শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় ৭১ হলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে, এদিন ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে যমুনা ভবনের পেছনে এক্সটেনশনে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। ‌সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, হলের অভ্যন্তরে থাকা একটি খাবারের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে থাকতে পারে।

অগ্নিকণ্ডের এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

হঠাৎ শি ও ট্রাম্পের ফোনালাপ

চীনা নেতা শি চিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে সোমবার টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে।

সিনহুয়ার তথ্য অনুসারে, শি ট্রাম্পকে বলেন, দুই দেশকে ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতি ধরে রাখতে’ হবে।

গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর এ আলোচনা হলো। গত মাসে তারা উত্তপ্ত বাণিজ্যযুদ্ধ প্রশমিত করতে চেষ্টা করেছিলেন।

সিনহুয়া জানায়, শি আরো ‘জোর দিয়ে বলেন যে তাইওয়ানের চীনে প্রত্যাবর্তন যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

চীন গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং স্বশাসিত এই দ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে।

ট্রাম্প ও শি ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো গত অক্টোবর মাসে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাদের আলোচনার দিকটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

দুর্লভ খনিজ থেকে সয়াবিন এবং বন্দর-ফি—সব কিছু নিয়েই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের টানাপড়েন বহু মাস ধরে বাজারকে অস্থির করেছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত করেছে।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ট্রাম্পকে শি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার ওই ‘সফল’ বৈঠক ‘চীন-মার্কিন সম্পর্কের বিশাল জাহাজকে স্থির অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং গতি সঞ্চার করেছে’।

শি আরো বলেন, বৈঠকের পর থেকে চীন-মার্কিন সম্পর্ক ‘স্থিতিশীল রয়েছে এবং ক্রমাগত উন্নতি করছে’, যেটি দুই দেশেই এবং আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে।

সূত্র : এএফপি

গাজা যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলে কমেছে মূল্যস্ফীতি

গাজায় যুদ্ধবিরতির পর মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার সুদের হার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট কমিয়েছে, যা প্রায় দুই বছরের মধ্যে প্রথম।

বিশ্লেষক ও আর্থিক বাজারের ব্যাপক প্রত্যাশা অনুযায়ী, নীতিনির্ধারক সুদের হার ৪.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.২৫ শতাংশ করা হয়, যা অন্যান্য বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি শিথিল করার পর এবং গত মাসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সুবিধাজনক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আসে।

এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ‘মৌদ্রিক কমিটির নীতি মূল্যস্থিতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সুদের হারের পথ নির্ধারিত হবে মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাজস্বগত উন্নয়নের ভিত্তিতে।

গাজা যুদ্ধ শুরুর সময় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কমিটি সুদের হার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট কমিয়েছিল, কিন্তু এর পর থেকে তারা রক্ষণশীল অবস্থান নেয়—দুই বছরের সংঘাত চলাকালে সতর্কতার পথই বেছে নেয়, যখন সরবরাহ-সংকটের কারণে মূল্যচাপ বেড়ে উঠেছিল।

কিন্তু ইসরায়েলের মূল্যস্ফীতি এখন কমেছে এবং অক্টোবরেও ২.৫ শতাংশ স্থিত ছিল, যা বার্ষিক ১-৩% লক্ষ্যসীমার মধ্যে পড়ে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করেছে, গত দুই মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে ‘পূর্বাভাসদাতারা ধারণা করছেন বছরের শেষে এতে সামান্য বৃদ্ধি হবে, এরপর তা কমে গিয়ে লক্ষ্যসীমার মধ্যবিন্দুর কাছে স্থিত হবে।’

ব্যাংক আরো জানিয়েছে, শ্রমবাজার এখনো উত্তপ্ত এবং মজুরিচাপ বাড়ছে।

দুই বছরের গাজা যুদ্ধে ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি সংঘাত কমিয়েছে এবং যদিও তা ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে উঠছে, আপাতত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমেছে ও মূল্যচাপও হালকা হয়েছে।

