রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

‘সবাইকে নিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বিশ্ব গড়তে প্রস্তুত চীন’

চীন সব পক্ষের সঙ্গে একযোগে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বিশ্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। বুধবার এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি সাম্প্রতিক তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘২০২৫ সালে চীনের বিদ্যুৎ ব্যবহার ১০ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা অতিক্রম করেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে, যা মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশেরও বেশি।’

গুও বলেন, ‘চীনের সবুজ উৎপাদন সক্ষমতা শুধু নিজ দেশের জ্বালানি সরবরাহই সমৃদ্ধ করছে না, বরং দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য কম-কার্বন ও দ্রুত উন্নয়নের ব্যাপক সুযোগও তৈরি করছে।

’ 

তিনি বলেন, ‘চীনের নতুন জ্বালানি পণ্য ও প্রযুক্তি উচ্চমানের এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই ও সুলভ জ্বালানির জরুরি চাহিদা পূরণ করছে। এগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করছে এবং সবুজ উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দিচ্ছে।’

আফ্রিকাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে গুও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন আফ্রিকার অর্ধেকেরও বেশি দেশের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহযোগিতা করেছে। শত শত নতুন জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদের সুবিধাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করছে।

’ 

গুও বলেন, ‘সবুজ রূপান্তর কেবল মানব সমাজের টেকসই উন্নয়নের জন্যই সহায়ক নয়, বরং সব দেশের সমান উন্নয়নের অধিকার আরো ভালোভাবে সুরক্ষিত করতেও সহায়তা করে। চীন ভবিষ্যতেও সব পক্ষের সঙ্গে মিলে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বিশ্ব গড়তে কাজ করতে প্রস্তুত।’

চার আসনের তিনটিতেই শক্ত অবস্থানে বিএনপি

কক্সবাজারের চারটি আসনের তিনটিতেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। এখানে বিএনপির টিকিট নিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমানের মতো শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী রয়েছেন। আরও আছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। তবে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে কিছুটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করতে পারেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। এ আসটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও বাকি তিনটিতে সহজ জয় পাবে বিএনপি।

কক্সবাজার-১: চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী তিনবার ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ একবার সংসদ সদস্য ছিলেন। সব মিলিয়ে ’৯১-পরবর্তী বিএনপির দখলে ছিল এই আসনটি চারবার।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাসিনা আহমদ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।

এই আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, যিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ একজন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং ওই আসনের বারবার নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমদের বিপরীতে আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি ভোটের মাঠে নবীন। আবদুল্লাহ আল ফারুকের এটিই প্রথম কোনো নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া এবং তাও সংসদ সদস্য প্রার্থী। ফলে বিএনপির অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে জামায়াত প্রার্থী কতটুকু লড়াই করবেন এটাই এখন ওই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবেন বলে মনে করছেন এ আসনের সাধারণ ভোটাররা।

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সরওয়ার আলম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

চকরিয়া মালুমঘাটের প্রবীণ ভোটার নুরুল কবির বলেন, চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়া অন্য কিছু চিন্তাও করে না। কারণ এখানকার ভাগ্য বদলানোর মহাপুরুষ তিনি।

বিএনপি প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চকরিয়া-পেকুয়া আমার নিজের এলাকা। আমাকে যখন গুম করা হয়, তখন দুই উপজেলার হাজার হাজার নারী-পুরুষ রোজা রেখে আমার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। আমি চকরিয়া-পেকুয়ার পাশাপাশি পুরো কক্সবাজারের অনেক উন্নয়ন করেছি। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি এখনো।

চকরিয়া-পেকুয়ার পাশাপাশি পুরো দেশকে জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বলীয়ান করে একটি সুন্দর অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করছি। দেশের তরুণ প্রজন্ম আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বদলে দেবে আগামীর বাংলাদেশ।

কক্সবাজার-২: মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপ নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর, ধলঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া দ্বীপের মতো প্রাকৃতিক সুন্দর দ্বীপ এবং বিশাল বঙ্গোপসাগর। ফলে এদিকে দৃষ্টি রয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক দুবারের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। জামায়াতের হয়ে লড়ছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হকও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

