রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

গাজীপুর-৬ আসন বহালের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে ব্যস্ততম সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে ১২ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী কলেজগেইট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের উভয় পাশ অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করছেন ৬ আসনের বিএনপির নেতারা।

জানা গেছে, গাজীপুরে এবার নতুন করে ৬ আসন যুক্তকরণের প্রস্তাবনা হয়। বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন এ আসনের নেতাকর্মীরা। তবে গত দুই দিন আগে হাইকোর্টের রায়ে ছয় আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে। শুনানির পরপরই ফের আসন রক্ষায় আপিল করে বিএনপি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে আসনটির বিএনপির নেতৃত্বে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও টায়ারে আগুন দেন নেতাকর্মীরা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, টঙ্গীতে টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিএনপির বিক্ষোভ হচ্ছে। যার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

আশুলিয়ায় দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল পার্কিং করা বাস

সাভারের আশুলিয়ায় সড়কের পাশে পার্কিং করা আলিফ পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার প্রণব চৌধুরী ঢাকা পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ভোর ৫টার দিকে ডিইপিজেড-আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর সড়কের সরকার মার্কেট এলাকায় পার্কিং করা ওই গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার প্রণব চৌধুরী ঢাকা পোস্টে বলেন, ভোরে সরকার মার্কেট এলাকায় পার্কিং করা একটি বাসে আগুন দেন দুর্বৃত্তরা। পরে খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে বাসটির ভেতরে আগুনে পুড়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাননান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মোটরসাইকেল দুষ্কৃতিকারীরা এসে ওই বাসে আগুন দেয়। এ ঘটনায় জড়িতের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

রাজধানীতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ-বাসে অগ্নিসংযোগ, রাতভর পুলিশের তল্লাশি

রাজধানী ঢাকায় থামছেই না ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতেও রাজধানীর সূত্রাপুর ও মিরপুর বেড়িবাঁধে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি স্থানে ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। পুলিশ বলছে, ঢাকার বাইরে থেকে এসে এসব নাশকতা করা হচ্ছে।

রাজধানীর সূত্রাপুরের ফায়ার সার্ভিসের গেটের সামনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাঁড়িয়ে ছিল মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস। হঠাৎ যানবাহটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই বাসটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাসটি ফাঁকা থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে রাতে মিরপুর বেড়িবাঁধে আশুলিয়া পরিবহনের একটি বাসেও আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ছাড়াও রাজধানীর একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে রাত ৯টায় ২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণ ঘটানোর পরই দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

রাত ১০টার পর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে হাতিরঝিলের রেইনবো ক্রসিংয়ে। একই সময়ে ককটেল বিস্ফোরণ হয় কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তের সামনেও।

একের পর এক অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তৎপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট, কাকরাইল মোড়, কারওয়ান বাজারসহ মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. সাইদুর রহমান জানান, মোটরসাইকেল বা সিএনজিতে কোনো সন্দেহজনক কিছু পেলে দেখা হচ্ছে। কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য বা অবৈধ কিছু আছে কিনা সেগুলো চেক করা হচ্ছে।

ডিএমপির তথ্য বলছে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে ২০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণ ও ১১টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে জনমনে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, তবে রাজধানীতে শঙ্কার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগরীর চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। গত তিন দিনে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে জড়িত ৫৫২ জন গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। তবে গ্রেফতারদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরে থেকে আসা।

হেলমেট ও মাস্ক পরে হামলা চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এসব কাজে অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

অপরিচিত কাউকে আশ্রয় না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজধানীবাসীর উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিজের যানবাহন অন্য কাউকে দেয়ার আগে ও আগন্তুক কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশকে জানাবেন।

যানবাহন অরক্ষিত না রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অরক্ষিত বাসেই আগুন দেয়া হয়েছে। কম প্যাসেঞ্জারবাহী বাসে আগুন দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নাশকতাকারীদের দমনে জনগণের সহযোগিতা চাই। নাশকতাকারীদের প্রতিহত করবে ঢাকাবাসী।

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১‌৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন রুবেল (২২), অয়ন (২২), আতিকুর রহমান (২১), ইমরান (২১), মেহেদী হাসান (২১), স্বপন (২০), স্বাধীন (২১), আসাদুল (২২), শাকিল (২০), সাব্বির (১৯), রবিন (২৬), আল আমিন (২০), শাওন (১৬), ওমর (৩০) ও বাবু (২৩)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল (সোমবার, ১০ নভেম্বর) মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ অত্র থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নিয়মিত মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে।

