শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

২৭ নভেম্বর থেকেই ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা : পিএসসি

দেশব্যাপী আন্দোলন-অবরোধের মধ্যেও আগের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। কমিশন জানিয়েছে, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২৭ নভেম্বরই শুরু হবে।

রোববার রাত (২৩ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, লিখিত পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল ২৭ নভেম্বর। তবে এ সময়সূচি পরিবর্তন করে ‘যৌক্তিক তারিখে’ পরীক্ষার দাবিতে কিছু চাকরিপ্রার্থী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ও আজ রোববার রাজশাহী ও ময়মনসিংহে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেন, যাতে টানা ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরীক্ষা না পেছালে অনশন শুরু করার হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।

এ অবস্থায় রাতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে পিএসসি জানায়, পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে কিছু প্রার্থী ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন এবং কেউ কেউ সংগঠিতভাবে অনশনেও বসেছেন। আন্দোলনকারীদের একাধিক প্রতিনিধি কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন, সমাবেশ করেছেন এবং কখনো কখনো কমিশন কার্যালয় ঘেরাওও করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। প্রার্থীরা আবেদন জমা দেন ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ১০ হাজার ৬৪৪ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। লিখিত পরীক্ষার তারিখ ২৭ নভেম্বর–এ তথ্য কমিশন গত ৩ জুনই নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। ফলে লিখিত পরীক্ষার জন্য মাত্র দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে—এ দাবি সঠিক নয় বলে জানায় পিএসসি।

কমিশন বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলে, বিসিএসের প্রস্তুতি কোনোভাবেই পরীক্ষার দুই–চার মাসের বিষয় নয়; বরং তা দীর্ঘমেয়াদি পাঠাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রাখবেন—কমিশনের এমন প্রত্যাশা থাকে। ‘পরীক্ষা প্রদানে গড়িমসি বা অনীহা একজন যথার্থ সরকারি চাকরি–প্রার্থীর শৃঙ্খলাবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’—বিজ্ঞপ্তিতে এমন মন্তব্যও করা হয়।

পিএসসি জানায়, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্যাডার ও নন–ক্যাডার পরীক্ষার জট ও জটিলতা দূর করা তাদের বড় অগ্রাধিকার ছিল। দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করার লক্ষ্যে বিগত মে–জুনে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়, যার আওতায় ইতোমধ্যে দুটি বিশেষ বিসিএসসহ বহু পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এখন কোনো পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে রোডম্যাপ অনুসরণ করা সম্ভব হবে না এবং পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটবে—এ কারণেই পরীক্ষা পেছানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, তারা যেন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর থেকেই পরীক্ষায় অংশ নেন।

অন্যদিকে, এরই মধ্যে ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়ে দিয়েছে পিএসসি। কমিশনের প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) শুরু হয়ে চলবে ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত।

দেশের ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আটটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পদ–সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় পরীক্ষা শুধু ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।

নিজের ক্যান্সারের কথা সামনে আনলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন জানিয়েছেন, তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনছেন। পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মূলত পুরুষদের সচেতন করতে নিজের অসুস্থতার কথা সামনে এনেছেন সাবেক এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

৫৯ বছর বয়সী লর্ড ক্যামেরন দ্য টাইমস পত্রিকাকে জানান, নিক জোন্সের একটি বিবিসি রেডিও সাক্ষাৎকার শুনে তার স্ত্রী তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে চাপ দেন। উদ্যোক্তা জোন্স নিজেও প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এরপরই পুরুষদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়ানোর পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ক্যামেরন পিএসএ টেস্ট করান। এই টেস্টে রক্তে প্রোস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত প্রোটিন শনাক্ত করে। টেস্টের রিপোর্টে পিএসএ অস্বাভাবিকভাবে বেশি আসে। এরপর এমআরআই স্ক্যান ও বায়োপসি করা হয়।

পরে তিনি ‘ফোকাল থেরাপি’ নামের একটি পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেন। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আল্ট্রাসাউন্ডসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিউমারের নির্দিষ্ট অংশ লক্ষ্য করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়।

মূলত যুক্তরাজ্যে পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সারই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, বিশেষত ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে। তবে ৫০ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের মধ্যে এই রোগ বিরল। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যেও এই রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি।

ডেভিড ক্যামেরন বলেন, “ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে আমার খুব ভালো লাগে না, কিন্তু মনে হলো বলা উচিত। সত্যি বলতে, পুরুষরা তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে তেমন কথা বলে না। আমরা বিষয়গুলো ফেলে রাখতে অভ্যস্ত।”

তিনি আরও বলেন, স্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত তার জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এর মাধ্যমে দ্রুত রোগ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

‘কমেন্ট বক্সে নোংরা কথা বললেও একই শাস্তি হোক’

সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রীদের অশালীন মন্তব্য ও আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তারকাদের জীবনযাপন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপের দাবি জানালেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। তার মতে, বাস্তবে নারীদের হয়রানি করলে যে শাস্তি হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে মন্তব্য করলেও একই শাস্তি হওয়া উচিত।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তারকাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের ঘটনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুললেন মহারানি খ্যাত এই অভিনেত্রী।

হুমা কুরেশি তার বক্তব্যে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ বিকিনি পরা ছবি পোস্ট করতে বলেন। আবার পোস্ট করলে লেখেন, ‘এগুলো কী করছেন?’ এই দ্বিচারিতা যেমন বিরক্তিকর, তেমনই দুঃখজনক। রাস্তায় মহিলাদের কুমন্তব্য করলে যেমন শাস্তি হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় একই কাজ করলে একই ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত। কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়।”

অভিনেত্রী আরও স্পষ্ট করেন, ‘যদি কেউ আমার মেসেজে অশ্লীল ছবি বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তবে তারও শাস্তি হওয়া উচিত। আমি শুধু এইটুকুই বলতে চাই, নারীরা কী পোশাক পরছেন, তাদের মেকআপ, জীবনশৈলী, কাজ, বা রাতে কখন বাড়ি ফিরছেন— এসব নিয়ে সমালোচনা করা বন্ধ করুন।’

তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বেশিরভাগ নারী এবং পুরুষ ব্যবহারকারীরাও। তাদের মতে, যেকোনো মাধ্যমে শ্লীলতাহানি বা হয়রানি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ, তাই এর সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

অভিনয় জীবনের দিক থেকে হুমা কুরেশির সময়টা বেশ ভালো যাচ্ছে। তার অভিনীত ‘দিল্লি ক্রাইম থ্রি’ এবং ‘মহারানি ফোর’ সিরিজ দুটি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

চার দিনে ১৫ হাজার প্রবাসীর নিবন্ধন, প্রথম পর্বের সময় শেষ আজ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রথম পর্বের নিবন্ধনের সময়সীমা আজ (রোববার) শেষ হচ্ছে। গত চার দিনে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা অঞ্চলের ৫২টি দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন রিপোর্ট https://portal.ocv.gov.bd/report অ্যাপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচ দিন করে নিবন্ধনের সময় বেঁধে দিয়েছে। এর প্রথম ধাপে ১৯ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ পান পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি–এসডিআই)’ প্রকল্পের ‘টিম লিডার’ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালিম আহমাদ খান জানান, প্রবাসীরা বাকি অঞ্চলগুলোর জন্য ধাপে ধাপে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুযোগ পাবেন।

অ্যাপ চালুর পর ১৯ নভেম্বর থেকে রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্বের ৩৪টি দেশে মোট ১৫ হাজার ৭৫ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৮২১ জন এবং মহিলা ১ হাজার ২৫৪ জন।

নিবন্ধিতদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬৭৯ জন, জাপানে ৩ হাজার ৭৩৮ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১ হাজার ৮০৮ জন ও চীনে ১ হাজার ১৫৫ জন রয়েছে। আজ রাত ১২টার পর নিবন্ধনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, দেশের ভেতরের তিন ধরনের ব্যক্তি ও নিবন্ধনে বাদ পড়া প্রবাসীদের জন্য আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিবন্ধিতরাই এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

৮০ দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সংলাপে বসছে ইসি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মোট ৮০টি সংস্থাকে এই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

ইসি জানায়, আগামী ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ৮০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সংলাপ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি জানায়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ জানতেই মূলত ইসির এই উদ্যোগ। পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো কমিশন আমলে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের রূপরেখা তৈরিতে কাজ করবে বলে জানা যায়।

হাসিনার প্লট দুর্নীতির মামলায় রায় ঘোষণা ২৭ নভেম্বর

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলার রায়ের দিন আগামী ২৭ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৩ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব মামলায় এক আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করেন। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। তারা আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি।

দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি শেখ হাসিনাসহ অপর আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে অ্যাডভোকেট শাহীনুর রহমান যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তার খালাসের প্রার্থনা করেন তিনি।

প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন) জানান, আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করছি। আশা করছি, আদালত থেকে সর্বোচ্চ সাজাটাই আসবে।

আজ শুনানির সময় খুরশীদ আলমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ান সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।

শেখ পরিবার ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বাকি ৩ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম অভিযোগ গঠন করেন।

এসব মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা নেই

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো আশঙ্কা নেই। ‘আজকে দেখেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, সেই সময়ে বিভিন্ন দলের বিক্ষোভ-মিছিলের সংখ্যা বেড়ে যাবে। সভা-সমিতির সংখ্যাও বেড়ে যাবে।’

‘আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই ছিল। পরে গেল দেড় বছরের চেষ্টায় উন্নতির দিকে গেছে,’ যোগ করেন তিনি।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, দেশে যে পরিমাণ অপরাধ চলছে, তাতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা ক্রান্তিকাল পার করছি। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মন্তব্য। আর সে কীভাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক হলো, সেটাও আমি জানি না। এখন আমাদের দেশে সবাই বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষক। কিন্তু কে কোন যোগ্যতায় হয়েছে তা আমার জানা নেই। আর না জানলে আমি তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

ভূমিকম্প নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে ভূমিকম্প নিয়ে কোনো আগাম সতর্কতা আছে কি না, আমার জানা নেই। তবে আমাদের দেশে নেই। অনেক দেশে নাকি একটা অ্যাপ আছে, যে দশ সেকেন্ড আগে সতর্কতা দেওয়া যায়। এমন একটা অ্যাপ খোলা যায় কি না, আমরাও সেই চিন্তা করছি।’

‘অনেকে বলে, একটা ভূমিকম্প হওয়ার পরে এক–দেড় ঘণ্টা পর আরেকটা হওয়ার ভয় থাকে। এক–দেড় ঘণ্টা পর সেই আশঙ্কা কমে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তো একটা হওয়ার পর ছোট আকারে আরেকটা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। পরবর্তীতে আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলব।’

পাশাপাশি সবার প্রতি বিল্ডিং কোড মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘জলাশয় ভরাট করে ভবন করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকি বেশি থাকে। ভূমিকম্প হলে লোকজন গিয়ে কোথায় দাঁড়াবে, তেমন কোনো মাঠও নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

মধ্যরাতে এক সাংবাদিককে ডিবি তুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি যে কাজটি করেছেন, সেটা সাংবাদিক হিসেবে না, সেটা ছিল অন্য ধরনের কাজ।

সুষ্ঠু নির্বাচনে ইসিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, সামনে দেশ একটা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনে আমরা যথাযথভাবে সরকারকে সহযোগিতা করব। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করব, যেন আমরা সুন্দর একটা নির্বাচন পেতে পারি। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী নিয়োজিত আছে।

এ সময় সেনাপ্রধান আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথ অনুযায়ী দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

অনুষ্ঠানে বীরত্বপূর্ণ কাজ ও বাহিনীতে অসামান্য অবদানের জন্য ৬৪ সেনাসদস্যকে পদক এবং ৭৫ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করেন সেনাপ্রধান। এরমধ্যে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নানা অবদানের জন্য ৯ জনকে সেনাবাহিনী পদক, ১৭ জনকে অসামান্য সেবা পদক এবং ৩৮ সেনা সদস্যকে বিশিষ্ট সেবা পদক প্রদান করা হয়।

‘মন্ত্রী-বিচারপতিরা এলে আপনারা কেন পারবেন না’

‘বিভিন্ন মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি কারাগারে রয়েছেন। তিনি সশরীরে হাজির হচ্ছেন। সাবেক কয়েকজন মন্ত্রীও নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। ওনারা (সেনা কর্মকর্তা) কেন পারবেন না। তারা কি এসবের বাইরে। ল’ ইজ ইকুয়্যাল ফর অল। অর্থাৎ আইন সবার জন্য সমান।’ সেনা কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমনই মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৩ নভেম্বর) র‌্যাবের টিএফআই ও জেআইসি সেলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শুনানির সময় এ মন্তব্য করা হয়। দুই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। অন্য সদস্য হলেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের সরাসরি না এনে ভার্চুয়ালি শুনানি বা হাজিরার জন্য আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হামিদুল মিজবাহ। আবেদনটি মঞ্জুর করতে আদালতের কাছে প্রার্থনা করেন তিনি। তখন তার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, আপনাদের এ বিষয়ে অপারগতা থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া পরবর্তী তারিখে শুনানি করতে চাইলে আমরা করবো।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী মাসুদ সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা ভার্চুয়ালি শুনানির জন্য একটি আবেদন দিয়েছি। তবে সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। এতে আমরাও একমত পোষণ করেছি। শুনানির সময় আইন সবার জন্য সমান বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ নিয়ে আগামী দুই তারিখে তথা ৩ ও ৭ ডিসেম্বর শুনানি হবে। এরপরই বলা যাবে এ বিষয়ে।

গুমের দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার রয়েছেন ১৩ জন। তারা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

আইরিশদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

৬ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে গতকাল চতুর্থ দিন শেষ করেছিল আয়ারল্যান্ড। তখনই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছিল নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল। তবে সিরিজ নিশ্চিত করতে তাদের লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আগেরদিন টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটাররা ৫৪ ওভার খেলেছিল, বিপরীতে আজ তাইজুল-হাসানদের বিপক্ষে দাঁতে দাঁত চেপে বাকি ৪ ব্যাটার খেললেন ৫৯ ওভার। এর আগে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিল। ফলে লাল বলের সিরিজ শেষ হলো ২-০ ব্যবধানে।

এর আগে মিরপুরে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১২ বল খেলার রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের। তাকে ছাড়িয়ে ২৫৯ বলে ৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন ক্যাম্ফার। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। এর আগে এই আইরিশ অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক টেস্টে একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। আইরিশদের পঞ্চম দিনে অর্ধেকেরও বেশি সময় ম্যাচে টিকিয়ে রাখার মূল ভূমিকা ছিল ক্যাম্ফারের। তিনি অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে ১০৫ বলে ২৬, জর্ডান নিলের সঙ্গে ৮৫ বলে ৪৮ এবং নবম উইকেটে গ্যাভিন হোয়ের সঙ্গে ১৯১ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েছিলেন।

এর আগে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ২৯৭ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসের ২১১ রান মিলিয়ে আইরিশদের লক্ষ্য দেয় ৫০৯ রানের। প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে দিন শেষ করে সফরকারীরা। আজ দিনের ১৪তম ওভারে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম কোনো বোলার হিসেবে বাঁ-হাতি এই স্পিনার টেস্টে ২৫০তম উইকেট পেলেন। ২১ রানে এলবিডব্লিুউ হয়েছেন ম্যাকব্রাইন।

সপ্তম উইকেটের পতনে ক্যাম্ফার-ম্যাকব্রাইনের ২৬ রানের জুটি ভাঙে। এরপর ৪৮ রান যোগ করে ক্যাম্ফার ও জর্ডান নিলের জুটি। নিলকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যা দ্বিতীয় ইনিংসে এই অলরাউন্ডারের প্রথম উইকেট। ২৩৭ রানে ৮ উইকেট তুলে বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ে জয়ের প্রত্যাশা করছিল। কিন্তু তখনও ক্রিজে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়া ক্যাম্ফার। নবম উইকেটে হোয়েকে নিয়ে তিনি আরও শক্ত জুটি বাধেন। ম্যাচ ড্রয়ের দিকে গড়াবে কি না সেই শঙ্কার মাঝে হোয়েকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ব্রেকথ্রু দেন হাসান মুরাদ।

১০৪ বলে ৩৭ রান করেছেন এই আইরিশ লেগস্পিনার। তাতে ভেঙেছে ১৯১ বলে ৫৪ রানের ম্যারাথন জুটি। শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে এসে মুরাদের পরের বলেই বোল্ড হয়েছেন ম্যাথু হাম্প্রিস। এ নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ এবং ম্যাচে ৬ উইকেট শিকার করলেন সিলেট টেস্ট দিয়ে অভিষেক হওয়া হাসান মুরাদ। তার সমান ৪ উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল, পুরো ম্যাচে পেয়েছেন ৮ উইকেট। দুই টেস্ট মিলিয়ে ১৩ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন বাংলাদেশের এই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

অন্যদিকে, মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ তারকা মুশফিকুর রহিম নেমেছিলেন ১০০তম ম্যাচে। মাইলফলক ম্যাচ তিনি রেকর্ডরাঙা ব্যাটিংয়ে রাঙিয়েছেন। বিশ্বের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টের দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ (১০৬ ও ৫৩*) রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন মুশি।