মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

রাজধানীতে ৫ চীনা নাগরিকসহ ৮জন গ্রেফতার, ৫১ হাজার সিম উদ্ধার

রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার ও পাঁচ চীনা নাগরিকসহ টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের আট সদস্য গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি সাইবার উত্তরের উপ-পুলিশ (ডিসি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)।

সংবাদ সম্মেলনে হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, গ্রেফতারকৃত প্রতারকরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো।

তিনি আরও বলেন, ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে জব সংক্রান্ত প্রতারণা, টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতারণাসহ বিভিন্ন প্রতারণা সংক্রান্তে ডিএমপি, ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার ও ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। এই প্রতারক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দু’টি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলাটির নিবিড় তদন্তে জানা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের আরও অনলাইন প্রতারক চক্র রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে পাঁচ জন বিদেশি নাগরিকসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের আরও ১৮৪ টি সিম ও পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

অপরিচিত কারো সঙ্গে বিকাশে অ্যাকাউন্টে কোনোভাবে কোনো লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, অপরিচিত কারো সঙ্গে বিকাশে লেনদেন বা অন্য কারো অ্যাকাউন্টেও লেনদেন করা যাবে না।

অনেকেই বুঝে না বুঝে নিজের অ্যাকাউন্ট অন্যকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও এতগুলো সিম কীভাবে কালেক্ট করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা আশ্চর্য হয়েছি। সবগুলো সিম রেজিস্ট্রার্ড কি না বা কার মাধ্যমে এতগুলা সিম এসেছে তা তদন্তের মধ্যে সবকিছু স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে।

৪ ব্রিটিশ এমপির বিবৃতি: ‘সব দল না থাকলে নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না’

বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন চার ব্রিটিশ এমপি।

তারা বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণ না থাকলে কোনো নির্বাচনকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলা যায় না।

হাউস অব কমন্সের এই চার এমপি হলেন— বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জ্যাস আথওয়াল এবং ক্রিস ল।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

“নৈতিক বিবেচনাবোধ সম্পন্ন প্রত্যেক মানুষই আশা করেন, এই নির্বাচন একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে তখনই সেটা সম্ভব হবে, যখন নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ।”

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গেল বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের।

এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বিবৃতিতে চার ব্রিটিশ এমপি বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন যে, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে।

“মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তারা ভোট দিতেই যাবেন না।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। বাংলাদেশের ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হয়নি, যারা কিনা নিজেরাই অনির্বাচিত।”

বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ‘চরমভাবে বিভক্ত’ মন্তব্য করে চার ব্রিটিশ এমপি বলেছেন, “এর দায় বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলেরই কিছু না কিছু রয়েছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে এবং থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আবার গতিশীল করতে ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ চালাতে হবে।

“এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিরোধী দলগুলো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবে।”

যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের ‘অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার’ হিসেবে তুলে ধরে তারা বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচার ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে।

“আমরা ব্রিটিশ সরকারসহ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই—ড. ইউনূস যেন গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তার অঙ্গীকার বজায় রাখেন; বাংলাদেশের সব নাগরিকের নাগরিক অধিকার রক্ষা করেন এবং মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করেন।”

গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় রাজধানীতে ক্যারাভ্যান নামাচ্ছে এনসিপি

গণভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য রাজধানীতে ক্যারাভ্যান নামাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে এক বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে দলটি।

এনসিপি জানায়, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

দলটি জানায়, ১৩ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩ টায় বাংলামোটরে দলটির অফিসের সামনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণার ক্যারাভ্যান উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া।

বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে দেশে ফেরার নির্দেশ

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের প্রেস উইংয়ে দায়িত্ব পালনরত চার কর্মকর্তাকে অবিলম্বে কর্মস্থল থেকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

চার কর্মকর্তা হলেন—মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কন্স্যুলেট জেনারেল অফিস অব বাংলাদেশের প্রথম সচিব (প্রেস) আরিফুর রহমান, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) আসাদুজ্জামান খান এবং জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) ইমরানুল হাসান।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ওই কর্মকর্তাদের বিদেশি মিশন থেকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে ১৩ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপনে তাদের অনুমতি দেওয়া হয় যে, মিশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তারা বর্তমান কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সর্বশেষ, গত ৭ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে আবার তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে এসব মিশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং তাদের অনুকূলে আর্থিক সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে চার কর্মকর্তাকে অবিলম্বে কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিয়ে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে লাঠিচার্জ ইস্যুতে প্রশাসন-শিক্ষার্থীদের সমঝোতা, আন্দোলন প্রত্যাহার

পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে চলা আন্দোলনে লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। জেলা প্রশাসকের দুঃখ প্রকাশ ও আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সমন্বয়করা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বৈঠকে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, ‘আজকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মিটিং হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল, গতকালকের বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারকে কথা দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তা আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমাদের দুটি দাবিতেই সম্মতি জানিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’

আরেক সমন্বয়ক খোরশেদ মাহমুদ বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের বিচারের দাবিতে কর্মসূচিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলাম। আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা চাই আগামী দিনেও শিক্ষার্থীরা দেশ গড়ার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’

আহতদের বিষয়ে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়া হয়। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যারা এখনো হাসপাতালে আছেন, আমরা তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল ঘটনার পর একটি উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আজ জরুরি বৈঠকে সকলের সম্মতিতে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হয়েছে। গতকালের ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করা হবে।’

এর আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে পঞ্চগড়ের শেরেবাংলা পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি শেষের দিকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা সব দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যেসব দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত তেহরানের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, এই শুল্ক ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে। তবে ইরানের সঙ্গে ‘ব্যবসা করা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এরপর রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।

এর আগে তেহরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই হুমকির ধারাবাহিকতায়ই নতুন এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা এলো। সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, বিমান হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এখনও তাঁদের ‘বিবেচনায় রয়েছে’।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেকোনো দেশ যারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যেকোনো এবং সমস্ত ব্যবসার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, এই আদেশ ‘চূড়ান্ত’।

তবে শুল্ক আরোপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। কোন কোন দেশের কোন খাতের আমদানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান দ্রুত কমে যাওয়ায় মানুষের ক্ষোভ থেকে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলন এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতার বৈধতা নিয়েই সংকট তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানিয়েছে, তারা ইরানে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে বিভিন্ন সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ইন্টারনেট বন্ধ (ব্ল্যাকআউট) থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসিসহ বিশ্বের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বর্তমানে ইরানের ভেতর থেকে সংবাদ সংগ্রহ বা প্রচার করতে পারছে না।

ট্রাম্প ইতোমধ্যে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। রোববার তিনি জানান, ইরানি কর্মকর্তারা ‘আলোচনা করার জন্য’ তাঁকে ফোন করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, ‘কোনো বৈঠকের আগেই হয়তো আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এর পাশাপাশি সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিও অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান দ্রুত কমে যাওয়ায় তেহরানের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা।

গত এক বছরে ইরানের মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। একই সময়ে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। এর ফলে ভোজ্য তেল ও মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

মহাকাশ অভিযানে বড় ধাক্কা, যান্ত্রিক ত্রুটিতে নিয়ন্ত্রণ হারাল ভারতের স্যাটেলাইট

নতুন বছরের শুরুতেই মহাকাশ অভিযানে বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে ভারত। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর পিএসএলভি-সি৬২ মিশন তৃতীয় ধাপে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পিএসএলভি রকেটের সফল উৎক্ষেপণ হলেও ১৫টি স্যাটেলাইট হারিয়ে গেছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে।

দেশটির শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় স্যাটেলাইটগুলো। তবে কক্ষপথে পৌঁছনোর আগেই নিয়ন্ত্রণ হারায় রকেট। এতে করে এই উপগ্রহবাহী রকেটে থাকা ১৫টি উপগ্রহই হারিয়ে যায়।

ভারতের গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে ২৬০ টনের পিএসএলভি আকাশে ওঠে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়। কিন্তু তৃতীয় ধাপ জ্বলে ওঠার পরই বাধে বিপত্তি। হঠাৎ করে মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ।

ইসরোর সঙ্গে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালের পিএসএলভি-সি৬১ ব্যর্থ হয়েছিল। গত আট মাসের মধ্যে এটি পিএসএলভির দ্বিতীয় ব্যর্থতা। এটি ৯০ শতাংশের বেশি সাফল্যের হার নিয়ে থাকা এই রকেটের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করল।

ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেছেন, তৃতীয় ধাপের রকেটের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিকই ছিল। তারপর ঘূর্ণনগতিতে অস্বাভাবিকতা এবং উড়ানের নির্দিষ্ট পথভ্রষ্ট হওয়া লক্ষ্য করা যায়। তথ্য বিশ্লেষণ করছি আমরা। পরে জানানো হবে বিস্তারিত। আপাতত পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

পিএসএলভি ইসরোর অন্যতম নির্ভরযোগ্য মহাকাশযান। অতীতে এই রকেটের কাঁধে চেপেই বহু ছোটবড় অভিযানের বৈতরণী পার করেছে ভারতীয় সংস্থা। এই নিয়ে ৬৪টি অভিযানের মধ্যে পিএসএলভি ব্যর্থ হল মাত্র চারটিতে। সোমবারের অভিযানে ইসরোর পিএসএলভি-তে একাধিক ভারতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ ছাড়াও আটটি বিদেশি পেলোড ছিল। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, রয়টার্স, ডন

ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা: রিপোর্ট

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। এরই মধ্যে দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও মদত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বদলে নির্বিচারে সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও তারা দেশটির অন্তত অর্ধশতাধিক মসজিদে আগুন দিয়েছে। ধ্বংস করেছে ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স।

সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মোট ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোনও ইরানি কখনও মসজিদে হামলা চালাতে পারে না।

গত সপ্তাহে তেহরানের আবুজার মসজিদের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা প্রায় এক ডজন ব্যক্তি মসজিদটি তছনছ করছে, বইপত্র মেঝেতে ছুড়ে ফেলছে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৯ জানুয়ারি মসজিদটিতে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে সোমবার সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন লাখ লাখ ইরানি। দেশটির প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা যেমন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তেমনি ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছেন তারা।

ইরানের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই দেশটির সরকারকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে’ তিনি সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। জবাবে ইরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।

তবে এই বাগযুদ্ধের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের (স্টিভ উইটকফ) মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে। প্রয়োজন হলে বার্তা আদান-প্রদানও করা হচ্ছে।” সূত্র: রয়টার্স

কখনো যাতে ভোট ডাকাতি না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন।

সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন এবং সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপন, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন ও ড. মো. আব্দুল আলীম।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টি আসনে তথাকথিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ ভোট হয়, যা ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতেই এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর পরিকল্পনা নেয়। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশ নেয়।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মতো করে কাগজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে। এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মানুষ অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছু করতে পারেনি। জনগণ যেন অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়, সে জন্য যারা জড়িত ছিল, তাদের চেহারা সামনে আনতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল-তা জানতে হবে। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

তদন্ত কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের অসৎ প্রতিযোগিতা ছিল। এর ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি দেখানো হয়। ২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর কৌশল নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনটি নির্বাচনের পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নেওয়া হয় এবং তা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিত ছিল।

২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যত নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে সরিয়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এ সময় কমিশনের বদলে প্রশাসনই নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তিতে পরিণত হয়।

নিবন্ধনহীন শিক্ষক নিয়োগ দিলে কঠোর ব্যবস্থা : এনটিআরসিএ

দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও চাহিদা না পাঠালে এবং বে-আইনিভাবে নিবন্ধন সনদবিহীন শিক্ষক নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

গত ১ জানুয়ারি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির কাছে পাঠানো এক পত্রে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে এনটিআরসিএ। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন এনটিআরসিএ’র পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের উদ্দেশ্য পাঠানো এই এই নির্দেশনার চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারির পরিপত্র অনুযায়ী, দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শূন্যপদ পূরণের জন্য এনটিআরসিএ-তে ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে ই-রিকুইজিশন বা চাহিদা প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য থাকলে অবশ্যই চাহিদা পাঠাতে হবে এবং এনটিআরসিএ-এর সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

পত্রে ২০০৫ সালের এনটিআরসিএ আইনের ১০ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে জানানো হয়, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত ও প্রত্যয়নকৃত না হলে কোনো ব্যক্তি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এছাড়া সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষক বা প্রদর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ-এর নিবন্ধন ও সুপারিশ থাকা বাধ্যতামূলক।

এনটিআরসিএ সতর্ক করে আরও জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি আইন, নীতিমালা ও পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে শূন্যপদের চাহিদা প্রদান না করেন কিংবা বে-আইনিভাবে নিবন্ধনহীন শিক্ষক নিয়োগ দেন, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।