শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর গ্রন্থ প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের জন্য অতীতের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উঠে আসে।

বক্তব্যে তিনি অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর শিক্ষাবিজ্ঞানে, নাগরিক আন্দোলনে এবং রাষ্ট্রবিষয়ক চিন্তায় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক উল্লাহ বিভিন্ন সময়ে নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর গবেষণা, লেখালেখি ও সামাজিক সক্রিয়তা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রেখেছে বলে মির্জা ফখরুল অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক কাঠামো সংস্কার–সংক্রান্ত বিভিন্ন রূপরেখা তৈরিতে অধ্যাপক উল্লাহর তাত্ত্বিক অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ প্রণয়নের সময় তাঁর পরামর্শ ও বিশ্লেষণ দলের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের প্রেক্ষাপটে বক্তারা অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর গবেষণা-আগ্রহ, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক সমালোচনামূলক চিন্তাধারা এবং রাষ্ট্র কাঠামো বিশ্লেষণে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। এই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, অধ্যাপক উল্লাহর রচিত বইগুলোতে রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সমাজ ও গণতন্ত্র সম্পর্কিত নানা তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে, যা সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণে প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, এসব গ্রন্থ দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনার কয়েকটি দিকও প্রতিফলিত হয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও তরুণ প্রজন্মকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি এবং সমান অধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়া রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শেষ অংশে মির্জা ফখরুল অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর পরিবারের প্রতি আন্তরিক শুভকামনা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি উপমহাদেশে নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক আন্দোলন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে এবং বর্তমান প্রজন্মের জন্য এখনও তা গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বক্তারাও অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর গবেষণা ও নাগরিক আন্দোলনে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে তাঁর গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণ ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে দিকনির্দেশনা দিতে পারে। সভায় আলোচকদের বক্তব্যে উঠে আসে যে, রাষ্ট্রের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণের জন্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত গবেষণা–ভিত্তিক উদ্যোগ অপরিহার্য।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আলোচনায় এমন অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কারণ এসব আলোচনায় রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবনা উঠে আসে। এই ধরনের সংলাপ দেশজ নীতিনির্ধারণে গবেষণা–সমর্থিত দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বও তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক আলোচনায় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম কর্মীদের গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন প্রশ্নে জনসম্পৃক্ত আলোচনা জোরদার করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক চর্চাকে স্থায়িত্ব দেবে।

সভা শেষে আয়োজকরা প্রকাশিত গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু এবং গবেষণার ক্ষেত্রগুলো পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, গবেষণাধর্মী প্রকাশনা রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক বোঝার ক্ষেত্রে পাঠককে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ একাধিক অভিযোগে আজীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গুপ্তচরবৃত্তি ও অর্থনৈতিক অপরাধের একাধিক অভিযোগে কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আলেহান্দ্রো হিলকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রকাশিত আদালতের এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয় যে হিলকে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে সরবরাহ, গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়ম এবং আর্থিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হিল ‘গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ’ এবং ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা চুক্তি বাস্তবায়নে ক্ষতিকর কার্যকলাপের’ দায়ে আজীবন কারাদণ্ডের আদেশ পেয়েছেন। তবে আদালত তিনি কোন দেশের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন বা কী ধরনের তথ্য সরবরাহ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

৬১ বছর বয়সী হিল ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কিউবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি দায়িত্বের অংশ হিসেবে যে গোপন নথি ও তথ্যের তত্ত্বাবধানে ছিলেন, সেগুলোর সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করেছেন, নথি অপসারণ ও নষ্ট করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোর কিছু অংশ শত্রুপক্ষের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তিনি সরকারি নথি অপহরণ, সরকারি সিল ভঙ্গ, এবং রাষ্ট্রীয় গোপন নথি রক্ষার বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হন।

গুপ্তচরবৃত্তি-সংক্রান্ত আজীবন কারাদণ্ড ছাড়াও হিলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং কর ফাঁকির পৃথক একটি মামলায় আরও ২০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব অভিযোগে তার ধারাবাহিক দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার এবং কর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গত নভেম্বরের শুরুতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং ১১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। অভিযোগ দায়েরের পরপরই তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। হিল দীর্ঘদিন ধরে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ করে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করে। তার পদচ্যুতি ও পরবর্তী তদন্ত নিয়ে সে সময় সরকারি পর্যায়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

