বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-পেমেন্ট কী, জামানত ছাড়াই ঋণ পাওয়া যাবে যেভাবে

ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল ডিভাইসের দ্রুত সম্প্রসারণে দেশে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং ও অনলাইনে আর্থিক লেনদেন বেশ বেড়েছে। এ ধরনের সেবা ও লেনদেন সহজ ও নগদবিহীন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালার মাধ্যমে ডিজিটাল ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালু করেছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে চালু সুদমুক্ত এই ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধার আওতায় সুদের ঝামেলা ছাড়াই শুধু নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ পাওয়া যাবে।

সাময়িক তারল্য সংকটের কারণে অনেক সময় গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় দৈনিক পরিষেবা বা বিল ঠিক সময়ে পরিশোধ করতে পারেন না। এতে অনেক সময় বিলম্ব ফি বা আর্থিক জরিমানা এবং অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। গ্রাহকদের এই সাময়িক তারল্য সংকট দূর করতে এবং ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করতে সুদের পরিবর্তে ফি-ভিত্তিক তাৎক্ষণিক এই ডিজিটাল ঋণ সুবিধা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কোন কোন ক্ষেত্রে ই-পেমেন্ট ক্রেডিট ব্যবহার করা যাবে, এর আর্থিক সীমা, আবেদন ও পরিশোধের প্রক্রিয়া জানা থাকাটা এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত সব ব্যাংকে ই-পেমেন্ট সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ঋণ সুবিধা শুধু অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে সরাসরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নামে নির্দিষ্ট কিছু ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে।

এটি কোনোভাবেই নগদ টাকায় রূপান্তর করা যাবে না এবং গ্রাহকের ওয়ালেটে ‘অ্যাড মানি’ বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।

ই-পেমেন্ট চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটি একেবারেই নতুন একটি ধারণা। বাংলাদেশে এই প্রথম চালু হলো। এটি মূলত একটি আপদকালীন ফান্ড। যদি মানুষ এটিকে সাদরে গ্রহণ করে এবং এটি সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, তবে ভবিষ্যতে এর আওতা ও পরিধি আরও বাড়ানো হবে।'

'এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন গ্রাহক জরুরি প্রয়োজনে ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ বা সরকারি ফি পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ সুবিধা পাবেন,' বলেন তিনি।

১. ইউটিলিটি বিল (যেমন-বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি)

৩. শিক্ষা সংক্রান্ত ফি (স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ও ফি)

৪. স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ব্যয় (চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ)

৫. টোল বা টিকিট সংক্রান্ত খরচ (যাতায়াত ও ভ্রমণ)

৭. আমানতের কিস্তি (সঞ্চয় বা ডিপিএসের কিস্তি)

৯. বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য ব্যয় বা ফি (যা সরাসরি প্রাপক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে পরিশোধযোগ্য)

কনজ্যুমার ফাইন্যান্সের আওতায় এই সুনির্দিষ্ট খাতগুলো ছাড়া অন্য কোনো খাতে এই ঋণ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের আওতায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এই ঋণের জন্য কোনো সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হবে না, বরং ঋণের পরিমাণ এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ ফি নির্ধারিত হবে।

এটি মাত্র ১০ হাজার টাকা কেন, জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, 'ব্যাংকগুলোর মূল ব্যবসাই তো ঋণ দেওয়া। এটা না থাকলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন। যার ৫০ কোটি টাকা লাগবে ব্যাংক তাকে ৫০ কোটি দেবে, আর যার ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন তাকে ৫ হাজার টাকাই দেবে। সব ধরণের গ্রাহককে যেন সেবা দেওয়া যায়, সেজন্যই আমরা এ ধরণের নতুন নতুন দুয়ার বা প্রোডাক্ট উন্মুক্ত রাখছি।'

