বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র গ্রেপ্তার, না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা সন্ত্রাসী তাদের দেখামাত্র গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শরিফ ওসমান হাদির সমর্থকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সেখানে হাদির একজন সমর্থক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে তাদের বিষয়ে তথ্য দিলেও পুলিশ তাদের ধরে না।
পুলিশ বলে তাদের নামে মামলা নেই।’

তখন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, তা বিবেচ্য নয়, তাদের দেখামাত্রই গ্রেপ্তার করা হবে।’

এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ধরা না হয়, তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুদানে ড্রোন হামলা, নিহত শতাধিক

সুদানের কর্ডোফান অঞ্চলে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০৪ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই তৃতীয় বছরেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। খবর আলজাজিরার।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের পর বাবনুসায় আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একটি গুরুত্বপূর্ণ সেনা ঘাঁটি দখলের পর কেন্দ্রীয় অঞ্চলে হামলার ঘটনা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ কর্দোফানের কালোগিতে একটি কিন্ডারগার্টেন এবং একটি হাসপাতালে সবচেয়ে মারাত্মক হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ৪৩ জন শিশু এবং আট নারীসহ ৮৯ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, তিনি ‌‘শত্রুতার তীব্রতা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন’ এবং সতর্ক করে বলেছেন, হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।
এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলিতে জাতিসংঘ মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস ওই হামলাকে ‘ভয়াবহ ড্রোন হামলা’ বলে অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে’।

ওই হামলার একদিন পর ডিলিং মিলিটারি হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ওই হামলায় নয়জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছে।
‘হাসপাতালগুলোকে পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তু করা’ হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার-সমর্থিত সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ) এই হামলার জন্য আরএসএফ-কে দায়ী করেছে। যদিও আধাসামরিক গোষ্ঠীটি এসব অভিযোগে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

প্রধান উপদেষ্টা অভিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন আজ

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস এবং জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

স্বাধীনতাবিরোধীরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়।’ গতকাল মহান বিজয় দিবসের সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধানিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তারা আজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, ১৬ ডিসেম্বর সেই যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এ জন্য এদিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ তারা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ অন্যরা জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা এখানে শপথ নিয়েছেন যে, এ দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য তাদের যে সংগ্রাম, সেটি অব্যাহত থাকবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন দলের মহাসচিব। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।
শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতি। তারা এদিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন, এ দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের অতন্দ্রপ্রহরী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য। ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসবেন। তার দেশে আসা যেন গণতন্ত্রের লড়াইকে আরও বেগবান করে, সে জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ চলবে নতুন ব্যবস্থার রাজনীতিতে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘পুরনো রাজনীতি ছুড়ে ফেলে নতুন ব্যবস্থার রাজনীতিতে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। সেই রাজনীতি হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, খুন, ধর্ষণ, মামলাবাজ, দুর্নীতি-অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে।’ গতকাল মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ আয়োজিত ‘যুব ম্যারাথন’ কর্মসূচির উদ্বোধনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ম্যারাথন চলবেই।
যত বাধা, ভয়ভীতি আসুক আমরা থেমে যাব না। আমরা জাতির স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে কোনো ধরনের কারিগরি ষড়যন্ত্র জনগণ হতে দেবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো আনুকূল্য চাই না।
কমিশন যদি কারো প্রতি আনুকূল্য দেখায় তবে সেটি বরদাশত করা হবে না।’ কালো টাকায় কেউ মানুষকে কেনার চেষ্টা করলে জনগণ তাদের মুখে ছাই মেরে দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত জাতিকে কেউ কালো টাকায় কিনতে পারবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর অবিচার করার কারণে বৈষম্যের সৃষ্টি হওয়ায় মানুষ ফুঁসে উঠেছিল।
যারা সত্তরের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিল তারা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বৈষম্যহীন শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর তারা ক্ষমতায় বসে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। তারা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় যুব ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক প্রমুখ। যুব ম্যারাথনে অর্ধ লাখ তরুণ যুবক অংশ নেয়।
ম্যারাথনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু করে শাহবাগ-সাইন্সল্যাব হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

ইনশাআল্লাহ, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই অনুষ্ঠানটি দুটো বিষয়ের জন্য আয়োজিত। ১৬ ডিসেম্বর আজ আমাদের মহান বিজয় দিবস এবং একই সঙ্গে আপনাদের সঙ্গে বহুদিন ছিলাম। ১৭-১৮ বছর আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আগামী ২৫ ডিসেম্বর আমি দেশে চলে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।
সেজন্যই আপনাদের সঙ্গে খুব শান্তিতে, শান্তিভাবে, শান্তভাবে দুটো কথা বলতে চাই।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে লন্ডনে আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ।

স্বাধীনতার শত্রুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে স্বাধীনতার শত্রুরা যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তারা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ, স্বাধীনতাকামী মানুষ, গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাআল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই যুদ্ধে আমরা এই মাসের ১৬ তারিখে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। এজন্যই এই দিনটি আমাদের কাছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আজকে আমাদের দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির স্থায়ী সদস্যরাসহ আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও জিয়ারত করতে এসেছি।

তিনি বলেন, আজকে এই মাজারে আমরা শপথ নিয়েছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখবার জন্য আমাদের যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রাম সবসময় অব্যাহত থাকবে। আমরা শপথ নিয়েছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য আমরা যে সংগ্রাম করেছি লড়াই করেছি, করছি এগুলো আমরা অব্যাহত রাখবো।

মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এ দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অত্যন্ত প্রহরী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য যিনি নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন, সেই মহান নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি অসুস্থ অবস্থায় আছেন। আমরা তার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া চাইছি।

একইসঙ্গে আমাদের নেতা তারেক রহমান যিনি নির্বাসিত বিদেশে অবস্থান করছেন, আমরা আশা করছি তিনি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসবেন। তার দেশে আসা যেন গণতন্ত্রের লড়াইকে-সংগ্রামকে আরও বেগবান করে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বাংলাদেশের বিশ্ব রেকর্ড

স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদযাপনে একসঙ্গে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর সংলগ্ন প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এটি বিশ্বের বুকে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করার রেকর্ড।

প্যারাট্রুপার প্রদর্শনীতে অংশ নেন ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার।
এই ঐতিহাসিক আয়োজন প্রত্যক্ষ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে ফ্লাইপাস্ট মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিভিন্ন বিমান ও হেলিকপ্টার আকাশে মহড়া প্রদর্শন করে।

অন্যদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ‘এয়ার শো’ দেখতে ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে।
সকাল ১১টার দিকে দেখা যায়, আগারগাঁও-সংলগ্ন পুরোনো বিমানবন্দরের ফটকে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। নিরাপত্তাতল্লাশি করে সবাইকে প্রবেশ করানো হচ্ছে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে, নির্বাচনী মিছিলে আপনাদের সঙ্গে থাকব

নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বারবার ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে প্রমাণিত হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রমাণিত হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে প্রমাণিত হয়েছে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনতার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামেগঞ্জে, নগরে-বন্দরে, বাজার-মহল্লায়, অলিগলিতে-রাজপথে জনগণের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই নির্বাচনী মিছিলে আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকব ইনশাআল্লাহ।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধটি আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দলিল বলে জানান তারেক রহমান।

সবাইকে একটি বিষয় স্মরণ করে দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ-চেহারা হয়তো পাল্টেছে, চরিত্র কিন্তু পাল্টায়নি। একটি বিষয় আমাদের সবার স্মরণে রাখা দরকার, সতর্ক থাকা দরকার।
সেটি হলো, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি তখনো যেমন সক্রিয় ছিল, এখনো সক্রিয়।’

ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে বলে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পতিত পলাতক একটি চক্র স্রেফ নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার অপরিণামদর্শী অপচেষ্টার কারণেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত একটি চক্র বিজয়ের নতুন ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা করছে।

