শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

৭১’ এর স্বপ্ন রাষ্ট্র পূরণ করতে পারেনি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, যখন থেকে আমরা স্বাধীন হলাম, তখন থেকেই আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার, প্রত্যাশা ছিল একটা বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার, অনেক বছর পরে এখন আবার মনে হচ্ছে ওই জিনিসগুলো আমরা অর্জন করতে পারিনি, পারিনি বলেই তো গণঅভ্যুত্থান হলো, পারিনি বলেই বিপ্লব হলো। আমরা আজকে এমন একটা সন্ধিক্ষণে আছি, যেখানে আমরা একটা শাসন ব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করবো।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা তো সত্য কথা ৫৪ বছর পরেও যখন একটা গণঅভ্যুত্থান হতে হয়, তার অর্থ হচ্ছে ৭১ এর যে স্বপ্নটা আমাদের ছিল, যে বিশ্বাসটা আমাদের ছিল, যে প্রত্যাশাটা আমাদের ছিল, রাষ্ট্র সেই প্রত্যাশাটা পূরণ করতে পারেনি। আমরা আশা করি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটা ভিত্তি স্থাপন হবে। যেই ভিত্তিটা গণতন্ত্রকে যেমন সুদৃঢ় করবে, তেমনি জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে। একটা বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নটা আমাদের এখনও রয়ে গেছে অধরা, সেটি আমরা পূর্ণতার দিকে যাত্রাটা শুরু করতে পারবো।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা একটা খুবই দুঃখজনক বিষয় যে আমাদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য অনেক সময় দেখা যায় আমরা যুক্তি দিয়ে তর্ক দিয়ে না করে হত্যাচেষ্টাটাকে একটা অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করি, এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত, এটার মধ্যে তো কোনো বীরত্ব নেই, আপনার যদি শক্তি থাকে, আপনি জনগণের মুখোমুখি হন, জনগণের মুখোমুখি কীভাবে হতে হয়, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তো সবার কাছে স্পষ্ট। সেটা না করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এই যে একটা সংস্কৃতি চলে এসেছে, এটা কোনোভাবেই নতুন বাংলাদেশে গ্রহণ করার কোনো সুযোগ দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের নির্বাচন আছে, আমরা খুবই আশা করছি, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে সুদৃঢ় একটা যাত্রা শুরু করবো এজন্য যেখানে কেবল মাত্র একটা নির্বাচনই হচ্ছে না একটা গণভোটও হচ্ছে। যেখানে সংস্কার প্রশ্নে বড় কতগুলো বিষয়ে জনগণ তাদের মতামত জানাতে পারবে। এখন তার ওপর নির্ভর করে গণতন্ত্রের যাত্রাটা এবার পরিবর্তিত আকারে শুরু হতেই পারে।

সরকার জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, একটা টেন্ডেন্সি দেখি খুব আপনারা ব্যর্থ কিনা আপনারা সফল কিনা, একটা এক দেড় বছরের সরকারের ব্যর্থ আর সফলতার গল্পটা একটু অন্যভাবে বিচার করতে হবে এইজন্য যে আমরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বটা নিয়েছিলাম, তখন একটা একেবারে ভেঙে পড়া অবস্থাকে আমরা কাজটা শুরু করেছি। সেই ভেঙে পড়া অবস্থাকে জোড়া লাগিয়ে রাষ্ট্রটাকে আবার একটা যাত্রার দিকে নিয়ে যাওয়াই ছিল আমাদের কাজ। আমরা সেই কাজটা করেছি। সেখানে আমি এই সরকারকে ব্যর্থ বা সফল কোনোটা বলারই সুযোগ দেখতে পাচ্ছি না। এ সরকার তখনই সফল হবে যখন দেখা যাবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সরকারের যাত্রা, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার করা এবং সংস্কার করা সেগুলো শেষ পর্যন্ত গিয়ে আমরা সফল হবো।

নিরাপত্তা দেওয়ার যতটা স্বাভাবিক প্রস্তুতি থাকে, সবটুকু স্বাভাবিক প্রস্তুতি আমাদের আছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের আঘাতটা নিয়ে, স্বাভাবিক প্রস্তুতির চেয়েও বেশি কিছু আমাদের নিতে হবে। কারণ প্রতিপক্ষ আরও বেশি সংগঠিত এবং সে পেছন দিক থেকে আঘাত করছে। এই যে পেছন দিক থেকে আঘাত, এটার বিপরীতে আমাদের আরও বেশি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণ করছি আমরা। আমরা নিরাপত্তা আরও জোরদার করছি।

নির্বাচনে আইন পরিস্থিতি কেমন হবে প্রশ্নে বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে সুষ্ঠু একটা নির্বাচন হবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে লোকে ভোট দিতে পারবে, শান্তিপূর্ণভাবে লোকে ভোট দিতে পারবে। এখন এটাকে ব্যাহত করার জন্য একটা শক্তি সমাজে কাজ করছে। সে শক্তিটাকে একইসঙ্গে আমাদের প্রতিহত করতে হচ্ছে, একইসঙ্গে আমাদের একটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশার জায়গা থেকে আমরা বলে দিতে পারি, আমরা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, স্বতঃস্ফূর্ত একটা নির্বাচনের দিকে তাকাচ্ছি, অবশ্যই এটার বিপরীতে দেখতে পাচ্ছি আরও বেশি প্রকট করে, প্রতিপক্ষ যে আঘাতগুলো হানছে, সেগুলো আসলে রক্তাক্ত একটা সংঘাতময়, সেটার জন্য আমাদের বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। কিন্তু একটা কথা জনগণের উদ্দেশ্যে বলা দরকার, আমাদের, জনগণকে ভীত করে ফেলার একটা প্রচেষ্টা চলছে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, জনগণকে আশ্বস্ত করা যাতে করে জনগণের মধ্যে ভয়ের সংক্রমণটা না হয়। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সাধ্যমতো সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবন এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ

বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাতায়াত করবেন ভিআইপিরা। এ কারণে বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহন চালকদের বঙ্গভবন এলাকা পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, বিদেশি কূটনীতিক, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এ উপলক্ষে আগত অতিথিদের যানবাহন সুষ্ঠুভাবে চলাচল নিশ্চিত করতে ১৬ ডিসেম্বর দুপুর ২টা থেকে বঙ্গভবনের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিম্নোক্ত যান চলাচল নির্দেশনা অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি-

যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও বিকল্প নির্দেশনা:

১. আহাদ বক্স (গুলিস্তান) থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
২. মতিঝিল অ্যালিকো গ্যাপ থেকে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা ও রাজউক ক্রসিং পর্যন্ত সব ধরনের গাড়ি প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
৩. মতিঝিল পার্ক রোডের উত্তর দিক থেকে ইত্তেফাক মোড় অভিমুখী কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
৪. শাপলা চত্বর ও দৈনিক বাংলা থেকে রাজউক-গুলিস্তানগামী সব বাস দৈনিক বাংলা, ইউবিএল, প্রেস ক্লাব হয়ে চলাচল করবে অথবা বিকল্প সুবিধাজনক সড়ক ব্যবহার করবে।
৫. দৈনিক বাংলা থেকে রাজউক অভিমুখে কোনো বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল করবে না।
৬. জিরো পয়েন্ট থেকে রাজউক অভিমুখে স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া অন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

ডিএমপি জানিয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও যানজট এড়াতে জনসাধারণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

হাদিকে গুলির ঘটনা নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই। তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনাটি নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ। যারা স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে ভয় দেখাতে চায়, তারা ব্যর্থ হবেই। ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলন প্রমাণ করেছে জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিজয় অনিবার্য।
নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।’ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মিছিলে তিনি নিজেও থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, যুবদলের নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজিব আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণ সাক্ষী, কারণে-অকারণে শর্তের পর শর্ত জুড়ে দিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বারবার নানা রকম বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সব রকম বাধা উপেক্ষা করে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পর নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখটি ঘোষণা করেছে।’

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। গণতন্ত্রের পক্ষের সাহসী সন্তান ওসমান হাদিকে গুলির যে ঘটনা, এটা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।
কী ছিল ওসমান হাদির অপরাধ? একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার মনে যে প্রশ্নগুলো দেখা দিয়েছে, এই কয়েকটি প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই আমার মনে হয় এই ঘাতকদের চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যে প্রশ্নগুলো দেখা দিয়েছে, এক. বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বা সরকারকে যদি ব্যর্থ করা যায় তাহলে কারা খুশি হবে? দুই. নির্বাচন ছাড়াই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বহাল রাখা গেলে কারা লাভবান হবে? তিন. দেশে জনগণের ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কাদের লাভ? আমি বিশ্বাস করি, এসব প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই হাদির ঘাতকেরা লুকিয়ে রয়েছে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রুরা ঘাপটি মেরে রয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তরে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘পতিত ও পলাতক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের হীন ও দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে। স্বাধীনতার ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার অপচেষ্টা অতীতেও হয়েছে, এখনো পরাজিত একটি চক্র বিজয়ের নতুন ইতিহাস রচনার চেষ্টা করছে।
এর বিপরীতে প্রতিশোধ নয়, বরং প্রতিটি মানুষের ঘরে বিজয়ের সুফল পৌঁছে দিয়ে একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হোক এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনে করে, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র টেকসই হবে না। দেশের ইতিহাসে যতবার গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। তাই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। এ কারণেই দলটি সব সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়। এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আগামী দশকের রূপান্তরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নারী, তরুণ, কৃষক-শ্রমিকসহ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির লক্ষ্য।’

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন আমাদের মহান বিজয় দিবস। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে কখনোই এই দিবসের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য মলিন হবে না। তবে একটি বিষয় আমাদের সবার স্মরণে রাখা দরকার, সতর্ক থাকা দরকার। সেটি হলো, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশিবিদেশি অপশক্তি তখনো যেমন সক্রিয় ছিল এখনো সক্রিয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ-চেহারা হয়তো পাল্টেছে, চরিত্র কিন্তু পাল্টায়নি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ হঠাৎ করেই সাগরের বুকে ভেসে ওঠা কোনো ভূখণ্ড নয়। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ আর অসংখ্য মা-বোনের সম্মান সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডটির স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেই গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে অসংখ্য গল্প, বই, কবিতা রচিত হয়েছে। অনেকেই হয়তো জানেন, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধ রয়েছে। এই নিবন্ধটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনন্য দলিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত এই রাষ্ট্রে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে না তত দিন পর্যন্ত স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে না।’

তিনি বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল ‘এক্সপেরিমেন্ট আর এক্সপেরিয়েন্স’ অর্জনের নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ, কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিক, কর্মক্ষম এই জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে, বাংলাদেশের বিজয়কে সুসংহত করাই বিএনপির লক্ষ্য। একটি স্বনির্ভর-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমার-আমাদের আগামীর প্রতিটি বিজয় দিবসকে আরো গৌরবান্বিত এবং আরো অর্থবহ করে তুলতে চাই।”

মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে তিনি দলমত-ধর্মবর্ণনির্বিশেষে কৃষিজীবী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আলেম ওলামা-পীর মাশায়েখ তথা বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ/প্রতিটি নাগরিককে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বিজয়’ বার্তাকে শুধু উদ্দীপ্ত স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজয়ের সুফল প্রতিটি নাগরিকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আবারও জনগণের সহযোগিতা সমর্থন এবং সুযোগ প্রত্যাশা করছে।

সবশেষে তিনি আল্লাহর দরবারে একাত্তরে স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধে শহীদ এবং চব্বিশে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে শহীদ এবং একাত্তর থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আল্লাহর দরবারে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে হতাহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

একাত্তরের অপশক্তির এজেন্টরা স্বাধীনতা বিপন্নের চক্রান্ত-জাল বুনে চলেছে : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের নীলনকশা এখনো চলমান। তিনি বলেন, আগ্রাসি শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অবজ্ঞা করার ঔদ্ধত্য দেখায়। ওই অপশক্তির এ দেশীয় এজেন্টরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করার চক্রান্তজাল বুনে চলেছে।

দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। এই দিনে স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছেন সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের জানান গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাঁদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানান।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতাযুদ্ধ ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়, পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে এ বিজয় ছিনিয়ে আনেন। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে আসে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে অদৃশ্য ও হত্যা করে এবং মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে। পরিস্থিতি ভয়ংকর নৈরাজ্যময় হয়ে ওঠে। তিনি আরো বলেন, যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সেই অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছিল। অমানবিক নিপীড়ক শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য একের পর এক গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে থাকে।

লন্ডনে আজ তারেক রহমানের জনসভা : যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা সামনে রেখে আজ লন্ডনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সম্ভবত এটি হতে যাচ্ছে তাঁর দেশে ফেরার আগে লন্ডনে সর্বশেষ জনসভা।

জানা গেছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে অনুষ্ঠিত হবে এই জনসভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ। এম এ মালিক তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উল্লেখ্য ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যেই আছেন তিনি।

৩৩৬ জনের গেজেট বাতিলে সুপারিশ

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৩৬ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। তাঁদের অনেকেরই গেজেট বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। বেসামরিক, ভারতীয়, লাল মুক্তিবার্তা, আনসার বাহিনী, সেনাবাহিনী, শহীদ পুলিশ বাহিনীসহ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন গেজেট ও তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় গেজেটভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে ৮৪ জনকে।
একই সঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে গেজেটভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে ২৮ জনকে।

যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় রয়েছে, তাঁরা যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় পড়বেন না—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয় ২০২০ সালে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) শুনানি ও যাচাই-বাছাইয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের সভাপতিত্বে জামুকার প্রথম সভা হয়।
সেটি ছিল জামুকার ৯১তম সভা। এরপর এ পর্যন্ত আরো ১০টি সভা হয়েছে।

৩৩৬ জনের গেজেট বাতিলে সুপারিশজামুকার ১১টি সভায় পুলিশ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য ৪৭ জনকে, শহীদ পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ছয়জনকে ও সেনাবাহিনী গেজেটভুক্তির জন্য একজনের নামে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাহিনী থেকে বেসামরিক, বেসামরিক থেকে পুলিশ, আনসার থেকে শহীদ আনসার এবং বেসামরিক থেকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে গেজেট পরিবর্তনের জন্য ১৬ জনের নাম সুপারিশ করা হয়।

জামুকা জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম এবং বাতিল ও অন্তর্ভুক্তির সুপারিশগুলো বিভিন্ন সময় আসা অভিযোগ, মামলার রায়, সংশোধন ও আপিল শুনানির ভিত্তিতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূলত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা যাচাই-বাছাই করছি। এ ছাড়া রিট মামলা হয়ে যেগুলো আসছে, সেগুলোরও শুনানি করছি। অভিযোগের ভিত্তিতে যাদের যাচাই করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দেখা গেছে ৯০ শতাংশই অমুক্তিযোদ্ধা বের হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে তালিকাটা প্রায় নির্ভুল হয়ে যাবে বলে আশা করি।

২৪৬ জনের সনদ বাতিলের সুপারিশ, বাদ যাচ্ছে লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকেও : চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর জামুকার ১০০তম সভা হয়। শুধু এ সভায়ই ১৭৫ জনের গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আরেকটি সভা হয়। ১০১তম সভায়ও দেশের বিভিন্ন জেলার অন্তত ৭১ জনের বেসামরিক, ভারতীয়, লাল মুক্তিবার্তা, আনসার বাহিনী, সেনাবাহিনী, শহীদ পুলিশ বাহিনী গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত এই দুই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ পড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন তাঁদের নিয়ে তৈরি।

এত দিন মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকাকে নির্ভরযোগ্য মনে করা হলেও এখন কেন সেখান থেকে নাম বাদ যাচ্ছে—জানতে চাইলে ফারুক-ই-আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতীয় তালিকা একটা নয়, কয়েকটা আছে। যখন তারা দেখল, প্রথম ভারতীয় তালিকা অথেনটিক (আসল) এবং এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না, তখন আরো কয়েকটা ভুয়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় প্রথম তালিকায় ৫২ হাজারের কিছু বেশি মুক্তিযোদ্ধা আছে। এটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু এর পরেরগুলো বিতর্কিত।’

ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘কোনো মুক্তিযোদ্ধা যদি অভিযুক্ত হয় এবং এই দুই তালিকায় তার নাম থাকে, তাহলেও জামুকা তার অধিকার ও ক্ষমতা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করতে পারে।’

জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতীয় তালিকা পাঁচ রকম আছে। প্রথম তালিকাটাই পুরোপুরি সঠিক। বাকিগুলো ১০০ ভাগ সঠিক নয়।

তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের গেজেট বিশ্লেষণ করেও অন্তত পাঁচ রকমের ভারতীয় তালিকা পাওয়া গেছে। এগুলো হলো ভারতীয় তালিকা, ভারতীয় তালিকা (সেনা, নৌ ও বিমান), ভারতীয় তালিকা (সেক্টর), ভারতীয় তালিকা মেঘনা এবং ভারতীয় তালিকা পদ্মা। জামুকার সাম্প্রতিক শুনানি ও যাচাই-বাছাইয়ে এসব তালিকা থেকেই কেউ না কেউ বাদ পড়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে ২৮ জনের গেজেটভুক্তির সুপারিশ : চলতি বছরের জুনে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিবর্তিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, যাঁরা রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন, তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার), হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী কর্তৃক নির্যাতিত সব নারী (বীরাঙ্গনা) এবং মুক্তিযুদ্ধকালে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া ফিল্ড হাসপাতালের সব ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা-সহকারীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আগের আইনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান অধ্যাদেশ মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমএনএ (জাতীয় পরিষদের সদস্য) ও এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য), যাঁরা পরে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন; যাঁরা বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন ও বিশ্বজনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন; মুজিবনগর সরকারের অধীন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা দূত এবং মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহকারী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী, দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক এবং স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকে একটি বৈচিত্র্যময় ও বহুমাত্রিক যুদ্ধ উল্লেখ করে ফারুক-ই-আজম বলেন, “এখানে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকা রেখেছে। তাদের ভূমিকাকে গ্লোরিফাই (মহিমান্বিত) করতে এটা (মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা) বদলানো হয়েছে; কাউকে অবদমিত বা বড় করতে নয়। এটা করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধের একটা নিটোল ইতিহাস আসবে। যেমন ‘চরমপত্র’ যুদ্ধের একটা বিরাট ফ্রন্ট। এগুলো যাঁরা করেছেন তাঁদের ভূমিকা কি কম উজ্জ্বল? এখন আমি সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা বললে চরমপত্রও এখানে ঢুকে গেল। যারা এই সবকিছুকে এক কেন্দ্রে নিয়ে এসে এই বৈচিত্র্য নষ্ট করেছে, তারা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করছে।”

আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ থাকলেও নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’দের আলাদা করে গেজেট করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের এমনিতেই একটা তালিকা আছে। যেমন—স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সদস্যরা। এখন শুধু তাঁদের গেজেট সংশোধন (মুক্তিযোদ্ধা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী) করে দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে সর্বশেষ হালনাগাদকৃত হিসাব অনুযায়ী জামুকা জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই, শুনানি ও আপিল নিষ্পত্তিতে এখন পর্যন্ত ২৮ জন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁদের গেজেটভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে জামুকা। এর মধ্যে জামুকার ৯৮ ও ৯৯তম সভায় তিনজন করে ছয়জনকে এবং ১০০তম সভায় ৯ জনকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে গেজেটভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক আফসান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা নিয়ে এত চর্চা না করে আমাদের বরং একাত্তরের তথ্যভিত্তিক ইতিহাস নিয়ে চর্চা করা উচিত।’

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবসে বীর শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান তিনি।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধান উপদেষ্টা।

এসময় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকসদল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়, বিউগলে বাজে করুণ সুর।

শ্রদ্ধা জানানোর পর, ড. ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সেনা কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মঙ্গলবার ঢাকা পুরাতন বিমান বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ০৬টি গান দ্বারা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবসের ৫৪ বছর উদযাপনে বীর শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান তিনি।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়।

শ্রদ্ধা জানানোর পর, রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সেনা কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।

এদিন মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মঙ্গলবার ঢাকা পুরাতন বিমান বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ০৬টি গান দ্বারা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

জামায়াত কখনো ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেনি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে অনেকে আপস করলেও জামায়াত করেনি এবং ভবিষ্যতেও কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে না। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা এ টি এম মাসুম। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সারা দেশের মানুষ যেখানে সমব্যথী সেখানে সিইসির বক্তব্যে আমরা ক্ষুব্ধ।
তাকে নিজের জায়গা এবং বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন বিপ্লবী আহত হবে, তারপর সরকার নড়েচড়ে বসবে না এমন সরকার আমরা চাই না।’ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি সরকার, তাহলে সরকারের কাজটা কী? এমন প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির। এ ঘটনার জন্য ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘৫৪ বছর জাতির ভাগ্য চোরাবালিতে হারিয়ে গিয়েছিল। অভ্যুত্থানের ঐক্যকে আঁকড়ে ধরে এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সব দলকে সরকারে নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তোলা হবে।’

জামায়াতকে নিয়ে কোনো খবর প্রচারে খণ্ডিত বা বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে অপপ্রচার না করার অনুরোধ জানান জামায়াত আমির।
ন্যায়সংগত ও সত্য সমালোচনা তারা গ্রহণ করবেন, তবে দেশের ক্ষতি হয় এমন সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে: ড. সালেহউদ্দিন

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে একটি অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সময়মতো ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করেছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি এবং উপদেষ্টা পরিষদের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির দুইটি পৃথক বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতিমূলক কাজ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে। ভোটার তালিকা সময়মতো প্রস্তুত ও হালনাগাদ করা হয়েছে এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন মূল বিষয় হলো সঠিকভাবে তা বাস্তবায়ন করা।’

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সময়মতো ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংশোধন করেছে এবং নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে, যা এখন সে অনুযায়ী বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচন বাস্তবায়ন করা হবে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল, সেখানে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আর কম সংবেদনশীল এলাকায় কী ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা কমিশনের জানা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক মতভেদ তিনি দেখছেন না এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে তিনি ‘অনুকূল’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তফসিল নিয়ে কেউ আপত্তি তোলেনি। বরং সবাই সর্বসম্মতভাবে বলেছে যে তফসিলটি উপযুক্ত। এটিই প্রমাণ করে যে সময়সূচি নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, সার্বিক অবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে এবং নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে : ড. সালেহউদ্দিন

সরকারের ঋণ সম্পর্কে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রশাসন মূলত পূর্ববর্তী সরকার থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঋণ নিয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন যে এই প্রকল্পগুলোর অনেকগুলো ইতিমধ্যেই ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যদিও সেগুলো পরিত্যাগ করলে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হবে।

ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, যদি আমরা এই প্রকল্পগুলোকে মাঝপথেই বন্ধ করে দেই, তাহলে এটি অর্থনীতিবিদদের মতে ‘ডেডওয়েট লস’-এর সমান হবে, যার অর্থ ইতোমধ্যে ব্যয় করা অর্থ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাবে। এটি বিবেচনা করে, আমরা বেশ কয়েকটি চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘সরকার খুব কম নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে, যা আর্থিক শৃঙ্খলার প্রতি তার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে।’

নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যয় সম্পর্কে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর, নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তহবিলের জন্য বিস্তারিত দাবি জমা দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, তাদের অনুরোধ আমাদের কাছে এলে, আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনী সরবরাহ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে এবং সরকার তার আর্থিক প্রয়োজনীয়তার ওপর কোনও ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জানে তাদের কী প্রয়োজন।’

উপদেষ্টা বলেন, ভোটের দিন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য রসদ, জনবল ও অন্যান্য সহায়তার ব্যাপারে যখন তারা তাদের দাবি জানাবে, আমরা তখন তা যাচাই করে দেখব এবং সময়মতো বরাদ্দ নিশ্চিত করব।

সাম্প্রতিক উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই ইসি’র প্রয়োজনীয়তার প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সাম্প্রতিক বিষয়গুলোতে আমরা যেমন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি, তেমনি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমরা একই কাজ করতে প্রস্তুত।’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত প্রশংসিত।

আজ এক শোক বার্তায় তিনি সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

সাখাওয়াত হোসেন একই সঙ্গে নৃশংস এ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সবসময় সাহস, পেশাদারিত্ব ও আত্মনিবেদনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। সুদানে কর্তব্যরত অবস্থায় ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর শহীদ হওয়া আমাদের জন্য গভীর বেদনার।

তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় এই বীর সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় সংঘটিত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও নৃশংস হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন শান্তিরক্ষী শহীদ এবং আরও ৮ জন শান্তিরক্ষী মারাত্মকভাবে আহত হন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন শহীদ শান্তিরক্ষীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আহত ৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

তিনি সুদানে চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহবান জানিয়েছেন।

হাসিনা-কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে তা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আজ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে দু’টি সাজা দেওয়া হয়। একটি আমৃত্যু কারাদণ্ড, আরেকটি মৃত্যুদণ্ড। আজ আমরা আমৃত্যু কারাদণ্ড বাড়িয়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছি। আপিলে আমরা মোট আটটি যুক্তি (গ্রাউন্ড) দিয়েছি।’

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডের সঙ্গে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি শহীদদের পরিবার এবং আহতদেরও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। এছাড়া প্রসিকিউটর বি.এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। এর মধ্যে রয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পরিবার, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবং দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

মামলার অভিযোগ গঠন করা হয় ২০২৫ সালের ১০ জুলাই। একপর্যায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হন।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারি প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশের মাধ্যমে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। বর্তমানে দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগের বিচার চলছে।