রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকে আগুন, পুলিশের গাড়িতে ককটেল: আটক ৩

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ টোল প্লাজার কাছে একটি ট্রাকে আগুন ও পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে পদ্মা সেতুর ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও মিছিলের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল পদ্মা সেতুর দক্ষিণ টোল প্লাজা সংলগ্ন নাওডোবা এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে মিছিল বের করে। এসময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়েন। এতে গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে যায় এবং একজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তারা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পাশের তস্তারকান্দি এলাকায় গিয়ে চিনি বোঝাই একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভান।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর চাচাতো ভাই ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন তপু এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাহাড়সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে মিছিলের নেতৃত্বে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রসূল বলেন, ভোরে একদল দুর্বৃত্ত এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে তারা পুলিশের গাড়িতে ককটেল ছোড়া হয়। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙে একজন পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন। পরে তারা একটি ট্রাকে আগুন দেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, দুর্বৃত্তরা কোন দলের বা তারা কারা, তা আমরা এখনো জানতে পারিনি। তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বরগুনায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ

বরগুনার জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরগুনা শাখার সভাপতির ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রথমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলে দাবি ব্যবহারকারীদের।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কেউ একজন পেট্রল বোমায় অগ্নিসংযোগ করে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় ভিডিও ফুটেজে একজন আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দে’। তখন আরেকজন পেট্রল বোমায় অগ্নিসংযোগ করে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে নিক্ষেপ করে। এরপর ভিডিওতে আবার বলতে শোনা যায়, ‘চল চল’। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে পোস্ট করে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা লিখেছেন, ‘বরগুনা সার্কিট হাউজের সামনে কথিত জুলাই স্তম্ভে আগুন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী জুলাই স্মারক নামের নোংরা জিনিস বরগুনার পবিত্র মাটিতে থাকতে পারে না। থাকতে দেব না।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থলে এরকম কোনো নমুনা দেখছি না। এটা আমাদের এখানে না অন্য কোথায় ঘটেছে, তা ঠিক বলতে পারছি না। পুলিশ যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রায়ের তারিখ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তারিখ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এসময় মামলাটি চূড়ান্ত পর্বে আসার পেছনে প্রসিকিউশনের যেসব সদস্যবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, ভুক্তভোগী এবং গোটা জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর) তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘১৭ নভেম্বরের রায়ে আদালত তার সুবিবেচনা, প্রজ্ঞা প্রয়োগ করবেন এবং এই জাতির বিচারের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা, যে তৃষ্ণা সেটার প্রতি তারা সুবিচার করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।’

একইসঙ্গে ‘সঠিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটা ইতি ঘটাবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য এই রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে তেমন একটি রায়’ প্রত্যাশা করছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার বিচার স্বচ্ছ হয়েছে, কে কী প্রশ্ন তুললো গুরুত্বপূর্ণ না, ন্যায়বিচার নিজস্ব গতিতে চলবে। যখন জনতা জেগে থাকে তখন জ্বালাই-পোড়াও, নাশকতা কিংবা ষড়যন্ত্র কিছুই সফল হবে না।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের মামলায় আগামী ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ (বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর) এ মামলার রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করে দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্য শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

এ মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনও আসামি। তাদের মধ্যে মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট পাঁচ অভিযোগে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলার বিচার শুরু হয়। আর তা শুরু হয় সেই আদালতে, যে আদালত তার সরকার গঠন করেছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

চলতি বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এ মামলায় আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল তাতে সম্মতি দেয়।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। আর প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে গত ১ জুন।

সেখানে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। সেগুলো হল– গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেয়া; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দেয়া; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ।

এই পাঁচ অভিযোগে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারতে আছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে।

কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি মামুন ১০ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয় গত ১২ অক্টোবর। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড চান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

অন্যদিকে, আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন দুই আসামির খালাসের আর্জি জানান।

রাজসাক্ষী মামুনেরও পক্ষেও খালাসের আবেদন করেন তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান সেদিন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যদি এই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে অনেকেই প্রতিবাদ করবেন। এই দুইজনের যদি বিচার না হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ভীরু-কাপুরুষ হয়ে উপহাসের পাত্র হয়ে থাকবে।