রোনালদোর বাইসাইকেল গোলে আল নাসরের বিশাল জয়

রিয়াদের আল আউয়াল পার্কে রবিবার সৌদি প্রো লিগে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিল আল নাসর। আল খালিজকে ৪-১ গোলে হারানোর ম্যাচে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য এক বাইসাইকেল কিকে গোল করে রাতটিকে স্মরণীয় করে তুলেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।

৪০ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রোনালদো নাওয়াফ বুশালের ক্রস থেকে দারুণ ভঙ্গিতে গোল করে চলতি লিগে নিজের গোল সংখ্যা দাঁড় করালেন ১০-এ।

ম্যাচের প্রথম দিকেই আল নাসর গোল পায় বটে, তবে দুটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ায় অপেক্ষা বাড়ে। অবশেষে ৩৯তম মিনিটে অ্যাঞ্জেলোর ক্রস থেকে জোয়াও ফেলিক্স নিখুঁত শটে ডান কোণে বল পাঠিয়ে গোলের সূচনা করেন। তিন মিনিট পর আবারও নায়ক ফেলিক্স, বল কেড়ে এনে পাস বাড়ান ওয়েসলিকে। ২০ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দারুণ এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

বিরতি থেকে ফিরে আল খালিজও লড়াইয়ে ফেরে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হাওসাওয়ির দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কমে ২-১ হয়। তবে আল নাসরের গোলরক্ষক নাওয়াফ আল-আকিদির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ প্রতিপক্ষকে আর সামনে এগোতে দেয়নি।

ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে সাদিও মানে বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো শটে তৃতীয় গোল করেন।
স্টপেজ টাইমের শুরুতেই আল খালিজের দিমিত্রিওস কুরবেলিস বিপজ্জনক ফাউল করার কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।

আর সবশেষে ছিলেন রোনালদো। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে বুশালের উঁচু ক্রসে বাইসাইকেল কিকে দারুণ এক গোল করে আল নাসরের টানা নবম জয় নিশ্চিত করেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।

চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় থাকা আল নাসর পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শহরটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় চালানো এই হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হায়সম আলী তাবাতাবাই নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রোববার বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় তাবাতাবাইসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন। সংগঠনের সশস্ত্র শাখার চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাবাতাবাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি পরে হিজবুল্লাহর এক বিবৃতি থেকে নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে তাকে “মহান কমান্ডার” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংগঠনের ভেতরে তার সুনির্দিষ্ট পদ উল্লেখ করা হয়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তাবাতাবাইকে “নিষ্ক্রিয়” করেছে। এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, হামলার লক্ষ্যই ছিলেন তাবাতাবাই। ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, গত বছরের যুদ্ধের পর থেকে এটি ছিল তাবাতাবাইকে হত্যার তৃতীয় প্রচেষ্টা।

হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ ক্বোমাতি এর আগে বলেছিলেন, এই হামলা “রেড লাইন অতিক্রম করেছে” এবং সংগঠনের নেতৃত্ব প্রতিক্রিয়া জানানো হবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “দক্ষিণ উপশহরে আজকের এই হামলা লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের উত্তেজনার দ্বার খুলে দিয়েছে।”

১৯৬৮ সালে বৈরুতে জন্ম নেওয়া তাবাতাবাইয়ের মা লেবানিজ ও বাবা ইরানি। তিনি দক্ষিণ লেবাননে বড় হন এবং ১২ বছর বয়সে হিজবুল্লাহতে যোগ দেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা এনএএ জানায়, হারেত হ্রেইক এলাকার আল-আরিদ স্ট্রিটের ওই ভবনটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় এবং পার্কিং এলাকা, গাড়ি ও আশপাশের ভবনগুলোতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

বৈরুত থেকে আল জাজিরার জেইনা খোদর জানান, ইসরায়েল “যে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে, তা আরও বাড়তে পারে” বলে লেবাননে উদ্বেগ বাড়ছে।