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে গুলি করা দুই শুটারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন রুবেল ও ইব্রাহিম। তারা দুজনই পেশাদার ভাড়াটে শুটার হিসেবে কাজ করেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মামুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন শুটার আর বাকি আরেকজন তাদের ব্যাকআপ টিমের সদস্য। আমাদের টিম এখনো অপারেশনে আছে সেজন্য এই বিষয়ে এক বিস্তারিত তথ্য বলা যাচ্ছে না। পরে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এর আগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফটকের সামনে মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে মামুন দৌড়ে হাসপাতালের ফটকের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন, পেছন থেকে দুই অস্ত্রধারী তার দিকে গুলি ছুড়ছে। মুহূর্তের মধ্যে দুজন খুব কাছ থেকে একযোগে একাধিক গুলি ছোড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হত্যা মিশন শেষ করে তারা কোমরে অস্ত্র গুঁজে দ্রুত গেটের বাঁ দিকে পালিয়ে যায়।

পরে আহত অবস্থায় মামুনকে দ্রুত ন্যাশনাল মেডিক্যালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মামুনের সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, মামুনের শরীরে মোট সাতটি গুলির চিহ্ন ছিল—মাথার নিচে একটি, বাম পিঠে একটি, বুকের ডান পাশে একটি, বাম কব্জিতে একটি এবং ডান কব্জির ওপরে একটি গুলি লাগে।

পুলিশ জানায়, নিহত তারিক সাইফ মামুন রাজধানীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। তিনি ‘ইমন-মামুন গ্রুপের’ অন্যতম প্রধান ছিলেন। একসময় তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমন ও মামুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আলোচনায় উঠে আসে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের নাম। ১৯৯৭ সালে মোহাম্মদপুর জোসেফের ভাই টিপু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন নিহত মামুন। সেই ক্ষোভ থেকে জোসেফের টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে পারে বলেও ধারণা পুলিশের।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

তবে এই ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে মালঞ্চ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবরকে গুজব বললেন মেয়ে

অনলাইন ডেস্কঃ মঙ্গলবার সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়, যা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। টেলিগ্রাফ, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিকস টাইমস এবং জি নিউজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে অভিনেতার মৃত্যুর খবর বলা হয়। খবরটি প্রকাশের পর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার জাবেদ আখতার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন।

তবে, ধর্মেন্দ্রর মেয়ে এশা দেওল এই খবরটি গুজব বলে দাবি করেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, “বাবার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ আছেন। মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

এশা দেওল আরও বলেন, “পিতার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল, এবং তিনি কিছু দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে, তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।”

ধর্মেন্দ্র এক সপ্তাহ আগে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল থেকে অভিনেতার শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গিয়েছিল, এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

এদিকে, সোমবার রাতেই ধর্মেন্দ্রর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে জানানো হয় যে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাঁকে শুধুমাত্র রুটিন চেকআপ ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর, এশা দেওল তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানান যে, অভিনেতার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বেঁচে থাকাটাই আনন্দের: বিদ্যা সিনহা মিম

গতকাল ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের জন্মদিন ছিল। বিভিন্ন পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও, শেষ মুহূর্তে তিনি তার পরিবারে সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। সহকর্মী ও প্রিয়জনদের ভালোবাসায় মিম এই দিনটি উদযাপন করেছেন, যা তার জন্য বিশেষ এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বিদ্যা সিনহা মিম তার জন্মদিন সম্পর্কে বলেন, “এবারের জন্মদিনটা আমার কাছে খুবই বিশেষ ছিল। পরিবারকে নিয়ে বাসাতেই ছিলাম। অন্যান্য বছরের মতো বাইরে কোনো বড় আয়োজন ছিল না, তবে পরিবারের সান্নিধ্য আর প্রিয়জনদের ভালোবাসা আমার জন্য অনেক বড় বিষয়।”

তার মতে, দিনটি কাটানোর সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল কেক কাটার মধ্যে। মিম বলেন, “রাত থেকে একের পর এক কেক কাটতে কাটতে দিনটা পার হয়ে গেল। আমি কেক কেটে আর কথা বলেই জন্মদিনটা পালন করেছি।”

অভিনেত্রী আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সবার ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা তাকে বিশেষ অনুভূতি দিয়েছে। “ফেসবুক, ফোন কল, স্ট্যাটাসে অনেকেই আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে এবং আমার জীবনের সংগ্রামের কথা লিখেছেন, যা আমার জন্য অনেক গর্বের।”

মিমের জন্য এই জন্মদিনের বিশেষত্ব শুধু কেক কাটার মধ্যে ছিল না, বরং এটি তার নিজের চিন্তা-ভাবনার একটি দিনও ছিল। তিনি বলেন, “জন্মদিনে আমি সবসময় নিজের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করি। তবে পেছনে তাকাতে আমি বিশেষভাবে আগ্রহী নই। আমি সবসময় ভাবি, কীভাবে নিজেকে আরও উন্নত করা যায়।”

একটি প্রশ্নের জবাবে, মিম জীবনের অর্থ সম্পর্কে বলেন, “আমার কাছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আনন্দের। বেঁচে থাকা নিজেই একটা আনন্দের বিষয়। আমি জীবনে সবসময় আনন্দ খুঁজে বেড়াই।”

