মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: ইসি সানাউল্লাহ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেল’-এর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এরআগে ‘ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিম’ -এর সঙ্গেও মতবিনিময় সভা করেন নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যেসব নিরাপত্তা-সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনে তাদের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তঃদলীয় সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, যা একটি ইতিবাচক লক্ষণ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসুক, কোনো দল যেন সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে- এভাবে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সবার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আজ আমরা যে সমন্বিত বাহিনীর প্রস্তুতি দেখেছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। বৃহত্তর চট্টগ্রামে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব। অপতথ্য ও গুজব রোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অপতথ্য ছড়ানো যেমন অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ- এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে অভিযান চলছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। অতীতে যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল, সামনে তার পুনরাবৃত্তি হবে না- ইনশাআল্লাহ।

এরআগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভায় ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আপনারা যে অপারেশনগুলো করছেন, অপারেশনের পরে তা মিডিয়ায় দিয়ে দিবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার পেয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ তারা জানবে অপকর্ম করলে ধরা পড়তে হবে এবং অপকর্ম লোকালি থাকবে না জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। লোকাল ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় ক্ষতি হবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক।

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকায় (চট্টগ্রাম) সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মতবিনিয়ম সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খাঁন প্রমুখ।

এনবিআর বিভাজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে অন্তর্বর্তী সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে অন্তর্বর্তী সরকার।

তিনি বলেন, ‘এখনও সময় আছে। এটি এখনও সম্পন্ন হয়নি, তবে জানুয়ারি কিংবা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আপনারা দেখতে পাবেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। মাত্র একটি ছোট বিষয় বাকি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এটা হবে।’
আজ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পৃথক দুটি সভায় সভাপতিত্ব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে, পূর্বের আশ্বাস সত্ত্বেও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এনবিআর বিভাজন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রক্রিয়াটি সঠিক পথেই রয়েছে এবং কেবল কিছু অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

সরকার নিজেই কি এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘নিশ্চয়ই’।
এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো এনবিআরকে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করা, একটি কর নীতি প্রণয়নের দায়িত্বে এবং অন্যটি কর আদায় ও প্রশাসনের দায়িত্বে। রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে উন্নয়ন সহযোগী, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের দীর্ঘদিনের সুপারিশ অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত দীর্ঘদিনের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি পৃথক বিভাগ-রাজস্ব নীতি বিভাগ (আরপিডি) ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আরএমডি) গঠন করা হয়।

কর নীতি প্রণয়নকে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম থেকে আলাদা করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে বর্ণনা করেছে সরকার।

নিলামে ২২৩.৫০ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ২২৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতে গতি সঞ্চার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি জানুয়ারি মাসে মোট ৪১১ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনাসহ মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্তে গুরুত্বারোপ তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার

সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাসহ মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ট্যুরিজমের আগে দেশের এই অনন্য প্রতিবেশকে বাঁচাতে সংরক্ষণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় স্ট্রাটেজিক কনসাল্টেশন ওয়ার্কশপ হোল্ড অন সেন্টমার্টিনস আইল্যান্ড মাস্টারপ্ল্যান শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

কর্মশালা সূত্রে জানা যায়, কীভাবে এখানে আবার একটি সমৃদ্ধ প্রতিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, সেটাই হলো এই মাস্টারপ্ল্যানের উদ্দেশ্য।

উপদেষ্টা বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের একটি অংশে দ্বীপ সংরক্ষণে ও জীবিবৈচিত্র ফিরিয়ে আনতে করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলে এটা সহজে অনুসরণীয় হবে।’

তিনি বলেন, ‘সংরক্ষণের স্বার্থে এখানে ট্যুরিজমকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আগত বহিরাগতদের ক্ষতিকর আধিপত্য রোধ করতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘প্ল্যান বাস্তবায়নে আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখতে হবে। এখানে বসবাসকারীদের জন্য বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। মাছ ধরা, শুটকির ব্যবসা, হস্তশিল্প এমনকি ট্যুরিজমও বিকল্প পেশা হতে পারে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন সংরক্ষণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ সময়ে মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।’ এই প্ল্যান প্রস্তুতে সহযোগিতাকারীদের সচিব ধন্যবাদ জানান।

এ সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় সেন্টমার্টিনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়, অসাধারণ পরিবেশগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিন দ্বীপ বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, প্রবাল ও ঝিনুক আহরণ, টেকসই নয় এমন মৎস্য আহরণ পদ্ধতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে গুরুতর পরিবেশগত অবক্ষয়ের মুখে রয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও এর আশপাশের সামুদ্রিক এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করে।

প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যানে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক যৌথ ব্যবস্থাপনাকে একত্র করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো— সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংরক্ষণ উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই মাস্টারপ্ল্যান বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ রক্ষা এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই সুফল নিশ্চিত করতে চায়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (অন্তর্বর্তীকালীন) সোনালি দয়ারত্নে।

কর্মশালায় তিনটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয় এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের ওপর দু’টি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ইকোলজি ফরেস্ট্রি অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটির বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. রেজাউল করিম এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড মাস্টারপ্ল্যানটি ২০২৬ সালের প্রথম দিকে চূড়ান্ত হওয়ায় ইতিবাচক কাজ প্রত্যাশা করেন।

গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের ওপর প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বারোপ

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু, তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি, এমনকি সম্পদের পরিমাণ কত, সম্ভাবনা কেমন—তাও জানতে পারিনি। এই সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।’

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম নিয়ে গবেষণা জাহাজ আর.ভি. ড. ফ্রিডটজফ ন্যানসেনু এর মাধ্যমে পরিচালিত জরিপ ও গবেষণার প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া আজ মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী এই জরিপে অংশ নেন, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশের।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান আজকের বৈঠকে গবেষণা ুসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, এই গবেষণায় ৬৫টি নতুন জলজ প্রাণির প্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। এটি ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ। অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, দুই হাজার মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

২০১৮ সালের একটি গবেষণার সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় আকারের মাছ কমে যাচ্ছে। স্বল্প গভীর সমুদ্রে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করছে। এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার শব্দতরঙ্গ নির্ভর প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক মাছ ধরায় যুক্ত। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী একটি পদ্ধতি। এর ফলে গভীর সমুদ্রে বড় মাছ ধরেন—এমন জেলেরা লাভবান হলেও স্বল্প গভীর পানিতে মাছ ধরেন—এমন জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘এভাবে লক্ষ্যভিত্তিক মাছ ধরা চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শব্দতরঙ্গ নির্ভর মাছ ধরা বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’

গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে টুনা মাছের আধিক্য রয়েছে এবং এর ব্যাপক সম্ভাবনাও আছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের নিচে একটি মাছের প্রজনন ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি বহুমুখী জলতল পরিমাপ ও সমুদ্রবিজ্ঞান জরিপ জাহাজ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই জাহাজ সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাঁদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।’

ডিজিটাল আর্থিক সেবায় কঠোর প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের পেমেন্ট সিস্টেমে স্থিতিশীলতা জোরদারে আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিস্তারিত ও নির্ভুল প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং ইউটিলিটি সার্ভিস প্রোভাইডারসহ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনার আওতায় থাকবে।

আরও উল্লেখ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে ট্রাস্ট ও সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। এসব অ্যাকাউন্ট এবং ই-মানি ও মার্চেন্ট দায় সংক্রান্ত সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রতিবেদন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা, সামগ্রিক পেমেন্ট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা এবং জনআস্থা রক্ষা করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তথ্য প্রদানের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়বে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৈনিক ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে ট্রাস্ট ও সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের স্থিতি, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে করা বিনিয়োগ, ট্রাস্ট ফান্ডস ইন ট্রানজিট এবং ই-মানি ও মার্চেন্ট দায় সংক্রান্ত বিস্তারিত উপাত্ত।

নির্ধারিত ফরম্যাট (টেমপ্লেট) ব্যবহার করে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এসব তথ্য জমা দিতে হবে।

নির্দেশনা অমান্য বা ভুল তথ্য দিলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪-এর ৩৭(৩) ধারা অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদান আদালতে দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া একই আইনের ৪১ ধারার অধীনে জরিমানা আরোপের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪-এর ১৮(৪) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পোস্টাল ভোট দেবেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোট ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

গত ১৮ নভেম্বর শুরু হওয়া এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সোমবার রাত ১২টায় শেষ হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ইসি’র তথ্য অনুযায়ী, মোট নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন।

প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ২৯২ জন, কাতারে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ২০৭ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ২৯২ জন, কাতারে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন ও ওমানে ৫৬ হাজার ২০৭ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

দেশের ভেতরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন।

জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লায় ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন। এরপরই ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন এবং চট্টগ্রামে ৯৫ হাজার ২৯৭ জন।

এদিকে, আসনভিত্তিক নিবন্ধনে ফেনী-৩ আসন ১৬ হাজার ৯৩ জন নিয়ে সবার উপরে রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ৩০১ জন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ দিনে বিশ্বের ৮১টি দেশে অবস্থানরত ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৯ জন প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৭ হাজার ৯৪৩ জন ব্যালট পাঠানো হয়েছে সৌদি আরবে অবস্থানরত ভোটারদের কাছে।

আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান আজ মঙ্গলবার বাসসকে বলেন, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। আমরা ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, যাদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে, আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে তারা তা হাতে পাবেন। তবে ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের দায়িত্ব। কেউ গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

সালীম আহমাদ খান আরও জানান, প্রায় ১০ হাজার ভোটারের ঠিকানায় ত্রুটি থাকায় তাদের সঠিক ঠিকানা দিতে মেসেজ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার ছাড়াও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন। গত ১৮ নভেম্বর উদ্বোধন হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের ১৪৮টি দেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধিত হতে পেরেছেন।

আদালতে মাদুরোর দাবি: ‘আমি নির্দোষ, আমিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট’

কারাকাসে নিজ বাড়ি থেকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার দুই দিন পর নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

আদালতে বিচারকের উদ্দেশে ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি।’
নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

