মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

চাঁদপুরে মায়ের দাফন চলাকালে মারা গেলেন মেয়ে

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান সামছুন্নাহার বেগম (৭০)। পরের দিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সামছুন্নাহারের দাফন চলাকালে মায়ের শোকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মেয়ে ফজিলাতুন্নেছা (৫০)। এতে পরিবারসহ পুরো এলাকাতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের দোয়ালিয়া বড় মিজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সামছুন্নাহার ওই বাড়ির মৃত ইউনুসের স্ত্রী।

তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ প্রধানীয়া সুমন।

স্থানীয়রা জানান, মেয়ে ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন নিঃসন্তান। যে কারণে মায়ের কাছে থেকে মায়ের সেবা করতেন।

তাই মায়ের মৃত্যু শোক সইতে না পেরে হয়ত স্ট্রোক করে মারাই গেলেন। পরে মায়ের কবরের পাশে ফজিলাতুন্নেছাকে দাফন করা হয়।

প্রতিবেশী শারমিন সুলতানা জানান, ফজিলাতুন্নেছার কোনো সন্তান ছিল না। মায়ের মৃত্যুর খবরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের শোক সইতে না পেরে তার মৃত্যু হয়েছে।

একই পরিবারের মা ও মেয়ের এমন মৃত্যুতে দোয়ালিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

আশুলিয়ায় আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের এসআইসহ আহত ২

সাভারের আশুলিয়ায় আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের এক এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের গোমাইল বাংলাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ও ড্রাইভার রবিন।

পুলিশ জানায়,রাতে আশুলিয়ার বাংলাবাজার এলাকায় এসআই মনিরুলসহ পুলিশে একটি টিম আসামি ধরতে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় আসামিরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে এসআই মনিরুল ও ড্রাইভার রবিন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের জুনিয়ার অফিসার মোঃ রফিক বলেন, রাতে আহত অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে মনিরুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অপর জন রবিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, রাতে পুলিশের একটি টিম আসামি ধরার জন্য অভিযান চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে উপপরিদর্শক মনিরুল গুরুত্বর আহত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

রাজশাহী ও নাগেশ্বরীতে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের আটক ১৭

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সরবরাহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইসসহ একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের ছয় সদস্যকে আটক করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলার শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নামের একজন রয়েছেন। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে তিনি বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে।

আটক অন্যরা হলেন- রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের শাহজামাল, কাজীপাড়া গ্রামের বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ী উপজেলার বোয়ালভির গ্রামের আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালী গ্রামের হিমেল মাহমুদ, রাজৈর থানার টেকরহাট গ্রামের চামেলী আক্তার, আরাজিকোমরপুর গ্রামের বেলাল হোসেন এবং চরদামাল গ্রামের আনেয়ার হোসেন।

ওসি আব্দুল্লা হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে আরও পাঁচজনকে আটক করা হলে মোট ১১ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছেন।

এদিকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের ছয় সদস্যকে আটক করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর মালোপাড়া কমিউনিটি ব্যাংকের এটিএম বুথ ও উপশহর সৃষ্টি স্কুলের সামনে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- নওগাঁর নিয়ামতপুরের মো. আল মামুন, রাজশাহীর মোহনপুরের মাহবুব আলম, নওগাঁর আনজুয়ারা খাতুন, নওগাঁ সদর উপজেলার জুলফিকার আলী, আত্রাই উপজেলার মো. নয়ন আলী ও মান্দা উপজেলার রায়হান কবির।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার গাজীউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যাংকের ফাঁকা চেক, প্রবেশপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

জব্দকৃত ১ লক্ষ পিস ইয়াবা বিক্রির দেড় কোটি টাকা ওসি ও সার্কেল এসপির পকেটে

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশের চেকপোস্টে উদ্ধারকৃত ৯৮ হাজার পিস ইয়াবা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর মাত্র ২ হাজার পিস উদ্ধার দেখিয়ে মামলা করা হয়। ইয়াবা বিক্রির দেড় কোটি টাকার সিংহভাগ ওসি এবং সার্কেলের পকেটে গেছে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর দাউদকান্দি টোল প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এ তথ্যসহ আরও বেশকিছু মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনা বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধারকৃত মাদকের সিকি ভাগও জব্দ তালিকায় উঠে না এবং মামলাও হয় না। অভিযোগ রয়েছে, চেকার রফিক সিন্ডিকেট ও মালখানা অফিসার এসআই রবিউলের মাধ্যমে এসব মাদক বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ওই থানা পুলিশের অভ্যন্তরে টোল প্লাজার চেকপোস্টের ডিউটি ‘বেচাকেনা’ চলছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, দাউদকান্দি টোল প্লাজা, বলদাখাল, আমিরাবাদসহ আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করছে দাউদকান্দি থানা পুলিশ। এসব চেকপোস্টের মূলে রয়েছে মাদকের গডফাদার চেকার রফিক সিন্ডিকেট। সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশের উপস্থিতিতে মাদক উদ্ধার করে এ সিন্ডিকেট।

