বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

লাল কার্ডেই শেষ রিয়ালের স্বপ্ন, সেমিতে বায়ার্ন

রোমাঞ্চে ভরা এক ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হলো রিয়াল মাদ্রিদের। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেও চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন।

বায়ার্নের মাঠ আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল গোলের বন্যা।
প্রথম মিনিটেই গোল করে ম্যাচে উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের ভুলে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে রিয়ালকে লিড এনে দেন আর্দা গুলের। ৫ মিনিট পর আলেকসান্দার পাভলোভিচের গোলে সমতায় বায়ার্ন। ২৯ মিনিটে দূরপাল্লার ফ্রি-কিকে রিয়ালকে আবারও এগিয়ে দেন গুলের।
৯ মিনিট পরে কেইনের গোল। ৪২তম মিনিটে এমবাপ্পের গোলে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ গোলে সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়। ম্যাচটা যখন অতিরিক্ত গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনি ৮৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখে রিয়ালকে ১০ জনের দল বানিয়ে দিলেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা।
শেষ মুহূর্তে সময় নষ্ট করতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এই লাল কার্ডের পরই ভেঙে পড়ে রিয়ালের রক্ষণভাগ।

সংখ্যাগত ব্যবধানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ দিকে পরপর গোল করেন লুইস দিয়াজ ও মাইকেল ওলিসে। আর তাতে দুই লেগের লড়াইটা ৬-৪ গোলে জিতে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে সেমিতে উঠে যায় বায়ার্ন।

এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ।

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন—মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এ ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

কৃষকদের মাঝে যথাসময়ে সার-বীজ প্রদানে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে: কৃষি মন্ত্রী

কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, কৃষকদের মাঝে যথাসময়ে সার ও বীজ প্রদানে এবং মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট থেকে কৃষকদের হয়রানি দূরীকরণে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আজ সংসদে নীলফামারী-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুস সাত্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ‘সার ডিলার ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ প্রবর্তন করা হয়েছে, যা গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে, পৌরসভায় ও সিটি কর্পোরেশনে নিয়োজিত ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি দূরীকরণে ওয়ার্ডভিত্তিক নিয়োজিত খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের দ্বারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহজেই সার পৌঁছানো সম্ভব হবে।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে আবাদকৃত ফসলী জমির ওপর ভিত্তি করে বছরের শুরুতে রাসায়নিক সারের চাহিদা নিরূপণ করে বাৎসরিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। যে মাসে, বিশেষ করে রবি মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) অধিকাংশ ফসল উৎপাদিত হয়, সে সকল মাসে রাসায়নিক সারের বরাদ্দ বেশি রেখে মাসওয়ারী বাৎসরিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।

প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে পরবর্তী মাসের বরাদ্দ প্রদান করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সার ডিলারগণের উত্তোলন থেকে বিতরণ পর্যন্ত সর্বস্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিবিড় মনিটরিং করা হয়। তিনটি কৃষি মৌসুম শুরুর অন্ততঃ দুই মাস পূর্বে বিভিন্ন ফসলের বীজের চাহিদা নিরূপণপূর্বক কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়।

তিনি জানান, কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করা হয়।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫’ এর আলোকে বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারদের সমন্বিতভাবে নতুন সার ডিলারশীপ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যে সকল ডিলার অনিয়ম করবে বা উপকরণ সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করবে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, সার ও কীটনাশক ডিলারশীপ বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষার কারণে সাধারণ পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ নির্মাণ করবে সরকার।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান দু’টি বছর ঝরে যাচ্ছে, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনে বড় বাধা।’

আজ বুধবার সকালে জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপি’র ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে পাঠদানের মান নিশ্চিত করা যায়। আমি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, আপনারা নিজ নিজ এলাকার স্কুলের সিসি ক্যামেরা কোড নিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই তদারকি করুন।’

শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলা জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘পুল’ গঠন করা হচ্ছে, শিক্ষক সংকট থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানো হবে।’

নকলের বর্তমান ধরণ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এখন আর আগের মতো সনাতন পদ্ধতিতে নকল হয় না, এখন ডিজিটাল নকলের ভ্যারিয়েন্ট এসেছে। শিক্ষক যদি ক্লাসে না পড়ান, তবেই শিক্ষার্থীরা নকলের আশ্রয় নেয়। তাই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমেই এই ব্যাধি দূর করতে হবে।’

এ সময় মন্ত্রী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থান আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে: আব্দুল আউয়াল মিন্টু

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

আজ সংসদে কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আফজাল হোসেনের তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাসমূহের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান ইটভাটা মৌসুমে নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সময় পর্যন্ত অবৈধভাবে পরিচালিত ১১টি ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এবং একটি ইটভাটা থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিনি জানান, ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এছাড়াও ৩২টি হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। অধিকন্তু, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের জন্য ‘সময় নেই’ যুক্তরাষ্ট্রের: জেলেনস্কি

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন শান্তি আলোচকদের ‘ইউক্রেনের জন্য সময় নেই’। মঙ্গলবার জার্মান সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

পাশাপাশি মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জেডডিএফকে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানে মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ ও জেরেড কুশনার এই মুহূর্তে ‘ইরানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায়’ ব্যস্ত।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জেলেনস্কি ‘তাদেরকে ‘বাস্তববাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে পুতিনের আরও মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।’

তবে ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে এবং শুধু রাশিয়ার সঙ্গে নরম সুরে আলোচনা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা আর ভয় পাবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মার্চের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত অবসানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আলোচনা থমকে আছে। ফেব্রুয়ারিতে জেনেভা বৈঠকের পর রুশ ও ইউক্রেনীয় আলোচকদের মধ্যে আর কোনো বৈঠক হয়নি।

জেলেনস্কি জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্রের সরবরাহ আরও কমে যাবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি হবে।’

নরওয়ে সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং পিএসি-২ মিসাইল সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব অস্ত্র মূলত পিইউআরএল কর্মসূচির মাধ্যমে কেনা হয়, যা গত বছর চালু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে ইউক্রেন মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পেয়ে থাকে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের একেবারে শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

অস্ত্র সরবরাহ ‘ধীরগতিতে’ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি।’ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের পাশে দাঁড়িয়ে ওই মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।

পরে দুই নেতা জানান, তারা ‘উন্নত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা’-তে স্বাক্ষর করেছেন।
নরওয়ের সরকার জানায়, দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় এবং ‘ইউক্রেনীয় ড্রোন এখন নরওয়েতে উৎপাদিত হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি একটি সরকারি প্রতিনিধিদল নিয়ে বার্লিন সফর করেন। সেখানে চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎর্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয়পক্ষের আলোচনার মূল বিষয় পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ।

সেসময় দুই দেশ প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বও ঘোষণা করেছে।

নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার জন্যই কিছু না কিছু রেখেছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার জন্যই আমরা কিছু না কিছু রেখেছি।

তিনি বলেছেন, ‘শ্রমিক হোক, কৃষক হোক, দিনমজুর হোক, খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হোক, প্রত্যেকের জন্য আমরা কিছু না কিছু রেখেছি।’

আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদেরকে সহযোগিতা করতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করেছি। একইভাবে দেশের নারী সমাজকে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের নারী প্রধান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে

‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এ খাল খনন শুধু যে কৃষকদেরকে উপকৃত করবে তা নয়, এর মাধ্যমে গ্রাম-গঞ্জে বাস করা বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ( বিএনপি) প্রতিশ্রুতি ছিল আমরা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব এবং এই বৃক্ষরোপণেও বিভিন্নভাবে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে।

ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের বিষয়টি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন রকমের পরামর্শ পেয়ে থাকি। মুসলমান হিসেবে মসজিদ-মাদ্রাসার খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান- সেখানে যারা ধর্মগুরু আছেন তারাও খেটে খাওয়া মানুষেরই অংশ। তাদেরকেও সহযোগিতা করার জন্য আমরা সরকার থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করব বলেছিলাম। সেটির কাজও আমরা শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম দেশে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। যারা এই পেশাদার খেলোয়াড় হতে চাইছে তারা কোনো না কোনো খেটে খাওয়া পরিবারের সদস্য। তারা যাতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ ও প্রফেশনটা ধরে রাখতে পারেন সেজন্য তাদের আমরা সহযোগিতা করতে চেয়েছি। আর সেই কাজটিও আমরা শুরু করেছি। ইতোমধ্যে তাদেরকে ক্রিয়া কার্ডের আওতায় এনেছি।

তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার জন্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) বিগত নির্বাচনে এদেশের মানুষ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে। এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। সেজন্যই আমাদের ম্যানিফেস্টোতে আমরা শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যাতে তারা ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে। সেজন্য আমরা বিভিন্নরকম পলিসি গ্রহণ করেছি। এমনকি বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সেটা বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।

এর আগে সকাল ১১ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতেই নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংসদ নেতারা।

পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, বৃত্তির মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে ও শিক্ষা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, প্রতিমন্ত্রী মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীরা যাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করা।’

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আমি নিজে আজকে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশের খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া সব রিপোর্টই ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, যদিও কিছু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভবিষ্যতে উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে যেগুলো রয়েছে সেগুলোও চালু থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদেরও কিছু চাহিদা রয়েছে যা সরকার আগামীতে আলোচনার মাধ্যমে পূরণের চেষ্টা করবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে, যার মধ্যে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হতে পারে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আরও বেশি উৎসাহিত হন।’

শিক্ষার হার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষার হারকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯৬ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।

ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের পদ থেকে হাভিয়ের মাচেরানোর আকস্মিক পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি হাভিয়ের মাচেরানো। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। চলতি মৌসুমের মাত্র সাতটি ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পরই তার এই বিদায় ক্লাবটির ভক্ত, খেলোয়াড় ও ফুটবল অনুরাগী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র চার মাস আগেই তার নির্দেশনায় ক্লাবটি নিজেদের ইতিহাসের প্রথম এমএলএস কাপ শিরোপা ঘরে তুলেছিল।

সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পরই মাচেরানো ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের বিষয়টি অবহিত করেন। তার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন নতুন মৌসুমেও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে দল মাঠে নেমেছিল। আকস্মিক এই পরিবর্তনে ক্লাবের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং দলের মানসিক অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের। মৌসুমের শুরুর দিকেই এমন একটি পরিবর্তন দলের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাভিয়ের মাচেরানো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে আমি ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার জন্য সবার আগে আমি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।” তিনি আরও যুক্ত করেন, “সংগঠনের প্রতিটি কর্মীকে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ। তবে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার খেলোয়াড়দের প্রতি, কারণ তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মাঠে শতভাগ নিবেদনের ফলেই আমরা গত কিছুদিনে অনেক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপভোগ করতে পেরেছি।”

আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ হিসেবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় খেলেছেন মাচেরানো। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পর তিনি কোচিং পেশায় নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বদেশি কোচ ও অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ান জেরার্দো মার্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইন্টার মায়ামির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। প্রায় দেড় বছর লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, সের্হিও বুসকেটস এবং জর্দি আলবাদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির প্রধান কোচ হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অধীনে মায়ামি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের সেমিফাইনাল এবং লিগস কাপের ফাইনালে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করে। এছাড়া ২০২৫ সালে ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমেই এমএলএস কাপ জিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে ইতিহাস গড়েন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

২০২৬ সালের চলতি মৌসুমে সাতটি ম্যাচ শেষে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইন্টার মায়ামি। দলটির পারফরম্যান্স মোটের ওপর সন্তোষজনক হলেও, সম্প্রতি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে ন্যাশভিলের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে তাদের অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। মাচেরানোর এমন বিদায়ে ক্লাবের অন্যতম স্বত্বাধিকারী হোর্হে মাস এক বিবৃতিতে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “হাভিয়ের মাচেরানো এই ক্লাবের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন এবং ইন্টার মায়ামি পরিবারের কাছে সব সময় এক বিশেষ সম্মানের জায়গা ধরে রাখবেন। এমএলএস কাপ জয় বা ক্লাব বিশ্বকাপে দলের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সসহ স্মরণীয় সব অর্জনের পেছনে তার অসামান্য নিষ্ঠা ও প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের ক্লাবের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

হাভিয়ের মাচেরানোর শূন্য পদে আপাতত প্রথম দলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গিলের্মো হয়োস। তিনি এর আগে ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। গিলের্মো হয়োসের কোচিং ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়; তিনি বিশ্বের বিভিন্ন লিগের একাধিক পেশাদার ক্লাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বলিভিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রাখেন। নতুন এবং স্থায়ী একজন প্রধান কোচ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তার নেতৃত্বেই ইন্টার মায়ামি তাদের মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলো চালিয়ে যাবে। তারকাখচিত এই দলটিকে কীভাবে তিনি সামনের ম্যাচগুলোতে অনুপ্রাণিত করেন এবং শিরোপার দৌড়ে টিকিয়ে রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল: বায়ার্নের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন লুইস ফিগো

খেলাধূলা ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে জার্মানির মিউনিখে স্বাগতিক বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগে ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে এই অ্যাওয়ে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ও পর্তুগিজ কিংবদন্তি লুইস ফিগো মনে করেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং স্কোয়াডের অসাধারণ প্রতিভার কারণে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্ণ সামর্থ্য রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দলের।

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার লড়াই সবসময়ই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই দুই দলের দ্বৈরথকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম ধ্রুপদি লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে পরাজয়ের কারণে রিয়াল মাদ্রিদকে এবার মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় তীব্র চাপের মুখে মাঠে নামতে হবে। অন্যদিকে, প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে থাকলেও বায়ার্ন মিউনিখের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি নিজ দলকে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের অতীত পরিসংখ্যান, বিশেষ করে খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার অবিশ্বাস্য ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রতিপক্ষই তাদের বিপক্ষে আগেভাগে নিশ্চিন্ত হতে পারে না। কার্লো আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের ট্যাকটিকাল প্রজ্ঞার বিপরীতে ভিনসেন্ট কোম্পানির কৌশলের এক দারুণ লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

খেলোয়াড়ি জীবনে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলানের মতো শীর্ষ ক্লাবের হয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ১১টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে লুইস ফিগোর, যার মধ্যে ৯টিই ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াই। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, বায়ার্ন মিউনিখ সবসময়ই একটি অত্যন্ত কঠিন ও সুশৃঙ্খল প্রতিপক্ষ। ফিগোর মতে, মিউনিখে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। চলতি মৌসুমে এই দুই ফরোয়ার্ড দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হলেও প্রথম লেগে বায়ার্নের সুদৃঢ় রক্ষণের সামনে তারা নিজেদের স্বাভাবিক ফিনিশিং উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা রিয়ালের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে এর পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে সামলানো এবং ম্যাচের শুরুতে অযথা চাপে না পড়ে দ্রুত মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি।

এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের নিয়মিত একাদশের অন্যতম ভরসা, ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিঁয়ে চুয়েমেনিকে পাচ্ছে না। কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে তার এই অনুপস্থিতি দলের রক্ষণাত্মক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে লুইস ফিগো এই বিষয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন। তিনি মনে করেন, রিয়াল মাদ্রিদের বেঞ্চে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন বিকল্প রয়েছে। চুয়েমেনির অভাব পূরণে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। প্রথম লেগে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে বেলিংহাম নিজের সামর্থ্য ও প্রভাবের প্রমাণ দিয়েছেন। ফিগোর মতে, যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করার সক্ষমতা থাকায় বেলিংহামের মতো সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়ের সবসময় মূল একাদশে থাকা উচিত, যা দলের আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

রিয়াল মাদ্রিদের কৌশল ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন লুইস ফিগো। সাম্প্রতিক সময়ে বায়ার্নের জার্সিতে ওলিসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতা নজর কেড়েছে পুরো ফুটবল বিশ্বের। ফিগো মনে করেন, ওলিসে যদি তার এই ফর্ম, দক্ষতা এবং উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তবে অদূর ভবিষ্যতে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’-এর শক্তিশালী দাবিদার হয়ে উঠবেন। বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখের মতো শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে খেলা এই তরুণ ফুটবলারের মেধা ও যোগ্যতা এতটাই উঁচুমানে পৌঁছেছে যে, বিশ্বের যেকোনো বড় দলে, এমনকি রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলেও প্রথম একাদশে খেলার যোগ্যতা তিনি রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন ফিগো।

মিউনিখে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি কেবল সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং দুই দলের কৌশলগত সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তার একটি বড় পরীক্ষাও বটে। রিয়াল মাদ্রিদ কি পারবে তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগের ঐতিহ্য বজায় রেখে মিউনিখ থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে, নাকি বায়ার্ন মিউনিখ তাদের ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে—তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব।