রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বিজেপি নেতা

এবার আইনি বিপাকে পড়েছেন বলিউড তারকা সালমান খান। একটি পান মশলা সংস্থার বিজ্ঞাপনে ভ্রান্ত তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে নায়কের বিরুদ্ধে। ভারতের রাজস্থানের কোটার এক সুরক্ষা আদালত ইতোমধ্যেই সালমান খান এবং সেই সংস্থার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে।

এই অভিযোগ করেছেন রাজস্থানের আইনজীবী ও বিজেপি নেতা ইন্দরমোহন সিং হানি। তার দাবি, রাজশ্রী পান মশলার বিজ্ঞাপনটি ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে। বিজ্ঞাপনে ‘কেশরযুক্ত এলাচ’ বা ‘কেশর মেশানো পান মশলা’ উল্লেখ করা হলেও সাধারণ ক্রেতার প্যাকেটে ব্যবহৃত কেশরের পরিমাণ বাস্তবসম্মত নয়।

ইন্দরমোহন সিং হানি বলেছেন, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যুবসমাজ প্রলুব্ধ হচ্ছে। তারা মনে করছে কেশরযুক্ত এলাচ ব্যবহার করছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি সালমান খানের জাতীয় পুরস্কারগুলোও প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করেছেন। বলে রাখা ভালো, সালমান খান ‘চিল্লার পার্টি’ এবং ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।

সালমান খান আগে রাজশ্রী ইলাইচির বিজ্ঞাপনেও অংশ নিয়েছিলেন। যদিও সেখানে তাকে পান মশলার বিজ্ঞাপনে সরাসরি দেখা যাননি, কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে দুটি পণ্যের সংযোগ তৈরি হয়েছে। এবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে তার পণ্য প্রচার, আর বিষয়টি উঠেছে সরাসরি আদালতে। জানা গেছে, আগামী ২৭ নভেম্বর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ইয়ামালের দৃষ্টিনন্দন গোলের পরও জয়বঞ্চিত বার্সেলোনা

নতুন মৌসুমে একের পর এক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগের কাছে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। যেখানে ৩ দফায় পিছিয়ে প্রতিবারই সমতায় ফেরে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ৩–৩ সমতা নিয়েই ফিরতে হলো। বাধা উৎরানো হয়নি লামিনে ইয়ামালের দৃষ্টিনন্দন এক গোলের পরও।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটি খেলতে বেলজিয়ামে উড়ে গিয়েছিল বার্সা। যেখানে স্বাগতিকরা প্রতিবারই লিড নিয়ে তাদের বড় চমকই দিয়েছে। যদিও ম্যাচজুড়ে সবদিক থেকে আধিপত্য ছিল কাতালানদের। ক্লাব ব্রুগের পক্ষে কার্লোস ফোর্বস জোড়া এবং নিকোলো ট্রেসোল্ডি একটি গোল করেন। অন্যদিকে, ফেররান তোরেস ও লামিনে ইয়ামাল একটি করে গোলে ব্যবধান কমান। তাদের তৃতীয় গোলটি আসে ব্রুগ ফুটবলারের আত্মঘাতী অবদানে।

৭৭ শতাংশ বলের পজেশন নিয়ে বার্সেলোনা গোল পেতে মোট ২৩টি শট নিয়েছিল, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৭টি। বিপরীতে ১১ শটের ৬টি লক্ষ্যে ছিল ব্রুগের। এর আগে বেলজিয়ামের ক্লাবটির সঙ্গে দু’বারের দেখায় জিতেছিল বার্সা। এবার আর সেই সৌভাগ্য হলো না। এ নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ৬ ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্টদের জয় মাত্র দুটি, বাকি ৩টিতে হার এবং একটিতে ড্র করেছে। ব্রুগের ম্যাচে অবশ্য তাদের জন্য স্বস্তির খবর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন রবার্ট লেভান্ডফস্কি।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রুগ লিড নেয় ২-১ ব্যবধানে। মাত্র সাত মিনিটের মাথায় তাদের এগিয়ে দেন ট্রোসোল্ডি। ফোর্বসের বাড়ানো ক্রসে তিনি বল জালে জড়ান। প্রায় একইভাবে দুই মিনিটের মধ্যে বার্সাকে সমতায় ফেররান তোরেস। তিনি ফারমিন লোপেজের ক্রসে ছুটে গিয়ে গোলটি করেছেন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাঝে ১৭ মিনিটে আবারও স্বাগতিকদের গোল। এবার ফোর্বস প্রতি-আক্রমণে গিয়ে আড়াআড়ি শটে বার্সার জালে দ্বিতীয় গোলটি করেন। বিরতির আগে জুল কুন্দের একটি শট গোলবারে লাগে এবং তোরেস দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া করে বাইরে মেরে দিয়ে।

বিরতির পর গোল পেতে মরিয়া বার্সার পক্ষে অল্প সময়ের মধ্যে দুটি শট নেন লোপেজ-ইয়ামাল। দু’বার ব্রুগ গোলরক্ষক নর্ডিন জ্যার্কাস তাদের হতাশ করেছেন। ৫৯ মিনিটে এরিক গার্সিয়ার জোরালো এক শট ফেরে ক্রসবারে লেগে। দুই মিনিট বাদেই স্প্যানিশ জায়ান্টদের সমতায় ফেরান ইয়ামাল। তার এই গোলটি ছিল চোখে লেগে থাকার মতো। অনেকে আবার লিওনেল মেসির সঙ্গে মেলাতে চাইবেন। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ডি বক্সের বাইরে বল পেয়ে দু’জনকে কাটিয়ে দানি ওলমোকে বাড়িয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন। ফিরতি পাস পেয়ে পায়ের কারিকুরিতে আরও দু’জনের বাধা এড়িয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ইয়ামাল।

বার্সার সেই স্বস্তি কেড়ে নেন ফোর্বস। রক্ষণচেরা এক পাস পেয়ে তিনি বল জালে জড়ান গোলপোস্ট ঘেঁষে। ৬৯ মিনিটে ইয়ামালের বাঁকানো শট গোলরক্ষকের বাধায় কর্নারে পরিণত হয়। ৭৭ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। এখানে ইয়ামালের অবদান আছে ঠিক, তবে তার শট স্বাগতিক ফুটবলার ক্রিস্টোস জলিসের মাথায় লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। বাকি সময় বার্সাকে আটকে রেখে আর লিড পেতে দেয়নি ব্রুগ। ফলে ৩-৩ সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কাতালানদের।

এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ের পর ৭ পয়েন্ট নিয়ে বার্সার অবস্থান ১১ নম্বরে। চার ম্যাচের সবকটিতেই জিতে শীর্ষ তিনে আছে যথাক্রমে বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল ও ইন্টার মিলান।

আর্জেন্টিনাসহ ২২ দেশের ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসতে যাচ্ছে। নানা কারণে ক্রীড়াঙ্গনের মেগা এই ইভেন্ট নিয়ে উন্মাদনা বেশ আগে-ভাগেই শুরু হচ্ছে। আসন্ন বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ২৮টি দেশ। এর মধ্যে টুর্নামেন্টটির জন্য ২২ দেশের নতুন জার্সি উন্মোচন করেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস।

এসব হোম কিটে দলগুলোর নিজস্ব পরিচয়, উদ্ভাবন ও নান্দনিক নকশার সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত যেসব ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, তাদের জার্সি প্রকাশ করেছে অ্যাডিডাস। এই তালিকায় বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে আরও কিছু দেশ যুক্ত হতে পারে। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা নকশা থেকে শুরু করে জার্মানির পুনর্নির্মিত জ্যামিতিক নকশা কিংবা জাপানের সূর্যদিগন্ত থেকে আসা রঙের ছোঁয়া, প্রতিটি জার্সিতে স্ব স্ব দেশের আত্মাকে এক নতুন ও আধুনিক আঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

