শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

সন্ত্রাসী হামলা, লুট ও অগ্নিসংযোগ—চরম নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়লেন অভিনেত্রী উপমা

বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী ও নারী উদ্যোক্তা ফারজনা মাহমুদ (উপমা) দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হুমকি, নির্যাতন ও সহিংসতার মুখে নিরাপত্তাহীন হয়ে অবশেষে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে, যা শুধু তার পেশাগত জীবন নয়—ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেও চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

২০২০ সালে তিনি খুলনায় “Farzana Agro Farm” নামে একটি কৃষি উদ্যোগ শুরু করেন। কোভিড-১৯ এর সময় এই ফার্ম স্থানীয় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ফার্মে হামলা চালায়, কর্মীদের হুমকি দেয় এবং শতাধিক গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যায়।

২০২৫ সালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
জুন ২০২৫—তার কৃষি ব্যবসায় পুনরায় সন্ত্রাসী হামলা হয়; গবাদিপশুর একটি বড় অংশ লুট হয়ে যায়।
১০ নভেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে—সন্ত্রাসীরা ফার্মে আগুন ধরিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।

এর আগে তার আরেক উদ্যোগ “উপমা টেইলার্স”-এও চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বারবার স্থানীয়ভাবে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনও সুরক্ষা পাননি উপমা।

ধারাবাহিক এই সহিংসতা, হুমকি এবং জীবনঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে আর নিরাপদ মনে না করায় তিনি দেশ ছাড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ও তার পরিবার এখনও গভীর আতঙ্কে রয়েছেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের নারীনেতৃত্বাধীন ব্যবসা ও শিল্প-সংস্কৃতির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

‘বিচার স্বচ্ছ হয়েছে, শেখ হাসিনা খালাস পেলে খুশি হতাম’

পলাতক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার ভালোভাবে হয়েছে, স্বচ্ছ হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা খালাস পেলে আমি সবচেয়ে খুশি হতাম।’

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্টাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী আমির হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার মক্কেলের খালাস চাই। এই চাওয়াটা তো স্বাভাবিক। এটা প্রত্যেকেই চাইবে।’

শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনি কোনোরকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি নাই। চেষ্টা করার কোনো বিধানও নাই। উনারাও আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগের চেষ্টা এবং কোনো রকমের কোনো সহায়তাও করে নাই। প্রচ্ছন্নভাবেও যদি কোনো সহায়তা করতো সেটা আমার জন্য আরও ভালো হতো, কিন্তু সেটা কেউ কিছু করে নাই। আইনগতভাবে বিধানও নাই।’

‘আমি তো সবসময় আশা করি আমার মক্কেল (শেখ হাসিনা) খালাস পাবে। এটা আমার আশা, এটা আমার প্রত্যাশা। এটাই স্বাভাবিক কথা, আমার তো প্রত্যাশা থাকতেই হবে। এটা হৃদয় থেকেই বলছি। আমি একজনের জন্য এত এত মাস ধরে মামলা করেছি, তা সে যদি খালাস পায় তা আমার চাইতে বেশি খুশি আর কে হবে।’

ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া ভালোভাবে হয়েছে, স্বচ্ছ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজসাক্ষী আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি আমার মক্কেল না। উনার সম্পর্কে আমার কোনো কথা বলাও ঠিক না। কারণ আমি যাদের পক্ষে মামলা লড়ি তাদের পক্ষেই আমার বলা উচিত। যারা আমার আসামি না তার পক্ষে আমি কেন বলবো, এটা বলা ঠিক না, এটা সমীচীন না।’

আসামি পক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী বলেন, ভালোভাবেই বিচার হয়েছে বলে আমি মনে করি।

‘আপনার সাবমিশনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারে একটা জায়গায় মিলে গেছে। আপনি বলছিলেন যে এইভাবে নির্বিচারে গুলির নির্দেশ তিনি দেননি, গণমাধ্যমে দেখলাম তিনিও তাই দাবি করেছেন, প্রসিকিউটার বলছে ভিন্ন কথা। তথ্য প্রমাণ কিন্তু তা বলে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনারা (প্রসিকিউট) তো ওনাদের কথা বলবেনই। আমি আমার কথা বলবো। এটাই স্বাভাবিক। বিচার বিবেচনা করবে মাননীয় ট্রাইব্যুনাল।’

এদিকে, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ-র‌্যাব, এপিবিএন-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্ত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমিত করা হয়েছে জনসাধারণের চলাচলও।

গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার এ মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। আর ৯ কার্যদিনে চলে প্রসিকিউশন-স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক পাল্টা যুক্তিখণ্ডন। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইনকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্য এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণে সময় দেওয়া হয়।

যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলার অন্যতম আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও তার খালাস চেয়েছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। হাসিনা-কামালও খালাস পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাষ্ট্রনিযুক্ত আমির হোসেনের।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

তিতুমীর কলেজ ও আমতলীতে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন

রাজধানীর তিতুমীর কলেজের গেটের সামনের রাস্তায় ও আমতলী মোড় এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের পানির টাংকির সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমজাদ শেখ। তিনি জানান, মহাখালীর আমতলী মোড় এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে তিতুমীর কলেজের সামনের গেটে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের পানির টাংকির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্টাফরা আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

সোনালি যুগে তিন দেশের আইকন, ১৮ ভাষায় গেয়েছেন ১০ হাজার গান

‘সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী’ তো অনেক পরের কথা। তারও আগে, হিন্দি গানের সাদাকালো জগতে উপমহাদেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেওয়া ‘ও মেরা বাবু ছৈল ছাবিলা’ কিংবা পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের ক্ল্যাসিক ‘উনকি নজরোঁ সে মোহাব্বত’— এই গানগুলোও নিশ্চয়ই মনে আছে?

এমন ভিন্ন ঘরানার গানেই যিনি সমান সাবলীল, তিনি আর কেউ নন, কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। একটা সময় উপমহাদেশের তিনটি দেশেই যিনি সমানতালে গান করে গেছেন। আজ (১৭ নভেম্বর) তার ৭২তম জন্মদিন। এমন দিনে এই কৃতিত্ব সংগীতপ্রেমীরা স্মরণ না করে কী করে থাকবেন?

আজ ৭২ বছরে পা রাখলেন এই কিংবদন্তী, আর সেই সাথে পূর্ণ করলেন সংগীত জীবনের ৬০ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কেবল বাংলাদেশে নয়, উপমহাদেশজুড়ে পেয়েছেন বিপুল ভালোবাসা। ১৮টি ভাষায় গেয়েছেন দশ হাজারের বেশি গান। রুনা লায়লা যে এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী- এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশেষ করে, বাংলাদেশের বাংলা গানকে তিনি বিশ্বের নানান দেশে পৌঁছে দিয়েছেন, নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ সহ অগণিত স্বীকৃতি।

১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণকারী রুনা লায়লার সংগীত জীবনের শুরুটা হয়েছিল ষাটের দশকের শেষের দিকে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে। শিল্পী আহমেদ রুশদির গায়কীতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সংগীতাঙ্গনে আসেন এবং দ্রুতই উর্দুভাষী শ্রোতাদের মন জয় করে নেন। ‘উনকি নজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গাম মিলা’র মতো গানগুলো তাকে পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

এরপর ভারতেও তার কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে পড়ে। ‘ও মেরা বাবু ছৈল ছাবিলা’ গানটি সাদাকালো যুগেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ীর সাথে ‘ডিস্কো দিওয়ানে’ (১৯৮২) অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন, যা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়।

তবে তার মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশ। ‘দ্য রেইন’ (১৯৭৬), ‘যাদুর বাঁশি’ (১৯৭৭), ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ (১৯৮৯), ‘অন্তরে অন্তরে’ (১৯৯৪) সহ মোট সাতবার তিনি শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘সাধের লাউ বানাইলা মোরে বৈরাগী’, ‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়িতে গেলাম’-এর মতো কালজয়ী বাংলা লোকগান তার কণ্ঠে নতুন প্রাণ পায়।

এই কিংবদন্তী শিল্পী প্রায়ই তার এই দীর্ঘ এবং সফল যাত্রার কৃতিত্ব দেন তার মাকে। তিনি স্বীকার করেন, এই শিল্পীর এতদূর আসার পেছনে তার মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘মা আমাকে প্রচণ্ড সহযোগিতা করেছেন। যখনই গান গাইতে যেতাম ছোটবেলায় মা সঙ্গে যেতেন।’

