বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

খালেদা জিয়াকে আল্লাহ জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন: জামায়াত আমিরের দোয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নিতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বেগম জিয়ার জন্য দোয়া করেন তিনি।

তিনি লেখেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে রহম করুন, ক্ষমা করুন এবং তার প্রিয় জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার আপনজন, প্রিয়জন ও সহকর্মীদেরকে মহান আল্লাহ সবরে জামিল দান করুন। আমিন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে শোকাহত বিএনপি পরিবার।

বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া

বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য চরিত্র মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রনায়কে উত্তরণের এই পথে চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা এক সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের চড়াই-উতরাইয়ের পথ পেরিয়ে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিজয়ী হয়। দেশের প্রথম ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে শপথগ্রহণ করেন।

খালেদা জিয়ার শাসন আমল, ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ — এই দুইভাগে ভাগ করেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়ার সরকার একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়ে। সেই বিতর্ক থেকে তার দল ও সরকার আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ঘটে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার দল বিএনপির ব্যাপক ভরাডুবি হয়। এরপর থেকে দলটি রাজনৈতিকভাবে আরে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এদিকে, ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেনজির ভুট্টো। তিনি আধুনিক ইতিহাসে কোনো মুসলিম দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম নারী। তিনি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ এবং ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আট বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে দেশে ফেরেন বেনজির ভুটো। কিন্তু ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারান তিনি। সেদিন সন্ধ্যায় রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগে এক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে সভাস্থল ত্যাগ করার সময় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর তার ঘাড় ও বুকে গুলি করে। এরপর আততায়ী কিশোর নিজের শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

বাবরের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন স্ত্রী শ্রাবনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে নেত্রকোণা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ি) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবনীও।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্ত্রীর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাবরের একান্ত সচিব মির্জা হায়দার ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা চৌধুরী প্রমুখ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। একই দিনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকতার কার্যালয়ে এসে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এ সময় সাংবাদিকরা তার স্ত্রীর মনোনয়নের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে বাবরের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মনোনয়নপত্র জমাদানের ফরমে স্বামীর নামের স্থানে লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম লেখা রয়েছে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি ডাক্তার আনোয়ারুল হক বলেন, শুনেছি বাবরের সহধর্মিণী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন। তবে দলীয়ভাবে ওই আসনে বাবরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দলীয়ভাবে। মনোনয়ন পরিবর্তন বা জোটকে ছেড়ে দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো সেন্ট্রাল থেকে এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।

সাদামাটা গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবন শেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তবে তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের আপসহীন এ নেত্রীর পথচলা ছিল অনেকটাই সাদামাটা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহতের সময় দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে একজন সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসে বসবাস করছিলেন খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তখন তার বয়স ছিল প্রায় ৭৮ বছর।

রাজনৈতিক মহলে তিনি একজন দুর্বল ও অদক্ষ নেতা হিসেবে বিবেচিত হতেন। তৎকালীন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে পছন্দ করতেন, কারণ তারা জানতেন তিনি শক্ত হাতে ক্ষমতা পরিচালনা করতে সক্ষম নন। সে সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলও (বিএনপি) ছিল গভীর সংকটে—দল দিশেহারা, নেতৃত্বহীন এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তিতে জর্জরিত।

বিএনপির একাংশ চেয়েছিল কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হোক। তবে যারা আব্দুস সাত্তারের সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা এর বিরোধিতা করেন। প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ তার গ্রন্থ ‘চলমান ইতিহাস: জীবনের কিছু সময় কিছু কথা’-এ লিখেছেন, সামরিক ও শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় আশঙ্কার নাম ছিল খালেদা জিয়া। কারণ প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হলে তিনিই হতে পারতেন সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।

তড়িঘড়ি করে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এইচ এম এরশাদও সাত্তারকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। বিএনপির ভেতরে মতভেদ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের ইচ্ছাই কার্যকর হয়। মওদুদ আহমদের ভাষায়, ‘বেগম জিয়া যদি প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চাইতেন, তাহলে অন্য কারো প্রার্থী হওয়ার তখন আর প্রশ্ন উঠতো না।’

রাজনীতিতে আসার অনীহা

রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়াকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যেত না। তার রাজনীতিতে প্রবেশ অনেককেই বিস্মিত করেছিল। সাংবাদিক শফিক রেহমান তার লেখায় উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলেও খালেদা জিয়া ছিলেন লাজুক গৃহবধূ—দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে নিয়ে সাংসারিক জীবনেই ব্যস্ত।

বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বে অসন্তোষ এবং দল পরিচালনার ব্যর্থতার কারণে বিএনপির একাংশ খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আনার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু রাজনীতির প্রতি তার নিজস্ব আগ্রহ ছিল না। এর পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল—স্বামীর আকস্মিক হত্যাকাণ্ডে গভীর মানসিক আঘাত, পরিবারের অনীহা এবং রাজনৈতিক জীবনের অনিশ্চয়তা।

 

 

সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ তার বই ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’-তে উল্লেখ করেছেন, রাজনীতি তাকে এমন পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে কি না—এই আশঙ্কা তাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছিল।

রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা

দলের নেতা-কর্মীদের দীর্ঘ অনুরোধ ও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রয়োজনে অবশেষে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যুক্ত হতে সম্মত হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধান এরশাদও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, কারণ এতে তার ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারত।

১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। একই বছরের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তার প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য আসে। এরপর তিনি দ্রুত দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন।

১৯৮৩ সালে তিনি সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন—যা সামরিক শাসক ও ক্ষমতাকেন্দ্রের অনেকেরই পছন্দ ছিল না।

তিনি ১৯৮৬ সালের কারচুপির নির্বাচনের বিরোধিতা করেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। যদিও আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এরশাদের অবৈধ সরকারকে বৈধতা দেয়ার জন্য জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন শাসনের অধীনে নির্বাচনে যোগ দিয়েছিল। তার দৃঢ় সংকল্পের কারণে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক হয়েছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে ১৯৮০ দশকে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা, সাত দলীয় জোট গঠন, নির্বাচনী কারচুপির বিরোধিতা এবং বারবার কারাবরণ এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান শেষে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম জিয়া। তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মেয়াদে কিছু বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। কর্মসংস্থানের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এই সময় এবং শুধুমাত্র তৈরি পোশাকশিল্প খাতেই পাঁচ বছরে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি ছিল ২৯%। প্রায় দুই লাখ নারী এই সময় তৈরি পোশাকশিল্প খাতে যোগ দেন।

‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে উত্থান

প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় বসেই বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে গঙ্গার পানি-বণ্টনের সমস্যা উত্থাপন করেন, যেন বাংলাদেশ গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ পায়। ১৯৯২ সালে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হলে সেখানে তিনি রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সমস্যা উত্থাপন করেন এবং পরে মিয়ানমার সরকার ১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি করে।

১৯৯৬ সালে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর খালেদা জিয়া টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির কারণে, তিনি এক মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেন। যদিও বিএনপি ১৯৯৬ সালের জুনের নতুন নির্বাচনে হেরে যায় তার দল। তবে দেশের ইতিহাসে সংসদে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে ১১৬টি আসন পায় সেই নির্বাচনে।

১৯৯৯ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে চারদলীয় জোট গঠন করে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করে। বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। ফোর্বস ম্যাগাজিন নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকার জন্য ২০০৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় তাকে ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।

২০০৬ সালে, তিনি একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্বাসনে পাঠানোর একাধিক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

ক্ষমতায় থাকাকালীন, খালেদা জিয়ার সরকার বাধ্যতামূলক বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, ছাত্রীদের জন্য একটি শিক্ষা ‘উপবৃত্তি’ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য খাদ্য প্রবর্তন করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছিল। তার সরকার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করে এবং শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে।

বেগম জিয়া কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে, তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সেখানে তিনি জয়লাভ করেছিলেন।

গণতন্ত্রের জন্য নতুন লড়াই

২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করলে গণতন্ত্রের জন্য তার লড়াই নতুন করে শুরু করেছিলেন। সরকার তাকে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু করায় তাকে দুইবার গৃহবন্দী করা হয়ে। গণতন্ত্রের প্রতি তার ভূমিকার জন্য, তাকে ২০১১ সালে নিউ জার্সির স্টেট সিনেট ‘গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২০ সালের কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিল, মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে তার ‘ন্যায্য বিচারের অধিকারকে সম্মান করা হয়নি।’

 

 

পরবর্তীতে চলতি বছর আপিল বিভাগের রায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ সবাই খালাস পান। রায়ে আদালত জানায়, এ মামলায় আসামিদের কারও ‘অপরাধ পাওয়া যায়নি’।

খালেদা জিয়া ভোর ৬টায় মৃত্যু বরণ করেন: ডা. জাহিদ

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। বেগম খালেদা জিয়া’র মৃত‍্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেন বেগম খালেদা জিয়া’র ব‍্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

এ সময় হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার জ‍্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম ইসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সকল আত্মীয় স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তিকাল করেন।
বিএনপি মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে দেশভাগের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন। তাঁদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

জিয়াউর রহমান বীর উত্তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বেগম জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

বেগম জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।

ঋণখেলাপির তালিকা থেকে মান্নার নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ, বাধা নেই নির্বাচনে

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

ফলে বগুড়া থেকে জাতীয় নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা নেই বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এর আগে, ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার ও সিআইবি স্থগিত চেয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দেন। পরে তিনি চেম্বার জজ আদালতে আপিল করেন। গতকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতের বিচারক রেজাউল হকের চেম্বারে এ বিষয়ে তার আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিচারক গতকাল কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আজ (২৯ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা খেলাপি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে গত ১০ ডিসেম্বর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডকে ‘কলব্যাক নোটিশ’ পাঠায়। নোটিশটি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর ঠিকানায় পাঠানো হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না আফাকু কোল্ড স্টোরেজের ৫০ শতাংশের অংশীদার, আর এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী ২৫ শতাংশ ও তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজু ২৫ শতাংশ অংশীদার। নোটিশে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। গত বুধবার হাইকোর্ট মান্নার রিট খারিজ করে দেন।

অপরাধীরা যাতে সীমান্ত দিয়ে পালাতে না পারে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশ থেকে কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী যাতে সীমান্ত দিয়ে পালাতে না পারে বিজিবিকে সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে কোনো অপরাধী, সন্ত্রাসী সীমান্ত দিয়ে যাতে পলায়ন করতে না পারে, সে বিষয়ে আপনাদের কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

দেশের সীমান্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। যেসব কর্মকর্তা মাদক ও চোরাচালানে সহযোগিতা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলী ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। সীমান্ত দিয়ে কোনো অপরাধী যেন পার না হতে পারে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

চট্টগ্রামে আসন পরির্বতনসহ দলীয় প্রার্থীও বদল করেছে বিএনপি

একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে চট্টগ্রামে আসন পরির্বতনসহ দলীয় প্রার্থীও বদল করেছে বিএনপি। পুরোনো আসনে (চট্টগ্রাম-১১) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের আসনে (চট্টগ্রাম-১০) ছেলে সাঈদ আল নোমান নির্বাচন করছেন। একই সঙ্গে সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম-৪) ও রাউজানে (চট্টগ্রাম-৬) আসনে দলীয় প্রার্থী বদল হয়েছে। এ দুটি আসনে নতুন করে প্রার্থী করা হয়েছে আসলাম চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারকে। সব মিলিয়ে এই চার আসনে বিএনপির দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়নে পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বে তৃণমূলে ভিন্ন আমেজ তৈরি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে তার পুরোনো আসনে (চট্টগ্রাম-১১) চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এই সংসদীয় এলাকা থেকে ছয়টি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারবার বিজয়ী হয়েছেন তিনি। এর আগে তাকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এখন আসনটিতে নির্বাচন করবেন প্রয়াত বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান। তার বাবা বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান দুটি সংসদ নির্বাচনে (নবম ও একাদশ) অংশ নেন এই আসন থেকে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনেও (সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ড) প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। আসনটিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরী। এর আগে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয় এ আসনে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিলেও শেষ মুহূর্তে এসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আকবর খোন্দকারকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, পুরোনো আর নতুন নেতৃত্বে এবার এই চারটি আসনে দলের ভেদাভেদ ভুলে কাজ করলে দল শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীও জয়ী হবে বলে বিশ্বাস। তাছাড়া নতুন প্রার্থীর কারণে ভিন্ন মেরূকরণে নেতাকর্মীরা ভিন্ন আমেজে মাঠে কাজ করবেন।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনন্য রাজনৈতিক দর্শন বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সমৃদ্ধির রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি উন্নয়ন অগ্রযাত্রার যে রাজনীতি, তা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে অনন্য অবস্থান তৈরি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গতিশীল ও আধুনিক নেতৃত্বে বিএনপি এখন দেশের আশা-ভরসা ও আস্থার স্বীকৃত ঠিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সামনের দিনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

নিজ সংসদীয় আসনের ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দল আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা আপনাদের ত্যাগের ফসল। আপনারা চেয়েছেন বলেই প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করে আমাকে চূড়ান্ত করেছে। আপনাদের এই আস্থা বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সেইসঙ্গে আপনাদেরও সব মতপার্থক্য ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে।’

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমান কালবেলাকে বলেন, ‘দল আমার প্রতি আস্থা রাখায় সর্বপ্রথম মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান, যিনি আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। দল আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তা আমার জন্য এক অনন্য সম্মান এবং একই সঙ্গে দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের আপামর জনতা, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ১০ আসনের প্রতিটি মানুষ সুখ-দুঃখে পাশে থেকে, তাদের ন্যায্য অধিকার ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি অবিচলভাবে কাজ করে যাব। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমে এ আসনে গণমানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।’

চট্টগ্রাম-৬ আসনের দলের মনোনীত প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার কালবেলাকে বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে দল আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছে, এ জন্য আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে মনোনয়ন দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমি খুবই আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনতে সব পক্ষকে নিয়ে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করব। রাউজানকে ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপ্রিয় জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সেইসঙ্গে রাউজানকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। জনগণ যদি আমার ওপর তাদের আস্থা রাখে আমি অবশ্যই উন্নয়নের মাধ্যমে এর প্রতিদান দেব ইনশাল্লাহ।’

রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গোলাম আকবর খোন্দকার দলের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ জন্য আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই, সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য ‘একই কথা বললেন রাউজান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনও। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে একটি আদর্শ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাউজান গড়তে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’