সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

জামিন পেলেন গায়ক নোবেল

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেয়েছেন গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমরান হোসেন বলেন, গত ২ এপ্রিল ধার্য তারিখে নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছে ছিলেন আদালত। আজকে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম।

আসামির উপস্থিতিতে জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তার কারামুক্তিতে কোন বাধা নেই।
এরআগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গায়ক নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এই পরোয়ানার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন শুনানি শেষে আপোসের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে তিনি মুক্ত হন।
এরপর গত ২ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। ওইদিন বাদীপক্ষে জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আসামি জামিনে গিয়ে শর্ত ভঙ্গ করেছে। এমনকি বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করেছে। এই ঘটনায় আলাদা মামলাও হয়েছে।
পরে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনাননিয়া শবনম রোজ নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন গায়ক নোবেল। পরে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। অন্য আসামিরা প্রতারণার কাজে নোবেলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

নোবেল বাদে এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন নোবের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুদ রানা।

মঙ্গল-আনন্দ দুটোই বাদ, নববর্ষে হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

চলতি বছর পহেলা বৈশাখের দিন বাংলা নববর্ষ বরণের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে তিনি সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নাম আনন্দ কিংবা মঙ্গল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

এই বিতর্কের কোনো মানে হয় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কোনো বিভাজন চাই না। বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আমরা ঐক্য চাই। এ অবস্থায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রা আনন্দ কিংবা মঙ্গল নামে নয়, বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে হবে।
এখন থেকে প্রতিবছর এই নামই থাকবে।’
পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হলেও ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল

ধর্মবিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এটিকে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ করতে চাই না। বরং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর ভাটারায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্মকে পুঁজি করে বিভাজন সৃষ্টির সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় ধর্মকে পুঁজি করে কোনো ধরনের বিভাজন সৃষ্টির সুযোগ নেই।

কিছু রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে সামনে রেখে স্বার্থের রাজনীতি করতে চায়, তবে বাংলাদেশের দীর্ঘ সামাজিক ঐতিহ্যে এমন বিভাজনের স্থান নেই।’
কিছু রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু অশুভ শক্তি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। এমনকি কেউ কেউ মহান মুক্তিযুদ্ধকেও অস্বীকার করতে চায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জ্বালানি তেলসংকট ইস্যুতেও কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তবু অনেকে আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে আপনাদের সহায়তায় সরকার গঠন করেছে।

এজন্য সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সত্য ও ন্যায়কে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’

প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (৫ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১২টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

এলডিসি উত্তরণে দেশ এখনো পুরো প্রস্তুত নয় : অর্থমন্ত্রী

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

ইরানে আরো দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানে জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আমিন বিগলারি ও শাহিন ভাহেদিপারস্ত নামে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজানের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি ফার্সি রবিবারের (৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনের লিখেছে, ‘অভিযুক্ত দুজন একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই স্থাপনাটি ধ্বংস ও অগ্নিসংযোগ করার সময় তারা অস্ত্রাগারে প্রবেশেরও চেষ্টা করেছিল।


বিচার বিভাগ অনুসারে, চূড়ান্ত রায়টি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।

ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক বিক্ষোভকারী আমির হোসেন হাতামিকে গত সপ্তাহে একই ধরনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর থেকে এটি রাজনৈতিক বন্দিদের দশম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।

আজ থেকে হামের বিশেষ টিকা শুরু, পাবে যেসব উপজেলা

হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি নির্বাচিত উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার।

এই কার্যক্রমের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান।

তিনি বলেছেন, বরগুনা, পাবনা, চাঁদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর এবং যশোরসহ মোট ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে এই বিশেষ কার্যক্রমের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

মূলত যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেখানেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে, আগে টিকা নেয়া থাকলে আবারও দেয়া যাবে কি না।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা ইতিপূর্বে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিয়েছেন, তারাও এই বিশেষ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। একাধিকবার এই টিকা নিলেও শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি নেই।

যে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় রোববার হামের টিকা দেয়া হবে-

বরগুনা (বরগুনা পৌরসভা ও সদর), পাবনা (পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (গাজীপুর সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (যশোর পৌরসভা ও সদর), নাটোর (নাটোর সদর), মুন্সীগঞ্জ (মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং), মাদারীপুর (মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি), শরীয়তপুর (জাজিরা)।

আজ থেকে নতুন সময়ে অফিস ও ব্যাংকে লেনদেন

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আজ রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শনিবার (৪ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলবে। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। জরুরি পরিষেবা এ সময়সূচির বাইরে থাকবে।

এতে আরো বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ ছাড়া আদালতের সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট এবং শিল্প-কারখানার কর্মঘণ্টা নির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