কিউবার আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপিলের সুযোগ থাকে। আদালত জানিয়েছে, হিল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলের জন্য ১০ দিনের সময় পাবেন এবং আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় পর্যায়ের বিচার বাধ্যতামূলকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

হিলের মামলাটি কিউবার চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দেশটি। মুদ্রাস্ফীতি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বৈষম্য ও বাজার ব্যবস্থার অস্থিরতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সময় এমন উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সরকারের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বিচার প্রক্রিয়া ও শাস্তি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পেশাগত জীবনের শুরুতে হিল হাভানা বন্দরে পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন এবং শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় বিচার প্রক্রিয়াটি কিউবার প্রশাসনিক কাঠামোতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

কিউবায় হঠাৎ পদচ্যুতি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অতীতে নতুন নয়। সংকট বা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সময় এমন ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে। ১৯৮৯ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে সাবেক গেরিলা কমান্ডার জেনারেল আরনালদো ওচোয়া ও তার সহযোগীদের বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা দেশটিতে বড় রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান মামলাটিও অতীতের সেই নজিরগুলোর স্মৃতি উত্থাপন করেছে এবং কিউবার বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান পুনরায় আলোচনায় এনেছে।

হিলের বিরুদ্ধে রায় কিউবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন। আপিল প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেশটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নীতি-নির্ধারণী কাঠামো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য ঐক্য ও নির্বাচনী সমন্বয় নিয়ে আলোচনা

রাজনীতি ডেস্ক

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য ঐক্য এবং রাজনৈতিক সমন্বয় প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী–নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, আগামী দিনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ইসলামী দলকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার বিষয়ে তার দল বদ্ধপরিকর। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকায় তার বাসভবনে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকালে চৌদ্দগ্রাম অঞ্চলের রাজনীতি, প্রার্থীতা, মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ সংগঠনের বর্তমান অবস্থা, স্থানীয় পর্যায়ের ভোটারদের ধারা, সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় করেন।

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, অতীতের মতপার্থক্য ও বিভেদ পিছনে রেখে ইসলামী দলগুলোকে একটি সাধারণ লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, নীতিগত ঐক্য এবং নির্বাচনী সহযোগিতা গড়ে উঠলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী ধারার প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংগঠিত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারের বিষয়ে জানা যায়, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলগত মতভেদ রয়েছে। নির্বাচনী টিকিট, সংগঠনের বিস্তার, স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং আদর্শিক অবস্থানসহ নানা প্রশ্নে এ বিভেদ বজায় ছিল। সামনের নির্বাচনে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়বে—এ বিষয়টি আলোচনা সভায় উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, মাঠপর্যায়ের সংগঠনের সমর্থন শক্তিশালী হলে স্থানীয় রাজনীতিতে ইসলামী ধারার ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

চৌদ্দগ্রামসহ কুমিল্লা অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এলাকার ভোটারদের আচরণ, বিভিন্ন দলের প্রভাব, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যে আলোচনা রয়েছে, তা সাক্ষাৎকারে উপস্থাপন করা হয়। আসনটির রাজনৈতিক ইতিহাস, পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং ভোটারদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থিত নেতারা জানান, নির্বাচনে শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সংগঠিত প্রচার, পর্যাপ্ত জনসম্পৃক্ততা এবং সুসমন্বিত কৌশল।

আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. মহিউদ্দিন সহিদ পাটোয়ারী সভায় উপস্থিত থেকে দলের স্থানীয় কার্যক্রম ও সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি মাঠপর্যায়ের জনপ্রতিক্রিয়া, প্রচারণার পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে মতামত জানান। স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচনী কাজে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, সে বিষয়েও ধারণা দেওয়া হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা আব্দুল ওহাব, উপজেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা উত্তর সদরের সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুল্লাহ নোমান, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বৈঠকে অংশ নেন। তারা স্থানীয় সংগঠনের অবস্থা, ভোটারদের প্রত্যাশা এবং নির্বাচনী পরিবেশের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। মাঠপর্যায়ের সংগঠন আরও সক্রিয় হলে নির্বাচনী প্রচারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।

সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ স্বচ্ছ হলে দলগুলো নীতি ও কর্মসূচি অনুযায়ী জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, অংশীদারিত্বমূলক রাজনীতি এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও সুস্পষ্ট ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।

সভা শেষে নেতারা নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি পারস্পরিক সংযোগ ও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, সামনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হলে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ সহজ হবে এবং রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে ইসলামী ধারার উপস্থিতি আরও সুসংগঠিত হবে।