জার্সিতে ফুটবল ডিজাইনের ক্রমবিকাশমান ভাষার প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে মেলবন্ধন ঘটেছে অতীত নস্টালজিয়া ও আধুনিকতার। অতীতের গৌরবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বৈশ্বিক উদ্দীপনাকে আলিঙ্গন করা হয়েছে। এই জার্সিগুলো কেবল স্টাইলের প্রকাশ নয়, সর্বাধুনিক পারফরম্যান্স প্রযুক্তি দিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাডিডাস। বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া কেমন থাকবে– তাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে জার্সি প্রস্তুতের সময়।

ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের আরাম নিশ্চিত করতে প্রতিটি জার্সিতে ব্যবহার করা হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের ক্লাইমাকুল+ উপাদান এবং নকশা করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে খেলোয়াড়দের শরীরে বায়ু চলাচলে সুবিধা হয়। যা মাঠে খেলোয়াড়দের শীতল ও মনোযোগী থাকতে সাহায্য করবে। জার্সিতে রয়েছে সূক্ষ্ম বিবরণ, যেমন লেন্টিকুলার ক্রেস্ট বা লুকানো লেখনী জার্সিগুলোর ভেতরে এক অনন্য অনুসন্ধানের অনুভূতি যোগ করেছে, যা ৯০ মিনিটের ম্যাচের বাইরেও বিস্তৃত বিষয়ের সাক্ষ্য দিচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফুটবল মূলত প্রায় সব মহাদেশের এক পুনর্মিলনী। যেখানে যোগ্যতা অর্জনকারী বিশ্বের নানা প্রান্তের দেশ মিলিত হয়। অ্যাডিডাসের নতুন এই কালেকশন সেই বৈশ্বিক চেতনা কাপড়ে বুনে দিয়েছে, যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উদ্ভাবন মিলেমিশে গড়ে উঠেছে এসব জার্সি। অ্যাডিডাস ফুটবলের জেনারেল ম্যানেজার স্যাম হ্যান্ডি বলছেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি একতা ও গর্বের প্রতীক। এই ডিজাইনগুলো প্রতিটি দেশের শিকড়কে সম্মান জানায়, আবার এমন এক নতুন যুগকে উদযাপন করে যেখানে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে প্রতিটি ভক্ত একই গল্পের অংশে পরিণত হয়।’

আগামী বছরের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তবে এখনও বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়নি। বাছাইপর্বের খেলা শেষে আগামী ৫ ডিসেম্বর ড্র অনুষ্ঠিত হবে ওয়াশিংটন ডিসিতে। তবে তার আগেই আগামীকাল (৬ নভেম্বর) থেকে উন্মোচিত ২২টি দেশের জার্সি নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে দর্শকরা কিনতে পারবেন বলে নিশ্চিত করেছে অ্যাডিডাস।

কখন অবসর নেবেন প্রশ্নে যে জবাব দিলেন রোনালদো

দ্রুততম সময়ের মধ্যে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় বলতে চান বলে জানিয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে স্পষ্ট করে তিনি ঠিক সময়টা উল্লেখ করেননি। মূলত ৪০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এখন মনোযোগ পর্তুগালের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার দিকে। এ ছাড়া পেশাদার ক্যারিয়ারে ১০০০ গোল পূর্ণ করার লক্ষ্যের কথা তিনি আগেই জানিয়েছিলেন। সম্ভবত সেই স্বপ্ন ছোঁয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

বয়সটা ৪১–এর দিকে ছুটলে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই ছাপ রাখতে চান না সিআরসেভেন। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ইতোমধ্যে তিনি ৯৫২টি গোল করে ফেলেছেন। ফলে স্বপ্ন পূরণে খুব একটা দূরে নেই রোনালদো। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। দুই পর্বের ওই সাক্ষাৎকারের প্রথমটি গতকাল (মঙ্গলবার) প্রকাশিত হয়েছে।

মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো নিজের অবসর প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিগগিরই (ঘোষণা দেব)। আমার মনে হয় আমি প্রস্তুত হয়ে উঠছি। যদিও এমন সিদ্ধান্ত খুবই, খুবই কঠিন। কিন্তু ২৫, ২৬-২৭ বছর থেকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। এই চাপ নিতে আমি সক্ষম বলে মনে করি। ফুটবলে গোল করার পরের অনুভূতির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না।’

‘সবকিছুরই একটি শুরু ও শেষ আছে। ফলে নিশ্চিতভাবে আমি নিজের ও পরিবারের জন্য এবং সন্তান পালনে আরও বেশি সময় পেতে যাচ্ছি’, আরও যোগ করেন রোনালদো। ২০০৬ আসর দিয়ে শুরু, ইতোমধ্যে তিনি পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। তবে চূড়ান্ত সাফল্যের স্বাদ পাওয়া হয়নি তার। বিশ্বকাপ দিয়ে কাউকে সেরা বিবেচনা করাও ন্যায্য বলে দাবি রোনালদোর, ‘এটা কোনো স্বপ্ন নয়। এটা দিয়ে কী নির্ধারিত হয়? আমি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন কি না? কোনো একটা প্রতিযোগিতা জিতেই? ছয় কিংবা সাতটা ম্যাচ খেলেই! এটা কি ন্যায্য ব্যাপার?’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যুক্ত হওয়ার মুহূর্তটা উপভোগ্য ছিল না সিআরসেভেনের জন্য। ওই সময় তৎকালীন কোচ এরিক টেন হাগের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল এবং যথেষ্ট খেলার সময় পাচ্ছিলেন না। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটির খবরাখবর এখনও রাখেন রোনালদো। যারা ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমের পর প্রথমবার সর্বশেষ মৌসুমে শীর্ষ ১৫–তেও জায়গা পায়নি।

ইউনাইটেডের এমন বিপর্যয়ে হতাশ রোনালদো, ‘আমি হতাশ, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব এবং তারা এখনও আমার হৃদয়ে রয়েছে। তাদের (এখন) কোনো কাঠামো নেই। আশা করি বর্তমান এবং ভবিষ্যতে সেটি পরিবর্তন হবে, কারণ ক্লাবের সম্ভাবনা অসাধারণ। তারা এখনও সঠিক পথে নেই। এসব অবশ্য কেবল কোচ এবং খেলোয়াড়দের কারণে নয়, আমার মতে…তিনি (ইউনাইটেডের বর্তমান কোচ রুবেন অ্যামোরিম) তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনি এর বেশি কী করতে পারেন? মিরাকল অসম্ভব।’

যা ভালো লাগে তাই করতে চাই : ভাবনা

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন। পুরস্কারটি গ্রহণ করার পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের প্রাপ্তি এবং ভবিষ্যৎ কাজের ধরন নিয়ে অকপটে কথা বলেন।

ভাবনা জানান, এই পুরস্কার পাওয়ায় তিনি আজ অনেক বেশি খুশি। তবে তার এই আনন্দের কারণটি কেবল অভিনয় বা নাচের স্বীকৃতি নয়।

ভাবনার ভাষ্যে, ‘আমি আসলে চেয়েছি, ছোটবেলা থেকে কখনোই কোনো একটি কাজে আবদ্ধ থাকতে চাইনি এবং এখনো আমি চাই না। আমি মনে করি, আমার যা যা ভালো লাগে, তাই তাই করতে চাই।’

তার কথায়, ‘আমি আজকে অনেক বেশি খুশি এই কারণে যে, শুধুমাত্র আমার অভিনয় বা শুধুমাত্র আমার নাচ, এটার কারণে আমাকে (অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়নি। তারা আমাকে প্যাশনেট আর্টিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, তার জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’

অভিনয়, মডেলিং ও নাচের পাশাপাশি আরও বহু ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরে ভাবনা। তিনি মনে করেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজে নিজেকে বেঁধে রাখতে চান না।

‘দীপিকা আছে, তাই ভালবাসা তো থাকবেই’

কিং খান শাহরুখের সাফল্যের মন্ত্র কি তবে দীপিকা পাড়ুকোন? ২০২৩ সালে পরপর মুক্তি পাওয়া তার তিনটি ছবির মধ্যে দুটিতেই ছিলেন এই অভিনেত্রী। আর সেই দুটি ছবিই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। শাহরুখের কাছে দীপিকা শুধু সহ-অভিনেত্রী নন যেন ‘লাকি চার্ম’। তার বিশ্বাস, দীপিকা থাকলে ছবিতে ভালোবাসার কমতি হবে না।

