বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

এনসিপি থেকে এবার পদত্যাগ করলেন তাজনূভা জাবীন

ডা. তাসনিম জারার পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। ঢাকা-১৭ আসনে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হল যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে। এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হল বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সমারোহে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন‍্য সীট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে সীল মোহর বসানো হয়েছে। বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা নাই। পুরো আগোছালো করে চোখের পলকে ডিসওউন করে দিয়েছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় নানান খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি। আমি কিছুদিন আগে লিখেওছিলাম আমার আসনে নেগোনিয়েশন হলে আমি নির্বাচন করব না, যত কঠিন প্রতিপক্ষ হোক আমি ফাইট দেব। দিলো না। তাদের গোষ্টীর ভাইরা তাদের পক্ষে দিস্তায় দিস্তায় লিখে ভরায় ফেলছে কেন আর কিভাবে এই জোট। কিন্তু কোন জেনারেল, ইসি মিটিং এর সিদ্ধান্ত এরকম ছিল না জোট হলে বাকি আসনে প্রার্থীকে বসে যেতে হবে। আবার বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে হবে। জামায়াতের সাথে চরমোনাই পীরের ৭০ টা আসনে সমঝোতা হচ্ছে। আর গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া দলের ৩০টা আসনে।’

তাজনূভা লেখেন, ‘এনসিপি শুরু থেকে যে গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক মধ‍্যপন্থার, নারী, বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি করার কথা বলছে সেটা ধারন করে যে কয়জন পার্টিতে ছিল তাদের মধ্যে আমি একজন। এই পার্টির একজন ফাউন্ডার মেম্বার আমি। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ মন খারাপ। কিন্তু এই দল ছেড়ে দেয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোন সম্মানজনক অপশন নাই। দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দিয়ে অরাজনৈতিক, অপরিপক্কতার পরিচয় ইত্যাদি বয়ান দিবে অনেকে। জাস্ট বুলশিট। শুধু এটুকু বলি, আমি বহিরাগত ওখানে, আমাকে প্রতারিত করলে মেইক সেন্স। কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সাথে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে সেটা ভয়ঙ্কর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এতো ব‍্যস্ত এরা কখনো দেশের জন‍্য নতুন একটা মধ‍্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না। সবাই খুব বলছেন কালকে থেকে, রাজনীতি লম্বা, অনেক দূর যেতে হয়। একদম ঠিক। কিন্তু সেই নীতি এনসিপির নিজেরই নাই। নেতারা বিতর্কের পর বিতর্ক জন্ম দিয়ে সেটাকে বিপ্লব নাম দিয়েছে আর আমাদের মত যারা আসলেই এনসিপির নীতি ধারণ করেছি তাদের আবেগী লেবেল দেয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণাপত্র থেকে শুরু করে সবশেষ ডেইলি স্টারের ডিবেটে বলা কথা শীর্ষ নেতারা কতটুকু ধারণ করে সময় মতো মিলিয়ে নিয়েন।’

তিনি লেখেন, ‘ওই পুরোনো ফাঁকা বুলির রাজনীতি করতে হলে পুরোনো দলই করতাম, নতুন কেন? এবার আবারও আসি, জামায়াতের সাথে জোট প্রসঙ্গে, এনসিপি স্বতন্ত্র স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে যে কারো সাথে রাজনৈতিক জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা ৫ বছর পরে হতো, ঠিক প্রথম নির্বাচনেই কেন? কিন্তু আর সব অপশনকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে বাদ দেয়া হয়েছে যাতে জামায়াতের সাথে জোট ছাড়া কোন উপায় না থাকে। সুনিপুণভাবে এখানে এনে অনেককে জিম্মি করা হয়েছে। যাই হোক। এটা কোন রাজনৈতিক কৌশল না। এটাই পরিকল্পনা।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এই লেখার পরে আমার উপর অনেক আক্রমণ আসবে। আমার অনেক ব‍্যথতার ঢালি সাজানো হবে। চরিত্রহননের চেষ্টা হবে। কিন্তু নিজের কাছে নিশ্চিত। আমি এদের সাথে রাজনীতি করতে এসেছিলাম, এদের বিরুদ্ধে না। আমার আজকে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন‍্য দৌড়ঝাঁপ করার কথা, আর আমি এখানে বসে এসব লিখছি। জোট নাকি হবে দেড় মাসের, তারপর তারা মধ‍্যপন্থায় ব‍্যাক বাউন্স করবে। ট্রু। ব‍্যাক করে আবার দ্বিচারিতা, ভন্ডামি শুরু করবে। যে জবাবদিহিতার কথা বলে এরা মুখে ফেনা তুলে, সেটা নিজেদের কেউ করলে তাকেই মাইনাস করে। আমি আগে রাজনীতি করি নাই, ঠিক। কিন্তু এরা কে আগে জাতীয় রাজনীতি করেছে? আমি নিজে বের হয়ে দলের বদনাম করছি, বলতে পারেন। বিষয়টা আমারও ভালো লাগছে না। কিন্তু সেটার থেকে আমার কাছে বেশি জরুরি মানুষ যে এনসিপির দিকে তাকিয়ে আছে, এনসিপিকে এটা সেটা ভেবে, এনসিপি ওটা না। এনসিপিকে আমরা যারা ওটা করতে চেয়েছি তাদেরকে ট‍্যাগিং করা হয়েছে নানাভাবে। আমরা যারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, তারা একে একে ছাড়ছি। যাতে এই এনার্জিটা গঠনে ব‍্যয় হয়, এই চেষ্টাটা প্রোডাকটিভ ভাবে করতে পারি। এখন কলুর বলদ খাটছি।’

তাজনূভা লেখেন ‘নিজেরও ভাল লাগছে না, এভাবে ছেড়ে যেতে। কিন্ত যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া, বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন‍্য হাভাইত্তার মতো করছে তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে। আবার নাকি বাউন্স ব‍্যাক করবে। হাস‍্যকর। বিএনপি, এই জামাতের সাথে জোট করে ১৭ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে ছিল। আর বিএনপির অধীনে জামায়াতের সাথে জোট হয়েছিল। জামায়াতের অধীনে না। যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান, তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন‍্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায় ? পারে নাই তো।’

তাজনূভা আরও লেখেন, ‘ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা যায় কৌশল করে, কিন্তু সংগঠন দাঁড় করাতে যোগ্যতা লাগে। আপনারা মিলায় নেবেন, যারা এনসিপি ছাড়ছি তারাই এনসিপির বলা নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতি করেছি। কিন্তু ছাড়তে হচ্ছে আমাদের। পার্টিতে থাকা অবস্থায় কোন শোকজ না পেয়ে, সম্পূর্ণ পার্টির ইন্টিগ্রিটি মেনে যখন ছেড়ে আসতে চাই, তখন “অরাজনৈতিক” তকমা পরে। আপনারা এটাও মিলায় দেখেন কত কয়েকমাসে কোন কোন নেতা কত অসংখ‍্যবার পাটির ইন্টিগ্রিটি ভেঙ্গে বক্তব্য দিয়েছে, বিভিন্ন কাজ করেছে কিন্তু তারা মিলিয়ন ফলোয়ার ওয়ালা গণঅভ্যুত্থানের নেতা তাই তারা নির্বাচনী জোটের নামে বাকিদের নির্বাচন করার অধিকার কেড়ে নিয়ে এমপি হতে পারেন আর আমরা পদত্যাগও করতে পারব না। সেটাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রচুর পজিটিভ পিআর হবে এসকল নেতাদের ঘিরে। কিন্তু আমি নিশ্চিত এরা নয়া বন্দোবস্ত না, এরা মধ‍্যপন্থার রাজনীতি না। আপনারা বলতে পারেন, এসব আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু এই দলে অনেকে আছে/ছিল যারা আদৌতেই এনসিপির রাজনীতি করেছে। তাদেরকে এম্পাওআরড করা হয় নাই ইচ্ছাকৃতভাবে। আপনারা তাদেরই চেনেন যাদের এনসিপি চেনাতে চেয়েছে। জুলাই এর যে স্পিরিট সেটা এনসিপিতে চর্চা করা হয় না, ব‍্যবহার করা হয়। যারা চর্চা করত, তাদের “নীতি কথা বলা যায় অনেক, বিপ্লব দিয়ে রাজনীতি হয় না, আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় না” ইত্যাদি বলে থামানো হয়, যাতে তারা নিজেদের ভন্ডামি চালিয়ে যেতে পারে।’

তিনি লেখেন, ‘আরেকটা বিষয় দেখলাম, বিএনপি গণভোটে না ভোটকে জেতায় আনবে তাই সেটা ঠেকানোর জন‍্য এই কৌশল। আমার প্রশ্ন, হ‍্যাঁ ভোট জেতানোর জন‍্য এনসিপিকে ৩০ টা আসনে সীমিত হতে হল???? যে লিস্ট ঘুরছে তাদের ৬০-৭০% এর রাজনৈতিক ব‍্যাকগ্রাউন্ড দেখেন। আমার চেয়ে ভাল জানবেন। এরপরও এনসিপির জোর করে চেপে বসে থাকা নেতাদের মধ্যে যদি এনসিপির রাজনীতি নিয়ে পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখতাম, জবাবদিহিতা পেতাম, তাহলে আমি আরো চেষ্টা করতাম টিকে থাকার। এখন সময় নষ্ট না করি আর।’

তাজনূভা লেখেন, ‘ভেবেছিলাম, জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর আমি পদত্যাগ দেবো। শেষ আশাই ছিলাম। কিন্তু গতকাল সবাই নিশ্চিত করেছে এই জোটে সীল পরেছে। আর আবারও বলি, আমার পদত্যাগের কারণ যতটা না জোট তার চেয়ে বেশি যে প্রক্রিয়ায় জোট হয়েছে। অবিশ্বাস, অনাস্থা মূল কারণ। দল অনেক বড় হয়ে স্টাবলিশ করতে পারলে অনেক কিছু বিবেচনা করে ছাড় দেয়া যেত কিন্তু গঠনের শুরুটাই নাকি আগে সংসদে যেতে হবে, তারপর ওই যে কজন এমপি বের হবে তাদেরকে কেন্দ্র করে নাকি সংগঠন বড় হবে। কিয়েক্টাবস্থা।’

তাজনূভা আরও লেখেন, ‘যাই হোক, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙ্গা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। সবচেয়ে কষ্ট লাগছে আজকেই আম্মু চট্টগ্রাম থেকে আসছে আমার নির্বাচন করা উপলক্ষ‍্যে, আর আজকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। আমি জানি অনেকে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন আমার এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু এটাই আমার জন‍্য সঠিক। এখানে ন‍্যুনতম আশা থাকলে, আমি আমার আত্মসম্মানবোধকেও বোধ হয় ডাউট অফ বেনিফিট দিতাম।’

তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেব এক এক করে। আমাকে একটু সময় দেবেন। সেটার জন‍্য বিস্তারিত লিখে আপডেট দেব কিভাবে ধীরে ধীরে ফেরত দেব। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব। আপনাদের সমর্থন, আপনাদের ভালোবাসার জন‍্য আমি কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও লেখেন ‘শেষ কথা বলি, আমি আগে কখনো রাজনীতি করি নাই। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন‍্য। আমি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব। আমার আওয়াজ, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন‍্য কাজ আরো জোরালোভাবে জারি থাকবে। মধ‍্যপন্থার বাংলাদেশ পন্থী নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতির জায়গাটা খালিই পরে থাকল। আমি ওই জায়গা পূরণ করার চেষ্টায় থাকব। সময় বলে দিবে বাকিটা।’

এর আগে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।

শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধান বিচারপতিকে এ শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

১৯৮৫ সালে জুবায়ের রহমান চৌধুরী জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট জুবায়ের রহমান চৌধুরী অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন।

২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম করেন। পরে যুক্তরাজ্যে থেকে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম করেন।

সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ চলাচলে নতুন সিদ্ধান্ত

কক্সবাজারে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ ‘দি আটলান্টিক ক্রুজে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরপরই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ফিটনেস শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিনের পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার রাতের মধ্যেই সচল থাকা সব জাহাজের ফিটনেস ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করতে নৌপরিবহণ অধিদপ্তর, বিআইডাব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অধিকতর যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাহাজই রোববার থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যেতে পারবে বলে জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, দি আটলান্টিক ক্রুজে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ প্রদানের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যেসব জাহাজের যাত্রা বাতিল হবে, তাদের যাত্রীদের সুবিধার্থে অনুমোদিত অন্যান্য জাহাজে সমন্বয় করে যাত্রার ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন।

সভায় জেলা পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং জাহাজ মালিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাটে যাত্রী তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ জাহাজে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও জাহাজের নিচতলায় ঘুমন্ত অবস্থায় নুর কামাল নামে জাহাজের এক কর্মচারী নিহত হন।

জাহাজে যাত্রী ওঠার আগেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটায় ঘাটে অপেক্ষারত ১৯৪ জন পর্যটক সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পান, মাঝসমুদ্রে এ ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে চলাচলের অনুমোদন পায় পর্যটকবাহী সাতটি জাহাজ।

এলসি ইস্যুতে মুখোমুখি আদানি-বিপিডিবি, বাড়তে পারে সরবরাহ ঝুঁকি

সম্প্রতি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিরুদ্ধে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছে আদানি পাওয়ার লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি একইসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ পরিশোধে জন্য ব্যর্থতার বিষয়টিও শক্তভাবে সামনে এনেছে। এতে করে ভবিষ্যতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে তৈরি হচ্ছে সংশয়।

২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর আদানি পাওয়ার লিমিটেড (তৎকালীন এপি জে এল) ও বিপিডিবির মধ্যে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) ধারা ১৩.২(১) অনুযায়ী, বিপিডিবিকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একটি বৈধ ও পর্যাপ্ত অঙ্কের এলসি নবায়ন করে রাখতে হবে। এই এলসি মূলত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) স্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘনের পরও কেন বিপিডিবি কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না—এই প্রশ্ন এখন ঘুরছে বিদ্যুৎ খাতের নীতিনির্ধারক মহলে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি স্থগিত বা আইনি বিরোধে গড়ানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

পিডিবিকে দেওয়া চিঠিতে আদানি পাওয়ার লিখেছে, বারবার তাগাদা ও আনুষ্ঠানিক নোটিস দেওয়ার পরও বিপিডিবি এখনো এলসি নবায়ন করেনি, যা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি চলমান ‘ইভেন্ট অব ডিফল্ট’। এলসি নবায়ন না হওয়া শুধু চুক্তি লঙ্ঘন নয়, এটি তাদের আর্থিক ঋণদাতাদের আস্থা নষ্ট করছে এবং পিপিএ ও ইমপ্লিমেন্টেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

পিডিবির চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী বিপিডিবির দায়িত্ব ছিল নিরবচ্ছিন্নভাবে একটি বৈধ ও পর্যাপ্ত অঙ্কের এলসি বজায় রাখা। এটি কোনো ঐচ্ছিক সুবিধা নয়, বরং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নূ্ন্যতম আর্থিক নিরাপত্তা। কিন্তু আদানি পাওয়ারের দাবি, গত ১৮ জুলাই থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস ধরে সাত দফা চিঠি পাঠিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। চুক্তির ধারা ১৩.২(১) অনুযায়ী এলসি নবায়ন না হলে তা সরাসরি ধারা ৪.৩(গ) অনুযায়ী ‘ইভেন্ট অব ডিফল্ট’ হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ, আইনগতভাবে বিপিডিবি ইতোমধ্যেই চুক্তি ভঙ্গের অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছর গত ১৩ নভেম্বর আদানি পাওয়ার বিপিডিবিকে আনুষ্ঠানিক ব্যর্থতার নোটিশ দেয়। বিষয়টি শুধু বিপিডিবিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, চুক্তির ধারা ৪.৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, এলসি নবায়ন না হওয়া মানে হলো সরকার কার্যত ঝুঁকি নিচ্ছে। এটি কোনো ছোট প্রশাসনিক ভুল নয়। এই এলসি জটিলতা বিপিডিবির গভীর আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। ক্রমবর্ধমান ক্যাপাসিটি চার্জ, ডলার সংকট ও ভর্তুকি নির্ভরতা—সব মিলিয়ে বিপিডিবির আর্থিক ভারসাম্য নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ঋণদাতারা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে এলসি হচ্ছে সবচেয়ে মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেটি অনিশ্চিত হলে প্রকল্পের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলসি ইস্যু দীর্ঘায়িত হলে আদানি পাওয়ারের সামনে কয়েকটি বিকল্প উঠে আসবে। এর মধ্যে রয়েছে চুক্তির অধীনে প্রতিকার দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত বা স্থগিত করা ও আন্তর্জাতিক সালিশি পর্যায়ে যাওয়া। যার প্রতিটিই বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। আদানি পাওয়ারের দাবি অনুযায়ী, বিপিডিবির দপ্তরে সাম্প্রতিক বৈঠকেও বিষয়টির জরুরি গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। কিন্তু বৈঠকের পরও কোনো লিখিত নিশ্চয়তা বা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এপিএল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অবিলম্বে এলসি নবায়ন করে লিখিতভাবে নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমত পিডিবি চুক্তি ভঙ্গ করার মতো পর্যায়ে যাবে না, কারণ তার ফলাফল ভালো কিছু হবে না। তবে এটাও সত্য যে, পিডিবির পেমেন্ট করার মতো পুরোপুরি সক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, পিডিবি-আদানির ব্যাপারটা এখন অনেকটা ‘ঝগড়ার’ মতো হয়ে গেছে। ঝগড়া হলে মানুষ যেমনটা করে, পিডিবিও আদানির সঙ্গে তাই করছে। কারণ বিদ্যুতের দাম কমানো নিয়ে আদানির সঙ্গে পিডিবির দ্বন্দ্বটা চলছেই। তবে আদানিও বুঝতে পারছে, পিডিবির সেই আর্থিক সক্ষমতাটা নেই। মূলত, এলসি ইস্যুতে এখন দুই পক্ষেরই আলোচনা করে সমঝোতায় আসা উচিত এবং আশা করছি, পিডিবি এই বিষয়ে সমঝোতা করে ফেলবে।

মিয়ানমারে গোলাবর্ষণের বিকট শব্দ, উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক

মিয়ানমার থেকে আসা গোলাবর্ষণের বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছেন উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে ৩-৪ মিনিটের ব্যবধানে পরপর কয়েক দফা এই বিকট শব্দে আতঙ্ক বিরাজ করছে সীমান্তবর্তী জনবসতিতে।

রাখাইনে চলমান সংঘাতের জেরে মাঝেমধ্যে তীব্র গুলির শব্দ শোনা গেলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শনিবার রাতের মতো এমন আকস্মিক বিকট শব্দ নিকট অতীতে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, উখিয়ার পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী পার্বত্য উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা এই শব্দ শুনতে পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

পালংখালীর রহমতের বিল গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ বড় ধরনের বজ্রপাতের মতো জোরে শব্দ হয়, তাৎক্ষণিক বুঝে উঠতে পারেনি কি হয়েছে। গোলাগুলির নয় এই শব্দ অন্যকিছুর হতে পারে কারণ স্থায়ীত্ব বেশিক্ষণ ছিল না।’

ভিন্নধর্মী এবং বিস্ফোরণের মতো শব্দে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়, অনেকেই ঘর-বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। রাজাপালংয়ের কুতুপালং গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গ্রামেও এই শব্দ পাওয়া গেছে, শব্দের ফলে সৃষ্ট কাঁপুনিতে মনে করেছি ভূমিকম্প হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে আসি, এমন শব্দ আগে কখনো শুনিনি। আমরা আতঙ্কে আছি।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও আশ্রিত রোহিঙ্গারা একই শব্দ শুনতে পেয়েছেন। সাহাত জিয়া হিরো নামে উখিয়ার ক্যাম্পে বাস করা একজন রোহিঙ্গা চিত্রগ্রাহক ও অধিকারকর্মী নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকার উত্তর মংডু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যার শব্দ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকেও শোনা যাচ্ছে।’

মংডু ডেইলি নিউজ ও আরকান আপডেট নামে দুটি রাখাইনভিত্তিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের ফেসবুক পেজে উত্তর মংডুতে বিমান হামলার খবর প্রকাশ পেয়েছে।

যেখানে বলা হয়, ‘শনিবার রাত ১১টা ২০ পর্যন্ত (স্থানীয় সময়), জান্তা বাহিনীর এসএসএ যুদ্ধবিমান উত্তর মংডুতে কিয়াও চাউং ডিভিশন এবং গান চাউং ব্যাটালিয়নে তিনবার গোলাবর্ষণ করেছে। এ ছাড়া, একটি ওয়াই-১২ বিমান আকাশে উড়ছে।’

বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারেই রাখাইনের মংডু টাউনশীপের উত্তর মংডু অঞ্চল, যেখানকার ২৭১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০২৪ ডিসেম্বর থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি।

জান্তা নিয়ন্ত্রিত সামারিক বাহিনীর সঙ্গে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তীব্র সংঘাতে লিপ্ত হয়, যা এখনো চলছে। জাতিসংঘ সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা এই সংঘাত-সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আনুমানিক রাত ১০টা ৩৮ মিনিট থেকে ১০টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার নিকটবর্তী মায়ানমারের অভ্যন্তরে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এবং শূন্য লাইন থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে বলিবাজার এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, মায়ানমার বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান আরাকান আর্মির দখলে থাকা বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে তিনটি বোমা নিক্ষেপ করে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবি অধীনস্থ সব বিওপি ও ক্যাম্প এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৩ ও ১৭ ডিসেম্বর রাতেও মিয়ানমার অংশ থেকে এপারে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

বিটিআরসির অনিয়ম অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে তোড়জোড়

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে বিগত সরকারের বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র। সরকারি নিরীক্ষা, মন্ত্রণালয়ের একাধিক তদন্ত কমিটি দ্বারা এসব অনিয়ম প্রমাণিত হলেও নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা। শ্বেতপত্রে অভিযুক্তদের নাম উঠে এলে সেই আলোকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্যবস্থা গ্রহণের তাগাদা দেন; কিন্তু তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য জানানোর কথা থাকলেও তা অবজ্ঞা করে বরং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার তোড়জোড় চলছে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২ ডিসেম্বর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্স একটি শ্বেতপত্র আকারে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই শ্বেতপত্রে বিটিআরসির নিয়োগ, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের তালিকায় অন্তত ৩৮ কর্মকর্তার নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে ১১ জন এরই মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বাকি ২৭ জনের মধ্যে একজন পরিচালক অবসর নিয়েছেন, একজন নারী কর্মকর্তা ইস্তফা দিয়েছেন, একজন বিদেশে পালিয়েছেন এবং আরেকজন শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছেন। একজন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হয়ে পদাবনতি পেয়েছেন। অন্য কর্মকর্তারা বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য ‘যোগ্য’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন এবং তারা আগামী ৩ জানুয়ারি মেধা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। সূত্র মতে, এ নামমাত্র পরীক্ষার পর তাদের প্রায় সবাই পদোন্নতি পেতে পারেন।

শ্বেতপত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের একান্ত সচিব মোহাম্মদ নাহিদুল করিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘শ্বেতপত্রে দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শ্বেতপত্রের সুপারিশ অনুসারে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে, তা ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হলো।’

তবে নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও বিটিআরসি কোনো অগ্রগতি জানায়নি। বরং কমিশন অভিযুক্তদের পদোন্নতির প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পদে যাদের চাকরি প্রবিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্যতা হয়েছে, তাদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, অভিযুক্তরাও এতে অংশ নিচ্ছেন।

‘যোগ্য’ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ, এম এ তালেব হোসেন, খালেদ ফয়সাল রহমান, মো. নাহিদুল হাসান, শারমিন সুলতানা, মাহমুদুর রহমান, মো. মিরাজুল ইসলাম, এস এম তাইফুর রহমান, রাইসুল ইসলাম, সঞ্জীব কুমার সিংহে, তৌহিদুন নাহার, নাফিসা মল্লিক, মেহেরিন আহসান, এস এম গোলাম সারোয়ার, মো. মেহফুজ বিন খালেদ, শামসুজ্জোহা, কাউছার আহমদ, শামসুল আলম, দেলোয়ার হোসেন, আলী কাউছার সুমন, রেজাউল করিম ও রাশেদুল ইসলাম।

তালিকাভুক্ত সাবেক ১১ কর্মকর্তা হচ্ছেন মো. মশিউর রহমান, রহমান খান, তাসমিয়া তাহমিদা, তৌহিদ হোসেন, খান মুহাম্মদ ফুয়াদ বিন এনায়েত, কাজী আফরোজ সুলতানা, ফারিয়া আহসান, কাজী মাহমুদুর রহমান, কাজী রাফসান ইয়াজদানী, শারমিন কিবরিয়া ও আফসার আহমেদ খান চৌধুরী। অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক হলেন গোলাম রাজ্জাক। উপপরিচালক রোখসানা মেহজাবিন চাকরি ছেড়েছেন। উপপরিচালক আসাদুজ্জামান পালিয়ে গেছেন, সামিয়া তাবাসসুম শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে আছেন।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিচালিত নিরীক্ষা ২০২০ সালে প্রকাশিত হলে নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়ে। ২০২১ সালে প্রথম তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং অনিয়মের প্রমাণ মেলে। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে আরও দুটি কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রতিবেদন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এসবের পরও বিটিআরসি ব্যবস্থা নেয়নি।

২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন বিটিআরসিতে অভিযান চালিয়ে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের প্রমাণ পায়। জুনিয়র পরামর্শকদের রাজস্ব খাতে, বয়স শিথিলতার অপব্যবহার এবং প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে অনিয়মতান্ত্রিক নিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর ৩০ জুলাই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিটিআরসিকে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিলেও সেটিও উপেক্ষিত হয়।

ফলে, ১০ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে নয়টি নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার ৭ নম্বরে বলা হয়—যাদের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় সচিব আব্দুন নাসের খান কালবেলাকে বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের পদোন্নতির সুযোগ নেই। বিটিআরসি এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকবেন, ফলে অনিয়মের সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।’

জামায়াত জোটে এনসিপি ঘোষণা আসতে পারে আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক জোট ও আসনভিত্তিক সমীকরণ। রাজনীতির প্রায় সব সমীকরণই স্পষ্ট হতে পারে আজ রোববার। বহুল আলোচিত জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতা কিংবা জোটেরও আত্মপ্রকাশ হতে পারে আজ। দল এবং দলের বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও এই সমঝোতায় অনড় রয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এটিকে চূড়ান্ত রেখেই আসন এবং জোটের সার্বিক বিষয়ে নিজেদের দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে উভয় দলই।

এনসিপি সূত্র বলছে, সংস্কার, দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই মূলত এই জোট বা আসন সমঝোতা হচ্ছে। এখান থেকে সরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই। দলের বেশিরভাগ নেতা এতে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিগত বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন তারা। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্য ২১৬ জন। এর মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট নিয়ে পক্ষে মত দিয়েছেন ১৮৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা। কেন্দ্রীয় আরেকটি অংশ সমঝোতার পক্ষে থাকতেই দলের আহ্বায়ককে চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুব শক্তি, শ্রমিক শক্তি, ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তিসহ সবাইকে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আস্থার কথা লিখেছেনও তারা।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ (এবি পার্টি) আরও কয়েকটি দল যুক্ত হচ্ছে। এনসিপি এই বৃহত্তর সংস্কার জোটের পক্ষ নিয়েছে। এই সমঝোতায় এনসিপি অন্তত ৫০ আসন চেয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৪০ আসনে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তারা। এই জোটে এনসিপি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাবে, সেটাই প্রত্যাশা তাদের। দলটি প্রথম ধাপে ১২৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে সমঝোতার পর বাকি আসনগুলোতে আর মনোনয়ন না নিয়ে জোটের পক্ষেই কাজ করবেন তারা।

দলের এক নির্বাহী সদস্য কালবেলাকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) রাতে সম্ভাব্য জোটের গুরুত্বপূর্ণ সভা ছিল। সেখানে এনসিপি অন্তত ৪০ আসন এবং জোটের মুখপাত্র হিসেবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এভাবেই আগাচ্ছে। সব চূড়ান্ত হলে কাল (আজ) জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।’

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন আপত্তি জানিয়েছেন। এর মধ্য থেকে দুজন তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছেন। বাকিরাও এই সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এনসিপির ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে ৯ জনই পক্ষে থাকার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া ছাত্র, যুব ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা নাহিদ ইসলাম এবং আখতার হোসেনের ওপর ভরসা রেখেছেন। কেউ কেউ শুরুতে আপত্তি জানালেও বৃহত্তর স্বার্থে তারা এক হয়েছেন।

এদিকে, এনসিপির জোট কিংবা আসন সমঝোতার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে এনসিপি তাকে প্রার্থী মনোনীত করেছিল। তবে গতকাল তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কোনো দলের হয়ে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের এনসিপির প্রার্থী মীর আরশাদুল হকও পদত্যাগ করে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন। এনসিপি সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে আপত্তি জানানো ৩০ জনের মধ্যে আরও কয়েকজন পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মধ্যে নারীনেত্রীও রয়েছেন।

এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোট করা নিয়ে দলের মধ্যে কিছুটা বিভেদ দেখা দিয়েছে। এই বিভেদ দূর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কে পদত্যাগ করবে আর কে করবে না, এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

আপত্তি জানিয়ে ৩০ নেতার চিঠি: জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিগত বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন তারা। চিঠিতে নেতারা তাদের আপত্তির ভিত্তি হিসেবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা তুলে ধরেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্নে তাদের অবস্থান—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আমাদের দলের মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।’

নেতারা বলেন, এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এখন অল্প কিছু আসনের জন্য কোনো জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে তারা মনে করছেন।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক সম্পাদক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনী প্রমুখ।

সমঝোতার পক্ষে আরেক পক্ষের পাল্টা চিঠি: দলের বৃহত্তর স্বার্থে এই সমঝোতার পক্ষে থাকতে দলের প্রধান বরাবর পাল্টা চিঠি দিয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির আরেকটি অংশ। চিঠিতে তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে টেকসই করা এবং একটি জনমুখী ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিকভাবে সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। সে পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সে বিষয়ে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি রয়েছে। নির্বাহী কাউন্সিলের সুপারিশের আলোকে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব কর্তৃক গৃহীত যে কোনো জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট সমর্থন ও আস্থা রয়েছে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, জাভেদ রাসীন, আরিফুর রহমান তুহিন, সাইফুল্লাহ হায়দার, আতাউল্লাহ, মাহমুদা মিতু, মাহিন সরকার, এহতেশাম হক, আশিকিন আলম, ডা. আব্দুল আহাদ, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, আলী নাসের খান, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, দিলশানা পারুল, মাহবুব আলম, হাফসা জাহান, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জুবায়রুল হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনায়েদ, কৈলাস চন্দ্র রবিদাস প্রমুখ।

নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এই সমঝোতা—বলছেন এনসিপির নেতারা। তারা বলছেন, মূলত সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি একমত হয়েছে। দলের নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যসহ শীর্ষ নেতৃত্ব সবাই ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত। আজকালের মধ্যে ঘোষণা আসবে। তিনি বলেন, বিএনপি বাদে আমরা জুলাইয়ের শক্তি যদি এক হই, বিশেষ করে এনসিপি, জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোট এক হলে খুব ভালো হবে। আশা করি আমরা সরকার গঠন করব।

গতকাল রাতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন গণমাধ্যমকে জানান, ফাইনালি জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি জোটে যাচ্ছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে।

জামায়াত সূত্র জানায়, দলটি দেড়শ থেকে দুই শতাধিক আসনে সরাসরি দলীয় প্রার্থী দেবে। জোট চূড়ান্ত হলে এনসিপি, এবি পার্টি, অন্যান্য ইসলামী দলসহ মিত্রদের জন্য বাকি আসন ছেড়ে দেবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের ৮ দলীয় জোট ছাড়াও নতুন নতুন শক্তির সংযোজন হচ্ছে। এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে। আগামীকাল ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সব চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’

জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে গুলি করে হত্যা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে এক বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী ডেসিরে মার্টিন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৯ বছর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

লাস ক্রুসেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে বার্কশায়ার কোর্টের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বাড়ির ভেতরে ছিলেন।

তাকে আটক করতে পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াত এবং কে-৯ ইউনিট মোতায়েন করা হয়। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পরও ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গায়িকাকে গুলি করার পর ওই ব্যক্তি নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।

ডেসিরে পেশায় একজন অভিনেত্রী এবং সংগীতশিল্পী। লাস ক্রুসেসের থিয়েটার মহলে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ডেসিরে ওই বাড়িতে একজন কেয়ারগিভার (সেবিকা) হিসেবে কাজ করতেন।

তার বাবা বলেন, ও সবসময় মানুষকে সাহায্য করতে চাইত। সে কারণেই ওই বাড়িতে সে কাজ করছিল। ডেসিরের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ ৮ বিভাগে ইনকিলাব মঞ্চের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন।

পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত্যু ঘটনার পর ১০ দিন গড়ালেও হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচার এখনো হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শুক্রবার শাহবাগ অবরোধ করেন ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবারের কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত শহীদ হাদি হত্যার পেছনে যাঁরা জড়িত, এর যাঁরা পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী- তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না।

আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আজকে শাহবাগ অবরোধ করেছি। আগামীকালও করা হবে। সারা বাংলাদেশ থেকে জনতা আসছে।’

জাবেরর ঘোষণা অনুযায়ী লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে শনিবার রাতেও শাহবাগে অবস্থান ছিলো তাদের। রাত ১১টার দিকে সেখানে আসেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তার সঙ্গে ছিলেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মোঃ সাজ্জাদ আলী।

এ সময়ে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার শহীদ হাদির হত্যাকারী এবং এর পেছনে যারা ছিলেন সবাইকে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য কাজ করছে।

আপনাদের হয়তো মনে হচ্ছে কিছু জানাচ্ছি না কেন? তবে মনে রাখতে হবে আমারা কিন্তু শত্রু পক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাজটি করছি। ফলে যেই তথ্যগুলো আমরা জানাবো, সেগুলো যেন শত্রুকে শক্তিশালী না করে। শহীদ হাদিও বলতেন, আমারা যেন এমন কোনো কাজ না করি, যা আমাদের প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী করে।’

উপদেষ্টা তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। ‘৭ জানুয়ারির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নৃশংস হত্যার বিচার আমরা অবশ্যই করে যাব’ বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা। এসময়ে রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”

৭ জানুয়ারির মধ্যে চার্জশিট গঠনের একই কথা উঠে আসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর বক্তব্যে।

এই উপদেষ্টা ও ডিএমপি কমিশনার ৭ জানুয়ারির মধ্যে চার্জশিট গঠনের কথা বললেও তা প্রত্যাখ্যান করে আগামী তিন দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল এবং ২৬ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

সংঘঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আগামী তিন দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে হবে। আমরা ‘দ্রুততম সময়’ বলতে কী বোঝায়, তা জানি না। আগামী ২৬ কার্যদিবসের মধ্যেই বিচার কার্যকর করতে হবে।’

এ সময়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই খুনের সবচেয়ে ছোট গুটি হচ্ছে যে সরাসরি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

এদিকে শনিবার রাত ১২টার দিকে শাহবাগ ছেড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রোববার দুপুর ২টা থেকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সর্বাত্মক অবরোধ পালনের ডাক দিয়েছে সংঘঠনটি।

সোনার দামে নতুন রেকর্ড

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা সপ্তমবারের মতো দাম বৃদ্ধি পেয়ে আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী প্রতি ভরি (২২ ক্যারেট) সোনার দাম আরও ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। নতুন এ মূল্য রবিবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার কারণে সোনার মূল্য সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে রুপার দামও বেড়ে রেকর্ড করেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ছয় হাজার ৬৫ টাকা।

২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি পাঁচ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি চার হাজার ৯৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।