তিনি আরও বলেন, 'এখানে জটিল কোনো সুদের হিসাব করার প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ মেয়াদ ৩০ দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস ফি নেওয়া হবে। এই ফি-টাই ব্যাংকের লাভ। আগে যেমন ব্যাংক ১৫ টাকা কমিশনের বিনিময়ে একটি পে-অর্ডার ইস্যু করত, বিষয়টিকে সেই সার্ভিস ফি ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ব্যাংকের কাছে যেন সব ধরণের কাস্টমারের জন্য উপযুক্ত সেবা বা প্রোডাক্ট থাকে, সেটাই মূল উদ্দেশ্য।'

ই-পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ঋণসীমা ও সর্বোচ্চ ফি’র তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

পূর্ণাঙ্গ পরিশোধ: গৃহীত ঋণের মূল অর্থ এবং সারণী অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি, ঋণ বিতরণের তারিখে থেকে হিসাব করে যথাক্রমে ৮ম, ১৬তম অথবা ৩১তম দিনে সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করতে হবে।

আগে পরিশোধের সুবিধা: গ্রাহক চাইলে নির্ধারিত তারিখের পূর্বেই যেকোনো সময় এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। নির্ধারিত মেয়াদের আগে বা সময়ে ঋণ পরিশোধ করা হলে, সারণী-১ এ উল্লেখিত নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো ফি, সুদ, প্রি-পেমেন্ট ফি বা আর্লি সেটেলমেন্ট ফি বা অন্য কোনো নামে কোনো চার্জ আরোপ করা হবে না।

বিলম্ব জরিমানা বা বকেয়া পরিশোধের নিয়ম: গ্রাহক যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে অতিরিক্ত মেয়াদের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা বা ফি আদায় করা যাবে। তবে এই জরিমানার পরিমাণ কোনোভাবেই ৩০ দিন মেয়াদি ঋণের দৈনিক ফি’র বেশি হবে না।

ই-পেমেন্ট ক্রেডিট পাওয়ার ডিজিটাল পদ্ধতি

ই-পেমেন্ট ক্রেডিট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর হবে। এর প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো।

শতভাগ ডিজিটাল প্রক্রিয়া: এই ঋণের আবেদন থেকে শুরু করে বিতরণ ও পরিশোধের যাবতীয় কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

ডিজিটাল সম্মতি ও অনবোর্ডিং: গ্রাহকের সরাসরি স্বাক্ষরের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্মতি গ্রহণ করা হবে। ব্যাংকের অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলে গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অনবোর্ডিং সম্পন্ন করা যাবে।

গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন অথবা ব্যাংকের অনুমোদিত অন্য কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

থার্ড পার্টি ও ফিনটেক পার্টনারশিপ: ব্যাংকগুলো চাইলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর এবং অন্যান্য ফিনটেক কোম্পানির সেবা সরবরাহ চ্যানেল এই ঋণ বিতরণের জন্য ব্যবহার করতে পারবে।

ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং: ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত নীতিমালার আওতায় বিকল্প ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং মডেল ব্যবহার করে গ্রাহকের ঝুঁকিভিত্তিক ঋণসীমা নির্ধারণ করা হবে।

সংসদে দুই দাবি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রো-লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম চালু এবং হাসপাতালটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করতে ভবন-২ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম।

রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকার তাকে দুই মিনিটের জন্য বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে তিনি এ দাবি জানান।

মাহবুবা হাকিম বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও রাজনৈতিক নানা অস্থিরতার মাঝেও ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না, এমন রাষ্ট্র গড়তে চাই।’ প্রধানমন্ত্রীর সেই অঙ্গীকারে অনুপ্রাণিত হয়ে একজন গ্যাস্ট্রো-লিভার বিশেষজ্ঞের সহধর্মিণী হিসেবে বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির পক্ষ থেকে মহাখালীতে অবস্থিত ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রো-লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম দ্রুত চালুর বিষয়টি তুলে ধরছি।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে হাসপাতালটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ভবন-২ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদ সদস্য বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট-সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের যন্ত্রপাতি এরইমধ্যে ইনস্টিটিউটে এসে পৌঁছেছে। বাকি ১০ ধরনের যন্ত্র আগামী মাসে আসবে। এগুলো স্থাপন ও কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগবে।