‘আমি আশা করি, আসামিরা এই বিচারের রায় মেনে নেবেন; অন্য কোনো পথ বেছে নেবেন না। আমি আশা করি, এই আদালত সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করবে।’

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার শেষ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি এবং যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে।

সে কারণে সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হাই কোর্ট মাজার সংলগ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবি সদস্যরা। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়।

কাছেই দেখা যায় বিজিবি ও পুলিশের সাঁজোয়া যান। পুরো এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় নিরাপত্তা বলয়। ট্রাইব্যুনালে ঢোকার সময় সাংবাদিক ও আইনজীবীদের তল্লাশি করা হয়।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে বুধবার থেকেই ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রাজধানীজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জাতি গঠনে নতুন কুঁড়ির প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক

জাতি গঠনে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধার পরিচয় দেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে, মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার এই প্রতিযোগিতার সফল বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

আজ (১৩ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে শাপলা হলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তারা এবং শিশুরা, যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কৃত হন।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তৃতায় বলেন, “শিশুদের কেবল নাচ-গান বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের পুরো সম্ভাবনা প্রকাশ পাবে না।” তিনি আরও বলেন, “শিশুদের রচনা, প্রযুক্তি, খেলাধুলা এবং উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন কৌশল ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।” তার মতে, এসব উদ্যোগ শিশুদের শুধুমাত্র বিনোদন নয়, তাদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং আধুনিক পৃথিবীর চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনেও সহায়ক হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি’-এর মতো উদ্যোগ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় আরো বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুরা আনন্দের মধ্য দিয়ে নিজেদের আবিষ্কার করতে পারবে এবং মেধা প্রকাশের সুযোগ পাবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া, অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “শিশুদের লক্ষ্য শুধু দেশের সেরা হওয়া নয়, তাদের সক্ষমতা বিশ্বস্তরে পরিচিত করার জন্যও এই ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি এই ধরনের প্রতিযোগিতাগুলোর মাধ্যমে শিশুদের দক্ষতা ও মেধার পরিচিতি বিশ্বমঞ্চে লাভ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তৃতায় আরও জানান যে, সরকার শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের মেধা এবং প্রতিভার স্বীকৃতি পায়।

দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসান মাসুদ

জনপ্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ২৭ অক্টোবর রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন।

বর্তমানে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে খানিকটা গোপনীয়তা বজায় রেখেছে পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, হাসান মাসুদ এখনো হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। পুরোপুরি সুস্থ হতে তার আরও বেশ কিছু দিন সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে

টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের একসময়কার পরিচিত মুখ হাসান মাসুদ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন একের পর এক হিট নাটকে অভিনয় করে। দীর্ঘদিন ক্যামেরার সামনে অনুপস্থিত থাকার পর সম্প্রতি তিনি ধারাবাহিক নাটক ‘তেল ছাড়া পরোটা’ দিয়ে অভিনয়ে ফিরেছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতার কারণে সেই নাটকের শুটিং আপাতত স্থগিত রয়েছে। অভিনেতার অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত ও সহকর্মীরা। তারা দ্রুত অভিননেতার আরোগ্য কামনা করছেন।

হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন আজ

আজ ১৩ নভেম্বর বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তী, শব্দের জাদুকর এবং কালজয়ী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৬৩ বছরের বর্ণিল জীবন কাটিয়ে ২০১২ সালে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে। কিন্তু তার সৃষ্টিকর্মের বিশাল জগত আজও তার উপস্থিতি জানান দেয় এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারার মতো।

হুমায়ূন আহমেদকে ‘নন্দিত কথাসাহিত্যিক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। গল্প-উপন্যাস রচনা করে তিনি যে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা ও সাফল্য অর্জন করেছিলেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস, সেই বিখ্যাত ‘নন্দিত নরকে’, তাকে এনে দেয় সাহিত্য জগতে সুদৃঢ় ভিত্তি। এরপর তিন শতাধিক গ্রন্থ রচনা করে তিনি লাভ করেন অমরত্ব।