অর্থবছরের শেষ ৬ মাসে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের আশাব্যঞ্জক লক্ষণ : জিইডি

২০২৫ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের আশাব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে (জিইডি) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও বর্তমানে প্রধান সূচকগুলো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

জিইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কম থাকবে বলে বড় উন্নয়ন সহযোগীরা ধারণা করছে।

বিশ্বব্যাংক ৩.৩ শতাংশ থেকে ৪.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে ৩.৯ শতাংশ। তবে ২০২৬ অর্থবছরে অর্থনীতি গতি সঞ্চার করবে এবং প্রবৃদ্ধি ৫.১ শতাংশ থেকে ৫.৩ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের বহিঃখাতের উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতার কথা বলা হয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি স্থিতিশীলতা এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পুনরুদ্ধার অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রপ্তানি আয়ও শক্তিশালী রয়েছে, যা তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতি মেনে চলা এবং বাজার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম অবস্থায় স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই বিভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনবিআর কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে জুন মাসে রাজস্ব সংগ্রহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং রাজস্ব আদায় পুনরায় শুরু হয়।

জিইডি জোর দিয়ে বলেছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাত স্থিতিশীল করা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। যদিও অনেক পূর্বাভাস পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে প্রবৃদ্ধি কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জীবনমান উন্নয়নে রূপান্তরিত হবে তা কার্যকর নীতি, শক্তিশালী আর্থিক খাতের শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদনটিতে দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমকে প্রবৃদ্ধির বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি কার্যকারিতা এবং উৎপাদন খাতের আউটপুট-বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প-প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে ও ২০২৬ অর্থবছরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশকে সীমিত রিজার্ভ, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, ক্রেতাদের পরিবর্তিত পছন্দ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো-বিশেষত পোশাক ও এসএমই খাতে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উদীয়মান দুর্বলতাগুলো- বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের অস্থিরতা, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ, সুশাসন সংকট এবং বৈদেশিক ঝুঁকি সমাধান করতে ব্যর্থ হলে প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে, জীবনমান খারাপ হতে পারে, দারিদ্র্য বাড়তে পারে এবং বৈষম্য দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, সময়োপযোগী ও সমন্বিত নীতি সংস্কার, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং স্পষ্ট নীতিগত বার্তা প্রদান নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ পুনরায় গতি ফিরে পাবে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

জিইডি উপসংহারে বলেছে, কাঠামোগত সংস্কার ও উদ্ভাবন-নির্ভর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা সমর্থিত একটি সুপরিকল্পিত জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশল ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পরিচালিত করবে, যা স্থিতিস্থাপকতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াবে।

‘জুলাই কন্যা সম্মেলন ২০২৫ আয়োজন হবে ১০ ডিসেম্বর

‘১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫’ উপলক্ষ্যে আগামী ১০ ডিসেম্বর ‘জুলাই কন্যা সম্মেলন ২০২৫’ এর আয়োজন করা হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ওইদিন সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

এই সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ প্রধান অতিথি এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানে ভূমিকম্পে আহত ৩০, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ২ সহস্রাধিক বাড়িঘর

জাপানে অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন এবং বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ২ হাজারের বেশি বাড়িঘর। বিবিসির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে এ তথ্য।

গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫মিনিটে জাপানে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হনশু-এর আওমোরি জেলার উপকূল থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে এবং সাগরের তলদেশের ৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার।

সমুদ্রের তলদেশের গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়ায় প্রথম দিকে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল জাপানের আবহাওয়া দপ্তর। পরে অবশ্য তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে নিকট ভবিষ্যতে আরও ভূমিকম্প হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

ভূমিকম্পের পর জাপানের বাসিন্দাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যেও একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আপনারা সবাই সামনের কয়েক দিন সতর্ক থাকবেন। কম্পন অনুভূত হওয়ামাত্র যেখানেই থাকুন— তাৎক্ষণিকভাবে যেন বাইরে বেরিয়ে পড়তে পারেন—সে বিষয়ক প্রস্তুতি রাখবেন। ভূমিকম্পের নিজেদের মূল্যবান সম্পত্তি-আসবাবপত্র যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়- সে বিষয়েও সতর্ক থাকবেন।”