তিনি বলেন, “হিজবুল্লাহ এখন খুব কঠিন অবস্থায় আছে। তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। জবাব না দিলে আরও বড় আক্রমণ হতে পারে। আবার জবাব দিলে আরও ব্যাপক ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকি আছে, যা তাদের সমর্থকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি রিজক আল জাজিরাকে বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো হিজবুল্লাহ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, “আমার মতে, হিজবুল্লাহ নেতানিয়াহুকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাওয়ার অজুহাত দিতে চাইবে না। এতে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিকভাবে লাভ হবে এবং লেবাননের ক্ষতি বাড়বে।”

খালেদা জিয়ার হার্ট ও চেস্টে ইনফেকশন হয়েছে : ডা. এফএম সিদ্দিকী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হার্ট ও চেস্ট (ফুসফুস) ইনফেকশন হয়েছে। হাসপাতালে চিকৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই উনি খুব ঘন ঘন আক্রান্ত হচ্ছিলেন। আজকে আমরা যে কারণে এখানে (এভারকেয়ার হাসপাতালে) ভর্তি করিয়েছি সেটা হচ্ছে উনার কতগুলো সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে, উনার চেস্টে ইনফেকশন হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

‘যেহেতু উনার হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। উনার হার্টে পারমানেন্ট পেসমেকার আছে এবং হার্টে ওনার স্ট্যান্ডিং করা হয়েছিল, রিং পরানো হয়েছিল তারপরেও উনার মাইট্রোস্টেনোসিস নামে একটা কন্ডিশন আছে সেজন্য চেস্টে হওয়াতে উনার একসঙ্গে হার্ট এবং ফুসফুস দুটোই এ্যাট এ টাইম আক্রান্ত হওয়াতে ওনার খুব রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস হচ্ছিল। সেজন্য এখানে আমরা খুব দ্রুত ওনাকে নিয়ে এসেছি।’

খালেদা জিয়া ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন জানিয়ে এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর আমরা খুব তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত যে পরীক্ষাগুলো করা দরকার তা করেছি। আমরা প্রাথমিক যে রিপোর্ট পেয়েছি সে অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডের সবাই বসে আমরা উনাকে এন্টিবায়োটিক দিয়েছি, ওনাকে যেভাবে প্রাথমিক দ্রুত এবং জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার দরকার হয় সেটা দিয়েছি।’

‘আশা করছি যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরো কিছু রিপোর্ট আসবে। উনি আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং আমি আমরা মনে করছি, নেক্সট ১২ ঘণ্টায় উনার পরবর্তী পরিস্থিতি কী হয় সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে উনি আমাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা এবং আমরা যেটাকে খুব ভালোভাবে বলি, খুব ইন্টেন্সিভভাবে মনিটরিংয়ের মধ্যে আছেন। কেবিনেই তিনি আছেন।

এর আগে রোববার রাত ৮টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে রয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে হাসপাতালে নেওয়ার পরপর বেশ কিছু টেস্ট করা হয়। এরপর অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকাদারের সভাপতিত্বে মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। এই বৈঠকে অধ্যাপক এফএস সিদ্দিকী, ডা. জাফর্ ইকবাল, ডা. জিয়াউল হক, ডা. মামুন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম এবং লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনহোপকিংস হসপিটালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন।

অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাডামের চিকিৎসা শুরু হয়েছে।’

অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা ডেফিনেটলি সুচিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত কোনো বিষয় আমরা মনে করছি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, উনার চিকিৎসাটা যদি এখন যেভাবে শুরু হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ তাহলে আগামী ১২ ঘণ্টা পর মেডিকেল বোর্ড আবার বসবেন। বসার পর উনার স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর পর্যবেক্ষণ করে কি ধরনের চিকিৎসার পরিবর্তন আনা যায় সে অনুযায়ী ব্যবস্থা বোর্ড নেবেন।’

তিনি বলেন, গতকাল ভোর থেকে তারেক রহমান ও উনার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান তাদের ‘আম্মু’র ব্যাপারে সর্বাক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া ম্যাডামের ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী সৈয়দা শামিলা রহমান এখানেই আছেন, উনাদের আত্মীয় স্বজনরা ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে সবসময় সহযোগিতা ও খোঁজ-খবর রাখছেন।’

খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন উল্লেখ করে জাহিদ বলেন, ম্যাডাম আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। যেমনি অতীতেও ম্যাডামের জন্য দোয়া করেছেন দেশবাসী।

৭৯ বছর বয়েসী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন।

বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলসহ ৪ জনের শুনানি আজ

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আজ।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হবে। এদিন এ মামলায় পলাতক দুই আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

গত ৫ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর আদেশটি দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অপর সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় বর্তমানে চার আসামির দুজন কারাগারে রয়েছেন। রেদোয়ানুল ছাড়া অপরজন হলেন- বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। দুজনকেই গত ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। যা এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

পলাতক দুই আসামি হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলে। এর মধ্যে রামপুরায় নিহত হয় ২৮ জন। আহত হয়েছে আরও অনেকে। রামপুরায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এছাড়া অন্যরাও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ হত্যাযজ্ঞে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে আলাদা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।

সুপার ওভারে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, রেকর্ড তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে নাটকীয় সুপার ওভারে জিতে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের শিরোপা নির্ধারণী মহারণেও টাই করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ‘এ’ দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে বাংলাদেশের দেওয়া ৭ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখে জিতে সর্বোচ্চ তৃতীয়বার শিরোপা জিতল পাকিস্তান।

আজ (রোববার) কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে বোলাররা জয়ের ভিত গড়ে দিলেও মূলত ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলায় আগে ব্যাট করতে নেমে ইরফান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানকে মাত্র ১২৫ রানে আটকে দেন রিপন মন্ডল, রাকিবুল হাসানরা। ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর রিপন-সাকলাইনদের কল্যাণে বাংলাদেশও সমান ১২৫ রান করে।

বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনালের মতো ফাইনালও গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে প্রথম বলে হাবিবুর রহমান সোহান এক রান নেওয়ার পর স্ট্রাইকে যান আব্দুল গাফফার সাকলাইন। দ্বিতীয় বলেই তিনি আউট হয়ে যান। এরপর পাক পেসার আহমেদ দানিয়াল ওয়াইড এবং বাই চার দিয়ে বসেন। জিসান প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ আর কোনো রান যোগ করতে পারেনি। ফলে তাদের পুঁজি দাঁড়ায় স্রেফ ৬ রান।

সুপার ওভারের প্রথম দুটি বলই ইয়র্কার করেছিলেন রিপন। তবে দু’বারই সিঙ্গেল রান পেয়ে যায় পাকিস্তান। একইভাবে তৃতীয় বলটি ছাড়তে গিয়ে ফুল টস দিয়ে বসেন ডানহাতি এই পেসার। যা কাজে লাগিয়ে স্কয়ার লেগে সাদ মাসুদ চার আদায় করে নেন। পরের বলে সিঙ্গেল রান নিয়েই মাতেন বিজয়োল্লাসে। আকবর আলির দলকে রানে হারিয়ে রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তান ‘এ’ দল। ইমার্জিং দলের হিসাবে এটি তাদের সর্বোচ্চ তৃতীয় এশিয়া কাপের শিরোপা।

এর আগে প্রথম ছয় আসরে টুর্নামেন্টটির নাম ছিল ইমার্জিং এশিয়া কাপ। যার প্রথম চার আসরে প্রতিযোগী দেশগুলোর অনূর্ধ্ব-২৩ দল অংশ নেয়। ২০২৩ আসর থেকে এ নিয়ে তৃতীয়বার খেলেছে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের ‘এ’ দল এবং সহযোগী দেশের জাতীয় দল। এবার নাম বদলে টুর্নামেন্টটিকে বলা হচ্ছে ‘এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস চ্যাম্পিয়নশিপ’।

