শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

প্রধান বিচারপতির বিদায়ী অভিভাষণ ১৪ ডিসেম্বর

বিচার বিভাগ সংস্কারে ঘোষিত রোডম্যাপ ও এর বাস্তবায়ন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং সম্ভাবনা নিয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বর দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে ‘বিদায়ি অভিভাষণ’ দেবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে। সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৬৭ বছরের পর আর বিচারকরা পদে থাকতে পারেন না।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সে হিসাবে চলতি বছর ২৭ ডিসেম্বর তার ৬৭ বছর পূর্ণ হবে।

গণসংযোগ কর্মকর্তার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে দেশের জেলা আদালতগুলোতে কর্মরত উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের’ আয়োজন করা হয়েছে। এই অধিবেশনেই জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে ‘বিদায়ি অভিভাষণ’ দেবেন প্রধান বিচারপতি।’

এতে আরও বলা হয়, বিদায়ি অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নয়ে তিনি যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে গত দেড় বছরে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়ে আলোকপাত করবেন।

বিশেষ করে, চলমান বিচার বিভাগীয় সংস্কার কার্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, আদালতের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অধস্তন আদালতের বিচারকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিচারপ্রার্থী জনগণের সেবাপ্রাপ্তি এবং মামলাজট নিরসনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।’

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর গত বছর ১০ আগস্ট হাই কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরদিন শপথ নিয়ে বিচার বিভাগের দায়িত্ব নেন তিনি। বিচার বিভাগের দায়িত্ব নিয়েই প্রধান বিচারপতি ‘প্রকৃত স্বাধীন বিচার বিভাগ’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন।

গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেন তিনি। সেদিনের অভিভাষণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বিচার বিভাগের

স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্রীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এরপর বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার, স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদায়ন, বদলি ও শৃঙ্খলায় আচরণবিধি প্রণয়ন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের পদক্ষেপ নেন। তার ঘোষিত ‘রোডম্যাপকে’ কেন্দ্র করেই গত দেড় বছর বিচার বিভাগে বিভিন্নমুখী সংস্কার সাধিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সমালোচনাই লক্ষ্য: গুগলে কনটেন্ট অপসারণে চাপ বাড়ালো অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন— এই ছয় মাসে সার্চ ইঞ্জিন গুগলের কাছে মোট ২৭৯টি কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ পাঠিয়েছে। যার মধ্যে বড় অংশই ছিল সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট সম্পর্কিত। যদিও এসব অনুরোধে গুগলের সাড়া তুলনামূলকভাবে কমই পাওয়া গেছে।

গুগল (অ্যালফাবেট) সম্প্রতি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মেয়াদের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাঠানো কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ, তা যাচাই–বাছাই এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে— এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সরকার কনটেন্ট সরাতে ২৭৯টি অনুরোধ পাঠিয়েছে, যার অধীনে আইটেমের সংখ্যা এক হাজার ২৩টি।

গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে এ অনুরোধের সংখ্যা ছিল ৩৩৭টি এবং আইটেম ছিল চার হাজার ৪৭০টি। ওই বছরের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে করা অনুরোধের মধ্যে সর্বাধিক ১৮১টি ছিল সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট অপসারণের দাবি। এর বাইরে ৩৮টি নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও সেবা-বিষয়ক, ৩২টি মানহানি-বিষয়ক অনুরোধ ছিল।

সরকারের সমালোচনার কারণে করা ১৮১টি অনুরোধই ছিল ইউটিউব কনটেন্ট লক্ষ্য করে। সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

গুগলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো আইটেমগুলোর ৬৫ শতাংশেই যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ১৬ দশমিক ১ শতাংশ অনুরোধে, ৯ শতাংশ কনটেন্ট আগে থেকেই অকার্যকর ছিল, ২ দশমিক ৫ শতাংশ কনটেন্ট আইনি প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হয়েছে, নীতিভিত্তিক কারণে সরানো হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কনটেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ দিকে ইউটিউবও তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুসারে কনটেন্ট সরানোর তথ্য প্রকাশ করে থাকে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি ভিডিও অপসারণ করেছে প্ল্যাটফর্মটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বগ্রহণের পর সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশের ধারা ৮–এ বলা আছে—বিটিআরসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ করতে পারবে। আগের আইনেও এ বিধান ছিল, তবে নতুন অধ্যাদেশে যোগ হয়েছে—স্বচ্ছতার স্বার্থে ব্লক করা কনটেন্টগুলোর তথ্য সরকার প্রকাশ্যে আনবে।

