শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে প্রবাসীদের নিবন্ধন ছাড়াল ৯২ হাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন ৯২ হাজার ১৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৭ হাজার ৩৪৬ ও নারী ১৪ হাজার ৭৯৯ জন।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে ইসির ওয়েব সাইট (https://portal.ocv.gov.bd/report/by-country) থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এক্ষেত্রে প্রবাসী, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা এ ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এজন্য অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে৷ গত ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

যে সব দেশে নিবন্ধন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিশর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ইত্যাদি। এসব দেশ থেকে মোট নিবন্ধন করেছেন (শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত) ৮৬ হাজার ১৩২ প্রবাসী।

ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এক্ষেত্রে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার টার্গেট নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি।

ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের পাশে থাকার আশ্বাস জামায়াত প্রার্থীর

ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং সব বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম। ক্ষমতায় গেলে এ দাবি পূরণ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার ওই সভার দুই মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

সভায় মাওলানা জহিরুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকে বিতর্কিত করতে একটি মহল তৎপর। যারা অন্যায়ভাবে কর্মীদের রিজিকে আঘাত করেছেন, তারা নিজেরাও কোনো না কোনোভাবে এর বিচার পাবেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মীদের সম্মানহানি কিংবা সম্পদ নষ্ট করার মতো সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছেন, আল্লাহই তাদের বিচার করবেন। চাকরিচ্যুতদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।

সভার ওই বক্তব্যের সত্যতা জানতে মাওলানা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন, আমার বক্তব্য ঠিক আছে, সত্যিই এটি বলেছি। ক্ষমতায় গেলে ইসলামী ব্যাংকের যারা অবিচারের শিকার হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করব।

ওইদিনের মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শহিদুল মোস্তাফা, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোছাইন সিকদার ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল্লাহ।

সোনার ভরি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছাড়াল

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪০৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির দাম দুই লাখ ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ দাম রোববার ( ৩০ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

আফগানদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তানের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলার দপ্তরে এ বিষয়ক তারবার্তা পাঠিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সেই বার্তায় বলা হয়েছে, কোনো আফগান ব্যক্তিকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রদান না করা হয় এবং যেসব আফগানের ভিসা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে— তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়।

আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে অভিবাসী এবং অ-অভিবাসী ভিসার পাশাপাশি বিশেষ অভিবাসন ভিসা প্রদানও বন্ধ থাকবে আফগানদের জন্য। এমনকি নিয়ে বর্তমানে আফগানিস্তানের যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “আফগানিস্তানের পাসপোর্টধারী সব ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া বন্ধ করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার গুরুত্ব আমাদের কাছে সর্বোচ্চ। কোনোভাবেই এর সঙ্গে আপোস হবে না।”

গত বুধবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন আধাসামরিক বাহিনী ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন আফগানিস্তানের নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকনওয়াল। এতে গুরুতর আহত হন দুই জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে জানা যায়, রহমানউল্লাহ লাকনওয়াল আফগানিস্তানে মার্কিন-ন্যাটো বাহিনীর অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালে তালেবান বাহিনী আফগানিস্তানের ক্ষমতা পুনর্দখল করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অনুমতিক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তিনি।

বুধবার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের ওপর বন্দুক হামলা ঘটার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছিল, যেসব আফগান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব ও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। শনিবারের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলার দপ্তরে তারবার্তা প্রদানের মাধ্যমে এ পদক্ষেপকে আরও দৃঢ় করল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।

২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতাকারী আফগানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। কারণ মার্কিন বাহিনী থেকে চলে যাওয়া মানে হলো আফগানিস্তানে ফের তালেবান বাহিনীর ক্ষমতায় আসা এবং বাস্তবে হয়েছেও তা-ই। মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতারকারী আফগানদের আশঙ্কা ‍ছিল, ক্ষমতা আসার পরপরই তাদের নিধন শুরু করবে তালেবান বাহিনী।

তাদের এই আশঙ্কা দূর করতে শরণার্থী ও বিশেষ ভিসায় মার্কিন-ন্যাটো বাহিনীকে সহায়তাকারী আফগানদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। সেই সুযোগের আওতায় ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় ২ লাখ আফগান।