এর আগে ২০১৯ আসরে প্রথমবার ফাইনালে উঠে পাকিস্তান ‘এ’ দলের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। আরও একবার এই টুর্নামেন্টে একই প্রতিপক্ষের কাছেই তাদের স্বপ্নভঙ্গ হলো। রিপন মন্ডল ও রাকিবুল হাসানদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১২৫ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ভিতে দাঁড়িয়েও ভেঙে পড়ে জুনিয়র টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ।

১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় যথারীতি আগ্রাসী শুরু করেছিলেন ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। তাতে প্রথম ধাক্কাটা লাগে আরেক ওপেনার জিসান আলম ব্যক্তিগত ৬ রানে এলবিডব্লিউ হলে। তবুও স্বভাবসুলভ ব্যাটিং বদলাননি সোহান। তবে টানা বিলাসী শট খেলতে যাওয়ার চেষ্টায় মাশুল গুনতে হলো ডানহাতি এই ব্যাটারকে। পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন স্কয়ার লেগে। ১৭ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানে থামলেন সোহান।

১২ রানের ব্যবধানে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, আকবর ও ইয়াসির আলি রাব্বি আউট হলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪৮/৫। ৫৩ রানের মাথায় পরপর ফেরেন মাহফুজ রাব্বি ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। কিছুক্ষণ লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে ব্যক্তিগত ১৯ রানে এসএম মেহরব আউট হলে ৯০ রানে বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারায়। তখনই তাদের হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে রাকিবুল-সাকলাইন-রিপনরা সেই ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত সুপার ওভারে নিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখেন।

রাকিবুল ২৪ রানে ফিরলেও সাকলাইন ১৬ ও রিপন ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সুফিয়ান মুকিম ১১ রানে ৩ উইকেটের দুর্দান্ত স্পেল করেছেন। ২টি করে উইকেট নেন দানিয়াল ও আরাফাত মিনহাস। এর আগে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন সাদ মাসুদ। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আশা জাগিয়ে রিপন মন্ডল ৩ ও রাকিবুল নেন ২ উইকেট।

‘পা দিয়ে চেপে ধরে মেজর সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন ওসি প্রদীপ’

প্রদীপ কুমার দাশকে মাস্টারমাইন্ড ও পরিকল্পনাকারী উল্লেখ করে উচ্চ আদালত বলেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি ভিকটিম মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের বুকের বাম পাঁজরে জুতা পরা পা দিয়ে জোরে আঘাত করে বুকের দুটি হাড় ভাঙাসহ গলার বাম পাশে জুতা পরা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন, যা প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যসহ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দ্বারা প্রমাণিত।

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যা মামলার রায়ে এ মন্তব্য করেছেন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সম্প্রতি ৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। গত ২ জুন ওই রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট, রায়ে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখা হয়েছে।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

হাইকোর্টের রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। রায়ে একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি মো. সগীর হোসেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাশ আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সে ভিকটিম মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের বুকের বাম পাঁজরে জুতা পরা পা দিয়ে জোরে আঘাত করে তার বুকের দুটি হাড় ভাঙাসহ ভিকটিমের গলার বাম পাশে জুতা পরা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, যা প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যসহ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন (প্রদর্শনী-১০) দ্বারা প্রমাণিত।

এ ছাড়া প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট আসামিদের অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য পর্যালোচনান্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি লিয়াকত আলী পূর্ব পরিকল্পনা মতে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিরস্ত্র ভিকটিম মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার উদ্দেশে তার (লিয়াকত আলীর) হাতে থাকা সরকারি পিস্তল দিয়ে ভিকটিমের শরীরের ঊর্ধাংশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পরপর চারটি গুলি করেছে এবং ওই গুলির আঘাতে ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে মর্মে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে (প্রদর্শনী-১০) উল্লেখ করা হয়েছে।’