ডিজিটালি রাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, যেহেতু নতুন অধ্যাদেশে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক, সেক্ষেত্রে এসব তথ্য প্রকাশ হলে জনগণ জানতে পারবে সরকার কোন ধরনের সমালোচনা সরাতে চায়।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পর্যন্ত গুগলে পাঠানো নির্দিষ্ট কোন কনটেন্টের অপসারণ অনুরোধের তালিকা প্রকাশ করেনি।

তৃতীয় মেয়াদে জামায়াতের আমির হিসেবে আজ শপথ নেবেন ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য দলের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান টানা তৃতীয়বারের মতো আমির নির্বাচিত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে তার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দেওয়া দলটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন কার্যকাল শুরুর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নেবেন তিনি।

এর আগে গত ২ নভেম্বর আরেক বিজ্ঞপ্তিতে তৃতীয় মেয়াদে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল জামায়াত।

দলের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদে আমির পদে দায়িত্ব পালন করা নেতাদের তালিকায় এর আগে ছিলেন কেবল অধ্যাপক গোলাম আযম ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।

জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম ১ নভেম্বর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমির নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশের রুকনদের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গোপন ব্যালটে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য আবারও আমির নির্বাচিত হন ডা. শফিকুর রহমান।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যরা সরাসরি গোপন ভোটে তিন বছরের জন্য একজন আমির নির্বাচন করেন। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সামনে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত আমির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৬ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিক্যাল কলেজ (বর্তমান এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং সিলেট মেডিক্যাল কলেজ শাখা ও সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে সিলেট শহর, জেলা ও মহানগর আমিরের দায়িত্ব পান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তিনি দলটির সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর প্রথমবার এবং ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর দ্বিতীয়বার আমির নির্বাচিত হন।

সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ

ঢাকা-সিলেট রেল পথের হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলায় পৌঁছালে ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। বেলা ১টা পর্যন্ত ত্রুটি মেরামত সম্ভব হয়নি।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার লিটন দে বলেন, প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কালনী এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার মতো অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়ে। আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সিলেটের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি।’

তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইঞ্জিন মেরামত বা পরিবর্তন করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ইঞ্জিন বিকলের কারণে ট্রেন থেমে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

অনিরাপদ বিদেশি প্রাণীজ সম্পদ আমদানির পক্ষে নয় সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, সরকার দেশীয় প্রজাতির প্রাণী সম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার অনিরাপদ বিদেশি প্রাণিজ সম্পদ আমদানির পক্ষে নয়।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫-এর র‍্যালি শেষে এবং পরবর্তীকালে ‘প্রাণিসম্পদ খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, দেশীয় প্রাণিজ সম্পদ উৎপাদনের মাধ্যমে শুধু দেশের চাহিদা পূরণ করাই নয়, বিদেশেও এর বাজার সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার অগ্রসর হচ্ছে।

তিনি পোল্ট্রি সেক্টরের আমদানি নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপদেষ্টা বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের জন্য ভুট্টার ও সয়াবিনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হলে এই দুটি ফসলকে কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া, পোল্ট্রি ফিডের সংকট সমাধানকে তিনি ক্ষুদ্র খামারিদের টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি বলে অভিহিত করেন।

এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশন হওয়া একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু এলডিসি থেকে বের হতে যেসব সক্ষমতা প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তিনি ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সেমিনারের সভাপতি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং এই খাতে নতুন উদ্যোক্তা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

সেমিনারে বক্তারা দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃষি–প্রযুক্তি, খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ, চাহিদা–সরবরাহ ভারসাম্য রক্ষা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

রাজধানীতে ফের ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল নরসিংদী

রাজধানী ঢাকায় আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৬।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘এটা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালে।’

এর আগে গত শুক্র (২১ নভেম্বর) ও পরদিন শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী।
উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত হয়। আহত হয় ৬০০-এর বেশি মানুষ।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে তুমুল উদ্দীপনা, নিবন্ধন করলেন ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে বিদেশে অবস্থানরত ৫৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টাল ভোটিং আপডেট তথ্য অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৫৪ হাজার ২০৮ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৪৫ হাজার ৯১৯ জন পুরুষ ভোটার এবং ৮ হাজার ২৮৯ জন নারী ভোটার। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন আরও ৭৫ জন। পাশাপাশি অনুমোদিত হয়েছেন ৫৪ হাজার ১৩৩ জন।

