মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

ট্রাভেল এজেন্সি আইন লঙ্ঘনে ১ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ট্রাভেল এজেন্সি আইন লঙ্ঘনে ১ বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরের অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে প্রণীত নিম্নে উল্লিখিত অধ্যাদেশটি এতদ্দ্বারা জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করা হইল।

অধ্যাদেশে আরো বলা হয়েছে, যেহেতু অফলাইন ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনায় গ্রাহকসেবা, টিকিটের ন্যায্যমূল্য, আকাশপথে পরিবহন খাতে সুশাসন এবং সাধারণ যাত্রীসহ অভিবাসীকর্মীদের বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে হয়রানি নিবারণকল্পে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ সংশোধন করা প্রয়োজন।

যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে।

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন, যথা :

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন। (১) এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।

ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

আকাশপথে ভ্রমণের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করিবে না বা তাহাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখাইবে না বা তাহার সহিত কোনো প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করা হইবে না বা অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিকট হইতে টিকেট ক্রয়-বিক্রয় করা হইবে না বা ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্ট হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করা যাইবে না এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যমে লেনদেন করিতে হইবে মর্মে হলফনামা দফা (ঙ) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (চ) ও দফা (ছ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা পরিবারের সদস্যবর্গের নামে ট্রাভেল এজেন্সি থাকিলে এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর, মালিকের পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, উত্তরাধিকার সনদ, অর্থের উৎসসহ চূড়ান্ত উপকারভোগী মালিকের নাম ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং স্বার্থ নিরপেক্ষ লেনদেন অনুযায়ী ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার তথ্যাদি; এবং অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ হইবে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ হইবে ১ (এক) কোটি টাকা।

ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক প্রতি বৎসর আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন সরকারের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাখিল করিতে হইবে এবং দাখিলকৃত প্রতিবেদন সন্তোষজনক মর্মে বিবেচিত হইলে প্রতি ৩ (তিন) বৎসর পর পর নিবন্ধন সনদ নবায়নযোগ্য হইবে।

টিকেটিং এর উদ্দেশ্যে কোনো এয়ারলাইন্সের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমরূপে ব্যবহৃত দেশি ও বিদেশি অ্যাপ্লিকেশন, সিস্টেম, পোর্টাল, প্ল্যাটফর্ম, ইত্যাদি ডিজিটাল টিকেট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল অবৈধভাবে ব্যবহার করিলে বা ইহার লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার বা বিতরণ করিলে অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিকট হইতে টিকেট ক্রয়-বিক্রয় করিলে বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করিলে ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানা ব্যবহার করিয়া রিক্রুটিং এজেন্ট হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করিলে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যমে লেনদেন না করিলে, যে-কোনো উপায়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করিয়া বা মিথ্যা তথ্য দ্বারা সৃষ্ট বুকিং (ভধষংব নড়ড়শরহম) এর মাধ্যমে টিকেটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি করিলে, মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণার উদ্দেশ্যে মূল্য ছাড়, চটকদার প্রলোভন, ক্যাশব্যাক বা ইনসেনটিভ প্রদান সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করিলে অথবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করিলে, অভিবাসী কর্মী বা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর কার্ডধারীগণের ক্ষেত্রে উৎস দেশ ও গন্তব্য দেশ ব্যতীত তৃতীয় কোনো দেশ হইতে টিকেট ক্রয়-বিক্রয় করিলে এবং তাহাদের গ্রুপ বুকিং বা টিকেটিং এর ক্ষেত্রে টিকেট কনফার্মেশনের পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করিলে; অভিবাসী কর্মী বা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর কার্ডধারীগণের টিকেট ক্রয়-বিক্রয়কালে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে একত্রে অর্থ পরিশোধ করিলে; ট্রাভেল এজেন্সির চাকরি বা কার্যক্রমের সহিত এয়ারলাইন্স বা এর কোনো কর্মচারীর সম্পৃক্ততা থাকিলে; অথবা টিকেটের গায়ে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, নিবন্ধন সনদ নম্বর ও মূল্য লেখা না থাকিলে। (আ) উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৩) সংযোজিত হইবে, যথা কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ স্থগিত করা সমীচীন মর্মে প্রতীয়মান হইলে জনস্বার্থে, শুনানি গ্রহণ ব্যতীত, সরকার, সাময়িকভাবে উক্ত নিবন্ধন সনদ স্থগিত করিতে পারিবে।

কোনো ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি। প্রতারণা, দুর্নীতি বা এতদসংক্রান্ত আবশ্যকীয় ক্ষেত্রে আকস্মিক দেশত্যাগ রোধকল্পে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহিত সমন্বয় সাধনপূর্বক ট্রাভেল এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করিবে।

আদেশ জারির ক্ষমতা। সরকার, সময় সময়, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ উহা মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।’

ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলায় নিহত ২০ ছাড়াল, আহত বহু

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। স্থানীয় একটি চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সাইয়ুন পাবলিক হাসপাতালের একটি সূত্র সিনহুয়াকে জানায়, গত কয়েক ঘণ্টায় হাসপাতালে ২০টির বেশি মরদেহ আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা
এর আগে দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-সমর্থিত স্যাটেলাইট চ্যানেল এআইসি জানায়, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো সাইয়ুন বিমানবন্দর ও আশপাশের আবাসিক এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে একই পরিবারের অন্তত সাত সদস্য নিহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা সিনহুয়াকে জানান, আকস্মিক ও তীব্র বিমান হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এদিকে সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আদেনভিত্তিক ইয়েমেন সরকারের এক কর্মকর্তা বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাইয়ুন বিমানবন্দরসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার বিষয়টিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন।

সৌদি বিমান হামলার পাশাপাশি হাদরামাউতে স্থলভাগে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রদেশটির সামরিক ঘাঁটি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এসটিসি-সমর্থিত বাহিনী এবং ইয়েমেনি সরকারি সেনাদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে। উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার এসটিসি দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় তারা দেশের দক্ষিণাঞ্চল শাসন করবে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

গত মাসে এসটিসি হাদরামাউত ও পূর্বাঞ্চলীয় আল-মাহরাহ প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেন সরকার ও এসটিসির মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। সৌদি আরব এসব অঞ্চলকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে, কারণ এগুলো দেশটির সীমান্তের কাছাকাছি এবং ইয়েমেনের অবশিষ্ট জ্বালানি সম্পদের বড় অংশ এখানেই রয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেন। সে বছর হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।

২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন ও শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে এবং ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত হলেও সংগঠনটি দক্ষিণের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে অবস্থান পরিবর্তন করেনি।

সর্বশেষ উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব গত মঙ্গলবার ইউএইকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সব ধরনের সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানায়।

এর পর শুক্রবার ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে তাদের সব সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং সেনাসদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিমান হামলা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠন করবে: জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন

জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় আসে, তবে আমরা একটি জাতীয় সরকার গঠন করবো। সংসদে অবস্থানকারী সব দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে, সবার মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠের যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

নির্বাচনকালীন সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে যেসব বেআইনি অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে বেহাত হয়ে আছে, সেগুলো দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।
অধ্যক্ষ নুরুল আমিন আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শিরদাঁড়া উঁচু করে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাই। এ দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ আপনাদের পাশে আছে, আপনাদের সাহস ও শক্তি জোগাবে।

ভূজপুর এলাকার মামলা সংক্রান্ত হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আপনারা অনেক হয়রানির শিকার হয়েছেন, অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। এই ব্যথা আমিও অনুভব করি। আমার নিজের আপন ছোট ভাইও একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ছিল।

তিনি বলেন, যুবকরাই আগামী দিনের দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই যুব সমাজকে হিংসামুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

সমাবেশে যুব বিভাগ ভুজপুর ইউনিয়ন শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি মো. দিদারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহসহ সব সদস্যকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

মাওলানা হাশেম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং রিপন আলী ও এস এম মুস্তাফা আমীন মানিকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল, বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুছ, অ্যাডভোকেট ইসমাইল গনি, ভূজপুর থানা আমির অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, ভুজপুর থানা যুব বিভাগ সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি মাস্টার হাদিপুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আলম নুরী ও সহকারী সেক্রেটারি আবু তাহের।

হবিগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ২৭ লাখ টাকা

হবিগঞ্জের শায়েস্তা গঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গ্রামের সজিব মিয়া ও রেনু মিয়ার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন সম্পূর্ণনিয়ন্ত্রণে আসে।

ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে ১৩টি পরিবারের অন্তত ১৫টি বসতঘর ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঘরগুলোর আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, কাপড়চোপড়সহ মূল্যবান সব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছেন। ঘটনার পর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর
জীবনযাপন করছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষে জানা যাবে।

হলফনামা বিশ্লেষণ: রাজশাহীর ৯২ শতাংশ প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রার্থী দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন ৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন অর্থাৎ প্রায় ৯২ শতাংশ প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রার্থীদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের আব্দুল বারী সরদার, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ এবং রাজশাহী-২ আসনের নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ সামছুল আলম।

রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ২৭ জন স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা সমমানের সনদধারী। তাঁদের মধ্যে এমবিএ করা শাহাবুদ্দিন রাজশাহী-২ ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা, নির্বাচনে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। এই ২৭ জনের মধ্যে আটজনের স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। একজন করে প্রার্থী রয়েছেন অষ্টম শ্রেণি, এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনের মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন স্নাতক, রাজশাহী-২ আসনের মিজানুর রহমান মিনু স্নাতক (পাস কোর্স), রাজশাহী-৩ আসনের শফিকুল হক মিলন স্নাতকোত্তর, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের ডি এম ডি জিয়াউর রহমান স্নাতকোত্তর, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের নজরুল ইসলাম স্নাতকোত্তর এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি।

রাজশাহী-৬ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম সুরুজ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। আর রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষক লীগের নেত্রী ও উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবা বেগমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি।

প্রার্থীদের মধ্যে চারজন আইনজীবী রয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহী-২ আসনে এলডিপির প্রার্থী মো. ওয়াহেদুজ্জামান এলএলবি, একই আসনে এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী সাঈদ নোমান এলএলবি, রাজশাহী-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খান এম এ (স্নাতকোত্তর) ও এলএলবি এবং রাজশাহী-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার এলএলএম করেছেন।

তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। তবে রাজশাহীতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে আজ ৩ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। প্রচার শেষে ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

মধ্যরাতে ডিএনসিসির অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ অভিযান

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে লাগানো পোস্টার ও বিলবোর্ডসহ সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ফেলা হবে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী।

তিনি জানান, গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের আদেশ দেওয়া হলেও এটি মানা হয়নি। এ অবস্থায় বিলবোর্ডগুলো অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

অবৈধভাবে লাগানো বিলবোর্ড এবং ব্যানার ফেস্টুন লাগানোর পেছনে যারা জড়িত তাদের জরিমানা করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের তো আসলে সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না, এমনকি নোটিশেও তারা সাড়া দেয় না। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে অভিযান চালাতে হয়।

অবৈধভাবে বসা দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, সেই অভিযান আমাদের দিনের বেলায় পরিচালিত হয়। আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত দখলদারদের উচ্ছেদে সেই অভিযান পরিচালনা করে থাকি।

ভুয়া নিউজ ও বিবৃতি প্রকাশে বিরত থাকুন, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অপূর্ব

তারকাদের ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নতুন কিছু নয়। গেল আগস্টে এমন পরিস্থিতির শিকার হন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। আবারও ঘটলো একই ঘটনা। নিজের ছবি ব্যবহার করে বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অপূর্ব।

কয়েকদিন থেকে ‘দৈনিক প্রতিবেদন’সহ বেশ কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অপূর্বর নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিতর্কিত-রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, যা চোখ এড়ায়নি অভিনেতার।

শুক্রবার বিকেলে ভুয়া ফটোকার্ডগুলো নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন অপূর্ব। এরমধ্যে একটিতে লেখা হয়েছে, ‘স্বৈরাচার তাড়াতে রাস্তায় নামলাম আর আজ প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কি স্বৈরাচার বিদায় হলো নাকি আরও বড় স্বৈরাচারের হাতে পড়লাম।’

অন্য একটি ফটোকার্ডে লেখা, ‘কোথাও স্বাধীনতা নেই। সব সময় ভয়ে থাকি কখন যে জীবনটাই শেষ হয়ে যায়। তাহলে কি আগের স্বৈরাচারই ভালো ছিল?’

এই ফটোকার্ডগুলোর বক্তব্য তার নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অপূর্ব। এ ধরনের ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর বিবৃতি প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি পোস্টের ক্যাপশনে লেখেন, ‘এ ধরনের ভুয়া নিউজ ও বিবৃতি প্রকাশে বিরত থাকুন। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গেল আগস্টে প্রায় সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে দেশে ফিরে একমাত্র সন্তানকে সারপ্রাইজ দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে বাবা–ছেলের স্নেহ-ভালোবাসার মুহূর্ত ফুটে উঠলেও সেটিকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ নোংরা ও মিথ্যা আলোচনা শুরু করেন। সেসময়ও যারা ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন অপূর্ব।

অভিভাবক সমাবেশের নামে নির্বাচনী সভা, জামায়াত প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ফেনী-৩ (সোনাগাজী–দাগনভূঞা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর এলাকায় বিবি ফাতেমা এতিমখানায় অভিভাবক সমাবেশের নামে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছিল জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। খবর পেয়ে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-১৮ লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, অভিভাবক সমাবেশের নাম করে সেখানে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। দায় এড়ানোর জন্যই অভিভাবক সমাবেশের নাম দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবিরও সত্যতা পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী কার্যক্রমের কিছু ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে, যেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। পরে প্রার্থীর প্রতিনিধি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন।

শেখ হাসিনাসহ প্রশাসনকে এক মিনিটের জন্য তোয়াক্কা করেননি বললেন রুমিন ফারহানা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ( সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে পেশি শক্তির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি’র সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধেও দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে রুমিন ফারহানার কোনো দল নেই তারা জীবনকালে সবচেয়ে বড় ভুল করবে বলে। কারণ তিনি বিগত সময়ে শেখ হাসিনাসহ প্রশাসনকে এক মিনিটের জন্য তোয়াক্কা করেননি।

শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়নে জালালপুর গ্রামে আয়োজিত এক মত বিনিময় সভা থেকে তিনি এ কড়া বার্তা দেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এবারের নির্বাচন টেন্ডারবাজি, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুরসহ বি়ভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে নির্বাচন। কেউ যদি মনে করে জবরদস্তি করে রাজনীতি করবে সেটা বর্তমানে সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সাবধান করে দিয়ে বলতে চাই কেউ যদি জবরদস্তির রাজনীতি করতে চায় জনগণ তাদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।’

কেউ যদি মনে করে রুমিন ফারহানার কোনো দল নেই তারা জীবনকালে সবচেয়ে বড় ভুল করবে বলে জানান তিনি। কারণ তিনি বিগত সময়ে শেখ হাসিনাসহ প্রশাসনকে এক মিনিটের জন্য তোয়াক্কা করেননি। তাই কোনো দল বা কোনো মতের মানুষ যদি মনে করে রুমিন ফারহানার দল নেই তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তার পাশে সরাইল, আশুগঞ্জের জনগণ রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের কোনো ভোটার, নেতাকর্মী বা কর্মী সমর্থকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে কেউ পার পাবে না বলেও জানান তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, যদি কেউ প্রভাব বিস্তার করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার নেতাকর্মী বা কোনো ভোটারকে দমিয়ে রাখতে চাই তাহলে তারা এখনো বড় ভুলের মধ্যে বসবাস করছে।

তিনি এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাঁস মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের মেয়ে আমি। আপনারা আপনাদের মেয়েকে ভোট দিয়ে বিজয় করবেন। আমার কাছে আপনারা যেভাবে খোলামেলা কথাবার্তা বলতে পারবেন অন্য কোনো এমপির কাছে এমনভাবে কথা বলতে পারবেন না। আমি সরাইল আশুগঞ্জসহ বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়নকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আমি চাই পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তির নগরী হিসেবে এই এলাকাকে গড়ে তুলবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চান্দুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বাবুল মিয়া, রেনু মিয়া, চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের আবু সাঈদ মেম্বার, মাজেদা খাতুন মেম্বার, নিরঞ্জন দাস, অমৃত দাস, নিরন্দ্র পাল, শান্ত পাল, যতিনী পাল, মুক্তার মেম্বার, আল আমিন, রনি, আকবর হোসেন, আবুল কাশেম, বাবলু মিয়া, আল আমিন, রাখাল ঋষি, মনির চৌধুরী, ইন্দ্র দাস সহ শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠ্যবই আসে দেরিতে, গাইড আসে আগেই : শিক্ষার ভেতরে জমে ওঠা এক বাণিজ্য