রায়ে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু আসামি প্রদীপ কুমার দাশ আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিকটিম মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের বুকে আঘাত করে বুকের দুটি হাড় ভাঙাসহ গলার বামপাশে পা দিয়ে চেপে ধরে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এবং যেহেতু অপর আসামি লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা মতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যার উদ্দেশে ভিকটিমের ওপর পরপর চারটি গুলি করেছে এবং ওই গুলির আঘাতেই মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যু হয়েছে মর্মে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেহেতু আসামি প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে বিচারিক আদালত সঠিকভাবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।’

‘এ ছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নন্দ দুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, রুবেল শর্মা, মো. নুরুল আমিন, মো. আয়াজ ওরফে আয়াছ ও মো. নেজামুদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সাধারণ অভিপ্রায়ের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারিক আদালত তাদের অপরাধের ধরন বিচার বিশ্লেষণ করে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বর্ণিত মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন, যা সঠিক ও যুক্তিযুক্ত বলে আমরা মনে করি।’ সে কারণে তর্কিত রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই বলে রায়ে উল্লেখ করেন উচ্চ আদালত।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান।

এ ঘটনায় করা মামলার বিচার শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনকে যাবজ্জীবন ও সাতজনকে খালাস দিয়ে রায় দিয়েছিলেন।

পরে নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। দণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২ জুন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রদীপসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। এখন এ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার আসামিপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করবে। এরপর আপিল বিভাগে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

ক্ষমতায় গেলে ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

ক্ষমতায় গেলে মহানবীর আদর্শ অনুসরণে ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আইয়ামে জাহেলিয়ার সময়ে আমাদের মহানবী (সা.) কে যারা অপছন্দ করতো তারাও মহানবীকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে মানতো এবং বিশ্বাস করত। মহানবীর ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে মুসলমান-অমুসলমান বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কারও মধ্যেই কোনো সংশয় ছিল না। মহানবীর সেই ন্যায় পরায়ণতার আদর্শ সমুন্নত রেখে রাষ্ট্র এবং সরকার পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র হবে ইনশাআল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা।

রোববার (২৩ নভেম্বর) জাতীয় ইমাম খতিব সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় ইমাম খতিব সম্মেলন-২০২৪ সম্মেলন হয়। এই সম্মেলন কমিটির সদস্য সচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম ইমাম খতিবদের ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘মহানবীর ন্যায় পরায়ণতার আদর্শ উজ্জীবিত একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে বিএনপি দেশের সব সম্মানিত ইমাম-খতিব- মুয়াজ্জিন-আলেম-ওলামা-পীর-মাশায়েকদের দোয়া এবং সমর্থন চায়।

তারেক রহমান আরও বলেন, আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই, আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই, দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া চাই।

তারেক বলেন, ‘‘আপনাদের উপস্থাপিত দাবির বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করার সব রকমের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি। আপনারা ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের জন্য সার্ভিস রুল প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।”

অনেক মসজিদে মসজিদ কমিটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপরে ইমাম মুয়াজ্জিন চাকরি নির্ভর করে বলে উল্লেখ করে বিএনপি শীর্ষ এই নেতা বলেন, আমি মনে করি এটি হওয়া উচিত নয়, এটি হতে পারে না। এটিকে ইমাম মুয়াজ্জিনদের বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণ বলে মনে করি। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আপনাদের সার্ভিস রুল প্রণয়নের ব্যাপারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। উপস্থাপিত অন্যান্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগও বিএনপি সরকার গ্রহণ করবে।

এ ব্যাপারে ইমাম-খতিবদের একাধিক কমিটি করে প্রতিটি দাবির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বিএনপিকে দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে বিএনপি এমন একটি কল্যাণমূলক সমাজ, সরকার এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে যে রাষ্ট্র সমাজে মুসলমানরা নিঃসংকোচে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন, নির্ভয়ে নিরাপদে এবাদত বন্দেগি করতে পারবেন। একইভাবে অন্য ধর্মের মানুষও নিরাপদে নিশ্চিন্তে যার যার ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করতে সক্ষম হবে। বিএনপি কখনোই ইসলামের মূলনীতি কিংবা মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

তিনি বলেন, পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের দল যারা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে নিজেদের ইচ্ছেমতন সংবিধান রচনা করেছিল, সেই সংবিধানে দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন তখন ঘটেনি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব পাওয়ার পর সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপরে আস্থা এবং বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বর্তমানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপরে আস্থা এবং বিশ্বাস’ কথাটি এভাবে রাখা হয়নি। কেন এভাবে রাখা হয়নি? এই প্রশ্নটি আজ আমি আপনাদের সামনে রেখে গেলাম।

‘বিএনপি বরাবরই ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী যেকোন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার— উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচার ইসলাম, মুসলমান এবং ইসলামী সংস্কৃতিকে রাষ্ট্র এবং সমাজে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছিল। অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে যে, ২০২৪ সালে পবিত্র রমজান মাসে হঠাৎ করে মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ইফতার মাহফিল আয়োজনের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল বাংলাদেশের ইসলাম বিরোধী, ইসলামের মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। সেই সময় বিএনপি অপতৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপরে হানাদার বাহিনীর মতো ক্র্যাকডাউন চালানো হয়েছিল। গণহত্যার প্রতিবাদে এবং হেফাজতে ইসলামের সমর্থনে বিএনপি সারাদেশে দুইদিন হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল তখন।

তারেক বলেন, যেকোনো পেশা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেটের গুরুত্ব বিবেচনা করে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরে হাদিস অর্থাৎ তাকমিল সনদকে মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছিল। দেশে বর্তমানে কওমি ও আলিয়া, সরকারি বেসরকারি বা নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত সব মিলিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০ হাজারেরও বেশি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সারাদেশে সব মিলিয়ে মসজিদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ বা তারও কিছু বেশি হতে পারে। এই মসজিদগুলোতে কম বেশি প্রায় ১৭ লাক ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন। লাখ লাখ মসজিদ মাদ্রাসায় ইমাম মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় অগ্রগতিমূলক কার্যক্রমের বাইরে রেখে দেশ কখনোই টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা থেকে বিএনপি আগামী দিনের কর্মসূচিতে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘বিএনপি বিশ্বাস করে সারাদেশে ইমাম-খতিব-মোয়াজ্জিনরা প্রত্যেকেই সমাজ সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আপনারা মানুষের নৈতিক এবং আত্মিক শুদ্ধির জন্য নিজেদের সময় ব্যয় করেছেন বা করছেন। ধর্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত একটি নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য এটি আপনাদের একটি প্রশংসনীয় অবদান।”

বিএনপি মনে করে সমাজ সংস্কারকের ভূমিকায় বা ভূমিকা পালনকারী ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনরা যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন তাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে ইনশাল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।

একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিকভাবে আরো স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে শক্তিশালী করে বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ, দুর্যোগ প্রতিরোধে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন চিন্তাভাবনা বিএনপির রয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।

সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের আহ্বায়ক বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহির বাকী নদভীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় হেফাজতে মাওলানা জোনায়েদ আল হাবিব, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি হাবিবুর রহমান কাশেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী/মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, নেজামী ইসলাম পার্টি মুফতি মুসা বিন ইজহার, শায়খ আহমদুল্লাহ, মাওলানা মুনির হোসাইন কাশেমী, মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মাওলানা আবদুল্লাহ বিন আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা গোলাম রাব্বানীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ইমাম-খতিব সাহেরা বক্তব্য রাখেন।