছেন।

এছাড়া দুই বছরের লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় বহু পরিবার এখনো আশ্রয়হীন। ঘরবাড়ি ও পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক গত বৃহস্পতিবার বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রুট পরিবর্তনের কারণে ত্রাণ কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “এখন কনভয়গুলোকে মিসরের সীমান্তঘেঁষা ফিলাডেলফি করিডর হয়ে উপকূলীয় সংকীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা মারাত্মকভাবে যানজটে আক্রান্ত।”

তিনি আরও জানান, ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে অতিরিক্ত সীমান্তপথ ও অভ্যন্তরীণ রুট চালুর প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে ইসরায়েলি বাহিনী শনিবারও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় বিমান, কামান ও ট্যাংকের গোলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে কয়েকটি আবাসিক ভবনও গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।

আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানিয়েছেন, খান ইউনিসে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “ইসরায়েলি ড্রোন আর ভারী গোলাবর্ষণে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আকাশে ড্রোনের অব্যাহত উপস্থিতি ও বোমাবর্ষণের কারণে গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২২ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৫৯৪ জন আহত হয়েছেন।

তুরস্ক থেকে দেশে ফিরেছেন সাড়ে ৫ লাখ সিরীয় শরণার্থী

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সিরীয় শরণার্থী দেশে ফিরে গেছেন। খবর- এএফপি

শনিবার (১ নভেম্বর) ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ২৪ লাখ সিরীয় শরণার্থী অবস্থান করছেন, যদিও এক সময় এই সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখেরও বেশি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ১১ লাখ ৬০ হাজার সিরীয় নিজ দেশে ফিরে গেছেন এবং প্রায় ১৯ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের নিজ বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, এখনও ৭০ লক্ষাধিক সিরীয় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত এবং ৪৫ লাখের বেশি শরণার্থী বিদেশে অবস্থান করছেন।

কেনিয়ায় ভূমিধসে নিহত অন্তত ১৩

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রিফট উপত্যকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পর সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে।

দেশটির এলগেয়ো-মারাকওয়েট কাউন্টির পুলিশ কমান্ডার পিটার মুলিঙ্গে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ভূমিধসের ঘটনায় চাপা পড়া বাড়িঘরের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা জানা যায়নি।

এক বিবৃতিতে কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুমবা মুরকোমেন বলেছেন, উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশের উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত কয়েক বছরে কেনিয়ায় ভূমিধস ও বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে বর্তমানে আরও ঘন ঘন ও তীব্র আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ দেখা যাচ্ছে।

গত বছর দেশটির মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ কাদা ধস ও আকস্মিক বন্যায় ৬১ জন নিহত হন। এদিকে প্রতিবেশী উগান্ডার পূর্বাঞ্চলেও চলতি সপ্তাহে ভূমিধসে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উগান্ডা রেড ক্রস।

সূত্র: রয়টার্স।

বিয়ের ১৭ বছরে আয়ুষ্মানকে ভালোবাসার বার্তা স্ত্রীর

বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা ও তাহিরা কাশ্যপের দাম্পত্য জীবনের ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। বিশেষ এই দিনে স্বামীকে ভালোবাসার বার্তা জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন তাহিরা।

শনিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দুটি ছবি প্রকাশ করেন তাহিরা। একটি তাদের বিয়ের দিনের, আরেকটি সাম্প্রতিক সময়ের। পুরনো ছবিটিতে দেখা যায়, আয়ুষ্মান কপালে চুমু খাচ্ছেন স্ত্রী তাহিরার। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আইনি বিয়ের ১৭ বছর, ঠিক এই দিনেই আমরা একে অপরের হয়েছিলাম।’

পোস্টে তাহিরা আরও লেখেন, ’জীবনে অনেক উত্থান-পতন এসেছে, কিন্তু তুমি সব সময় আমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছো। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও তুমি পাশে থেকেছো, সাহস জুগিয়েছো। তুমি যেভাবে আমাকে ভালোবেসেছ, তেমন ভালো আর কেউ রাখতে পারত না।’

তাহিরা অতীতে স্তন ক্যানসারের কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। সেই সময়টিতে আয়ুষ্মানের সহায়তা ও সঙ্গ তাকে শক্তি দিয়েছে বলে তিনি আগেও একাধিক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। এবারের বার্তাতেও সেই জীবনের মুহূর্তগুলোর প্রতিফলন ফুটে উঠেছে।

ছোটপর্দায় ফিরছেন কাঞ্চন মল্লিক

দীর্ঘদিন পর ছোটপর্দায় ফিরছেন ওপার বাংলার অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক। বড় পর্দা এবং বিশেষ কিছু কাজের জন্য তাকে ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছিল না। তবে এবার দর্শকদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গৃহপ্রবেশ’-এর মাধ্যমে আবার ছোটপর্দায় ফিরছেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকে গল্পের নতুন মোড় এসেছে। আর সেই নতুন অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে কাঞ্চনকে। ইতোমধ্যেই ধারাবাহিকের শুটিং শুরু করেছেন।

