শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ডিসেম্বরের ৮ দিনেই এলো এক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের প্রথম ৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৮০ লাখ বা ১.০০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিদিনের হিসাবে গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম ৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

এ ছাড়া, গত ৮ ডিসেম্বর একদিনে প্রবাসীরা দেশে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এর আগে, গত নভেম্বরে এসেছে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। আর গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো একটি অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

ক্লিন ইমেজের আওয়ামী লীগ প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারবেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে দলটির ভবিষ্যৎ কী হবে সেই আলোচনা উঠে এসেছে ঢাকা-দিল্লি আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বৈঠকে। তবে এতে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।
তারা চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। যাদের ইমেজ অপেক্ষাকৃত ক্লিন তাদের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে তাদের এমন কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকায় গত ১২ই মে এক প্রজ্ঞাপনে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়। তাদেরকেও সরকার একই জবাব দেয়। ওদিকে আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠিত হতে চেয়েছিল একটি অংশ। কিন্তু শেখ হাসিনা তাতে মত দেননি।
হাসিনা বিশ্বাস করেন- লড়াই করে ফের দলকে সংগঠিত করতে সক্ষম হবেন।

সূত্র : মানবজমিন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, চিকিৎসকদের স্বস্তি

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত আছে। চিকিৎসকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার বয়স প্রায় আশি বছর। দ্রুত সেরে না ওঠার পেছনে বয়স একটি বড় ফ্যাক্টর। এ ছাড়া এই বয়সে নানা রোগে আক্রান্ত তিনি।
কারাগারে যাওয়ার পর থেকে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাননি। খালেদা জিয়ার নতুন করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে না—এটিই চিকিৎসকদের কাছে স্বস্তির বিষয়।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পাচ্ছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না মেডিক্যাল বোর্ড।

গতকাল মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্যের উন্নতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বলা যাবে না। বয়সজনিত কারণটা অনেক বড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বয়সে সব চিকিৎসা একসঙ্গে করতে গেলেও উচ্চঝুঁকি থেকে যায়।

ওই চিকিৎসক বলেন, ইতিবাচক বিষয় হলো, খালেদা জিয়ার নতুন করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে না।
উন্নত চিকিৎসায় তাঁকে শিগগিরই দেশের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই মেডিক্যাল বোর্ডের। এভারকেয়ার হাসপাতালে পৃথিবীর সেরা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশের হাসপাতালে চাইলে তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না এবং চাইলেই যথাসময়ে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায় না। এগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর দেশে ‘খালেদা জিয়া’ একজনই।
এটাই যথেষ্ট। দেশের শীর্ষ বিজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে মেডিক্যাল বোর্ডে যুক্ত আছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদল। তাদের সমন্বয়ে বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসার তদারকি করছে।

জানা যায়, খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডে সশরীরে অংশ নেন তাঁর পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি দিনের বেশির ভাগ সময় হাসপাতালে শাশুড়ির শয্যাপাশে কাটান। বাসায় থাকার সময়ও টেলিফোনে শাশুড়ির স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। চিকিৎসার বিষয়গুলোর তিনিই সমন্বয় করেন।

এদিকে কাতারের আমিরের সৌজন্যে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিলেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চলে আসবে। আর যখনই বিএনপি চাইবে তখন কাতার সরকার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করবে।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে ভর্তি করে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়।

এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) ঘোষণা করে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে এসএসএফ।

অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে এভারকেয়ার হাসপাতালের ১২ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারক করছিল। এরপর চীন ও যুক্তরাজ্য থেকে একাধিক মেডিক্যাল টিম এই বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক শেষে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল মেডিক্যাল বোর্ড। তবে শুক্রবার শারীরিক পরিস্থিতি দীর্ঘ যাত্রার উপযুক্ত না থাকায় আর বিদেশে নেওয়া হয়নি। এখন আপাতত দেশেই সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা।

পে স্কেল কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে স্কেল কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনের শঙ্কায় এমন তাগিদ দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটি।

কোর কমিটির সভায় পে স্কেল কার্যক্রম বিলম্ব হলে সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামতে পারেন বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা আলটিমেটাম দিয়েছেন। এ কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে কর্মচারীরা ভোটের আগে জানুয়ারিতে আন্দোলনে নামতে পারেন। এই শঙ্কায় পে স্কেল কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হতে পারে এমন শঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের জন্য পে কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ কমিশনের প্রধান করা হয়েছে সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে। এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট ঘোষণার আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। গত শুক্রবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

১৫ তারিখের মধ্যে যদি ঘোষণা না আসে তাহলে ১৭ তারিখে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানায় পরিষদ।

তফসিল ঘোষণার পর ‘অনুমোদনহীন আন্দোলন’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ ও আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।

প্রেস উইং জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, আন্দোলন পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়—বর্তমানে এটিই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেদিকেই মনোনিবেশ করছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে—এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জানি, অনেকেরই ন্যায্য দাবিদাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার ন্যায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি।
এ কারণে সবার যা কিছু দাবিদাওয়া আছে তা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবিদাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

