মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

গণভোট বিষয়ক প্রশিক্ষণ ১৫ জানুয়ারি মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ

গণভোট বিষয়ক প্রশিক্ষণ আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে সারা দেশের সকল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাসুদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে ‘গণভোট-২০২৬’ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে নিম্নবর্ণিত কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা (প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা) প্রণয়নপূর্বক বাস্তবায়ন প্রতিবেদন অফিস সময়ের মধ্যে ই-মেইলে (adgeneraldpe@gmail.com) প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর প্রধানের কার্যালয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোট বিষয়ক প্রশিক্ষণ আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে অনলাইনে যুক্ত করতে হবে।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সাথে সমন্বিতভাবে প্রচার কার্যক্রম চালাবেন।

সকল দপ্তর প্রধানের (বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের) সরকারি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গণভোট বিষয়ক প্রচারণা চালাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রচারণার ছবি/ভিডিও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার/পৌরসভা প্রশাসক/জেলা প্রশাসক/সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা/বিভাগীয় কমিশনার/মেয়র বা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন-দের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ট্যাগ করে প্রচারকার্য চালাবেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গণভোট-২০২৬’ বিষয়ক ব্যানার প্রদর্শন এক কার্যদিবসের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেন, তারা সমাজে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।

সূত্র : বাসস

দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে ৫৮ জন প্রার্থী আবারও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

ইসি জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে ৫৮টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং ছয়টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) একদিনে ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫১ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া ১৫ জনের আপিল নামঞ্জুর ও তিনজনের আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়।

আগামী সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে আপিল শুনানি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল শুনানি সম্পন্ন করে আবেদন নিষ্পত্তি করবে। এরপর ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। সেই দিনই চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। রিটার্নিং অফিসার ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

বিড়িতে সুখ টানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে বলা প্রার্থীকে শোকজ

নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা ও ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার অভিযোগে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফয়জুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) রেজওয়ানা আফরিন এ নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক ভোটারদের উদ্দেশ্যে এমন বক্তব্য দেন, যা নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার শামিল।

তিনি ওই বক্তব্যে বলেন— “আমার ভাই হয়তো কোনদিনই ইবাদত করার সুযোগ পান নাই, ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লার দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পিছদের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তো ভালোও করে দিতে পারে।”

নোটিশে আরও বলা হয়, কমিটির নিকট প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, গত ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনী উঠান বৈঠকে জনসমক্ষে উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন ফয়জুল হক। উক্ত বক্তব্যটি ডেইলি ক্যাম্পাস ও আরটিভি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়।

এছাড়া “Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচারিত ওই ভিডিওতে তাকে প্রকাশ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা যায়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা করা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি (ক)-এর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় ও জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার বিধি ১৬-এর উপবিধি (ঙ) এবং নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো বিধি ১৮-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রেক্ষিতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি (ক), বিধি ১৬-এর উপবিধি (ঙ) এবং বিধি ১৮ লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ১২ জানুয়ারি সোমবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিনের কার্যালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক বলেন, “আমার বক্তব্যটি মিসলিড করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাঁড়িওয়ালা মানুষ আছেন, দাঁড়ি ছাড়া মানুষও আছেন, বিড়ি বা সিগারেট খান—এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সঠিক সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে প্রস্তুত।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বড় অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্তমানে ওয়াশিংটন সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বাংলাদেশের ওপর আরোপিত বিদ্যমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও এ অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি অগ্রাধিকারকে সহায়তা করতে একটি নতুন ও উদ্ভাবনী সমাধানের বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করেছে। গতকাল ড. খলিলুর রহমান ও রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের মধ্যে আলোচনায় উঠে আসা প্রস্তাবিত এক বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থার আওতায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে উৎপাদিত বস্ত্রের বিপরীতে সমপরিমাণ (স্কয়ার মিটার ভিত্তিতে পরিমাপযোগ্য) তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ

বাণিজ্যে এই সৃজনশীল ও পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থাটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশের উৎপাদক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল উৎপাদকদের সঙ্গেও সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতি ও পারস্পরিক আস্থারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি আশাব্যঞ্জক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

জামায়াতের বায়তুলমাল থেকে বছরে ৬.৬৬ লাখ টাকা পান সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে নানা চমকপ্রদ তথ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ’র বার্ষিক আয়ের বড় অংশ দলীয় বায়তুলমাল থেকে প্রাপ্ত ভাতা।

হলফনামা অনুযায়ী, মো. ইজ্জত উল্লাহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল থেকে বছরে ভাতা হিসেবে পান ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৬ টাকা। যা তার ঘোষিত মোট আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল হিসেবে নিয়মিত ভাতাভিত্তিক আয় নির্বাচনী হলফনামায় এ তথ্যকে অনেকেই ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, মো. ইজ্জত উল্লাহর কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। তার নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ হাজার ২৩ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নামে রয়েছে ১ একর কৃষিজমি। এছাড়া সাতক্ষীরা শহরে তার একটি একতলা পাকা বসতবাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৪২ হাজার ১৫৮ টাকা। গ্রামেও একটি পাকা বসতবাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন মূল্য ৫০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৮০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৪৬ হাজার ৬০০ টাকা।

হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২২ টাকা, স্থায়ী আমানত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪০ টাকা এবং কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৬ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ২১ হাজার ১ টাকা।

তার স্ত্রী মোছা. আয়েশা জামিলার নামে ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ১১৪ টাকা স্থায়ী আমানত, ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮০ টাকার কোম্পানি শেয়ার এবং বড় মেয়ে সুমাইয়া জিহানের নামে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৭ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এম.এসসি পাস এবং পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। তার বিরুদ্ধে মোট মামলা রয়েছে ৪১টি, যা এই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-১ আসনে অর্থ-সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। হলফনামা অনুযায়ী, তার কৃষি, ব্যবসা ও অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৩ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। তার স্ত্রী শাহানা পারভীন বকুলের কৃষি ও আইনজীবীসহ অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

তার বিরুদ্ধে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি খারিজ, ৫টি বিচারাধীন ও ৪টি স্থগিত রয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এসসি এবং পেশা হিসেবে ঠিকাদারি ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল করিম হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার নগদ অর্থ রয়েছে ১ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ১৫ হাজার টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ফাজিল এবং পেশা চাকরি।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. ইয়ারুল ইসলাম আইন পেশা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলএম।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জিয়াউর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএল.বি। হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকা, পৈত্রিক সূত্রে আয় ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর চাকরি থেকে আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে আরও ২ লাখ টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে উপহার হিসেবে পাওয়া ৪০ ভরি স্বর্ণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

রহস্যময় পোস্টে আলোচনার ঝড়, রাজ–মিম কি আবার একসঙ্গে?

ঢাকাই চলচ্চিত্রে বেছে বেছে কাজ করার জন্য পরিচিত চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম নতুন বছরে ফের আলোচনার কেন্দ্রে। গল্প ও চরিত্রের গুরুত্ব ছাড়া পর্দায় ফিরতে আগ্রহী নন-এমন অবস্থান বরাবরই জানিয়ে এসেছেন তিনি।

তবে বছর শুরুর আগেই নতুন কাজের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এবার সেই ইঙ্গিতকে ঘিরে তৈরি হলো রহস্য।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে এক পুরুষ অভিনেতার সঙ্গে ছবি শেয়ার করেন মিম। ছবিতে দেখা যায়, পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির অবয়ব-যার মুখ স্পষ্ট নয়। ছবির ক্যাপশনে মিম লিখেছেন, “পরবর্তী প্রজেক্ট আসছে, অনুমান করুন, তিনি কে?”

এই সংক্ষিপ্ত লেখাই যেন ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়। মন্তব্যের ঘরে শুরু হয় জল্পনা।

অনেকেই দাবি করেন, ছবির মানুষটি শরিফুল রাজ। কেউ কেউ আবার আরিফিন শুভর নামও উল্লেখ করেন। তবে বেশির ভাগ ভক্তের মতে, ভঙ্গি ও স্টাইল দেখে রাজকেই বেশি মানানসই মনে হচ্ছে।

ইচ্ছাকৃতভাবেই সহ-অভিনেতাকে ঘিরে রহস্য তৈরি করা হয়েছে-এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “সবাই তো ধারণা করছেন।

আপাতত আমার কিছু বলার অনুমতি নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, এটি একটি নতুন কাজের ইঙ্গিত। খুব শিগগিরই সব পরিষ্কার হবে।”

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছবির সেই রহস্যময় অভিনেতা আসলে শরিফুল রাজ। ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’-এর পর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও রাজ–মিম জুটি হতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, রোমান্টিক গল্পের একটি নতুন সিনেমায় তাদের একসঙ্গে দেখা যাবে, যার পরিচালক আলভী আহমেদ। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে মিম পরিচালক আলভী আহমেদের সিনেমাটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। পরে একই প্রজেক্টে যুক্ত হন শরিফুল রাজও। তবে দেশের পরিস্থিতি ও উপযুক্ত সময় বিবেচনায় নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেনি।

এদিকে শরিফুল রাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি তানিম নুর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। অন্য কোনো কাজ সম্পর্কে এখন কিছু বলতে চাই না। নতুন প্রজেক্ট হলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই জানানো হবে।”

সব মিলিয়ে, রহস্যময় সেই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজ–মিম জুটির প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন এখন টক অব দ্য টাউন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা।

নবম পে স্কেলের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

চলতি জানুয়ারি মাস থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিকী অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

আগামী শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় ১২টি কর্মচারী সংগঠন ও দপ্তর ভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলোচনা শেষে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নেন। পরে জোটের মূখ্য সমন্বয় ওয়ারেছ আলী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, এই জানুয়ারি মাসেই নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। এই দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে সব জেলার প্রেসক্লাবের সামনে জেলা পর্যায়ে প্রতিকী অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরামের সভাপতি লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান, বাংলাদেশ ১৭-২০ গ্রেড কর্মচারী সমিতির সভাপতি রফিকুল আলম, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির আহবায়ক সালজার রহমান, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক, বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির আহবায়ক ইছাহাক কবির, পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি একেএম নূরুজ্জামান, ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বেল্লাল হোসেন প্রমুখ।

প্রশাসন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে: শিবির সভাপতি

প্রশাসন এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

শনিবার(১০ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া হাজী শরীয়তুল্লাহ একাডেমিতে শিবিরের সাথী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি বলেন,জামায়াত ইসলাম ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক নয়। আমরা বলেছি,প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে না যায়। কিন্ত প্রশাসন এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

তিনি আরও বলেন,লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য প্রশাসনের যে তৎপরতা থাকার কথা ছিল সেখানে আমরা দুর্বলতা দেখছি। ওসমান হাদীসহ বিভিন্ন জায়গায় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তার কোন প্রতিকার নেই। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতাও দুর্বল অবস্থায়।

শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন,জুলাই পরবর্তী চিন্তা করেছিলাম চাঁদাবাজ,টেন্ডারবাজি মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা হবে। কিন্তু কোন জায়গায় কোন রকম উন্নতি আমরা লক্ষ্য করছি না। বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের শক্ত অবস্থান না থাকার কারণে ধীরে ধীরে অপকর্মগুলো বেড়েই চলেছে।

শিবিরের এই সভাপতি আরও বলেন,আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো স্ব-পদে বহাল রয়েছে। এবিষয়ে বারবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রুট লেভেলে প্রশাসনের কোন রদবদল হয়নি। আওয়ামী আমলে যারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিলেন তারাই আবার নির্বাচন করছেন।