এ আসনটিতে বিএনপি এ পর্যন্ত তিনবার বিজয়ী হয়েছে। ২০০৮ সালে একবার জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হলেওসেটা ছিল বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। তবে এবার দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই জমবে সমানে সমান।

কক্সবাজার-৩: কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম। তবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে লুৎফর রহমান কাজল ছাড়া অন্যরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারবে না বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটাররা।

এ আসনের ভোটার মুসলিমা জান্নাত বলেন, কক্সবাজারে অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ যারা করতে পারবে, আমরা সেরকম প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে চাই।

বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, এ আসনটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। প্রচার শুরুর আগে থেকেই মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মাঝে ভোট দেওয়ার একটি স্বপ্ন জাগ্রত হয়েছে। আমরা মানুষের সেই অধিকারটা নিশ্চিত করতে চাই। বিএনপি গণমানুষের দল, গণমানুষই বিএনপিকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।

কক্সবাজার-৪: উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতিও। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নুরুল হকও।

বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য জেলা বিএনপির নেতা মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকরা টেকনাফে মশাল মিছিল ও কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছিল। পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের পক্ষে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এর পরই দৃশ্যপট বদলে যায়। বর্তমানে ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ শাহজাহান চৌধুরীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।

বিএনপি প্রার্থী শাজাহান চৌধুরী বলেন, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ যে বিএনপিকে ভালোবাসে তা আবারও প্রমাণ করবে ধানের শীষকে এই আসনে বিজয়ী করে।

৭৫ আসন নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি

কঠোর বার্তা, বহিষ্কারাদেশ, ক্ষমতায় গেলে মূল্যায়নের আশ্বাস, এমনকি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধও দমাতে পারেনি দলের বিদ্রোহীদের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ৬৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন ৭৪ জন। এর বাইরে জোট সঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া ১৭টি আসনের মধ্যে স্বস্তিতে রয়েছেন চার প্রার্থী। বাকি ১৩ প্রার্থীর মধ্যে নিজস্ব প্রতীকে অংশ নেওয়া ছয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা। ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেওয়া আট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে। দুটি আসনে বিএনপি ও শরিক দুই দলেরই প্রার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৫টি আসনে জয়-পরাজয় নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি।

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ

গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ৯ মুসলিম দেশ। এসব দেশ গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানান, তারা ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে অংশ নেবেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান শান্তি উদ্যোগের প্রতি তাদের দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছেন।

এতে বলা হয়, বোর্ড অব পিসের লক্ষ্য হলো গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা, পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তি এগিয়ে নেওয়া। এসব বিষয় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথ প্রশস্ত করবে। এরপর বুধবারই কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারাও ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বোর্ডে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বোর্ড অব পিসের কাঠামো প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা এসেছে। এটি গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার একটি অংশ। এই বোর্ডে রয়েছেন ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার, পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। বোর্ডটি গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির তত্ত্বাবধান করবে।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নং ২৮০৩-এর আওতায় প্রণীত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে পাকিস্তান আশা প্রকাশ করে জানায়, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মাধ্যমে গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। পাকিস্তান একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করে। পাকিস্তানের অবস্থান হল ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার মধ্যে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা উচিত, যার রাজধানী হবে জেরুজালেম।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য হিসেবে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। ফিলিস্তিনে শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে দেশটির অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে সুদৃঢ় এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বদলালেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। এজন্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্রিনল্যান্ড দখল ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে ন্যাটো জোটে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

ট্রাম্প বলেন, পশ্চিমা আর্কটিক অঞ্চলের মিত্ররা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাবে।

তিনি বলেন, এটি এমন একটি চুক্তি, যাতে সবাই খুশি। এটি দীর্ঘমেয়াদি, বরং বলা যায় চিরস্থায়ী চুক্তি। নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে এটি সবাইকে ভালো অবস্থানে রাখবে।

ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলবে। এর লক্ষ্য হবে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো। তবে আলোচনার সময়সূচি বা স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় অংশ নিতে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দূত স্টিভ উইটকফকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, বরং নীরব কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।

এর আগে দাভোসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। অনেকে মনে করেছিল আমি শক্তি প্রয়োগ করব, কিন্তু আমি তা করব না। আমি বলপ্রয়োগ চাই না।

ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান ঘটেছে। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্পের সুর নরম হওয়ায় উত্তেজনা কিছুটা কমলেও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধ এখনো মীমাংসিত হয়নি। গ্রিনল্যান্ডের সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আজ যেসব জেলায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট বিভাগ ও ঢাকা বিভাগের একাধিক জেলায় ধারাবাহিক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

দলটির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সূচনা হবে সিলেট থেকে এবং শেষ হবে নারায়ণগঞ্জে।

এর আগে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে তারেক রহমান সিলেটে পৌঁছান। সফরের শুরুতেই তিনি মাজার জিয়ারত করেন এবং সিলেটেই রাত্রিযাপন করেন।

আজ বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যানের।

এরপর দুপুর ১টায় মৌলভীবাজারের শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী সমাবেশ।

দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।

বিকাল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল মাঠে আরেকটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সূচি রয়েছে।

এরপর বিকাল ৫টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে জনসমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান।

সন্ধ্যা ৭টায় নরসিংদী পৌর পার্ক সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী সমাবেশ।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যানের।

বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সফরসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রতীক পেয়ে প্রচারযুদ্ধ শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা।

উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী এলাকায় ছুটে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন তারা। পাশাপাশি দিচ্ছেন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করার জন্য গতকাল রাতেই সেখানে পৌঁছে গেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ আসন ঢাকা-১৫-তে জনসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আজ সকালে তিন নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের মাজার এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, নিবন্ধিত মোট ৬০টি দলের মধ্যে এবার ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৮টি আসনের মধ্যে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রয়েছেন ২৮৮ আসনে, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ২২৪ আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী ২৫৩ আসনে, এনসিপির শাপলাকলির প্রার্থী ৩২ আসনে, জাতীয় পার্টির লাঙলের প্রার্থী ১৯২ আসনে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবির কাস্তের প্রার্থী ৬৫ আসনে এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাকের প্রার্থী রয়েছেন ৯০ আসনে।

এ ছাড়া এলডিপি ১২, জাতীয় পার্টি-জেপি ১০, গণতন্ত্রী পার্টি ১, জাসদ ৬, জেএসডি ২৬, জাকের পার্টি ৭, বাসদ ৩৯, বিজেপি ৫, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৮, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১৩, এনপিপি ২৩, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৪, গণফোরাম ১৯, গণফ্রন্ট ৫, বাংলাদেশ ন্যাপ ১, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৩, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৯, কল্যাণ পার্টি ২, ইসলামী ঐক্যজোট ২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৬, জাগপা ১, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৭, খেলাফত মজলিস ২১, বিএমএল ৬, মুক্তিজোট ২০, বিএনএফ ৮, এনডিএম ৮, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৮, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২, বাংলাদেশ জাসদ ১১, বিএসপি ১৯, এবি পার্টি ৩০, নাগরিক ঐক্য ১১, গণসংহতি আন্দোলন ১৭, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২, বিএমজেপি ৮, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৫, বিআরপি ১২, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ২৯, জনতার দল ১৯, আমজনতার দল ১৫, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি ১ এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী ৩ আসনে লড়াই করছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন মোট ২৪৯ আসনে।

এ ছাড়া পাবনা-১ ও ২ আসনে মোট ৯ জন বৈধ প্রার্থী থাকলেও তাঁরা এখনো চূড়ান্ত হননি।

এদিকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ৫৯ নেতাকে গতকাল একসঙ্গে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এর আগে একই কারণে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রতীক পাওয়ার পর আনন্দ, উত্তেজনা : দলীয় প্রতীক পেতে সকাল থেকেই জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমান বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। রিটার্নিং অফিসার একে একে সবার হাতে বা প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন প্রতীক বরাদ্দের কাগজ।

রিটার্নিং অফিসারের হাত থেকে তা হাতে নিয়ে এ দৃশ্যকে ক্যামেরাবন্দি করেন বেশির ভাগ প্রার্থী। রিটার্নিং অফিসারের কক্ষের বাইরে বের হলে কর্মী-সমর্থকরা হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান নিজ নিজ প্রার্থীদের। প্রার্থীরা অপেক্ষমাণ দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে হাত মেলান, আলিঙ্গন করেন।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর অনেক এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা গেলেও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

গফরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনের বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এ বি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে গতকাল বিকেল প্রায় ৫টায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পৌর শহরের ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতেও দেখা যায়।

পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা গফরগাঁও রেলস্টেশনসংলগ্ন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেনের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গফরগাঁও বাজারের বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে খুশি চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীরা। গতকাল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর প্রস্তুতি নেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন কদমতলী মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন। চ

ট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগর আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী সকাল পৌনে ৮টায় পারিবারিক কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল ৮টায় নগরের কাট্টলীর মাঈনুদ্দিন শাহ (রহ.)-এর মাজারসহ আরো বিভিন্ন মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, প্রতীক পাওয়ার পর বিভিন্ন আসনে রীতিমতো উৎসবের আনন্দ বয়ে যায়। সিলেট জেলার ছয়টি আসনে এবার নির্বাচনে ৩৩ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়ন যুদ্ধে নানা নাটকীয়তার পর জয়ী সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান প্রতীক বরাদ্দ নিতে।

প্রতীক ধানের শীষ পাওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় প্রতীক আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পেলাম। এটি কী আনন্দের ও গৌরবের সেটি দলের নিবেদিত নেতাকর্মী ছাড়া কারো পক্ষে অনুভব করা কঠিন।’

সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল দুপুর ১২টার দিকে প্রতীক বরাদ্দ নিতে যান। প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাঁকে দেওয়া হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ছয়টি আসনে ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পেয়েই জেলায় যে কজন হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন তাঁরা অন্যদের মতো দৌড়ঝাঁপ বাড়িয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পছন্দের হাঁস প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার বাড়ির হাঁসগুলো যখন চুরি হয়, আমি কিন্তু চোরকে ছাড়িনি, আমি মামলা করেছি। জেলেও ভরেছি। আমার এই হাঁস যদি কেউ চুরি করার চিন্তাও করে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

ওই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ বরাদ্দ পেয়েছেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

জামায়াত জোটেও সমস্যা : ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা এনসিপি ৩০টি আসন ছাড়লেও এর মধ্যে দুটি আসনে (নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আরো দুটি আসনে (সিরাজগঞ্জ-৬ ও নারায়ণগঞ্জ-৪) অন্য দুটি শরিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

গত মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে শেষ দিনে জামায়াত ও অন্যান্য শরিক দলের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এনসিপি শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ঢাকা-১২-তে, কম পিরোজপুর-১ আসনে : নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-১২ আসনে। আর সর্বনিম্ন দুজন প্রার্থী পিরোজপুর-১ আসনে। ঢাকা-১২ আসনটিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী রয়েছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ও জামায়াতে প্রার্থী রয়েছেন মো. সাইফুল আলম।

এ ছাড়া আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবও প্রার্থিতায় রয়েছেন।

আসনটিতে মনোনয়নপত্র জামা দিয়েছিলেন মোট ১৮ জন প্রার্থী। তিনজন প্রার্থী ঝরে পড়েছেন। আর পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির আলমগীর হোসেন এবং প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। আসনটিতে আর কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

তিনজন করে প্রার্থী রয়েছেন- নওগাঁ-২, মেহেরপুর-২, নেত্রকোনা-৫, মানিকগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-১ ও সুনামগঞ্জ-২ আসনে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। তালিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এ ছাড়া খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে রয়েছেন ১২ জন করে প্রার্থী। ১১ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-৫, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ ও খাগড়াছড়ি আসনে।