নির্বাচনে উপদেষ্টাদের অংশগ্রহণ নিয়ে ইসির সতর্কবার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদে থেকে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, এমনকি ভোটের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ ভোটে অংশ নিতে পারেন বলে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। এমনকি তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে তাদের সরকার থেকে পদত্যাগেরও আভাস পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারের পদে থেকে নির্বাচনী প্রচার করা যাবে না। প্রচার করা না গেলে তো প্রার্থীও হতে পারবেন না। কাজেই সরকারের কোনো পদে থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।’

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার। এ জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সব গ্রহণ করে রেখেছে ইসি। আসন বিন্যাস, আইন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যারা থাকবেন তাদের প্রজ্ঞাপন, বিভিন্ন বিষয়ে ২০টির মতো পরিপত্র জারি হবে। সেখানে মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়োগ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল গঠন, আইন-শৃঙ্খলার সেল গঠন এগুলোর ফরমেটগুলো রেডি রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রাহমানেল মাছউদ বলেছেন, ‘তফসিল ঘোষণার পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইসির দায়িত্ব নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব আসবে তফসিল ঘোষণার পর। চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত কোনো দলের প্রতীক থাকবে না।’

গুমের মামলায় ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদেশ ১৪ ডিসেম্বর

গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১২ জন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বর আদেশ দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ মঙ্গলবার বাদি-বিবাদি, উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য ওই দিন ধার্য করেছে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ওই মামলায় শেখ হাসিনা এবং সাবেক-বর্তমান মিলিয়ে ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি বিষয়ে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতি চেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

মামলার ১৩ আসামির মধ্যে তিন সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল শেখ মো. সারওয়ার হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির কাছে ৩০০ বিচারক চাইলেন ‍সিইসি

আগামী ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে ৩০০ জন বিচারক চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান সিইসি।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি।
এ সপ্তাহের মধ্যে তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। উনি এ মাসে অবসরে যাবেন।
আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সে জন্য উনার সঙ্গে বিদায়ি সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’

এ সময় সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বিচার বিভাগের সহযোগিতা চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

সিইসি বলেন, ‘উনারা ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি (নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি) ডেপ্লয় করবেন। আমাদের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ কাজটা যেন উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে উনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

দেশের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন সিইসিরা। তবে আজ সিইসি একাই এসেছেন তার সচিবকে নিয়ে।

স্কুল লেভেলে কয়েকটি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে : তারেক রহমান

একজন শিশুকে ছোট বয়স থেকেই স্বতন্ত্রভাবে গড়ে তুলতে স্কুল লেভেল থেকেই কয়েকটি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে ‘বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন চালু করার। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে।
স্কুল লেভেলে কয়েকটি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে, বাচ্চারা নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে কোনটি শিখবে। ইংরেজির সঙ্গে আরো একটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে বিদেশে গেলে সে যেকোনো কাজে সক্ষম হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভোকেশনাল শিক্ষার কিছু বিষয়ও বাধ্যতামূলক করা হবে। এভাবে একজন শিশুকে ছোট বয়স থেকে স্বাধীন ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

অন্যায় করে শাস্তি না পেলে সুশাসন কিভাবে নিশ্চিত হবে : পরিকল্পনা সচিব

সরকারের আয়-ব্যয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা না থাকলে কোনো দেশই উন্নত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আমরা বেখেয়ালভাবে চলছি, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না। যদি অন্যায় করে শান্তি দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সুশাসন কিভাবে নিশ্চিত হবে? জবাবদিহি ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় পরিকল্পনা সচিব এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি হামিদ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আবু হেনা মুহিবের সঞ্চালনায় সভায় পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম রেজাউল মোস্তফা কামাল, ডিজেএজবির সহসভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুল সাদিক, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম আর মাসফিসহ ডিজেএফবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিকল্পনা সচিব বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের সময় যেভাবে সুন্দরভাবে উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, বাস্তবে তার অনেকটাই প্রতিফলিত হয় না। বরাদ্দ নেওয়ার জন্য আমরা প্রকল্পে অসাধারণ সব পরিকল্পনা লিখি, কিন্তু বাস্তবায়নে তার ধারেকাছেও থাকি না। এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।

দায়িত্বহীনতার পরিণতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জ্ঞান বা প্রজ্ঞার অভাবে কেউ ভুল করলে তা ক্ষমাযোগ্য হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত দায়িত্বহীনতার কারণে সমাজ বা মানুষের ক্ষতি হলে শাস্তি দেওয়া ছাড়া উন্নতির অন্য কোনো পথ নেই। যেদিন এই শাস্তির সংস্কৃতি শুরু হবে, সেদিনই বাংলাদেশে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে পরিকল্পনা সচিব বলেন, আপনারা যা দেখান, আমরা তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করি।
সব সময় সব কিছু করা সম্ভব না হলেও গণমাধ্যম আমাদের চোখ খুলে দেয়। আপনাদের জন্য আমাদেরও অনেক কিছু করার আছে।