পুলিশের সদস্য না হয়েও রফিক ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা দাউদকান্দি টোল প্লাজায় যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালায়। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি যানবাহনের যাত্রী সাধারণকে তল্লাশির নামে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হয়রানি করা হয়। এদিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী যানবাহনে তল্লাশি করে প্রায়ই মাদক উদ্ধার করা হয়। ওসি এবং সার্কেলের শেলটারে মালখানা অফিসার এসআই রবিউল ও চেকার রফিক এসব মাদক বিক্রি করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর টোল প্লাজায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি করেন থানার এসআই হুমায়ূন কবির ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। এ সময় ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে মাত্র ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দায়ের করা হয়। ক্যারিয়ার কামাল হোসেন ও নিজাম উদ্দিনকে আসামি করে তদন্ত শেষ করে ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়।

ইয়াবার মালিক কক্সবাজারের আবির হোসেন জানান, ওই চালানে ১ লাখ ইয়াবা ছিল। কিন্তু এসআই হুমায়ূন কবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগশাজসে ৯৮ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করেন। যার মূল্য কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা। চেকার রফিকের মাধ্যমে এই ইয়াবার চালান বিক্রি করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান বলেন, ইয়াবার এতবড় চালান আমাদের সামনে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভয়ে আমরা এ নিয়ে মুখ খুলতে পারিনি। সেই অভিযানে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে এখন দাউদকান্দি এলাকায় বেশ আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই হুমায়ূন কবির বলেন, ‘যা পেয়েছি তা দিয়েই মামলা দিয়েছি।’

অভিযানে সংশ্লিষ্ট চেকার পন্ডিত রাজু বলেন, ১৭ অক্টোবর আমি নিজেই পুলিশের সঙ্গে থেকে প্রাইভেটকার থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছি। চেকার রফিক এগুলো বিক্রি করে সার্কেল ওসি এবং অভিযানকারী টিমের মাঝে ভাগবাঁটোয়ারা করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ছোটন শর্মা বলেন, টোল প্লাজা থেকে এসআই হুমায়ূন কবির এসব ইয়াবা জব্দ করেছেন। সেখানে অতিরিক্ত ইয়াবা ছিল কিনা আমার জানা নেই। আমি মামলা পেয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৩০ নভেম্বর চার্জশিট পাঠিয়ে দিয়েছি।

সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকনিক নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন চেকার রফিক ও সহযোগীরা। এ সময় মুহূর্তের মধ্যেই ইয়াবাগুলো গায়েব করে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৫ দিন আগে টোল প্লাজার চেকপোস্টে তল্লাশিকালে এসআই মহসিন এক হাজার পিস ইয়াবাসহ একটি মোটরসাইকেল আটক করেন। পরে ইয়াবাগুলো রেখে মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেন।

এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেল তল্লাশি করে মালখানা অফিসার এসআই রবিউল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেন। এসব ইয়াবা উদ্ধারসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।

এ সময় অভিযানের সঙ্গে থাকা চেকার শাহ আলম বলেন, এসআই রবিউল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে একটি মোটরসাইকেল থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। পরে ইয়াবাগুলো তিনি গায়েব করে দিয়েছেন। এক সপ্তাহ আগের ঘটনা এটি।

সূত্র জানায়, থানা পুলিশের জব্দ করা মাদক মালখানায় জমা করা হয়। এসব মাদক মালখানা অফিসার এসআই রবিউল অলটারনেটিভ (পরিবর্তন) করে সেখানে নকল মাদক রিপ্লেস করে রাখেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

