সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

বিক্ষোভে ‘হাজারো হত্যার’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত : খামেনি

ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের সময় ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‌‌‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক ভাষণে খামেনি বলেন, নিহতদের মধ্যে অনেককে ‘অমানবিক ও বর্বর উপায়ে’ হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর জন্য তিনি রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিদাতাদের দায়ী করেন।

শনিবারের ভাষণে খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে গিলে ফেলা।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন নিহত হয়েছেন। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানান। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন তিনি। এরপর থেকেই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং অনেক স্থানে সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার শাসনের অবসানের দাবি ওঠে।

ইরানি সরকার এসব আন্দোলনকে ‘দাঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এগুলো আন্তর্জাতিক শত্রুদের মদদে সংঘটিত হচ্ছে।

এদিকে, ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। সাইবার পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, শনিবার দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার মাত্র প্রায় ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভের খবর কম এলেও, প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার জানিয়েছে, তারা এমন তথ্য পেয়েছে যে, ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমন কোনো হামলা হলে ইরানকে অত্যন্ত শক্তিশালী শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তেহরানকে সতর্ক করে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খেলা না করতে।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখালে ব্যবস্থা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন হয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদর্শন করলে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর বিধান অনুসরণ সংক্রান্ত পরিপত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগও তাদের আওতাধীন সব অধিদপ্তর, দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে পত্র পাঠিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ের পত্র পাওয়ার বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ৯ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনাপত্র আমাদের কাছে এসেছে।

সহকারী পরিচালক বলেন, ‘আমরা আমাদের অধস্তন মাঠ পর্যায়ের সব অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এবং সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র ও নির্দেশনাপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুসরণ করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।

এর আগে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের কাছে পাঠানো গত ৩০ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর বিধানবলির প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। এই আইনের ৪ ধারায় নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি এবং ৫ ধারায় শৃঙ্খলামূলক বিধানাবলি বিধৃত রয়েছে।

পরিপত্রে যা আছে :

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে থেকে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তারা সকলেই ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য হবেন এবং তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়ী থাকবেন।

নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর কথা উল্লেখ করে পরিপত্রে আরো বলা হয়, নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদান করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এ অভিযোগে নির্বাচন কর্মকর্তাকে সরকার অভিযুক্ত করতে পারবে এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাউশি, নায়েম, ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ, এনসিটিবি, ইইডিসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা :

পরিপত্রে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকলেও নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা কমিশনের কোনো নির্দেশ পালন বা তথ্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা যাবে এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা ও সম্পাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীকে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেছে।

সাংবাদিকতা মহৎ পেশা—রোমাঞ্চ যেমন আছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও আছে : হাসান হাফিজ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, বিগত দেড় দশকে অনেক মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ‍নিপীড়ন ও নিষ্পেষণ করা হয়েছে, অনেক অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে, সম্পাদকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য যতদিন আকাঙ্ক্ষা থাকবে, এই লড়াইটা কিন্তু আমাদের চলবে। আমরা সেটি জেনেশুনেই মিডিয়াতে এসেছি। অন্য দশটা পেশার থেকে এটা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা।
এটি মহৎ পেশা, সেজন্য এটার যেমন রোমাঞ্চ আছে, থ্রিল আছে—একই রকম চ্যালেঞ্জও আছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে ‘গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ’ নিয়ে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথ উদ্যোগে এ সম্মিলন।

হাসান হাফিজ বলেছেন, ‘অন্য ১০টি পেশা থেকে সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ এবং মহৎ পেশা।
কিন্তু নিত্য একটা অজানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে আমাদেরকে যেতে হয়। সামনে যে নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দাবি জানাচ্ছি—তাদের রাজনৈতিক ইশতেহারে সাংবাদিকদের সুরক্ষার ব্যাপারে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার যেন থাকে। তাদের কথা এবং কাজের মধ্যে কতখানি মিল আছে সেটা আমরা দেখতে চাই। কারণ জুলাইয়ের যে চেতনা সবকিছুর ক্ষেত্রে গুণগত যে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, যেই জনপ্রত্যাশা সেটার প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই।
আমরা সেটার হিসাব কড়ায় গণ্ডায় নিতে চাই।

তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই চেতনার যেই স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা আমাদের ছিল সেটা বারবার হোঁচট খাচ্ছে এবং একটা বীভৎস রূপ আমরা দেখেছি। মিডিয়ার ওপরে আক্রমণ এটা কিন্তু নতুন নয়। এটা দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখে আসছি। যে অপশাসন আমাদের কাঁধে সিন্দাবাদের মতো পুরো চেপে বসেছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে, সে সময় আমরা মিডিয়াকে নির্যাতনের শিকার হতে দেখেছি।
অনেক মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক অফিস আক্রমণ করা হয়েছে। সম্পাদকদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য যত দিন আকাঙ্ক্ষা থাকবে এই লড়াইটা কিন্তু আমাদের থাকবেই।

গণমাধ্যমে হামলা জুলাই অর্জনকে কলঙ্কিত করেছে মন্তব্য করে কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘জুলাই চেতনার নামে আমরা যা দেখেছি—গরু কোরবানি দেওয়া, বীভৎস কর্মকাণ্ড, মধ্যরাতে অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ—এসব নজিরবিহীন। এসব ঘটনায় আমরা যে অর্জন করেছি, তা কলঙ্কিত হয়েছে। অপবাদ ও ঘৃণার মুখে বিশ্ববাসীর সামনে মুখ দেখানোর মতো অবস্থাও আমাদের নেই। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা চাই না বিচ্যুত হতে। জুলাই চেতনাকে সম্মান করতে চাই, তাকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরো সুগম করতে চাই।’

কালের কণ্ঠের সম্পাদক আরো বলেন, ‘আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম চাই। শত মতের বিকাশ চাই, প্রতিফলন চাই। একই সঙ্গে দায়িত্বশীলতা, দেশপ্রেম, সততা, অঙ্গীকার, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে চাই। কারণ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাইয়ের চেতনা—সবকিছুই স্বাধীন গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণমাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মী, সামাজিক শক্তি, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ—সবাই মিলে যেন একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি, সেই প্রত্যাশা করি।’

সম্মিলনে নোয়াবের সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, সরকার যেকোনো সময় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ‘সুইচ অফ’ করে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ধরনের নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেমন– তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের সরকারি বিজ্ঞাপন কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া অতীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিজ্ঞাপন না দেয়, তার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোন সংবাদ যাবে, কোন সংবাদ যাবে না, তার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘স্বাধীন জুডিশিয়ারি ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। কোর্ট অব কনটেম্পটের মতো ক্ষমতা যেন স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধে ব্যবহার না করা হয়, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের দলের লোক আপনাকে সত্য তথ্য দেবে না ভয়ে, আমলারা দেবে না, ইনটেলিজেন্সও দেবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। সঠিক তথ্য সংবাদমাধ্যম আপনাদের জানাবে। এ জন্য এটিকে সুরক্ষা দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘সমাজে ভিন্নমত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, মানুষ ভিন্নভাবে কথা বলবে—এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা সবাই এখানে সম্মিলিত হয়েছি। আশা করি, আপনাদের চিন্তা-ভাবনাগুলো একত্র করে সম্মিলিতভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘যখন সংগ্রামের আসাদ সাহেবের ওপর আঘাত আসে, তখন এক পক্ষ নীরব থাকে। আবার মতিউর রহমান বা মাহফুজ আনামের ওপর আঘাত এলে আরেক পক্ষ হাততালি দেয়। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণের পর আমরা নিজেদের জাতির বিবেক বলি কিভাবে? দোষ তো আমরা করেছি—ভুল থেকেই সংশোধন হয়। আসুন, আজকের এই দিনে আমরা অংশীকারবদ্ধ হই—আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। সাংবাদিক যে মতেরই হোন, যে পথেরই হোন—যার ওপরই আঘাত আসুক না কেন, আমরা সংঘবদ্ধভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াব।’

দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্রিত হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা এবং সহমর্মিতা জানানো—এটা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের ভাবার কোনো কারণ নেই যে, আগামী নির্বাচিত সরকার এলেই আমরা সবকিছু পেয়ে যাব। অতীতেও হয়নি, এখনো হবে না। আগামী দিনেও সতর্ক ও সাবধান থেকে আমাদের ভাবতে হবে। আবারও বলছি—ঐক্য, সমঝোতা এবং সংহতি—এই সময়ে আগামী দিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এটা আমাদের মানতে হবে।’

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক বলেন, আমাদের ঐক্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এটা দূর করতে না পারব, ততক্ষণ প্রকৃত ঐক্য সম্ভব নয়।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সহসভাপতি মুনিমা সুলতানা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাসির মণ্ডল, আমার দেশ–এর নির্বাহী সম্পাদক আবদাল আহমেদ, দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিক প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ-ভারত অধিনায়কের হাত না মেলানোর বিষয়ে বিসিবির ব্যাখ্যা

জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের আগে টসের সময় দুই দলের অধিনায়কের করমর্দন না করা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আজ অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম অসুস্থ বোধ করায় টসে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পরিবর্তে দলের হয়ে টস করতে যান সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার।
ভারতের অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রের সঙ্গে টস শেষে করমর্দন না হওয়ায় মুহূর্তেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে।

এ বিষয়ে বিসিবি জানায়, প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলানোর বিষয়টি কোনোভাবেই ইচ্ছাকৃত ছিল না। মুহূর্তের জন্য মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার কারণেই এমনটি ঘটে এবং এর পেছনে ভারতের প্রতি কোনো অসম্মান বা অবহেলার উদ্দেশ্য ছিল না বলে স্পষ্ট করে বোর্ড।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাংলাদেশের জন্য সব সময়ই মৌলিক একটি বিষয়।
এই ঘটনার পরপরই টিম ম্যানেজমেন্টকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের ক্রীড়াসুলভ আচরণ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আঙুল উঁচিয়ে ‘শেষবার’ ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করলেন রুমিন, ভিডিও ভাইরাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা তাঁর মতবিনিময়সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেখে বেশ চটেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেও কিছু করা হয় না উল্লেখ করে চটে যান তিনি।

শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মতবিনিময়সভা করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানার সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াগাঁও ইসলামাবাদ গ্রামের লোকজন শনিবার দুপুরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করে। আয়োজনে কোনো ব্যানার বা মাইক ছিল না। রুমিন ফারহানা এ আয়োজনে হাজির হলে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান উপস্থিত হন। রুমিন ফারহানাকে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন।
তবে রুমিন ফারহানা বক্তব্য দিয়ে মঞ্চ থেকে নামেন। যাওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে বেশ ক্ষিপ্ত হন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। ওই ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে বলতে শুনা যায়, ‘এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যার।
দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ।’

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শুনতে যায়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তো আমরা ব্যবস্থা নেব। তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গায় হচ্ছে।’ পাশের একজন বলেন, ‘আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় কিছু বলতে পারেন না।’

তখন রুমিন বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচিয়ে বলেন, ‘এইরকম দেখায় আপনাদেরকে।
প্রশাসনে বসে আছেন। খোঁজ নেন।’ সবাইকে চুপ থাকতে বলে রুমিন বলেন, ‘আজকে শুনছি। আঙুল তুলে বলে গেলাম ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না। বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বিধায় ওনাকে (রুমিন ফারহানা) চলে যেতে বলা হয়। ওনি যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবুবকর সরকার বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫ এর ১৮ এর ধারায় একজনকে জরিমানা করা হয়।’

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আশা করব এ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করবে। পক্ষ হয়ে কিছু করবে না।’ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের কিছু ছবি তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে পাঠান।

খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী রাষ্ট্রনায়ক : মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক। তার চিন্তা, কাজ, দক্ষতা এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাকে এ উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, আজকে আপনারা আমাকে যার সম্পর্কে বলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তার বিষয়ে বলার যোগ্যতা আমার আছে কি না—তা নিয়েই আমি ভাবছিলাম।
বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, উদার মানসিকতা এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার অপরিসীম ভালোবাসার কথা বলতে গেলে দিনের পর দিন কথা বলেও শেষ করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কথা বলতে গেলে অনেক সময় আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। তার শূন্যতা ও অবদান স্মরণ করলে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আজ আমরা কিভাবে আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করব, সেটাই যেন জানি না।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ৯০-এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় অনেকেই সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়, তার সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিনবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। একটি দিনও তিনি আমাকে কোনো নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশ দেননি। সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এটাই ছিল তার গণতন্ত্রচর্চার প্রকৃত উদাহরণ।’

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার উদারতা ও সহনশীলতার একটি ঘটনার উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, ‘একজন সিনিয়র সচিবকে মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার আগে তিনি মন্ত্রীর মতামত জানতে চেয়েছিলেন, যা তার নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। একবার আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি কেন এসব মামলায় কোর্টে যান? তিনি বলেছিলেন—ওরা অন্যায় করতে পারে, কিন্তু আমি আইনের বাইরে যেতে পারি না। এই কথার মধ্যেই প্রকাশ পায় আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রনায়কসুলভ মানসিকতা।’

‘এই কারণেই আমি দৃঢ়ভাবে বলি—বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির প্রতীক এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী এক মহান রাষ্ট্রনায়ক।’

শোকসভায় এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সমর্থন করে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের পক্ষে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনা ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিবেশী এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের পক্ষে। আমরা আলোচনা, আস্থা বৃদ্ধি ও অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে সহযোগিতামূলক সমাধানকে সমর্থন করি।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) আয়োজিত ‘নেক্সট জেনারেশন প্রফেশন : কনভার্জিং এথিক্যাল এআই অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা, আস্থা ও সহযোগিতামূলক সমাধান প্রচারে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই রিপোর্টিংয়ের সমন্বয় ক্রমেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। কারণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী পেশাকে রূপান্তরিত করছে।
একইসঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থার ওপর বৈশ্বিক গুরুত্ব বাড়ছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক সংহতি জোরদার করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, পেশাদারদের শুধু প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হওয়া নয়, বরং নৈতিকভাবে দৃঢ় ও দায়বদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, সাফা সম্মেলনের মতো মঞ্চ জ্ঞানের আদান-প্রদান, সেরা পন্থা-পদ্ধতিগুলো ভাগ করে নেওয়া এবং অর্থবহ সহযোগিতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরো বলেন, এই সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়া এবং এর বাইরেও বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং চিন্তাবিদদের একত্রিত করেছে দেখে আমি উৎসাহ বোধ করছি।

এদিকে সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বৈশ্বিকভাবে অ্যাকাউন্টিং পেশা একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কারণ, নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং টেকসই রিপোর্টিং একত্রিত হতে শুরু করেছে, যা ব্যবসায়িক ঝুঁকি, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং জনসাধারণের আস্থাকে পুনর্গঠন করছে।

সাফা সম্মেলনে আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে তিনটি টেকনিক্যাল অধিবেশন এবং একটি সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ এইচ এম আহসান বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি একইসঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে।

তিনি উল্লেখ করেন, এআই-চালিত সিস্টেম দক্ষতা বৃদ্ধি ও কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে পারে। তবে, শক্তিশালী নৈতিক সুরক্ষা ছাড়া এগুলো অ্যালগরিদমিক যোগসাজশ, অস্বচ্ছতা এবং বর্জনমূলক চর্চার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ হিসাব পেশা সংস্থার প্রধান, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইএফএসি)-এর সভাপতি জ্যঁ বুকো আইসিএবি’র আমন্ত্রণে ঢাকায় এই সম্মেলনে অংশ নেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাফার উপদেষ্টা আশফাক ইউসুফ তোলা।

জ্যঁ বুকো বলেন, সততা ও জনস্বার্থকে কেন্দ্র করে এআই পরিচালনা করতে পারলে হিসাববিদরা অনিশ্চয়তাকে সুযোগে পরিণত করতে পারবেন এবং আরো টেকসই ও সহনশীল একটি অর্থনীতি গঠনে অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি নৈতিক এআই এবং টেকসই রিপোর্টিংয়ের বৈশ্বিক প্রাসঙ্গিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মোবিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান ও আইসিএবি’র সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেনও বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবি’র সাবেক সভাপতি ও রহমান রহমান হক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’র সিনিয়র পার্টনার আদীব হোসেন খান।

তিনি বলেন, ‘টেকসই প্রতিবেদন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আর দূরবর্তী কোনো ধারণা নয়, এটি ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি, পরিমাপ ও প্রকাশের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।’

আদীব হোসেন খান পেশাজীবী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং মান-নির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে এআই-সক্ষম টেকসই রিপোর্টিং স্বচ্ছ, ব্যাখ্যাযোগ্য এবং বৈশ্বিক মান ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আটক ৪

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় চার যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে এলাকাবাসী ও রেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিকেলে (১৭ জানুয়ারি) কাশিপুর মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে বাইরে থেকে পাথর ছোড়া হলে ট্রেনের জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে ট্রেন থামিয়ে অভিযুক্ত চার যুবককে ধরে ফেলেন তারা।

মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান শেখ বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের অপরাধে ট্রেন থামিয়ে চার যুবককে আটক করেছে জিআরপি পুলিশ।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও রেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপত্য নিয়ে মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এইচ এম মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল।
এরই জেরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি বসতঘর।

এ সময় অন্তত অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বসতঘর।
সংঘর্ষে আহত হন ১০ জন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো এলাকায়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।’

একক নির্বাচনের ঘোষণায় মিষ্টি খেয়ে শুকরিয়া আদায় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের

জামায়াত-এনসিপির জোট থেকে বের হয়ে একক নির্বাচনের ঘোষণায় দেওয়ায় মিষ্টি খেয়ে শুকরিয়া আদায় করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মিষ্টি খেয়ে শুকরিয়া আদায় করে নেতাকর্মীরা। এ সময় উপজেলা, পৌর শাখা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কটিয়াদী উপজেলা সভাপতি শুয়েব ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শামীম হাবিবি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম আফসারী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, পৌর সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।