তার এই ৭২তম জন্মদিনটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে ভক্তদের কাছে। কোক স্টুডিও বাংলার তৃতীয় মৌসুমের পর্দা নামছে রুনা লায়লার কণ্ঠ দিয়েই। শিল্পীর জন্মদিনকে (১৭ নভেম্বর) সামনে রেখে গত রোববার রাতে প্রকাশ পায় তার গাওয়া জনপ্রিয় সুফি কাওয়ালি ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’। এই গানটি তার ক্যারিয়ারে বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং এটিই তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দিয়েছিল।

অবশ্য এই কিংবদন্তি শিল্পী সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এবারের জন্মদিন নিয়ে এবার তার তেমন কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই। পারিবারিকভাবেই দিনটি উদযাপন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই সময় কাটাবেন ‘কুইন অব মেলোডি’ খ্যাত এই শিল্পী।

‘হাই অ্যালার্ট’, ‘১০ গাড়িতে আগুন, ককটেল, আতঙ্ক’

ঢাকা: রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত থেকে সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোর পর্যন্ত একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার ফলে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও, সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের সম্পদের ক্ষতি হয়নি।

বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জানে আলম জানান, রবিবার রাত ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তিতুমীর কলেজের মূল ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর কিছু সময় পর, মহাখালীর আমতলী মোড়েও আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। একই সময়ে, মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় বলে পুলিশ জানায়।

রবিবার রাত ৯টার দিকে সেন্ট্রাল রোডে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলামোটর এবং শ্যামপুর এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে মেহেদী নামে একজন আহত হন। রাত ১০টার দিকে গাবতলী ও মহাখালীর রেলক্রসিং এলাকায়ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

এই ধরনের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা একটি নিরাপত্তা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধে ব্যাপক নজরদারি চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন

ঢাকা: সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে। নিরাপত্তার কারণে ট্রাইব্যুনালের আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের চারপাশে তৎপর রয়েছেন। মাজার গেটের সামনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিও দৃশ্যমান। নিরাপত্তা বাহিনীর এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়ানো।

এদিন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এবং অন্যান্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী রায় ঘোষণা করবেন। গত ১৩ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ মামলায় সাজার অপেক্ষায় থাকা তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভয়াবহ গণহত্যা, নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী কার্যক্রম। প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলায় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম এবং ফারুক আহমদ সহ অন্যান্য আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই মামলার সমাপনী বক্তব্য রাখেন। তিনি বিশ্বব্যাপী মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বিচারের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন। এর পরপরই, আসামিপক্ষের আইনজীবী রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রসিকিউশন তাকে সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ তার খালাস চেয়েছেন। তার ভবিষ্যত নির্ধারণ হবে রায় ঘোষণার পর।

এই মামলায় মোট ৮৪ জন সাক্ষী ছিলেন, এর মধ্যে ৫৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ৩ আগস্ট শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হয়। পরবর্তীতে ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যাকাণ্ড, এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮,৭৪৭, এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২,১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪,০৫৭ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠা।

অপরাধমূলক কার্যক্রমের এই অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের পূর্ববর্তী উদাহরণ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উদাহরণমূলক হতে পারে।

শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সামনের পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে ট্রাইব্যুনালের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুপ্রিম কোর্টের চার দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো হয়েছে। মাজার গেটের সামনে সেনাবাহিনীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে ও ভেতরে পুলিশ র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

চব্বিশের জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। ঐতিহাসিক এ রায় সরাসরি দেখতে পাবে গোটা বিশ্ব। একইসঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বড় পর্দায় এ বিচারকাজ দেখানো হবে।

ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের রায় শোনার অপেক্ষায় আছে গোটা জাতি। বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্বের অনেক দেশও। তাই এ রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যেন এ বিচারকাজ আগামীর জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে বড় পর্দা বসাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ফলে ঢাকাবাসী সহজেই এ বিচারকাজ দেখতে পারবে।
a
গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেসব বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন তিনি। পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের কয়েকটি বিষয়ে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও আসামি। তবে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ায় যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা-কামালের চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও তার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও তার অ্যাকুইটাল (খালাস) চেয়েছেন। সবমিলিয়ে সাবেক এই আইজিপির মুখে হাসি ফুটবে নাকি অন্য কিছু; তা জানা যাবে রায় ঘোষণার দিন।

এ মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ। এরপর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

গোলপোস্ট অক্ষত রেখে ইংল্যান্ডের আটে ৮

থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড যেভাবে বছর শুরু করেছিল, সেভাবেই শেষ করল। গত মাসেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা থ্রি লায়নরা শতভাগ সাফল্য ধরে রেখে শেষ করলো ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই। গতকাল (রোববার) তারা আলবেনিয়াকে হারিয়েছে ২-০ গোলে।

দুইবারের ইউরো ফাইনালিস্টরা বাছাইপর্বে আট ম্যাচে ৮টি জিতেছে কোনো গোল না খেয়ে। অন্তত ছয়টি বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ খেলা প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে এমন কীর্তি গড়ল ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচে আলবেনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের স্বাদ পান টুখেল। ২৪০ দিন পর বেশ বদলে যাওয়া তার দল তিরানায় একই স্কোরে জিতল।

‘কে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাছাই শেষ করেছে ইংল্যান্ড। গোল করেছে ২২টি। দারুণ ফর্মে আছেন হ্যারি কেইন, আলবেনিয়ার বিপক্ষে দুটি গোলই তার। বাছাইয়ে ৮ ম্যাচে আট গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

শুরুতে ইংল্যান্ডের গোলপোস্টে আতঙ্ক ছড়ায় আলবেনিয়া। আর্বার হোক্সার দুটি শট ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ কিপার ডিন হেন্ডারসন। টুখেল তারপর বেঞ্চ থেকে ফিল ফোডেন ও বুকায়ো সাকাকে নামান।

অবশেষে স্বস্তির গোল আসে ৭৪তম মিনিটে। সাকার কর্নারে কেইন বল ঠেলে দেন স্বাগতিকদের জালে। তারপর বদলি খেলোয়াড় মার্কাস র‌্যাশফোর্ডের চমৎকার ক্রস থেকে ৮২তম মিনিটে গোল করেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা।

ক্যারিবীয় সাগরে পৌঁছাল মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর বিশাল বহর

যুক্তরাষ্ট্রের তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিবীয় সাগরে পৌঁছেছে। ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত মাদক চোরাচালান ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে রণতরীটি সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রোববার ক্যারিবীয় সাগরে এই রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনীর দক্ষিণ কমান্ড (সাউথকম)। তারা জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোকে ধ্বংস করা।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডটিতে ৪ হাজারের বেশি নাবিক ও ডজনখানেক যুদ্ধবিমান বহন রয়েছে। এই রণতরীটি এখন ক্যারিবীয় অঞ্চলে থাকা আইওও জিমা অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ ও এক মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

এসব ইউনিট নতুন গঠিত জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন স্পিয়ার-এর অধীনে পরিচালিত হয়, অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোকে ধ্বংস করাই যার লক্ষ্য বলে কমান্ড জানিয়েছে।

অন্যদিকে জেরাল্ড আর ফোর্ডের সঙ্গে রয়েছে এর সম্পূর্ণ স্ট্রাইক গ্রুপ— ক্যারিয়ার এয়ার উইং এইটের নয়টি স্কোয়াড্রন, আর্লি বার্ক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস মেহান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা গাইডেড জাহাজ ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল।

এদিকে রোববার সাউথকম জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে এবং সেখানে সন্দেহভাজন তিনজন মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হেগসেথের নির্দেশে সাউদার্ন স্পিয়ার টাস্ক ফোর্স “নির্ধারিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের” নিয়ন্ত্রণে থাকা নৌযানে প্রাণঘাতী এই হামলা চালায়।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, নৌযানটি অবৈধ মাদক পরিবহনে জড়িত ছিল এবং এটি একটি মাদক চোরাচালান রুট দিয়েই চলছিল।

এদিকে ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করায় এটিকে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত ভেনেজুয়েলার একটি স্পিডবোটে হামলার মধ্য দিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলে কথিত মাদকবিরোধী মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। আর অক্টোবরের শেষ দিকে তা আরও প্রসারিত হয়ে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরেও ছড়িয়ে পড়ে।

এ অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাদক চোরাচালান সংশ্লিষ্ট অন্তত ২১টি হামলা চালানো হয়েছে এবং এসব হামলায় ৮২ জন নিহত হয়েছে।

শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালে সেনা মোতায়েন চেয়ে চিঠি

মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন চেয়ে সেনা সদরে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে সেনা মোতায়েন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস থেকে সেনা সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবারও সেনা মোতায়েন করতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে।
সেই অনুযায়ী সেনাও মোতায়েন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও মামলাটির সংবেদনশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী নামে পরিচিত) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।