যদিও এই বিষয়ে প্রযোজনা সংস্থা বা চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি।

প্রসঙ্গত, ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকটি প্রযোজনা করছেন রাজ চক্রবর্তী এবং শুভশ্রী। টলিউডের এই জনপ্রিয় তারকা দম্পতির সঙ্গে কাঞ্চন মল্লিকের বন্ধুত্ব বহু বছরের। স্বাভাবিকভাবেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজের প্রযোজনায় কাঞ্চনের অভিনয় করা নিয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

অভিনয়ের ব্যস্ততার ফাঁকেও কাঞ্চন তার মেয়ে কৃষভিকে পর্যাপ্ত সময় দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়শই বাবা-মেয়ের ছবি দেখতে পাওয়া যায়, যা অনুরাগীদের মধ্যে বেশ আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই বলেন, কাঞ্চনের মেয়ে দেখতে অবিকল তার বাবার মতো।

সম্প্রতি কাঞ্চন মল্লিক ‘প্রজাপতি ২’-এর শুটিং শেষ করেছেন। এখন নতুন এই চরিত্রে ছোটপর্দায় তাকে দেখতে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দর্শক।

হাঁটুর বয়সী যুবকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন মালাইকার

আরবাজ খানের সঙ্গে দুই দশকের দাম্পত্যের ইতি টেনেছিলেন আগেই। অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে ছয় বছরের ‘পোক্ত’ প্রেমেও ভাঙন ধরেছে। জীবনের ঠিক এমনই এক মোড়ে এসে পৌঁছেছেন বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা।

তবে দীর্ঘ বিরতি নয়, বলিপাড়ায় এখন নতুন কানাঘুষো; হাঁটুর বয়সী যুবকের প্রেমে মজেছেন তিনি। সম্প্রতি মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জনপ্রিয় শিল্পী এনরিক ইগলেসিয়াসের একটি ‘হাইভোল্টেজ’ কনসার্ট। সেখানেই মালাইকার ঘনিষ্ঠ রসায়ন লেন্সবন্দি হয়েছে।

সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দু’জনকেই রং মিলান্তি সাদা পোশাকে কনসার্ট উপভোগ করতে দেখা যায়।

মালাইকা যার প্রেমে পড়েছেন, তিনি হিরে ব্যবসায়ী, নাম হর্ষ মেহেতা। মালইকার সঙ্গে তার বয়সের পার্থক্য প্রায় উনিশ বছর।

গত বছর অর্জুন কাপুরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার পরই নাকি হর্ষের সঙ্গে বন্ধুত্ব শুরু হয় মালাইকার। মাসখানেক ধরে তারা একে-অপরকে ডেট করছেন। গত বছর জুলাই মাসে স্পেনে ছুটি কাটানোর সময়েও মালাইকার ফ্রেমে ধরা পড়েছিল তারা।

গণভোট পরে হলে এটি হবে জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা : শিবির সভাপতি

জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে বা পরে গণভোট হলে জনগণের সঙ্গে নিরেট রাজনৈতিক প্রতারণা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

শনিবার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাইকে আমূল পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে এক ফেসবুক পোস্টে শিবির সভাপতি লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম তিন দায়িত্ব- গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং নিরপেক্ষ ও সবার নিকট গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারিক কার্যক্রম চলছে খুবই ধীরগতিতে। কিছু চমক লাগানো কাজ হলেও এতদিনে একটা রায় দিতে পারেনি। ‘হা‌সিনা খু‌নি’- এইটা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও বিচারকের হাতে তথ্য আসবে তার পর বিচার হবে, আর সেই আশায় শহীদ পরিবার অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকবে!

সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কথা বললেই কেউ কেউ মুখ কালো করার প্রবণতা গত একবছর আমরা দেখেছি। ভাবখানা এমন যে, সংস্কারের হক আগে ছিল খুনি হাসিনার, আর ভবিষ্যতে ওনাদের। মাঝখানে বাকিদের সংস্কার নিয়ে কাজ করা ও কথা বলার কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের নামে রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে একটি সনদ রেডি হলো। মিডিয়ার সামনে হেসে হেসে সেই সনদে স্বাক্ষরও হলো। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, সেটাকে এখনই আইনি ভিত্তি দেওয়া যাবে না। এটা কেমন রাজনীতি! গণভোট দিতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তারা গণভোটও মানবে না। সরকার যদি কোনো দলের চাপে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে গণভোটের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে, এতে ভালো কিছু হবে না।

তিনি আরও বলেন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনেকটা সংস্কারের ওপর নির্ভর করছে। তবে কয়েকজন উপদেষ্টা ও প্রশাসনের একটি অংশ নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দিবাস্বপ্ন দেখছেন। উনাদেরকে সম্মানের সঙ্গে খুনি হাসিনার পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, জুলাই শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তনের নাম নয়; জুলাই মানে প্রজন্মের আদর্শিক জাগরণ। জুলাই মানে আমূল পরিবর্তন।

বিয়ে-চাকরির আগে ক্যান্সার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

বিয়ে, চাকরি বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে ক্যান্সার স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ নিলে ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হবে, আর এতে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসায় ঘটবে বড় ধরনের বিপ্লব।

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অনকোলজি ক্লাব আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কংগ্রেস–২০২৫-এর সমাপনী দিনে এই আহ্বান জানান তারা।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. এএফএম কামাল উদ্দিন। তার গবেষণায় উঠে এসেছে— বাংলাদেশে ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা অবকাঠামো এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অধিকাংশ রোগী শেষ পর্যায়ে এসে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে ১ লাখ ৮৪ হাজার ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার জন্য অন্তত ২০৯টি রেডিওথেরাপি মেশিন প্রয়োজন, কিন্তু দেশে আছে মাত্র ২৯টি। এই সীমিত সক্ষমতায় বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

ডা. কামাল উদ্দিনের মতে, ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে বিভাগীয় পর্যায়ে নতুন রেডিওথেরাপি ইউনিট স্থাপন জরুরি, পাশাপাশি স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের হার বহুগুণে বাড়বে।

একই আলোচনায় ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. এম. সাইফুল হক বলেন, “ক্যান্সার চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি নীতি ছাড়া সাফল্য আসবে না। সরকারের উচিত হবে ইনিশিয়াল ব্যয় নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে এই খাতকে দেখা।” তিনি আরও বলেন, “ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সচেতনতা, যেখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে বড়।”

কনফারেন্সের সদস্য সচিব ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, “ক্যান্সার জয় করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, বিশেষ করে সাংবাদিকরা যদি জনগণের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেন, তাহলে ক্যান্সার প্রতিরোধ অনেক সহজ হবে।”

সমাপনী অনুষ্ঠানে অনকোলজি ক্লাব বাংলাদেশ ও ক্যান্সার কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এম এ হাই বলেন, “বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী চিকিৎসার বাইরে রয়ে গেছে। তাই ক্যান্সার মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরিই অনকোলজি ক্লাবের প্রধান লক্ষ্য।

এবারের কনফারেন্সে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৩১ জন খ্যাতনামা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞসহ মোট ১২০০ জন চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যপেশাজীবী অংশ নেন। একাডেমিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল ইতালির বলোনিয়া ইউনিভার্সিটি, সিংহেলথ সিঙ্গাপুর, ও গ্লোবাল হেলথ ক্যাটালিস্ট। এছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের খ্যাতনামা ক্যান্সার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও এতে অংশ নেন।

বাংলাবান্ধা দিয়ে নেপাল গেল ১ হাজার ৪০৭ টন আলু

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৪০৭ টন আলু।
গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই আলু রপ্তানি হয়। এর মধ্যে এস্টারিক্সসহ প্রায় বেশ কয়েকটি জাতের আলু ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নুর হাসান।

তিনি বলেন, একদিনে সর্বোচ্চ ৬৭ ট্রাকে করে এই আলু রপ্তানি হয়। আলুগুলো উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বাছাই করে নেপালে রপ্তানি করে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।

এর আগে, বুধবার ২৮ ট্রাকে করে ৫৮৮ টন আলু রপ্তানি হয়। এ নিয়ে এ বন্দর দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১০ মাসে ৩৯ হাজার ৩৯ টন আলু রপ্তানি হয়েছে।

চীনের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমছে টানা সাত মাস

অক্টোবরে টানা সপ্তম মাসের মতো চীনের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম কমেছে। শি জিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের আগে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশটির ওপর প্রভাব ফেলেছিল।

শুক্রবার চীনের সরকারি নথি থেকে এ তথ্য জানা যায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

দেশটির শিল্প ও উৎপাদন খাতের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই)। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সূচকটি ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। যা আবারও উৎপাদন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্লুমবার্গের জরিপে এই সূচকটির পূর্বাভাস ছিল ৪৯.৬ শতাংশ। তবে অক্টোবরের হার তার চেয়ে কম। এই রেকর্ড সেপ্টেম্বরের তুলনায় ০.৮ শতাংশ কম। এনবিএস পরিসংখ্যানবিদ হুও লিহুই এক বিবৃতিতে বলেন, অক্টোবর মাসে মূলত ‘আন্তর্জাতিক জটিল সমীকরণের কারণে’ উৎপাদন ধীরগতিতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাসের শুরুতে চীনের ‘গোল্ডেন উইক’ দিবসের ছুটির কারণেও কারখানা কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন হুও লিহুই।

এপ্রিল মাসে পিএমআই সূচক ছিল ৪৯ শতাংশ, যা চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর তখন থেকেই উৎপাদন কমতে থাকে। কারণ কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে সমস্যার মুখোমুখি হয়।

বিশ্বের প্রধান দুই অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশের শীর্ষ নেতারা বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠক করেন। বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন চীনের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক অর্ধেক করার। অন্যদিকে শি জিনপিং এক বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিরল-খনিজের ওপর কিছু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন।

চীন আবারও মার্কিন সয়াবিন আমদানি শুরু করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।