বছরের প্রথম দিন। নতুন খাতা, নতুন ব্যাগ, নতুন স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হাতে নেই নতুন পাঠ্যবই। অনেকের স্কুলে সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণির একটি বইও পৌঁছায়নি। অথচ স্কুলের পাশের দোকানগুলোতে রঙিন প্রচ্ছদের গাইড বই, নোট বই আর ‘সহায়ক বই’-এর স্তূপ। যেন পাঠ্যবইয়ের শূন্যতা পূরণ করতেই তাদের আগমন।

এই দৃশ্য নতুন নয়। গত দেড় দশক ধরেই বছরের শুরুতে এমন চিত্র দেখছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) টানা ১৫ বছর মার্চ–এপ্রিলের আগে সব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে পারেনি। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বছরের প্রথম দিনে মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থী বিনা মূল্যের পাঠ্যবই পায়নি।

পাঠ্যবই বিলম্বের এই ফাঁকটুকু দিয়েই বছরের পর বছর ফুলে-ফেঁপে উঠেছে গাইড বইয়ের বিশাল বাজার। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার এই বাজার এখন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় একটি নির্দিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই, যাদের দখলে নোট–গাইড বাজারের সিংহভাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাসে বইয়ের তালিকা দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট প্রকাশনার গাইড, নোট ও ব্যাকরণ বই কিনতে বলা হয়। কেউ না কিনলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার ভয় দেখানো হয়। অভিভাবকদের ভাষায়, “বিনা মূল্যের বই পেলেও বাস্তবে পড়াশোনার জন্য আবার হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয়।”

২০০৮ সালে উচ্চ আদালতের আদেশে নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়ানো এবং পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা যেন কাগজেই রয়ে গেছে।

গাইড বই এখন আর গাইড নামে নয়—‘সহায়ক বই’, ‘অনুশীলনমূলক বই’, ‘একের ভেতর সব’ ইত্যাদি নামে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বইয়ের দোকান থেকে শুরু করে স্কুলের ভেতরেও এসব বইয়ের অবাধ প্রচার চলছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে, পাঠ্যবই বিতরণের আগেই গাইড বই কীভাবে বাজারে আসে? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস, নম্বর বণ্টন এমনকি মুদ্রণের ‘র’ কপিও আগেভাগে চলে যায় প্রকাশকদের হাতে। ফলে জানুয়ারির শুরুতেই বাজারে পাওয়া যায় গাইড বই, আর পাঠ্যবই আসে মাসের পর মাস দেরিতে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই ছাপার জন্য তুলনামূলক আগেই দরপত্র আহ্বান করা হলেও রিটেন্ডার ও প্রশাসনিক জটিলতায় মাধ্যমিকের বই ছাপা শুরু হয় দেরিতে। নবম শ্রেণির কিছু বইয়ের কার্যাদেশ আড়াই মাস আটকে থাকার ব্যাখ্যাও মেলেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক বলেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন পরীক্ষানির্ভর। শিক্ষার্থীরা শেখার চেয়ে মুখস্থে বেশি অভ্যস্ত হচ্ছে। গাইড বইয়ে সব কিছু সাজানো থাকায় তাদের চিন্তা করার সুযোগ কমে যাচ্ছে।”

শিক্ষাবিদদের মতে, গাইডনির্ভরতা বাড়ার ফলে পাঠ্যবইয়ের গুরুত্ব কমছে, শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ও সৃজনশীল দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইনে পাঠ্যবইয়ের ভার্সন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রাম বা প্রান্তিক অঞ্চলের বহু শিক্ষার্থীর কাছে সেই সুযোগ নেই। অন্যদিকে স্কুল পর্যায়ে গাইড বইয়ের বাণিজ্য থামাতে কার্যকর নজরদারির অভাব স্পষ্ট।

প্রশ্ন থেকেই যায়— পাঠ্যবই যেখানে রাষ্ট্র বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা, সেখানে কেন শিক্ষার্থীদের শুরুতেই গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়? এই দেরি কি কেবল প্রশাসনিক অদক্ষতা, নাকি এর আড়ালে রয়েছে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা এক নীরব বাণিজ্য?

শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার স্বপ্ন কি কখনো বাস্তব হবে, নাকি প্রতিবছরই নতুন বছরের প্রথম পাঠ শুরু হবে গাইড বই দিয়েই?