প্রতিবছরের মতো, এবারও তিনি অনেক কেক কাটেন। কেকের সংখ্যা নিয়ে জানতে চাইলে মিম হেসে বলেন, “এবার অনেক কেক কেটেছি, তবে গুনে দেখিনি। এখনো কেক কাটার কাজ চলছেই, রাতে আরও কাটব।”

এদিনের উদযাপন মিমের জীবনে একটি মধুর স্মৃতি হিসেবে থাকবে, যা তাকে তার পরিবারের কাছে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেখলেই ব্রাশফায়ারের নির্দেশ দিলেন সিএমপি কমিশনার

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড এবং অস্ত্রবাজি ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ।

আজ (মঙ্গলবার) পুলিশের সকল সদস্যের উদ্দেশে ওয়্যারলেসে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র সাবমেশিন গান (এসএমজি) ব্যবহার করে ‘ব্রাশফায়ার’ করার নির্দেশ দেন। তবে এ আদেশ কোনো নিরস্ত্র মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সিএমপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মঙ্গলবার দুপুরে কমিশনার ওয়ারল্যাস সেটের মাধ্যমে টহল ও থানা পুলিশকে একাধিকবার নির্দেশ দেন— ‘শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।’

একই সঙ্গে পুলিশের উদ্দেশে তিনি টহল ও অভিযানে শিশা শটগান, দুইটি গ্যাস গান এবং নাইন এমএম পিস্তল বহন করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া স্থায়ী চেকপোস্ট সাতটি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত ৫ নভেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। একই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহও আহত হন। পরদিন একই এলাকায় গুলিতে এক প্রতিবন্ধী রিকশাচালক আহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিএমপি কমিশনার নতুন করে এ নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, দেখামাত্র ব্রাশফায়ার হবে শুধুমাত্র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের জন্য। নিরস্ত্র জনসাধারণের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে না। এমনকি আওয়ামী লীগের যারা ঝটিকা মিছিল করে এটা তাদের ওপর প্রয়োগ হবে না। তাদের গ্রেপ্তার করব, আদালতে সোপর্দ করবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য সন্ত্রাসীদের নগরে প্রবেশের সাহসই কমানো। আমাদের এলাকায় প্রকাশ্যে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসীরা যেন আর সাহস না পায়, সেজন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য নির্দিষ্ট সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা। দণ্ডবিধি ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার অধিকার সবসময় রয়েছে। প্রয়োজনে সব দায় আমি বহন করব।

এর আগে ১১ আগস্ট নগরের বন্দর থানার সল্টগোলা ক্রসিং ইশান মিস্ত্রি হাট এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ ওরফে রানা গুরুতর আহত হন। পরদিন (১২ আগস্ট) ওয়্যারলেসে সিএমপির সব সদস্যের উদ্দেশে মৌখিক নির্দেশনায় সিএমপি কমিশনার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যে অস্ত্রের প্রাধিকার ছিল, ওই প্রাধিকার অনুযায়ী থানার মোবাইল পার্টি, পেট্রোল পার্টি, ডিবির টিমসমূহ ও সকল ফোর্স অস্ত্র ক্যারি করবে।

আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া এবং লাইভ এমুনিশন ছাড়া কোনো পেট্রোল পার্টি, মোবাইল পার্টি, ডিবির পার্টি, চেকপোস্ট পার্টি বের হবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের প্রাধিকার অনুযায়ী লাইভ এমুনিশন ছাড়া কেউ বের হবে না। প্রাধিকার অনুযায়ী অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং স্যুট পরে তারপর ডিউটিতে যাবে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র রবার বুলেট দিয়ে কাজ হচ্ছে না। বন্দরে (বন্দর থানা) একজন এসআই গুরুতর আহত হয়েছেন। আরেকদিন আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। বন্দর থানার অফিসার যে অবস্থায় পড়েছেন, ওই পরিস্থিতিতে পড়লে যেন লাশ ছাড়া মোবাইল পার্টি, পেট্রোল পার্টি ফেরত না আসে। পুলিশের কোনো টহল পার্টির সামনে অস্ত্র বের করলে, আই রিপিট, সেটা ধারালো অস্ত্র হতে পারে কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র হতে পারে, অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই, সবাইকে বলছি। আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার, দণ্ডবিধি ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত, আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার সকল পুলিশ অফিসারের আছে। অস্ত্র কিংবা কোপ দেওয়ার আগে অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি হবে। সরকারি গুলির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

রাজধানীতে আবারও বাসে আগুন

রাজধানীতে আবারও বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরে মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক বলেন, সূত্রাপুরে মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে আমাদের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকায় রাইদা পরিবহনের দুটি ও রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চলন্ত বাসে আগুন দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। তার আগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় দুটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।