স্বনির্ভর সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরাজিত চক্রকে মোকাবেলায় প্রতিশোধ প্রতিহিংসার পরিবর্তে বিজয়ের সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বনির্ভর-সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হোক এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।
আমি মনে করি, বিএনপি মনে করে, যত দিন পর্যন্ত এই রাষ্ট্রে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে না।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আজ পর্যন্ত যতবার দেশে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে আমরা দেখেছি ততবারই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কিংবা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে এর সত্যতা প্রমাণিত। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাষ্ট্রযন্ত্র কখনো ক্ষমতাশীল হয়ে উঠতে পারে না।’ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সব সময় রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই যেকোনো মূল্যে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
দেশের জনগণ সাক্ষী, অকারণ শর্তের পর শর্তজুড়ে দিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী একাধিক চক্র নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বারবার নানা রকম বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সব রকম বাধা উপেক্ষা করে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পর নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত জনগণের সেই কাঙ্ক্ষিত সেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে।’

ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু এখনো থেমে নেই জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষের সাহসী সন্তান ওসমান হাদিকে গুলি করা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। কী ছিল হাদির অপরাধ? আমি মনে করি, কয়েকটি প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে ঘাতকদের চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। নির্বাচন ছাড়াই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বহাল রাখা গেলে কারা লাভবান হবে? দেশে জনগণের ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কাদের লাভ? আমি বিশ্বাস করি, এসব প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই হাদির ঘাতকরা লুকিয়ে রয়েছে। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের শত্রুরা ঘাপটি মেরে রয়েছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘যারা স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণকে ভয় দেখাতে চায়, তারা অবশ্যই ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ। ভয়ের কিছু নেই, মানুষের জয়-পরাজয় ও জীবন-মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর হাতে নির্ধারিত। সুতরাং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি, ষড়যন্ত্রকারীরা অবশ্যই পিছু হটতে বাধ্য হবে।’

তারেক রহমান বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল ‘এক্সপেরিমেন্ট আর এক্সপেরিয়েন্স’ অর্জনের নির্বাচন নয়। আমি বারবার বলেছি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন-সাধ-আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বার্থ ও সম্ভাবনা। সর্বোপরি এবারের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত রাখার প্রশ্ন।”

আগামী দশকটি হবে রূপান্তরের দশক জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের ‘দেশ গড়ার কর্মসূচি’ বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ, কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিক, কর্মক্ষম এই জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিজয়কে সুসংহত করাই বিএনপির লক্ষ্য। একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমার-আমাদের আগামীর প্রতিটি বিজয় দিবসকে আরো গৌরবান্বিত এবং আরো অর্থবহ করে তুলতে চাই।”

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ, ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে শহীদ এবং ৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তারেক রহমান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বিজয় দিবসে নরেদ্র মোদির পোস্ট, নেই বাংলাদেশের নাম

বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে ওই পোস্টে তিনি ১৯৭১ সালের ঘটনাকে ‘ভারতের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তার পোস্টে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি লিখেছেন, ‘বিজয় দিবসে, আমরা আমাদের সেই সাহসী সেনাদের স্মরণ করছি যাদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালে ভারতের এক ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল।
তাদের দৃঢ় মনোবল এবং নিস্বার্থ সেবা আমাদের দেশকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের ইতিহাসে একটি গৌরবান্বিত মুহূর্ত খোদাই করেছে। এই দিনটি তাদের সাহসকে সম্মান জানায় এবং তাদের অসাধারণ মনোবলকে মনে করিয়ে দেয়। সেনাদের এই বীরত্ব ভারতের বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।’

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ।
যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতও ১৬ ডিসেম্বরকে নিজেদের ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে।

গতবছরও এক পোস্টে মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের যুদ্ধ বলে দাবি করেন মোদি। পোস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘আজ, বিজয় দিবসে, আমরা ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে সাহসী সৈন্যদের সাহস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই।