শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

তফসিল ঘোষণা গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় : মির্জা ফখরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশ একটি কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। যে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এ দেশের জনগণ জীবন বাজি রেখে লড়াই-সংগ্রাম করেছে।’

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্রপ্রিয় সব দল অংশ নেবে। একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কখনোই কোনো শঙ্কা ছিল না। বিএনপি বরাবরই বলে এসেছে নির্বাচনই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ।
সেই পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় ঘোষিত তফসিলকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’

উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়

উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়

উপদেষ্টা পরিষদ থেকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের পর উপদেষ্টা পরিষদে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেছে সরকার। দুই উপদেষ্টার কাছে থাকা তিন মন্ত্রণালয় তিন উপদেষ্টাকে দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করে তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়।

সদ্য পদত্যাগ করা মাহফুজ আলমের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে।

এদিকে আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব ছিলেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপদেষ্টা আদিলুর রহমানকে।

আমরা এখনো সিরিয়াস না হলে দেশের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী কয়েক দিন পরে নির্বাচন হবে। আমি এক বছর আগে বলেছিলাম, এই নির্বাচনটি আমরা যত সহজ ভাবছি, একচুয়ালি (প্রকৃতপক্ষে) নির্বাচনটি তত সহজ নয়। সেদিন অনেকেই আমার কথাটি একটু হেসেখেলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকে কিন্তু আপনারা প্রত্যেকেই অনুধাবন করতে পারছেন আমার সেদিনকার কথার অর্থ।

তিনি বলেন, ‘মানুষের রায় আপনার দলের পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে আনতে হবে। নির্বাচনের দিন, ভোটের দিন, ভোটের মাধ্যমে রায় আনতে হবে। এখনো যদি আমরা সিরিয়াস না হই, সামনে এই দেশের অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।’

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া সাত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জন্য কী কী করতে চাই, সেটা আমরা যদি শুধু আমাদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি তাহলে তো আমরা সংকুচিত হয়ে যাব। আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘আবারও বলতেছি, এখনো যদি আমরা সিরিয়াস না হই, সামনে এই দেশের অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘গত স্বৈরাচারের ১৫ বছরের ষড়যন্ত্র সব আপনারা মোকাবেলা করেছেন, তাহলে এখন কেন সামনের যে নির্বাচনী যুদ্ধ মোকাবেলা করতে পারবেন না। কেন, আপনার দলের যে পরিকল্পনা সেটা জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবেন না।’

‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় বিএনপির নেতারা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

এক বছরে সবই হলে নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর সময় নেয় কেন—প্রশ্ন রিজওয়ানার

কিছু কিছু গণতান্ত্রিক চর্চা বিকাশের ক্ষেত্রে এখন যথেষ্ট সংস্কার দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সংস্কার প্রসঙ্গে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সবই যদি এক বছরে হয়ে যায়, তাহলে নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর সময় নেয় কেন?’

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

গণ-অভ্যুত্থানের সরকার হিসেবে কতটুকু সংস্কার কার্যকর করতে পেরেছেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবই যদি এক বছরে হয়ে যায়, তাহলে নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর সময় নেয় কেন? আমাদের সংস্কারের ম্যান্ডেট ছিল। আমি বলব, আইনি কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, কিছু কিছু গণতান্ত্রিক চর্চা বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা আজ যথেষ্ট সংস্কার দেখেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন সংস্কারের ফল কিভাবে পাবে, যে আইনগুলা হলো, সেগুলোর চর্চা কখন শুরু হবে? চর্চা কতটুকু জোরালো হবে? কতটুকু বাধাহীন সেই চর্চা চলতে পারবে? তার ওপর নির্ভর করবে, সংস্কার কতটুকু সফল হয়েছে। সংস্কারগুলো আইনিভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করে দিয়ে যাওয়া ছিল আমাদের ম্যান্ডেট। যতটুকু সংস্কার সম্ভব আমরা করে দিয়েছি। পরবর্তীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যে রাজনৈতিক সরকার আসবে, আমার মান্ডেট নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গণভোটের পরীক্ষায়ও পাস করতে হবে।
গণভোটের ফলের ওপরও সংস্কার অনেকটা নির্ভর করবে। তবে আমরা যেগুলো প্রাধিকার মনে করেছিলাম, সেগুলো আমরা করেছি।’

