মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

বিপর্যয় সামলে চট্টগ্রামকে ‘সহজ’ লক্ষ্য দিল ঢাকা

বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১২২ রানে অলআউট হয় ঢাকা।

ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ ঢাকা ক্যাপিটালসের দুই ওপেনার।
এর মধ্যে ওপেনার সাইফ হাসান তো তিন ম্যাচেও যেতে পারেননি দুই অংকের ঘরে।

ইনিংসের শুরুতেই দলীয় মাত্র ৩ রানে পেসার শরিফুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। চলতি বিপিএলে তিন ইনিংস মিলিয়ে সাইফের সংগ্রহ মাত্র ১১ রান। জুবাইদ আকবরীও ফেরেন একই বোলারের বলে ডিপ পয়েন্টে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর উসমান খান তানভির ইসলামের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে স্টাম্পিং হন ১৫ বলে ২১ রান করে।

এরপর উইকেটে এসে থিতু হতে পারেননি শামীম হোসেন পাটোয়ারিও। আগের ম্যাচে ঝলমলে ইনিংস খেললেও এদিন শেখ মেহেদীর বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন ৭ বলে ৪ রান করে।

ব্যাটারদের নিয়মিত আসা-যাওয়ার মিছিলে ঢাকার বিপর্যয় বাড়ে দ্রুত।
অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন তানভির ইসলামের বলে লং অনে মির্জা তাহির বেগকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৮ রান করে। এতে ৪৬ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় ঢাকা।

এরপর সাব্বির রহমান বড় শট খেলতে গিয়ে শেখ মেহেদীর বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন ৯ রান করে। স্কোর দাঁড়ায় ৫৫ রানে ৬ উইকেট। অন্যদিকে ইমাদ ওয়াসিম লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বল মিস করলে উইকেটকিপার অ্যাডাম রসিংটন দ্রুত স্টাম্প ভেঙে দেন।
এতে ৬৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তারা।

ঢাকাকে এই বিপর্যয় থেকে কিছুটা টেনে তুলেন নাসির হোসেন ও সাইফ উদ্দিন। তাদের ৩৬ বলে ৪৮ রানের জুটি দলকে বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে টেনে তুলে। নাসির ব্যাক্তিগত ১৭ রানে ফিরলে ক্রিজে এসে টিকতে পারেননি তাসকিন আহমেদ ও সালমান মির্জা। এতে ১৯.৪ ওভার খেলে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা। সাইফ সর্বোচ্চ ২৫ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন।

চট্টগ্রামের হয়ে শরিফুল ইসলাম ও তানভির ইসলাম সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।

নাহিদ ইসলামের হলফনামা সংক্রান্ত বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিলো এনসিপি

এনসিপির আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি হলফনামা-সংক্রান্ত কিছু তথ্য বিভ্রান্তি স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। হলফনামায় দেখানো নাহিদ ইসলামের ৩২ লাখ টাকার মোট সম্পত্তি নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব তামীম আহমেদের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়,নাহিদ ইসলামের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন বেতন-ভাতা থেকে মোট আয় ছিলো ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা। সাত মাস উপদেষ্টা পদে থেকে গড়ে মাসিক ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে তিনি এই অর্থ আয় করেন। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে মাসিক এক লাখ টাকা সম্মানিতে কাজ শুরু করেন।

সে হিসেবে গত অর্থ বছরে উপদেষ্টা পদে থেকে এবং পরামর্শক পেশার আয় থেকে মোট ১৬ লাখ টাকা আয় করেন এবং ২০২৪-২৫ আয়-বর্ষে তার আয়ের উপর সর্বমোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেন। এই সকল তথ্য তার আয়কর রিটার্নে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে হলফনাফায় নাহিদ ইসলামের বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ১৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, হলফনামায় নাহিদ ইসলামের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ করা ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। যা উনার উপদেষ্টা এবং পরামর্শক পদে থেকে আয়, হাতে থাকা নগদ অর্থ, ইতিপূর্বে করা সেভিংস, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বিয়েতে আত্মীয় স্বজন থেকে প্রাপ্ত আর্থিক এবং স্বর্ণালংকারের উপহারের বর্তমান বাজার মূল্যের সমষ্টি।

আয়কর রিটার্ন কিংবা নির্বাচনি হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা শিক্ষকতা দেখানো হয়নি এবং এটা স্পষ্টতই একটি অপতথ্য। নির্বাচনি হলফনামার ৪ নং কলামে স্পষ্টত উনার বর্তমান পেশা হিসেবে পরামর্শক এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পদ উল্লেখ করা আছে। এছাড়া তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পদত্যাগ করার সময় তার সোনালী ব্যাংকের একটিমাত্র অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা জমা ছিলো বলে পাবলিক পোস্টে জানিয়েছিলেন।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সে একই অ্যাকাউন্টে তার বর্তমান জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। সোনালী ব্যাংকের এই একটি মাত্র অ্যাকাউন্ট এবং নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংকে খোলা অ্যাকাউন্টটি ছাড়া বর্তমানে নাহিদ ইসলামের আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।

বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি এখন শূন্য। এই পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো দলের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না এলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এখন চেয়ারম্যান। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই পদে তিনি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান এখন দলটির চেয়ারম্যান।
শিগগিরই তিনি এই পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা আছে— ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’ সে হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তারেক রহমান।

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।
১৯৮৪ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারা অনুযায়ী তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, দলীয় শূন্যতা পূরণ এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, পুরো দেশ অভিভাবকহীনতায় আছে। তার ছেলে তারেক রহমানও শোকে মুহ্যমান। এ রকম পরিস্থিতিতে দলের পদ-পদবি নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নেই।
তবে অবশ্যই তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যান।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে তিনি দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।

২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে যুক্তরাজ্য থেকেই তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনার দায়িত্ব নেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন।

খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আজ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিএনপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির উদ্যোগে সুবিধাজনক সময়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনও শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। আজ (শুক্রবার, ২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ২০টায় তারা রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

এসময় জাইমা রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানও উপিস্থিত ছিলেন। এছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সঙ্গে ছিলেন।
খালেদা জিয়ার কবরের পাশাপাশি সেখানে অবস্থিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতও করেন তারা।

সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও দৃঢ়: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় একাধিক আঞ্চলিক নেতার উপস্থিতি প্রমাণ করে, ‘সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও দৃঢ়।’

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম নারী সরকারপ্রধানের প্রতি সার্কভুক্ত দেশগুলো যেভাবে সম্মান জানিয়েছে তাতে তিনি গভীরভাবে অভিভূত হয়েছেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার জানাজায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক; ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর; নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা; শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ; ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা ও শ্রমমন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ।

পরে পাকিস্তানের সংসদীয় স্পিকার এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সফররত বিশিষ্টজনরা প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্রের জন্য তার আজীবন সংগ্রাম ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, জানাজায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তারা অভিভূত। ‘এতে বোঝা যায় মানুষ তাকে কতটা সত্যিকারের ভালোবাসতেন,’ —প্রধান উপদেষ্টা বলেন।

সবকটি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বারবার দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

মালদ্বীপের মন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গতকাল জানাজায় আমরা প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি। সার্ক এখনো বেঁচে আছে। সার্কের চেতনা এখনো জীবিত।’

‘গতকাল সার্ক সক্রিয় ছিল। আমরা একসঙ্গে আমাদের দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি,’ শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথকে বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে সার্ক নেতাদের একটি অনানুষ্ঠানিক সমাবেশের জন্য তার প্রচেষ্টার কথাও স্মরণ করেন।

‘আমি সার্ক নেতাদের মধ্যে একটি মিলনমেলা আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, এমনকি সেটা পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও,’ বলেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্ক পুনরুজ্জীবিত হবে এমন আশাও ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকগুলোতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

নির্বাচনের পর তিনি তার পূর্বের পেশাগত ভূমিকায় ফিরে যাবেন বলে পাকিস্তানের সংসদীয় স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিককে জানান।

বৈঠকে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা বাংলাদেশের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ডাকযোগে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ব্যবস্থা চালু করার পর বিদেশে বসবাসকারী এবং কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

‘আমরা আপনাদের এ অভিজ্ঞতা থেকে শিখব’—শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেন।

র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে এক ঘণ্টার জন্যও ব্যবহার করিনি, কেউ প্রমাণ দেখাতে পারবে না: বাবর

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে একদিনের জন্য বা এক ঘণ্টার জন্যও আমরা ব্যবহার করিনি। এটা কেউ বলতে পারবে না, প্রমাণ দেখাতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া আপসহীন ছিলেন জানিয়ে বাবর বলেন, যখন আমি যা চেয়েছি উনি আমাকে তাই দিয়েছেন। তিনি বলেন, অন্যায় করলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হতো না। এমন নেত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। নেত্রীর সঙ্গে আমি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। উনার দেশপ্রেম দেখেছি। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে উনি কোনো আপস করেননি।

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে এখানে এসেছি। রাজনৈতিক কোনো পরিকল্পনা নেই, এটা আমার ব্যক্তিগত আবেগ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নিয়েছি।

নতুন বছরে জ্বালানি তেলের দাম কমলো লিটারে ২ টাকা

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমলো লিটারপ্রতি ২ টাকা করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের এই নতুন দাম ঘোষণা করেছে সরকার।

২ টাকা করে কমে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা ও পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা গেজেট অনুযায়ী, নতুন এই দাম ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

হাদি হত্যায় জড়িত নই— ফয়সালের দাবি, বক্তব্য আমলে নিচ্ছে না ডিবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, ভিডিওতে ফয়সাল কী দাবি করলেন তা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই তাকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তাদের মধ্যে ১৬৪ ধারায় ৬ জন স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, ফয়সালের মা মোছাম্মৎ হাশি বেগম ও স্ত্রী সাহেদা পরভিন সামিয়াসহ আরও ৮ জন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিও বার্তায় সে কী বলেছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আর ভিডিওটি এআই জেনারেটেড কি না সেটাও প্রশ্ন রয়ে যায়। হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সাল মূল অভিযুক্ত, এ বিষয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য রয়েছে। ফয়সালের মা, বাবা, স্ত্রী ও তার প্রেমিকা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় তাকে নিয়ে যাওয়া ড্রাইভারের সাক্ষ্যও রয়েছে। আমরা আমাদের তদন্তের ভিত্তিতেই আছি এবং হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত।

ভিডিওটি এআই জেনারেটেড কি না তা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ থাকলেও ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ভিডিওটি এআই জেনারেটেড নয়। ভিডিওতে দৃশ্যমান ফয়সালের চেহারা, মুখভঙ্গি ও অভিব্যক্তি তার বাস্তব চেহারার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ, আলো ও ফ্রেম বিশ্লেষণ করে এবং অন্তত চারটি নির্ভরযোগ্য এআই যাচাই টুল ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া গেছে ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়।

তাদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তবে ভিডিওর কিছু ফ্রেমে ফয়সাল একটি নির্দিষ্ট মুখভঙ্গি করার সময় তার থুতনিতে থাকা দাড়ি অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিও ধারণের সময় ব্যবহৃত একটি ফিল্টারের কারণে এমনটি হয়েছে। ফিল্টারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার হলেও এটি পুরো ভিডিওকে এআই-সৃষ্ট কনটেন্ট প্রমাণ করে না।

ভিডিওবার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে শুধু ভিডিওর ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফয়সাল নিজেও তার দুবাই অবস্থানের পক্ষে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

এ ছাড়া ভিডিওতে ফয়সাল বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তবে দ্য ডিসেন্টের আগের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ উপস্থিত ছিলেন। বাইকের পেছনে বসে গুলিবর্ষণকারী ছিলেন ফয়সাল এবং চালক ছিলেন আলমগীর শেখ। এই তথ্য পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেও নিশ্চিত হয়।

ভিডিওবার্তায় ফয়সাল বলেন, আমি ফয়সাল করিম মাসুদ। বিগত ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদি নামে যে ব্যক্তির হত্যা মামলা আসামি আমাকে করা হয়েছে। আসলে আমি এই মামলার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত না।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বত্রন্ত্র প্রার্থী এবং রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চে’র মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

চীন ও তাইওয়ানের এক হওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না: শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন ও তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ ‘অপ্রতিরোধ্য’। দ্বীপটি ঘিরে দুই দিনব্যাপী সামরিক মহড়া শেষের একদিন পর ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আনাদোলুর।

বুধবারের (৩১ ডিসেম্বর) এই ভাষণে শি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাড়ের চীনারা রক্তের বন্ধন ও আত্মীয়তার সম্পর্কে আবদ্ধ। আমাদের মাতৃভূমির পুনরেকত্রীকরণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে, এটা কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

এর আগে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে দুই দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করে বেইজিং। তাইপের কাছে যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই মহড়া চালানো হয়।

তাইওয়ানকে বরাবরই একটি ‘বিচ্ছিন্ন প্রদেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে তাইপে ১৯৪৯ সাল থেকে নিজেদের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে।

শি জিনপিং বলেন, আজকের বিশ্ব পরিবর্তন ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু অঞ্চলে এখনও যুদ্ধের আগুন জ্বলছে। চীন সবসময় ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়ায়। আমরা বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এবং মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সব দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’

প্রসঙ্গত, তাইওয়ান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা বাড়ছে। জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান ইস্যু যুদ্ধের দিকে গেলে সামরিক পদক্ষেপে ইঙ্গিত দেন। তার বক্তব্যের পর এশিয়ার বৃহৎ দুই অর্থনীতির মধ্যে বৈরিতা দেখা দিয়েছে। আর তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।