বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

বিএনপি স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল—সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে এবং যে প্রতিশ্রুতির আলোকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই তা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য দায়বদ্ধ।’

শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ও মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

মাহদী আমিন বলেন, ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বিলেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের শপথ গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের রক্তস্নাত অধ্যায় অতিক্রম করে, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব রাজনীতির জন্যও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

সেই সময় থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাকে অবশ্যম্ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে এবং তার নেতৃত্ব, ভিশন ও পলিসি নিয়ে বিস্তৃত ফিচার প্রকাশ করে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অর্জিত নিরঙ্কুশ বিজয়কে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকরা গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

‘আমি বিএনপিকে সার্ভ করতে চাই’: চমক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোবিজ অঙ্গনের কাউকে দেখা না গেলেও, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন কনকচাঁপা, রিজিয়া পারভীন, বেবী নাজনীনসহ বেশ ক’জন তারকা। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। বিষয়টি গণমাধ্যমে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তা জমাও দিয়েছে চমক।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করেছে বিএনপি। এদিন বিকেলে সাক্ষাৎকার পর্বে অংশ নিয়েছেন চমক। সাক্ষাৎকার শেষে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের জন্য। সেজন্য একটা প্ল্যাটফর্‌ম দরকার ছিল। আমার মনে হয়েছে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। কথা বলে সবকিছু ইতিবাচক মনে হয়েছে। আমি মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। দলীয় সিদ্ধান্ত ইতিবাচকভাবে নেব।’

সাক্ষাৎকার বোর্ডের সদস্যরা কী প্রশ্ন করেছিলেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমি বিএনপিকে সার্ভ করতে চাই কি-না? বলেছি, হ্যাঁ, আমি বিএনপিকে সার্ভ করতে চাই। কিন্তু আমার প্রথম ভিশন হচ্ছে দেশকে সার্ভ করা। বিএনপি যদি আমাকে সেই সুযোগ দেয় বা এই প্ল্যাটফর্মটা দেয় তাহলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনেক বিষয় কথা হয়েছে। কথা বলে সবকিছু ইতিবাচক মনে হয়েছে। আমি মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাতে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকেও একটি পোস্ট দিয়েছেন চমক। কিছুটা রহস্য রেখে সেই পোস্টে তিনি বলেন, ‌‌‘নতুন জার্নি শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ। শিগগিরই বিস্তারিত জানাব। পাশে থেকো, দোয়ায় রেখো।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু চমকের। এরপর ছোটপর্দার পাশাপাশি একাধিক জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন তিনি।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া আইনগতভাবে অযৌক্তিক: রুমিন ফারহানা

বর্তমান সংবিধানের অধীনেই প্রথম শপথ গ্রহণ করেছি এবং একই সঙ্গে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়া আইনগতভাবে সাংঘর্ষিক ও অযৌক্তিক। সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জার্মানিভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের (বাংলা) একটি টক শোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, আমার যুক্তিটা ছিল যে আপনি এখনো বর্তমান যে সংবিধান সেটার উপরে ভিত্তি করে এতদূর এসেছেন। আপনি যদি ৫ আগস্টের পর শুরুতেই বলতেন, এটা বিপ্লবী সরকার। এই সংবিধান আমরা মানি না। এই সংবিধান আমরা ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি।

আমরা নতুন সংবিধান রচনা করব। তাহলে আমাদের দ্বিতীয় শপথ নেওয়ার একটা লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হতো। কিন্তু যেহেতু আপনি সেটি করেননি, সেহেতু বর্তমান এক্সিস্টিং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন এবং গত দেড় বছরের লেজিটিমেসিকে আপনি ১০৬ দ্বারা নির্ধারণ করেছেন, তাহলে তো আর আপনার এই সংবিধানের বাইরে গিয়ে দ্বিতীয় শপথ নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না।

তিনি বলেন, আমিও মনে করেছি যেহেতু প্রথম শপথটা নিয়েছি এক্সিস্টিং সংবিধানের অধীনে। সো দ্বিতীয় শপথটা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়বার শপথ নিলে তার প্রথম শপথটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, দ্বিতীয় শপথ নিলে প্রথম শপথ যেটা নিয়েছি সেটা নালিফাই হয়ে যায়। এটা আমার যুক্তি ছিল। কারণ এই যে বিতর্ক, এই যে আলোচনা এটা খুবই ইন্টারেস্টিং। এটা নিয়ে তো নানা রকম আসপেক্টও আসছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নেওয়ার প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং এখন পর্যন্ত যা যা হচ্ছে সেটা নিয়েও তো অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

শুরুতে আসলে ১০৬ এ অনুচ্ছেদের যে প্রয়োগ সেটা যথাযথভাবে করা হয়নি এবং আমরা দেখলাম যেই বিচারকরা এটার পরামর্শ দিয়েছেন তারাও আসলে পদত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ বলছে তাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। কেউ বলেছেন তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তারাও পদত্যাগ করে চলে গেছেন।

দেশের মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের মানুষ এখন স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছে, রাজনৈতিক সকল দলের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও জন-আকাঙ্খা সরকার পূরণ করবে।

শনিবার ভোলা সার্কিট হাউজে এসব কথা বলেন তিনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ব বাংলাদেশকে অর্থনীতি ও পরাশক্তি দিয়ে ছোট্ট করে দেখলেও গণতন্ত্র দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে যেন কোনো মানুষ হেনেস্তার শিকার না হয় সেদিকেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ে ২৪শের আন্দোলন বিশ্বে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

স্পিকার আরো বলেন, দেশের জনগণ গনতন্ত্র ও রাজনৈতিক সচেতন, তারা কোন স্বৈরাচার মেনে নেয় না। অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন নানাবিধ নির্যাতন অপেক্ষা করে ১৮ বছর পর আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা নিয়ে দেশের মানুষ গর্ববোধ করতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আমরা ভোলাবাসীর আহ্বায়ক, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা প্রশাসক ডাক্তার শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাইসুল আলমসহ রাজনৈতিক দলের নেতারা।

পাবলিক পরীক্ষায় নীরব বহিষ্কারের নিয়ম বাদ : শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এড়াতে ‘নীরব বহিষ্কারের’ নিয়ম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়, বোর্ড, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি ও জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মতবিনিময়সভার এক পর্যায়ে নীরব বহিষ্কারের বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সর্বসম্মতিতে ‘নীরব বহিষ্কার’ এর পুরোনো ধারা রহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মতবিনিময়সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো বিধিতে আনডিউ কিছু থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনেও এমন বিধান নেই। মূলত বোর্ডের ১৯৬১ সালের নীতিমালায় এ ধারাটি যুক্ত রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই।

তাই এ নীতিমালা এখন প্রযোজ্য নয়। দ্রুত সময়ে নীতিমালা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষা দেবে, মানসিক চাপ তৈরি হবে এমন কোনো বিধিনিষেধ পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা কেন্দ্র সচিবদের কাছে নীরব বহিষ্কারের ধারা বাতিল করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৬-এর ‘অনুচ্ছেদ নম্বর ২৯’ বাতিল করা হলো।

‘অনুচ্ছেদ নম্বর ২৯ : কোনো পরীক্ষার্থীকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে যদি আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রেই নীরব বহিষ্কার করা যাবে। তবে বিষয়/পত্রের পরীক্ষা শেষে প্রত্যবেক্ষকের সুস্পষ্ট বিবরণসহ গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। (উত্তরপত্রের OMR-এর প্রথম অংশ আলাদা করা যাবে না)।’

উল্লেখিত অনুচ্ছেদটি এই বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ হতে বাতিল বলে গণ্য হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় উপস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করার।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকলেও সাধারণ বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতেও বক্তব্য আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি ছাড় নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি ছাড় নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ওয়াশিংটনে সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আরও আলোচনা দরকার হবে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো সমাধান হয়ে যাবে। তবে দেশের স্বার্থ সরকারের অগ্রাধিকারে থাকবে বলেও জানান তিনি।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশে স্থিতিশীলতায় ৯ দফা প্রস্তাবনা দিলো জামায়াত

দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৯ দফা প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে এসব প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে সকলকে সাথে নিয়ে জাতীয় সংকট মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই হতাশা দূর করতে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান তারা। একইসঙ্গে ‘জুলাই সনদ’-এর ধারাগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা এবং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়।

জ্বালানি সংকট দেশের শিল্প ও কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে সম্মেলনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো দেশীয় গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনে গুরুত্ব দেওয়া। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাত আধুনিকায়ন। টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ। কৃষিতে সার সংকট নিরসন ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে দলটি। সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও দখলবাজি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় জামায়াত। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার এবং অর্থ লোপাটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানায় দলটি।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকারকে একা নয়, বরং সকল অংশীজনকে সাথে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে। জুলাই সনদ ও সকল অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।” সম্মেলনে দেশের জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ

শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা আমদানি নিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগের তদন্তের পথ সুগম করতেই জয়াকোডি পদত্যাগ করেন। শুক্রবার সকালে তারা দু’জনই প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কিছুই গোপন করার চেষ্টা করছি না। যথাযথ ক্রয় নির্দেশিকা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় কোনও জালিয়াতি বা দুর্নীতি ঘটেনি।’

তিনি আরও জানান, তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করা। জয়াকোডি দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করা প্রথম উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য। গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা ভোটে পরাজিত হয়।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হওয়া সব কয়লা আমদানির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে তিনি স্বীকার করেছিলেন, নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে গত মাসে শ্রীলঙ্কা জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করে।

সূত্র: রয়টার্স