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্প ও সুনামি সতর্কতা জারি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে আওমোরি এবং আশপাশের উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন জাপানের দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের উদ্ধারকারী বাহিনী।

এদিকে ভূমিকম্পে আওমোরি জেলার বিদ্যুৎ সরবাহ ব্যবস্থার গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ বাড়িঘর। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে বন্ধ আছে দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যকার ট্রেন পরিষেবা।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় ইতোমধ্যে আওমোরি এবং উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকটি ‘রেসপন্স অফিস’ খোলা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা।

প্রসঙ্গত, ভৌগলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভূমিকম্প হয় জাপানে।

সূত্র : বিবিসি

এবার দলে জায়গা হলো না সালাহর

ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের স্কোয়াডে এবার জায়গা হলো না মোহাম্মদ সালাহর। টানা তিন ম্যাচ বেঞ্চে শুরু করায় রোববার বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড, যেখানে ক্লাব ও প্রধান কোচ আর্নে স্লটকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ মন্তব্য করেন।

ইন্টার ম্যাচ সামনে রেখে সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে স্লট জানান, সালাহর সঙ্গে ক্লাবের আচরণ নিয়ে করা মন্তব্যে হতবাক হয়েছেন তিনি। ওই সাক্ষাৎকারের কারণে সাবেক রোমা ফরোয়ার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কোচ বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন একজন খেলোয়াড়ের ফেরার সম্ভাবনা সবসময় থাকে।

আফ্রিকান নেশন্স কাপ খেলতে সালাহর দেশে ফেরার আগে শনিবার ব্রাইটনের বিপক্ষে লিভারপুল খেলবে। সেই ম্যাচে তাকে খেলানো হবে কি না প্রশ্নে স্লট কোনো কথা দিতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘আমি মনে করি একটি বড় ম্যাচের আগে আমরা এখানে বসে আছি। ৩৬ ঘণ্টা হয়েছে লিডসে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর। আপনাদের বুঝতে হবে, কালকের (ইন্টারের বিপক্ষে) জন্য আমি আমার দলকে সম্ভাব্য সেরা উপায়ে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি। আমার সব চিন্তা কালকে নিয়ে। আমরা এই ম্যাচে তাকে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কালকের পর আবারো আমরা পরিস্থিতি নিয়ে ভাবব।’

এই মৌসুমে ১৩ লিগ ম্যাচে মাত্র চার গোল করেছেন সালাহ। সোমবার সকালেও তাকে ট্রেনিং সেন্টারে প্রথম দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখা গেছে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতের ম্যাচের জন্য তাকে বাইরে রেখে শহর ছাড়ে লিভারপুল।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্লটের সঙ্গে আলোচনা করে তার পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ক্লাব। প্রকাশ্যে খেলোয়াড়ের মন্তব্যে ধরন ও সময়ের কারণে সবার স্বার্থে তাকে কিছু সময়ের জন্য বাইরে রাখাকে শ্রেয় মনে করা হচ্ছে। আপাতত কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না সালাহকে।

সব প্রতিযোগিতা মিলে গত ১৫ ম্যাচে মাত্র চারটি জিতেছে লিভারপুল। তবুও স্লট ক্লাব কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন, এমনকি সালাহর মন্তব্যের পরও। চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুল বর্তমানে ১৩তম এবং সেরা আটে থেকে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বাড়াতে চাইলে মিলানে জয় প্রয়োজন।

ভারতের কসমোপ্রফ প্রদর্শনীতে রিমার্কের ব্যাপক সাড়া

উপমহাদেশের বৃহত্তম কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের প্রদর্শনী কসমোপ্রফ-ভারত ২০২৫ এ অংশ নিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে দেশের শীর্ষ কসমেটিকস ও স্কীনকেয়ার টেকনোলজি জায়ান্ট কোম্পানি রিমার্ক এলএলসি ইউএসএ’র এফিলিয়েটেড রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। বছরে ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রফতানি আদেশ প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই বৃহৎ আয়োজনে রিমার্কের বাংলাদেশে উৎপাদিত গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো প্রদর্শিত হয়।

ভারতের মুম্বাইয়ে জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারের জেসমিন হল-১ এর প্রদর্শনীতে ভারতীয়দের কাছে অন্যতম আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল রিমার্কের স্টল। বিশেষত এবারের প্রদর্শনীতে রিমার্ক তাদের বাংলাদেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যগুলোর প্রদর্শনী করেছে। তাই কসমেটিকস খাতে প্রতিবেশী দেশ কতটা এগোলো সেটা দেখতেই প্রদর্শনীতে উপস্থিত কসমোটোলজিস্টদের অন্যতম আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