নির্বাচনী জনসভার ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে জানানোর নির্দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জনসভা করার জন্য প্রার্থীকে জনসভা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা নিয়ে ইসির জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কর্তৃক যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচির প্রস্তাব প্রদান করতে হবে। একই স্থানে ও একই সময়ে একাধিক দল বা প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উহার সমন্বয় করবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থানে চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের ওপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো যাবে না। উক্ত ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড এর কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না।

প্রজ্ঞাপনে প্রচারসামগ্রীর বিষয়ে বলা হয়, সংসদীয় আসনের প্রত্যেক ইউনিয়ন বা পৌরসভা বা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড প্রতি একটি অথবা সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় ২০টি, যাহা অধিক হয়, ইহার অতিরিক্ত বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো নির্বাচনী এলাকার একক কোনো জনসভায় একইসঙ্গে ৩টির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করিতে পারবেন না। তবে সাধারণ প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হবে না।

শিল্পের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ : সংস্কৃতি উপদেষ্টা

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, যেকোনো প্রতিযোগিতা শিল্পীদের জন্য ভ্রমণের মতো। শিল্পের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পীরা শিল্পকর্ম করে নিজের বেদনা বা ক্ষত গোছানোর জন্য।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘২৪তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পীর জন্য তার নিজের স্বাক্ষর তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘শিল্পী ভ্যান গগ তার জীবদ্দশায় কেমন জীবনযাপন করেছেন, আমাদের সবার জানা। ভ্যান গগের ছবি প্রথম অবস্থায় কোথাও বিক্রি হয়নি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিল্পী তার নিজের স্বাক্ষর তৈরি করা। আপনি ভ্যান গগের ছবি দেখলে বুঝতে পারবেন যে এটা ভ্যান গগের ছবি।
পৃথিবীর সব শ্রেণির শিল্পী যেমন পেইন্টার, রাইটার, ফিল্মমেকার, মিউজিশিয়ান প্রত্যেকেরই আরাধ্য থাকে নিজের স্বাক্ষর আঁকা।’

সভাপতির বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমিকে গণমানুষের কাছে ও তরুণদের কাছে নিয়ে যেতে চাই। যারা শিল্পী তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফর্মের ভেতর দিয়ে, রংয়ের মাধ্যমে ভাবনা প্রতিফলিত করেন। বাংলাদেশের ছবি আন্তর্জাতিক মানের।
এই ছবিকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত করা এবং শিল্পীদের তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া শিল্পকলা একাডেমির কাজ। আমরা শিল্পকলা একাডেমিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার ও অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক।

২৪তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ২, ৩, ৪, ৬ ও ৭ নম্বর গ্যালারিতে চলবে। এ বছর নবীন (২১ থেকে ৩৫ বছর) ৬৮১জন শিল্পীর এক হাজার ৩৯৩টি শিল্পকর্ম জমা পড়েছে।
জমাকৃত শিল্পকর্ম থেকে বাছাই কমিটি ১৯১ জন শিল্পীর ২১৫টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করেন। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, আলোকচিত্র, স্থাপনাশিল্প, পারফরমেন্স আর্ট, নিউ মিডিয়া আর্টসহ চারুশিল্পের প্রায় সকল মাধ্যমের শিল্পকর্মই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রদর্শনীতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে ১০টি শিল্পকর্মের জন্য শিল্পীদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের মূল্যমান সর্বোচ্চ ২ লাখ থেকে সর্বনিম্ন ৭৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী’ চারুকলাবিষয়ক একটি নিয়মিত জাতীয় আয়োজন। দেশের শিল্পকলা বিকাশে ১৯৭৫ সাল থেকে এটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বরেণ্য বহু শিল্পী এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাদের সৃজনশীল প্রতিভা প্রকাশ করেছেন এবং পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রথম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান।

১৭ ঘণ্টাতেও উদ্ধার হয়নি শিশুটি, চলছে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ

১৭ ঘণ্টাতেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি রাজশাহীর তানোরে গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু স্বাধীনকে। নলকূপের পাশে প্রায় ৩০ ফুট গর্ত খোঁড়ার কাজ শেষ। ২ বছরের শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর থেকে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু করছেন।

জানা গেছে, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপটিতে শিশুটি পড়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। প্রথম অবস্থায় একটি হলেও পরবর্তীতে আরও দুটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হয়। এমনভাবে রাতভর অভিযান পরিচালনা করে তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে সকাল হতে না হতে উদ্ধার অভিযানস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় জমিয়েছে। তাদের সরাতে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফা নলকূপের ৩০ ফুট গর্তে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্যামেরা নামিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটিকে তারা দেখতে পায়নি। তবে একই দিন দুপুরে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে পরদিন সকাল হলেও উদ্ধার করা যায়নি শিশুটিকে। তবে থেমে নেয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার কাজ চলছে। গর্ত কাটা শেষে সুড়ঙ্গ করা হচ্ছে।

এখনই মাঠে নেমে পড়ুন নইলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা এখনই মাঠে নেমে পড়ুন। মাঠে না নামলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য হলো দলটি কোনো মেগা প্রকল্পে যাবে না। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি।
রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার উন্নয়নের পেছনে খরচ করা হবে।’ গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এ কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তিনি। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে যুবদল এবং কৃষক দলের নেতারা অংশ নেন।

বিগত স্বৈরাচারের সময় মেগা প্রকল্প হলেও উদ্দেশ্য সফল হয়নি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তখন উন্নয়নের নামে বহু অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আইটি পার্কের নামে বহু অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোতে এখন বিয়েশাদির মতো সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছিল, সেটি সফল হয়নি।
’ তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নতির পেছনে খরচ করতে হবে। সেজন্যই বিএনপির নতুন আইটি পার্ক বানানোর পরিকল্পনা নেই। যেগুলো আছে, সেগুলো সংস্কার করে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করতে চান, তাদের সুযোগ করে দেবে।’

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থানসহ আটটি বিষয়ে কিভাবে কাজ করবে এ নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর জন্য ধারাবাহিক কর্মশালা বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বিএনপি।
এ অনুষ্ঠান শুক্রবার বাদে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন অংশ নেবে। এরপর বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের বাইরে অন্য কোনো একটি দিনে হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। এ কর্মশালার চতুর্থ দিনে যুবদল এবং কৃষক দলের নেতারা অংশ নেন।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দল হিসেবে বিএনপির কাছে মানুষ নির্দিষ্ট পরিকল্পনা চায়। ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে জানতে চায়। আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি। এমন পরিকল্পনা আর কোনো দল করেনি। এখন আর বসে থাকলে চলবে না। মানুষকে এসব পরিকল্পনার কথা জানাতে হবে। পরিকল্পনার যদি ৪০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দেশের মানুষের শুভ পরিবর্তন হবে।’

দেশ রক্ষার জন্য আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে জেতাতেই হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষকে জেতানোর মাধ্যমে জনগণের পক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষকে জেতানোর মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। নো কমপ্রোমাইজ।’

নেতা-কর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা এখনই মাঠে নেমে পড়ুন। মাঠে না নামলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন, প্রতিবার দেশকে রক্ষা করেছে বিএনপি। এখন আবার দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছে। মানুষের কাছে যান।’ মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারের সময় রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছিল। দল হিসেবে বিএনপি সবচেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগামীতেও ভিন্নমতাদর্শের মানুষ যাতে নিরাপদে মতামত জানাতে পারে, সেই ব্যবস্থা করবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী কথা বলবে। সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। আগামী দিনে বিএনপি চায় মতামত প্রকাশের জন্য আবরার ফাহাদের মতো যেন হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।’

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগরী উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

১৬ বছর কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল বাংলাদেশ : এদিকে গতকাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগ আমলের গুমখুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘১৬ বছর কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি আজ প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে। আমরা সমাধানের পথে বিশ্বাসী। আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না। তা সে সরকারের সমর্থক হোক বা বিরোধী।’ তারেক রহমান বলেন, ‘১৬টা বছর ধরে বাংলাদেশ একটা কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল। কেউ সেই অন্ধকারকে খুব তীব্রভাবে টের পেয়েছে, কেউ চুপচাপ বয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু যাদের রাজনৈতিক অবস্থান তখনকার পতিত সরকারের বিপরীতে ছিল, তাদের জন্য এই অন্ধকার ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।’