তাই আসন্ন ছবি ‘কিং’ এ দীপিকাকে দেখতে পাওয়ার আভাসে ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে। জন্মদিনে ভক্তদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে নিজের আসন্ন ছবির প্রথম ঝলক বা টিজার প্রকাশ করেন শাহরুখ খান। প্রেক্ষাগৃহে সেই ঝলক প্রদর্শনের পাশাপাশি ছবি প্রসঙ্গে কথাও বলেন তিনি। আর তখনই ঘুরেফিরে আসে দীপিকার প্রসঙ্গ।

‘কিং’ নিয়ে রহস্য ধরে রেখে শাহরুখ বলেন, ‘গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না। একের পর এক ঝলক মুক্তি পাবে। তখন ছবির ব্যাপারে আপনারা আরও জানতে পারবেন। ছবিতে বিভিন্ন চরিত্র রয়েছে। আমরা ছবিতে কোনো পক্ষ নিচ্ছি না। আমাদের ভাবনা আপনাদের ভালো লাগলে চোখ রাখুন। তা না হলে খারাপই বলতে থাকুন।’

কিং খানের এমন কথায় প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত এক অনুরাগী ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বলেন, ‘আপনার জন্য আমাদের অগাধ ভালোবাসা রয়েছে।’ অনুরাগীর এই মন্তব্য শুনে দীপিকা আছে, তাই ভালবাসা তো থাকবেই উল্লেখ করে শাহরুখ বলেন, ‘ছবিতে আমার সঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোনও রয়েছে। তাই ভালোবাসা তো হতেই হবে।’

উল্লেখ্য, দীপিকা পাড়ুকোনের অভিনয় জীবনের শুরুটাই হয়েছিল শাহরুখ খানের সঙ্গে। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘ওম শান্তি ওম’-এ এই দুই তারকার রসায়ন এখনও দর্শকের মনে গেঁথে আছে।

এরপর ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর মতো ছবিতে সফল জুটি হিসেবে দেখা গেছে তাদের। আর ২০২৩ সালে তো ‘জওয়ান’ ও ‘পাঠান’ ছবিতে তাদের রসায়ন বক্স অফিসকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছে।

বাগদানের আংটি দেখালেন রাশমিকা!

দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় দেবেরাকোণ্ডার সঙ্গে অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার বাগদান নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে দু’জনের কেউই এখনো মুখ খোলেননি। ফলে তাদের অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল ও জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।

এই জল্পনার মধ্যেই রাশমিকা সম্প্রতি তার নতুন সিনেমা ‘গার্লফ্রেন্ড’-এর প্রচারের জন্য অভিনেতা জগপতিবাবুর একটি টক শোতে উপস্থিত হয়েছিলেন। আর সেখানেই তিনি প্রথমবার ক্যামেরার সামনে তার হাতের আংটি দেখালেন।

অনুষ্ঠানটির প্রোমো প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যায়, টক শো চলাকালীন বারবার রশ্মিকাকে ‘বিজয়’-এর নাম ধরে মজার ছলে নানা প্রশ্ন করা হচ্ছে। তখনই হাতের একটি আংটি তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। জানা যাচ্ছে, এই আংটিগুলোর মধ্যে একটি তার বাগদানের আংটি!

সঞ্চালক জগপতি বাবু কৌতুক করে রশ্মিকাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘বিজয় সেতুপতির ভক্ত এবং থালাপতি বিজয়ের ভক্ত সেই বিজয় দেবেরাকোণ্ডার সঙ্গে কি শুধুই বন্ধুত্ব? নাকি কি তুমি এই বিজয়ের (সাফল্যের) মালিক?”’