স্থানীয়রা জানান, চেকার রফিক তার সহযোগী সোহাগ, জসিম, ইকবাল, পন্ডিত রাজু, বাদশাসহ একটি সিন্ডিকেট চেকপোস্টে মাদকের রমরমা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। তারা দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফয়সাল তানভীরের খুব কাছের লোক বলে পরিচয় দেন। ইতোমধ্যে চেকার রফিকুল ইসলামের মাদকের ভাগবাঁটোয়ারাসংক্রান্ত একটি অডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, আমরা সোর্সের কাজ করি। মাদক উদ্ধারের পর এগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত দেন সার্কেল এবং ওসি স্যার। মাদক বিক্রি হলে এগুলো সবার মাঝে ভাগবাঁটোয়ারা হয়। সার্কেল স্যারের বিষয় নিয়ে আমার মুখ খোলা ঠিক হবে না। কারণ এটা আমার ঘর। কয়েকদিন আগে ৮ হাজার মাল (ইয়াবা) লুট হয়েছে। এগুলোর হিসাব আমাকেই দিতে হবে। পার্টি নিয়ে মাদক উদ্ধার করে ওসি এবং সার্কেলকে বুঝিয়ে দিতে হয়। আর বিক্রি করলে সবার মাঝে ভাগবাঁটোয়ারা করে দিতে হয়।

চেকার রফিক বলেন, আমরা পুলিশের সঙ্গে ডিউটি করি। মাদক উদ্ধার, বিক্রি, ভাগবাঁটোয়ারার সঙ্গে জড়িত নই। কেউ শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে তথ্য দিতে পারে। এদিকে থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চেকপোস্টে ডিউটির একটি রোটেশন আছে। ঘুরেফিরে সব এসআই, এএসআই এখানে ডিউটি পান। কেউ যদি চেকপোস্টে ডিউটি করতে না চান সেটা অন্য অফিসারের কাছে বিক্রি করা যায়। একদিনের ডিউটি দশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

দাউদকান্দি থানার ওসি এম আব্দুল হালিম বলেন, মাদক ও অপরাধ দমনে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। মাদক বিক্রি ও ভাগবাঁটোয়ারার বিষয়টি সঠিক নয়। কোনো অফিসার যদি মাদক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহাকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফয়সাল তানভীর বলেন, মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। চেকার রফিককে আমি চিনি না। ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আপনি যেহেতু বলেছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫ আপিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

আপিল গ্রহণের শেষ দিনে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইসিতে ১৭৬টি আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি শুরু হবে এবং আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে।

শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার ১২ জানুয়ারি ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী আপিল শুনানির তারিখ শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) চতুর্থ দিনে ইসিতে ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। বুধবার ১৩১টি এবং মঙ্গলবার ১২২টি আপিল দায়ের করা হয়।এ ছাড়া গত সোমবার প্রথমদিনে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের করা হয়।

গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন।

নাগরিক সেবা সহজ ও জনবান্ধব করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : ফয়েজ তৈয়্যব

নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা সহজ, সমন্বিত ও জনবান্ধব করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সেবাকে একীভূতভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

আজ শুক্রবার কুমিল্লার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ সরকারের একটি সংস্কারমূলক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমিয়ে এক ছাদের নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, আলাদা আলাদা দপ্তরে ঘুরে বেড়ানোর পরিবর্তে নাগরিকরা এখন একটি কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন, যা সেবার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে স্থাপিত নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো হবে সরকারের সেবাদানের বিশ্বাসযোগ্য ও দৃশ্যমান প্রতিফলন। সেবাগ্রহীতার আস্থা, সন্তুষ্টি ও অভিজ্ঞতাই এই উদ্যোগের সফলতার প্রধান সূচক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তারাই নাগরিক সেবা কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন এবং সেবার মান নিশ্চিত করবেন।
একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত তথ্য ও উপাত্ত সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র কার্যকরভাবে পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন এবং এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার মো. সালমান ফার্সি।

প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন ইসির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের ১২১টি দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়। প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটারদের কাছে সব ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে।

ডাক বিভাগের এয়ারপোর্ট সর্টিং অফিসের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল শামীম সোহানী জানান, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইসি থেকে পাওয়া সব পোস্টাল ব্যালট বহির্বিশ্বে পাঠানোর কাজ বৃহস্পতিবার শেষ করেছে।
বিমান বাংলাদেশ, এমিরেটস, মালয়েশিয়ান, সিঙ্গাপুর এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এসব ব্যালট পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো সব গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক বিভাগ, সিভিল এভিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিভি)-এর এই বিশাল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজারের বেশি ভোটার সঠিক ঠিকানা দেননি।
ফলে তাদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, দেশের অভ্যন্তরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু হবে। দেশের ভেতরে ব্যালট পাঠানো এবং তা ফিরে আসার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭ দিন সময় লাগতে পারে।

