পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে চলা আন্দোলনে লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। জেলা প্রশাসকের দুঃখ প্রকাশ ও আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সমন্বয়করা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, ‘আজকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মিটিং হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল, গতকালকের বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারকে কথা দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তা আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমাদের দুটি দাবিতেই সম্মতি জানিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
আরেক সমন্বয়ক খোরশেদ মাহমুদ বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের বিচারের দাবিতে কর্মসূচিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলাম। আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা চাই আগামী দিনেও শিক্ষার্থীরা দেশ গড়ার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’
আহতদের বিষয়ে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়া হয়। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যারা এখনো হাসপাতালে আছেন, আমরা তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি।’
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল ঘটনার পর একটি উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আজ জরুরি বৈঠকে সকলের সম্মতিতে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হয়েছে। গতকালের ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করা হবে।’
এর আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে পঞ্চগড়ের শেরেবাংলা পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি শেষের দিকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।