ভারতে রিমার্কের ডিস্ট্রিবিউটর জি এম শান্তি ট্রেড লিন্ক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক পার্থ প্যাটেল বলেন, কসমোপ্রফ প্রদর্শনীটি ভারতীয় ভোক্তা, উৎপাদক কোম্পানি এবং দর্শকদের মধ্যে আমাদের ব্র্যান্ডগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করছে। আমরা প্যাকেজিং, মূল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক বা ওইএম প্রস্তুতকারক এবং ই-কমার্সের জন্য বহু লিড পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের লক্ষ্য প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতজুড়ে রিমার্কের পণ্য বাজারজাতকরণে কাজ করছি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলায় রিমার্কের অংশগ্রহণ খুবই ইতিবাচক দিক। এই কোম্পানির সেরা মানের পণ্য সম্পর্কে ভারতীয় ক্রেতারা জানতে পারেন। ইতোমধ্যে রিমার্কের উন্নত মানের পণ্য ভারতীয় মানসনদ নিশ্চিত করেছে। আমরা আশা করছি অল্প দিনের মধ্যেই ভারতের বাজারে রিমার্কের পণ‍্য খুব জনপ্রিয়তা লাভ করবে।

পার্থ প্যাটেল জানান, এবারের কসমোপ্রফ ইন্ডিয়ায় রিমার্ক প্রায় ৪ শতাধিক পণ্য প্রদর্শন করেছে। বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে রয়েছে রিমার্কের কালার কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার পণ্য। বিশেষ করে নিওর, হারল্যান, ব্লেইজ ও স্কিন, ডার্মা ইউ, ক্যাভোটিন, ইউএস লিলিসহ রিমার্কের বেশ কিছু কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড এর পণ্য নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীর মনোযোগ ছিল উল্লেখযোগ্য।

রিমার্ক গ্লোবাল এক্সপোজের সিইও আলমগীর আলম সরকার জানান, রিমার্ক বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শন করেছে। আমাদের ব্র্যান্ডগুলো সর্বস্তরের ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সুদৃঢ় অবস্থানকে বিশ্বব্যাপী আরও ছড়িয়ে দিতেই আমাদের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ। গ্লোবাল ব্র্যান্ডের বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের সুনাম আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে রিমার্কের পণ্য রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব সুবিশাল বাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত আমাদের কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। প্রদর্শনী থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রিমার্কের পণ্য রপ্তানির আরও বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি। এবারের কসমোপ্রফ থেকে নতুন রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশে কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনের আরেকটি মাইলফলক পার করবে বলে মনে করছি। তাছাড়া রিমার্কের অপরাপর ত্বক সুরক্ষা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে হালাল সার্টিফিকেশন প্রাপ্ত পণ্যও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। আশা করছি মধ্যপ্রাচ্যসহ হালাল কসমেটিকসের বিশ্ব বাজারে প্রবেশ করতে পারবো আমরা।

কোরিয়া ও ইউরোপিয়ান প্যাভিলিয়নের অংশে এইচ-৩৬ নম্বর স্টলে রয়েছে রিমার্কের প্রদর্শনী। কসমোপ্রফের ভারত পর্বের এই প্রদর্শনীতে ইতালি, ব্রাজিল, কোরিয়া এবং জার্মানিসহ ২০টির বেশি দেশের ৮শতাধিক গ্লোবাল ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে। আয়োজকরা ধারণা করছেন এবারের প্রদর্শনীতে কসমেটিকস শিল্পের সঙ্গে জড়িত ১০ হাজার প্রতিনিধি ও ৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে।

ত্বক সুরক্ষা ও সৌন্দর্যের বিকাশে রিমার্কের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বব্যাপী। কসমোপ্রফ ভারতে এবারই প্রথম কোনো বিদেশি ব্র্যান্ডের বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শন হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য রপ্তানিতে আরেকধাপ এগিয়ে যাবে। রিমার্কের এই প্রতিনিধিত্ব দক্ষিণ এশিয়ার কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার খাতের জন্য একটি মাইলফলক বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

রিমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল আলম বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ রিমার্ক এইচবির উৎপাদন প্রক্রিয়া সিজিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস সার্টিফিকেট) এবং আইএসও স্বীকৃত যা নিশ্চিত করে যে সব পণ্য সর্বোচ্চ গুণগত ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে তৈরি করা হয়। এই উৎকর্ষতার প্রতিশ্রুতি রিমার্ক এইচবি লিমিটেড-কে বাংলাদেশের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার শিল্পে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উল্লেখ্য, লাখো ভোক্তার আস্থা অর্জন করে রিমার্ক এইচবি দক্ষিণ এশিয়ায় কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এই শিল্পে একটি নতুন সংজ্ঞা রচনা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় ত্বকের নানান সমস্যার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে রিমার্কের গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো। ইতোমধ্যে রিমার্কের আন্তর্জাতিক পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য অনেক দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং নতুন নতুন গন্তব্যে রপ্তানি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বেগম রোকেয়া নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নারীমুক্তি ও মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ‘বেগম রোকেয়া দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৯ ডিসেম্বর দেশে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া স্মরণে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই অঞ্চলের নারী সমাজকে যথাযোগ্য মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে বেগম রোকেয়ার অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আজ বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে আমি এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীতে রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া নারীদের ভাগ্যোন্নয়নের মূল চাবিকাঠি শিক্ষা। এ উপলব্ধি থেকে বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তারে বিরাট সাহসী ভূমিকা পালন করেন। বেগম রোকেয়া নারী উন্নয়নের পথে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

ড. ইউনূস বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে– গ্রামীণ অসচ্ছল নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি, গ্রামীণ এলাকায় দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের এবং শহর এলাকায় স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মায়েদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের স্ব-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা। এছাড়াও প্রান্তিক নারীদের উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা প্রদান করাসহ কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ আবাসনের লক্ষ্যে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল পরিচালিত হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিকার ও প্রতিরোধে সমন্বিত সেবা জোরদারকরণ এবং কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় টোল ফ্রি (৭/২৪ ঘণ্টা) হট লাইন সেবা ১০৯ চালু রয়েছে।

বেগম রোকেয়ার আদর্শ অনুসরণে নারী অধিকার ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য যারা বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন তিনি তাদের অভিনন্দন জানান।

প্রধান উপদেষ্টা ‘বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

আবু সাঈদ হত্যা : ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্য দেবেন হাসনাত আবদুল্লাহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাক্ষ্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্য পেশ করবেন তিনি। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আজ সকাল ১০টার পর ট্রাইব্যুনালে হাসনাত আবদুল্লাহ আসতে পারেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

বর্তমানে ছয় আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

এর আগে, ২৭ নভেম্বর ১৮তম দিনের মতো ২১ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৪ নভেম্বর এ মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল। তবে সাক্ষী হাজির হলেও বিশেষ কারণে নেওয়া হয়নি। ২৩ নভেম্বর জবানবন্দি দেন এক শিক্ষার্থী। আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া মৃত ঘোষণার পর পথ থেকে তার লাশটি পুলিশ কেড়ে নিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন। পরে তাকে জেরা করেন পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স ও গ্রেপ্তারদের আইনজীবীরা। ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন শিক্ষার্থী শান-এ রওনক বসুনিয়া। তিনিও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

গত ১৬ নভেম্বর জবানবন্দি দিয়েছেন মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিক। ১৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন। ১৩ নভেম্বর প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন পুলিশের নায়েক আবু বকর সিদ্দিক। ১২ নভেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেন এসআই (সশস্ত্র) মো. আশরাফুল ইসলাম। রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি মো. আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে চালানো গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ১১ নভেম্বর জবানবন্দি দেন রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ। তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীদেরও একজন ছিলেন। ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান। তিনিও হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। এ মামলায় যথাক্রমে ৪ নভেম্বর, ২১ ও ১৩ অক্টোবর সাক্ষী না আনতে পারায় পরপর তিনবার সময় পেছানো হয়।

গত ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওই দিন জবানবন্দি দেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক। তারা হলেন— এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল। গত ২৮ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। একই দিন সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন।

চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ৩০ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী। এর মধ্যে পাঁচজনের হয়ে লড়েন আইনজীবী সুজাদ মিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুনুর রশীদ। এছাড়া শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম।

২৯ জুলাই তিন আসামির পক্ষে শুনানি হয়। এর মধ্যে শরিফুলের হয়ে লড়েন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। কনস্টেবল সুজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইমরানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান। ২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আর ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।