জগপতি বাবুর এমন কথায় হেসে ওঠেন রাশমিকা। রাশমিকা আঙুলের আংটির সঙ্গে কি তার জীবনের কোনো বিশেষ মুহূর্ত জড়িয়ে আছে? এই প্রশ্নে অবশ্য চুপ থাকেননি অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার আঙুলের সব আংটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

সঙ্গে সঙ্গেই জগপতি বাবু বলেন, ‘আমি নিশ্চিত এর মধ্যে একটি তোমার অত্যন্ত প্রিয় এবং এর পেছনে একটি ইতিহাসও আছে।’ সঞ্চালকের এই কথায় একগাল হাসি দিয়ে সম্মতি জানান রাশমিকা।

জাতীয় দলের কোচের পদ ছাড়ছেন সালাউদ্দিন

গেল বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ৫ নভেম্বর জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচের পদে যোগ দেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এরপর নতুন করে নিজের প্রথম সিরিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ব্যাটিং ইউনিটের দেখভালের দায়িত্বটাও পেয়ে যান সিনিয়র এই কোচ।

তবে তার অধীনে খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। ব্যাটিংয়ে ক্রিকেটারদের অধারাবাহিকতার ছাপ স্পষ্ট। গেল সোমবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সিরিজে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে।

এর একদিন পার না হতেই আবারও আলোচনায় এসেছেন সালাউদ্দিন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পরই সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষেই দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি। যদিও ঢাকা পোস্টকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন এখনো পদত্যাগপত্র পাননি তারা।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, সালাউদ্দিনের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার আগেই পদত্যাগ করছেন তিনি।

এর আগে গত সোমবার বিসিবির সভা শেষে সালাউদ্দিন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তার প্রতি অনাস্থার কারণেই আশরাফুলকে নিয়োগ দেওয়া দেয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে রাজ্জাকের জবাব, ‘সালাউদ্দিন ভাই কিন্তু সিনিয়র সহকারী কোচ। আসলে কারও ব্যর্থতার জন্য না। ওইখান থেকে সরানো হয়নি কাউকে, আশরাফুলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোচিং প্যানেলে আরও একজনকে যুক্ত করা হলো।’

যুদ্ধবিরতি চললেও ত্রাণ প্রবেশে বাধা, গাজায় ক্ষুধায় কাতর ফিলিস্তিনিরা

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও ত্রাণ প্রবেশে দেওয়া হচ্ছে বাধা। এতে করে গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে ক্ষুধা ও দুর্ভোগে কাতর হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।

মূলত সীমিত সীমান্ত খোলা থাকায় ত্রাণ সরবরাহে বড় বাধা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাগুলো। তবে ইসরায়েলের অব্যাহত বিধিনিষেধের ফলে সহায়তা সরবরাহে বড় বাধা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র আবির ইতেফা বলেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত মাসে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সীমিতভাবে সীমান্ত খোলা থাকার কারণে ত্রাণের পরিমাণ এখনো অত্যন্ত কম।

ইতেফা বলেন, “আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। দ্রুতগতিতে ত্রাণ সরানো জরুরি। আমরা সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছি। শীত চলে আসছে, অথচ মানুষ এখনো ক্ষুধায় ভুগছেন।”

ডব্লিউএফপি জানায়, তারা গাজাজুড়ে ৪৪টি স্থানে খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

তবে সংস্থাটি জানায়, যে পরিমাণ খাদ্য গাজায় প্রবেশ করছে তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে উত্তর গাজায় পৌঁছানো এখনো কঠিন। গত আগস্টেই বৈশ্বিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি শনাক্ত করেছিল।

ইতেফা বলেন, “উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ। ফলে আমাদের ত্রাণ কাফেলাগুলোকে দক্ষিণ দিকের দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ঘুরে যেতে হচ্ছে। কার্যকর ত্রাণ বিতরণের জন্য সীমান্ত পারাপারের সব পয়েন্ট খোলা দরকার, বিশেষ করে উত্তর দিকেরগুলো।”

এদিকে যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি সেনারা ‘ইয়েলো লাইন’-এ পিছু হটার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি উত্তর গাজার বাড়িতে ফিরে গেছেন। কিন্তু অধিকাংশই ফিরে দেখেছেন, তাদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। অনেকে এখনো তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন।

এছাড়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী আরও ত্রাণ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। শীতের কঠিন সময় ঘনিয়ে আসায় তাদের উদ্বেগও বেড়েছে অনেকটা।

গাজার সরকারি তথ্য অফিস জানিয়েছে, ১০ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ গড়ে দিনে ১৪৫টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। যদিও যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক ৬০০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করার কথা।

এরই মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়ায়ও সেনাদের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৪০ জন নিহত ও ৬০৭ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে পাওনা নিয়ে বিরোধ, আন্তর্জাতিক সালিশিতে যাচ্ছে আদানি

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত অর্থপ্রদানের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ী গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার। সোমবার আদানি গ্রুপের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অর্থ প্রদানের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছে আদানি পাওয়ার। ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বকেয়া অর্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) আওতায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।

বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার বলেছে, কিছু নির্দিষ্ট খাতের ব্যয়ের হিসেব ও বিল করার পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমন অবস্থায় উভয় অংশীদারই বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এতে দ্রুত, মসৃণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সমাধানের বিষয়ে উভয়পক্ষই আশাবাদী।

তবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান রয়টার্সকে বলেছেন, আলোচনা এখনো চলছে। আলোচনা শেষ হলে প্রয়োজনে আমরা আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাব।

২০১৭ সালে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ২৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

আদানি পাওয়ার গড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎচাহিদার প্রায় এক-দশমাংশ পূরণ করে এই কোম্পানিটি।

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছিল, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে। কোম্পানিটি ভারতের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া কর-সুবিধার ছাড় বাংলাদেশকে না দেওয়ায় এই অভিযোগ করা হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১৪.৮৭ টাকা (০.১২২ মার্কিন ডলার) হারে মূল্য পরিশোধ করেছে; যা অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানির সরবরাহকৃত বিদ্যুতের গড় ৯.৫৭ টাকার তুলনায় অনেক বেশি।

গত সপ্তাহে আদানি পাওয়ার বলেছিল, বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওনা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে এসেছে। গত মে মাসে আদানি পাওয়ারের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে; যা চলতি বছরের শুরুতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে আদানির বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১৫ দিনের শুল্কের সমান।

সোমবারের বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।
• কর ছাড় নিয়ে কী ঘটেছে?

আদানি পাওয়ারের গড্ডা প্ল্যান্টটি আমদানি করা কয়লা দিয়ে চলে এবং এই কেন্দ্রে উৎপাদিত পুরো বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করার কথা। কোম্পানিটি বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিটি ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আরও সহায়তা করছে। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লি গড্ডার প্ল্যান্টটিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ হিসাবে ঘোষণা করে। এর ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আয়কর এবং অন্যান্য শুল্ক ছাড়ের মতো প্রণোদনা পায়।

গত ডিসেম্বরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আদানি পাওয়ার ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মাঝে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত চুক্তি ও বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের করহার পরিবর্তন হলে সেই বিষয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘‘কর ছাড় সুবিধাও’’ দেওয়ার কথা আদানির।

কিন্তু আদানি পাওয়ার তা করেনি। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২২ অক্টোবর বিপিডিবির পক্ষ থেকে আদানির কাছে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ভারত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দামে সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়। এসব চুক্তি এবং চিঠি সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও রয়টার্স দেখেছে বলে সেই সময় জানায়।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিপিডিবির দু’জন কর্মকর্তা বলেছিলেন, দুই দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তারা আদানি পাওয়ারের কোনও সাড়া পাননি।

কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে যে করছাড় পেয়েছে আদানি পাওয়ার, সে অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ধরা হলে বাংলাদেশের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে প্রায় শূন্য দশমিক ৩৫ সেন্ট সাশ্রয় হবে বলে বিপিডিবির ধারণা।

গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে কেনা বিদ্যুতের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি সারসংক্ষেপ দেখেছে রয়টার্স। সারসংক্ষেপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। কর ছাড়ের বিষয়টি সমন্বয় করা হলে এই বিদ্যুতে বাংলাদেশের প্রায় ২৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতো।

সূত্র: রয়টার্স।