তিনি বলেন, ‘রাতের বেলা দরজায় কড়া নাড়া, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলা, আর অসংখ্য পরিবার অপেক্ষা করেছে সেই প্রিয়জনদের জন্য, যারা আর কোনো দিন ঘরে ফিরে আসেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই বোঝা বিএনপির চেয়ে বেশি আর কেউ বহন করেনি। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু, মিথ্যা মামলা সব জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপির ঘরেই। কিন্তু অত্যাচারের শিকার শুধু বিএনপি ছিল না; ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী, সাধারণ মানুষ-সবাই সেই ভয়ংকর পরিবেশের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছে, ন্যূনতম মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত মর্যাদা, নিরাপত্তা, মত প্রকাশের অধিকারের মতো মৌলিক সব বিষয় ছিল হুমকির মুখে।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘এই পুরো অন্ধকার সময়টায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের ধৈর্য ও প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় প্রতীক। মিথ্যা মামলা, কারাবাস, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা এসবই পুরো দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিফলন। তবু তিনি তাঁর গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে কখনো সরে যাননি। তাঁর বিশ্বাস একটাই-অধিকার সবার; ভয় দেখিয়ে দেশকে এগোনো যায় না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানবাধিকারই মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার মৌলিক শর্ত। আমরা আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সাগর-রুনি- আর অসংখ্য শহীদের গল্প মনে রাখি, যেন ভবিষ্যতে এমন নিপীড়ন আর দায়মুক্তি আর কখনো ফিরে না আসে।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘বিএনপি মারাত্মক ক্ষতি সহ্য করেছে, কিন্তু ভেঙে যায়নি। সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি, পুনর্মিলন আর আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরো দৃঢ় হয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন মূল্যবান; যেখানে মানবাধিকারই হবে আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটে বন্দি

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত হলো অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আমাদের অভিবাসী কর্মীরা বিদেশে গিয়ে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন। কষ্টার্জিত অর্থ পাঠান দেশে, তা দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।

বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৪৯ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত আছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা যায়।
তবে এ সংখ্যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। নানা কারণেই মানুষ প্রবাস জীবন বেছে নেন। যেসব নাগরিক কাজের জন্য বিদেশে যান এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর দেশে ফিরে আসেন, তাদের সাধারণত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কর্মরত অভিবাসীর সংখ্যা এক কোটির কিছু বেশি।
বিশ্বে জনশক্তি রপ্তানির দিক থেকে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। টানা তিন বছর ১০ লাখের বেশি করে কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে স্মরণীয় মাইলফলক অর্জন করেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত।