আদালতে প্রবেশের সময় মাদুরোর পরনে ছিল শার্ট ও প্যান্ট। দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি বলেন, ‘আমি ভেনিজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। গত ৩ জানুয়ারি শনিবার থেকে আমাকে এখানে অপহরণ করে আটক রাখা হয়েছে। কারাকাসে আমার নিজের বাড়ি থেকেই আমাকে আটক করা হয়।’

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তাদের দুজনকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আদেশ দেন এবং আগামী ১৭ মার্চ শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

গত শনিবার ভোরে ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে মার্কিন কমান্ডোরা এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে। যুদ্ধবিমান ও শক্তিশালী নৌবহরের সহায়তায় চালানো ওই অভিযানে আকাশপথেও হামলা চালানো হয়েছিল।

মাদুরোকে আটকের পর তার সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে কারাকাসের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ মাদুরোর সমর্থনে মিছিল করেছেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সমালোচনা করেছেন। তিনি রদ্রিগেজকে ‘নির্যাতন, নিপীড়ন ও মাদক পাচারের অন্যতম কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মাচাদো গত মাসে দেশ ছাড়লেও দ্রুতই ভেনেজুয়েলায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।

অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। বিশেষ করে দেশটির বিশাল তেল সম্পদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় নতুন কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘আগে দেশটিকে ঠিক করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ ভোট দেওয়ার অবস্থায় নেই।’

তবে ট্রাম্পের মিত্র ও মার্কিন হাউজ স্পিকার মাইক জনসন মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত।

২০১৩ সালে হুগো চাভেজের মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বসেন সমাজতান্ত্রিক নেতা মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, মাদুরো নির্বাচনে কারচুপি ও বিরোধীদের দমনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩ কোটি মানুষ এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রদ্রিগেজ যদি তেলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেন, তবে তার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত। রদ্রিগেজও ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘সহযোগিতা’ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ব্রায়ান নারাঞ্জো ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, পরিস্থিতি ভাল হওয়ার আগে আরও খারাপ হতে পারে।

তিনি রদ্রিগেজকে সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার নিজের লোকেরাই তার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভেনেজুয়েলা ছাড়াও কিউবা ও গ্রিনল্যান্ডের বিষয়েও ট্রাম্পকে কঠোর অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘনিয়ে এসেছে এবং গ্রিনল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত।

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ব্রায়ান ফিনুকেন মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। কারাকাসের ওই অভিযানে ৩২ জন কিউবান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হাভানা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা সরাসরি এই অভিযানে অংশ নেন।

নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণে ইসির ১০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের ১০ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দীন আহমদ (মোবাইল : ০১৭১২৫৯১১৪৪, ইমেইল : khulna.region.complain@ecs.gov.bd)|

ফরিদপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঞা (মোবাইল : ০১৭১১৩৬৯৯৭৬, ইমেইল : faridpur.region.complain@ecs.gov.bd)|

ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার (মোবাইল : ০১৭১২০৪৪১৮৮, ইমেইল : mymensingh.region.complain@ecs.gov.bd)|

বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আল-মামুন (মোবাইল : ০১৯৩৭৬৩৮০৩৫, ইমেইল : barishal.region.complain@ecs.gov.bd)|

সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ (মোবাইল : ০১৭১৭২৪৪০৭৮, ইমেইল :sylhet.region.complain@ecs.gov.bd)|

ঢাকা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির মাহমুদ (মোবাইল : ০১৭১৮৫৬৪৬৩৫, ইমেইল : dhaka.region.complain@ecs.gov.bd)|

রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ (মোবাইল : ০১৮১৮২৬৮০৮২, ইমেইল : rangpur.region.complain@ecs.gov.bd)|

চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন (মোবাইল : ০১৭১৭৪০৫৫৯৪, ইমেইল : chattogram.region.complain@ecs.gov.bd)|

রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মো. মমতাজ-আল-শিবলী (মোবাইল : ০১৬৭৬৩২৪৬০৯, ইমেইল : rajshahi.region.complain@ecs.gov.bd)|

কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো: ইকরামুল হাসান (মোবাইল : ০১৭৯৭১৮৫১২৩, ইমেইল : cumilla.region.complain@ecs.gov.bd)|

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের দু’টি ইমেইলে নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ পাঠানো যাবে (centralcord.complain@ecs.gov.bd, mscentralcord.complain@ecs.gov.bd)|

নির্বাচন কমিশন গত ১৪ ডিসেম্বর ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কাছেও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা যাবে।

সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ ১২ জানুয়ারি

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার উস্কানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ আগামী ১২ জানুয়ারি।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন চেয়ে প্রসিকিউসনের আবেদন ও আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদেশের দিন ধার্য করেন।

আজ ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। প্রসিকিউসন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

গত ৪ ডিসেম্বর এই মামলায় সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে সে অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশন পক্ষ জানায়, জুলাই আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ফোনালাপ করেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান। সে ফোনালাপের একপর্যায়ে কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে বলেন তারা। তাদের এ বক্তব্যের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ডে উস্কানি হিসেবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ প্রসিকিউসনের।

গত বছরের ১৩ আগস্ট গ্রেফতার হন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এরপর থেকে তারা কারাগারে আছেন।