দেশভিত্তিক নিবন্ধনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার ৮৪৭ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮ হাজার ৯১৫ জন, জাপানে ৬ হাজার ২১৫ জন, কানাডায় ৬ হাজার ১২৯ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৫ হাজার ৪১ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ হাজার ২২৯ জন ও চীনে ১ হাজার ৬৯০ জন ভোটার রয়েছেন।

এদিকে অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইসি।

এ বিষয়ে বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সময় ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ বিষয় ইসি সচিবলায়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গত ১৮ নভেম্বর অ্যাপ উদ্বোধনের পর প্রবাসীদের আটটি অঞ্চলে ভাগ করে প্রত্যেক অঞ্চলকে পাঁচ দিনের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে নিবন্ধন করার ব্যবস্থা ছিল। তবে প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই সীমাবদ্ধতাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২৭ নভেম্বর থেকে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কোনো সময় প্রবাসীরা নিবন্ধন করতে পারবেন। পাঁচ দিনের যে সময়সীমা ছিল, সেটা আর প্রযোজ্য থাকবে না। এখন আর কারো জন্য কোনো বাধা নেই।

ইসি সচিবলায়ের সিনিয়র সচিব বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটদানের ব্যবস্থা দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া সরকারি কর্মকর্তা, আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার এবং নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যা প্রায় ১০ লাখ ভোটারকে সুবিধা দিচ্ছে।

গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই সেই দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে, যেখান থেকে ভোট প্রদান করবেন।

ভোটারকে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।

ব্যবহারকারী বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশাবলি দেখতে পারবেন।

বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান অপরিহার্য।

ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের প্রাণহানি

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুতেই কমছে না। রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬৭ জন।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ৭৮৪ জন।

এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছিল অক্টোবর মাসে। আর নভেম্বরে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৯ জন।
২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।

চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আরও নজরদারির আওতায় আনা হবে : ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মনিটরিংয়ের জন্য সাইবার সিকিউরিটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। এছাড়া চিহ্নিত অপরাধীদের আরও নজরদারির আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এসময় ইসি সচিব আরও বলেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এটাই আমাদের চূড়ান্ত বৈঠক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনে-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিকনির্দেশনা দেবে। ইসি মনিটরিং করবে এখান থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মনিটরিং জন্য সাইবার সিকিউরিটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, তিনটি ভাগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কেন্দ্রভিত্তিক, মোবাইল টিম ও সেন্টাল রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। সাইবার সিকিউরিটি জন্য এনটিএমসির অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল টিম কতটি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করবে তা ঠিক করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চিহ্নিত সন্ত্রীসের আরও নজরদারি আওতায় আনা হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভূমিকম্পে কাঁপলো টেকনাফ

মধ্যরাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভূমিকম্পে কেঁপেছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ শহর। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৩টা ২৯ মিনিটে টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।

ভূকম্পনবিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, টেকনাফে খুব অল্প ঝাঁকুনি দেওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ এটি টের পাননি।

ভলকানো ডিসকভারি বঙ্গোপসাগরের ভূমিকম্পের উৎপত্তির গভীরতার তথ্য জানাতে না পারলেও ইএমএসসি বলেছে, এটি মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল।

গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বাংলাদেশে আঘাত হানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এক ভূমিকম্প। এতে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনার পরদিনই (শনিবার) আরও তিনবার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ভারতের ভূকম্পনবিদ্যা সংস্থা (এনসিএস) জানায়, বাংলাদেশের মতো শনিবার মিয়ানমারেও অন্তত তিনটি ভূমিকম্প হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৪১ ও ৭টা ১৯ মিনিটে আঘাত হানে এসব ভূকম্পন। রিখটার স্কেলে এগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫ ও ৩ দশমিক ৭।

এদিকে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা বড় আতঙ্কে আছেন। বিপদের ঝুঁকি বাড়ছে বলেই মত দিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি সমীক্ষা বলছে, পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট বা ফাটলরেখায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরের ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা আছে।