২০২৪ সালে মোট ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৫৬ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যা বার্ষিক হিসাবে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু বিপুল পরিমাণ কর্মী পাঠালেও এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে- সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
নতুন বাজার যেমন তৈরি হয়নি তেমনি পুরোনো বাজারও দুর্নীতির কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৯৭,৮৭৩ জন কর্মী বিদেশে যান। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬২,৪৪২ জনে। অর্থাৎ, চলমান বছরে জানুয়ারির তুলনায় কেবল ফেব্রুয়ারিতেই জনবল রপ্তানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
এ তিনটি দেশ হলো- মালয়েশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় এবং মালয়েশিয়া, ওমানের পাশাপাশি বাহরাইনের শ্রমবাজারও বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালে সাড়ে ৩ লাখের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ১ লাখেরও কম কর্মী দেশটিতে যেতে পেরেছেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ সীমাহীন দুর্নীতি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৩৩১ ব্যক্তির কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ৫২৫ কোটি ২২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ৬ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৬ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। আসামিরা হলেন- মেসার্স আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলসের মালিক রুহুল আমিন, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের মালিক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান, ইমপেরিয়াল রিসোর্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসাইন ও এমডি মো. বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, আরআরসি হিউম্যান রিসোর্স সার্ভিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান ও এমডি মো. আলমগীর কবীর এবং থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সাবেক এমডি আবদুল্লাহ শাহেদ, পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন ও পরিচালক শামসের আহমেদ।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৩৩১ ব্যক্তির কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়তি অর্থ আদায় করেছেন। এ সময় তারা বিএমইটি ও বায়রার নিবন্ধন শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির নামে ১ হাজার ১৫৯ কোটি ৮২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ১৩টি ওভারসিজ কোম্পানির মালিকসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৩টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনুসন্ধানে সিন্ডিকেটের প্রধান সদস্য রুহুল আমিন স্বপনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। স্বপন চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাতারাতি ৮ হাজার কোটি টাকা সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা দুর্নীতি চক্রের একটি অংশ মাত্র। দুর্নীতির মূল হোতারা এখনো সক্রিয় এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মালয়েশিয়া গত বছরের ৩১ মে পর্যন্ত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির (‘সিন্ডিকেট’ নামে অধিক পরিচিত) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। অনেক প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিশ্চিত করার পরও শেষ মুহূর্তে এজেন্সিগুলো ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে হাজার হাজার কর্মী আর মালয়েশিয়া যেতে পারেননি।

ওই সময় থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। তবে সরকার বিশেষ জি-টু-জি ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় পাঠাতে প্রত্যেক কর্মীর জন্য দেড় লাখ টাকা দিতে হয় ১০০ এজেন্সির নামে গড়ে ওঠা চক্রকে। এরপর একই চক্রের অধীন থাকা স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে বাণিজ্য চলছে। এতে একজন কর্মী ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় গেছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্টে চালু হওয়ার পর ওই দফায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু বিমান টিকিট না পাওয়া, রিক্রুটিং এজেন্টের গাফিলতিসহ নানা কারণে দেশটিতে যেতে ব্যর্থ হন প্রায় ১৮ হাজার কর্মী। বাংলাদেশের জন্য চতুর্থ বৃহৎ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্প্রতি আবারও চালু করার চেষ্টা করছে সরকার।

গত ১৪ মে মালয়েশিয়ায় দেশটির সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আবারও। যে প্রক্রিয়া এগোবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভার মাধ্যমে। কারণ মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কোন কোন খাতে কত সংখ্যক কর্মী নেবে সে সিদ্ধান্ত হবে ওই বৈঠকেই।

কিন্তু এখানেও ঘুরেফিরে আসছে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গ। যা নিয়ে বিভক্ত জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। কারও কারও অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের কয়েক গুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্য, এমন নানা কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বারবারই সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশের কর্মীরা।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বাংলাদেশের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ‘সিন্ডিকেট তৈরির সুযোগ রেখে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না’ বলেই মনে করেন অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ভিন্নমত ও নারীদের হেনস্তার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ভিন্নমতের প্রতি আক্রমণ, নারীদের সম্মানহানি এবং প্রযুক্তি বা এআইয়ের অপব্যবহার করে মানুষকে হেনস্তার প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামায়াত আমির লেখেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমতের প্রতি আক্রমণ, নারীদের সম্মানহানি এবং প্রযুক্তি বা এআই-এর অপব্যবহার করে মানুষকে হেনস্তা করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে কেউ যখন ধর্মীয় পরিচয় বহন করে এমন অশালীনতায় লিপ্ত হন, তা আমাদের মূল্যবোধের ওপর বড় আঘাত।
তিনি আরও লেখেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানেই শত্রুতা নয়। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে- ‘মুমিন কখনো কটূক্তিকারী বা অভিশাপকারী হতে পারে না।’ (তিরমিজি)

এদিকে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানবাধিকার একটি মূল্যবান আমানত, সামাজিক সুবিচারের রক্ষাকবচ। কখনো রাজনৈতিক স্বার্থ বা মতের কারণে অন্যের অধিকার হরণ করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, মানবাধিকার একটি মূল্যবান আমানত, সামাজিক সুবিচারের রক্ষাকবচ। কখনো রাজনৈতিক স্বার্থ বা মতের কারণে অন্যের অধিকার হরণ করা যায় না।