শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

সুদানে নিহত সেনাদের নেমপ্লেট পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন প্যারাট্রুপাররা

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি সেনার নেমপ্লেট পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন প্যারাট্রুপাররা। আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, ‘১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে প্যারাট্রুপিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। এই ৫৪ জনের শেষ ৬ জন পোশাকে নিজেদের নেমপ্লেটের পরিবর্তে সুদানের ইউএন ঘাঁটিতে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের নেমপ্লেট পরে প্যারাট্রুপিং করবেন।

এদিকে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। শহীদ বেদি, স্তম্ভ এবং হাঁটার পথ সাজানো হয়েছে রংতুলির আঁচড়ে। লেক সংস্কার করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন পানিতে লাল শাপলা স্থাপন করা হয়েছে। চত্বরজুড়ে লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ ও সাদা ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে।
সিসিটিভি ক্যামেরা ও এলইডি লাইট স্থাপনসহ সব আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ আনোয়ার খান আনু জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের ডিন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা ভোরে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় সাধারণ জনগণের প্রবেশ সীমিত থাকবে। এরপর সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত হবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, স্মৃতিসৌধে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সাভারের আমিনবাজার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে ট্রাফিকব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাক ও সাদা পোশাকে চার হাজারের বেশি ফোর্স দায়িত্বে থাকবে।

রোনালদো ছাড়া পর্তুগাল কল্পনাই করা যায় না : মার্টিনেজ

পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ আবারও কিংবদন্তি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তার মতে, মাঠে রোনালদোর উপস্থিতি শুধু গোলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা দলের খেলায় তিনি বিশাল প্রভাব ফেলেন।

৪০ বছর বয়সী রোনালদো বর্তমানে সৌদি প্রো লিগে খেললেও জাতীয় দলে তার গুরুত্ব কমেনি। ক্যারিয়ারে ৯৫০ গোল করা এই তারকা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তিনি নিজেই তার শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেক হয় রোনালদোর। এরপর টানা ২১ বছর ধরে তিনি দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার নেতৃত্বেই পর্তুগাল প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যের স্বাদ পায়।

ক্যানাল ১১-এর ‘টোটাল ফুটবল প্রোগ্রাম’-এ অতিথি হয়ে মার্টিনেজ বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো মাঠে থাকলে প্রতিপক্ষের অন্তত দুইজন খেলোয়াড় সবসময় ব্যস্ত থাকে।
সে যে জায়গা তৈরি করে দেয়, সেটাকে কাজে লাগানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বক্সের ভেতরে তার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য অমূল্য।’

রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনার প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘সবাই তার সম্পর্কে মতামত দেয়, কিন্তু অনেকেই খেলাটা ঠিকভাবে দেখে না। আমরা সব খেলোয়াড়কে সমানভাবে মূল্যায়ন করি।
এই মুহূর্তে ক্রিস্তিয়ানোর মানসিকতা ও পেশাদারিত্ব একেবারেই উদাহরণযোগ্য।’

নতুন ও পুরোনো প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর রোনালদোর প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন মার্টিনেজ। তার ভাষায়, ‘জাতীয় দলে রোনালদো যা ছড়িয়ে দেয়, অনুপ্রেরণা, দায়িত্ববোধ ও সম্মান তা একেবারেই অনন্য।’

উল্লেখ্য, রোনালদোর অভিষেকের আগে পর্তুগাল কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি। কিন্তু তার আগমনের পর দলটি একবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দু’বার উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে।
সর্বশেষ জুনে দ্বিতীয়বারের মতো নেশন্স লিগ জিতে ইতিহাস গড়ে পর্তুগাল।

সেনাদের ওপর হামলায় তীব্র নিন্দা জামায়াতের

সুদানের আবেই এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শাহাদাতবরণের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

গতকাল দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, আফ্রিকার সুদানের আবেই এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এই হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন সদস্য শাহাদাতবরণ করেছেন এবং আরও আটজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ১৩ ডিসেম্বর সুদানের স্থানীয় সময় বিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্য অপরাধ। এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং শহীদদের পরিবার ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

হাদির মতো ঘটনা আরো ঘটতে পারে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ যখন নতুন অধ্যায়ের দিকে একটা নতুন সূর্য দেখছে, বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বপ্ন দেখছে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবে।

ঠিক সেই সময় আবার নতুন করে বাংলাদেশের শত্রুরা হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। গত শুক্রবার যে ঘটনা ঘটেছে (ওসমান হাদির ওপর হামলা) আমরা তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং আমরা আশঙ্কা করছি যে এরকম আরও ঘটনা ঘটতে পারে। গতকাল সকালে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতা এবং ঢাকা মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যখন পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় অসাধ্য হয়ে উঠেছে, চতুর্দিক থেকে যখন মুক্তিবাহিনী ঢাকা ঘিরে ফেলেছে, সেই সময়ে পাক হানাদার বাহিনী এই বাংলাদেশের সব মেধাকে বিনষ্ট করে দেওয়ার জন্য এই দেশের বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে গিয়ে দোসরদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক, কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ অনেককেই হত্যা করেছে। এভাবেই আমরা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছি। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে মেধাহীন করে দেওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ডটা ঘটানো হয়। আজকে আমাদের এই দিনে বারবার আমরা সেই কথা মনে করি। একইভাবে আমরা সবাই জানি যে ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানদের গণহত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আমাদের নেত্রী যিনি অসুস্থ, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এবং আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসেছি, শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
আমরা এই শপথ নিয়েছি যে যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করব, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ভাব দেখাচ্ছে, তারাই নতুন বাংলাদেশ করতে পারবে : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। তিনি বলেন, যে শক্তি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, আজ সেই শক্তি ভোল পাল্টে এমন ভাব দেখাচ্ছে যে তারাই নতুন বাংলাদেশ করতে পারবে। বাংলাদেশের মানুষ এ কথা বিশ্বাস করতে পারে না। গতকাল রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে আমার দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে বলে আমি অন্তত মনে করি না। আমরা লড়াই করে, যুদ্ধ করে একটা স্বাধীন ভূখণ্ড এনেছি। যার ফলে আমরা এখানে বেঁচে আছি, টিকে আছি। এই ভূখণ্ড আজ স্বাধীনতার দিকে থাকবে, নাকি যারা স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করে দিতে চেয়েছিল, তাদের দিকে যাবে, আজকে এই প্রশ্নগুলো সামনে আসছে এই জন্য যে, সেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এই শক্তি আজকে আবার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সেই ধর্মের নামে।’ আসন্ন নির্বাচন দুটি শক্তির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে রয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও উদার গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি। অন্যদিকে রয়েছে সেই পশ্চাৎপদ শক্তি, যারা অতীতে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এখন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বিচারকদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে হবে

সেই লক্ষ্যে ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেন তিনি। সেদিনের অভিভাষণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে স্বতন্ত্র-স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন।

এরপর বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার, বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদায়ন-বদলি ও শৃঙ্খলায় আচরণবিধি প্রণয়ন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের পদক্ষেপ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন অনেকে।

বিদায়ি অভিভাষণে এসব বিষয় তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহেমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি থাকার পরও এদেশের জনগণ কোনোদিন পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। অর্জনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থেকেও বারবার ফিরে এসেছি। পৃথক সচিবালয়ের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রধান তার অভিভাষণে বিচারকদের উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা, অপশাসন ও রাষ্ট্রীয় কপট-কৌশলের অঘোষিত সহযোগী হয়েছে। দুঃশাসনের বলয়কে আবরণ দিয়েছেন অনেক বিচারক।
অন্যায়-অবিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন। রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিচারকদের এ নৈতিক বিচ্যুতি জনসাধারণকে শেষ পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার অন্যতম অনুঘটক।

প্রধান বিচারপতি বলেন, পৃথক সচিবালয় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে এদেশের আপামর জনসাধারণের সাংবিধানিক সব অধিকার সুরক্ষিত করার প্রধান নিয়ন্ত্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অসৎ ও অসাধু বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৬৭ বছরের পর আর বিচারক পদে থাকার সুযোগ নেই। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সে হিসাবে চলতি বছর ২৭ ডিসেম্বর তার ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। ওইদিন সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় ১৮ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতিকে বিদায়ি সংবর্ধনা দেবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

দেড় বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে বেকার সমস্যা সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যার কীভাবে সমাধান করা যায় সেই পরিকল্পনা আমরা চিন্তা করে রেখেছি। অনেক কঠিন পথ এটা। কিন্তু চেষ্টা করলে অসম্ভব নয়।
আমরা এগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। সরকারের দায়িত্ব পেলে প্রথম দেড় বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের সবার দায়িত্ব হচ্ছে প্রান্তিক জনগণের সামনে আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরা। কারণ এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন।
আর সে জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে। তাই সবার প্রতি আমার আহ্বান- আসুন আমরা এক্ষেত্রে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার লক্ষ্যে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি।

গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বিএনপি আয়োজিত ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, ডা. জাহিউর রহমান, ড. মাহদী আমিন প্রমুখ।

তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা যদি দুই থেকে আড়াই কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিতে পারি তাহলে এই পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট পেলে স্বাবলম্বী হবে। তেমনি পরিবারের সন্তানদের শিক্ষালাভের সুযোগ করে দিতে পারবে। পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষেত্রেও এই কার্ড সু্িবধা দেওয়া হবে। ফলে পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। আমাদের গৃহীত পরিকল্পনার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলেও ৮০ ভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নেতাদের নিয়েই নয়, প্রতিটি সেক্টরের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করেই এই পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, উপজেলা/থানা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ক্যানসার রোগীদের জন্য সহজ প্রক্রিয়ায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য আমাদের প্রিভেনশনে যেতে হবে। রোগের পরিমাণ তথা অসুস্থ মানুষের সংখ্যা যদি সচেতনতার মাধ্যমে কমিয়ে আনা যায়, রোগীর সংখ্যা যাতে কমে যায় সেই ব্যবস্থা আগেই গ্রহণ করতে হবে। রোগীর সংখ্যা যদি কমে যায় তাহলে বাকি কম সংখ্যক অসুস্থ রোগীর সেবাটা ভালোভাবেই প্রদান করা যাবে। এ ছাড়াও শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, বিজ্ঞানসহ সবকিছুতেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

দুপুরে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে ওসমান হাদিকে

মাথায় গুলিবিদ্ধ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে আজ সোমবার দুপুরে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং রবিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে রবিবার সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর ও ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি টেলিফোন কনফারেন্সে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেছিল।
রবিবার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। সোমবার দুপুরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে জানিয়ে প্রেস উইং বলেছে, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসমান হাদির চিকিৎসার সব খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, তার চিকিৎসাপ্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

আলাভেসকে হারিয়ে স্বস্তির জয় রিয়ালের

লা লিগায় আলাভেসের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ের পর দলের ভেতরের ঐক্য ও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধান কোচ জাভি আলোনসো। সাম্প্রতিক সময়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চললেও, এই জয় আলোনসোর ওপর চাপ অনেকটাই কমিয়েছে।

এস্তাদিও দে মেন্দিসোরোসায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামার মাত্র ৪৩ সেকেন্ডের মধ্যেই আলাভেসের হয়ে সমতা ফেরান কার্লোস ভিসেন্তে। এরপর ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস থেকে রোদ্রিগো গোল করলে আবারও এগিয়ে যায় রিয়াল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা।

এই জয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়ালের পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়ায় চার।

ম্যাচ শেষে আলোনসো বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। দল খুব ভালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ঐক্য আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এভাবেই আমরা দৃঢ়তা পাব এবং প্রয়োজনীয় উন্নতি করতে পারব। একটি ম্যাচ যথেষ্ট নয়, সামনে অনেক পথ বাকি।
ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’

এই ম্যাচে রিয়ালের হয়ে অভিষেক হয় ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ভালদের। নিষেধাজ্ঞার কারণে নিয়মিত ডিফেন্ডার ফ্রান গার্সিয়া ও আলভারো কারেরাস না থাকায় শুরুর একাদশে সুযোগ পান তিনি। ১৯ বছর ৫৫ দিন বয়সে তিনি এই শতাব্দীতে রিয়াল মাদ্রিদের তৃতীয় কনিষ্ঠ ডিফেন্ডার হিসেবে শুরুর একাদশে অভিষেকের রেকর্ড গড়েন।

আগামী বুধবার কোপা দেল রেতে তৃতীয় স্তরের দল তালাভেরার বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ।
এরপর তিন দিন পর লা লিগায় তাদের প্রতিপক্ষ সেভিয়া।

সদুত্তর দিতে পারেননি আনিস আলমগীর, আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন : ডিবি প্রধান

সাংবাদিক আনিস আলমগীর গোয়েন্দা পুলিশের কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এসব কথা জানান তিনি।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক আনিস আলমগীর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু বিষয়ে সদুত্তর দিতে না পাড়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

এর আগে রবিবার রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

ডিবি কার্যালয় থেকে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক আনিস আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান, ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম (ব্যায়ামাগার) থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয়। ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের প্রধান আমার সঙ্গে কথা বলবেন।

মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা : ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থের বাইরে যেতে চায় না। রাষ্ট্রের স্বার্থে এমন মতাদর্শ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মনোনয়ন বাণিজ্য গোপনে হয়, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঋণখেলাপিদের জন্য ব্যবস্থা নিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে আইনও রয়েছে।

তিনি বলেন, গত দেড় দশকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা ও আত্মবিশ্বাসে সবচেয়ে বড় অধঃপতন হয়েছে। সেটি ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ আসে যে, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন, তাহলে স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে যাচাইয়ের জন্য তা নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত করতে পারেন। বাংলাদেশে কখনো এর চর্চা শুরু হয়নি। এখন এই আইন সংশোধন হয়েছে। বলা হয়েছে যে, কোনো এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে এখন নির্বাচন কমিশনও চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে তা তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণ হলে তিনি তার সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন।