বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন | আমার দেশ

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন। বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতের ভিড়ে রোহিঙ্গা ইস্যু যেন চাপা না পড়ে। জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেন বিষয়টি নজরে রাখে।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকালে রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও সমধানের কৌশল নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান বাংলাদেশের জন্য যেমন বড় চাপ তৈরি করছে, তেমনি এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি বাড়াচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছরের বেশি সময় হতে চলেছে। এখন আর কেবল সংকট ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়। রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে। এ জন্য নতুন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ (রি-ফ্রেমিং) জরুরি।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সেই পুকোভস্কিকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

একসময় তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভাবা হতো। কিন্তু একের পর এক কনকাশন অল্প বয়সেই থামিয়ে দিয়েছে উইল পুকোভস্কির ক্যারিয়ার। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে হয়েছে তাঁকে। মাথায় আঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান।এবার সেই কষ্টের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পুকোভস্কি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ও ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে সমঝোতার আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।.খেলা ছেড়ে দেওয়ার আগে মোট ১৩ বার কনকাশনের শিকার হয়েছিলেন পুকোভস্কি। ২০২৪ সালের আগস্টে কনকাশন বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল তাঁকে ক্রিকেট ছাড়ার পরামর্শ দিলে তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নেন।মাথায় বারবার আঘাত পাওয়ার প্রভাবে পুকোভস্কির এখনো দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা, মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব রয়েছে। শরীরের বাঁ পাশ দিয়ে বিভিন্ন কাজ করতেও তাঁর সমস্যা হয় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তাঁর ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি (সিটিই) নামের মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।.নিজের স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা কনকাশনে অবসর নেওয়া সেই পুকোভস্কির.পুকোভস্কির মাথায় আঘাত পাওয়ার প্রথম ঘটনাটি অবশ্য ক্রিকেটের বাইরের। ২০১৪ সালে ব্রাইটন গ্রামার স্কুলে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের অনুশীলনের সময় সতীর্থের হাঁটু তাঁর মাথার পাশে আঘাত করে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৬। আঘাতে অজ্ঞান হয়ে যান পুকোভস্কি। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই তাঁকে আবার অনুশীলনে ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় স্কুলে যেতে পারেননি তিনি, পরে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়।এ ঘটনা নিয়ে পরে স্কুলটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন পুকোভস্কি। তাঁর অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।এরপর ক্রিকেটে এসেও মাথায় বারবার আঘাত পেতে হয় তাঁকে। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তাঁর। সিডনিতে প্রথম ইনিংসে খেলেন ৬২ রানের ইনিংস। কিন্তু এমন দারুণ শুরুর পরও তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আর এগোয়নি। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ বা অনুশীলনে কখনো বাউন্সার, কখনো অন্যভাবে মাথায় আঘাত পেয়ে বারবার ধাক্কা খেয়েছেন। .২০২৪ সালের শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বাউন্সারে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর আর মাঠে ফেরা হয়নি তাঁর; শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটই ছেড়ে দেন।চিকিৎসকদের পরামর্শে খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরও পুকোভস্কি আইনি লড়াই চালিয়ে যান। ২০১৪ সালের স্কুল ফুটবলের সেই ঘটনার জন্য ব্রাইটন গ্রামারের বিরুদ্ধে করা মামলার পাশাপাশি কনকাশন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার খেলাধুলায়ও তাঁর ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।কোড স্পোর্টস জানিয়েছে, সিএ ও ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি একটি গোপন আর্থিক সমঝোতা হয়েছে পুকোভস্কির। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ কত টাকা পাচ্ছেন, তা গোপন রাখা হয়েছে।অস্ট্রেলিয়ায় ক্রীড়াক্ষেত্রে কনকাশন নিয়ে আইনি লড়াই এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বিশ্বের অন্য খেলাগুলোতেও একই ধরনের মামলা ও ক্ষতিপূরণের নজির আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) সাবেক খেলোয়াড়দের কনকাশন এবং দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের ক্ষতি নিয়ে হওয়া মামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সমঝোতা করেছে।.২৬ বছর বয়সেই অবসরে বারবার কনকাশনে ভোগা পুকোভস্কি

বিদেশে জাতীয় দলের খেলা দেখার সুযোগ শাহরিয়ার নাফিজের

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলা স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন মেহেরপুরের গাংনীর শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নাফিজ। ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা নগদের বিশেষ ফুটবল ক্যাম্পেইন ‘কুইজে রিচার্জে খেলা হবে নগদ-এ’ অংশ নিয়ে তিনি মেগা পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার নাফিজসহ মোট ১০ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে শাহরিয়ার নাফিজের হাতে মেগা পুরস্কার তুলে দেন।

পুরস্কারের অংশ হিসেবে শাহরিয়ার নাফিজ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে স্টেডিয়ামে বসে বাংলাদেশ দলের পরবর্তী অ্যাওয়ে ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

পুরস্কার হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাহরিয়ার নাফিজ বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে প্রিয় জাতীয় দলের খেলা সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে দেখতে পারব, এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো! আর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার হাত থেকে এই পুরস্কার নেওয়ার মুহূর্তটি সারাজীবন মনে রাখার মতো। ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্ন পূরণে এমন অসাধারণ সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নগদকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

অনুষ্ঠানে মেগা পুরস্কারের পাশাপাশি রিচার্জ ক্যাম্পেইনে বিজয়ী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার শাহীন আলমের হাতে ভিডিও গেম কনসোল পিএস৫ তুলে দেওয়া হয়। এর আগে একই রিচার্জ ক্যাম্পেইনে আরও দুজন বিজয়ী ভিডিও গেম কনসোল পিএস৫ জিতে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, নগদের কুইজ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের হাতে ‘নগদ গিফট বক্স’ তুলে দেওয়া হয়। এ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীরা হলেন ঢাকার কারিব-উর-রহমান, চট্টগ্রামের চাকরিজীবী মো. আমজাদ আলী রিয়াদ, মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছারুজ্জামান মিতুল, মোহাম্মদপুরের প্রকৌশলী মো. মখলেছুর রহমান, বিমান বাংলাদেশের অপারেশনস অফিসার মো. তুহিন রেজা, ঢাকার গৃহিণী ঐশী মনি, মৌলভীবাজারের মাহবুব সাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ, সিনিয়র সহযোগী প্রশাসক সৈয়দ হীমঈয়ানউদ্দিন আহমেদ, সহযোগী প্রশাসক আনোয়ার উল্লাহ, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শাহীন সারওয়ার ভূঁইয়া, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার আফজাল আহমেদ এবং হেড অব মার্কেটিং এইচ ইউ এম মেহেদী সাজ্জাদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ‘নগদ সবসময়ই গ্রাহকদের আনন্দ ও চাহিদাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। ফুটবল এ দেশের মানুষের প্রাণের খেলা। আমরা চেয়েছি বিশ্বকাপের এই আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনের অভিজ্ঞতাকে আরও উৎসবমুখর করতে।’

তিনি বিজয়ী গ্রাহকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘নগদের সঙ্গে থাকুন, সামনে আপনাদের জন্য আরও অনেক দারুণ চমক অপেক্ষা করছে।’

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেওয়া এবং ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে কুইজ ও মোবাইল রিচার্জের সমন্বয়ে বিশেষ এই ক্যাম্পেইন চালু করে নগদ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্যাম্পেইনটিতে গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা

জাতীয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

X

সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ঘোষণা করেছে। এই দর্শনের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও সুশাসন সুদৃঢ় করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি এসব কথা বলেন।

নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারি কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব টিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।

দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এসব অনিয়ম প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী পরিবীক্ষণ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলী। তার মতে, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন ও ঝুঁকি নিরূপণের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / সব দাবি মানার পরও কমিটিতে আসবো না, এটা সহযোগিতা হলো না

মো. মোক্তার আলী তার নোটিশে বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয়, দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান অন্তরায়। উন্নয়ন প্রকল্পের যথাসময়ে বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একটি কার্যকর পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

নোটিশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও নিয়মিত পরিবীক্ষণ, কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন, ঝুঁকি নিরূপণ এবং অনিয়মের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে একটি নিবেদিত পরিবীক্ষণ সেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যাবে।

অন্যদিকে মো. মোক্তার আলী মনে করেন, পরিবীক্ষণ সেল থাকলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অপচয় কমবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়বে এবং জনসেবার মান ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চিহ্নিত করে সময়োপযোগী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ অন্যান্য তদারকি সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার জন্য এনফোর্সমেন্ট ইউনিট কার্যকর রয়েছে।’

আরও পড়ুন

আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারওই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অভিযোগ গ্রহণে ১০৬ হটলাইনের পাশাপাশি ৯৯৯ ও ৩৩৩ এর মতো জাতীয় হটলাইনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানান তিনি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম বা অসদাচরণের তথ্য পাওয়া গেলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪, দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধিসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পেও বহুমাত্রিক নজরদারি

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বহুমাত্রিক তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি), প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন সেল ও উন্নয়ন শাখা এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ এবং এডিপি মনিটরিং সিস্টেমের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) চালু রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, প্রকল্প ও কর্মসূচির সময়মতো বাস্তবায়ন, সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়াতে গভর্নমেন্ট পারফরম্যান্স মনিটরিং সিস্টেম (জিপিএমএস) প্রবর্তন করা হয়েছে।

তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম

সরকারি কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘এই টিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করবে। উত্তম চর্চা চিহ্নিত ও সম্প্রসারণের সুপারিশ করবে এবং জনগণের সেবা প্রদানের প্রতি গতিবৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত পরিবীক্ষণ টিম এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর ছাই ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী জাকার্তার বাইরে অবস্থিত দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম রোববার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরটি রাজধানী থেকে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে বন্ধ করা হয়।
বিজ্ঞাপন

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ পরীক্ষায় সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাতেও আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময় রোববার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত (গ্রিনিচ মান সময় ০২টা ৩০ মিনিট) বাড়ানো হয়েছে।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

যুদ্ধে ইরান জয়ী হয়েছে: গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে ইরান ‘মাঠে জয়ী’ হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সেই সঙ্গে শর্ত মেনে নেওয়ায়ই তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে বিজয়ী হয়েছি। ‘

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং ইরান এখনও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।’

গালিবাফ বলেন, ‘আমরা যদি যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে থাকি, তাহলে তা শুধু এই কারণে যে তারা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিয়েছে। ’

তিনি আরও যোগ করেন, শত্রুপক্ষ তাদের ওপর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। তাই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, এবং এই ক্ষেত্রে আলোচনা (নেগোশিয়েশন) হচ্ছে সংগ্রামেরই একটি অংশ।

তথ্যসূত্র: দ্য ডন

নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে জড়িয়েছেন যা “আমেরিকার জনগণ চায় না” এবং এতে মার্কিন সেনারা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হ্যারিস শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি সংঘাতে জড়িয়েছে যা অপ্রয়োজনীয় এবং এর ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের।

হ্যারিসের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু এই দাবি নাকচ করে দেন। এর আগে গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, “কেউ কি সত্যিই মনে করে, কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলে দিতে পারে কী করতে হবে?”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

এবারের হজযাত্রীর ৩৬ শতাংশই ঢাকা বিভাগের

সৌদি আরবের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালন করতে যাচ্ছেন ৭৮ হাজার ৫০০ ধর্মপ্রাণ মানুষ। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৫ শতাংশ নারী। এবার সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী ঢাকা বিভাগের, ৩৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। কম হজযাত্রী বরিশাল বিভাগের, মাত্র ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

এছাড়া হজযাত্রীদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। আর সত্তরোর্ধ্ব হজযাত্রী ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালে প্রকাশিত পরিসংখ্যান সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, গত শুক্রবার রাত থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি হজ এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ঢাকা বিভাগ থেকে ২৮ হাজার ৩৭২ জন (৩৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ) হজ পালন করবেন। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ শতাংশ নারী। চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ হাজার ৮৭৭ জনের (২০ দশমিক ২ শতাংশ) মধ্যে পুরুষ ৬৫ শতাংশ ও নারী ৩৫ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগের ১০ হাজার ৭৭৪ জনের (১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ) মধ্যে পুরুষ ৬৬ শতাংশ ও নারী ৩৪ শতাংশ, রংপুর বিভাগের ছয় হাজার ৬৩৯ জনের (৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ) মধ্যে পুরুষ ৬৮ শতাংশ ও নারী ৩২ শতাংশ এবং খুলনা বিভাগের পাঁচ হাজার ৪৬৮ জনের (৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ) মধ্যে পুরুষ ৬৮ শতাংশ ও নারী ৩২ শতাংশ।

এছাড়া সিলেট বিভাগের চার হাজার ৭২৬ জনের (৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ) মধ্যে পুরুষ ৬১ শতাংশ ও নারী ৩৯ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগের চার হাজার ৫৪৯ জনের (৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ) মধ্যে পুরুষ ৭০ শতাংশ ও নারী ৩০ শতাংশ এবং বরিশাল বিভাগের দুই হাজার ৭১৪ জনের (৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ) মধ্যে ৭৩ শতাংশ পুরুষ ও ২৭ শতাংশ নারী।

হজযাত্রীদের বয়সগত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৩২ শতাংশ হজযাত্রী ৫০-৬০ বছর বয়সি। ৬০-৭০ বছর এবং ৪০-৫০ বছর বয়সি হজযাত্রীর হার ২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করে। এছাড়া ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি হজযাত্রী ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে হজযাত্রীর হার ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এদিকে, এবারের হজযাত্রীদের ৪০ শতাংশ পেশায় ব্যবসায়ী এবং ৩১ শতাংশ গৃহিণী। এছাড়া বেসরকারি চাকরিজীবী ১০ শতাংশ, সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী ১ শতাংশ করে। এছাড়া কৃষক ৫ শতাংশ, অবসরপ্রাপ্ত ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য পেশার হজযাত্রী ৬ শতাংশ।

গাজ্জায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়ালো

গাজ্জায় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ৫৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি এই ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ৫৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার ২৭৪ জন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও আটটি মরদেহ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সাতজন সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন এবং একজনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ২৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ‘মার্টার্স অ্যাপ্রুভাল কমিটি’ কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর সম্প্রতি মোট নিহতের তালিকায় আরও ১৯৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গাজ্জার বিশাল এলাকা জুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় এখনও অসংখ্য ভুক্তভোগী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরাইলের অব্যাহত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না, যা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নিরূপণের কাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

আজ থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর

দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন— সব ধরনের জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এ মূল্য আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে।

গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম রাখা হয়েছে ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা। এছাড়া প্রতি লিটার কেরোসিনের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা।

আগের নির্ধারিত দামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় উঠেছে। কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ২০ টাকা বেড়েছে— যা সর্বোচ্চ। এ ছাড়া পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সরকারের প্রতি সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।

শনিবার রাতে মালিক সমিতি জানায়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করায় সরকারকে সাধুবাদ জানচ্ছি। এর ফলে জ্বালানি তেলের মজুত প্রবণতা কমবে, বিক্রিতে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আমরা মনে করি।

এর আগে গত ৩১ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক অফিস আদেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এপ্রিলে ১০০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। আর কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে অপরিবর্তিত ছিল প্রতি লিটার ১১২ টাকা, ১১৬ টাকা ও ১২০ টাকায়।