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার পর তাদের সবার ভিসা বাতিল হয়েছে। আফগানদের সহায়তাকারী মার্কিন অলাভজনক অ্যাডভোকেসি সংস্থা আফগান ইভ্যাকের প্রেসিডেন্ট শন ভ্যানডিভার এক ইমেইলবার্তায় রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।”

সূত্র : রয়টার্স

বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আমিরাতে দোয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর মোছাফ্ফাহ এলাকায় বিএনপির উদ্যোগে দলীয় চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একইসঙ্গে বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ১০তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষেও দোয়া করা হয়।

মোছাফ্ফাহ সানাইয়া-৬ নম্বর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের হল রুমে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোরশেদ আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ কামাল। এদিন ক্বারি আজিমুল্লাহর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দোয়া মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য মুছা আল মাহমুদ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন আবুধাবী বানিয়াছ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোছাফ্ফাহ বিএনপির অন্যতম সদস্য আব্দুল কাইয়ুম, সংগঠনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ হাসান, মহিলা সম্পাদিকা আমেনা বেগম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আলমগীর, দেলোয়ার হোসেন, মো. মাহবুব, মো. জাফর, মো. আলম, মোহাম্মদ ফারুক, শওকত আলীসহ আরও অনেকে।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি এবং শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।

নামাজের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল মাদরাসাছাত্র

নোয়াখালীর চাটখিলে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন (১২)।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালী ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের ওই মাদরাসায় ঘটনাটি ঘটে।

একইদিন বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃতের মৃত্যুর সময়ের একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাকে হারিয়ে তার বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝেও।

মৃত আকরাম হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ফারুক হোসেনের বড় ছেলে। সে ১৫ পারা হিফজ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকরাম তাহাজ্জুদ নামাজের সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষ করার ঠিক শেষ বৈঠকে তিনি অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেন। পাশের শিক্ষার্থীরা তাকে কোলে তুলে দ্রুত শিক্ষকদের খবর দেন। মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং আকরামের মামা মাওলানা বোরহান উদ্দীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকরামকে মৃত ঘোষণা করেন।

আকরামের সহপাঠী আব্দুল হান্নান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আকরাম শুধু আমাদের সহপাঠী ছিল না—সে ছিল আমাদের সবার আনন্দের উৎস। আমরা এক সঙ্গে খেলাধুলা করতাম, পড়াশোনা করতাম, সময় কাটাতাম। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় আমাদের মনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। মনে হয় যেন পরিবারের একজনকে হারালাম।

মাদরাসার শিক্ষক হাফিজ মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেন, আকরাম অত্যন্ত ভালো, ভদ্র ও নম্র স্বভাবের শিক্ষার্থী ছিল। কখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিক্ষক হিসেবে আমরা তাকে খুব স্নেহ করতাম। এমন একটি সম্ভাবনাময় কোমলমতি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সত্যিই আমাদের জন্য গভীর বেদনার।

নিহতের মামা মাওলানা বোরহান উদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরিবারের সবাই এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় গ্রামের মানুষ, আত্মীয়-স্বজন সবাই অঝোরে কেঁদেছে। আমরা তাকে খুব কাছে পেয়েছিলাম, তাই হারানোর বেদনাও তত গভীর।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাওলানা মহিউদ্দিন আবেগাপ্লুত হয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আকরাম ছিল মাদরাসার সেরা শিক্ষার্থীদের একজন। ইতোমধ্যে ১৫ পারা কোরআন সম্পন্ন করেছে এবং ১৬ পারায় ছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার পুরো হিফজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। আমরা শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থী নয়, একজন অনন্য চরিত্রবান ছেলেকে হারালাম। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকাবহ পরিবারকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দিন।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পরিবার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে আকরামের দাফন সম্পন্ন করেছে। আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছি এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে তাকবিরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তাকবির আহমেদ (২২) নামে এক তরুণের হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার পরদিনই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্নস্থানে অনুসন্ধান চালায়। পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে ওয়াপদা কলোনির পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩নং পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে এক তরুণের মরদেহ পড়েছিল। পরে পরিবার গিয়ে নিহত তাকবির আহমেদের মরদেহ নিশ্চিত করে।

ঘটনার পর তাকবিরের বাবা নুর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার জানান, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মো. হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনির মোড় থেকে মো. রফিকুলকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানায়, মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ হয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে তারা।

পরদিন ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার নেপথ্য কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং পূর্ব অপরাধের তথ্য যাচাই করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে পিএসএল খেলার সিদ্ধান্ত

প্রায় কাছাকাছি সময়েই হবে ভারত ও পাকিস্তানের জনপ্রিয় দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল-পিএসএল। ফলে চাইলেও ক্রিকেটারদের অনেকে দুটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন না। আবার অর্থ-বিত্ত ও জৌলুসে এগিয়ে থাকা আইপিএলের জন্য পছন্দের সব ক্রিকেটারকে পায় না পিএসএলসহ অন্য টুর্নামেন্ট। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা ফাফ ডু প্লেসি এবার বেছে নিলেন পাকিস্তানি এই লিগকে। সে কারণে তিনি আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাবেক এই প্রোটিয়া জানিয়েছেন, ‘আইপিএলে ১৪ মৌসুমে খেলার পর, আমি এবারের নিলামে নিজের নাম না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি অনেক বড় সিদ্ধান্ত এবং পেছনে ফিরে তাকালে অনেক কৃতজ্ঞতা আসে। আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অনেক বড় অংশ হয়ে আছে এই লিগ। বিশ্বসেরা সতীর্থদের সঙ্গে এখানে খেলা, দারুণ সব ফ্র‌্যাঞ্চাইজি এবং আবেগপূর্ণ সমর্থকদের সামনে খেলতে পারার মতো বড় কিছু হয় না। আমি সৌভাগ্যবান।’

আইপিএলে ৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১৫৪টি ম্যাচ খেলেছেন ডু প্লেসি। অবশ্য এবার নাম সরিয়ে নিলেও, ভবিষ্যতে খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ডু প্লেসি বলেন, ‘ভারত আমাকে বন্ধুত্ব, শিক্ষা এবং স্মৃতিময় মুহূর্ত দিয়েছে, যা ক্রিকেটার এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে পরিণত করেছে। ১৪ বছর বেশ লম্বা সময় এবং এই অধ্যায়ের জন্য আমি গর্বিত, আমার কাছে এর মূল্য অনেক। আমার হৃদয়ে ভারতের জন্য বিশেষ জায়গা আছে এবং নিশ্চিতভাবেই এটি বিদায় নয়, আবারও আপনারা আমাকে দেখতে পাবেন।’

২০২৬ সালে পিএসএল খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার বলেন, ‘এই বছর আমি নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়াকে বেছে নিয়েছি এবং পিএসএলের আসন্ন মৌসুমে খেলব। এটি আমার জন্য রোমাঞ্চকর পদক্ষেপ, নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ, খেলোয়াড় হিসেব আরেকটু এগিয়ে যাওয়া এবং অবিশ্বাস্য প্রতিভা ও সামর্থ্যবানদের সঙ্গে লিগে অংশ নেব। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি পাকিস্তানের আতিথেয়তা নিতে মুখিয়ে আছি।’

অবশ্য এবারই প্রথম নয়, এর আগে দুই মৌসুমে কিছু সময়ের জন্য দুটি ভিন্ন দলে খেলেছেন ডু প্লেসি। সর্বশেষ আইপিএলে খেলেছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে, যেখানে ৯ ম্যাচে করেন ২০২ রান। আসন্ন নিলামের আগে তাকে ছেড়ে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সবমিলিয়ে আইপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ডু প্লেসি। দিল্লি ছাড়াও তিনি চেন্নাই সুপার কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন। দু’বার আইপিএলের শিরোপা জিতেছে চেন্নাইয়ের জার্সিতে।

বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো জয় নিয়ে যা বললেন আইরিশ অধিনায়ক

টেস্ট সিরিজে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হারের পর গতকাল (শনিবার) লিটন দাসের দল ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আইরিশদের দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪ উইকেটে জিতেছে আইরিশরা। ম্যাচ শেষে নিজেদের হারে হতাশার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রশংসাও করেছেন সফরকারী অধিনায়ক পল স্টার্লিং।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্টার্লিং বলেছেন, ‘আসলে আমরা পার স্কোরের বেশিই ছিলাম। শুরুতে সবসময় ১৭০ রানের (লক্ষ্য) কথা বলেছি। আমাদের শুরুটা অনেক ভালো হয়েছে। ম্যাচ যত এগিয়েছে খেলাটা তত কঠিন দিকে মোড় নেয়। কিছুটা হতাশ যে ১৮০ রান তুলতে না পারায়। তবে খুব বেশি দূরেও ছিলাম না আমরা। টাইট মার্জিন ছিল অনেক।’