সালীম আহমাদ খান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের নিজের দায়িত্ব। কেউ এই গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে দেওয়া হতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতেই ৯১টি দেশে ৩৯ হাজার ৩৮ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ১৭৪ জন, কাতারে ৭৫ হাজার ৮৬৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ৬৩ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী এবং ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটার।

নির্বাচনকালে গুজব রোধে সংবাদকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য : তথ্যসচিব

গুজব ও অপতথ্য রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে গুজব রোধে সংবাদ কর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা।

আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত নির্বাচন সাংবাদিকতাবিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সেমিনার কক্ষে শুরু হওয়া দুই দিনের নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন তিনি।

গণভোট নিয়ে সারা দেশের ভোটারদের সচেতন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘আপনাদের ক্ষুরধার লেখনী এখন জরুরি।
গুজব ও অপতথ্য রোধে আমাদের সহায়তা করবেন। একসঙ্গে হাতে হাত ধরে চললে দেশটা সুষ্ঠু পরিণতির দিকে যাবে। আমরা সবাই মিলে গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতন করব।’

সচিব জানান, প্রান্তিক মানুষকে গণভোট সম্পর্কে অবহিত করতে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ৬৪ জেলায় ৪৯৫ উপজেলায় ভোটালাপ উঠান বৈঠক ও টেন মিনিট ব্রিফ করছে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
মোবাইলফোন ব্যবহার করে গণভোটের নিয়ম শেখানো হচ্ছে।

তিনি তরুণ, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীদের ভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

পিআইবি পরিচালক কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে যুগ্মসচিব রিয়াসাতুল ওয়াসিফ, জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল।
কর্মশালায় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইনে কর্মরত ৫০ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

আজ শুক্রবার বিকেলে গুলশানস্থ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুকে সাক্ষাতের সময়কার একটি ছবি পোস্ট করে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বিকেলে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলা‌দে‌শে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালাবেন তা বিশ্বাস করেন না মেলোনি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে—এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে ন্যাটোর জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।

নতুন বছরের ঐতিহ্যবাহী সংবাদ সম্মেলনে মেলোনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি জোরদার করা হলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ওই অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে পারে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা মোকাবেলা করা যাবে এবং ওয়াশিংটনের একতরফা পদক্ষেপের চাপ কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন মেলোনি বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি না যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক অভিযান চালাবে—এমন কোনো সম্ভাবনায় আমি বিশ্বাস করি।
এমন একটি বিকল্পকে আমি স্পষ্টভাবেই সমর্থন করব না।’

গত সপ্তাহান্তে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক অভিযানের পর আর্কটিক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে ভূমিকা ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে; সেই প্রেক্ষাপটেই মেলোনির এই মন্তব্য আসে, যা গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ উসকে দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ নেতা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানে আটক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও, মেলোনি বলেন তিনি ওই অভিযানকে সমর্থন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা বিষয়ে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে একমত।
গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে আমি একমত নই।’ তিনি আরো বলেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানে থাকা এই বিশাল ভূখণ্ড দখল করা কারো স্বার্থেই হবে না।

তিনি যোগ করেন, ‘স্পষ্ট করে বললে, এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থে হবে না।’

হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মেলোনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ ন্যাটোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে—এটা ‘সবার কাছেই স্পষ্ট’; আর এ কারণেই তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত হুমকি বাস্তবায়ন করবে না।

তবে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘অন্যান্য পক্ষের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ—যারা এমনকি শত্রুভাবাপন্নও হতে পারে—ঠেকানোর প্রয়োজন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তিনি বোঝেন।

মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং গত বছর ট্রাম্পের অভিষেকে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি।

তার সমর্থকেরা আশা করেছিলেন, তিনি ট্রাম্পের কাছে বিশেষ প্রবেশাধিকার পাবেন এবং ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে উঠবেন।
তবে এখন পর্যন্ত তার পরামর্শে ট্রাম্প কান দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

মেলোনি শুক্রবার বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে। উদাহরণ হিসেবে, আমি মনে করি আন্তর্জাতিক আইনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা জরুরি। … যখন আমার দ্বিমত হয়, আমি তাকে তা বলি—এতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।’