১০ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৩, খুলনা-৩, ঢাকা-১৮, নরসিংদী-৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-৫, নোয়াখালী-৬, চট্টগ্রাম-৯ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে।

আলোচিত ১৬ জন নারী প্রার্থী : রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি ৯ জন নারী প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি থেকে।

তাঁরা হচ্ছেন- নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমীন, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা (ইলেন ভুট্টো), শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরিন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা চৌধুরী, সিলেট-২ আসনে মোছা. তাহসিনা রুশদীর।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এনসিপি নেতা তাসনিম জারা, ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিম আখতার, নেত্রকোনা-৪ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার, বরিশাল-৫ আসনে বাসদের মনীষা চক্রবর্তী, ঢাকা-১৯ আসনে এনসিপির দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির নাবিলা তাসনিদ।

শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন তারেক রহমান

সিলেটে শ্বশুরবাড়ি থেকে ধানের শীষে ভোট চেয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি বিরাইমপুরে পৌঁছান।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘শাহজালাল এবং শাহপরাণের মাজার জিয়ারত শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনের কার্যক্রম দলের পক্ষে এখান থেকেই শুরু করলাম। আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমাদের ওপর রহমত কায়েম করেন।

দেশের মানুষের কাছে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান তারেক রহমান। নারী, কৃষি, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চান তিনি। জনগণের ভোটে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার ও সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।

এদিন রাত ৮টার দিকে তিনি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ৩ সাংবাদিক নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চালানো বিমান হামলায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৩ জানুয়ারি) গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় সাংবাদিকদের বহনকারী একটি যান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।

সংস্থাটি জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির সঙ্গে যুক্ত ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ছিলেন।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আল-জাহরা এলাকায় চালানো ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই তিন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়।

পরে তাদের মরদেহ মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই তথ্য প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

নিহত সাংবাদিকদের পরিচয় পাওয়া গেছে মোহাম্মদ সালাহ কাশতা, আবদুল রউফ শাআত এবং আনাস ঘনেইম হিসেবে।

তাদের মধ্যে শাআত এএফপির সঙ্গে ফ্রিল্যান্স ভিত্তিতে কাজ করতেন। তবে হামলার সময় তিনি সংস্থাটির কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করছিলেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, মধ্য গাজা উপত্যকায় হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোন পরিচালনাকারী কয়েকজন ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ড্রোনটি তাদের জন্য তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছিল। এজন্য নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হামলাটি পরিচালনা করা হয়। তবে ড্রোনটির সঙ্গে হামাসের সম্পৃক্ততা কীভাবে প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি ইসরাইলি বাহিনী।

এর আগে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আল-জাহরা এলাকায় একটি বেসামরিক যান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় সাংবাদিকরা একটি মিশরীয় ত্রাণ সংস্থার সহায়তা বিতরণের দৃশ্য ধারণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করছিলেন।

গাজীপুর-৫ আসনে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-৫ আসনে ভোটের মাঠে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় শেষ পর্যন্ত ৭ জন প্রার্থী এই আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় জানায়, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় প্রার্থীর সংখ্যা আট থেকে কমে সাতে নেমে আসে।

ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ৭ প্রার্থীই এখন গাজীপুর-৫ আসনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে মাঠে নামছেন। জাতীয় সংসদের ১৯৮ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত গাজীপুর-৫ গঠিত হয়েছে কালীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন, গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে।

শুরুতে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুল হক মিলনসহ মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির ফজলুল হক মিলন, জামায়াতে ইসলামীর মো. খায়রুল হাসান, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আল আমিন দেওয়ান, গণফোরামের কাজল ভূঁইয়া, জনতার দলের মো. আজম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান ও জাতীয় পার্টির ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার।

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার৯৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।

ভোট গ্রহণের জন্য ১২৪টি ভোটকেন্দ্রে ৬৭৮টি কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর-৫ আসনসহ সারা দেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।