ইন্দোনেশিয়া-ফিলিপিন্সে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চল ও ফিলিপিন্স। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এ ভূমিকম্প হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।

ইন্দোনেশিয়ায় কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তালাউদ দ্বীপে। ইউএসজিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তালুদ দ্বীপ থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে ফিলিপিনো দ্বীপ মিন্দানাওয়ে ভূপৃষ্ঠের ৯৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল।

মিন্দানাও দ্বীপটি ফিলিপিন্সের সারাঙ্গানি প্রদেশের অন্তর্গত। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সের দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হলেও ভূমিকম্পে হতাহত কিংবা উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

সূত্র : এনডিটিভি

ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষা চলাকালে কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেলে কেন্দ্র সচিবকে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাথরুমেও যদি কোনো নকল পাওয়া যায়- তার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জবাবদিহি করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ নকলের সহযোগিতা করলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে নকল করতে দেওয়া হবে না, নকলের সহযোগিতা করতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, যদি কোনো শিক্ষক খাতা দেখায় দুর্বলতা করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে নম্বর কম দেওয়া বা বাড়িয়ে দেওয়া হয় সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইন করা হয়েছে। কোনোধরনের পরীক্ষাতেই আর নকল করার সুযোগ নেই। সেটা পাবলিক পরীক্ষা হোক কিংবা চাকরির ইন্টারভিউ হোক। সব পরীক্ষাতেই একই আইন বলবৎ থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, নকলের বিরুদ্ধে অভিযানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে সবসময় সাহস যুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আমাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন নকলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে। তার একটাই এজেন্ডা- আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যাপক ভূমিকা নিতে হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি শিক্ষার্থীদেরকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে আপনারা সাদগাহে যারিয়ার সাওয়াব পাবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই সাদগাহে যারিয়ার সওয়াব পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হচ্ছে আমার এবাদতখানা। সেই এবাদতখানার দায়িত্ব আমি পেয়েছি। সেখানে আপনাকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের আর দশটা মন্ত্রণালয়ের মতো নয়। এখানে অসৎ কাজ করা যায় না। এ মন্ত্রণালয় আমার সঙ্গে কাজ করছেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ।

মন্ত্রী বলেন, নকলের ডেট অফ বার্থ শুরু হয়েছিল ১৯৭২। ৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কারা নকলে সহযোগিতা করছিল? আমরা সেই নকলের মূল উৎপাদন করেছিলাম। কিন্তু তা পুনরায় চালু করল কারা? ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি তো আমেরিকা থেকে শিক্ষক ইমপোর্ট করিনি। আপনারাই তো দেখছেন নকলমুক্ত করতে সহযোগিতা করেছিলেন। তাহলে পুনরায় কেন নকলের প্রাদুর্ভাব বাড়ল। তার মানে কি, আপনারা সরকার যেভাবে চায় সেভাবেই চলেন? আমরা জানি, স্টিয়ারিং যেহেতু সরকারের হাতে- সুতরাং আপনারা সেভাবেই চলেন। মাঝখানের সময়টাতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। তবে এখন আর নকলের সুযোগ হবে না। শিক্ষার্থীদেরকে যত্ন সহকারে মনোযোগ দিয়ে পড়াতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জেনজিরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা নতুন করে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্টা করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা অন্যায় করে না, তারা আর কোনো অন্যায় দেখতে চায় না। তারা চেয়েছে বাংলাদেশে পরিবর্তন আসুক। পরিবর্তন এসেছে, পরিবর্তিত বাংলাদেশে তারাই পরীক্ষা দিচ্ছে। তাদেরকে দিয়েই আগামীতে আমরা দেশ চালাব। তারাই তো আমাদের আগামী দিনের পরীক্ষার্থী। তারা কি আর কোনো অন্যায় করবে? না, করবে না। বরং তারা শিক্ষকদেরকে আরও সহযোগিতা করবে। তাদের অভিভাবকরাও সত্যের পথে। পুরো জাতিই আজ সত্যের পথে। আজকে আমি এখানে প্রথম অনুষ্ঠান শুরু করেছি, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় আমি অনুষ্ঠান করব। সকলের অভিমত শুনব।

প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সময়মত পাঠদানে ক্লাসরুমে উপস্থিত থাকেন কিনা সেটা রেকর্ড রাখতে হবে। এছাড়াও শতভাগ কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে। কোচিং সেন্টার এবং ব্যাংকের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনও নিবন্ধনের আওতায় আনবে সরকার। সবেমাত্র দায়িত্ব পেলাম, এই দেশে আর কোচিং সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা-৬ (সদর-সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম, কুমিল্লা- ৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমএ মান্নান, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রলার মো.কবির আহমেদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো.শামছুল ইসলাম।