এখন প্রয়োজন এরইমধ্যে প্রায় ৪৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত টিমের প্রয়োজনীয় বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা—উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম ২০১০ ও ২০১৯ সালে সফলভাবে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হলে তার মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছিল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বাংলাদেশে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনাই দেশের বাস্তবতার একটি দুঃখজনক উদাহরণ।

মাহবুবা হাকিম বলেন, একজন সাধারণ লিভার রোগীর বেঁচে থাকার শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ভারত ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশ। সেখানে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ন্যূনতম খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, ‘স্পিকার, আপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ—অতি দ্রুত দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রো-লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মিত কার্যক্রম চালু করা হোক।’

একই সঙ্গে ২০২৪ সালে বরাদ্দ করা সাড়ে ৩ একর জমি ব্যবহার করে হাসপাতালের ভবন-২ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করারও দাবি জানান তিনি।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ঢাকা মেডিকেলে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু

কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার পৃথক সময়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন হাজতি ও একজন কয়েদি। দুই হাজতির মৃত্যুর ব্যবধান ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।মৃত ব্যক্তিরা হলেন আবুল বাশার (৫৮), আব্দুল কাইয়ম (৬২) ও মো. শাহাদত হোসেন লিটন (৫২)।.হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মো. শহিদসহ কয়েকজন কারারক্ষী অসুস্থ অবস্থায় আবুল বাশারকে আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কুটিয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সেকেন্দার আলী। কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় বন্দী ছিলেন তিনি।অপর হাজতি আব্দুল কাইয়মকে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হেমায়েত হোসেনসহ কয়েকজন কারারক্ষী সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলাই পদাবাজার গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মৃত দুদু মিয়া। তিনি আটটি মামলায় বন্দী ছিলেন।.এ ছাড়া কয়েদি শাহাদত হোসেন লিটনকে গত ২৮ আগস্ট অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল পৌনে নয়টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ১১/০৭ এবং উত্তরা থানার মামলা ৯(১১)০৬-এর ৩০২, ৩৪ ও ২০১ ধারার মামলায় বন্দী ছিলেন। তাঁর বাড়ি খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুল কাদের।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

মুক্তির তালিকায় থাকা নির্বাচিত সিনেমা ও সিরিজ

প্রায় তিন বছর হলো যুক্তরাষ্ট্রে আছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। সেখানে মা, বোন ও মেয়ের সঙ্গে কাটছে তাঁর সময়। পরিবারের পাশাপাশি তিনি সময় দিচ্ছেন শুটিংয়েও। মৌসুমীকে পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা গানের ভিডিও, টেলিফিল্ম ও সিনেমায়।

গত জুলাইয়ে ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ‘ওভারলোড ফেস্টিভ্যাল’ শিরোনামের কনসার্ট। লাইভ ওয়েভ এন্টারটেইনমেন্ট আয়োজিত কনসার্টে গান শোনায় দেশের আটটি ব্যান্ড। এবার একই শিরোনামে চট্টগ্রামে কনসার্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে লাইভ ওয়েব এন্টারটেইনমেন্ট।

প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত জুডি হিউম্যানের জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে সিনেমা। ‘বিয়িং হিউম্যান’ নামের এই বায়োপিক বানিয়েছেন ২০২২ সালে ‘কোডা’ সিনেমার জন্য অস্কারজয়ী পরিচালক সিয়ান হেডার।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের আট বিভাগে আয়োজন করা হচ্ছে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব আয়োজন করেছে লালন বিশ্বসংঘ।

প্রথম দিনেই আয় ২৬ কোটি, সিনেমা হলেও দাপট দেখালো ‘মির্জাপুর’

ওটিটির জনপ্রিয়তা এবার বক্স অফিসে, ৮০ কোটির দরজায় ‘মির্জাপুর’

এনটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর হাটে নতুন শেড নির্মাণ

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত ৫

প্রথম দিনেই আয় ২৬ কোটি, সিনেমা হলেও দাপট দেখালো ‘মির্জাপুর’