প্রথম ইনিংস শেষে ম্যাচ জিততেও আশাবাদী ছিলেন স্টার্লিং, ‘প্রতি ম্যাচেই আমরা জিততে চাই। যেকোনো জায়গা থেকেই ম্যাচ জেতা সম্ভব। প্রথম ইনিংসেই দেখা গেছে। প্রথম ১০ ওভার শেষে ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল। আমরা সবসময় বিশ্বাস রেখে গেছি যে ম্যাচটা জিততে পারি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে দুই নতুন ব্যাটারকে ক্রিজে এনে আমরা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমাদের সবসময় বিশ্বাস ছিল আমরা ম্যাচটা জিততে পারি।’

আইরিশ তরুণ টিম টেক্টর নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন দুটি ম্যাচেই। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩২ ও ৩৮ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার। টেক্টরকে নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘দারুণ প্রতিভাবান প্লেয়ার সে। অনেকদিন ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। আয়ারল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে সে অনেক ভালো করেছে। সুযোগ পেয়ে এখন কাজে লাগাচ্ছে। জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও দারুণ করেছিল। দারুণভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নিচ্ছে। ২-৩ বছরের মধ্যে সে আরও ভালো জায়গায় যাবে বলে আশা করছি। ফর্মটা ধরে রাখবে আশা করি।’

বাংলাদেশ সিরিজ খেলতে আসা সবসময়ই আনন্দের বলেও জানালেন স্টার্লিং, ‘অনেক জরুরি ছিল এই সিরিজ। বছরের শুরুতেই আমরা ভেবেছি বাংলাদেশের এই সিরিজই বিশ্বকাপের জন্য আমাদের প্রস্তুতির মঞ্চ হতে পারে। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন অনেকটা এখানকার মতো হবে বলেই ধারণা করছি কিংবা কাছাকাছি হবে। বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে আমরা সবসময়ই উচ্ছ্বসিত থাকি।’

লিটন-মুস্তাফিজদের ঘুরে দাঁড়ানোর ধরন ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন ডানহাতি এই আইরিশ ব্যাটার, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলাটা দ্রুত বদলায়। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যা ভুল করেছিল সেসব শুধরে আজকে অনেক ভালো করেছে। আজকে তারা অনেক উন্নতি করেছে, নিজেদের শক্তিটা দেখিয়ে দিয়েছে।’

ঐশ্বরিয়াকে বিয়ে করবেন পাকিস্তানি মুফতি, নাম রাখবেন ‘আয়েশা রাই’

বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের বিতর্কিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মুফতি আবদুল কাভি। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, স্বামী অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার বিবাহবিচ্ছেদ হলেই অভিনেত্রী তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মুফতি কাভি সেই পডকাস্টে বলেছেন- অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যা চলছে বলে তিনি অবগত। তার দাবি, ‘তাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেলেই ঐশ্বরিয়া আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে। তবে আমি কখনোই চাই না যে তাদের বিচ্ছেদ হোক। কিন্তু যদি সত্যিই তাদের মধ্যে এরকম কিছু হয়, তাহলে নিশ্চয়ই ঐশ্বরিয়া আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

পডকাস্টের সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, একজন অমুসলিমকে কীভাবে তিনি বিয়ে করবেন? এর উত্তরে কাভি জানান, ঐশ্বরিয়াকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে তার নাম রাখা হবে ‘আয়েশা’। তিনি বলেন, ‘ঐশ্বরিয়া রাইয়ের মতো একজন সুন্দরী নিজের নাম হিসেবে লিখবেন আয়েশা রাই। এটা দেখে আমার সত্যিই মজা লাগবে।’

পাকিস্তানের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মুফতি আবদুল কাভি এর আগেও বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন। ঐশ্বরিয়া রাইকে নিয়ে এমন মন্তব্য করার আগে তিনি ভারতীয় অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্তকে নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন। কাভি দাবি করেন, তার উপদেশ মেনেই রাখি ধর্ম পরিবর্তন করে নাম রেখেছেন ‘ফাতিমা’। এর আগে রাখিকেও বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।