তিনি আরও বলেন, যে ধরনের অরাজকতা হচ্ছে সরকারের কিছু ক্ষেত্রে স্বদিচ্ছা থাকলেও রুট লেভেলে প্রশাসন রেসপন্স করছে না। এর দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতেই হবে। নির্বাচনে জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে,ভোট দিতে পারে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত সরকারকেই করতে হবে।

এসময় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম,সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দর,কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মুফতি আমির হামজাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রুমিন ফারহানা হেভিওয়েট কেউ নন: জুনায়েদ আল হাবীব

রুমিন ফারহানা বহিষ্কৃত, তিনি রাজনীতিতে হেভিওয়েটও কেউ নন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘আমার আসনকে বিএনপির ঘাঁটি বলা যায়। আমাকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যার নাম বলছেন (রুমিন ফারহানা), তিনি বহিষ্কৃত। তার সঙ্গে কেউ যাবে না এটাই স্বাভাবিক। আমার আসন আলেম ওলামার আসন, সবাই আমাকে সমর্থন দেবেন এবং আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।’
আরও পড়ুন
চাঁদাবাজ-দখলবাজদের হাতে ক্ষমতা গেলে কেউই নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত সেক্রেটারি

রুমিন ফারহানা বহিষ্কৃত, রাজনীতিতে হেভিওয়েটও কেউ নন উল্লেখ করে বিএনপি সমর্থিত এ প্রার্থী বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক বয়সের সঙ্গে তিনি অনেক দূরত্বে আছেন। আমার রাজনীতি শুরু ১৯৭৮ সালে, আর তিনি জন্মই নিয়েছেন ৮২ সালে। তাই তার দ্বারা উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে না নির্বাচনে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে এক অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে বাইরের এলাকার সংসদ সদস্যরা এসে সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকায় প্রভাব খাটাতেন।

একই ধারাবাহিকতায় এখন জোটের পক্ষ থেকে আনা একজন ‘রোহিঙ্গা প্রার্থী’ সদর আসনের এমপি প্রার্থীর সঙ্গে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তার ভাষায়, সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ শেষ পর্যন্ত নিজেদের এলাকার সন্তানকেই বিজয়ী করবে।

রোজা আর আমি একসঙ্গে থাকছি না: তাহসান খান

গেল বছরের শুরুতেই কোনো ধরনের পূর্বাভাস বা গুঞ্জন ছাড়াই হঠাৎ করে বিয়ের খবর দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান।

মেকওভার আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত রোজা আহমেদের সঙ্গে জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন তিনি।

এরমধ্যেই খবর, বিয়ের কয়েক মাস থেকেই দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছে না। গায়কের নব্য গড়া সংসার ভাঙতে চলেছে।

শুধু তাই নয়, গেল কয়েক মাস ধরেই আলাদা থাকছেন এই দম্পতি।

একান্ত আলাপে এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাহসান খান নিজেই।

সাংবাদিকের সঙ্গে একান্ত আলাপে তাহসান খান বলেন, “খবরটি সত্য। দীর্ঘদিন ধরেই, অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন এবং আলাদা থাকছি।

সঠিক সময় এলে তখনই এই বিষয়ে বিস্তারিত বলব।”

জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন না তিনি।

তাহসান বলেন, “ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু বিবাহবার্ষিকী নিয়ে কিছু ভুয়া খবর দেখলাম, সে কারণেই বলতে হচ্ছে যে, আমরা এখন একসঙ্গে থাকছি না।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ে রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন তাহসান খান। রোজা আহমেদ একজন পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং নিউইয়র্কে তাঁর নিজস্ব একটি মেকআপ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর আগে ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাহসান খান। দীর্ঘ ১১ বছরের সেই সংসারের ইতি ঘটে ২০১৭ সালে।

তারও দুই বছর আগে থেকে তারা আলাদা থাকছিলেন। সেই সংসারে তাহসানের এক কন্যাসন্তান রয়েছে—আইরা তাহরিম খান।