সিনেমাটির দৃশ্য। ছবি : এক্স থেকে নেওয়া

ওটিটির পর্দা কাঁপিয়ে এবার বড় পর্দায় হাজির হয়েছে ‘মির্জাপুর’। আর সিনেমা হলে এসেই যেন জানিয়ে দিল, ‘মির্জাপুর’-এর দাপট শুধু ওয়েব সিরিজেই সীমাবদ্ধ নয়। পঙ্কজ ত্রিপাঠী, আলী ফজল, দিব্যেন্দু, রসিকা দুগাল ও রবি কিষাণদের নিয়ে নির্মিত ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে জমিয়েছে শক্ত অবস্থান।

৪ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দিনে ভারতে সিনেমাটির নেট আয় প্রায় ২৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। ভারতীয় গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ রুপি। মুক্তির প্রথম দিনেই প্রায় ২৬ কোটি রুপির কাছাকাছি আয় করে সিনেমাটি যে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে, তা স্পষ্ট।

শুধু আয় নয়, দর্শক উপস্থিতির দিক থেকেও প্রথম দিনটা বেশ ভালো কেটেছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’র। শুক্রবার দেশজুড়ে সিনেমাটির গড় দখল ছিল প্রায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সপ্তাহান্তে দর্শকের ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনাই দেখছেন বক্স অফিস বিশ্লেষকেরা।

তবে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’র সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সিনেমাটির বাজেট প্রায় ২৫০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই আপাতত ২৫০ কোটি রুপির বাজেটকে প্রতিবেদনভিত্তিক হিসাব হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই হিসাব ধরলে প্রথম দিনের আয় দিয়ে সিনেমাটি কথিত বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি তুলে ফেলেছে। অবশ্য এখানেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই। বড় বাজেটের সিনেমা হিসেবে প্রেক্ষাগৃহের খরচ, পরিবেশকদের অংশ এবং অন্যান্য হিসাবের পর লাভের মুখ দেখতে হলে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।

তবে ‘মির্জাপুর’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি এর আগে থেকেই তৈরি হওয়া দর্শকভিত্তি। জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজের চরিত্রগুলোকে বড় পর্দায় দেখার আগ্রহ থেকেই সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। বিশেষ করে কালীন ভাইয়া, গুড্ডু পণ্ডিতসহ পরিচিত চরিত্রগুলো আবারও বড় পর্দায় ফিরে আসায় ভক্তদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

গুরমিত সিং পরিচালিত সিনেমাটিতে পুরোনো চরিত্র ও অভিনেতাদের পাশাপাশি বড় পর্দার উপযোগী অ্যাকশন, সংঘাত ও নাটকীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি শুধু সিরিজের দর্শকদের নয়, নতুন দর্শকদেরও হলে টানতে পারে কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

প্রথম দিনের প্রায় ২৬ কোটি রুপির আয় অবশ্য ‘মির্জাপুর’-এর জন্য আশাব্যঞ্জক শুরু। এখন চোখ দ্বিতীয় দিনের বক্স অফিসের দিকে। শুক্রবারের পর শনিবার ও রোববারে আয় যদি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে, তাহলে সিনেমাটির প্রথম সপ্তাহের চিত্র আরও শক্তিশালী হতে পারে।

মির্জাপুর

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: মির্জাপুর

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত

আমিরকে কেন ‘ভালো প্রাক্তন স্বামী’ বলা হয়?

আমিরকে ১৭ বার চড় মেরেছিলেন অক্ষয় খান্না, কিন্তু কেন?

দুর্ঘটনার এক মাস পর গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ অভিনেত্রীর

চিকিৎসার মাঝেই কী বার্তা দিলেন তানিয়া বৃষ্টি

ভারতের বিখ্যাত শিল্পীর জন্য নাম বদলে গিয়েছিল সাবিনা ইয়াসমিনের

প্রেমের নাটক-সিনেমায় বিধিনিষেধের আইনি নোটিশ, ৭ সংগঠনের প্রতিবাদ

১১১ দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মিস ওয়ার্ল্ড জোহেইরি মোলা

দুর্ঘটনার এক মাস পর গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ অভিনেত্রীর

মহানায়ক উত্তম কুমারের আজ শততম জন্মবার্ষিকী

জীবনানন্দ দাশের বায়োপিক নিয়ে আসছেন গৌতম ঘোষ

নেপালের বিপর্যয়ে তারকারা, কেউ দিলেন কোটি অর্থ, কেউ ছুটলেন দুর্গতদের কাছে

প্রেমের নাটক-সিনেমায় বিধিনিষেধের আইনি নোটিশ, ৭ সংগঠনের প্রতিবাদ

ছবি : এআই

প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন।

সম্মিলিত প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনগুলো বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে তার প্রতিকার করা যেতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট ধারার নাটক বা সিনেমা নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও দৃশ্যশ্রাব্য শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নির্মাণে সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পীর মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি।

সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ টেলিভিশন ও বিনোদন অঙ্গনের শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক, কলাকুশলীসহ অসংখ্য পেশাজীবীর কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তারা দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে।

এর আগে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সৃজনশীল মেধার বিকাশের লক্ষ্যে প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ-সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র-নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে বাধ্যতামূলক নির্দেশনার দাবিও জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন সরকারের তিন সচিব ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর নোটিশটি পাঠান। এতে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক বিষয়বস্তুর আধিক্য, পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নোটিশে ১০ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

আমিরকে কেন ‘ভালো প্রাক্তন স্বামী’ বলা হয়?

প্রথম দিনেই আয় ২৬ কোটি, সিনেমা হলেও দাপট দেখালো ‘মির্জাপুর’

আমিরকে ১৭ বার চড় মেরেছিলেন অক্ষয় খান্না, কিন্তু কেন?

চিকিৎসার মাঝেই কী বার্তা দিলেন তানিয়া বৃষ্টি

ভারতের বিখ্যাত শিল্পীর জন্য নাম বদলে গিয়েছিল সাবিনা ইয়াসমিনের

‘ক্রিকেট’ নামে ক্রিকেট জনপ্রিয় করা যাবে না, বলতে হবে ‘টি–টুয়েন্টি’

ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে হলে ক্রিকেট নামটাই বাদ দিতে হবে? রিকি পন্টিংয়ের প্রস্তাব শুনলে প্রথমে এমনটাই মনে হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের যুক্তি, যেখানে মানুষ ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট দেখে বড় হয়নি, সেখানে ‘ক্রিকেট’ শব্দটি বরং ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই নতুন দর্শকের কাছে খেলাটিকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে শুধু ‘টি–টুয়েন্টি’ নামে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে।‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পন্টিং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব যদি তাঁর হাতে থাকত, তাহলে ‘ক্রিকেট’ নামটিই ব্যবহার করতেন না। বরং পুরো খেলাটিকে টি–টুয়েন্টি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেন। কারণ, ক্রিকেট বললেই পাঁচ দিনের টেস্টের কথা ভাবতে পারে তারা। বিপরীতে টি–টুয়েন্টি নাম দিয়ে খেলাটি যে দ্রুত, আক্রমণাত্মক এবং বিনোদননির্ভর, সেটি তুলে ধরা যাবে।.পন্টিং মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটকে পরিচিত করাতে হলে তুলনা করতে হবে দেশটির সবচেয়ে পরিচিত খেলাগুলোর সঙ্গে। তাঁর চোখে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ বেসবল। দুই খেলাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয়। তবে টি–টুয়েন্টির উত্তেজনাটা দর্শকের সামনে তুলে ধরতে হবে অন্যভাবে। এ বিষয়ে তাঁর কথা, ‘আমি এটাকে “ক্রিকেট” নামে ডাকতাম না। এটার ব্র্যান্ডিং করতাম “টি-টুয়েন্টি” নামে। “ক্রিকেট” বিষয়টাকে এক পাশে সরিয়ে রাখুন। বিশ্বের যেসব অঞ্চলে তরুণেরা ক্রিকেট দেখে বড় হননি, তাঁরা এই নাম শুনলেই মনে করেন এটা পাঁচ দিনের দীর্ঘ ও বিরক্তিকর একটা খেলা, যা আদতে তা নয়।’.ক্রিকেটকে বেসবলের সঙ্গে তুলনা টেনে দেখাতেন জানিয়ে পন্টিং বলেন, একটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচে একটি দল ১৫টি ছক্কাও মারতে পারে। অথচ বেসবলে একটি ম্যাচে একটি হোম রানও নিয়মিত দেখা যায় না। তরুণদের কাছে এই পার্থক্যটা তুলে ধরতে পারলে টি–টুয়েন্টির আকর্ষণ সহজেই বোঝানো যাবে মনে করেন পন্টিং।তাহলে ওয়ানডে বা টেস্ট ক্রিকেট? যুক্তরাষ্ট্রে সেসব সংস্করণ জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা কী?.ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন.এখানেও পন্টিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন কোনো দেশে একটি খেলা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে শুরুতেই দীর্ঘ সংস্করণ সামনে আনার দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি। ১৬৮ টেস্ট খেলা এই ব্যাটসম্যানের যুক্তি, আগে টি–টুয়েন্টির মাধ্যমে দর্শক তৈরি করতে হবে। খেলাটির গতি, ব্যাটিংয়ের আক্রমণাত্মক ধরন ও বিনোদনের দিক মানুষকে টানতে পারলে পরে ক্রিকেটের অন্য সংস্করণগুলোর জন্যও জায়গা তৈরি হতে পারে।২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যৌথভাবে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানকে হারিয়ে বড় অঘটনও ঘটিয়েছিল দেশটি। তার আগে ২০২৩ থেকে দেশটিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট মেজর লিগ ক্রিকেটও (এমএলসি) চালু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা পায়নি ক্রিকেট।বর্তমানে ছয়টি শহরভিত্তিক দল নিয়ে প্রায় ছয় সপ্তাহের খেলা হয় এমএলসিতে। ম্যাচগুলো হয় ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে। সব দলের নিজস্ব হোম ভেন্যু না থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অবশ্য কম নয়।মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা, অ্যাডোবির প্রধান নির্বাহী শান্তনু নারায়ণ এবং ভারতের আম্বানি পরিবারের মতো বড় নাম এমএলসির সঙ্গে যুক্ত। ভবিষ্যতে লিগটি ছয় দল থেকে আট দলে বাড়ানোর পরিকল্পনাও আছে। স্টিভ স্মিথের মতো তারকারাও খেলছেন এই লিগে।পন্টিং নিজেও এমএলসির সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত। ওয়াশিংটন ফ্রিডমের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি কাছ থেকে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের বিকাশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার টানা দুবারের শিরোপাজয়ী অধিনায়ক মনে করেন, শুধু পেশাদার লিগ চালু করলেই যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট দ্রুত জনপ্রিয় হবে না। শৈশব থেকেই খেলাটিকে ছড়িয়ে দিতে হবে, ‘আরও বেশি শিশুকে অল্প বয়সে খেলাটির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বেসবল থেকে কিছু শিশুকে টি–টুয়েন্টিতে নিয়ে আসতে হবে।’.টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান কোন ৫ ব্যাটসম্যানের

বিদেশ ভ্রমণে খরচ করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন থেকে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচ করতে পারবেন প্রাপ্ত বয়স্করা, যা এতদিন ছিল ১২ হাজার। নতুন সীমা নির্ধারণ করে গতকাল রোববার পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিককে এক পঞ্জিকাবর্ষে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত বিদেশি মুদ্রার ‘প্রকৃত চাহিদা’ পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর ১২ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে আগের মতই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বিদেশি মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। খবর বিডিনিউজের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘১২ বছরের উপরে হলে ভ্রমণ কোটায় বছরে ১৮ হাজার ডলার নিতে পারবেন, তার চেয়ে নিচের বয়সিদের মাইনর ধরা হয়েছে। তারা (মাইনর) বড়দের তুলনায় নিতে পারবেন অর্ধেক।’