কেবল সাহিত্য নয়, চলচ্চিত্র ও নাটকের ইতিহাসেও হুমায়ূন আহমেদের নামটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা। তিনি যে অসংখ্য নাটক রচনা ও নির্মাণ করেছেন, সেগুলো আজও গুণগত মান ও সৃষ্টিশীলতার দিক থেকে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। তার হাতে সৃষ্ট কালজয়ী চরিত্র যেমন: বাকের ভাই, মিসির আলী, এবং হিমু।

১৯৯৪ সালে তার চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হয়। সে বছর নির্মিত তার প্রথম সিনেমা ‘আগুনের পরশমণি’ মোট আটটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেয়। পরবর্তীতে তিনি নির্মাণ করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘আমার আছে জল’ এবং তার শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’। এই চলচ্চিত্রগুলোও দেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়।

সাহিত্য ও নির্মাণে অসামান্য দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ-এর সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন ছিল ১৯৭৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত। এই সংসারে তার চার সন্তান হলেন- অভিনেত্রী শীলা আহমেদ, নোভা আহমেদ, বিপাশা আহমেদ এবং নুহাশ হুমায়ূন। ২০০৫ সালে তিনি অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন-কে বিয়ে করেন। এই সংসারে তার দুই পুত্রসন্তান হলেন-নিশাত হুমায়ূন ও নিনিত হুমায়ূন।

হাসিনা-কামালের রায়ের দিন ধার্য হবে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে আজ।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এ দিন ঠিক করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল; সেসব বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন। পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের কয়েকটি বিষয়ে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। পরে রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর সপ্তাহখানেকের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জুলাই গণহত্যার প্রথম কোনো রায় শুনবে এ জাতি।

এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে। তবে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এজন্য যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা-কামালের চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও তার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও তার অ্যাকুইটাল (খালাস) চেয়েছেন। সবমিলিয়ে সাবেক এই আইজিপির মুখে হাসি ফুটবে নাকি অন্য কিছু; তা জানা যাবে রায় ঘোষণার দিন।

শেখ হাসিনার এ মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ। এরপর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর।

এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

এদিকে, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে কর্মসূচি দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ। ফলে আগুন-ককটেলসহ বিভিন্ন অপকর্মে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। তবে এমন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিরাপদ বোধ করছে না বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। কেননা পুলিশ-বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নজরদারি বাড়িয়েছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সজাগ রয়েছে এসব বাহিনী।

ফিলিস্তিনে নিরস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করল জার্মানি

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিরস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তাদের মোতায়েন করেছে জার্মানি। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি।

জেরুজালেমে অবস্থান করা এই দলটি স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী পুনর্গঠনে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জার্মান গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বুধবার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকজন নিরস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে জার্মানি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট দেশটির সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-কে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য”। তিনি জানান, এই কারণেই ফেডারেল পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি দলকে জেরুজালেমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডব্রিন্ডট বলেন, এই কর্মকর্তারা জেরুজালেমে অবস্থিত অফিস ফর সিকিউরিটি (ওএসসি) থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পুনর্গঠনে সহায়তা করছেন।

সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, চার সদস্যের এই দলটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ফিলিস্তিনি এলাকায় পৌঁছেছে। তাদের মূল দায়িত্ব হলো ফিলিস্তিনের বেসামরিক নিরাপত্তা বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য জার্মানির দীর্ঘদিনের সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারিত করা।

ডব্রিন্ডট বলেন, “গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে জার্মান পুলিশ ফিলিস্তিনি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। নতুন এই মিশন সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিক অংশ।”

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার ৫ বছরের কারাদণ্ড

প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাদিকুর রায়হান নামে এ ব্যক্তির করা মামলায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন আসামিদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড; অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে।রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত না থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা প্রতারণার উদ্দেশ্যে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছেন। বিভিন্ন সময়ে কোম্পানিটি তাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের অফার দেয়। কোম্পানির এই বিজ্ঞাপন দেখে বাদী সাদিকুর রায়হান ২০২১ সালের ২০ মার্চ তিনটি মোটরসাইকেল অর্ডার করেন। নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে মোটরসাইকেলগুলো বাদীকে হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হন। এরপর বাদীকে সিটি ব্যাংকের দুইটি চেক প্রদান করা হয়। তিনি ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল চেক দুইটি নগদায়ন করতে গেলে তা ফেরত আসে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর সাদিকুর রায়হান মামলা দায়ের করেন।