বিদেশ ভ্রমণের বাৎসরিক ব্যয়সীমা বাড়ানো হলেও নোট আকারে আগের মতোই সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ২ সার্ভিস সেতু উন্মুক্ত

পড়তে পারেন

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

২ মিনিট আগে

বাংলাদেশ

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস

১০ ঘণ্টা আগে

দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ / মারুফার দারুণ স্পেলের পরও শেষ ওভারে হারল বাংলাদেশ

৯ ঘণ্টা আগে

ক্রিকেট

বরিশালের প্রধান ২ হাসপাতালে বিদ্যুৎ আসে-যায়, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

১১ ঘণ্টা আগে

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ২ সার্ভিস সেতু উন্মুক্ত

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট:

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

ছবি: স্টার

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

দুই লেনবিশিষ্ট প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনের পর সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যানজটমুক্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।

একইসঙ্গে ঢাকার চারপাশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমের যোগাযোগব্যবস্থায় নগরের অ্যাট-গ্রেড সড়ক ব্যবহার না করেই এলিভেটেড ওয়ের মাধ্যমে পারাপারের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার জানা এবং দেখা মতে, যত প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে চলেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটি। প্রকল্পটি স্থবির হয়ে গিয়েছিল, বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থা থেকে প্রকল্পটি কার্যকর করার জন্য যেসব বরাদ্দ ও উদ্যোগ নেওয়া দরকার, এই সরকার তা নিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমি খুশি হয়েছি এই প্রকল্পের মান এবং এর বাস্তবায়নের তড়িৎগতিতে। প্রকল্পের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি কাজ শেষ হয়েছে। সাড়ে তিন বছর আমরা এই প্রকল্পের এক্সটেনশন করেছি। এই প্রকল্পে মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে গত ছয় মাসে যে কাজ হওয়ার টার্গেট ছিল, তার চেয়ে অধিক কাজ সম্পন্ন করেছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বক্তব্য দেন।

Image

তুরাগ পারাপারে লাগবে না টোল

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি আর রাখা হচ্ছে না। ফলে নতুন সার্ভিস সেতু ব্যবহার করে টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পার হওয়া যাবে।

দেশের প্রথম শতভাগ রোভার জেলা কিশোরগঞ্জ

দেশের প্রথম শতভাগ রোভার জেলা হিসেবে কিশোরগঞ্জের গৌরব অর্জন এবং জেলা রোভারের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে জেলা স্কাউটস ও কিশোরগঞ্জ জেলা রোভারের উদ্যোগে শনিবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা স্কাউট কামরুল হাসান মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. হাবীবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুল্লাহ, স্কাউট উপদেষ্টা অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী এলটি, হয়বতনগর আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জেলা রোভারের সহ-সভাপতি মাওলানা আজিজুল হক, কিশোরগঞ্জ টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ এবং জেলা রোভারের সম্পাদক কামরুল আহসান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, স্কাউটিং শুধু একটি সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রম নয়; এটি তরুণদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের কার্যকর মাধ্যম। ‘প্রস্তুত থাকো’—স্কাউটিংয়ের এ মূল চেতনা তরুণদের যেকোনো পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ও সেবামুখী ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করে।

তারা আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা, জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড এবং জনসেবায় স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের অংশগ্রহণ দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বক্তারা কিশোরগঞ্জকে দেশের প্রথম শতভাগ রোভার জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোভার স্কাউট, স্কাউট লিডার, শিক্ষক ও সংগঠকদের অভিনন্দন জানান। তাদের মতে, এ অর্জন শুধু সাংগঠনিক সাফল্য নয়, বরং তরুণদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের চর্চা বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

অনুষ্ঠানে স্কাউট ও রোভারদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। এসব পরিবেশনায় দেশপ্রেম, মানবিকতা, ঐক্য, সেবা ও তারুণ্যের শক্তি তুলে ধরা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা রোভারের ৩৬ বছরের অর্জন ও গৌরব স্মরণের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিসরে মানবসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে রোভারদের সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন